📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খুশানী প্রতিনিধি দলের আগমন

📄 খুশানী প্রতিনিধি দলের আগমন


খুশানী প্রতিনিধি দলের আগমন
ইবন সা'د (র) সনদসহ মিহজান ইব্‌ن ওয়াত্ব হইতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ যখন খায়বর অভিযানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছিলেন তখন আবু ছা'লাবা আল-খুশানী আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ -এর সহিত সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, খায়বার যুদ্ধে তাহার সঙ্গীরূপে অংশগ্রহণ করেন। অতঃপর ঐ গোত্রের সাত ব্যক্তি আবূ ছা'লাবার সাথে মিলিত হন। তাঁহারাও রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট বায়আত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তাঁহারা স্বগোত্রে ফিরিয়া যান (তাবাকাত, ৬ষ্ঠ মুদ্রণ, করাচী ১৯৮৭ খৃ., ১খ., পৃ. ৩২৯; সুবুলুল হুদা ওয়ার- রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩০৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনূ সুহায়স প্রতিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন

📄 বনূ সুহায়স প্রতিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন


বনূ সুহায়م প্রতিধি দলের নবী দরবারে আগমন
মিরশাতী হযরত আবূ উবায়দা (র) হইতে বর্ণনা করেন যে, আসওয়اد ইبّن সালামা তদীয় বনূ সুহায়م গোত্রের প্রতিনিধিদলের সহিত নবী কারীম -এর দরবারে উপস্থিত হন। তাঁহারা ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদিগকে তাঁহাদের গোত্রের মধ্যে ফিরিয়া ইসলাম প্রচারের আদেশ দেন। তিনি তাঁহাদেরকে একটি পানির পাত্র দান করেন যাহাতে বরকতের জন্য নিজে ফুঁ দিয়া দেন বা কুলির পানি নিক্ষেপ করিয়া দেন। সাথে সাথে তাহদিগকে বলিয়া দেন যেন উহার পানির দ্বারা তাহারা তাহাদের মসজিদে ছিটাইয়া দেন এবং আল্লাহ্ যখন তাহাদের মাথা উচু করিয়া দিয়াছেন, তাহারা যেন উহা উচু রাখেন। সত্যসত্যই তাঁহারা উহার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়াছিলেন। ফলে তাঁহাদের মধ্যকার কোন একটি লোকও ভণ্ড নবী মুসায়লামার আনুগত্য অবলম্বন করে নাই বা তাঁহাদের মধ্যকার কোন একটি লোকও খারিজী (দ্র. ইসলামী বিশ্বকোষ, ৯খ., পৃ. ৬৭৪) ফিৎনার শিকার হয় নাই (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩৪২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাদ্রামাওতের প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন

📄 হাদ্রামাওতের প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন


হাদ্রামাওতের প্রতিনিধি দলের নবী দরবারে আগমন
হাদ্রামাওতের তান'আ গোত্রের জনৈকা মহিলা তাহ্নাত বিন্ত কুলায়ب আপন পুত্র কুলায়ب ইبّن আসادকে একটি বস্ত্রের উপঢৌকনসহ নবী দরবারে প্রেরণ করেন। কুলায়ب নবী দরবারে উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহার জন্য দু'আ করেন। কুলায়ب দরবারে নববীতে হাযির হওয়ার সময় কয়েকটি পংক্তিতে তাঁহার প্রশংসা করেন। ঐ পংক্তিগুলিতে এই কথার স্বীকারোক্তি ছিল যে, তিনি সেই বহুল প্রতীক্ষিত নবী যাঁহার সু-সমাচার আমাদিগকে তওরাত ও ইঞ্জীলের মাধ্যমে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ দিয়া গিয়াছেন (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩২১-৩২২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জারম গোত্রের প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন

📄 জারম গোত্রের প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন


জারم গোত্রের প্রতিনিধি দলের নবী দরবারে আগমন
ইবন সা'د (ر) সা'দ ইব্‌ن মুরাহ আল-কারমী হইতে এবং তিনি তাহার পিতার বরাতে বর্ণনা করেন, আমাদের স্ব-গোত্রের দুইব্যক্তি প্রতিনিধিরূপে রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁহাদের একজন হইতেছেন আস্কা ইبّن শুরায়ح্ ইبّن সুলায়م ইন্ন আমর ইব্‌ن রিয়াহ আর অপর জন হাওযা ইবّن আমর ইبّن য়াযীদ ইবّন আমর ইبّن রিয়াহ। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদিগকে একখানা লিপিও প্রদান করেন। রিয়াহ-এর ঊর্ধ্বতন বংশ তালিকা জারم পর্যন্ত এইরূপ : রিয়াহ ইبّن 'আওফ ইبّন উমায়রা ইবনুল হাওন ইবّন 'আজাব ইবّ কুদামাহ্ ইবّن জারم। আস্কা-এর নাম উল্লেখ করিয়া ইন্ন সা'د বলেন : অর্থাৎ আমির ইبّن আস্থা ইبّن শুরায়ح্। অতঃপর তিনি জারم গোত্রীয় কতিপয় লোকের বরাতে আস্কার নিম্নলিখিত কবিতা উদ্ধৃত করিয়াছেন :
وكان ابو شر الخير عمى فتى الفتيان حمال الغرامة ذود الاكال سامونا ظلامه عميد الحي من جرم اذا ما
467 وسابق قومه لما دعاهم الى الاسلام احمد من تهامه قلباه وكان له ظهيرا فرخله على حي قدامه
"আবূ শুরায়ح আল-খায়র আমার চাচা ছিলেন। বীরপুরুষ ও অন্যদের ঋণ পরিশোধের ও গুরুতর দায়িত্বভার বহনকারী ছিলেন তিনি।
এমন অবস্থায়ও তিনি জারم গোত্রের সর্দার ছিলেন যখন ধনলিঙ্গু হস্তক্ষেপকারীরা তাহাদের লুণ্ঠন প্রবৃত্তির দ্বারা আমাদের জীবন দুর্বিসহ করিয়া রাখিয়াছিল।
"আহমাদ যখন তিহামা অঞ্চলের মক্কা ভূমি হইতে তাহার গোত্রকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাইলেন তখন তিনি অন্যান্যদের পূর্বেই সেই ব্যাপারে অগ্রসর হন।
"তিনি তাঁহার সেই আহ্বানে সাড়া দেন এবং তাঁহার সাহায্যকারী হইয়া যান। তিনি তাহাকে কুদামার উভয় গোত্রের শাসনভার অর্পণ করেন"।
অনুরূপ আমর ইبّন সালিমাহ ইবّن কায়س আল-জারমী (রা) হইতে ইবّন সা'د বর্ণনা করেন, যখন তাঁহারা ইসলাম গ্রহণ করিলেন তখন তাহার নিজের পিতা এবং গোত্রের কতিপয় লোক প্রতিনিধিরূপে রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট উপস্থিত হন। তাহারা তাঁহার নিকট কুরআন শিক্ষা করেন এবং তাহাদের অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ করেন। তাহারা রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমাদের নামাযের ইমামতি কে করিবে? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (س) বলেন:
ليصل بكم اكثركم جمعا او اخذا للقرآن.
"তোমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি কুরআন বেশী মুখস্থ করিয়াছে বা আয়ত্ত করিয়াছে সেই তোমাদের সালাতের ইমামতি করিবে।"
তাহারা রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট হইতে ফিরিয়া আসিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া আমার চেয়ে বেশী কুরআন জানা লোক খুঁজিয়া পাইলেন না। অথচ তখন আমার বয়স এতই কম ছিল যে, একখানা চাঁদর ছাড়া তখন আমার গায়ে অন্য কোন কাপড় ছিল না। অগত্যা তাঁহারা আমাকেই ইমাম মনোনীত করিলেন। আমি সালাতে তাঁহাদের ইমামতি করিলাম। আজ পর্যন্ত জারم গোত্রের কোন জুমআর সালাতে আমার উপস্থিতিতে অন্য কেহ ইমামতির করিয়াছে এমনটি হয় নাই। রাবী বলেন, আমর ইبّن সালিমা আজীবন জানাযার নামাযে ইমামতি দায়িত্ব পালন করিয়া যান এবং মসজিদের ইমামতিও করেন। বুখারী শরীফে বর্ণনায় আছে,
আবূ য়াযীদ- আমর ইবّن সালিমাহ্ আল-জারামী হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি জলাধার (কূপ)-এর নিকট বাস করিতাম যাহা জনসাধারণের চলাচলের পথে অবস্থিত। আমরা লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিতাম (ইসলামের) ঐ ব্যাপারটি কী? তাহারা জবাব দিত:
رجل يزعم انه نبى وان الله ارسله وأن الله اوحى اليه كذا وكذا .
"এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটিয়াছে যিনি দাবী করেন যে, তিনি আল্লাহ্ প্রেরিত রাসূল এবং আল্লাহ্ তাঁহার প্রতি অমুক অমুক ওহী নাযিল করিয়াছেন।"
রাবী বলেন:
فجعلت لا اسمع شيئا من ذلك الا حفظته كانما يغرى فى صدرى بغراء حتى جمعت فيه قرآنا كثيرا وكانت العرب تلوم باسلامها الفتح يقولون انظروا فإن ظهر عليهم فهو صادق وهو نبى فلما جاءتنا وقعه الفتح بادر كل قوم با سلامهم فانطلق ابی با سلام حوائنا ذلك واقام مع رسول الله ﷺ ما شاء الله ان يقيم.
"তারপর আমি কুরআনের যাহাই শুনিতাম তাহাই মুখস্থ করিয়া রাখিতাম যেন উহা দ্বারা আমার বক্ষে রঙ করিয়া দেওয়া হইল। এমনটি করিতে করিতে আমি আমার বক্ষে প্রচুর কুরআনের আয়াত সংরক্ষণ করিয়া ফেলিলাম। এদিকে আরবগণ ইসলাম গ্রহণের জন্য মক্কা বিজয়ের অপেক্ষায় ছিল। তাহারা বলাবলি করিত, অপেক্ষা কর, যদি তিনি কুরায়শদের উপর বিজয়ী হন তাহা হইলে বুঝিতে হইবে যে, তিনি সত্য নবী। মক্কা বিজেেয়র সংবাদ আসিতেই সমস্ত গোত্র ইসলাম গ্রহণের জন্য হুমড়ি খাইয়া পড়িল। কে কাহার আগে ইসলাম গ্রহণ করিবে উহার প্রতিযোগিতা শুরু হইয়া গেল। আমার পিতা আমাদের প্রতিবেশীদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ লইয়া নবী দরবারে গিয়া উপস্থিত হইলেন। আল্লাহ্র যতদিন ইচ্ছা ছিল ততদিন তিনি সেখানে থাকিলেন"।
তারপর দীর্ঘদিন নবী কারীম ﷺ-এর সাহচর্য লাভ করিয়া স্বগোত্রে ফিরিয়া আসিলেন। লোকজন তাহাকে ঘিরিয়া ধরিল। তিনি বলিলেন:
جئتكم والله من عند رسول الله حقا. "আমি আল্লাহ্ সত্য রাসূলের নিকট হইতে তোমাদের নিকট আসিয়াছি।" তারপর বলিলেন:
انه يأمركم بكذا وكذا وينهاكم عن كذا وكذا وان تصلوا صلاة كذا في حين كذا واذا حضرت الصلاة فليؤذن احدكم وليؤمكم اكثركم قرآنا .
"তিনি তোমাদিগকে অমুক অমুক কাজের আদেশ দিয়াছেন এবং অমুক অমুক কাজ হইতে বারণ করিয়াছেন এবং অমুক অমুক সময় অমুক অমুক সালাতের নির্দেশ দিয়াছেন। যখন সালাতের ওয়াক্ত হইবে তখন তোমাদের মধ্যকার একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যকার অধিকতর কুরআন জানা লোক তোমাদের ইমামতি করিবে।" রাবী আমর ইبّন সালিমা (রা) বলেন,
فما وجدوا احدا اكثر قرآنا منى الذي كنت احفظه من الركبان فدعوني فعلموني الركوع والسجود وقدموني بين ايديهم فكنت اصلى بهم وانا ابن ست سنين.
৪৬৯ "আমাদের আশেপাশের লোকজন চতুর্দিকে নজর বুলাইয়া আমার চেয়ে বেশী কুরআন জানা আর কোন লোক খুঁজিয়া পাইলেন না-সেই কুরআন যাহা আমি মুসাফিরদের নিকট হইতে শুনিয়া মুখস্ত করিয়াছিলাম। তাহারা আমাকেই ডাকিয়া লইয়া রুকু সিজদা শিক্ষা দিলেন এবং আমাকে ইমামতির জন্য তাহাদের আগে দাঁড় করাইয়া দিলেন। অথচ আমার বয়স যখন মাত্র ছয় বৎসর"। রাবী বলেন :
وكان على بردة كنت اذا سجدت تقلت عنى فقالت امرأة من الحي الا نغطون عنا است قاركم فال فكسوني قميصا من معقد البحرين قال فما فرحت شيئ اشد من فرحى بذلك القميص.
"আমার ছিল একটি চাদর। সিজদায় গেলে আমার নিম্নাংগ অনাবৃত হইয়া পড়িত। তাহা লক্ষ্য করিয়া এক মহিলা বলিলেন, তোমাদের কারী সাহেবের নিতম্ব কি ঢাকিয়া দিবে না যাহাতে আমাদের নজরে না পড়ে! তিনি বলেন : ফলে আমাকে একটি বাহ্রায়নী কামীস প্রদান করা হইল— যাহা পাইয়া আমি এতই আনন্দিত হইলাম যেরূপ আনন্দিত আর কিছুতেই হই নাই" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৩৬-৩৩৭; সুবুলুল হুদা, ৬/৩০৯-১০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00