📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নাজরানের খৃস্টান প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 নাজরানের খৃস্টান প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


১৭. নাজরানের খৃস্টান প্রতিনিধিদলের নবী-এর দরবারে আগমন
নাজরান হইতেছে মক্কা মুআজ্জামা হইতে ইয়ামানের পথে সাত মনযিল দূরে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ খৃস্টান অধ্যুষিত জেলা। সেখানে একটি বিশাল গীর্জা ছিল। উহাকে তাহারা কা'বা শরীফ তুল্য সম্মানিত এবং হারাম শারীফের মত মর্যাদাপূর্ণ স্থান বলিয়া বিবেচনা করিত। সেখানকার ধর্মযাজকগণকে 'সায়্যিদ' ও 'আকিব' উপাধিতে অভিহিত করা হইত। গোটা আরবে উহার সমমর্যাদার আর একটিও ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল না। তাহাদের উক্ত কা'বাটি তিন শত চর্ম দ্বারা গম্বুজাকৃতিতে নির্মিত ছিল। যে কোন ব্যক্তি উহার গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করিলে নিরাপদ বিবেচিত হইত। তাহাদের উক্ত গীর্জার বার্ষিক আয় ছিল দুই লক্ষ মুদ্রা (আল্লামা শিবলী, সীরাতুন নবী, ২খ., পৃ. ৪৮; মু'জামুল বুলদান ও ফাতহুল কাবীর, নাজরান প্রতিনিধি দল প্রসঙ্গের বরাতে)।
শারহে মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়া (৪খ., পৃ. ৪১)-এর বরাতে আল্লামা ইদরীস কান্ধহলভী লিখেন, ৭৩টি কসবার সমষ্টি এই নাজরান। সর্বপ্রথম নাজরান ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন ইয়াশজুব ইবন ইয়া'রুব ইব্‌ন কাহতান এখানে আসিয়া বসবাস শুরু করেন। তাহারই নামে উহার এইরূপ নামকরণ করা হয়। আল-কুরআনের সূরা বুরূজে বর্ণিত আসহাবুল উখদূদের ঘটনা এই নাজরানেরই কোন একটি কসবায় সংঘটিত হইয়াছিল (সীরাতুল মুসতাফা, ৩খ., পৃ. ১২০, দারুল কিতাব দেওবন্দ, তা. বি.)।
নাজরানের খৃস্টান অধিবাসীদের সংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। তাহাদের প্রতিনিধি দলের আগমন সংক্রান্ত হাদীছসমূহ পর্যালোচনা করিলে বুঝা যায়, নবী দরবারে দুইবার তাহাদের আগমন ঘটিয়াছিল (শায়খুল হাদীছ তফাজ্জল হোছাইন, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা : সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৮৬৯)।
প্রথমবারের প্রতিনিধি দল সম্পর্কে ইউনুস ইব্‌ন বুকায়র বলেন, রাসূলুল্লাহ নাজরানবাসী খৃস্টানদেরকে একখানি পত্র লিখিয়া ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান। গীর্জার প্রধান পাদ্রী (Lord Bishop) পত্রখানা পাঠ করিয়া ভয়ে কাঁপিতে লাগিলেন। তিনি তৎক্ষণাত শুরাহবীল হামাদানীকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। কারণ তাহার পরামর্শ না লইয়া এইখানকার কর্মকর্তাগণ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেন না। শুরাহবীল উক্ত পত্রখানা পাঠ করিয়া নিস্তব্ধ হইয়া রহিলেন। বিশপের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলিলেন, জনাব! আপনি সম্যক অবগত আছেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালামকে হযরত ইসমাঈল বংশে নবী প্রেরণের প্রতিশ্রুতি দিয়া রাখিয়াছেন। সম্ভবত ইনিই সেই নবী। নবী সম্বন্ধ যুক্তিতর্ক চলে না। কাজেই এই সম্পর্কে আমি কোন মত প্রকাশ করিতে পারিব না।
তৎপর লর্ড বিশপ আবদুল্লাহ ইবন শুরাহবীলকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। পত্র পাঠান্তে তিনিও শুরাহবীলের উত্তরের পুনরাবৃত্তি করিলেন। তারপর তিনি জাব্বার ইব্‌ন ফায়য়কে ডাকিয়া পাঠাইলেন। পত্র পাঠান্তে তিনিও পূর্ব বর্ণিত মনীষীদ্বয়ের ন্যায় উত্তর করিলেন। যাঁহাদের বুদ্ধিমত্তার উপর বিশপের পূর্ণ নির্ভর ছিল তাহাদের কোন মতামত না পাওয়ায় গীর্জা প্রধান গীর্জার ঘণ্টা
পিটাইতে এবং গীর্জার উপর চট লটকাইতে আদেশ দিলেন। কোন গুরুত্বপূর্ণ আকস্মিক প্রয়োজনে সর্বসাধারণকে আহ্বান করিতে তাহারা এই সঙ্কেতই ব্যবহার করিতেন। কিন্তু রাত্রিকালে চট লটকাইবার পরিবর্তে উচ্চস্থানে অগ্নি প্রজ্জ্বলনের নিয়ম ছিল।
গীর্জায় ঘন্টাধ্বনির শব্দ শুনিয়া নাজরানের খৃস্টানগণ আসিয়া সমবেত হইল। বিশপ তাহাদেরকে মহানবী-এর নিকট হইতে আগত পত্র সশব্দে পাঠ করিয়া শুনাইয়া তাহাদের মতামত জানিতে চাহিলেন। দীর্ঘ পরামর্শের পর তাহারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলেন যে, শুরাহবীল, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন শুরাবীল ও জাব্বার ইব্‌ন ফায়য এই তিনজনের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল মদীনায় প্রেরণ করিতে হইবে (প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৬৯-৭০)। সেই মতে নবম হিজরীতে নাজরানের ষাটজন অশ্বারোহী গোত্র প্রতিনিধি মদীনায় নবী-এর দরবারে প্রথমবারের মত আগমন করিল। তন্মধ্যে ২৪ জন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি এবং তিনজন অতি শক্তিমান প্রধান ব্যক্তি ছিলেন যাহাদের উপর গোটা এলাকার শাসনভার অর্পিত ছিল। তাহাদের একজন ছিলেন আকিব— যাহার আসল নাম ছিল আবদুল মাসীহ। তিনিই ছিলেন নাজরানের প্রধান নেতা—যাহার কথা সকলেই মান্য করিত।
তাহাদের দ্বিতীয় প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন আয়হাম—দল বিন্যাস ও সওয়ারীর ব্যবস্থাপনা যাহার হাতে ন্যস্ত ছিল। আর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন তাহাদের পাদ্রী বা ধর্মগুরু আবূ হারিছ ইবন আলকামা। ইনি ছিলেন বকর ইব্‌ন ওয়াইল গোত্রের লোক। তিনি খৃস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। খৃষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থাদিতে তাঁহার পারদর্শিতা ও ব্যুৎপত্তি লক্ষ্যে খৃস্টানগণ তাঁহাকে খুবই সম্মান করিত। তাহারা তাঁহার জন্য একটি গীর্জাও বানাইয়া দেয় (বিদায়া, ৩/৫খ., পৃ. ৫১-৫২)।
ইবন ইসহাক বলেন, ৬০ সদস্যবিশিষ্ট নাজরান প্রতিনিধি দলের মধ্যে যে চৌদ্দজন বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী ছিলেন তাহারা হইলেন :
১. আল-আকিব—যাহার আসল নাম ছিল আবদুল মাসীহ্, (২) আস্-সাইয়্যদ— যাহার আসল নাম ছিল আল-আতাহাম (মতান্তরে আল-আবহাম), (৩) আবূ হারিছা ইব্‌ন আলকামা, (৪) আওস ইব্‌ন হারিছ, (৫) যায়দ, (৬) কায়স, (৭) ইয়াযীদ, (৮) নাবীহ্, (৯) খুওয়ায়লিদ, (১০) 'আমর, (১১) খালিদ, (১২) আবদুল্লাহ্, (১৩) আবদুল্লাহ ও (১৪) ইয়াহ্হ্রাস। ঐ চৌদ্দজনের মধ্যেও প্রথমোক্ত তিনজন ছিলেন বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। বর্ণনান্তরে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সংখ্যা চৌদ্দজনের স্থলে চব্বিশজন রহিয়াছে।
প্রতিনিধি দলটি যখন মদীনায় গমন করিতেছিল তখন একটি খচ্চরের পিঠে পাদ্রী আল-হারিছ ইব্‌ন আলকামা ও অন্যটিতে তদীয় ভ্রাতা কুরয ইবন আলকামা পাশাপাশি পথ চলিতেছিলেন। আবূ হারিছার খচ্চরটি হোঁচট খাইলে তাহার ভাইটি বলিল, ঐ দূরের লোকটি। সে রাসূলুল্লাহ -এর নাম উল্লেখ না করিয়াই তাঁহার কথা বিরুক্তিসূচক শব্দে বুঝাইতেছিল। তখন আবু হারিছা বলিলেন, তুই-ই। কুরয বলিলেন, আমি এইরূপ কেন হইব হে ভাইজান! তখন পাদ্রী হারিছা তাহার ভাইকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আল্লাহ্র কসম! উনিই সেই প্রতীক্ষিত নবী যাঁহার প্রতীক্ষায় আমরা দিন-ক্ষণ গুনিতেছিলাম। কুরয বলিলেন, ব্যাপারটি যখন আপনি জানেনই তাহা হইলে আপনার জন্য তাঁহাকে মানিয়া লইতে বাধা কোথায়? পাদ্রী আবূ হারিছা ইব্‌ন আলকামা জবাব দিলেন :
মা صنع بنا هؤلاء القوم شرفونا ومولونا وخدمونا وقد ابوا الا خلافه ولو فعلت نزعوا منا كل ما ترى.
"এই লোকগুলি আমাদের জন্য কত কিছুই না করিয়াছে। তাহারা আমাদেরকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছে, আমাদেরকে ধন-সম্পদ দান করিয়াছে, আমাদের কত সেবাযত্ন করিয়াছে। তাহারা তাঁহার বিরোধিতায় অবিচল অবস্থান গ্রহণ করিয়াছে। এমতাবস্থায় আমি যদি তাহা করিতে যাই তাহা হইলে তাহারা সবকিছুই আমাদের নিকট হইতে কাড়িয়া লইবে।" এই কথাগুলি কুরয তাঁহার অন্তরে গাঁথিয়া রাখেন এবং ইহারই ভিত্তিতে মদীনায় পৌছিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন।
• ইবন ইসহাক বলেন, নাজরান প্রতিনিধি দল আসরের নামাযান্তে নবী-এর দরবারে উপস্থিত হয়। ইহা ছিল তাহাদের প্রার্থনার সময়। তাহারা নিজস্ব পদ্ধতিতে প্রার্থনার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করিলে সাহাবীগণ তাহাতে বাধা দিতে উদ্যত হন। নবী করীম (স) বলিলেন : دعوهم "তাহাদেরকে তাহাদের অবস্থার উপর ছাড়িয়া দাও"।
তাহারা পূর্বদিকে মুখ করিয়া তাহাদের প্রার্থনা সম্পন্ন করিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩/৫খ., পৃ. ৫১; ফাতহুল-বারী, ৮খ., পৃ. ৭০; শারহুল মাওয়াহিব, ৪খ., পৃ. ৪১; আসাহহুস সিয়ার, বাংলা ভাষ্য, পৃ. ৪৬৪)।
প্রতিনিধি দলটি মদীনায় পৌছিয়া তাহাদের সফরের পোশাক ছাড়িয়া আজানুলম্বিত রেশমী জামা ও স্বর্ণের আংটি পরিয়া নবী দরবারে হাযির হয়। তাহারা রাসূলুল্লাহ-কে সালাম দিল, কিন্তু তিনি তাহাদের সালামের কোন জবাব না দিয়া নিরুত্তর রহিলেন। তাহারা দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত দরবারে অবস্থান করা সত্ত্বেও তিনি তাহাদের সহিত একটি কথাও উচ্চারণ করিলেন না। ইহাতে তাহারা অত্যন্ত চিন্তিত হইয়া পড়ে এবং মদীনায় তাহাদের পূর্ব-পরিচিত হযরত 'উছমান ইব্‌ন 'আফফান এবং 'আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফের দ্বারস্থ হইয়া অনুযোগ করে যে, আপনাদের নবী আমাদেরকে পত্র দিয়া আনাইয়া এখন একটি শব্দও উচ্চারণ করিতেছেন না। তাঁহারা দুইজন জাহিলিয়াতের যুগে ব্যবসা ব্যাপদেশে নাজরানে যাতায়াত করিতেন। এই পরিচয়ের সুবাদেই তাঁহারা তাঁহাদের দ্বারস্থ হয়। তাঁহারা এই ব্যাপারে হযরত আলী (রা)-এর সহিত পরামর্শ করিলেন। তিনি বলিলেন, উহারা তাহাদের রেশমী পোশাক ও স্বর্ণের আংটি খুলিয়া রাখিয়া সফরের সাধারণ পোশাকে রাসূলুল্লাহ-এর সহিত সাক্ষাত করুক। তাহারা যখন সেই মতে নবী দরবারে পৌছিয়া সালাম দিল তখন তিনি ঠিকই তাহাদের সালামের জবাব দিলেন এবং যথারীতি তাহাদের সহিত কথাবার্তা বলিলেন। ঐ সময় তিনি বলেন, প্রথমবার শয়তান তাহাদের সঙ্গে আসিয়াছিল।
والذي بعثني بالحق لقد اتونى المرة الأولى وان ابليس لمعهم.
তাহারা রাসূলুল্লাহ-কে অনেক প্রশ্ন করেন। কথা প্রসঙ্গে তাহারা বলেন : ما تقول في عيسى فانا نرجع الى قومنا ونحن نصارى ليسرنا ان كنت نبيا ان نسمع ما تقول فيه.
৩৮৭ "ঈসা (আ) সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? আমরা তো আমাদের স্বজাতির নিকট ফিরিয়া যাইব। আর আমরা খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী। আপনি যদি নবী হইয়া থাকেন তবে তাহার সম্পর্কে আপনার বক্তব্য শ্রবণ আমাদেরকে আনন্দ দান করিবে।"
তিনি জবাব দিলেন: ما عندى فيه شيئ يومى هذا فاقيموا حتى اخبركم بما يقول الله في عيسى.
"আজ আমার নিকট তাঁহার সংক্রান্ত কোন সংবাদ নাই। আমার এখানে অবস্থান কর, যাবৎ না আমি তোমাদেরকে এই ব্যাপারে আল্লাহ্ বক্তব্য অবহিত করি।" পরদিন ভোরে তাহারা যখন আগমন করিল তখন তিনি তাঁহার নিকট ওহীপ্রাপ্ত আয়াতসমূহ তাহাদেরকে শুনাইয়াছিলেন: إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللهِ كَمَثَلِ أَدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تَرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِيْنَ. فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَائِنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ.
"আল্লাহ্র নিকট নিশ্চয় ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্ত সদৃশ। তিনি তাহাকে মৃত্তিকা হইতে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, অতঃপর তাহাকে বলিয়াছিলেন, 'হও', ফলে সে হইয়া গেল। সত্য তো তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে; সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হইও না। তোমার নিকট জ্ঞান আসিবার পর যে কেহ এই বিষয়ে তোমার সহিত তর্ক করে, তাহাকে বল, আইস, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রগণকে ও তোমাদের পুত্রগণকে, আমাদের নারিগণকে ও তোমাদের নারিগণকে, আমাদের নিজদিগকে ও তোমাদের নিজদিগকে, অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই আল্লাহ্র লা'নত" (৩ঃ ৫৯-৬১)।
কিন্তু তাহারা তাহাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিল। রাসূলুল্লাহ্ ইহার পরের দিন ভোরেই হাসান ও হুসায়নকে একটি কম্বলে জড়াইয়া লইয়া বাহির হইয়া আসিলেন এবং ফাতিমা তখন তাঁহার পশ্চাতে পশ্চাতে মুবাহালা ও উভয় দলে পরস্পরে লানত প্রদানের উদ্দেশ্যে হাঁটিয়া চলিতেছিলেন। তখন তাঁহার কয়েকজন সহধর্মিনী ছিলেন। শুরাবীল তখন তাঁহার সঙ্গীদ্বয়কে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন: قد علمتما ان الوادى اذ اجتمع أعلاه واسفله لم يردوا ولم يصدروا الا عن رأى واني والله أرى امرا ثقيلا والله لئن كان هذا الرجل ملكا متوقويا فكنا أول العرب طعن في عيبته ورد عليه امره لا يذهب لنا من صدره ولا من صدور اصحابه حتى يصيبنا بجائحة وانا ادنى العرب منهم جوارا ولئن كان هذا الرجل نبيا مرسلا فلاعنناه لا يبقى على وجه الارض منا شعر ولا ظفر الا هلك.
৩৮৮ "হে আমার সঙ্গীদ্বয়! তোমরা সম্যক অবগত আছ যে, উপত্যকার চড়াই-উৎরাইয়ের সকল জনতা একত্র হইলেও তাহারা আমার মতের বাহিরে টু শব্দটি করে না। আল্লাহ্র কসম! আমি একটি কঠিন সঙ্কট দেখিতে পাইতেছি। আল্লাহ্র কসম! এই লোকটি যদি একজন শক্তিশালী সম্রাট হইয়া যান তাহা হইলে আমরাই হইব তাঁহার বিরাগের প্রথম শিকার। তাঁহাকে প্রত্যাখ্যান করার মর্মবেদনা তাঁহার বা তাঁহার সঙ্গীদের অন্তর হইতে তিরোহিত হইবে না। ফলে আমরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পতিত হইব। অথচ আমরাই তাঁহার নিকটতম আরব প্রতিবেশী। আর যদি এই ব্যক্তি নবী হইয়া থাকেন আর আমরা তাঁহাকে অভিসম্পাত প্রদান করি, তাহা হইলে এই পৃথিবীর বুকে আমাদের চুল, নখ কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না অর্থাৎ আমরা সমূলে ধ্বংস হইয়া যাইব।"
সঙ্গীদ্বয় উহাতে বিচলিত হইয়া বলিল, আবূ মারয়াম! তাহা হইলে তুমি আমাদের কী করা উচিত মনে কর? তিনি জবাব দিলেন:
رأى ان احكمه فانى ارى رجلا لا يحكم شططا ابدا .
"আমার সুচিন্তিত অভিমত হইল, ফয়সালার ভার আমরা তাঁহার উপরই ছাড়িয়া দেই। কেননা আমার মনে হয়, তিনি কস্মিনকালেও অন্যায় অসমীচীন কোন সিদ্ধান্ত দিবেন না।"
ইহার পর তাহারা রাসূলুল্লাহ -এর নিকট উপস্থিত হন। শুরাহবীল তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলেন, আপনার সহিত মুবাহালার চেয়ে উত্তম প্রস্তাব আমার নিকট রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ তাহা কি জিজ্ঞাসা করিলে শুরাহবীল বলিলেন, আজ সকাল হইতে সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যা হইতে আগামী সকাল পর্যন্ত ভাবিয়া-চিন্তিয়া যে সুচিন্তিত ফয়সালা আপনি দান করিবেন, উহাই আমরা শিরোধার্য করিয়া লইব।
রাসূলুল্লাহ বলিলেন: তোমার পিছনে এমন কোন ব্যক্তিও তো থাকিতে পারে যে, এইরূপ সিদ্ধান্তের জন্য তোমাকে দোষারোপ করিতে এবং উহা অগ্রাহ্য করিতে পারে। শুরাহবীল বলিলেন, আমার সঙ্গীদ্বয়কে এই ব্যাপারে আপনি জিজ্ঞাসা করিয়া দেখিতে পারেন। তাহারা দুইজনে বলিলেন, গোটা নাজরান তল্লাটে এমন কোন ব্যক্তি নাই যে, শুরাহবীলের কথার উপর কথা বলিতে পারে।
অগত্যা রাসূলুল্লাহ মুবাহালা না করিয়াই ঘরে ফিরিলেন। পরদিন তিনি তাঁহার সুচিন্তিত ফয়সালা পত্রাকারে তাহাদের হাতে তুলিয়া দিলেন যাহার বিবরণ রাসূলুল্লাহ -এর পত্রাবলী অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে দেওয়া না। রাসূলুল্লাহ -এর ফয়সালারূপী উক্ত পত্রখানা লইয়া তাহারা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। উহাতে তাহাদের উপর নির্দিষ্ট কর ধার্য করিয়া তাহাদের জান-মাল-ধর্মের হিফাযতের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয় (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩/৫খ., পৃ. ৪৯-৫; আসাহ্হুস সিয়ার, পৃ. ৪২-২৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দুইজন নওমুসলিমের আলোচনামূলক কথাবার্তা

📄 দুইজন নওমুসলিমের আলোচনামূলক কথাবার্তা


অধিকাংশ গোত্রীয় প্রতিনিধিদল মুসলমান হইয়া রাসূলুল্লাহ -এর দরবারে উপস্থিত হইয়াছে বা তাঁহার দরবারে পৌঁছিয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। নাজরান প্রতিনিধি দলটি খৃস্টান পরিচয়েই আসিয়াছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাহারা ইসলাম গ্রহণও করে নাই, কিন্তু ঐ প্রতিনিধি দলের আগমনে অন্তত দুইজন লোকের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ নিশ্চিতভাবে জানা যায়। তাহাদের
একজন ছিলেন পাদ্রী হারিছা ইবন 'আলকামার ভ্রাতা কুরয ইবন 'আলকামা—যাহার কথা ইতোপূর্বে আলোচিত হইয়াছে। অপর ইসলাম গ্রহণকারীও ঘটনাক্রমে নাজরানের সেই বড় পাদ্রীর বৈপিত্রেয় সহোদর এবং চাচাত ভাই। তাঁহার নাম ছিল বিশ্বর ইব্‌ন মু'আবিয়া।
নাজরান প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ -এর প্রদত্ত অভয়পত্রখানা লইয়া নাজরান অভিমুখে রওয়ানা হইলে সেখানকার বড় পাদ্রী এবং সম্ভ্রান্ত লোকজন এক দিনের পথ অগ্রসর হইয়া তাহাদেরকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করে। রাসূলুল্লাহ -এর পত্রখানা বড় পাদ্রীর হাতে দিলে সকলেই পত্রখানা দেখিতে পাইয়া ধীরে ধীরে আগাইয়া আসিতেছিলেন। বড় পাদ্রী ইহা দেখিতে এতই কৌতূহলী ছিলেন যে, পথ চলিতে চলিতে তিনি পত্রখানা পাঠ করিতেছিলেন। এমন সময় তাহার পাশেই বিশরের উষ্ট্রীটি তাহাকে পিঠ হইতে উপুড় করিয়া ফেলিয়া দিলে সে নবী কারীম -এর পত্রখানাকেই অলুক্ষণে মনে করিয়া তাহার নামে স্পষ্টত ধিক্কার ধ্বনি উচ্চারণ করে। তখন পাদ্রীটির মুখ হইতে সত্য কথাটি বাহির হইয়া পড়ে : قد والله تعست نبیا مرسلا
"আল্লাহর কসম! তুমি একজন প্রেরিত নবীকে ধিক্কার দিলে"! পাদ্রীর এই স্বীকারোক্তি বিশরের জীবনের মোড় ঘুরাইয়া দেয়। তিনি তখন বলিয়া উঠিলেন : لا جرم والله لا احل عنها عقدا حتى أتى رسول الله ﷺ.
"আল্লাহর কসম! তাহা হইলে আমি রাসূলুল্লাহ -এর দরবারে উপনীত হওয়ার পূর্বে উষ্ট্রীটির গদির লাগামের একটি গিটও খুলিতেছি না।"
আর অমনি তিনি উষ্ট্রীর মুখ মদীনার দিকে ফিরাইয়া দিলেন। পাদ্রীটি তখন মরিয়া হইয়া তাহার পিছনে পিছনে নিজের উষ্ট্রীটিকেও ছুটাইলেন এবং তাহাকে ফিরাইয়া আনিবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করিলেন। কিন্তু সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হইল। কিছুতেই আর কিছু হইল না। বিশর তাহার উষ্ট্রীটিকে আঘাত করিতে করিতে আপন মনে গাহিয়া চলিলেন : اليك تغدوا قدما وضيتها معترضا في بطنها جنينها مخالفا دين النصارى دينها "তোমার পানেতে এগিয়ে চলেছে উস্ত্রী বাহন, চলার গতিতে কাঁপিতেছে তাহার হাওদা বাঁধন। গর্ভস্থিত বৎসটিও আর নাসারা নয়, খৃষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধেই সে বাঙময়"।
রাসূলুল্লাহ -এর দরবারে পৌঁছিয়া তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং একটি যুদ্ধে শহীদ না হওয়া পর্যন্ত জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁহার সহিত অবস্থান করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩/৫খ., পৃ. ৪৯-৫০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গির্জায় অবস্থানরত যাজকের সত্য উপলব্ধি

📄 গির্জায় অবস্থানরত যাজকের সত্য উপলব্ধি


নাজরানের প্রতিনিধিদল মদীনা হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া নাজরানের গীর্জার আর-রাহিব ইন আবূ শামার যুবায়দীর নিকট উপস্থিত হয়। গীর্জা চূড়ায় অবস্থানরত যাজককে লক্ষ্য করিয়া পাদ্রী বলিলেন, তিহামা অঞ্চলে একজন নবী প্রেরিত হইয়াছেন। ইহার পর ঐ পাদ্রী উক্ত যাজককে রাসূলুল্লাহ -এর দরবারে নাজরানের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি, তাহাদের প্রতি তাঁহার মুবাহালার চ্যালেঞ্জ প্রদান এবং তাহাদের সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অস্বীকৃতির আনুপূর্বিক বর্ণনা দিলেন
এবং বিশর ইবন মু'আবিয়ার মদীনায় গমনপূর্বক ইসলাম গ্রহণের বিষয়ও অবহিত করিলেন। তখন যাজক বলিলেন, তোমরা আমাকে নামাইয়া দাও, অন্যথায় আমি গীর্জার এই উঁচু চূড়া হইতে লাফ দিয়া পড়িব। তাহারা তাহাকে নামাইয়া দিলে যাজক কিছু উপঢৌকন-সম্ভারসহ মদীনায় রাসূলুল্লাহ -এর দরবারে উপস্থিত হন। বর্ণনাকারী ঐ উপহার সামগ্রীর বর্ণনা দেন এইভাবে:
منها هذا البرد الذى يلبسه الخلفاء وتعب وعصا .
"আজকাল খলীফাগণ যে চাদর পরিধান করেন উহাও ছিল সেই উপঢৌকন-সম্ভারের অন্তর্ভুক্ত। আর ছিল একটি বড় পেয়ালা ও একটি লাঠি"।
কিছুদিন রাসূলুল্লাহ-এর খিদমতে অবস্থান করিয়া তারপর যাজক স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তখনও তাহার ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হইয়া উঠে নাই। আবার মদীনায় প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়া মদীনা ত্যাগ করিলেও রাসূলুল্লাহ-এর ইনতিকালের পূর্বে তাহার আর মদীনায় ফেরা হয় নাই (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩/৫ খ., পৃ. ৫৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খৃস্টীয় ভ্রান্ত ধারণা নিরসনের প্রয়াস

📄 খৃস্টীয় ভ্রান্ত ধারণা নিরসনের প্রয়াস


নাজরান প্রতিনিধি দলটি যেহেতু খৃস্টান জাতির প্রতিনিধিত্ব করিতেছিল, তাই ঈসা (আ) আল্লাহ্র পুত্র নহেন- ইসলামের এই বক্তব্য তাহারা সহজে মানিয়া লইতে রাজী হয় নাই। এই সম্পর্কে তাহারা রীতিমত বিতর্ক জুড়িয়া দেয়। তাহারা নবী কারীম-কে প্রশ্ন করে, ঈসা (আ) যদি আল্লাহ্র পুত্রই না হন, তবে তিনি কাহার পুত্র? রাসূলুল্লাহ বলিলেন: এই কথা তো অনবহিত নয় যে, পুত্র পিতারই মত আকৃতিসম্পন্ন হয়। নাজরান প্রতিনিধিদল- না হইবে কেন? অবশ্যই এইরূপই হইয়া থাকে।
ইহার ফল দাঁড়ায় এই যে, ঈসা (আ) যদি আল্লাহ্ পুত্রই হইয়া থাকেন তাহা হইলে তাঁহারও আল্লাহ্ তা'আলার আকৃতিসম্পন্ন হইতে হয়। অথচ এই কথা সর্বজনবিদিত যে, আল্লাহ্ তা'আলা নিরাকার সত্তা; তাঁহার সদৃশ বা সমকক্ষ কেহ নাই:
রাসূলুল্লাহ বলেন, "তোমরা কি জ্ঞাত নও যে, আমাদের উপাস্য প্রতিপালক حى لا ليس كمثله شيئ ولم يكن له كفوا احد . يموت وان عيسى يأتي عليه الفناء. না? অথচ ঈসা (আ)-এর উপর লয় কার্যকরী হইবে"।
নাজরান প্রতিনিধি দল-যথার্থই বলিয়াছেন। এখানে একটি ব্যাপার লক্ষণীয়: আল্লাহর রাসূল বলিলেন: "ঈসা (আ)-এর লয় কার্যকর হইবে।" ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি এখনও জীবিত, এখনও তাঁহার মৃত্যু হয় নাই। রাসূলুল্লাহ বলেন, তোমরা অবগত রহিয়াছ যে, আল্লাহ্ তা'আলা সবকিছুর রক্ষক ও নিগাহ্বান, সকলের রিযিকদাতা। ঈসা (আ)-ও কি এই সমস্ত গুণের অধিকারী? নাজরান প্রতিনিধিদল বলিল, না, তাহা নহে। রাসূলুল্লাহ বলেন, তোমরা একথাও অবগত রহিয়াছ যে, ঈসা (আ)-কে আল্লাহ্ তা'আলা যেরূপ ইচ্ছা সেইরূপ আকৃতি দান করিয়া মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করিয়াছেন। তোমরা ইহা জান যে, আল্লাহ তাআলা পানাহার করেন না, মলমুত্র ত্যাগেরও তাঁহার প্রয়োজন হয় না।
নাজরান প্রতিনিধি দল: যথার্থই বলিয়াছেন।
রাসূলুল্লাহ : তোমরা সম্যক অবগত আছ যে, হযরত মারয়াম (আ) অন্য দশ মহিলার মত ঈসা (আ)-কে গর্ভে ধারণ করিয়াছেন। তিনি তাঁহাকে এরূপই প্রসব করিয়াছেন যেভাবে অন্য মহিলাগণ সন্তান প্রসব করিয়া থাকেন। অন্য দশ নবজাতকের মত শিশু ঈসার মুখেও খাবার দেওয়া হইয়াছে। তিনি স্বাভাবিক নিয়মে মলমূত্রও ত্যাগ করিতেন। নাজরান প্রতিনিধিদল বলিল, যথার্থ।
রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তাহা হইলে তিনি কেমন করিয়া ঈশ্বর হইয়া গেলেন? অর্থাৎ মাতৃগর্ভে যাহার অবয়ব সৃষ্টি হইল, মাতার প্রসবের পরই যিনি রীতিমত খাদ্য গ্রহণ করিলেন, যাঁহার মলমূত্র ত্যাগেরও প্রয়োজন হয় এমন একজন মানুষ কী করিয়া আল্লাহ্ হইয়া যাইতে পারেন?
নাজরান প্রতিনিধি দলের নিকট সত্য দিবালোকের মত স্পষ্ট হইয়া উঠিল, কিন্তু তবুও তাহারা উহা মানিয়া লইতে সমর্থ হইল না। আল্লাহ্ তা'আলা এই সম্পর্কেই আয়াত নাযিল করিলেন:
ٱللهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ نَزَّلَ عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ ٱلتَّوْرَاةَ وَٱلْإِنجِيلَ مِن قَبْلُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَأَنزَلَ ٱلْفُرْقَانَ إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ ذُو ٱنتِقَامٍ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَخْفَىٰ عَلَيْهِ شَىْءٌ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِى ٱلسَّمَٓاءِ هُوَ ٱلَّذِى يُصَوِّرُكُمْ فِى ٱلْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَآءُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ
“আলিফ লা---ম মী---ম। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, তিনি চিরঞ্জীব সর্বসত্তার ধারক। তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করিয়াছেন, যাহা উহার পূর্বের কিতাবের সমর্থক আর তিনি নাযিল করিয়াছিলেন তাওরাত ও ইনজীল, ইতোপূর্বে মানবজাতির সৎপথ প্রদর্শনের জন্য, আর তিনি ফুরকান নাযিল করিয়াছেন। যাহারা আল্লাহ্ নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদের জন্য কঠোর শাস্তি আছে। আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী, দণ্ডদাতা। আল্লাহ্, নিশ্চয় আসমান ও যমীনে কিছুই তাঁহার নিকট গোপন থাকে না।
"তিনি মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই; তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (৩: ১-৬; তাফসীর দুররে মানছুর, ২খ., পৃ. ৩; ইবন জারীর ও ইন্ন আবী হাতিম-এর বরাতে)।
রাসূলুল্লাহ যখন এবম্বিধ বক্তব্য প্রদানের পর তাহাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানাইলেন তখন তাহারা জবাব দিল, আমরা তো পূর্ব হইতেই মুসলমান। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তোমাদের ইসলাম কীভাবে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হইতে পারে যেখানে তোমরা ঈসা (আ)-কে আল্লাহ্র পুত্র সাব্যস্ত করিয়া থাক, ক্রুশের পূজা কর, শূকর মাংস ভক্ষণ কর?
নাজরানের প্রতিনিধি দল পাল্টা প্রশ্ন করে, আপনি যে ঈসা (আ)-কে আল্লাহ্র বান্দা বলেন, তাঁহার অনুরূপ অন্য কাহাকেও কি আপনি দেখিয়াছেন? ইহার জবাবে নাযিল হয় أَنَّ مَثَلَ عِيسَى
৩৯২ সীরাত বিশ্বকোষ عِنْدَ اللَّهُ كَمَثَلِ أَدَمَ আয়াত (যাহার পূর্ণ পাঠ ও অনুবাদ ইতোপূর্বেই প্রদত্ত হইয়াছে (সীরাতুল মুস্তাফা, ৩খ., পৃ. ১২০-৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00