📄 আদ-দারী গোত্রের রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে আগমন
সীরাত গ্রন্থসমূহ পাঠে প্রতীয়মান হয় যে, দারী প্রতিনিধি দল দুই বা ততোধিকবার নবী দরবারে আগমন করিয়াছে। আল্লামা আলী ইব্ن বুরহানুদ্দীন হালাবী প্রথম প্রতিনিধি দলের বর্ণনা
দিয়াছেন এইভাবে: হিজরতের আগে দারী গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্-এর খেদমতে হাযির হয়। ঐ দলে আবূ হিন্দ আদ-দারী, তামীম আদ-দারী, তদীয় ভ্রাতা নু'আয়ম আদ-দারী এবং অপর চার ব্যক্তি ছিলেন। তাহারা নবী কারীম-এর নিকট আবেদন জানান যেন তাহাদেরকে সিরিয়ার কিছু ভূ-সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ্ বলেন: যেখান হইতে ইচ্ছা আবেদন জানাও।
আবূ হিন্দ বলেন, আমরা কিছু দূরে গিয়া নিজেদের মধ্যে শলা-পরামর্শ করিলাম। তামীম আদ-দারী বলিলেন, আমাদের বায়তুল মুকাদ্দাস এবং উহার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আবেদন জানান উচিত। সাথে সাথে আবূ হিন্দ প্রতিবাদ করিয়া বলিলেন, উহা এখন আজমী (অনারব) নৃপতিদের কেন্দ্র, অচিরেই আরব নৃপতিদের কেন্দ্রে পরিণত হইবে। এইজন্য আমার আশঙ্কা হয়, আমাদেরকে ঐ এলাকা ছাড়িয়া দেওয়া হইবে না। শেষপর্যন্ত অন্যত্র সরিয়া যাইতে হইবে। তামীম আদ-দারী বলিলেন, আমরা বায়ত হারূন এবং উহার আশেপাশের এলাকা চাহিয়া লইব।
অবশেষে আমরা রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট ঐ এলাকা আমাদের নামে বরাদ্দ করার আবেদন জানাইলাম। রাসূলুল্লাহ্ সেমতে একটি চর্মগাত্রে আমাদেরকে বরাদ্দপত্র লিখিয়া দিলেন। বায়তুল মুকাদ্দাস হইতে আঠার মাইল দূরবর্তী ঐ স্থানটি এখন আল-খালীল নামে পরিচিত (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৪৩-৪৪)। উক্ত বরাদ্দপত্রের সাক্ষীরূপে ছিলেন হযরত 'আব্বাস ইব্ন আবদুল মুত্তালিব, খুযায়মা ইন্ন কায়স এবং শুরাহবীল ইন্ন হাসানা (রা)। অতঃপর উহা আমাদের হাতে অর্পণ করিয়া বলিলেন: আপাতত যাও! অতঃপর আমার হিজরতের কথা শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা কর।
আবূ হিন্দ বলেন, অতঃপর আমরা সেখান হইতে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করিলাম। তারপর তিনি যখন মদীনায় হিজরত করিলেন তখন আমরা পুনরায় রাসূলুল্লাহ্-এর খেদমতে হাযির হইয়া পূর্ববর্তী বরাদ্দপত্রের নবায়ন এবং নূতন একটি বরাদ্দপত্র লিখিয়া দেওয়ার জন্য তাঁহাকে অনুরোধ জানাইলাম। এবারকার নূতন বরাদ্দপত্রে তিনি আমাদেরকে বায়তে আয়নুন, হেব্রুন, মারতুম, বায়ত ইবরাহীমের গোটা এলাকা এবং ঐগুলিতে যাহাকিছু আছে সবকিছুই চিরদিনের জন্য আমাদের নামে বরাদ্দ করিয়া দিলেন। এবারকার এই বরাদ্দপত্রের সাক্ষীরূপে রহিলেন হযরত আবূ বকর ইব্ن আবু কুহাফা, হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব, হযরত উছমান ইব্ন আফফান, হযরত আলী ইব্ন আবূ তালিব এবং হযরত মুআবিয়া ইব্ن আবূ সুফ্যান (রা)। হালাবী বলেন, ঐ বরাদ্দপত্রখানা আল্লামা কাস্তাল্লানী তদীয় মাওয়াহিবুল-লাদুন্নিয়াতে উদ্ধৃত করিয়াছেন। সাথে সাথে তিনি ঐ রিওয়ায়াতকে সহীহ বলিয়া প্রত্যয়নও করিয়াছেন (সীরাতে হালাবিয়্যা, পৃ. ১৩-১৪)।
তাবাকাত দারীইনগণের দ্বিতীয়বার নবী দরবারে আগমনের বিবরণ দিতে গিয়া দীর্ঘ সনদ উদ্ধৃত করিয়া লিখেন: রাসূলুল্লাহ্-এর তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের পর আদ-দারীইন প্রতিনিধি দল নবী দরবারে উপস্থিত হয়। ঐ প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১০। তিনি ঐ সদস্যগণের পূর্ণ পরিচয়ও দিয়াছেন এইভাবে: তামীম ও নু'আয়ম; তাঁহারা উভয়ে সহোদর ছিলেন। তাঁহাদের বংশলতিকা, তাহাদের পিতৃপুরুষের নাম তিনি উদ্ধৃত করিয়াছেন। তাঁহারা ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ তাইয়িবের নামকরণ করেন আবদুল্লাহ এবং আযীযের
৪৩৫ নাম রাখেন আবদুর রহমান। হানী ইন্ন হাবীব রাসূলুল্লাহ্ -কে হাদিয়া প্রদান করেন। ঐ উপহারসামগ্রীর মধ্যে ছিল (১) পানপাত্র )اورضا( , )২) কয়েকটি ঘোড়া এবং (৩) স্বর্ণের কারুকার্য খচিত একটি বহুমূল্য পরিধেয়। তিনি ঘোড়াগুলি ও পরিধেয় গ্রহণ করিলেন। পানপাত্রটি যেহেতু মদ্যপানের জন্য ছিল, সম্ভবত এই কারণে উহা গ্রহণ করেন নাই। পরিধেয় তিনি পিতৃব্য আব্বাসকে দান করিলে তিনি বলিলেন, উহা দিয়া আমি কী করিব? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন:
انتزع الذهب فتحليه نساءك أو تستنفقه ثم تبيع الديباج فتأخذ ثمنه فباعه العباس من رجل من يهود بثمانية آلاف درهم.
"উহা হইতে স্বর্ণ উঠাইয়া লইয়া আপনার পরিবারের স্ত্রীলোকদিগকে পরিতে দিবেন। বা উহা খুলিয়া রেশম বিক্রী করিয়া উহার মূল্য গ্রহণ করেন। আব্বাস (রা) জনৈক ইয়াহূদীর নিকট আট হাজার দিরহাম উহা মূল্যে বিক্রয় করিয়া দেন।”
তামীম বলিলেন, আমার প্রতিবেশী দুইটি রোমক কবলিত গ্রাম হইতেছে হিব্রা ও বায়ত আয়নূন। আল্লাহ যদি আপনাকে বিজয়ী করেন এবং সিরিয়া আপনার আয়ত্তে চলিয়া আসে তাহা হইলে ঐ দুইটি গ্রাম আমার যেন হয় তাহা নিশ্চিত করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন: হাঁ, তখন ঐগুলি তোমারই হইবে। আবূ বকর (রা) খিলাফতের দায়িত্বে আসীন হইলে তিনি একটি বরাদ্দপত্রের মাধ্যমে উহা তাঁহাকে দান করেন। আদ-দারীদের উক্ত প্রতিনিধি দলটি রাসূলুল্লাহ্ -এর ইন্তিকাল পর্যন্ত মদীনায়ই ছিল। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদেরকে এক শত ওয়াসাক খাদ্য শস্য প্রদানের ওয়াসিয়াত করিয়া যান (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৪২-৪)।
📄 আল-আহমাস প্রতিনিধি দলের রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে আগমন
আল-আহমাস প্রতিনিধি দলের রাসূলুল্লাহ্-এর খেদমতে আগমন
ইবন সা'দ (র) বলেন, কায়স ইন্ন গারবাহ আল-আহ্মাসী তাহার সম্প্রদায়ের আড়াই শত সঙ্গী-সাথীসহ নবী দরবারে উপস্থিত হইলে তিনি তাহাদেরকে তাহাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। তাহারা বলে, نحن احمس الله "আমরা আল্লাহ্র বীর দল"। জাহিলিয়াতের যুগে তাহারা এই নামেই অভিহিত হইত। তখন রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন: انتم اليوم لله "আজ তোমরা আল্লাহ্র পক্ষের বীর দল"। রাসূলুল্লাহ্ বিলাল (রা)-কে বলেন : اعط ركب. بجيلة وابدأ بالاحمسيين "বাজীলা গোত্রের আরোহীদেরকে দান কর এবং এই দান প্রক্রিয়া আহমাসীদের দ্বারা শুরু করিবে”।
📄 আব্দ উমান প্রতিনিধি দলের রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরবারে আগমন
তিনি যথারীতি সেই আদেশ পালন করেন। তারিক ইন্ন শিহাব (র) হইতে বর্ণিত আছে, বাজীলা গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমতে উপস্থিত হইলে তিনি বলিলেন:
اكتبوا البجليين وابدعوا بالاحمسيين.
"বাজীলা গোত্রীয়দের নাম লিখ এবং আহমাসীদের দ্বারা সূচনা করিবে”। আল-কায়সীদের মধ্যকার এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনে রহিয়া গেল। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ তাহাদের জন্য কী বলেন (দু'আ করেন) তাহা শোনাই ছিল আমার এই
৪৩৬ পিছনে থাকার উদ্দেশ্য। সেই ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ কয়েকবার তাহাদের নাম উল্লেখ করিয়া দু'আ করিলেন:
اللهم جد عليهم اللهم بارك فيهم. “হে আল্লাহ! তাহাদের প্রতি সদয় হউন! হে আল্লাহ্। তাহাদিগের মধ্যে বরকত দান করুন।" অপর এক বর্ণনায় আছে:
قدم وفد احمس ووفد قيس فقال رسول الله ﷺ ابدأوا بالاحمسيين قبل القيسين. "আহমাস গোত্র কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী ﷺ দরবারে আসিলে রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন: কায়সীদের পূর্বেই আহমাসীদের দ্বারা সূচনা করিবে”। তারপর তিনি আহ্মাসীদের জন্য দু'আ করিলেন:
اللهم بارك في احمس وخيلها ورجالها. "হে আল্লাহ! আহমাসীদের অশ্বারোহী ও পদাতিকগণকে বরকত দিন"। তিনি সাতবার এইরূপ বলেন। ইমাম আহমাদও তাহা-রিওয়ায়াত করিয়াছেন (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ২৬১; তাবাকাত, ৩খ., পৃ. ৭৮, ১খ., পৃ. ৩৪৭)।
আযদ উমান প্রতিনিধি দলের রাসূলুল্লাহ-এর দরবারে আগমন
ইবন সা'দ (র) বলেন, 'উমানবাসিগণ ইসলাম গ্রহণ করিলে রাসূলুল্লাহ্ আল-'আলা ইবনুল হাদরামীকে তাহাদিগকে ইসলামী শারী'আতের বিধানাবলী শিক্ষাদান এবং সেখানকার যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। তাহাদের একটি প্রতিনিধি দল আসাদ ইব্ন বাহ্রা আত-তাহীসহ রাসূলুল্লাহ্-এর দরবারে উপস্থিত হন। তাহারা রাসূলুল্লাহ্-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া তাহাদের ব্যাপারসমূহ অর্থাৎ শাসন শৃঙ্খলার দেখাশোনার জন্য একজন লোক তাহাদের সহিত পাঠাইবার আবেদন জানান। তখন মাখরামা আল-আবদী- যাহার আসল নাম ছিল মুদরিক ইব্ন ধৃত- রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট আবেদন জানান এই বলিয়া, আমার উপর ঐ গোত্রের বিরাট দান রহিয়াছে। আইয়ামে জানূব অর্থাৎ আরবদের যুদ্ধ-বিগ্রহের এক পর্যায়ে তাহারা আমার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ প্রদর্শন করিয়াছে। সুতরাং আমাকেই আপনি তাহাদের নিকট প্রেরণ করুন ইয়া রাসূলাল্লাহ্।
সেই মতে মাখরামা আবদী (রা)-কে তাহাদের সহিত উমানে প্রেরণ করা হয়। অতঃপর সালামা ইব্ن ইয়াদ আল-আযদী তাহার সম্প্রদায়ের বেশ কিছু লোকসহ রাসূলুল্লাহ্-এর দরবারে আসিয়া উপস্থিত হন। তিনি রাসূলুল্লাহ্-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, তিনি কাহার ইবাদত করেন এবং সেই উপাস্যের কাছে কী দু'আ করেন। তিনি তাঁহাকে তাহা অবহিত করিলেন। তখন সালামা তাঁহার নিকট আহ্বান জানাইলেন, যেন আল্লাহ্র রাসূল তাঁহাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের সংহতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির দু'আ করেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদের জন্য দু'আ করিলেন। সালামা ও তদীয় সাথীবর্গ তখন ইসলাম গ্রহণ করিলেন। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদের সম্পর্কে মন্তব্য করিলেন:
سنعم الوفد الازد طيبة افواههم برة ايمانهم تقية قلوبهم.
"আব্দ কী উত্তম প্রতিনিধি দল! পবিত্র তাহাদের মুখ, তাহাদের অঙ্গীকার সদিচ্ছাপূর্ণ এবং তাহাদের হৃদয় তাওয়া মণ্ডিত"। ইমাম আহমাদ উত্তম সনদে উহা রিওয়ায়াত করিয়াছেন।
তালহা ইব্ن দাউদ হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ ফরমান نعم المرضعون اهل عمان "আযদগণ কী উত্তম দুগ্ধদানকারী তথা সন্তান পালনকারী" (সুবুলুল হুদা, ৬খ., পৃ. ২৬৪-৬৫; দ্র. তাবারানী, আল-কাবীর, ৮/৩৭৩)।
বিশ্ব ইন্ন ইসমাত আল-লায়ছী (রা) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ বলেন: الأزد منى وانا منهم اغضب لهم اذا غضبوا ويغضبون اذا غضبت وارضى لهم اذا رضوا ويرضون اذا رضيت رواه الطبراني
"আযদগণ আমারই এবং আমি তাহাদের। তাহারা ক্রুদ্ধ হইলে আমিও তাহাদের জন্য ক্রুদ্ধ হইব আর আমি ক্রুদ্ধ হইলে তাহারাও ক্রুদ্ধ হইবে। আমি তাহাদের জন্য সন্তুষ্ট হইব, যদি তাহারা সন্তুষ্ট হয় এবং তাহারা সন্তুষ্ট হইবে যখন আমি সন্তুষ্ট হইব"।
আবূ লাবীদ বলেন, বারা ইব্ন আসাদ নামক আযদে উমানের এক ব্যক্তি হিজরত পূর্বক নবী কারীম-এর দরবারে হাজির হওয়ার উদ্দেশ্যে মদীনায় আগমন করিলে দেখিতে পান যে, তিনি ইন্তিকাল করিয়াছেন। মদীনায় এক রাস্তায় হযরত উমার ইবনুল খাত্তাবের সহিত তাহার দেখা হইলে তিনি তাহাকে তাহার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। আগন্তুক জবাব দিলেন, আমি উমানবাসী। তিনি বলিলেন, সত্যই উমানের অধিবাসী? আগন্তুক বলিলেন, হাঁ। তখন তিনি তাঁহার হাত ধরিয়া হযরত আবূ বকর (রা)-এর নিকট গিয়া উপনীত হইলেন এবং বলিলেন, এই হইতেছে সেই দেশের অধিবাসী যাহাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ প্রায় আলোচনা করিতেন। আবূ বকর (রা) বলিলেন, হাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি: اني لا علم ارضا يقال لها عمان ينضح ناحيتها البحر (بها حي من العرب) لو اتاهم رسولى لم يرموه بسهم ولا حجر رواه الامام احمد وأبو يعلى برجال صحيح.
"আমি এমন একটি দেশের কথা জানি যাহার নাম উমান। সেখানে একটি আরব গোত্র রহিয়াছে। উহার উপকূলভাগ সমুদ্র বিধৌত। যদি তাহাদের দেশে আমার দূত যায় তবে কখনও তাহারা তীর বা পাথর তাহার প্রতি বর্ষণ করে না” (আহমাদ ও আবূ ইয়ালা সহীহ সনদে হাদীছখানা বর্ণনা করিয়াছেন। দ্র. মুসনাদে আহমাদ, ১খ., পৃ. ৪৪; আবূ ইয়ালা, তদীয় মুসনাদের পৃ. ১০৬; সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৬খ., পৃ. ২৬৪)।
📄 তারিক ইব্ন আবদুল্লাহ ও তদীয় সঙ্গীগনের আগমন
তারিক ইব্ن আবদুল্লাহ ও তদীয় সঙ্গিগণের আগমন
হাফিয বায়হাকী (র) আবূ খাব্বাব আল-কালবী হইতে..... তারিক ইব্ন আবদুল্লাহ্ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমি একদা যুল-মাজায বাজারে দণ্ডায়মান ছিলাম। এমন সময় জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি আগাইয়া আসিল। সে তখন বলিয়া যাইতেছিল:
يايها الناس قولوا لا اله الا الله تفلحون
"লোকসকল! বল আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই, তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হইবে"। অপর এক ব্যক্তি তাহার প্রতি কঙ্কর ছুড়িতে ছুড়িতে বলিয়া যাইতেছিল, লোকসকল! এই লোকটি মহা মিথ্যুক, তোমরা তাহার কথা বিশ্বাস করিও না। আমি তখন লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ঐ লোকটি কে? জবাবে লোকজন বলিল, বনু হাশিমের এক তরুণ। সে নিজেকে আল্লাহ্র রাসূল বলিয়া দাবি করিতেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বলিলাম, আর ঐ যে তাহার পশ্চাতে পশ্চাতে ঐরূপ আচরণ করিতেছে ঐ লোকটি কে? তাহারা জবাব দিল, সে হইতেছে তাঁহারই পিতৃব্য 'আবদুল উয্যা।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকজন ইসলাম গ্রহণ করিয়া যখন মদীনায় হিজরত করিল তখন খেজুর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমরা মদীনার উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়িলাম। যখন আমরা মদীনার নগর প্রাচীর ও খর্জুর বীথির নিকটে গিয়া পৌঁছিলাম, তখন আমরা বলাবলি করিতে লাগিলাম, এখন আমাদের পোশাক পরিবর্তন করিয়া লওয়া উত্তম হইবে। এমন সময় পুরাতন বস্ত্র পরিহিত এক ব্যক্তির সহিত আমাদের দেখা হইল। সে আমাদেরকে সালাম দিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কাফেলাটি কোথা হইতে আসিতেছে? আমরা জবাব দিলাম, রাবাযা হইতে। তোমাদের গন্তব্য কোথায়? মদীনায়। সেখানে তোমাদের কী প্রয়োজন? আমরা সেখান হইতে খেজুর সংগ্রহ করিব।
রাবী বলেন, আমাদের সহিত একটি হাওদানশীনা মহিলা এবং একটি লাগামযুক্ত লাল উট ছিল। লোকটি জিজ্ঞাসা করিল, তোমরা কি তোমাদের এই উটটি আমার নিকট বিক্রয় করিবে? আমরা বলিলাম, হাঁ, এত এত সা' খেজুরের বিনিময়ে আমরা উহা বিক্রয় করিতে রাজী আছি। রাবী তারিক বলেন, তারপর আর কোন দাম-দর না করিয়াই উটটির লাগাম ধরিয়া লোকটি প্রস্থান করিল। লোকটি যখন নগরীর প্রাচীরসমূহ ও খেজুর বীথির আড়ালে চলিয়া গেল তখন আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করিতে লাগিলাম, আমরা ইহা কী করিলাম? মূল্য বুঝিয়া না পাইয়াই এমন একটি লোকের নিকট উটটি বেচিয়া দিলাম? রাবী বলেন, তখন আমাদের সঙ্গিনী মহিলা বলিল, আল্লাহর কসম! আমি তো এমন একটি লোকই প্রত্যক্ষ করিলাম যাঁহার চেহারা যেন পূর্ণিমার চাঁদের টুকরা। আমি তোমাদের উটের মূল্যের দায়িত্ব লইতেছি। والله لقد رأيت رجلا كأن وجهه سقة القمر ليلة البدر انا ضامن ثمن جملكم.
এমন সময় লোকটি আসিয়া উপস্থিত হইল এবং বলিল, انا رسول الله اليكم هذا تمركم فكلوا واشبعوا واكتالوا واستوفوا. "আমি তোমাদের নিকট আল্লাহ্র রাসূল। এই লও তোমাদের খেজুর; খাও, তৃপ্ত হও। তারপর কড়ায় গণ্ডায় মাপিয়া বুঝিয়া লও"।
৪৩৯ আমরা পরম তৃপ্তির সহিত খাইলাম, তারপর কড়ায় গণ্ডায় মাপিয়া বুঝিয়া লইলাম। অতঃপর আমরা মদীনা নগরীতে প্রবেশ করিলাম। আমরা মসজিদে প্রবেশ করিয়া দেখি ঐ ব্যক্তিটি মিম্বরে দাঁড়াইয়া খুতবা দিতেছেন :
تصدقوا فان الصدقة خير لك اليد العليا خير من يد السفلى وابداء بمن تعول امك واباك واختك واخاك وادناك ادناك.
"দান করিবে, কেননা সাদাকা করা তোমাদের জন্য উত্তম। উপরের হাত অর্থাৎ দাতার হাত নীচের হাত (গ্রহীতার হাত) হইতে উত্তম। যাহাদের ভরণ-পোষণ তোমাদের উপর তাহাদের হইতে শুরু করিবে। তোমাদের মাতা, তোমাদের পিতা, তোমাদের ভগ্নি, তোমার ভাই, নিকট হইতে নিকটতর জনকে দান করিবে”।
এমন সময় ইয়ারবু গোত্রীয় কিংবা আনসারী এক ব্যক্তি বলিল, هؤلاء دماء في الجاهلية "ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই গোত্রের কাছে আমাদের জাহিলিয়াত যুগের রক্তপণ পাওনা রহিয়াছে"। তখন রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, أن أبا لا يجنى على ولد "পিতার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুত্রের উপর বর্তায় না"। এই কথাটি তিনি তিনবার বলিলেন (সুবুলুল হুদা ওয়ার-রাশাদ, ৭খ., পৃ. ৩৫৭, বৈরুত, ১৪১০/১৯৯৩)।