📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তারিক ইব্‌ন আবদুল্লাহ ও তদীয় সঙ্গীগনের আগমন

📄 তারিক ইব্‌ন আবদুল্লাহ ও তদীয় সঙ্গীগনের আগমন


তারিক ইব্‌ن আবদুল্লাহ ও তদীয় সঙ্গিগণের আগমন
হাফিয বায়হাকী (র) আবূ খাব্বাব আল-কালবী হইতে..... তারিক ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমি একদা যুল-মাজায বাজারে দণ্ডায়মান ছিলাম। এমন সময় জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি আগাইয়া আসিল। সে তখন বলিয়া যাইতেছিল:
يايها الناس قولوا لا اله الا الله تفلحون
"লোকসকল! বল আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই, তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হইবে"। অপর এক ব্যক্তি তাহার প্রতি কঙ্কর ছুড়িতে ছুড়িতে বলিয়া যাইতেছিল, লোকসকল! এই লোকটি মহা মিথ্যুক, তোমরা তাহার কথা বিশ্বাস করিও না। আমি তখন লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ঐ লোকটি কে? জবাবে লোকজন বলিল, বনু হাশিমের এক তরুণ। সে নিজেকে আল্লাহ্র রাসূল বলিয়া দাবি করিতেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বলিলাম, আর ঐ যে তাহার পশ্চাতে পশ্চাতে ঐরূপ আচরণ করিতেছে ঐ লোকটি কে? তাহারা জবাব দিল, সে হইতেছে তাঁহারই পিতৃব্য 'আবদুল উয্যা।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকজন ইসলাম গ্রহণ করিয়া যখন মদীনায় হিজরত করিল তখন খেজুর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমরা মদীনার উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়িলাম। যখন আমরা মদীনার নগর প্রাচীর ও খর্জুর বীথির নিকটে গিয়া পৌঁছিলাম, তখন আমরা বলাবলি করিতে লাগিলাম, এখন আমাদের পোশাক পরিবর্তন করিয়া লওয়া উত্তম হইবে। এমন সময় পুরাতন বস্ত্র পরিহিত এক ব্যক্তির সহিত আমাদের দেখা হইল। সে আমাদেরকে সালাম দিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কাফেলাটি কোথা হইতে আসিতেছে? আমরা জবাব দিলাম, রাবাযা হইতে। তোমাদের গন্তব্য কোথায়? মদীনায়। সেখানে তোমাদের কী প্রয়োজন? আমরা সেখান হইতে খেজুর সংগ্রহ করিব।
রাবী বলেন, আমাদের সহিত একটি হাওদানশীনা মহিলা এবং একটি লাগামযুক্ত লাল উট ছিল। লোকটি জিজ্ঞাসা করিল, তোমরা কি তোমাদের এই উটটি আমার নিকট বিক্রয় করিবে? আমরা বলিলাম, হাঁ, এত এত সা' খেজুরের বিনিময়ে আমরা উহা বিক্রয় করিতে রাজী আছি। রাবী তারিক বলেন, তারপর আর কোন দাম-দর না করিয়াই উটটির লাগাম ধরিয়া লোকটি প্রস্থান করিল। লোকটি যখন নগরীর প্রাচীরসমূহ ও খেজুর বীথির আড়ালে চলিয়া গেল তখন আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলাম, আমরা ইহা কী করিলাম? মূল্য বুঝিয়া না পাইয়াই এমন একটি লোকের নিকট উটটি বেচিয়া দিলাম? রাবী বলেন, তখন আমাদের সঙ্গিনী মহিলা বলিল, আল্লাহর কসম! আমি তো এমন একটি লোকই প্রত্যক্ষ করিলাম যাঁহার চেহারা যেন পূর্ণিমার চাঁদের টুকরা। আমি তোমাদের উটের মূল্যের দায়িত্ব লইতেছি। والله لقد رأيت رجلا كأن وجهه سقة القمر ليلة البدر انا ضامن ثمن جملكم.
এমন সময় লোকটি আসিয়া উপস্থিত হইল এবং বলিল, انا رسول الله اليكم هذا تمركم فكلوا واشبعوا واكتالوا واستوفوا. "আমি তোমাদের নিকট আল্লাহ্র রাসূল। এই লও তোমাদের খেজুর; খাও, তৃপ্ত হও। তারপর কড়ায় গণ্ডায় মাপিয়া বুঝিয়া লও"।
৪৩৯ আমরা পরম তৃপ্তির সহিত খাইলাম, তারপর কড়ায় গণ্ডায় মাপিয়া বুঝিয়া লইলাম। অতঃপর আমরা মদীনা নগরীতে প্রবেশ করিলাম। আমরা মসজিদে প্রবেশ করিয়া দেখি ঐ ব্যক্তিটি মিম্বরে দাঁড়াইয়া খুতবা দিতেছেন :
تصدقوا فان الصدقة خير لك اليد العليا خير من يد السفلى وابداء بمن تعول امك واباك واختك واخاك وادناك ادناك.
"দান করিবে, কেননা সাদাকা করা তোমাদের জন্য উত্তম। উপরের হাত অর্থাৎ দাতার হাত নীচের হাত (গ্রহীতার হাত) হইতে উত্তম। যাহাদের ভরণ-পোষণ তোমাদের উপর তাহাদের হইতে শুরু করিবে। তোমাদের মাতা, তোমাদের পিতা, তোমাদের ভগ্নি, তোমার ভাই, নিকট হইতে নিকটতর জনকে দান করিবে”।
এমন সময় ইয়ারবু গোত্রীয় কিংবা আনসারী এক ব্যক্তি বলিল, هؤلاء دماء في الجاهلية "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই গোত্রের কাছে আমাদের জাহিলিয়াত যুগের রক্তপণ পাওনা রহিয়াছে"। তখন রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, أن أبا لا يجنى على ولد "পিতার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুত্রের উপর বর্তায় না"। এই কথাটি তিনি তিনবার বলিলেন (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৭খ., পৃ. ৩৫৭, বৈরুত, ১৪১০/১৯৯৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আনাস গোত্রের জনৈক প্রতিনিধির রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 আনাস গোত্রের জনৈক প্রতিনিধির রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে আগমন


আনাস গোত্রের জনৈক প্রতিনিধির রাসূলুল্লাহ দরবারে আগমন
ইবন সা'দ (র) হিশাম ইবন মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব আল-কালবী, আবূ যুফার আল-কালবীর সনদে আনাস ইবন মালিক ইব্‌ন মুযহিজ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন। ঐ ব্যক্তি বলিয়াছেন, আমাদের এক ব্যক্তি প্রতিনিধিরূপে নবী কারীম-এর দরবারে উপস্থিত হয়। তিনি তখন রাত্রির খাবার গ্রহণ করিতেছিলেন। তিনি ঐ ব্যক্তিকেও আহারের নিমিত্ত আহ্বান জানাইলেন। সেই ব্যক্তি বসিয়া গেল। তারপর খাওয়া-দাওয়া শেষ হইলে তিনি ঐ ব্যক্তির প্রতি মনোনিবেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله কলেমার সাক্ষ্য দাও? সে বলিল, হাঁ, আমি ঐ কলেমার সাক্ষ্য দিতেছি। তিনি পুনরায় তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন : أراغبا جئت أم راهبا ؟ "তুমি কি লোভের বশবর্তী হইয়া আসিয়াছ, নাকি ভীতিগ্রস্ত হইয়া আমার নিকট আসিয়াছ ?" সে জবাব দিল :
أما الرغبة فوالله ما في يديك مال وأما الرهبة فوالله إنني لببلد ما تبلغه جيوشك ولكنى خوفت فخفت وقيل لي آمن بالله فآمنت.
"লোভের কথা, আল্লাহর কসম! আপনার নিকট তেমন সম্পদ নাই যে, আমি উহার লোভ করিব। আর ভয়? আল্লাহ্র কসম। আমি এমন এক দেশে রহিয়াছি যেখান পর্যন্ত আপনার বাহিনীর পৌছিবার আশঙ্কা নাই; বরং আমাকে (আল্লাহর শাস্তির) ভয় দেখান হইয়াছে, তাহাতে আমি ভীত হইয়াছি। আমাকে বলা হইয়াছে, ঈমান আনয়ন কর, সেমতে ঈমান আনয়ন করিয়াছি"।
রাসূলুল্লাহ্ তাঁহার সম্প্রদায়ের প্রতি লক্ষ্য করিয়া বলিলেন ! رب خطيب من عنس : "আনাস গোত্রের কত চমৎকার বাগ্মী!”
রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট কিছু দিন থাকিয়া যখন তিনি বিদায় নিতে তাঁহার নিকট গেলেন তখন তিনি বলিলেন: যাও! তারপর তাহাকে কিছু উপঢৌকন প্রদান করিলেন। তারপর বলিলেনঃ
إن أحسست شيئا فوائل إلى أدنى قرية.
"যদি কোন কিছু অনুভব কর তাহা হইলে নিকটবর্তী কোন গ্রামে উঠিবে"।
সত্যসত্যই রওয়ানা হইয়া পথে তিনি অসুস্থ হইয়া পড়েন এবং নিকটবর্তী গ্রামে উঠেন। সেখানেই তিনি ইনতিকাল করেন। আল্লাহ্ তাঁহার প্রতি সদয় ও প্রসন্ন হউন! তাঁহার নাম ছিল রাবী'আ (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৪২-৩; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৭খ., পৃ. ৩৮৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আনাযা প্রতিনিধি দলের আগমন

📄 আনাযা প্রতিনিধি দলের আগমন


সালামা ইবন সা'দ (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি এবং তাঁহার পরিবারবর্গের একটি দল ও তাঁহার পুত্রসহ নবী কারীম-এর দরবারে আসিয়া হাযির হন। তাঁহারা অনুমতি প্রার্থনা করিলে তিনি অনুমতি দিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ইহারা কাহারা? বলা হইল, ইহারা আনাযার প্রতিনিধি দল! তখন রাসূলুল্লাহ্ বাহ্ বাহ্ বাহ্ বাহ্ বলিয়া আনন্দ প্রকাশ করিলেন এবং বলিলেন:
نعم الحي عنزة مبغى عليهم منصورون مرحبا بقوم شعيب واختان موسی سل یا سلمة عن حاجتك.
"কী উত্তম গোত্র আনাযা! তাহাদের প্রতি বাড়াবাড়ি করা হইয়াছে, কিন্তু তাহারা বিজয়ী হইয়াছে। স্বাগতম শু'আয়বের গোত্র এবং মূসার শ্বশুরগোত্র। হে সালামা! বল দেখি, কী প্রয়োজনে আসিয়াছ"?
সালামা জবাব দিলেন, আমি আসিয়াছি আপনাকে এই প্রশ্ন করিতে যে, আপনি আমাদের উপর উট ও ছাগলের কী যাকাত নির্ধারণ করিয়াছেন। সেই মতে রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে সেই ব্যাপারে অবহিত করিলেন। তারপর সালামা (রা) রাসূলুল্লাহ্-এর পাশেই অনেকক্ষণ বসিলেন, তারপর প্রস্থানের অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। তিনি যখন প্রস্থান করিতেছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ্ দু'আ করিলেন:
اللهم ارزق عنزة كفافا لا فوت ولا سراف.
“হে আল্লাহ! আনাযা গোত্রকে প্রচুর পরিমাণ জীবিকা দান করুন যাহা বিনষ্টও হইবে না এবং অপব্যয়িতও হইবে না"। তাবারানী ও বায্যার সংক্ষিপ্তভাবে এই ঘটনা বর্ণনা করিয়াছেন। বাযযারের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ্-এর তাঁহাদের জন্য দু'আর শব্দমালা ছিল:
اللهم ارزق عنزة لا فوت ولا سرف فيه.
"হে আল্লাহ্! আনাযা গোত্রকে জীবিকা দান করুন-যাহার বিনাশ বা অপচয় হইবে না" (হায়ছামীর আল-মাজমা, ১০/৫৪)।
হানযালা ইব্‌ নু'আয়ম (রা) বলেন, হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) একদিন আমাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ্-কে তোমার সম্প্রদায় আনাযা সম্পর্কে বলিতে
শুনিয়াছি। তখন সাহাবীগণ বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আনাযা কী? রাসূলুল্লাহ্ পূর্বদিকে ইশারা করিয়া বলিলেন :
حى ههنا مبغى عليهم منصورون "এই দিকের একটি গোত্র যাহাদের উপর বাড়াবাড়ি করা হইবে, কিন্তু তাহারা বিজয়ী হইবে"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফারওয়া ইব্‌ন মুসায়ক (রা)-এর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে আগমন

📄 ফারওয়া ইব্‌ন মুসায়ক (রা)-এর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে আগমন


ফারওয়া ইন্ন মুসায়ক (রা)-এর রাসূলুল্লাহ খেদমতে আগমন
ফারওয়া ইন্ন মুসায়ক আল-মুরাদী (রা) কিন্দার রাজন্যবর্গের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন করিয়া তাহাদের প্রতি বিরাগভাজন ও বিদ্বেষভাবাপন্ন হইয়া রাসূলুল্লাহ্-এর দরবারে আগমন করেন। ইসলামের আবির্ভাবের প্রাক্কালে তাঁহার স্বগোত্র মুরাদ এবং পার্শ্ববর্তী হামদান গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে। হামদানীরা তাহাদের নেতা আজদা' ইবন মালিকের নেতৃত্বে মুরাদ গোত্রের উপর হামলা চালাইয়া তাহাদেরকে হতাহত করে। ঐ যুদ্ধটিকে রাদম-এর যুদ্ধ বলা হইয়া থাকে। মুরাদ গোত্রের সেই দিনের সেই শোচনীয় পরাজয় সম্পর্কে ফারওয়া ইন্ন মুসায়ক কবিতার ছন্দে বলেন:
مررن على لفات وهن خوص ينازعن الأعنة ينتحينا فإن نغلب فغلابون قدما وإن نغلب فغير مغلبينا وما إن طبنا جين ولكن منايانا ودولة آخرينا كذاك الدهر دولته سجال تكر صروفه حينا فحينا فبينا ما نسر به ونرضى ولو لبست غضارته سنينا إذ انقلبت به کرات دهر فألفيت الألى غبطوا طحينا فمن يغبط بريب الدهر منهم يجد ريب الزمان له خؤونا فلو خلد الملوك إذا خلدنا ولو بقى الكرام إذا بقينا فأفنى ذلكم سروات قومی كما أفنى القرون الأولينا.
"ওরা লিফাত পার হল, চক্ষু কোটরাগত, একদিকে কাত করে ধরে রেখেছিলাম লাগাম। যদি জয়ী হই আমরা, আমরা তো বহুদিনের পুরনো বিজয়ী, আর বিজিত হলে, প্রায়শই বিজিত হইনি আমরা। কাপুরুষতা আমাদের রক্তে নেই। আছে আমাদের দুর্গতি আর ওদের সৌভাগ্য। এমনি করে ঘোরে ভাগ্যের চাকা মানুষের এই তার পক্ষে যায়, এই বিপক্ষে। আমরা তাতে খুশী হই, আনন্দ উৎসব করি
বছরের পর বছর হঠাৎ এখন ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে পদের হিংসা করত মানুষ তারা বিধ্বস্ত এখন আর ভাগ্য যাদের প্রতি প্রসন্ন একদিন দেখবে সময়ের পরিবর্তন সে এক প্রবঞ্চণা রাজারা যদি অমর হয়, আমরা তা হলে তাই সত্যের যদি জয় হয় আমাদেরও হবে। কিন্তু আমাদের সব সর্দার ধুয়ে-মুছে শেষ হয়ে গেছে আমাদের আগের প্রজন্মের মত” (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ৩৯২-৩; আল-বিদায়া, ৩/৫খ., পৃ. ৬৩-৬৪)।
তাঁহার নবী দরবারে আগমন সম্পর্কে ফারওয়া বলেন: لنا رأيت ملوك كندة أعرضت كالرجل خان الرجل عزق نسائها قربت راحلتى أؤم محمدا أرجو فواضلها وحسن ثرائها
“যখন দেখলাম কিন্দার রাজারা সৎপথ বিমুখ পায়ের পেশীতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়া লোকদের মত তখন মুহাম্মাদের উদ্দেশ্যে চাপলাম বাহন পিঠে তাদের মঙ্গলের জন্য তাদের সরস চারণভূমির জন্য”। রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে তাঁহার উপস্থিতি সম্পর্কে ইবন ইসহাকের বর্ণনা হইল: ثم خرج حتى أتى المدينة وكان رجلا له شرف فأنزله سعد بن عبادة عليه ثم غدا إلى رسول الله وهو جالس في المسجد فسلم عليه ثم قال يا رسول الله أنا لمن ورائى من قومي قال أين نزلت يا فروة قال على سعد بن عبادة وكان يحضر مجلس رسول الله كلما جلس ويتعلم القرآن وفرائض الإسلام وشرائعه.
“অতঃপর তিনি বাহির হইয়া পড়িলেন এবং মদীনায় আসিয়া পৌছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। সা’দ ইবন উবাদা (রা) তাহাকে নিজ বাড়ীতে উঠাইলেন। তিনি তাঁহাকে লইয়া রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকটে যান। তিনি তখন মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। ফারওয়া তাঁহাকে সালাম দিয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্বগোত্রের প্রতিনিধিরূপে আসিয়াছি। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন: তুমি কোথায় উঠিয়াছ হে ফারওয়া? তিনি বলিলেন, সা’দ ইবন উবাদার বাড়িতে। তিনি যখনই রাসূলুল্লাহ্ -এর মজলিসে বসিতেন তখনই তাঁহার নিকটে বসিতেন এবং আল-কুরআন এবং ইসলামের ফরয-ওয়াজিব বিধানসমূহ সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করিতেন”। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন:
يا فروة هل ساءك ما أصاب قومك يوم الردم ؟
৪৩৩ "হে ফারওয়া! রাদমের যুদ্ধে তোমার স্বগোত্রের শোচনীয় অবস্থা বুঝি তোমার নিকট খুবই খারাপ লাগিয়াছে"? তিনি জবাব দিলেন:
يا رسول الله من ذا يصيب قومه مثل ما أصاب قومى يوم الردم ولا يسوءه ذلك ؟
"এমন কে আছে ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যে তাহার স্বজাতি রাদমের যুদ্ধের মত শোচনীয় অবস্থায় পড়িবে আর তাহার কাছে উহা খারাপ লাগিবে না"? রাসূলুল্লাহ্ বলিলেনঃ
أما إن ذلك لم يزد قومك في الإسلام إلا خيرا.
"তাহা হইলে ইসলাম তোমার কওমের জন্য মঙ্গল বৈ অন্য কিছু বৃদ্ধি করিবে না” (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩৯২-৩; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫খ., পৃ. ৭০)। রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে সমগ্র মুরাদ, যুবায়দ ও মাযহিজ এলাকায় প্রশাসক নিযুক্ত করিলেন এবং খালিদ ইবন সা'ঈদ ইবন 'আসকে যাকাত উশুলকারীরূপে তাহার সহিত প্রেরণ করেন। তিনি সেখানে অবস্থানকালেই রাসূলুল্লাহ্ ইনতিকাল করেন (তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৩৪-৬; ইব্‌ن কাছীর, আস-সীরা আন্-নাবাবিয়া, ৪খ., পৃ. ১৩৬-৩৮; সবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ৩৯২-৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00