📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 (৬) ইয়াযীদ ইবনুত-তুফায়ল আল-হারিছীর নামে বরাদ্দপত্র

📄 (৬) ইয়াযীদ ইবনুত-তুফায়ল আল-হারিছীর নামে বরাদ্দপত্র


وكتب رسول الله الله ليزيد بن الطفيل الحارثي أن له المضة كلها لا يحاقه فيها أحد ما أقام الصلاة وآتى الزكاة وحارب المشركين وكتب جهيم بن الصلت.
"ইয়াযীদ ইবনুত-তুফায়ল আল-হারিছীকে রাসূলুল্লাহ্ লিখেন: গোটা মাদ্দা ভূমি তাহার অধিকারেই থাকিবে। কেহ তাহাতে তাহাকে বাধা দিতে পারিবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সালাত কায়েম করিবেন, যাকাত দিবেন এবং মুশরিকদের সহিত লড়াই চালাইয়া যাইবেন" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 (৭) বনূ কান্নান ইব্‌ন ছা'লাবার প্রতি

📄 (৭) বনূ কান্নান ইব্‌ন ছা'লাবার প্রতি


وكتب رسول الله الله لبنى قنان بن ثعلبة من بني الحارث أن لهم مجسا وأنهم آمنون على أموالهم وأنفسهم وكتب المغيرة.
"উক্ত বানুল হারিছ গোত্রেরই শাখা গোত্র বনূ কান্নান ইব্‌ন ছা'লাবার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ লিখেন: মাজাসা ভূমি তাহাদেরই থাকিবে। তাহাদের জানমাল নিরাপদে থাকিবে। পত্রটি লিখিয়াছেন মুগীরা" (ইবন সা'দ, তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৪৬৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 (৮) বনু কান্নান ইব্‌ন য়াযীদ গোত্রের প্রতি

📄 (৮) বনু কান্নান ইব্‌ন য়াযীদ গোত্রের প্রতি


وكتب رسول الله الله لبنى قنان بن يزيد الحارثيين أن لهم مذودا وسواقيه ما أقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وفارقوا المشركين وأمنوا السبيل وأشهدوا على إسلامهم.
"উক্ত হারিছী গোত্রের অপর শাখা গোত্র বনূ কান্নান ইবন ইয়াযীদকে রাসূলুল্লাহ্ লিখেন, মিয়াদা ও সাওয়াকিয়্যা ততদিন পর্যন্ত তাহাদেরই থাকিবে যতদিন পর্যন্ত তাহারা সালাত কায়েম রাখিবে, যাকাত আদায় করিবে, মুশরিকদের সহিত সম্পর্কহীন থাকিবে, জনপথের নিরাপত্তা রক্ষা করিবে এবং নিজেদের মুসলমান হওয়ার সাক্ষ্য বা ঘোষণা দিতে থাকিবে” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮-৯; মাকাতীব, ২খ., পৃ. ৩৫৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 (৯) কায়স ইবন হুসায়ন যুল-গুস্সার নামে প্রদত্ত

📄 (৯) কায়স ইবন হুসায়ন যুল-গুস্সার নামে প্রদত্ত


كتب رسول الله الله لقيس بن الحصين ذي الغصة أمانة لبنى أبيه نبي الحارث ولبنى نهد أن لهم ذمة الله وذمة رسوله لا يحشرون ولا يعشرون ما أقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وفارقوا المشركين وأشهدوا على إسلامهم وأن في أموالهم حقا للمسلمين قال وكان بنو مهد حلفاء نبي الحارث.
"রাসূলুল্লাহ্ কায়স ইন্ন হুসায়ন যুল গুস্সাকে তাঁহার ভ্রাতৃসমাজ বানুল হারিছ এবং বনূ নাহাদের নিরাপত্তা পত্রস্বরূপ লিখেন: তাহাদের জন্য আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের পক্ষ হইতে অভয় রহিল। তাহাদের পশুপালকে যাকাত উশুলের উদ্দেশ্যে (গণনার্থ) একত্র করা হইবে না, তাহাদের নিকট হইতে উশরও আদায় করা হইবে না- যত দিন পর্যন্ত তাহারা সালাত কায়েম করিতে থাকিবে, যাকাত আদায় করিতে থাকিবে, মুশরিকদের নিকট হইতে দূরত্ব রক্ষা করিয়া চলিতে থাকিবে, নিজেদের মুসলিম হওয়ার সাক্ষ্য (ঘোষণা) দিতে থাকিবে এবং তাহাদের ধনসম্পদে
মুসলমানদের হক বা অধিকারের স্বীকৃতি দিতে থাকিবে"। বনূ নাহাদ গোত্র বানুল হারিছ গোত্রের চুক্তিবদ্ধ মিত্র ছিল (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৮)।
যুল-গুস্সা বা ক্রোধপরায়ণ বলিয়া পরিচিতি ছিল কায়সের পিতা হুসায়ন। কেননা রাগান্বিত হইলে তিনি কথা বলিতে পারিতেন না।
বনুল হারিছ ছিল একটি বিশাল গোত্র। উহার ছিল অনেক শাখা-প্রশাখা। ঐ শাখাগুলির মধ্যে রহিয়াছে- (১) বনূ যিয়াদ, (২) বানুদ দায়্যান, (৩) বানুদ দিবায, (৪) বনূ কান্নান প্রভৃতি। নাজরানে তাহাদেরই রাজত্ব ছিল। গোটা আরবকেই তাহারা শাসন করিত। আবদ মুদ্দান ইবনুদ দাইয়ান হইতে য়াযীদ ইব্‌ন আবদে মুদ্দানের যুগ পর্যন্ত তাহাদের রাজত্ব ছিল। নবী কারীম -এর আবির্ভাবের পূর্বেই তাহাদের রাজত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে (মাকাতীবুর রাসূল, ২খ., পৃ. ৩৫৪)।

পরিশিষ্ট
আলোচনার ফলাফল
মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীনের সাহায্যে এ সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি শেষ হল। আলোচনার বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে প্রদান করা হল:
১। তাবীযের ব্যবহার জাহেলী যুগ থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে এবং তাবীজ সম্পর্কে তাদের মধ্যে নানা রকমের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা প্রসিদ্ধ ছিল।
৩। তাবীজ ব্যবহারে 'আকীদাহ- বিশ্বাসে ত্রুটি এবং চিন্ত ধারায় ঈমানের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
৪। ব্যবহারকারী এবং তাবীযের বিষয়বস্তু অবস্থা ভেদে কখন বড় শিরক, আবার কখনও বা ছোট শিরক হয়।
৫। যাদুকর কিংবা উহা সমতুল্য ভণ্ড লোকদের কারণে আজ পর্যন্ত মানব সমাজে তাবীযের ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে।
৬। কল্যাণ বা ক্ষতি সাধন দুর করার জন্য তাবীজ শরীয়ত সম্মত কোন মাধ্যম নয় এবং স্বাভাবিক মাধ্যমও নয়।
৭। সর্বসম্মত মত এই যে, কুরআন ও হাদীছ শরীফের তাবীজ ব্যবহার নিষিদ্ধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00