📄 (৮) বনু কান্নান ইব্ন য়াযীদ গোত্রের প্রতি
وكتب رسول الله الله لبنى قنان بن يزيد الحارثيين أن لهم مذودا وسواقيه ما أقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وفارقوا المشركين وأمنوا السبيل وأشهدوا على إسلامهم.
"উক্ত হারিছী গোত্রের অপর শাখা গোত্র বনূ কান্নান ইবন ইয়াযীদকে রাসূলুল্লাহ্ লিখেন, মিয়াদা ও সাওয়াকিয়্যা ততদিন পর্যন্ত তাহাদেরই থাকিবে যতদিন পর্যন্ত তাহারা সালাত কায়েম রাখিবে, যাকাত আদায় করিবে, মুশরিকদের সহিত সম্পর্কহীন থাকিবে, জনপথের নিরাপত্তা রক্ষা করিবে এবং নিজেদের মুসলমান হওয়ার সাক্ষ্য বা ঘোষণা দিতে থাকিবে” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮-৯; মাকাতীব, ২খ., পৃ. ৩৫৪)।
📄 (৯) কায়স ইবন হুসায়ন যুল-গুস্সার নামে প্রদত্ত
كتب رسول الله الله لقيس بن الحصين ذي الغصة أمانة لبنى أبيه نبي الحارث ولبنى نهد أن لهم ذمة الله وذمة رسوله لا يحشرون ولا يعشرون ما أقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وفارقوا المشركين وأشهدوا على إسلامهم وأن في أموالهم حقا للمسلمين قال وكان بنو مهد حلفاء نبي الحارث.
"রাসূলুল্লাহ্ কায়স ইন্ন হুসায়ন যুল গুস্সাকে তাঁহার ভ্রাতৃসমাজ বানুল হারিছ এবং বনূ নাহাদের নিরাপত্তা পত্রস্বরূপ লিখেন: তাহাদের জন্য আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের পক্ষ হইতে অভয় রহিল। তাহাদের পশুপালকে যাকাত উশুলের উদ্দেশ্যে (গণনার্থ) একত্র করা হইবে না, তাহাদের নিকট হইতে উশরও আদায় করা হইবে না- যত দিন পর্যন্ত তাহারা সালাত কায়েম করিতে থাকিবে, যাকাত আদায় করিতে থাকিবে, মুশরিকদের নিকট হইতে দূরত্ব রক্ষা করিয়া চলিতে থাকিবে, নিজেদের মুসলিম হওয়ার সাক্ষ্য (ঘোষণা) দিতে থাকিবে এবং তাহাদের ধনসম্পদে
মুসলমানদের হক বা অধিকারের স্বীকৃতি দিতে থাকিবে"। বনূ নাহাদ গোত্র বানুল হারিছ গোত্রের চুক্তিবদ্ধ মিত্র ছিল (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮)।
যুল-গুস্সা বা ক্রোধপরায়ণ বলিয়া পরিচিতি ছিল কায়সের পিতা হুসায়ন। কেননা রাগান্বিত হইলে তিনি কথা বলিতে পারিতেন না।
বনুল হারিছ ছিল একটি বিশাল গোত্র। উহার ছিল অনেক শাখা-প্রশাখা। ঐ শাখাগুলির মধ্যে রহিয়াছে- (১) বনূ যিয়াদ, (২) বানুদ দায়্যান, (৩) বানুদ দিবায, (৪) বনূ কান্নান প্রভৃতি। নাজরানে তাহাদেরই রাজত্ব ছিল। গোটা আরবকেই তাহারা শাসন করিত। আবদ মুদ্দান ইবনুদ দাইয়ান হইতে য়াযীদ ইব্ন আবদে মুদ্দানের যুগ পর্যন্ত তাহাদের রাজত্ব ছিল। নবী কারীম -এর আবির্ভাবের পূর্বেই তাহাদের রাজত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে (মাকাতীবুর রাসূল, ২খ., পৃ. ৩৫৪)।
পরিশিষ্ট
আলোচনার ফলাফল
মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীনের সাহায্যে এ সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি শেষ হল। আলোচনার বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে প্রদান করা হল:
১। তাবীযের ব্যবহার জাহেলী যুগ থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে এবং তাবীজ সম্পর্কে তাদের মধ্যে নানা রকমের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা প্রসিদ্ধ ছিল।
৩। তাবীজ ব্যবহারে 'আকীদাহ- বিশ্বাসে ত্রুটি এবং চিন্ত ধারায় ঈমানের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
৪। ব্যবহারকারী এবং তাবীযের বিষয়বস্তু অবস্থা ভেদে কখন বড় শিরক, আবার কখনও বা ছোট শিরক হয়।
৫। যাদুকর কিংবা উহা সমতুল্য ভণ্ড লোকদের কারণে আজ পর্যন্ত মানব সমাজে তাবীযের ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে।
৬। কল্যাণ বা ক্ষতি সাধন দুর করার জন্য তাবীজ শরীয়ত সম্মত কোন মাধ্যম নয় এবং স্বাভাবিক মাধ্যমও নয়।
৭। সর্বসম্মত মত এই যে, কুরআন ও হাদীছ শরীফের তাবীজ ব্যবহার নিষিদ্ধ।
📄 (১০) ইয়াযীদ ইবনুল মুহাজ্জাল আল-হারিছীর নামে
وكتب رسول الله ﷺ ليزيد بن المحجل الحارثي أن لهم نمرة ومساقيها ووادى الرحمن من بين غابتها وأنه على قومه من بني مالك وعقبة لا يغزون ولا يحشرون وكتب المغيرة بن شعبة.
"রাসূলুল্লাহ্ য়াযীদ ইবনুল মুহাজ্জাল আল-হারিছীকে লিখেন: তাহাদের অধিকারে থাকিবে নামিরা এবং উহার পানীয় জলের স্থানসমূহ, ওয়াদিউর রহমান-এর নিম্নাঞ্চল। তাহাদের নেতারূপে থাকিবে বনূ মালিক ও বনূ উকবার লোকজন। তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করা হইবে না এবং তাহাদের পশুপালকে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে (গণনার্থে তহসীলদারের নিকট নিয়া) একত্র করা হইবে না। লেখক মুগীরা" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮; আল-ইস্তী'আব, ২খ., পৃ. ৬১৩)।
উল্লেখ্য, উক্ত পত্রে গোটা এলাকার বরাদ্দ তাহাদের নামে দেওয়া হয় নাই, বরং উহার নির্দিষ্ট অংশটি (নিম্নাঞ্চল) কেবল বরাদ্দ দেওয়া হইয়াছে। পশুপালের যাকাতের কড়াকড়ি হইতে তাহাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে।
এই ইয়াযীদ ইব্ন মুহাজ্জাল ১০ম হিজরীতে নাজরানের বিন-হারিছের প্রতিনিধি দলে আগত অন্যতম নেতা। ইহারা হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের সহিত নবী দরবারে আসিয়া হাযির হইয়াছিলেন (সীরাতুন্নবী (ইবন হিশাম), বাংলা ভাষ্য, ৪খ., পৃ. ২৬০; আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী গং অনূদিত, ইফা, প্রকাশিত ১৯৯৬ খৃ.)।
উক্ত পত্রের প্রাপক নাজরানের ইয়াযীদ ইবন মুহাজ্জালই এই নামের একমাত্র সাহাবী ছিলেন (মাকাতীবুর রাসূল, ২খ., পৃ. ৩৫৭)।
📄 (১১) আসিম ইবনুল হারিছ আল-হারিছীর নামে
وكتب رسول الله ﷺ العاصم بن الحارث الحارثي أن له نجمة من راكس لا يحاقه فيها أحد وكتب الأرقم.
"আসিম ইব্দুল হারিছ আল-হারিছীকে রাসূলুল্লাহ্ লিখেন: রাকিসের নাজমা তাহাকে প্রদত্ত হইল। কেহ সেখানে তাহাকে বাধাগ্রস্ত করিতে পারিবে না। আল-আরকাম এই পত্রখানার লেখক" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৯)।
পত্রে উক্ত রাকিস নামের স্থানটির উল্লেখ আরবের আধুনিক মানচিত্র পুস্তকসমূহে পাওয়া যায় না। ইয়াকৃত 'রাকিস একটি প্রান্তর' বলিয়াই ক্ষান্ত হইয়াছেন।