📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনু সুলায়মান প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন

📄 বনু সুলায়মান প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন


বনূ সুলায়ম প্রতিনিধি দলের নবী দরবারে আগমন
বনূ সুলায়ম গোত্র নজদে বসবাস করিত। তাহাদের কোন কোন শাখা খায়বরের নিকট পর্যন্ত উপস্থিত হইয়া তাঁহার বাণী শ্রবণ করে। কায়স ইবন নুসায়বা নামক বনূ সুলায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি নবী দরবারে উপস্থিত হইয়া তাঁহার বাণী শ্রবণ করেন। তিনি কয়েকটি ব্যাপারে প্রশ্ন করেন।
রাসূলুল্লাহ্ যথারীতি তাঁহার প্রশ্নসমূহের জবাব দেন। তিনি সেইগুলি মুখস্ত করেন এবং তাঁহার অন্তরে গাঁথিয়া লন।
রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি অতঃপর তাঁহার স্বগোত্র বনূ সুলায়ম প্রত্যাবর্তন করিয়া তাঁহার গোত্রের লোকজনকে বলেন: قد سمعت ترجمة الروم وهينمة فارس وأشعار العرب وكهانة الكاهن وكلام مقاول حمير فما يشبه كلام محمد شيئا من كلامهم فأطيعوني خذوا بنصيبكم منه.
"রোমকদের বীরগাথা, পারসিক উপকথা, আরবের কবিতা, জ্যোতিষীদের উপভোগ্য ভবিষ্যদ্বাণী, হিময়ারী বক্তাদের চটকদার বক্তৃতা শুনিবার সুযোগ আমার ঘটিয়াছে, কিন্তু ঐগুলির কোনটিই মুহাম্মাদ-এর বাণীর সহিত সামাঞ্জস্যপূর্ণ নহে। তাঁহার বাণীর সহিত ঐগুলির কোন তুলনাই হয় না। সুতরাং তোমরা আমার কথা শোন! তোমরা ঐ ব্যক্তির আনুগত্য অবলম্বন কর এবং নিজেদের সৌভাগ্যের অংশ তাঁহার নিকট হইতে বুঝিয়া লও”।
মক্কা বিজয়ের বৎসরে বনূ সুলায়ম গোত্র নবী কারীম-এর উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়ে। কুদায়د নামক স্থানে (ঐ স্থানটি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত) তাঁহারা তাঁহার সাক্ষাৎ লাভ করেন। সংখ্যায় তাঁহারা ছিলেন সাতশত, মতান্তরে এক হাজার; আবার কেহ বলেন নয়শত ছিল। আব্বাস ইব্‌ن মিরদাস, আনাস ইব্‌ন আব্বাস ইবন ইয়াদ, রাশিদ ইব্‌ন আব্দ রাব্বিহী প্রমুখ এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন। তাঁহারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং এই মর্মে আবেদন জানান যে, তাঁহাদিগকে যেন অগ্রগামী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়, আমাদের ঝাণ্ডা যেন লোহিত বর্ণের হয় এবং আমাদের সাংকেতিক প্রতীকী শব্দ যেন 'মুকাদ্দম' (অগ্রবর্তী বাহিনী) হয়।
তাহারা মক্কা বিজয়ে এবং হুনায়নেও তাঁহার সঙ্গী হন। রাসূলুল্লাহ্ রাশিد ইবন 'আবদে রাব্বীকে মক্কা হইতে তিন মাইল দূরবর্তী রুহাত নামক স্থানটি বরাদ্দ দান করেন। সেখানে 'আয়নুর-রাসূল (রাসূল প্রস্রবণ) নামক একটি ঝর্ণা ছিল।
রাশিد বনূ সুলায়م গোত্রের মূর্তি মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। একদা দুইটি শৃগালকে মূর্তি পাত্রে পেশাব করিতে দেখিয়া তিনি বলিয়া উঠিলেন: أرب يبول الثعلبان برأسه - لقد ذل من بالت عليه الثعالب.
"শিরে যার দুই শিয়ালে মুত্র ত্যাগ করে এহেন হীন মূর্তি দেবতা কী প্রকারে"?
তিনি ঐ দেব মূর্তির উপর আক্রমণ চালাইলেন এবং দেখিতে দেখিতে উহাকে চুরমার করিয়া দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্-এর দরবারে উপস্থিত হইলে তিনি তাঁহার নাম কী জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে তিনি বলেন, غاوى بن عبد العزى (গাবা ইব্‌ন আবদুল উয্যা) যাহার অর্থ দাঁড়ায় উয্যা মূর্তির গোলামের পুত্র বিভ্রান্ত।
রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন: أنت راشد بن عبد ربه "তুমি রাশেد ইب্‌ন 'আবد রাব্বিহি তাহার প্রভুর গোলামের পুত্র সুপথ প্রাপ্ত।" তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সারা জীবন অত্যন্ত
৪৬২ নিষ্ঠার সহিত ইসলামের অনুশাসন মানিয়া চলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে তাঁহার গোত্রের নেতা মনোনীত করিয়া তাঁহার জন্য পতাকা বাঁধিয়াছেন। তিনি মক্কা বিজয় কালে রাসূলুল্লাহ্ -এর একজন সঙ্গী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহারা প্রশংসা করেন :
خیر قرى عربية خيبر وخیر بی سلیم راشد. "সর্বোত্তম পল্লী খায়বর পল্লী এবং বনূ সুলায়মের সর্বোত্তম ব্যক্তি রাশেد" (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩৪৬-৪৭; তাবাকাত ১খ., পৃ. ৩০৭-৯)।
উক্ত বনূ সুলায়মের জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, আমাদের স্বগোত্রের কিদর ইবন 'আম্মার নামক এক ব্যক্তি প্রতিনিধিরূপে মদীনায় রাসূলুল্লাহ্-এর দরবারে উপনীত হন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁহার গোত্রের এক হাজার অশ্বারোহীকে নবী দরবারে লইয়া আসিবেন বলিয়া অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মতান্তরে ঐ ব্যক্তির নাম ছিল কুদাদ ইব্‌ন আম্মার (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ ৬খ., পৃ. ৩৪৬)।
অতঃপর ঐ ব্যক্তি স্বগোত্রে প্রত্যাবর্তন করিয়া তাহাদিগকে এই সংবাদ অবগত করিলে নয়শত জন অশ্বারোহী তাঁহার সহিত নবী দরবারের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়েন। গোত্রের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষার্থে ১০০ জন গোত্রেই রহিয়া যান। পথে কিদরের মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁহার দলের 'আব্বাস ইবন মিরদাস, জাব্বার ইনুল হাকাম এবং আখনাস ইবন ইয়াযীদ এই তিন ব্যক্তির নেতৃত্বের ভার দিয়া ঐ নয় শত ব্যক্তিকে তিনভাগে বিভক্ত করিয়া দেন এবং তাহদিগকে বলেনঃ
ائتوا هذا الرجل حتى تقضوا العهد الذي في عنقى. "তোমরা ঐ ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হইয়া আমার প্রতিশ্রুতির দায় হইতে তাহাকে মুক্ত করিবে।"
ইহার কিছুকাল পরেই তাঁহার মৃত্যু ঘটে। নেতার উপদেশ অনুসারে তাঁহারা মদীনায় নবী দরবারে গিয়া উপস্থিত হন। তিনি তখন তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন :
أين الرجل الحسن الوجه الطويل اللسان الصادق الإيمان. "তোমাদের ঐ সৌম্য চেহারা, দীর্ঘ রসনা ও সনিষ্ঠ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তিটি কোথায়"? তাঁহারা জবাব দিলেন :
يا رسول الله دعاه الله فأجابه. "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহাকে ডাকিয়া পাঠাইয়াছেন; তাই তিনি তাঁহার ডাকে সাড়া দিয়া ইহধাম ত্যাগ করিয়াছেন।" রাসূলুল্লাহ্ তখন আবার জিজ্ঞাসা করিলেন :
أين تكملة الألف الذين عاهدني عليهم. "এক হাজারের বাকী এক শতজন কোথায় যাহার প্রতিশ্রুতি ঐ ব্যক্তি আমাকে দিয়াছিলেন"? তাঁহারা জবাব দিলেন :
৪৬৩ قد خلف مائة بالحي مخافة حرب كان بيننا وبين بني كنانة.
"তাহারা গোত্রে রহিয়া গিয়াছেন আমাদের ও বনূ কানানার মধ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে, তাহাদের আক্রমণের ভয়ে"।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন:
ابعثوا إليها فإنه لا يأتيكم فى عامكم هذا شيء تكرهونه.
"উহাদেরকেও আমার নিকট পাঠাইয়া দাও! কেননা এই বৎসর তোমাদের অবাঞ্ছিত কিছু ঘটিবে না।"
সেই মতে তাহারা স্বগোত্রে প্রত্যাবর্তন করিয়া যথারীতি তাহাদিগকে নবী দরবারে প্রেরণ করিলেন। হুড় হুড় করিয়া তাহারা যখন মদীনায় আসিয়া পৌঁছিলেন তখন তাঁহাদের ঘোড়াসমূহের হেষাধ্বনি শ্রবণে মদীনাবাসিগণ আতঙ্কিত হইয়া বলিয়া উঠিলেন : يا رسول الله أتينا "ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমাদের উপর তো হামলা আসিয়া পড়িল"। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদিগকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন:
لا بل لكم لا عليكم هذه سليم بن منصور قد جاءت.
"না, বরং তোমাদের পক্ষে সুলায়م ইন্ন মনসূর বাহিনী আগমন করিয়াছে, উহারা তোমাদের বিরুদ্ধে আসে নাই।"
এই বাহিনীর নেতা ছিলেন মুনাক্কي' ইبن মালিক ইبن উমাইয়া ইবন আবদুল উম্বা ইন্ন 'আমাল ইব্‌ن কা'ব ইব্‌دول হারিছ ইব্‌ن বুহ্ছাহ্ ইبّن সুলায়ম। বলা বাহুল্য, তাঁহারা সকলেই নবী কারীম-এর হাতে বায়'আত হন। মক্কা বিজয় ও হুনায়নের যুদ্ধে তাঁহারা সকলেই নবী কারীম-এর সঙ্গীরূপে যুদ্ধ করেন। মুনাক্কি' সম্পর্কে সেনাপতি আব্বাস ইব্‌ن মিরদাস কবিতার ছন্দে বলেন:
القائد المائة التي وفي بها تسع المئين فم ألف اقرع.
"তিনি হইতেছেন সেই এক শত জনের বাহিনীর সিপাহসালার নয়শতের পর যাহাদের মাধ্যমে সহস্র সংখ্যা পূরণ হইয়াছিল" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০৭-৯; সুবুলহুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩৪৬-৪৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হিলাল ইবন 'আমের গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন

📄 হিলাল ইবন 'আমের গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন


হিলাল ইবন 'আমের গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন
আলী ইব্‌ن মুহাম্মাদ আল-কারশীর বরাতে বর্ণিত আছে, বনূ হিলাল গোত্রের একটি প্রতিনিধিদল আবد আওফ ইব্‌ن আসরাম ইব্‌ن 'আমর ইব্‌ن শু'আয়ব ইবনুল হুযাম যিনি ছিলেন রু'আয়با শাখা গোত্রের লোক। তাহারা তাহার নেতৃত্বে নবী কারীম-এর দরবারে আগমন করেন। তিনি দলপতিকে তাহার নাম জিজ্ঞাসা করিলে তিনি তাঁহার নাম বলিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন:
أنت عبد الله.
"তোমার নাম আবদুল্লাহ্।" - তাঁহার এক বংশধর এই স্মৃতির জন্য গর্ব করিয়া বলেন:
৪৬৪ جدى الذى اختارت هوازن كلها - إلى النبى عبد عوف وافدا.
"আমার পিতামহ সেই সৌভাগ্যবান পুরুষ গোটা হাওয়াযিন গোত্র যাহাকে নবী কারীম -এর দরবারে প্রেরিত তাহাদের প্রতিনিধিদলের নেতা মনোনীত করিয়াছিল। তাহার নাম ছিল 'আবদ 'আওফ।" প্রতিনিধিদলের জনৈক সদস্য কাবীসা ইবনুল মুখরিক বলেন,
يا رسول الله إنى حملت عن قومى حمالة فأعنى فيها ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি "আমার সম্প্রদায়ের (ঋণ পরিশোধের) বোঝা স্কন্ধে উঠাইয়া লইয়াছি; এই ব্যাপারে আপনি আমাকে সাহায্য করুন।" রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন:
هي لك فى الصدقات إذا جاءت. "তুমি তাহা পাইবে, যখন যাকাতের মাল আসিবে"। নগদ অর্থ হাতে না থাকিলে রাসূলুল্লাহ্ যাঞ্চাকারী ও অভাবী লোকজনকে এইরূপ প্রতিশ্রুতি দিতেন যে, যখন কোন এলাকা হইতে যাকাতের মাল মদীনায় আসিয়া পৌঁছিবে। তখন তাহার প্রার্থিত সাহায্য দান করা হইবে। কাবীসাকেও তিনি সেইরূপ প্রতিশ্রুতিই দান করিলেন। বনূ 'আমিরের প্রবীণদের বরাতে বর্ণিত আছে, যিয়اد ইবন 'আবদুল্লাহ্ ইবন মালিক ইন্ন বুজায়র ইবনুল হুযাম ইব্‌ن রু'আয়বা ইব্‌ন "আবদিল্লাহ্ ইব্‌ন বিলাল ইব্‌ن আমির প্রতিনিধিরূপে নবী দরবারে আগমন করেন। মদীনায় পৌঁছিয়াই তিনি উম্মুল মু'মিনীন মায়মূনা বিন্‌ت হারিছের ঘরে প্রবেশ করেন। যিয়াদ তখন পূর্ণ বয়স্ক একজন যুবক। যায়মূনা (রা) ছিলেন তাঁহার খালা- যিয়াদের মাতা গুরাহ্ বিনতুল হারিছের আপন ভগ্নি। তিনি ঐখানে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় নবী কারীম আসিয়া ঘরে ঢুকিলেন। যিয়াদকে সেখানে উপবিষ্ট দেখিয়া তিনি তাহাকে চিনিতে না পারিয়া ক্রুদ্ধ হইয়া গৃহ হইতে বাহির হইয়া যান। তারপর যখন তিনি ফিরিয়া আসিলেন তখন মায়মূনা (রা) বলিলেনঃ ! يا رسول الله هذا ابن أختى "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই লোকটি আমার আপন ভগ্নিপুত্র”। ইহাতে তাঁহার ক্রোধ নিবৃত্ত হইল এবং তিনি গৃহে প্রবেশ করিলেন। অতঃপর তিনি গৃহ হইতে বাহির হইয়া মসজিদে গমন করিলেন এবং যুহরের সালাত আদায় করিলেন। তারপর যিয়াদকে পার্শ্বে ডাকাইয়া তাঁহার মাথায় হাত বুলাইয়া দিলেন। তিনি তাঁহার জন্য দু'আ করিলেন এবং পরম সোহাগভরে তাহাকে আপন নাকের নিকটে টানিয়া লইলেন। (অর্থাৎ চুম্বন করিলেন)। বনূ হিলালের লোকজন বলিতেন: অতঃপর সর্বদাই আমরা তাঁহার মধ্যে বরকতের প্রভাব লক্ষ্য করিয়াছি। জনৈক কবি যিয়াদের পুত্র আলীকে সম্বোধন করিয়া বলেন:
يا ابن الذى مسح النبى برأسه ودعا له بالخير عند المسجد أعنى زيادا لا أريد سواءة من غائر أو متهم أو منجد ما زال ذاك النور فى عرنينه حتى تبوأ بيته في الملحد "হে ঐ সৌভাগ্যবান ব্যক্তির পুত্র, স্বয়ং নবী কারীম যাহার শিরে হাত বুলাইয়া বরকতের দু'আ করিয়াছেন মসজিদের নিকটে। ইহা দ্বারা আমি যিয়াদকেই বুঝাইতেছি, গায়র
৪৬৫ তিহামা বা নাজদে আগত অন্য কাহাকেও নহে। ঐ নূর বা জ্যোতি তাঁহার ললাটে চির দেদীপ্যমান ভাস্বর ছিল যাবত না তিনি তাহার অন্তিম বাসস্থান কবরে গিয়া ঠাঁই গ্রহণ করিয়াছেন” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০৯-১০; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ খ, ৬, পৃ. ৪২৫-২৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ছুমালা ও হুদ্দান প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন

📄 ছুমালা ও হুদ্দান প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন


ছুমালা ও হুদ্দান প্রতিনিধি দলের আগমন
'আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন 'আলাস আছ-ছুমালী এবং মাসলামা ইবন হারাম আল-হাদ্দানী তাঁহাদের উভয়ের গোত্রের কিছু সংখ্যক লোকসহ-যাহাদের সংখ্যা নয়ের ঊর্ধ্বে ছিল না (رهط) নবী দরবারে আসিয়া উপস্থিত হন। ঘটনাটি মক্কা বিজয়ের পরে। তাঁহারা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁহাদের স্ব-স্ব গোত্রের পক্ষে। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদিগকে একখানা লিপি অর্পণ করেন যাহাতে তাঁহাদের ধনসম্পদে সাদাকার বিবরণ ছিল। ছাবিত ইব্‌ন কায়س (রা) পত্রখনি লিখিয়াছিলেন এবং উহার সাক্ষীরূপে ছিলেন সা'দ ইبن উবাদা ও মুহাম্মাদ ইবন মাস্লামা (রা) (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৫৩-৪; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩০৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুবায়দ গোত্র প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন

📄 যুবায়দ গোত্র প্রতিনিধি দলের নবী (সা) দরবারে আগমন


যুবায়د গোত্র প্রতিনিধি দলের আগমন
আমর ইবন মা'দী কারিব আয-যুবায়দ ইয়ামনের যুবায়দ গোত্রের দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলসহ রাসূলুল্লাহ্ -এর ইনতিকালের বৎসর তাঁহার দরবারে তাঁহারা সকালে আসিয়া উপস্থিত হয়। তাহারা মদীনায় আসিয়াই লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে, এই শ্যামল প্রান্তরে বসবাসকারী বনূ 'আমর ইবন 'আমিরের সর্দার কে? লোকজন বলিলঃ সা'د ইবন 'উবাদা। তাহারা তাহাদের বাহনের লাগাম ধরিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে সা'د ইবন উবাদার দ্বার প্রান্তে উপস্থিত হয়। সা'দ গৃহ হইতে বাহির হইয়া তাহাদিগকে স্বাগতম জানাইলেন এবং তাহাদিগকে বাহন থামাইয়া নিজের ঘরে উঠাইলেন এবং যথারীতি আপ্যায়িত করিলেন।
তাহাদিগকে যথারীতি নবী দরবারে উপস্থিত করা হইল। তাহাদের সকলেই নবী করীম -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁহারা কয়েকদিন নবী দরবারে অবস্থান করিয়া স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রত্যাবর্তনকালে তঁহাদিগকে যথা নিয়মে উপঢৌকনাদি প্রদান করা হয়। রাসূলুল্লাহ্-এর ইনতিকালের পর তাহারা মুরতাদ হইয়া যায়। কিছুদিন পর আবার ইসলামে প্রত্যাবর্তন করিয়া কাদিসিয়ায় যুদ্ধসহ কয়েকটি যুদ্ধে বীরত্বের সহিত যুদ্ধ করে। (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩২৮; ষষ্ঠ মুদ্রণ, করাচী ১৯৮৭; সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩৪২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00