📄 (১০) ইয়াযীদ ইবনুল মুহাজ্জাল আল-হারিছীর নামে
وكتب رسول الله ﷺ ليزيد بن المحجل الحارثي أن لهم نمرة ومساقيها ووادى الرحمن من بين غابتها وأنه على قومه من بني مالك وعقبة لا يغزون ولا يحشرون وكتب المغيرة بن شعبة.
"রাসূলুল্লাহ্ য়াযীদ ইবনুল মুহাজ্জাল আল-হারিছীকে লিখেন: তাহাদের অধিকারে থাকিবে নামিরা এবং উহার পানীয় জলের স্থানসমূহ, ওয়াদিউর রহমান-এর নিম্নাঞ্চল। তাহাদের নেতারূপে থাকিবে বনূ মালিক ও বনূ উকবার লোকজন। তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করা হইবে না এবং তাহাদের পশুপালকে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে (গণনার্থে তহসীলদারের নিকট নিয়া) একত্র করা হইবে না। লেখক মুগীরা" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮; আল-ইস্তী'আব, ২খ., পৃ. ৬১৩)।
উল্লেখ্য, উক্ত পত্রে গোটা এলাকার বরাদ্দ তাহাদের নামে দেওয়া হয় নাই, বরং উহার নির্দিষ্ট অংশটি (নিম্নাঞ্চল) কেবল বরাদ্দ দেওয়া হইয়াছে। পশুপালের যাকাতের কড়াকড়ি হইতে তাহাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে।
এই ইয়াযীদ ইব্ন মুহাজ্জাল ১০ম হিজরীতে নাজরানের বিন-হারিছের প্রতিনিধি দলে আগত অন্যতম নেতা। ইহারা হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের সহিত নবী দরবারে আসিয়া হাযির হইয়াছিলেন (সীরাতুন্নবী (ইবন হিশাম), বাংলা ভাষ্য, ৪খ., পৃ. ২৬০; আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী গং অনূদিত, ইফা, প্রকাশিত ১৯৯৬ খৃ.)।
উক্ত পত্রের প্রাপক নাজরানের ইয়াযীদ ইবন মুহাজ্জালই এই নামের একমাত্র সাহাবী ছিলেন (মাকাতীবুর রাসূল, ২খ., পৃ. ৩৫৭)।
📄 (১১) আসিম ইবনুল হারিছ আল-হারিছীর নামে
وكتب رسول الله ﷺ العاصم بن الحارث الحارثي أن له نجمة من راكس لا يحاقه فيها أحد وكتب الأرقم.
"আসিম ইব্দুল হারিছ আল-হারিছীকে রাসূলুল্লাহ্ লিখেন: রাকিসের নাজমা তাহাকে প্রদত্ত হইল। কেহ সেখানে তাহাকে বাধাগ্রস্ত করিতে পারিবে না। আল-আরকাম এই পত্রখানার লেখক" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৯)।
পত্রে উক্ত রাকিস নামের স্থানটির উল্লেখ আরবের আধুনিক মানচিত্র পুস্তকসমূহে পাওয়া যায় না। ইয়াকৃত 'রাকিস একটি প্রান্তর' বলিয়াই ক্ষান্ত হইয়াছেন।
📄 (১২) যুবায়র ইবনুল 'আওয়ামের নামে বরাদ্দপত্র
وكتب رسول الله الله بسم الله الرحمن الرحيم هذا كتاب من محمد رسول الله للزبير بن العوام أني أعطيته شواق أعلاه وأسفله لا يحاقه فيه أحد وكتب على.
"রাসূলুল্লাহ্ লিখেন: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ইহা আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হইতে যুবায়র ইবনুল 'আওয়ামের প্রতি। আমি তাহাকে শাওয়াকের উঁচু ও নিচু উভয় অঞ্চল দান করিলাম। উহাতে কেহ তাহাকে বাধা দিতে পারিবে না। পত্রখানি লিখিয়াছেন আলী" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৭৪)।
তবে ইমাম আবূ ইউসুফ (র) তদীয় কিতাবুল খারাজে পত্রখানির পাঠ উদ্ধৃত করিয়াছেন এইভাবে: بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما اعطى محمد رسول الله الزبير اعطاه سوارق كله اعلاه واسفله ما بين مورع القرية الى موقت الى حين المحملة لا يحاقه فيها احد وكتب على.
"পরম দয়ালু ও পরম করুণাময় আল্লাহর নামে। ইহা হইতেছে আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হইতে যুবায়রকে প্রদত্ত বরাদ্দপত্র। তিনি সাওয়ারিকের উঁচু ও নীচু এলাকাসহ গোটা সাওয়ারিক তাহাকে দান করিয়াছেন। উহার সীমা হইতেছে মুরিউল কারয়া হইতে মুওয়াকাত হইয়া হীন আল-মামালা পর্যন্ত। তাহাকে উহাতে কেহ বাধা দিতে পারিবে না। 'আলী পত্রটি লিখিয়াছেন" (ই'লামূস্ সাইলীন, পৃ ৫৩)।
কিতাবুল আমওয়ালের বর্ণনা হইতে বুঝা যায় যে, সাওয়ারিক খায়বার এলাকার একটি স্থান। ইয়াকৃত বলেন, সাওয়ারিক স্থানটি সাওয়ারিকার নিকটেই অবস্থিত। উহা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী একটি স্থান। সাওয়ারিক অত্যন্ত বিখ্যাত একটি জনপদ- যাহা আরবের মানচিত্রে পাওয়া যায়।
📄 (১৩) বনূ যুর'আ ও বনূ রাবী'আর নামে লিখিত পত্র
كتب رسول الله الله لبنى زرعة وبنى الربيعة من جهينة أنهم آمنون على أنفسهم وأموالهم وأن لهم النصر على من ظلمهم أو حاربهم إلا في الدين والأهل ولأهل باديتهم من بر منهم واتقى ما الحاضرتهم والله المستعان.
"রাসূলুল্লাহ্ জুহায়না গোত্রের বনূ যুর'আ ও বনূ রাবী'আর নামে লিখেন: তাহারা তাহাদের জান-মালের নিরাপত্তার অধিকারী। কেহ তাহাদের উপর জুলুম করিলে বা যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইলে তাহাদেরকে সাহায্য দান করা হইবে। তবে সেই যুদ্ধ যদি ধর্মযুদ্ধ হয় বা কাহারও পরিবারের প্রতি বাড়াবাড়ির কারণে হয় তবে তাহার কথা স্বতন্ত্র। তাহাদের প্রান্তরবাসী (অর্থাৎ
বেদুঈনরা) ও স্থায়ী বসতকারী নাগরিকরা সমাধিকার ভোগ করিবে। আল্লাহ্ই সাহায্যকারী" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৭০; মাকাতীবুর রাসূল, ২খ., পৃ. ৩৪৪)। 'বনূ যুর'আ ও বনূ রাবী'আ কবীলাদ্বয়ের প্রথমটির পরিচয় হইল: زرعة بطن من ثابت وبنى عجلان
"যুর'আ হইতেছে ছাবিত ও বনূ 'আজলান-এর একটি শাখা"। দ্বিতীয়টি সম্পর্কে জানা যায়: بنو الربيعة بطن من جهينة وهم بنو الربيعة بن راشد.
"বনূ রাবী'আ হইতেছে জুহায়নার একটি শাখাগোত্র; তাহাদের পরিচয় তাহারা বনূ রাবী'আ ইব্ন রাশিদ" (মু'জামুল কাবাইল, তাজুল 'আরূস-এর বরাতে, ৫খ., পৃ. ৩৪৮)।