📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আকীল ইব্‌ন কা'ব প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 আকীল ইব্‌ন কা'ব প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


ইব্‌ন কাছীর (র)-এর সীরাতুন নাবabiyyahয় 'আকীল এবং তাবাকাতের উর্দু অনুবাদে উকায়ল বলা হইয়াছে (দ্র. ঐ, ২খ., পৃ. ৭৫ (উর্দু)। বনূ আকীল ইব্‌ন কা'ব-এর একটি প্রতিনিধি দল নবী দরবারে আগমন করিয়া তাঁহার নিকট বায়'আত হয় ও ইসলাম গ্রহণ করে। তাহারা তাহাদের গোত্রের পক্ষ হইতে বায়'আত হন। নবী করীম তাহাদেরকে আল-আকীক, আকীকু বনূ উকায়ল-এর বরাদ্দপত্র একটি লোহিত বর্ণের চর্মগাত্রে লিখাইয়া দেন। উহা ছিল খর্জুর বীথি ও প্রস্রবণবিশিষ্ট একটি উপত্যকা। বরাদ্দ পত্রটি মুতাররিফের হাতে ছিল। উহাতে রাবী', আনাস ও মুতাররিফের নাম উল্লিখিত হইয়াছিল।
অতঃপর প্রতিনিধি দলের সদস্যরূপে আগত লাকীত ইব্‌ن 'আমের ইব্‌ন মুস্তাফিক ইব্‌ن আবী 'আকীলের নামে আন-নাযীম নামক কূপটি বরাদ্দ দেন। তিনি তাহার গোত্রের পক্ষে বায়'আত হন। তিনি আবু রাযীন নামে খ্যাত ছিলেন (ইব্‌ن কাছীর, সীরাতুন নাবabiyyah, ৪খ., পৃ. ১৭৪; তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনূ মুন্তাকিবের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 বনূ মুন্তাকিবের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


বানুল মুস্তাফিকের নবী-এর দরবারে আগমন
ইমাম আহমাদ ইব্‌ন হাম্বলের পুত্র আবদুল্লাহ ইব্‌ن আহমাদ রিওয়ায়াত করেন, লাকীত ইব্‌ন 'আমের এবং তাঁহার সঙ্গী নাহীক ইব্‌ن 'আসিম ইব্‌ন মালিক ইবনুল মুন্তাফিক একটি প্রতিনিধি দলরূপে রাসূলুল্লাহ-এর সহিত সাক্ষাত করিতে যান। লাকীত বলেন, আমরা যখন পৌঁছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ ফজরের সালাত সমাপন করিয়া খুৎবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়াইয়া বলিলেন : লোকসকল! গত চারিদিন অবধি আমি মুখ বন্ধ করিয়া রহিয়াছি। আজ কথা বলিতেছি। মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর। তোমাদের মধ্যে এমন কে আছ যাহাকে তাহার সম্প্রদায় প্রতিনিধি হিসাবে প্রেরণ করিয়াছে? তখন উপস্থিত সকলেই আমার প্রতি লক্ষ্য করিয়া বলিতে লাগিল, হে লাকীত ইব্‌ন আমের। রাসূলুল্লাহ কী বলিতেছেন মনোযোগ সহকারে শোন। অতঃপর তিনি বলিলেন:
الا لعله ان يلهيه حديث نفسه او حديث صاحبه او يلهيه الضلال الا اني مسئول هل بلغت الا فاسمعوا تعيشوا الا اجلسوا الا اجلسوا .
"জানিয়া রাখ, কাহারও নিজের প্রবৃত্তি বা সঙ্গী-সাথীর কথা বা বিভ্রান্তি যেন তাহাকে ভুলাইয়া না রাখে। ওহে! আমাকে জবাবদিহি করিতে হইবে, আমি কি (আল্লাহ্‌র পয়গাম) পৌছাইয়া দিয়াছি? ওহে! মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর। ওহে বস! ওহে বস!!"
সকলে বসিয়া গেল। কেবল আমি ও আমার সঙ্গীটি দাঁড়াইয়া রহিলাম। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার গায়ব-এর ইম্ কি নাই? বর্ণনাকারী বলেন :
فضحك لعمر الله وهذه رأسه وعلم اني ابتغى لسقطه فقال ضن ربك عز وجل مفاتيح خمس من الغيب لا يعلمها الا الله واشار بيده قلت وما هي.
রাসূলুল্লাহ হাসিয়া দিলেন এবং তাঁহার মাথা নাড়িলেন এবং তিনি ধারণা করিলেন, আমি তাঁহার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার প্রয়াস পাইতেছি। তিনি বলিলেন, তোমার মহামহিমান্বিত প্রভু এই ব্যাপারে খুবই হিসাবী। গায়বের পাঁচটি ব্যাপার আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেহই জানে না। তিনি হাতের (পঞ্চ অঙ্গুলি সংকেত) দ্বারা সেই দিকে ইশারা করিলেন। আমি বলিলাম, কী সেইগুলি? রাসূলুল্লাহ বলিলেন :
(১) মৃত্যু সংক্রান্ত জ্ঞান, তিনি জানেন علم المنية قد علم متى منية احدكم ولا تعلمونه তোমাদের কাহার মৃত্যু কোথায় হইবে অথচ তোমরা তাহা জান না।
(২) বীর্যের জ্ঞান— যখন উহা وعلم المنى حين يكون في الرحم قد علمه ولا تعلمون জরায়ুতে অবস্থান করে, তিনি উহা জ্ঞাত আছেন, কিন্তু তোমরা তাহা জান না।
(৩) আগামী কাল কী উপার্জন করিবে وعلم ما في غد وما انت طاعم غدا ولا تعلمه আর আগামী কাল তুমি কী খাইবে তাহা তুমি জান না।
(৪) বৃষ্টি বর্ষণের ইল্ম, কবে উহা হইবে। وعلم يوم الغيث يشرف عليكم
(৫) এবং কিয়ামতের দিনের জ্ঞান। وعلم يوم الساعة
অতঃপর নবী কারীম মৃত্যু, হাশর, পুনরুত্থান প্রভৃতি সম্পর্কে অনেক কথা বলেন। লাকীত বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের দেহ তো কণা কণা হইয়া যাইবে— বায়ু, বিপদাপদ, দুর্ঘটনাদি এবং হিংস্র প্রাণীসমূহ উহাকে কোথায় কোথায় দূর-দূরান্তে ছড়াইয়া দিবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা কীভাবে উহাকে আবার সন্নিবেশিত করিয়া পূর্ণ দেহের রূপ দান করিবেন? জবাবে রাসূলুল্লাহ বলিলেন: আল্লাহ প্রদত্ত নিদর্শনের মাধ্যমে আমি উহা তোমাকে বুঝাইয়া দিতেছি।
একটি ভূমি শস্য-শ্যামল ও ক্ষেত খামারে পরিপূর্ণ থাকে। তারপর এমন একটি সময় আসে যে, তোমরা মনে করিতে শুরু কর, এই ভূমি আর কোন দিনই বুঝি আবাদ হইবে না। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা পানি বর্ষণ করেন এবং সেই বিরাণ মৃত ভূমিটিই জীবন্ত প্রাণবন্ত হইয়া উঠে। দিকে দিকে বৃক্ষের সমারোহ ও জীবনের কলতান দেখা দেয়। যে আল্লাহ তৃণলতার শতধা বিচ্ছিন্ন অংশকে পুনরায় একত্র করিতে পারেন, তিনি তোমাদের দেহের শতধাবিচ্ছিন্ন অংশসমূহকেও পুনরায় একত্র করিতে পূর্ণ সমর্থ। তোমরা তোমাদের নিজ নিজ কবর হইতে পুনরায় উত্থিত হইবে এবং আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখে উপনীত হইবে। তিনি তোমাদেরকে দেখিবেন এবং তোমরাও তাঁহাকে প্রত্যক্ষ করিতে পারিবে।
লাকীত বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহা কেমন করিয়া হইবে? আমরা তো সংখ্যায় এত বেশী থাকিব যে, সারা পৃথিবী কানায় কানায় পূর্ণ থাকিবে আর আল্লাহ হইবেন একজন মাত্র। এত অধিক সংখ্যক লোক একত্রে তাঁহাকে কীভাবে প্রত্যক্ষ করিবে? তিনি
বলিলেন: চন্দ্র সূর্যকে তো গোটা পৃথিবীর লোক একই সাথে দেখিতে পায়, উহা হইতে বুঝিয়া লও।
লাكীত আবার প্রশ্ন করিলেন, আমরা যখন আল্লাহ্ সমীপে উপস্থিত হইব, তখন তিনি আমাদের সহিত কীরূপ আচরণ করিবেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! জবাবে রাসূলুল্লাহ পুনরুত্থানের অবস্থা, সেদিন মু'মিন ও কাফিরের যে হাল হইবে, আমলসমূহের হিসাব-নিকাশ, পুলসিরাত অতিক্রম, হাওযে কাওছার এবং সেদিন আল্লাহ তা'আলার প্রবল প্রতাপ ও দাপটের বিস্তারিত বিবরণ দিলেন।
লাকীত আবার প্রশ্ন করিলেন, সেদিন আমাদের পাপ-পুণ্যের প্রতিদান কীভাবে দেওয়া হইবে ইয়া রাসূলাল্লাহ! জবাবে আল্লাহ্র রাসূলুল্লাহ বলিলেন: একটি পুণ্যের বদলে দশটি এবং একটি পাপের বদলে একটি প্রতিদান বা বিনিময় দেওয়া হইবে। তাহাও আবার আল্লাহ্ নিজগুণে মাফ করিয়া দিতে পারেন। লাকীত বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, জান্নাত-জাহান্নাম কী ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলিলেন: দোযখের সাতটি দরজা রহিয়াছে। যে কোন দুইটি দরজার মধ্যকার ব্যবধান সত্তর বৎসরের রাস্তার কম নহে। আর বেহেশতের দরজা আটটি। যে কোন দুইটি দরজার মাঝখানের দূরত্ব সত্তর বৎসরের কমে অতিক্রম করা সম্ভব নহে।
লাকীত বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, জান্নাতে কী রহিয়াছে ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলিলেনঃ পরিশ্রুত মধুর নহরসমূহ, শরাবের নহরসমূহ—যাহা পানে মাথাও ধরিবে না, লজ্জিত, অনুতপ্তও হইতে হইবে না। অপরিবর্তিত স্বাদের দুধের নহরসমূহ—যে পানি কখনও বিনষ্ট বিস্বাদ হয় না তেমন পানি। সর্বপ্রকার ফলফলাদি। সতী-সাধ্বী পূতপবিত্র পত্নীসকল এবং সর্বপ্রকার আরামপ্রদ সুখ-সরঞ্জাম সেখানে রহিয়াছে—যাহার কোন তুলনা হয় না। লাকীত জিজ্ঞাসা করিলেন, আমরা কোন্ কথার উপর আনুগত্যের শপথ করিব ইয়া রাসূলাল্লাহ! জবাবে পবিত্র হস্ত প্রসারিত করিয়া তিনি বলিলেন:
على اقام الصلوة وايتاء الزكاة وزيال الشرك والا تشرك بالله الها غيره.
(১) "নামায কায়েম করিবার; (২) যাকাত প্রদানের এবং (৩) শিরক পরিহারের যে, আল্লাহ্র সহিত অন্য কাহাকেও ইলাহরূপে শরীক করিবে না"।
লাকীত সাথে সাথে বলিলেন, অতঃপর প্রাচ্যে-প্রতীচ্যে আমার অবাধ অধিকার থাকিবে? নবী কারীম হাত গুটাইয়া নিলেন এবং আঙ্গুলগুলিকে ছড়াইয়া দিলেন। তিনি মনে করিলেন, আমি বোধহয় অবাস্তব শর্ত জুড়িয়া দিতেছি, যেখানে ইচ্ছা যাইতে পারিব, যাহা ইচ্ছা করিয়া বেড়াইব, কেহ আমাকে বাধা দিবে না। বাক্যের এই পরবর্তী অংশটুকু বলিবার সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ আবার হাত প্রসারিত করিয়া দিলেন এবং বলিলেন:
ذلك لك تحل حيث شئت ولا تجنى عليك الا نفسك.
"হাঁ, তোমার সেই অধিকার থাকিবে, কোন বাধাবিপত্তি থাকিবে না"।
অতঃপর নবী করীম অতীতের জাতিসমূহের নাজাত ও পাকড়াও-এর অবস্থাদি, কুরায়শ, বনূ আমির, দাওস প্রভৃতি জাতির অবস্থাদির কথা আলোচনা করিলেন। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (র) বলেন, স্বয়ং এই হাদীছের মর্ম ও বক্তব্যই এই কথার জাজ্জ্বল্যমান প্রমাণ যে, ইহা
৪২৩ নবৃওয়াতের প্রদীপ হইতে উৎসারিত ও বিকীর্ণ আলো। বক্তব্যের মান ও গাম্ভীর্যই তাহার বিশুদ্ধতার প্রমাণস্বরূপ। দুইজন বুযুর্গ রাবী হাদীছখানা রিওয়ায়াত করিয়াছেন। তাঁহাদের একজন আবদুর রহমান ইন্ন মুগীরা ইবন 'আবদির রাহমান আল-মাদানী। তাঁহার নিকট হইতে রিওয়ায়াত করিয়াছেন অপর বুযুর্গ রাবী ইরাহীম ইব্‌ন হামযা ঘুরায়রী। ইহারা দুইজনই ছিলেন মদীনার নেতৃস্থানীয় আলিম। তাঁহারা দুইজনই 'ছিকাহ্' (বিশ্বস্ত)। রাবী স্বয়ং ইমামুল মুহাদ্দিছীন ইমাম বুখারী (র) তাঁহার বিখ্যাত সহীহতে ইহাদের দ্বারা বিশুদ্ধতার দলীল পেশ করিয়াছেন। বিশুদ্ধ মত হইল হাদীছখানা প্রামাণ্য (আসাহ্হুস সিয়ার, পৃ. ৪৫৩-৫৪; সীরাতুন নাবabiyyah, ইবন কাছীর, ৪খ., খৃ. ১৫৬; মুসনাদ আহমদ, ৪/১৩, বায়হাকী, কিতাবুল বা'দ ওয়ান-নুশূর; কুরতবী, কিতাবুত তাযকিরা ফী আহওয়ালিল আখিরা)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনুল বাক্কা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 বনুল বাক্কা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


নবম হিজরীতে বানুল বাক্কার তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল নবী-এর দরবারে উপস্থিত হয়। এই দলে ছিলেন (১) মু'আবিয়া ইন্ন ছাওর। তিনি ছিলেন শতায়ু, সঙ্গে ছিল তাঁহার পুত্র বিশর; (২) ফুজায়' ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইব্‌ন জুনদাহ্ ইবনুল বাক্কা। তাঁহাদের অপর সঙ্গী ছিলেন (৩) 'আব্দ 'আমর আল-বাক্বায়ী। রাসূলুল্লাহ তাঁহাদের আদর-আপ্যায়নের নির্দেশ দেন এবং প্রত্যাবর্তনকালে তাহাদেরকে উপঢৌকন প্রদান করেন।
মু'আবিয়া নবী কারীম-কে বলেন, আমি আপনার পরশের বরকত হাসিল করিতে আগ্রহী। আমি বৃদ্ধ হইয়া গিয়াছি, আর আমার ঐ পুত্রটি অত্যন্ত পিতৃভক্ত। আপনি উহার চেহারায় আপনার পবিত্র হস্তের পরশ দান করুন! তখন রাসূলুল্লাহ সস্নেহে তাহার মুখমণ্ডলে পবিত্র হস্ত বুলাইয়া দিলেন। তিনি তাঁহাকে কয়েকটি মেটে রঙের ছাগী দান করিলেন এবং ঐগুলিতে বরকতের জন্য দু'আও করিয়া দিলেন। রাবী জা'দ বলেন, অতঃপর বানুল বাক্কা গোত্রে কখনও দুর্ভিক্ষ দেখা দিলেও ঐ পরিবারে দুর্ভিক্ষ দেখা দিত না। বিশরের পুত্র মুহাম্মাদ এই প্রসঙ্গে কবিতা রচনা করেন। তাহাতে তিনি বলেন:
وإبي الذي مسح الرسول برأسه ودعا له بالخير والبركات أعطاه أحمد إذ أتاه أعنزا عفرا نواجل ليس باللجنات يملأن وفد الحي كل عشية ويعود ذاك الملء بالغدوات بوركن من منح ويورك مانحا وعليه منى ما حبيت صلاتي
"সেই সে আমার পিতা রাসূলুল্লাহর স্পর্শ লভিয়া ধন্য যাহার মাথা। দু'আ দিয়ে তারে দানিলেন তিনি মেটো বরণের ছাগী শীর্ণ হরিণসম সেইগুলি, কিন্তু যে ধীরগামী লোমশ ওগুলো ছিল না কো কভু, ছিল না কো কদাকার সকাল বিকাল পুরো তল্লাটে বিলাইত দুধ তার সে দুধে ভরিয়া উঠিত বস্তির পাত্র যে বেশুমার বরকতময় ছিল সেই দান, বরকতময় দাতা তার
যতদিন বাঁচি দরূদ ভেজিব তাঁর পরে অনিবার” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০৪: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩/৫খ., পৃ. ১৬৮-৬৯; ইফা প্রকাশিত বাংলা ভাষ্য)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুশায়র ইব্‌ন কা'ব গোত্রের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 কুশায়র ইব্‌ন কা'ব গোত্রের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


ইবন সা'দ বলেন, হিশাম ইব্‌ন মুহাম্মাদ বনূ আকীলের এক ব্যক্তির বরাতে এবং আলী ইন্ন মুহাম্মাদ আল-কারশী এই দুই ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেন, হুনায়ন যুদ্ধের পর এবং বিদায় হজ্জের পূর্বে কুশায়র প্রতিনিধি দল নবী কারীম-এর সহিত সাক্ষাত করিতে মদীনায় আগমন করে। ছাওর ইন্ন উরওয়া ইব্‌ন আবদিল্লাহ ইব্‌ন সালামা ইব্‌ন কুশায়র ঐ দলে ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে একটি জায়গীর বরাদ্দ দেন এবং তাঁহাকে একটি পত্রও লিখিয়া দেন। তাঁহাদের ঐ দলে হাযদা ইবন মু'আবিয়াও ছিলেন। এই দলে আরও ছিলেন কুরাহ ইব্‌ন হুবায়রা ইবন সালামা আল-খায়র ইব্‌ন কুশায়র। তিনিও ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে উপহার সামগ্রী দান করেন। তিনি তাহাকে বিশেষভাবে একটি ডোরা কাটা চাদর দান করেন এবং তাঁহার সম্প্রদায়ের যাকাত উশুলের যিম্মাদার বানাইয়া তাহাদের আমীর নিযুক্ত করিয়া দেন। প্রত্যাবর্তনকালে ঐ কুররাহ্ একটি কবিতা রচনা করেন। তাহাতে তিনি বলেন:
حباها رسول الله إذ نزلت به وأمكنها من نائل غير منفد فأضحت يروض الخضر وهى حثيثة وقد أنجحت حاجاتها من محمد عليها فتى لا يردف الذم رحلة تروك الأمر العاجز المتردد
"যখন উটনীটি মোর অবতরণ করলো নবীজীর কাছে তখন তিনি তাকে ধন্য করলেন অফুরন্ত দানে 'সবুজ শ্যামল ভূমি সে অতিক্রম করছে ত্রস্ত গতিতে মুহাম্মাদ পূরণ করে দিয়েছেন তার সকল প্রয়োজন তার উপর আরূঢ় এমন এক যুবক দুর্নাম যার সহযাত্রী হয় না কখনো নিরুপায় দুঃস্থদের সেবায় সে সদা আত্মনিবেদিত” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০৩; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫খ., পৃ. ১৬৮, বাংলা ভাষ্য)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00