📄 বাহিলা গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন
বাহিলা গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন
মক্কা বিজয়ের পর মুতাররিফ ইবনুল কাহিন আল-বাহিলী তাঁহার সম্প্রদায়ের পক্ষ হইতে রাসূলুল্লাহ-এর খেদমতে উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁহার সম্প্রদায়ের জন্য
নিরাপত্তা পত্র লাভ করেন। উহাতে রাসূলুল্লাহ-এর ফরয সাদাকাত অর্থাৎ যাকাতের বিবরণ লিখাইয়া দেন। অতঃপর নাহসাল ইব্ন মালিক আল-ওয়ায়েলী বাহিলীদের পক্ষ হইতে আগমন করিয়া তাহার গোত্রের ইসলাম গ্রহণকারীদের জন্য ইসলামী শারীআতের বিবরণ সম্বলিত আরেকখানি পত্র লইয়া যান। উছমান ইব্ন আফফান (রা) সেই পত্রখানা লিখিয়াছিলেন। উহার পাঠ ও বিস্তারিত বিবরণ রাসূলুল্লাহ-এর পত্রাবলী অধ্যায়ে দেখুন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০৭; আস্-সীরাতুন নাবابিয়্যা, ইব্ন কাছীর ৪খ., পৃ. ১৭৬; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫খ., পৃ. ১৭০, বাংলা ভাষ্য)।
📄 বনূ রুওয়াস ইব্ন কিলাব প্রতিনিধি দলের আগমন
বনূ রুওয়াস ইব্ن কিলাব প্রতিনিধি দলের আগমন
ওয়াকিদী বর্ণনা করেন, আমর ইবন মালিক (ইব্ন কায়স ইব্ন বুজায়দ ইব্ন রুওয়াস ইব্ন কিলাব ইব্ন রবী'আ ইব্ন 'আমির ইব্ন সা'সা'আ রাসূলুল্লাহ-এর খেদমতে উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর তিনি তাহার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া গিয়া তাহাদেরকে ইসলামের দা'ওয়াত দিলেন। এই গোত্রটি ছিল বনী কিলাবেরই একটি শাখাগোত্র। গোত্রের লোকজন বলিল, যতক্ষণ পর্যন্ত বনূ উকায়ল ইব্ন কা'ব আমাদেরকে যেভাবে আক্রমণ করিয়া হেস্তনেস্ত করিয়াছে আমরাও তাহাদেরকে সেরূপ করিতে না পারিব ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করিব না। তারপর তাহারা ঐ গোত্রকে আক্রমণার্থে বাহির হইল। যুদ্ধে আমার ইবন মালিক বনূ উকায়লের এক ব্যক্তিকে হত্যা করিলেন। ঘটনাক্রমে এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ-এর গোচরীভূত হয়।
ইবনে আমির ইবন মালিক বলেন, অতঃপর আমি আমার হস্তদ্বয় একটি বেড়িতে জড়াইয়া রাসূলুল্লাহ-এর নিকট উপস্থিত হইলাম। রাসূলুল্লাহ পূর্বেই বলিয়া রাখিয়াছিলেন যে, সে যদি বেড়ি পরা অবস্থায় আমার নিকট আসে তাহা হইলে বেড়ির উপর হইতে তাহার হাত আমি কাটিয়া ফেলিব (لئن أتاني لأضربن ما فوق الغل من يده )
রাসূলুল্লাহ-এর দরবারে পৌছিয়া আমি তাঁহাকে সালাম করিলাম। সালামের উত্তর না দিয়া তিনি অন্যদিকে মুখ ঘুরাইয়া নিলেন। আমি পুনরায় তাঁহার ডান দিক হইতে সম্মুখে পড়িতে চেষ্টা করিলাম, কিন্তু এইবারও তিনি মুখ ঘুরাইয়া নিলেন। আমি আবার তাঁহার বাম দিক হইতে তাঁহার সম্মুখে যাইতে চেষ্টা করিলাম। এবারও তিনি যখন মুখ ঘুরাইয়া নিলেন তখন আমি তাঁহার সম্মুখ দিকে গিয়া বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মহান গরীয়ান আল্লাহকেও যদি কেহ সন্তুষ্ট করিতে প্রয়াস পায়, তাহা হইলে তিনি বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়া যান। আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হউন, আল্লাহ্ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হইবেন। এইবার রাসূলুল্লাহ বলিলেন قد رضيت عنك “আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছি” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০০; ইব্ন কাছীর, সীরাতুন নাবابিয়্যা, ৪খ., পৃ. ১৭৩)।
📄 বানু কিলাব প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন
নবম হিজরীতে বানু কিলাবের তের সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল মদীনায় আগমন করে। কা'ব, লবীদ ইব্ن রবী'আ ও জাব্বার ইব্ন সালামাও এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন। কা'ব ইবন মালিক ও জাব্বারের মধ্যে ইতোপূর্বেই হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিল। তাই তিনি তাঁহাকে স্বাগতম জানাইলেন এবং যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত উপঢৌকনাদি দিলেন। অতঃপর কা'বকে সঙ্গে লইয়া তাহারা রাসূলুল্লাহ
-এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং ইসলামী রীতিতে তাঁহাকে সালাম দিলেন। তাঁহারা জানাইলেন যে, দাহ্হাক ইব্ন সুফ্য়ান আল-কিলাবী আল্লাহ্র কিতাব-রাসূলের সুন্নাহ্ প্রচারে তাহাদের মধ্যে সক্রিয় রহিয়াছেন। তাঁহারা তাঁহার আহ্বানে সাড়া দিয়া নবী দরবারে হাযির হইয়াছেন। উক্ত প্রচারক তাহাদের ধনীদের নিকট হইতে সাদাকা গ্রহণ করিয়া উহা যে তাহাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করিয়া দিয়াছেন তাহাও তাহারা নবী কারীম-কে অবহিত করেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০০; ইব্ন কাছীর, সীরাতুন নাবabiyyah, ৪খ., পৃ. ১৭৩-৪)।
📄 আকীল ইব্ন কা'ব প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন
ইব্ন কাছীর (র)-এর সীরাতুন নাবabiyyahয় 'আকীল এবং তাবাকাতের উর্দু অনুবাদে উকায়ল বলা হইয়াছে (দ্র. ঐ, ২খ., পৃ. ৭৫ (উর্দু)। বনূ আকীল ইব্ন কা'ব-এর একটি প্রতিনিধি দল নবী দরবারে আগমন করিয়া তাঁহার নিকট বায়'আত হয় ও ইসলাম গ্রহণ করে। তাহারা তাহাদের গোত্রের পক্ষ হইতে বায়'আত হন। নবী করীম তাহাদেরকে আল-আকীক, আকীকু বনূ উকায়ল-এর বরাদ্দপত্র একটি লোহিত বর্ণের চর্মগাত্রে লিখাইয়া দেন। উহা ছিল খর্জুর বীথি ও প্রস্রবণবিশিষ্ট একটি উপত্যকা। বরাদ্দ পত্রটি মুতাররিফের হাতে ছিল। উহাতে রাবী', আনাস ও মুতাররিফের নাম উল্লিখিত হইয়াছিল।
অতঃপর প্রতিনিধি দলের সদস্যরূপে আগত লাকীত ইব্ن 'আমের ইব্ন মুস্তাফিক ইব্ن আবী 'আকীলের নামে আন-নাযীম নামক কূপটি বরাদ্দ দেন। তিনি তাহার গোত্রের পক্ষে বায়'আত হন। তিনি আবু রাযীন নামে খ্যাত ছিলেন (ইব্ن কাছীর, সীরাতুন নাবabiyyah, ৪খ., পৃ. ১৭৪; তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩০১)।