📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তুজীব প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 তুজীব প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


তুজীব কবীলার তের ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং সঙ্গে করিয়া লইয়া আসিলেন তাহাদের পশুপাল ও সম্পদের যাকাত যাহা তাহাদের উপর ফরয হইয়াছিল। তাহারা আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের সম্পদের উপর আল্লাহ্ যাহা নির্ধারিত হক তাহা আমরা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে লইয়া আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ্ তাহাতে অত্যন্ত খুশী হইলেন এবং বলিলেন, তোমরা উহা ফিরাইয়া লইয়া যাও এবং তোমাদের দরিদ্রদের মধ্যে তাহা বণ্টন করিয়া দাও। তাঁহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সেইখানকার দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টনের পর যাহা অবশিষ্ট রহিয়াছে তাহাই আমরা আপনার খিদমতে আনিয়া হাযির করিয়াছি। তাঁহাদের এই জবাব শুনিয়া হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আরবের অন্য কোন গোত্রই তো এই তুজীব গোত্রের প্রতিনিধি দলের মত আসে নাই। রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন : হিদায়াত হইতেছে আল্লাহর এখতিয়ারে। তিনি যাহার মঙ্গল কামনা করেন তাহার অন্তরকে তাঁহার হিদায়াতের জন্য প্রসারিত করিয়া দেন।
অতঃপর তাঁহারা রাসূলুল্লাহ্ -কে কতিপয় প্রশ্ন করিলেন যাহার জবাব রাসূলুল্লাহ্ তাহাদের জন্য লিখিতভাবে দেন। তারপরও তাঁহারা কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে আরও কতিপয় প্রশ্ন করেন। তাহাতে রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদের প্রতি আরো প্রীত হইলেন এবং হযরত বিলাল (রা)-কে তাঁহাদের উত্তম আতিথ্যের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। তাঁহারা স্বল্পকাল অবস্থানান্তে শীঘ্রই প্রস্থান করিবার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করিলেন। তাঁহাদেরকে এই তাড়াহুড়ার কারণ জিজ্ঞাস্য করা হইলে তাঁহারা জবাব দিলেন, শীঘ্রই নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরিয়া তাহাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ -এর সাথে সাক্ষাতের বিবরণ দিয়া তাঁহার মহান শিক্ষা সম্পর্কে অবহিত করিতে চাই। যখন তাঁহারা রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট হইতে বিদায় গ্রহণ করিয়া প্রস্থান করিতেছিলেন তখন হযরত বিলাল (রা) রাসূলুল্লাহ্ -এর নির্দেশক্রমে তাহাদেরকে অন্যান্য প্রতিনিধি দলের তুলনায় বেশী পাথেয় দিয়া বিদায় দেন।
বিদায়ের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ্ জিজ্ঞাসা করিলেন : তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি বাকী রহিয়া গেল না তো? তাঁহারা আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের মধ্যকার সর্বকনিষ্ঠ এক তরুণকে আমাদের বাহন ও আস্বাবপত্রের নিকট রাখিয়া আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ্ তাহাকেও ডাকিয়া পাঠাইলেন। সে বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি হইতেছি রাহাত, মতান্তরে আবষা গোত্রের লোক। আমার সঙ্গীদের প্রয়োজন তো আপনি পূরণ করিয়া দিয়াছেন, এইবার আমার প্রয়োজনটাও পূরণ করিয়া দিন। রাসূলুল্লাহ্ জিজ্ঞাসা করিলেন, বল, তোমার প্রয়োজনটা কি? তিনি বলিলেন, আমার প্রয়োজনের ধরন কিছুটা ভিন্ন ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার সাথীরা যদিও ইসলামের টানে আপনার খিদমতে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন, তাঁহারা তাহাদের যাকাতও লইয়া আসিয়াছেন, কিন্তু আমি তো কেবল এইজন্য আপনার দরবারে হাযির হইয়াছি যে:
تَسْأَلُ اللهَ أَنْ يَغْفِرَ لِي وَيَرْحَمْنِي وَيَجْعَلْ غِنَايَ فِي قَلْبِي.
"আপনি আমার মাগফিরাতের জন্য দু'আ করিবেন এবং আল্লাহ্র কাছে আমার জন্য প্রার্থনা করিবেন যাহাতে তিনি আমার প্রতি সদয় হন এবং আমার হৃদয়কে সম্পদশালী করিয়া দেন"।
৪১৩ তাহার কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ্ তৎক্ষণাৎ তাহার দিকে মনোনিবেশ করিলেন এবং দু'আ করিলেন:
اللهم اغفر له وارحمه واجعل غناه في قلبه. “হে আল্লাহ্! তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিন! তাহার প্রতি সদয় হউন, উহার হৃদয়কে সম্পদশালী করিয়া দিন"।
অতঃপর তিনি তাঁহাকেও তাঁহার সাথীদের মত উপঢৌকনাদিসহ সকলকে একসঙ্গে বিদায় করিয়া দিলেন। বিদায় হজ্জের সময় বনী আবযার কতিপয় ব্যক্তি মিনায় রাসূলুল্লাহ্-এর সাথে সাক্ষাত করিলে রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদের নিকট সেই ছেলেটির কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহারা জানাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা এমন স্বল্পে তুষ্ট ব্যক্তি আর দেখি নাই বা শুনি নাই। তাঁহার অবস্থা এই যে, তাঁহার চক্ষের সম্মুখে যদি গোটা পৃথিবীটা বণ্টন করিয়া দেওয়া হয়, তবুও সে একটি বার ফিরিয়া তাকাইবে না। কথিত আছে, রাসূলুল্লাহ-এর ওফাতের পর যখন ইয়ামানে মুরতাদ হইবার যেই হিড়িক পড়িয়াছিল তখন এই বালকটিই তাঁহার গোটা সম্প্রদায়কে উহা হইতে বাঁচাইয়া রাখিয়াছিল। ফলে তাহাদের একটি লোকও মুরতাদ হয় নাই। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-ও সর্বদা ঐ ছেলেটির খবরাখবর লইতেন। পরবর্তী কালে তিনি যিয়াদ ইবন লাবীদকে লিখিয়াছিলেন, তাঁহার সাথে উত্তম আচরণ করিবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ৪৩৫-৩৬; ইবন সা'দ, তারাকাত, ১খ., পৃ. ৩২৩; কাস্তাল্লানী, মাওয়াহিবুল-লাদুন্নিয়া, উর্দুভাষ্য, ২খ., পৃ. ৪৪১-২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনূ সা'দ হুযায়ম ইব্‌ন কুদা'আ প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 বনূ সা'দ হুযায়ম ইব্‌ন কুদা'আ প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


বনূ সা'দ হুযায়ম ইব্‌ন কুদা'আ প্রতিনিধি দলের নবী-এর দরবারে আগমন
ওয়াকিদী আবূ নু'মানের প্রমুখাৎ বর্ণনা করেন এবং তিনি তঙ্গীয় পিতার প্রমুখাৎ যিনি নিজে বনূ সা'দ হুযায়মের লোক ছিলেন, বর্ণনা করেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের কতিপয় লোককে লইয়া রাসূলুল্লাহ্ -এর খিদমতে উপস্থিত হই। তখন গোটা আরবে রাসূলুল্লাহ্-এর অপ্রতিহত প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। তখন দেশে দুই প্রকারের লোকই ছিল: (১) যাহারা স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিল (২) এবং কিছু লোক পার্থিব কারণে আনুগত্য স্বীকার করিয়া লইয়াছিল।
আমরা মদীনায় পৌছিয়া শহরের উপকণ্ঠে অবতরণ করিলাম। অতঃপর আমরা মসজিদের দিকে অগ্রসর হইলাম। আমরা যখন মসজিদের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হইলাম তখন রাসূলুল্লাহ্ মসজিদের অভ্যন্তরে জানাযার নামায পড়াইতেছিলেন। আমরা ভাবিলাম, আমরা তো এখনও নবী কারীম-এর সহিত দেখা করি নাই, বায়'আতও হই নাই, এমতাবস্থায় আমাদের উহাতে যোগদান করাটা বোধহয় সমীচীন হইবে না।
সালাতান্তে তিনি যখন ঘরে ফিরিতেছিলেন তখন আমাদের প্রতি লক্ষ্য করিয়া বলিলেন: তোমরা কাহারা হে? আমরা বলিলাম: আমরা বনূ সা'দ হুযায়মের লোক ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বলিলেন: তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জানাযায় শামিল হও নাই? আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তো মনে করিয়াছি আপনার হাতে বায়'আত হইয়া ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমরা বুঝি এগুলির যোগ্য নই। তিনি বলিলেন: না, তোমরা যেখানেই ইসলাম গ্রহণ করিয়া থাক না কেন, তোমরা মুসলমানই।
অতঃপর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে রাসূলুল্লাহ্-এর হাতে বায়'আত হইলাম এবং আমাদের অবতরণ স্থলে ফিরিয়া আসিলাম। কিন্তু আমাদের মালপত্রের হিফাযতের উদ্দেশ্যে একটি ছেলেকে আমরা সেখানে রাখিয়া গিয়াছিলাম, তাই রাসূলুল্লাহ্ আবার আমাদেরকে ডাকিলেন। এবার আমরা আমাদের সাথী ঐ ছেলেটিসহ নবী দরবারে হাযির হইলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ তাঁহারও বায়'আত গ্রহণ করিলেন। আমরা বলিলাম, সে তো আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ, আমাদের খাদিম। রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, কনিষ্ঠরাই দলের খাদিম হইয়া থাকে। اصغر القوم خادمهم بارك الله عليك
রাসূলুল্লাহ্-এর দু'আর বরকতে ঐ কনিষ্ঠ সদস্যই সর্বোত্তম প্রমাণিত হন এবং কুরআন শরীফের জ্ঞানও তিনিই সর্বাধিক লাভ করেন। ফলে রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকেই আমীররূপে গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়া বলেন : امروا عليكم اخوكم "তোমাদের মধ্যকার একজনকে আমীর মনোনীত করিয়া লও” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩২৯-৩০)।
যাদুল মা'আদের বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে তাহাদের আমীর মনোনীত করিয়া দেন। রাবী বলেন, অতএব ঐ ব্যক্তি আমাদের নামাযের ইমামতি করিতেন। অতঃপর আমরা দেশে প্রত্যাবর্তনে উদ্যত হইলে তিনি বিলালকে আমাদের প্রত্যেক সদস্যকে কয়েক উকিয়া করিয়া রৌপ্য উপঢৌকনস্বরূপ প্রদানের আদেশ দান করেন। তারপর আমরা যখন দেশে আমাদের সম্প্রদায়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করিলাম তখন আল্লাহ তা'আলা তাহাদেরকে ইসলাম গ্রহণের তওফীক দান করিলেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩২৯৩০; সীরাতুল মুস্তাফা, ৩খ., পৃ. ১৩২-৩; যাদুল মা'আদ, ৩খ., পৃ. ১৪৩-৪, নফীস একাডেমী, করাচী প্রকাশিত উর্দু ভাষ্য, রইস আহমদ জাফরী; আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ১৩৬-৩৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বালিয়্যি প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 বালিয়্যি প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


'রু'আয়ফি' ইন্ন ছাবিত আল-বালাবী (রা) বলেন, আমার সম্প্রদায়ের লোকজন নৰম হিজরীর রাবীউল আওয়াল মাসে মদীনায় আগমন করিলে আমি বনূ জাদীলায় অবস্থিত আমার নিজ বাড়ীতে তাহাদেরকে উঠাই। অতঃপর তাঁহাদেরকে লইয়া নবী দরবারে উপস্থিত হই। নবী কারীম তখন আসহাব পরিবেষ্টিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি আমাকে ও তাহাদেরকে স্বাগতম জানাইলেন। তাহাদের দলপতি আবুদ দিবাব (বর্ণনান্তরে আবুদ দাবীব) অগ্রসর হইয়া রাসূলুল্লাহ্ -এর সম্মুখে বসিয়া কথোপকথন শুরু করিলেন। তাহারা সকলে ইসলাম গ্রহণ করিলেন। বলিলেন: রাসূলুল্লাহ্ الحمد لله الذي هداكم للإسلام من مات على غير الاسلام فهو في النار.
"সেই আল্লাহ্ প্রশংসা যিমি তোমাদেরকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করিয়াছেন। যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ ব্যতীত মৃত্যুমুখে পতিত হয় সে জাহান্নামী।"
দলপতি রাসূলুল্লাহ্-কে বলেন, আমার মেহমান আপ্যায়নের বড় সখ। ইহাতে কি কোন ছওয়াব আছে? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন: كل معروف صنعته الى غنى او فقير فهو صدقة.
"যে কোন উপকার, চাই তাহা ধনীর জন্য কর, চাই দরিদ্রের জন্য কর তাহা সাদাকাস্বরূপ।"
তখন প্রতিনিধি দলের নেতা আবার প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপ্যায়ন কয় দিন পর্যন্ত?
জবাবে রাসূলুল্লাহ্ বলেন, অতিথি আপ্যায়ন তিন দিন, অতঃপর সাদাকা। মেহমানের জন্য তিন দিনের বেশী অবস্থান করিয়া মেযবানকে বিব্রত করা বৈধ নহে।
অতঃপর তিনি প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বন-বাদাড়ে প্রান্তরে অনেক মালিক-বিহীন মেষ ছাগল ঘোরাফেরা করিতে দেখা যায়, এইগুলি সম্পর্কে শারী'আতের বিধান কী? জবাবে রাসূলুল্লাহ বলিলেন, এইগুলি হয় তোমার, নতুবা তোমার কোন ভাইয়ের, না হয় নেকড়ের (আহার্য)। প্রশ্নকারী আবার প্রশ্ন করেন, যদি সেই মালিকবিহীন পশুগুলি উট হয়? জবাবে রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন: উহা ব্যবহার তোমার জন্য বৈধ নহে। ঐগুলিকে তাহাদের অবস্থার উপর ছাড়িয়া দাও। মালিক তাহা খুঁজিয়া লইবে বা নিজেরাই মালিকের নিকট পৌঁছিয়া যাইবে।
বর্ণনাকারী হযরত রুআয়ফি' (রা) বলেন, অতঃপর তাহারা নবী কারীম -এর দরবার হইতে উঠিয়া আমার বাড়ীতে চলিয়া আসেন। কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ্ বেশ কিছু খেজুরসহ আমার বাড়িতে আসিলেন এবং বলিলেন: ঐগুলি দ্বারা তাহাদেরকে আপ্যায়িত করিবে। তিনদিন অবস্থানের পর প্রতিনিধি দলটি মদীনা হইতে প্রস্থান করে (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৩০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ছা'লাবা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 ছা'লাবা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


ছা'লাবা প্রতিনিধি দলের নবী দরবারে আগমন
ইবন সা'দ বলেন, মুহাম্মাদ ইবন উমার আল-ওয়াকিদী মূসা ইব্‌ন মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইবরাহীম বন্ ছা'লাবার জনৈক ব্যক্তির বরাতে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ৮ম হিজরীতে জি'ইররানা হইতে প্রত্যাগমনের পর আমরা চার ব্যক্তি তাঁহার খিদমতে হাযির হইয়া আরয করি, আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরূপে আপনার সমীপে উপস্থিত হইয়াছি। আমরা এবং আমাদের সম্প্রদায় ইসলামে বিশ্বাসী এবং ইহা স্বীকার করিয়া থাকি। তখন তিনি আমাদের আদর-আপ্যায়নের নির্দেশ দিলেন। আমরা কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করি। তারপর নবী দরবারে উপস্থিত হইয়া বিদায়ের অনুমতি প্রার্থনা করি। তখন তিনি বিলালের প্রতি নির্দেশ দিলেন:
اجزهم كما تجيز الوفد. "অন্যান্য প্রতিনিধি দলের মত উহাদেরকেও উপঢৌকনাদি প্রদান কর"। সেমতে তিনি একটি খোদাইকৃত রৌপ্যখণ্ড আমাদেরকে দান করিলেন যাহাতে আমরা প্রত্যেকে পাঁচ উকিয়া পরিমাণ রৌপ্য লাভ করিলাম। তিনি বলিলেন: নগদ মুদ্রা এখন হাতে নাই, তাই ইহাই গ্রহণ কর। তারপর আমরা প্রস্থান করি (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৯৮)।
ঐ খোদাইকৃত রৌপ্য খণ্ডে কী খোদাই করা ছিল তাহা স্পষ্ট নহে। তবে আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৫খ., এবং আস্-সীরাতুন নাবাবিয়্যা (৩খ., পৃ. ১৭২) গ্রন্থদ্বয়ে ইমাম ইবন কাছীর উক্ত ঘটনার বর্ণনায় نقر শব্দের স্থলে البقرة শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন যাহার অর্থ গাভী। তবে ইবনুল আছীর ঐ শব্দের ব্যাখ্যায় বলিয়াছেন:
قدر كبيرة واسعة فسماها بقرة من التبقر وهو التوسع أو لانها تسع بقرة بتمامها .
"উহা ছিল একটি বিশাল ডেগ; এই বিশালত্বের জন্য উহাকে এই নামে অভিহিত করিয়াছেন। কেননা বিশালত্বের আরবী প্রতিশব্দ হইতেছে التبقر। অথবা এই কারণে উহাকে বাকার বলা হইয়াছে যে, উহাতে পূর্ণ একটি গাভীর স্থান সঙ্কুলান হইত" (আস্-সীরাতুন নাবابিয়্যা লিইবন কাছীর-এর মুস্তাফা আবদুল ওয়াহিদ কৃত টীকা, ৩খ., পৃ. ১৭২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00