📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বাহরা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 বাহরা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


১৩. বাহরা প্রতিনিধি দলের নবী -এর দরবারে আগমন
ইবন সা'দ বলেন, দুবা'আ বিনতু যুবায়র ইবন আবদিল মুত্তালিব বলেন, ইয়ামানের বাহরা গোত্রের ১৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল নবী দরবারে আগমন করে। প্রথমে তাহারা মিকদাদ (রা)-এর দ্বারপ্রান্তে আসিয়া তাহাদের সওয়ারী থামায়। তিনি তখন বনূ জাযীলার মহল্লায় বসবাস করিতেন। তিনি ঘর হইতে বাহির হইয়া তাহাদেরকে স্বাগতম জানান এবং নিজ বাড়ির একটি ঘরে তাহাদেরকে স্থান দেন। তারপর তাহারা নবী দরবারে যান।
মিকদাদ তনয়ার বর্ণনা হইতে জানা যায়, তাহাদের আগমনের পূর্বেই মিকদাদ (রা) একটি বড় পাত্রে খেজুর ও পনীর নির্মিত সুস্বাদু 'হায়স' তৈয়ার করিয়াছিলেন। তিনি উহা অতিথিগণের সম্মুখে উপস্থিত করেন। তাহারা অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে উহা আহার করেন। উহার অবশিষ্ট অংশ একটি পেয়ালায় করিয়া আমরা আমাদের দাসী সিদরার মাধ্যমে নবী কারীম -এর জন্য প্রেরণ করি। তিনি তখন হযরত উম্মে সালামার গৃহে অবস্থান করিতেছিলেন। উহা দেখিয়াই তিনি বলিলেন, দুবা'আ কি উহা পাঠাইয়াছে? আচ্ছা, রাখিয়া যাও। তারপর তিনি ঘরে আগত মেহমানদের অবস্থা জিজ্ঞাসা করিলেন। অতঃপর উপস্থিত সকলকে লইয়া তৃপ্তির সহিত উহা খাইলেন। সিদরাও
তাঁহাদের সাথে খাইল। তারপর উহার অবশিষ্টাংশ সিদরাকে দিয়া বলিলেন: লইয়া যাও, মেহমানদেরকে উহা দ্বারাই আপ্যায়িত করিও।
সিদরা বলেন, আমি ঐ অবশিষ্ট হায়স লইয়া ঘরে ফিরিয়া গেলাম এবং যতদিন ঐ মেহমানরা ছিলেন উহা দ্বারাই তাহাদেরকে আপ্যায়ন করিলাম, কিন্তু উহার পরিমাণ একটুও হ্রাস পাইল না। মেহমানগণ হযরত মিকদাদ (রা)-কে লক্ষ্য করিয়া বলেন, এমন সুস্বাদু খাবার তাহারা জীবনে খান নাই। হযরত মিকদাদ (রা) বলিলেন, রাসূলুল্লাহ-এর পবিত্র হাতের বরকতে উহা এত সুস্বাদু ও বরকতপূর্ণ হইয়াছে। এই কথা শুনিয়া তাহাদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে, সত্য সত্যই তিনি আল্লাহ্র রাসূল। ফলে তাহাদের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করিয়া তাঁহারা দীনের প্রয়োজনীয় মাসয়ালাদি শিক্ষা গ্রহণ করেন। অতঃপর তাঁহাদের প্রস্থান কালে অন্যান্য প্রতিনিধি দলের মত তাঁহাদেরকেও উপঢৌকন ও পাথেয়াদি প্রদান করেন (আসাহহুস্ সিয়ার, পৃ. ৪৩৯-৪০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনূ ফাযারা প্রতিনিধি দলের আগমন

📄 বনূ ফাযারা প্রতিনিধি দলের আগমন


বনূ ফাযারা প্রতিনিধি দলের আগমন
এই গোত্রটি অত্যন্ত দুর্ধর্ষ, শক্তিশালী ও বিদ্রোহী প্রকৃতির ছিল। উয়ায়না ইব্‌ন হিস্‌ন (حِصْنٌ) এই গোত্রের লোক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ -এর তাবুক যুদ্ধ হইতে প্রত্যাবর্তনের পর উক্ত গোত্রের চৌদ্দ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল জীর্ণশীর্ণ সওয়ারীতে আরোহণ করিয়া তাঁহার দরবারে আসিয়া উপস্থিত হইলে তিনি তাহাদের দেশের অবস্থা জিজ্ঞাসা করেন (খুরকানী, ৪খ., পৃ. ৫২)। জবাবে তাহারা বলিল: يا رسول الله أسنتت بلادنا وهلكت مواشينا وأجدب جنابنا وغرت عيالنا فادع لنا ربك....
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের দেশ উজাড় হইয়া গিয়াছে। আমাদের পশু সম্পদ ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। আমাদের বাগ-বাগিচা বিরান হইয়া গিয়াছে। আমাদের পরিবারবর্গ শুকাইয়া কাঠ হইয়া গিয়াছে। সুতরাং আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের দরবারে দু'আ করুন"।
فصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم المنبر ودعا فقال اللهم اسق بلادك وبهائمك وانشر رحمتك وأحي بلدك الميت اللهم اسقنا غيثا مغيثا مريئا مريعا مطبقا واسعا عاجلا غير آجل نافعا غير ضار اللهم اسقنا سقيا رحمة لا سقيا عذاب ولا هدم ولا غرق ولا محق اللهم اسقنا الغيث وانصرنا على الأعداء.
"অতএব রাসূলুল্লাহ মিম্বারে আরোহণ করিয়া দু'আ করিলেন, হে আল্লাহ! তোমার রহমতের বৃষ্টি, উপাদেয় বৃষ্টি বর্ষণ করিয়া তোমার জনপদকে সিক্ত কর, তোমার বান্দাদেরকে-আমাদেরকে ও পশু পাখীকে তৃপ্ত কর, বাগ-বাগিচাকে শস্যশ্যামল ও ফলবতী কর। আশু বৃষ্টি, অনেক পরে নহে। রহমতের বৃষ্টি— আযাব গযব বা ধ্বংসের প্রলয়ঙ্করী বৃষ্টি নহে— যাহা ডুবাইয়া ভাসাইয়া লইয়া যায়। হে আল্লাহ্! আমাদের উপর বর্ষণ করুন এবং আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন"!
সীরাতবিদগণ বর্ণনা করেন:
فمطرت فما رأوا السماء ستا فصعد رسول الله ﷺ المنبر فدعا فقال اللهم حو الينا ولا علينا على الآكام والظراب وبطون الأودية.
"তারপর সেই যে মুষল ধারায় বৃষ্টিপাত শুরু হইল আর থামিতে চাহে না। ছয়দিন পর্যন্ত লোকজন আকাশ দেখিতে পাইল না। তখন রাসূলুল্লাহ পুনরায় মিম্বারে আরোহণ করিয়া দু'আ করিলেন: ইয়া আল্লাহ্! আমাদের আশেপাশে চতুর্দিকে বর্ষণ করুন, আমাদের উপর নহে। পাহাড়ে-পর্বতে, বনে-জঙ্গলে, পাথুরে ভূমি ও প্রান্তরে বর্ষণ করুন" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৯৮)।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেন, রাসূলুল্লাহ কখনও দু'আতে হাত উঠাইতেন না, কিন্তু ইসতিসকার দু'আতে তিনি হাত এতই উর্ধ্বে তুলিয়া দু'আ করিলেন যে, তাঁহার বগলের শুভ্রতা স্পষ্ট দেখা যাইতেছিল (মুফতী আযীযুর রহমান অনূদিত গ্রন্থ, ইহার বরাত হইতেছে, ৩খ., পৃ. ৪২৬)।
উক্ত প্রতিনিধি দলটি নবম হিজরীতে আসিয়াছিল এবং ইসলামের স্বীকারোক্তিসহই তাহারা আগমন করিয়াছিল। দলে খারিজা ইন্ন হিসন এবং তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র হারিছ ইব্‌ন কায়স ইন হিসনও ছিলেন। ইহারা ছিলেন 'উয়ায়না ইবন হিসনের ভ্রাতা ও ভ্রাতুষ্পুত্র- যাহার কথা গাবার যুদ্ধ, খায়বার যুদ্ধ ও হুনায়ন যুদ্ধ প্রসঙ্গে বারবার আসিয়াছে। ইহারা সকলে বিনতুল হারিছের ঘরে আসিয়া উঠিয়াছিলেন (আসাহহুস-সিয়ার, পৃ. ৪৭৭-৮)।
উক্ত প্রতিনিধি দলের সদস্য কায়স ইন্ন হিসনের পুত্র হারিছ নামে আসাহহুস সিয়ারে উল্লিখিত হইলেও তাবাকাত-এ ইবন সা'দ তাঁহার নাম হুর ইবন কায়স উল্লেখ করিয়াছেন (তাবাকাত, ফাযারা প্রতিনিধি দল প্রসঙ্গ, ১খ., পৃ. ২৯৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনূ মুরা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 বনূ মুরা প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


১৪. বনূ মুররা প্রতিনিধি দলের নবী -এর দরবারে আগমন
ইবন সা'দ (র) ওয়াকিদীর বরাতে বর্ণনা করেন, নবী কারীম -এর তাবুক হইতে প্রত্যাবর্তনের অব্যবহিত পরেই নবম হিজরীতে মুররা গোত্রের তের সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল তাঁহার দরবারে আসিয়া উপস্থিত হয়। হারিছ ইব্‌ন 'আওফ এই দলে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ তাঁহাদের প্রত্যেককে দশ উকিয়া হিসাবে রৌপ্য উপঢৌকনস্বরূপ দান করেন। হারিছ ইব্‌ন আওফকে দান করেন বার উকিয়া। প্রতিনিধি দল তাহাদের এলাকায় খরা ও আকালের অনুযোগ করিলে তিনি তাহাদের জন্য দু'আ করিলেন: اللهم اسقهم الغيث “হে আল্লাহ! উহাদেরকে বৃষ্টিতে সিক্ত করুন"।
অতঃপর তাহারা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করিলে দেখিতে পাইলেন, সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হইয়াছে এবং ঐ বৃষ্টিপাত হইয়াছে ঠিক সেই দিন যেদিন আল্লাহ্র রাসূল দু'আ করিয়াছিলেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৮০; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ৮৯)।
তাবাকাতে সুনির্দিষ্টভাবে হযরত বিলাল (রা)-এর কথা উল্লেখ করিয়া বলা হইয়াছে: وامر بلالا أن يجزهم. "রাসূলুল্লাহ বিলালকে তাহাদেরকে উপঢৌকন দিতে আদেশ করিলেন"।
তখন তিনি তাহাদেরকে উপঢৌকন দিলেন। ঐ বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে আওফ-তনয় হারিছকে তাহাদের নেতারূপে উল্লেখ করিয়া তাহারা যে রাসূলুল্লাহ-এর কৃপা দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়াস পাইয়াছিলেন উত্তারও উল্লেখ করা হইয়াছে এইভাবে:
رأسهم الحارث بن عون فقالوا يا رسول الله انا قومك وعشيرتك ونحن قوم من بني لؤى بن غالب.
"তাহাদের নেতৃত্বে ছিলেন হারিছ ইব্‌ন আওফ। তাঁহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনারই স্বজাতি, স্ববংশের লোক। আমরা বনূ লুওয়াই ইব্‌ন গালিবের বংশধর।"
তখন রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসি দেন এবং তাহাদের পরিবারবর্গকে তাহারা কোথায় রাখিয়া আসিয়াছেন, তাহাদের কী অবস্থা ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করেন। তখন তাহারা তাহাদের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করিলে রাসূলুল্লাহ তাঁহাদের জন্য পূর্বোল্লেখিত দু'আ করেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৯৭-৮; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫খ., পৃ. ৮০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বনূ উয়াহ্ প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন

📄 বনূ উয়াহ্ প্রতিনিধি দলের নবী (সা)-এর দরবারে আগমন


১৫. বনু উম্মাহ প্রতিনিধি দলের নবী-এর দরবারে আগমন
ইয়ামানের উফ্রা গোত্রের বার সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল নবম হিজরীর সফর মাসে নবী কারীম-এর দরবারে উপস্থিত হয়। তিনি তাহাদেরকে আহলান ও মারহাবা বলিয়া স্বাগতম জানান। তাহারা জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কিসের দিকে আহ্বান জানাইয়া থাকেন? জবাবে রাসূলুল্লাহ বলেনঃ আমি এক লা-শরীক আল্লাহর ইবাদত এবং আমার রিসালাতের দিকে আহ্বান জানাইয়া থাকি। সমগ্র বিশ্বমানবের জন্য আল্লাহর রাসূলরূপে আমি প্রেরিত হইয়াছি। ইহার সাক্ষ্য তোমাদেরকে দিতে হইবে।
"এই গোত্রের 'লোকজনও রাসূলুল্লাহ-এর পূর্বপুরুষ কুসাই-এর বৈপিত্রেয় ভাইয়ের বংশধররূপে নিজেদের পরিচয় দিয়া তাঁহার নিকটাত্মীয় হিসাবে সহানুভূতি লাভের প্রয়াস পায়। জবাবে তিনি বলেন: আমি তো চিনিতে পারিলাম না, তবুও তোমাদেরকে স্বাগতম। তাহারা বলে, আমরাই কুসাই-এর সহিত মিলিত হইয়া খুয'আ ও বনূ বকর গোত্রকে মক্কাভূমি হইতে বহিষ্কার করিয়াছিলাম। এই দলে ছিলেন হামযা ইবন নু'মান আল-উযরী মালিকের দুই পুত্র সুলায়ম ও সা'দ, মালিক ইব্‌ন আবী রিবাহ প্রমুখ গোত্রপতি। তাহারা রামলা বিনত হারিছের ঘরে আসিয়া উঠেন, তারপরে রাসূলুল্লাহ-এর সহিত সাক্ষাত করিতে যান। সাক্ষাতকালে তাহারা জাহিলিয়াতের প্রদ্ধতি অনুসারে তাঁহাকে অভিবাদন জানায়। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ইসলামী পদ্ধতিতে অভিবাদন জানাইতে তোমাদের বাধা কোথায়? জবাবে তাহারা জানায়, নিজেদের প্রথাপদ্ধতি হইতে বিমুখ হইয়াই তাহারা আসিয়াছে। তারপর রাসূলুল্লাহ-এর নিকট হইতে ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত হইয়া তাহারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং কয়েক দিন মদীনায় বসবাস করিয়া স্বগোত্রে প্রত্যাবর্তন করে। প্রত্যাবর্তনের পূর্বে তাহারা জানান যে, তাহারা মনেপ্রাণে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন এবং এখন হইতে সর্বদা তাঁহার সাহায্যকারীরূপেই থাকিবেন। এই সময় তাহারা আরও বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ব্যবসা-ব্যাপদেশে আমরা শামদেশে গিয়া থাকি- যেখানে সম্রাট হিরাক্লিয়াস বসবাস করেন। তাহার ব্যাপারে কি আপনার নিকট কোন ওহী নাযিল হইয়াছে?
জবাবে রাসূলুল্লাহ তাহাদেরকে জানান, শাম মুলুক তথা তদানীন্তন বৃহত্তর সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তীন অচিরেই মুসলমানদের হস্তগত হইবে এবং ঐ খৃস্টান সম্রাট সেখান হইতে পলায়ন করিবে। এই সময় ইসলামের অন্যান্য ফরয-ওয়াজিব সম্পর্কে তাহাদেরকে অবহিত করার সাথে সাথে গণকদের নিকট ভবিষ্যত সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে এবং তাহাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাইতে বারণ করেন। তিনি জানান, একমাত্র ঈদুল আযহার কুরবানী ছাড়া আর কোনরূপ কুরবানী দিতে হইবে না। দেশে ফিরিবার সময় তিনি তাহাদেরকে যথারীতি উপঢৌকনাদি দিয়া বিদায় করেন (যাদুল-মা'আদ, ৩খ., পৃ. ৪৮-৯; আসাহ্হুস্ সিয়ার, ৪৪০-১; সীরাতুল মুস্তাফা, ৩খ., পৃ. ১৩৪-৫; তাবাকাত, ১খ., প্রথমাংশ, পৃ. ৩৩১-৩২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00