📄 নবী (সা)-এর দরবারে জা'দা প্রতিনিধি
ইবন সা'দ বলেন, 'উকায়লের এক ব্যক্তির বরাতে হিশাম ইবন মুহাম্মাদ আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, আর-রাক্কাদ ইবন আমর ইবন রাবী'আ ইব্ন জা'দা ইব্ন কা'ব নবী দরবারে আগমন করেন। রাসূলুল্লাহ তাহাকে উপঢৌকন প্রদান করেন এবং তাহার স্বপক্ষে একটি পত্রও লিখিয়া দেন। পত্রখানি ঐ গোত্রে সংরক্ষিত রহিয়াছে (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০৩)।
📄 খাওলান প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন
দশম হিজরীর শা'বান মাসে খাওলানের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ-এর খিদমতে উপস্থিত হন। এই দলে দশজন সদস্য ছিলেন। তাঁহারা আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মহান আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনয়ন করিয়াছি। তদীয় রাসূলের সত্যতার প্রতি আমরা বিশ্বাস স্থাপন
করিয়াছি। আমরা কেবল আপনার দর্শন লাভের উদ্দেশ্যে উটের পিঠে চড়িয়া দুস্তর মরু অতিক্রম করিয়া অনেক কষ্টে আপনার খিদমতে উপস্থিত হইয়াছি। আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের ইহসানই বলিতে হইবে যে, আমরা সেই তওফীক লাভ করিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
واما ما ذكرتم من مسيركم الى فان لكم بكل خطوة خطاها بعير أحدكم حسنة واما قولكم زائرين لك فانه من زارني جوارى يوم القيامة. "তোমরা সফরের যে কষ্টের কথা উল্লেখ করিয়াছ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উটের প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করিয়া ছওয়াব দান করিয়াছেন। আর আমাকে দর্শনের যে উল্লেখ তোমরা করিয়াছ তাহার ছওয়াব বা প্রতিদান হইল: যে ব্যক্তি মদীনায় আমার যিরায়ত করিবে, কিয়ামতের দিন সে আমার প্রতিবেশীরূপে থাকিবে"। পর রাসূলুল্লাহ তাহাদেরকে আম্মে আনাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উহা ছিল ঐ গোত্রের পূজিত দেবমূর্তি। তাহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি জানিয়া খুশী হইবেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে উহার উত্তম বিকল্প অর্থাৎ ইসলাম দান করিয়াছেন। আমাদের এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা মাত্র উহাকে আকড়াইয়া রহিয়াছে। দেশে ফিরিয়া ইনশাআল্লাহ্ আমরা উহা ধ্বংস করিয়া ফেলিব। তাঁহারা আরও বলেন, আম্মে আনাস আমাদেরকে মহা সমস্যায় ফেলিয়া দিয়াছিল ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই বৎসর ভীষণ খরা পড়িয়াছিল। আমরা সাধ্যানুসারে অর্থ সংগ্রহ করিয়া এক শতটি ষাঁড় খরিদ করি এবং আম্মে আনাসের জন্য উহার সবকয়টি এক দিনে বলি দিয়া ফেলিয়া রাখি। হিংস্র জন্তুরা আসিয়া ঐগুলি উদরস্থ করিতে থাকে, অথচ আমরাই ছিলাম ঐ হিংস্র জন্তুগুলির তুলনায় অধিকতর হকদার। এই ঘটনার পরের দিনই বৃষ্টিপাত হইলে লোকে বলাবলি করিতে থাকে যে, ইহা হইতেছে আম্মে আনাসেরই অনুগ্রহের ফল। তাহারা আরও বলেন, আমাদের লোকজন নিজেদের পশুপাল ও ক্ষেতখামারের একাংশ আম্মে আনাসের জন্য এবং একাংশ আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করিয়া রাখিত। আম্মে আনাসের জন্য নির্দিষ্ট অংশে ফসল ভাল না হইলে আল্লাহ্ জন্য নির্দিষ্ট অংশ হইতে তাহা পূরণ করা হইত। কিন্তু আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট অংশের ফসল নষ্ট হইলে দেবতার জন্য নির্দিষ্ট অংশ হইতে কোন দিন তাহার ক্ষতিপূরণ করা হইত না। রাসূলুল্লাহ বলিলেন: এই ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা আমার নিকট ওহী নাযিল করিয়াছেন।
وَجَعَلُوا لِلَّهِ مِمَّا دَرَءَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعَامِ نَصِيبًا فَقَالُوا هَذَا لِلَّهِ مِنْ زَعْمِهِمْ وَهَذَا لِشُرَكَائِنَا فَمَا كَانَ لِشُرَكَائِهِمْ فَلا يَصِلُ إِلَى اللهِ وَمَا كَانَ لِلَّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلَى شُرَكَائِهِمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ. "আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করিয়াছেন, তন্মধ্য হইতে তাহারা আল্লাহ্ জন্য এক অংশ নির্দিষ্ট করে এবং নিজেদের ধারণা অনুযায়ী বলে, ইহা আল্লাহর জন্য এবং ইহা আমাদের দেবতার জন্য। যাহা তাহাদের দেবতাদের অংশ তাহা আল্লাহর কাছে পৌছায় না এবং যাহা আল্লাহর অংশ তাহা তাহাদের দেবতাদের কাছে পৌঁছায়। তাহারা যাহা মীমাংসা করে তাহা নিকৃষ্ট” (৬ঃ ১৩৬)।
প্রতিনিধি দলের সদস্যগণ আরও বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আমাদের ঝগড়া-বিবাদের মীমাংসার জন্য আম্মে আনাসকে সালিশ মানিতাম। সে রীতিমত কথাবার্তা বলিয়া আমাদের বিবাদ মীমাংসা করিয়া দিত। রাসূলুল্লাহ বলিলেন : মূলে শয়তানই উহার মধ্য হইতে তোমাদের সহিত কথাবার্তা বলিত। তারপর তাহারা শারী'আতের অবশ্য করণীয় বিষয়সমূহ শিক্ষা করেন। রাসূলুল্লাহ কয়েকটি ব্যাপারে তাহাদেরকে তাকীদ দেন। তিনি বলেন, ওয়াদা করিলে তাহা পূরণ করিবে, আমানত রক্ষা করিবে, প্রতিবেশীদের প্রতি লক্ষ্য রাখিবে। কাহারও প্রতি কোনরূপ অত্যাচার করিবে না।
والظلم ظلمات يوم القيامة. "আর যুলুম হইতেছে কিয়ামতের অন্ধকাররাশি"।
বিদায়কালে রাসূলুল্লাহ তাহাদেরকে পাথেয় দেন এবং তাহারা দেশে পৌঁছিয়াই আম্মে আনাস দেবতাটি ধ্বংস করিয়া ফেলেন (আসাহহুস সিয়ার, বাংলা ভাষ্য, পৃ. ৪৮৩-৮৪; উয়ুনুল আছার, ২খ., পৃ. ২৫৩; যাদুল-মা'আদ, ৩খ., পৃ. ১৫৪-৬, উর্দুভাষ্য)।
ইবন সা'দ বলেন, তাহাদেরকে প্রদত্ত উপঢৌকন ছিল বার উকিয়া ও এক নাম্। উটের পালান খোলার পূর্বেই তাঁহারা দেবমূর্তি ধ্বংস করিয়াছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ নির্দেশিত হালালকে হালাল-রূপে এবং হারামকে হারামরূপে গ্রহণ করিয়া লইয়াছিলেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩২৪)।
📄 হামদান প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন
হামদানের প্রতিনিধি দলের নবী-এর দরবারে আগমন
হামদান ইয়ামানের একটি বিশাল কবীলা। রাসূলুল্লাহ্ সর্বপ্রথম খালিদ ইব্ন ওয়ালীদ (রা)-কে ইসলামের দা'ওয়াত পৌঁছাইবার দায়িত্ব দিয়া সেখানে প্রেরণ করেন। তিনি দীর্ঘ ছয়মাস পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন, কিন্তু কোন ফলোদয় হইল না। একজন লোকও ইসলাম গ্রহণ করিল না। তারপর রাসূলুল্লাহ হযরত আলী (রা)-কে একখানা পত্র সঙ্গে দিয়া ঐ অঞ্চলে প্রেরণ করিলেন এবং বলিয়া দিলেন যে, খালিদকে ফেরত পাঠাইয়া দিবে। হযরত আলী (রা) সেখানে পৌছিয়া ঐ অঞ্চলের লোকজনকে সমবেত করিয়া ফজরের নামায শেষে নবী কারীম -এর পত্রখানা তাহাদেরকে পড়িয়া শুনাইলেন। ইহাতে এতই সুফল ফলিল যে, একদিনে গোটা হামদানের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করিল। হযরত আলী (রা) পত্রের মাধ্যমে তাহা রাসূলুল্লাহ-কে অবহিত করিলেন। রাসূলুল্লাহ এই সংবাদে এতই আনন্দিত হইলেন যে, শোকরানা সিজদা আদায় করিয়া উপর্যুপরি কয়েকবার বলিলেন:
السلام علی همدان "হামদানের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। হামদানের উপর শান্তি বর্ষিত হউক!! হামদানের উপর শান্তি বর্ষিক হউক" !!! বায়হাকী সহীহ সনদে বারা' ইব্ন আযিবের প্রমুখাৎ এই হাদীছখানা বর্ণনা করেম। ইহা ছিল হিজরী অষ্টম সালের কথা যখন রাসূলুল্লাহ তাইফ হইতে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর নবম হিজরীতে তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের পর হামদানের প্রতিনিধি দল মদীনায় নবী দরবারে উপস্থিত হয় (সীরাতুল মুস্তাফা, ৩খ., পৃ. ১১৮; আসাহ্হুস সিয়ার, পৃ. ৪৬৩, বাংলা ভাষ্য)। ইবনুল কায়্যিম বলেন, এই রিওয়ায়াতের শিকড় রহিয়াছে বুখারীতে। তাই উহা বিশুদ্ধ।
📄 তাহাদের আগমনের প্রেক্ষাপট
তাহাদের আগমনের প্রেক্ষাপট
ইব্ন সা'দ, হিশাম ইব্ন মুহাম্মাদ 'আমর ইব্ন মালিক লাঈ আরহাবী আল-হামদানীর প্রমুখাৎ তাঁহাদের প্রবীণদের বরাতে নবী দরবারে হামদানের প্রতিনিধি দলের আগমনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করিয়াছেন এইভাবে: কায়স ইব্ন মালিক ইব্ন সা'দ ইব্ন লাঈ আল-আরহাবী মক্কায় নবী কারীম-এর দরবারে উপস্থিত হন। তিনি নবী কারীম-কে লক্ষ্য করিয়া বলেন:
يا رسول الله أتيتك لأومن بك وأنصرك
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার প্রতি ঈমান আনয়ন ও আপনাকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে আপনার খিদমতে উপস্থিত হইয়াছি"। জবাবে তিনি বলেন:
مرحبا بك أتأخذوني بما في يا معشر همدان "তোমাকে স্বাগতম। হে হামদানবাসী! আমার সহিত যাহা আছে (অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম) তাহাসহ কি আমাকে গ্রহণ করিবে? প্রত্যুত্তরে আগন্তুক কায়স ইন্ন মালিক হামদানী বলেন:
نعم بأبي أنت وأمى.
"হাঁ। আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হউন!" রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন:
فاذهب إلى قومك فإن فعلوا فارجع أذهب معك.
"তাহা হইলে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট যাও। তাহারা যদি সত্যসত্যই তাহা করে, তাহা হইলে তুমি ফিরিয়া আসিবে। আমি তোমার সহিত যাইব।" সেইমতে কায়স তাঁহার সম্প্রদায়ে ফিরিয়া তাহাদেরকে ইসলামের দা'ওয়াত দেন। তাহারা যথারীতি ইসলাম গ্রহণ করিলে তিনি নবী দরবারে ফিরিয়া আসিয়া জানান:
قد أسلم قومي وأمروني ان آخذك..
"আমার সম্প্রদায় ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে এবং আপনাকে লইয়া যাইবার জন্য তাহারা আমাকে প্রেরণ করিয়াছে"। তখন নবী কারীম খুশী হইয়া বলেন : نعم وفد القوم قيس "কায়স তাহার গোত্রের কী উত্তম প্রতিনিধি” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৪০-১)।
ইবন হিশাম বলেন, আমি যাহাকে বিশ্বাস করি এমন এক ব্যক্তি 'আমর ইব্ন আবদুল্লাহ ইব্ন উয়ায়না হইতে এবং তিনি আবূ ইসহাক সুবায়'ঈ হইতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: হামদানের প্রতিনিধি দল নবী দরবারে আগমন করে। তাহাদের সদস্যরূপে ছিলেন মালিক ইব্ন নামাত, আবূ ছাওর যুল-মিশা'আর, মালিক ইব্ন আনফা, যিমাম ইবন মালিক ও উমায়র ইবন মালিক খারিকী। তাবুক হইতে রাসূলুল্লাহ -এর প্রত্যাবর্তনের পথে তাহারা তাঁহার সহিত সাক্ষাত করেন। তাহাদের পরিধানে ছিল ইয়ামানী কারুকার্যখচিত ছোট ছোট চাদর এবং মাথায় ছিল আদানী পাগড়ী। মাহরী ও আরহাবী উটে চড়িয়া তাহারা আগমন করেন। মালিক ইব্ن নামাত তাহাদের সম্প্রদায়ের গৌরবসূচক )رجز( কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন:
৪২৮ همدان خیر سوقة وأقبال ليس لها في العالمين أمثال محلها الهضب ومنها الأبطال لها إطابات بها وأكال
"হামদান তো সেরা নবাব ও সামন্ত বিশ্বজোড়া কোথাও নেই তুলনা তাদের তাদের রয়েছে অতি উচ্চ মর্যাদা বড় বড় বীর যে কারণে তারা পায় বিপুল নজরানা দেদার খাজনা" অপর জন বলছিল :
إليك جاوزن سواد الريف في هبوات الصيف والخريف مخطمات بحبال الليف.
“দেখ দেখ, খর্জুর বাকলের রশির লাগাম আঁটা উটগুলো সব করছে অতিক্রম শীত ও গ্রীষ্মের ধূলো মেঘের তলে জলের ধারে সবুজ শ্যামল গ্রাম”। তারপর মালিক ইব্ন নামাত রাসূলুল্লাহ-এর সম্মুখে দাঁড়াইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হামদান সম্প্রদায়ের শহর ও পল্লীর সেরা লোকগুলি বেগবান নবীন উটে আরোহণ করিয়া আপনার নিকট আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। তাহারা ইসলামের রশিতে বাঁধা। আল্লাহ্র ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা তাহাদেরকে স্পর্শ করে না। তাহারা আসিয়াছে খারিফ, ইয়াম ও শাকিরের বিভিন্ন জনপদ হইতে। তাহারা উট ও ঘোড়ার মালিক। রাসূলের আহ্বানে তাহারা সাড়া দিয়াছে এবং সকল দেবদেবী ও প্রতিমা বর্জন করিয়াছে। যতদিন পাহাড় স্থির থাকিবে, সালা' পাহাড়ে হরিণ শাবক যতদিন ছুটাছুটি করিবে ততদিন পর্যন্ত তাহাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ হওয়ার নহে। তখন রাসূলুল্লাহ খারিফ সম্প্রদায়ের শহর ও উচ্চ মালভূমি ও বালুময় অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ঐ এলাকার বরাদ্দপত্র এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের যিম্মা গ্রহণের অঙ্গীকার পত্র তাহাদের জন্য লিখাইয়া দেন। এই সম্বন্ধে মালিক ইব্ন নামাত বলেন :
ذكرت رسول الله في فحمة الدحى ونحن باعلى رحرحان وصلدد وهن بنا خوص طلائح تغتلى ركباتها في لاحب متمدد على كل فتلاء الدراعين جسرة تمر بنا مر الهجف الخفيده حلقت برب الراقصات إلى منى صواد ربالركبان من هضب قردد بأن رسول الله فينا مصدق رسول أتى من عند ذي العرش مهتدى فما حملت من ناقة فوق رحلها أشد على أعدائه من محمد وأعطى إذا ما طالب العرف جاءه وأمضى محد المشرفي المهند
"আমি কয়লা কালো আধারের মধ্যে স্মরণ করেছি আল্লাহ্র রাসূলকে যখন আমরা চলেছিলাম বাহরাহান
ও সালদাদের উচু পথ দিয়ে। সুদীর্ঘ রাজপথ বেয়ে আমাদের নিয়ে চলেছিল উষ্ট্ররাজি অবিরাম পথ পরিক্রমায় তাদের চোখ ছিল কোটরাগত দেহ ছিল ক্ষতবিক্ষত। এমন সব উষ্ট্রীর পিঠে আরূঢ় ছিলাম আমরা যাদের পা ছিল চওড়া গতি বেগবান ওরা ধابিত হচ্ছিল আমাদের নিয়ে মোটাতাজা নর উট পাখীর মত।
৪২৯ আমি মিনার পানে ধাবিত সেই উস্ট্রীগুলোর প্রতিপালকের শপথ করেছি যেগুলো তাদের আরোহী পিঠে সমুচ্চ ভূমি হতে হয়েছে উদিত। আল্লাহ্র রাসূল আমাদের মাঝে প্রত্যায়িত সুনিশ্চিত। আরশের অধিপতির নিকট হতে এসেছেন তিনি সরল পথ প্রাপ্ত হয়ে। কোন উষ্ট্রী তার হাওদার উপর করেনি বহন মুহাম্মাদ অপেক্ষা শত্রুর উপর তীব্রতর আঘাতকারীকে কিংবা এমন কোন ব্যক্তিকে যে তার চাইতে বেশী মুক্তহস্ত আগত কৃপাপ্রার্থীর প্রতি অথবা সুতীক্ষ্ণ ভারতীয় তরবারি চালনায় অধিকতর সিদ্ধহস্ত" (রাওদুল-উনুফ, ৭খ., পৃ. ৪২৪-৫; ইব্ن হিশাম, সীরাতুন নবী, ৪খ., পৃ. ২৬৫-৬, ইফা. প্রকাশিত, ১৯৯৬ খৃ.)।
রাসূলুল্লাহ উক্ত প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য মালিক ইব্ন নামাতকে হামদানের মুসলমানদের আমীর মনোনীত করিয়া দেন। এই প্রতিনিধি দলে ১২০ জন সদস্য ছিলেন (যুরকানী, ৪খ., পৃ. ৩৪-৩৭)। ইবন হাজার (র) বলেন, নামাত ইব্ন বুসর ইবন মালিক-এর আলোচনা হইতে জানা যায়, তিনি উক্ত প্রতিনিধি দলে ছিলেন। আবার কোন কোন রিওয়ায়াতে বলা হইয়াছে যে, তাঁহার পিতা কায়স ইবন মালিক এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন। অধিক বর্ণনামতে, তাঁহাদের সকলেই উক্ত দলে ছিলেন। হাসান ইবন ইয়াকূব হামদানী উক্ত প্রতিনিধি দলে ১২০ জন সদস্য থাকার কথা উল্লেখ করিয়াছেন। উক্ত রিওয়ায়াতে বর্ণিত ছাকীফদের বিরুদ্ধে তাহাদেরকে যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশ সম্পর্কে ইবনুল কায়্যিম সন্দেহ প্রকাশ করিয়াছেন। কেননা হামদানীগণ ছিলেন ইয়ামানের অধিবাসী, পক্ষান্তরে ছাকীফগণ ছিলেন তাইফের অধিবাসী (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ৪৬২; বাংলা ভাষ্য, ইফা)।
কিন্তু ইব্ن হাজর আল-ইসাবায় লিখেন: রাসূলুল্লাহ মালিক ইব্ن নামাতকে তাহার কওমের আমীর নিযুক্ত করিয়া তাঁহাদেরকে ছাকীফদের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দিয়াছিলেন এবং সেই মতে তাহারা ছাকীফ গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্তও হইয়াছিলেন। ছাকীফের কোন কাফেলা বাহির হইলেই তাহারা হামলা করিতেন (প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৬২)।