📄 (১) আওসাজা ইবন হারমালা আল-জুহানীর নামে
كتب رسول الله ﷺ لعوسجة بن حرملة الجهني بسم الله الرحمن الرحيم. هذا ما أعطى الرسول عوسجة ابن حرملة الجهني من ذى المروة أعطاه ما بين بلكثة إلى المصنعة إلى الجفلات إلى الجد جبل القبلة لا يحاقه أحد ومن حاقه فلا حق له وحقه حق وكتب عقبة وشهد.
"জুহায়না গোত্রের 'আওসাজা ইবন হারমালার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ লিখিত লিপির মাধ্যমে যাহা দান করেন তাহা এই রূপ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ইহা হইতেছে রাসূলুল্লাহ ﷺ আওসাজা ইব্ন হারমালা আল-জুহানীকে য-যারওয়া হইতে যাহা দান করিয়াছেন তাহার দলীল। তিনি তাহাকে বাল্কাছা হইতে মাস্না'আ পর্যন্ত এবং সেখান হইতে জাফালাত পর্যন্ত এবং জাফালাত হইতে জাবালুল্ কিল্লার সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমি দান করিয়াছেন। ঐ ভূমিতে কেহ তাহাকে কোনরূপ বাধা দিতে পারিবে না। তাহাকে উহাতে বাধা দেওয়ার অধিকার কাহারও নাই। ঐ ভূমিতে কেবল তাহারই অধিকার থাকিবে। উব্বা এই লিপির লেখক এবং সাক্ষী" (দ্র. তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৭১; মঞ্জুবাতে নববী, পৃ. ২৯৯; মু'জামুল বুলদান, ৪খ., (যাবিয়া ظبية শব্দের আলোচনায়); আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৫খ., পৃ. ৩৫৩)।
📄 (২) বনূ জুরমুয গোত্রের নামে রাসূলুল্লাহ (সা) প্রদত্ত বরাদ্দপত্র
وكتب رسول الله ﷺ لبنى الجرمز بن ربيعة وهم من جهينة أنهم آمنون ببلادهم ولهم ما أسلموا عليه وكتب المغيرة.
উপরোক্ত জুহায়না গোত্রেরই অপর শাখাগোত্র বানু জুরমুযের নামে রাসূলুল্লাহ ﷺ লিখিলেন : বানু জুরমুয ইব্ন রাবী'আ যাহারা জুহায়নারই অন্তর্ভুক্ত।
"তাহারা তাহাদের এলাকায় নিরাপদ থাকিবে। তাহারা যে সমস্ত সম্পদের মালিক থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে ঐগুলি তাহাদেরই মালিকানাধীন থাকিবে। পত্রটি লিখেন মুগীরা" (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৭১)।
📄 (৩) বানুল হারিছ-এর নামে বরাদ্দপত্র
বানুদ্-দিবাব-এর শাখাগোত্র বানুল হারিছ-এর নামে একখণ্ড ভূমি বরাদ্দ দিয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ লিখিলেন:
كتب رسول الله ﷺ لبنى الضباب من بنى الحارث بن كعب ان لهم سارة ورافعها لا يحاقهم فيها احدهم ما اقاموا الصلاة واتوا الزكاة والطاعوا الله ورسوله وفارقوا المشركين وكتب المغيرة.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সারিয়া এবং উহার উঁচু এলাকা বানুল হারিছকে বরাদ্দ করা হইল এই শর্তে যে, তাহারা সালাত কায়েম করিবে, যাকাত দিবে, পৌত্তলিকদের সহিত কোনরূপ সম্পর্ক রাখিবে না, আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের আনুগত্য করিবে। মুগীরা এই বরাদ্দ পত্র লিখিয়া দেন” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৭)।
📄 (৪) বিলাল ইবনুল হারিছ আল-মুযানীর নামে
বিলাল ইবনুল হারিছ ইব্ন আসিম আবূ আবদুর রহমান মুযায়না গোত্রের প্রতিনিধি দলের সহিত পঞ্চম হিজরীর রজব মাসে নবী ﷺ দরবারে মদীনায় আসেন। ঐ প্রতিনিধি দলে চার শতজন লোক ছিল। তাহাদের প্রত্যাবর্তনকালে নবী করীম ﷺ তাহাদেরকে পাথেয় দান করিয়াছিলেন (সীরাত যায়নী দাহলান, হালাবিয়্যার হাশিয়ায়, ৩খ., পৃ. ৪৮)।
তাঁহারা হুনায়ন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর সহিত কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া লড়িয়াছে। মক্কা বিজয়ের দিন খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের দলের অন্যতম পতাকাধারী ছিল এই বিলাল। এইজন্য ইসলামের ইতিহাসে তাঁহার নাম একটি উজ্জ্বল নাম। তাঁহার নামে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর তিন খানা পত্র আমাদের সম্মুখে রহিয়াছে।
بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما اعطى محمد رسول الله بلال وبن الحارث اعطاه من العقيق ما اصلح فيه معتملا وكتب معاوية.
"বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। ইহা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ কর্তৃক বিলাল ইবনুল হারিছকে বরাদ্দ দানের দলীল। তিনি তাহাকে 'আকীক ভূমি দান করিয়াছেন, যতদিন পর্যন্ত তিনি (চাষাবাদ ইত্যাদির মাধ্যমে) উহার সদ্ব্যবহার করিতে থাকিবেন। মু'আবিয়া এই লিপিখানার লেখক” (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৪৭৪)।
যেহেতু রাসূলুল্লাহ ﷺ ভূমির যথোপযুক্ত সদ্ব্যব্যহারের শর্তারোপ করিয়াছিলেন আর একা হারিছ-তনয় বিলালের পক্ষে এত বিশাল ভূমি আবাদ করা বা ইহার যথোপযুক্ত সদ্ব্যব্যহার করা সম্ভব হয় নাই, তাই পরবর্তী কালে আমীরুল মুমিনীন ও খালীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমার (রা) তাঁহাকে ডাকিয়া বলেন:
لقد علمت ان رسول الله ﷺ لم يكن يمنع شيئا سئلة وانك سئلته ان يعطيك العقيق فاعطاكه فالناس يؤمئذ قليل لا حاجة لهم وقد كثر اهل الاسلام واحتاجوا اليه فانظر ما ظننت انك تقوى عليه فاسكه واردد الينا ما بقى نقطعه.
"আমি এই ব্যাপারে সম্যক অবগত আছি যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর নিকট কেহ কোন বস্তু চাহিলে তাহাকে তাহা না দিয়া থাকিতে পারিতেন না। তুমি তাঁহার নিকট আকীক দানের জন্য
অনুরোধ করিয়াছ, তিনি তোমাকে তাহা দানও করিয়াছেন। তখনকার দিনে লোকসংখ্যাও কম ছিল। তাহাদের উহার কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এখন মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়াছে। তাহাদের এখন এই ভূমির প্রয়োজন। তুমি ভাবিয়া দেখ, তুমি উহার কতটুকু আবাদ করার সামর্থ্য রাখ। সেইটুকু রাখিয়া অবশিষ্টটুকু আমাদের (অর্থাৎ রাষ্ট্রের) নিকট ফেরত দাও, আমরা উহা লোকদের নামে বরাদ্দ করিব"। ইতিহাসে পাওয়া যায়:
فابي بلال فترك عمر بيد بلال بعضه واقطع ما بقى للناس. "বিলাল হযরত উমারের এই প্রস্তাব মানিয়া লইতে রাজী হন নাই। অগত্যা হযরত উমার বিলালের নিকট কিছু অংশ রাখিয়া অবশিষ্ট ভূমি লোকজনের নামে বরাদ্দ দিয়া দেন” (প্রাগুক্ত)।
পত্রখানি হযরত মুআবিয়া কর্তৃক লিখিত হওয়ায় সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাইতেছে যে, বিলালকে এই বরাদ্দ পত্রখানা মক্কা বিজয়ের পরেই দেওয়া হইয়াছিল। কারণ মুআবিয়া উহার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন নাই বা রাসূলুল্লাহ্ -এর কাতিবের পদেও আসীন হন নাই।
بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما اعطى محمد رسول الله ﷺ بلال بن الحارث المزني اعطاه معادن القبلية غوريها وجلسيها غشية وذات النصب) وحيث يصلح للزرع من قدس ان كان صادقا ولم يعطه حق سلم وكتب ابي. "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ যাহা বিলাল ইবনুল হারিছকে দান করিয়াছেন ইহা হইতেছে তাহার বরাদ্দ পত্র। তিনি তাহাকে দান করিয়াছেন কাবালিয়্যার উঁচু ও নীচু জমিসমূহে অবস্থিত খনিসমূহ (গাশিয়্যা ও যাতুন নাসাব), আর কুদ্স্স এলাকার আবাদযোগ্য জমিসমূহ যদি সে সনিষ্ঠ হয়। তিনি তাহাকে কোন মুসলমানের হক দান করেন নাই। পত্রটির লেখক উবায়্যি।
উক্ত বরাদ্দপত্রে উল্লিখিত 'কাবালিয়্যা' স্থানটি সম্পর্কে বিভিন্ন উক্তি পাওয়া যায়।
قال عياض وتبعه المجدهى من نواحي الفرع وفى النهاية هي ناحية من ساحل البحر بينها وبين المدينة خمسة ايام وقيل هي من ناحية الفرع وهو موضع بين نخلة والمدينة وقال الزمخشرى القبلية سراة فيما بين المدينة وينبع ما سال منها الى ينبع سمى بالغور وما سال منها الى المدينة سمى بالقبلية وحرها . "ইয়াদ এবং তাঁহার অনুসরণে মুজদাহী বলেন, উহা ফার'-এর আশে-পাশের এলাকা। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে আছে, উহা হইতেছে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা- যাহা মদীনা হইতে পাঁচ দিনের দূরত্বে অবস্থিত। কেহ কেহ বলিয়াছেন, উহা আল-ফার' অঞ্চলে অবস্থিত নাখলা ও মদীনার মধ্যবর্তী। যামাখশারী বলেন, কাবালিয়্যা হইতেছে মদীনা ও ইয়াম্বুর মধ্যবর্তী পর্বতশ্রেণী। ইয়াম্বুর দিকে যে পর্বতমালা চলিয়া গিয়াছে উহা গূর (غور) নামে পরিচিত, আর যাহা মদীনার দিকে চলিয়া গিয়াছে উহার নাম কাবালিয়্যা" (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৪৭৭)।
وكتب رسول الله الله لبلال بن الحارث المزنى أن له النخل وجزعة شطره ذا المزارع والنخل وأن له ما أصلح به الزرع من قدس وأن له المضة والجزع والغيلة إن كان صادقا وكتب معاوية.
"রাসূলুল্লাহ্ বিলাল ইবনুল হারিছ আল-মুযানীকে লিখেন, নাখল, জাযা'আঃ আবাদযোগ্য জমি এবং কাদাস-এর কর্ষ যোগ্য ভূ-সম্পদ দান করিয়াছেন। মাদ্দা, জাযা' এবং গায়লাও তাহারই থাকিবে- যদি সে ইসলামের ব্যাপারে সনিষ্ঠ থাকে। লিপিটির লেখক মু'আবিয়া” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৭২০)।