📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আত্তাব ইবন উসায়দ (রা)-এর নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র

📄 আত্তাব ইবন উসায়দ (রা)-এর নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র


يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ أَن رضوا والا فأذنهم بحرب.
"হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের যাহা বকেয়া আছে তাহা ছাড়িয়া দাও, যদি তোমরা মুমিন হইয়া থাক। তাহারা সম্মত হইলে তো ভাল, অন্যথায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও” (দূররে মানছুর, ১খ., পৃ. ৩৬৬)।
উক্ত পুত্রখানা মূলত আল-কুরআনের ২৭৮ ও ২৭৯ নং আয়াতদ্বয়ের বক্তব্য, ঈষৎ শাব্দিক পার্থক্য রহিয়াছে। পত্রে উল্লিখিত ان رضوا والا فاذنهم بحرب অংশটুকুর বক্তব্য আয়াতে আছে এইরূপ:
فَإِنْ لَّمْ تَفْعَلُوا فَأَذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُوْلِهِ.
"যদি তোমরা তাহা না কর (সূদ না ছাড়) তবে আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের সহিত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।"
আয়াতের শেষাংশে আছে:
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ.
"কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। ইহাতে তোমরা অত্যাচার করিবে না, আবার অত্যাচারিতও হইবে না"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পত্রের প্রেক্ষাপট

📄 পত্রের প্রেক্ষাপট


তাফসীরে মা'আরিফুল কুরআনে মুফতী মুহাম্মাদ শফী' (র) এই সম্পর্কে যে বিস্তারিত আলোচনা করিয়াছেন উক্ত পত্রের প্রেক্ষাপটস্বরূপ নিম্নে তাহার কিয়দংশ পাঠকবর্গের অবগতির
জন্য উদ্ধৃত করা হইল: “সূদ হারাম হওয়া সংক্রান্ত বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে আরবে ব্যাপকভাবে সূদী কারবারের প্রচলন ছিল। সূদের নিষেধাজ্ঞা নাযিল হইলে মুসলমানগণ যথারীতি সূদের কারবার ত্যাগ করেন। বনূ মাখযূম ও বনূ ছাকীফের মধ্যে পরস্পর যে সূদের কারবার ছিল বনূ মাখযূম গোত্রের ইসলাম গ্রহণের পর তাহারা সূদের দেনা পরিশোধকে অবৈধ জ্ঞান করে, কিন্তু বনূ ছাকীফ গোত্রীয়গণ তাহাদের প্রাপ্য সূদের দাবি ছাড়িতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ তাহারা তখনও মুসলমান ছিল না, অবশ্য মুসলমানদের সহিত শান্তিচুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। বনূ মাখযূম সম্প্রদায়ের বক্তব্য ছিল, মুসলমান হওয়ার পর ধর্মের বিধান লঙ্ঘন করিয়া আমরা আমাদের বৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ হইতে অবৈধ সূদ পরিশোধ করিতে পারিব না।
এই মতবিরোধের ঘটনাস্থল ছিল মক্কা মুকাররামা। তখন মক্কা বিজিত হইয়াছিল। রাসূলুল্লাহ্ -এর পক্ষ হইতে মক্কার প্রশাসক ছিলেন আত্তাব ইবন উসায়দ (রা), মতান্তরে মু'আয (রা)। তিনি এই ব্যাপারে নির্দেশ লাভের জন্য রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট পত্র লিখেন। ইহার প্রেক্ষিতেই আল-কুরআনের সূদের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত উক্ত আয়াতসমূহ নাযিল হয়। ইহার সারকথা ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর সূদের পূর্ববর্তী সকল লেনদেন অবিলম্বে মওকুফ করিয়া দিতে হইবে। অতীত সূদ গ্রহণ না করিয়া শুধু মূলধন আদায় করিতে হইবে।
উক্ত ইসলামী আইন কার্যকর হইলে মুসলমানরা তো তাহা মানিতে বাধ্য ছিলই, শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়া যাহারা ইসলামী আইনের প্রাধান্য স্বীকার করিয়া লইয়াছিল, তাহারাও সেই আইন মানিয়া লইতে বাধ্য ছিল। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ্ যখন বিদায় হজ্জের দিন প্রদত্ত তাঁহার ঐতিহাসিক ভাষণে পুনর্বার উক্ত আইন ঘোষণা করিলেন তখন এই কথাও প্রকাশ করিলেন যে, এই আইন ব্যক্তিবিশেষ, সম্প্রদায় বিশেষ কিংবা মুসলমানদের আর্থিক স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য করিয়া নহে, বরং সমগ্র মানবজাতির উন্নতি ও কল্যাণের স্বার্থেই প্রবর্তন করা হইয়াছে। তাই আমি সর্বপ্রথম অমুসলিমদের কাছে মুসলমানদের আমার সর্বঘনিষ্ঠ আত্মীয়-পরিজনদের প্রাপ্য বিরাট অঙ্কের সূদের বকেয়া মওকুফ করিয়া দিলাম। এখন অন্যদেরও বকেয়া সূদের দাবি নির্দেশটি পালন কষ্টসাধ্য ছিল বিধায় নির্দেশের পূর্বে اِتقوا الله (আল্লাহকে ভয় কর) এবং পরে إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (যদি তোমরা মু'মিন হইয়া থাক) যুক্ত করা হইয়াছে। তারপর পরবর্তী আয়াতে এই নির্দেশ অমান্যকারীদেরকে কঠোর শাস্তির কথা শুনান হইয়াছে। অর্থাৎ তোমরা যদি সূদ পরিহার না কর তবে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূলের পক্ষ হইতে যুদ্ধের ঘোষণা শুনিয়া লও। কুফর ব্যতীত অন্য কোন জঘন্য গোনার কারণে আল-কুরআনে এতবড় কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয় নাই। এই আয়াতের শেষে বলা হইয়াছে:
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ.
"যদি তোমরা তওবা করিয়া ভবিষ্যতের জন্য বকেয়া সূদের দাবি পরিত্যাগে কৃতসঙ্কল্প হও, তবে তোমরা আসল মূলধন ফেরত পাইবে। মূলের অতিরিক্ত আদায় করিয়া তোমরা কাহারও উপর জুলুম করিতে পার না এবং কেহ মূলধনের চেয়ে কম দিয়া বা পরিশোধ বিলম্বিত করিয়া তোমাদের উপরও জুলুম করিতে পারিবে না।"
আয়াতে মূলধন প্রাপ্তিকে তওবার সহিত শর্তযুক্ত করা হইয়াছে। অর্থাৎ যদি তোমরা তওবা কর এবং ভবিষ্যতে সূদ ছাড়িয়া দিতে কৃতসংকল্প হও, তবেই তোমরা মূলধন ফেরত
পাইবে। ইহা হইতে স্পষ্টত ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সূদ পরিত্যাগের সংকল্প ঘোষণা করিয়া তওবা না করিলে মূলধনও ফেরত পাইবে না (তাফসীর মা'আরিফুল কুরআন, সূরা বাকারার ২৭৮-২৭৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গ, সংক্ষিপ্ত সৌদী সং., পৃ. ১৫১-২; মওলানা মহীউদ্দিন খান অনূদিত)।
সীরাত ইব্‌ন হিশামের বর্ণনা হইতে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ্ মক্কা হইতে মদীনায় প্রত্যাবর্তনকালে মু'আয (রা)-কে ধর্ম শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে এবং আত্তাব ইব্‌ন উসায়দকে মক্কার প্রশাসকরূপে রাখিয়া যান। আত্তাব (রা) রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর ইনতিকাল অবধি সেখানেই নিযুক্ত ছিলেন। হযরত আবূ বকর (রা)-এর ইনতিকালের দিন তিনি ইনতিকাল করেন (ইব্‌ন হিশাম, ৪খ., পৃ.৬৯ এবং ১৪৮; আল-ইসাবা, ২খ., নং-৫৩৯৩; উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ৩৫৮; ফুতুহুল বুলদান, পৃ. ৫৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 চাচা আব্বাস ইব্‌ন আবদিল মুত্তালিব (রা)-কে লিখিত রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র

📄 চাচা আব্বাস ইব্‌ন আবদিল মুত্তালিব (রা)-কে লিখিত রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র


তিনি হিজরতের আদেশ প্রার্থনা করিয়া রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট পত্র লিখিলে জবাবে তিনি লিখেন:
اقم في مكانك يا عم الذي انت به فان الله ختم بك الهجرة كما ختم بي النبوة.
"হে পিতৃব্য! আপনি যে স্থানে আছেন সেখানেই অবস্থান করুন। কেননা আল্লাহ তা'আলা আপনার মাধ্যমে হিজরতের পরিসমাপ্তি ঘটাইবেন যেমন ঘটাইয়াছেন আমার দ্বারা নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি" (কানযুল উম্মাল, ৭খ., পৃ. ৬৯; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৬১৬-৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সাহাবী আবূ দুজানা (রা)-এর প্রযত্নে জিনদের নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র

📄 সাহাবী আবূ দুজানা (রা)-এর প্রযত্নে জিনদের নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র


সাহাবী আবূ দুজানা (রা) বর্ণনা করেন, একদা রাত্রিকালে শয্যাগ্রহণমাত্র আমি একটি বিভীষিকাপূর্ণ আওয়ায শুনিতে পাইলাম। সাথে সাথে বিদ্যুতের চমকের মত একটি চমকও আমার দৃষ্টিগোচর হইল। ঘরের বাহিরে তাকাইতেই ঘরের আঙিনায় ছায়ার মত কী যেন একটা নড়াচড়া করিতেছে দেখিতে পাইলাম। আমি সেইদিকে অগ্রসর হইতেই আগুনের একটা হল্কা আমার দিকে আগাইয়া আসিতে লাগিল। আমার ভয় হইতে লাগিল যে, এই অগ্নিপিণ্ড আমাকে না পোড়াইয়া ফেলে। পরদিন প্রত্যুষে রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করিলে তিনি বলিলেন, ইহা হয়ত কোন জিনের কাণ্ড। সাথে সাথে তিনি দোয়াত-কলম আনাইয়া হযরত আলী (রা)-কে দিয়া নিম্নরূপ পত্র লিখাইয়া দিলেন:
بسم الله الرحمن الرحيم. هذا كتاب من محمد النبى رسول الله رب العالمين الى من طرق الدار والعمار والزوار الاطارق يطرق بخير اما بعد فان لنا ولكم في الحق سعة فان تك عاشقا مولعا ، أو فاجزا مقتحما فهذا كتاب الله ينطق علينا وعليكم بالحق انا كنا نستنسخ ما كنتم تعملون ورسلنا يكتبون ما تمكرون اتركوا صاحب كتابي هذا وانطلقوا الى عبدة الاصنام والى من يزعم أن مع الله الها آخر لا اله الا هو كل شيء هالك الا وجهه له الحكم واليه ترجعون حم لا ينصرون حمعسق تفرقت
আেعداء الله وبلغت حجة الله ولا حول ولا قوة الا بالله العلى العظيم فسيكفيكهم الله وهو السميع العليم.
"পরম করুণাময় ও পরম দয়াময় আল্লাহর নামে। বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের রাসূল নবী মুহাম্মাদের পক্ষ হইতে ঐ সত্তার প্রতি যে নিশীথ রাত্রে হানা দিয়াছিল, ঐ ঘরে বসবাসকারীই হউক বা ঘন ঘন যাতায়াতকারীই হউক, তবে মঙ্গলসহ আগমনকারীর প্রতি নহে। পর সমাচার এই যে, আমাদের ও তোমাদের মধ্যকার হক বা অধিকারের বিস্তৃতির অবকাশ রহিয়াছে। যদি তুমি কাহারও প্রেমে পড়িয়া পাগলপারা হইয়া থাক এবং হক ও বাতিলের মধ্যকার পার্থক্যবোধ রহিত ফাসিক হওয়ার কারণে বল প্রয়োগের প্রয়াসী হইয়া থাক এবং হককে বাতিল বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করিতে উদ্যত হইয়া থাক তাহা হইলে তোমার জ্ঞাত থাকা উচিত যে, আল্লাহ্ কিতাব তোমাদের মধ্যে সঠিক ফয়সালা দানকারী। (আল্লাহ্ তা'আলার বাণী) "এই আমার লিপি, ইহা তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে সত্যভাবে। তোমরা যাহা করিতে তাহা আমি লিপিবদ্ধ করিয়াছি” (৪৫ : ২৯)। “তোমরা যে অপকৌশল কর তাহা অবশ্যই আমার ফেরেশতাগণ লিখিয়া রাখে” (১০ঃ ২১)।
সুতরাং যাহার নিকট আমার এই লিপিখানা রহিয়াছে তাহাকে ছাড়িয়া দাও এবং মূর্তি পূজারীদের নিকট চলিয়া যাও যাহারা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যদেরকে তাঁহার সহিত ইলাহ বলিয়া ধারণা করিয়া থাকে। “তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। আল্লাহ্র সত্তা ছাড়া সবকিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁহারই এবং তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে" (২৮ : ৮৮)। তোমরা পরাস্ত হইবে। হা-মীম। তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে না। হা-মীম 'আইন সীন কাফ। আল্লাহ্র শত্রুরা ছত্রভঙ্গ হউক। আল্লাহ্র দলীল পূর্ণ হইয়াছে (তাঁহার প্রমাণ পৌছিয়া গিয়াছে)। আল্লাহ্ ব্যতীত আর কাহারও শক্তি সামর্থ নাই। আল্লাহই তোমার (হিফাযতের) জন্য যথেষ্ট। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। সীলমোহর (মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্)"।
আবু দুজানা (রা) বর্ণনা করেন, রাত্রিবেলা আমি এই লিপিখানা বালিশের নিচে রাখিয়া শুইয়া পড়িলাম। গভীর রাত্রিতে একটি আওয়ায আমার কানে ভাসিয়া আসিল— হে আবূ দুজানা! লাত ও উয্যা দেবীর কসম, তুমি তো আমাদেরকে পোড়াইয়া ফেলিতেছ। এই লিপিখানা যদি তুমি তোমার বালিশের নীচ হইতে বাহির করিয়া ফেল তবে ঐ লিপি প্রদানকারী সত্তার কসম, আমরা কস্মিনকালেও তোমার গৃহে বা তোমার প্রতিবেশীদের গৃহসমূহে আসিব না।
আবূ দুজানা (রা) বলেন, প্রাতে আমি নবী দরবারে উপনীত হইয়া সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিলে তিনি বলিলেনঃ হে আবূ দুজানা! তুমি ঐ লিপিখানা বাহির করিয়া ফেলিবে। নতুবা ঐ পবিত্র সত্তার কসম যিনি আমাকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছেন, জিন সম্প্রদায় কিয়ামত পর্যন্ত যন্ত্রণা ভোগ করিতে থাকিবে (সুয়ূতী, খাসাইসুল কুবরা, ২খ., পৃ. ৯৮-৯; মাজলিসী কৃত আল-বিহার, ১৪খ., পৃ. ৫৯৭; হায়াওয়ান, ১৯খ., পৃ. ৪৪০ এবং বায়হাকীর দালাইলুন নুবৃওয়াত গ্রন্থের বরাতে, ৬খ., পৃ. ২৮৮; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৬২৯-৩০)।
'মাকাতীবুর রাসূল'-এর লেখক বলেন, "মাজমূ'আতুল ওয়াছাইকের" ৩৯৭তম পৃষ্ঠায় নবী কারীম-এর একখানা পত্র- যাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখিত, ব্রুসার গ্রন্থাগারে রক্ষিত একখানা হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (٦٤٦٢ (قسم اولو جامع رقم , প্লেট নং ৬৭ ও ৬৮ হইতে
উদ্ধৃত করা হইয়াছে। আমার মনে হয়, উহা উক্ত পত্রখানারই বিবরণ হইবে।” সেই উদ্ধৃত পত্রখানি নিম্নরূপ:
الحمد لله الذي جعل الظلمات والنور ثم الذين كفروا بربهم يعدلون. هذا كتاب من محمد رسول الله ﷺ النبى الأمى المكي المدني التهامي الحجازي الابطحى صاحب القضيب والناقة والتاج والكرامة صاحب شهادة لا اله الا الله وأن محمدا رسول الله الى متطرف (متصرف) الدار والديار والزوار والعمار الاطارقا يطرق بخير. اما بعد فان لنا ولكم في الحق سعة فان يكن طارقا موليا او مؤذيا او خدعمنا حقا او باطلا او مؤذيا أو مقتحما فاتركوا حملة القرآن وانطلقوا الى عبدة الأوثان يرسل عليكما شواظ من نار ونحاس فلا تنتصران بسم الله الرحمن الرحيم باسم الله وبالله ولا غالب الا الله ولا احد مثل الله ولا شيء سوى الله وبسم الله استفتح وعلى الله توكل
حامل كتابي هذا فى امان الله وفى حفظه وفي كنفه وفي ستره این ما كان وحيث ما توجه لا تقربوه ولا تفزعوه ولا تضاروه قائما وقاعدا ونائما ولا في الأكل والشرب ولا في الليل والنهار ولا في يوم ولا في نهار (كذا) ولا فی بر ولا في بحر وكلما سمعتم صوت حامل كتابي بالف (بأن) لا حول ولا قوة الا بالله فادبروا عنه بلا اله الا الله محمد رسول الله بالله الذي هو غالب ( على ) كل شيء وهى اعلى من كل شيء وهى على كل شيء قدير وبمحمد رسول الله النبي الامى المبعوث الى الثقلين اللهم احفظ حامل كتابي هذا بل من علق عليه هذا (هذه) الاسماء بالاسم الذي هو مكتوب على سرادقات العرش انه لا اله الا الله محمد رسول الله هو الغالب لذى (كذا ) لا يغلبه شيء ولا ينجو منه هارب فاعيذه بالحى الذى لا يموت (و) بالعين الذي (التي) لا تنام والعرش الذي لا يتحرك والكرسى الذى لا يزول وبالاسم الذي هو مكتوب في اللوح المحفوظ وبالاسم الذي هو مكتوب في القرآن العظيم (و) بالاسم الذي حمل به عرش بلقیس الی سلیمان ابن (كدا) دأود قبل ان يرتد اليه طرفه وبالاسم الذي نزل به جبرائيل على النبي ﷺ في يوم الاثنين وبالاسم الذي هو مكتوب في قلب الشمس واعيذه بالاسم الذي سراه به السحاب الثقال ويسبح الرعد بحمده والملائكة من خيفته وبالاسم الذي تجلا به الرب عز وجل لموسى ابن
(كذا) عمران فخر موسى صعقا وبالاسم الذي كتب به على ورق الزيتون والقى في النار فلم يحترق وبالاسم (الذى) مشى به الخضر عليه السلام على بالماء فلم يبتل قدماه وبالاسم الذي نطق به عيسى وهوا بن مريم في المهد صبيا وابرىء الاكمه والابرص باذن الله واحى الموتى باذن الله وبالاسم الذي نجا به يوسف من الجب وبالاسم الذي نجا به ابراهيم من نار نمرود حين القي في النار وبالاسم الذي نجا به يونس من بطن الحوت وبالاسم الذي فلق به البحر لموسى بن عمران وجعل كل فرق كالطود العظيم واعيذه بالتسع آيات الذي (التي) نزلت على موسى ابن (كذا) عمران بطور سينان (كذا) واعيذه من كل عين ناظرة وكل اذن سامعة والسن ناطقة وايد باشطة (باطشة) وقلوب واعية في صدور خاوية وانفس كافرة وممن كل ومن كل من يعمل عمل السوء ومن سوء شر التوابع والسحرة ومن في الجبال والارض والخراب والعمران وساكن الاجام وسان البحار وساكن صيق الظلم وأعيذه من شر الشياطين وجنودهم ومن شر كل غول وغولة وساحر وساحرة وساكن وساكنة وتابع تابعة ومن شرهم وشر ابائهم وأمهاتهم وابنائهم وبناتهم وخوالهم وعماتهم وخالاتهم وقرائبهم ومن شر الموارد والمحرة والطيارات ومن شرساكن الجبال والتراب. والعمران والرياض والخراب ومن شر من فى البر والبحر والجبال ومن يسكن في الظلمات ومن شر من يسكن في العيون ومن مشى فى الاسواق ويكون مع الدواب والمواشى والوحوش ويسترق السمع ومن اذا قيل لا اله الا الله يذوب كما يذوب الرصاص والحديد على النار ومن شر ما يكون في الارحام والالحام والاجام ومن شر ما يوسوس في صدور الناس من الجن والناس واعيذه من الخطر والنظر والكبر هيا شر هيتا مهلا الله هو اجل واعز واقدر من الجنة والناس واعيذه من كل عين باغية واذن سامعة ومن شر الداخل والخارج ومن شر عفاريت الجن والانس ومن شر كل ذى شر من كل غادوراع ومن شر ساكن الرياح من عجمى وفصيح ونائم ويقظان واعيده من شر من تنظر اليه الابصار وتضم اليه القلوب ومن شر ساكن الارض وساكن الزوايا ومن شر من يصنع الخطيئة ويولع بها ومن شر ما تنظر اليه الابصار واعيذه من شر ابليس وجنوده ومن الشياطين।
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সকল প্রশংসা আল্লাহ্র যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন অন্ধকাররাশি ও আলো, এতদসত্ত্বেও কাফিররা তাহাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ দাঁড় করাইয়া থাকে (৬:১
আংশিক)। ইহা হইতেছে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ আল-উম্মী, আল-মাক্কী, আল-মাদানী, আত-তিহামী, আল-হিজাযী, আল-আবতাহী নবী, যিনি যষ্ঠিধারী ও উটনীওয়ালা, মুকুট এবং সম্ভ্রম ও কৌলিণ্যের অধিকারী, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ কলেমার সাক্ষ্যের অধিকারী— তাঁহার পক্ষ হইতে বাড়ি ও বাড়িসমূহে সেই সীমা লঙ্ঘনকারীর প্রতি যে ঘন ঘন যাতায়াত করে, বসবাস করে, তবে মঙ্গলসহ রাত্রে আগমনকারীর প্রতি নহে।
"অতঃপর সমাচার— আমাদের ও তোমাদের মধ্যকার অধিকারের বিস্তৃতির অবকাশ রহিয়াছে। যদি সে অনিষ্টকর আগমনকারী হইয়া থাকে অথবা হক ও বাতিলের ব্যাপারে আমাদেরকে প্রতারণাকারী, অনিষ্টকর ও আমাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টিকারী হইয়া থাকে (তাহা হইলে আমার নির্দেশ) তোমরা কুরআনধারীদেরকে পরিত্যাগ কর এবং মূর্তি পূজারীদের নিকট চলিয়া যাও”। “তোমাদের প্রতি প্রেরিত হইবে অগ্নিশিখা ও ধূম্রপুঞ্জ, তখন তোমরা প্রতিরোধ করিত্বে পারিবে না" (৫৫: ৩৫)।
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ ব্যতীত কোন বিজয়ী বা প্রবলতর সত্তা নাই। আল্লাহর সমকক্ষ কেহ নাই। আল্লাহ ব্যতীত কিছুই নাই। আল্লাহ্ নামে শুরু করিতেছি এবং আল্লাহ্র উপরই নির্ভর করিতেছি। আমার এই পত্রের বাহক আল্লাহর নিরাপত্তায়, তদীয় হিফাযতে, তাঁহার আশ্রয়ে, তাঁহারই আবরণের মধ্যে, সে যেখানেই থাকুক বা যে দিকেই মুখ করিয়া থাকুক। তোমরা তাহার পাশেও ঘেঁষিবে না, তাহাকে ভয় প্রদর্শন করিবে না' এবং তাহার অনিষ্ট করিবে না— দণ্ডায়মান অবস্থায় বা উপবিষ্ট অবস্থায় বা নিদ্রিত অবস্থায়, না খাওয়ায় না পানে, না দিবাভাগে, না রাত্রিবেলায়, না স্থলে না জলে। যখনই তোমরা আমার এই পত্রের বাহককে 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' পাঠ করিতে শুনিবে তখনই তোমরা তাহার নিকট হইতে পশ্চাদপসরণ করিবে। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ ও সেই আল্লাহর খাতিরে যিনি সবকিছুর উপর কর্তৃত্বশালী, দাপটের অধিকারী, আর তাহা (আল্লাহ্র কর্তৃত্ব ও দাপট) সব কিছুর উপর শক্তিমান এবং সর্বব্যাপারে সক্ষম। আল্লাহর রাসূল এবং মানব ও জিন উভয় সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত নিরক্ষর নবীর খাতিরে।
“হে আল্লাহ! এই পত্রের বাহকের হিফাযত করুন। বরং যাহার সহিত ঝুলাইয়া দেওয়া হইয়াছে এই পবিত্র নামসমূহ সেই পবিত্র নামের খাতিরে যাহা লিখিত রহিয়াছে আরশের চাঁদোয়ায় তাহা হইতেছে— লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্। তিনিই সেই মহিমান্বিত বিজয়ী যাঁহার উপর কেহই বিজয়ী হইতে পারে না। কোন পলাতক তাঁহার নিকট হইতে পালাইয়া বাঁচিতে পারে না। আমি তাঁহাকে শরণে দিতেছি সেই চিরঞ্জীব সত্তার যাঁহার মৃত্যু নাই, সেই চক্ষুর যাঁহার নিদ্রা নাই, সেই আরশের যাহা বিচলিত হয় না এবং সেই কুরসী বা সিংহাসনের যাহার পতন নাই এবং সেই পবিত্র নামের যাহা লাওহে মাহফুযে লিখিত, সেই পবিত্র নাম মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে লিখিত, সেই পবিত্র নামে যাহা দ্বারা বিলকীস রাণীর সিংহাসন দাউদ পুত্র সুলায়মান (আ)-এর নিকট চক্ষুর পলক মারিবার পূর্বেই উঠাইয়া লইয়া যাওয়া হইয়াছিল, সেই পবিত্র নাম যাহাসহ জিবরাঈল সোমবারে নবী কারীম ﷺ-এর নিকট আসিয়াছিলেন, সেই পবিত্র নাম যাহা সূর্যের হৃদয়ে অঙ্কিত রহিয়াছে। আমি তাঁহাকে শরণে দিতেছি সেই পবিত্র নামের যাঁহাকে ভারী মেঘমালা আবৃত (গোপন) করিয়া রাখিয়াছে, বজ্র যাঁহার প্রশংসা কীর্তন করে, ফেরেশতাগণ যাঁহার ভয়ে কাঁপে,
সেই পবিত্র নামের যাঁহার তাজাল্লী বা অভিব্যক্তি ঘটাইয়াছিলেন প্রতিপালক মূসা ইব্‌ন ইমরানের জন্য এবং সাথে সাথে মূসা বেহুঁশ হইয়া পড়িয়া গিয়াছিলেন এবং সেই পবিত্র নামের যাহা যায়তুন পত্রে লিখিয়া অগ্নিতে নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও তাহা পুড়ে নাই এবং সেই পবিত্র নামের যাহাসহ খিযির আলায়হিস্ সালাম পানির উপর হাঁটিয়াছিলেন কিন্তু তাঁহার চরণ যুগল ভিজে নাই, সেই পবিত্র নামের যাহা দ্বারা ঈসা ইবন মারয়াম মাতৃকোলে কথা বলিয়াছিলেন। শ্বেতকুষ্ঠগ্রস্থ লোককে তিনি আল্লাহ্র আদেশে নিরাময় করিয়াছিলেন এবং মৃত ব্যক্তিকে আল্লাহ্র আদেশে জীবিত করিয়া তুলিয়াছিলেন এবং সেই পবিত্র নামের যাঁহার দ্বারা ইউসুফ (আ) কূপ হইতে নিষ্কৃতি লাভ করিয়াছিলেন, সেই পবিত্র নামের যাঁহার দ্বারা ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম নমরুদের অগ্নিকুণ্ড হইতে মুক্তিলাভ করিয়াছিলেন যখন সে তাঁহাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিয়াছিল, সেই পবিত্র নামের যাঁহার বদৌলতে ইউনুস (আ) মাছের পেট হইতে মুক্তিলাভ করিয়াছিলেন, সেই পবিত্র নামের যাঁহার বদৌলতে সাগর মূসা ইবন ইমরান (আ)-এর জন্য খণ্ডিত হইয়াছিল এবং (দ্বিখণ্ডিত) প্রত্যেক অংশকে এক একটি বিশাল পাহাড়ের মত করিয়া দিয়াছিলেন।
আমি তাঁহাকে শরণে দিতেছি সেই নয়টি আয়াতের বদৌলতে যাহা মূসা ইবন ইমরান (আ)-এর উপর নাযিল হইয়াছিল তূর পাহাড়ে, আমি তাঁহাকে শরণে দিতেছি প্রত্যেক দর্শনকারী চক্ষু হইতে, প্রত্যেক শ্রবণকারী কর্ণ হইতে, প্রত্যেক কথা বলা রসনা হইতে, প্রত্যেক স্পর্শকারী হাত হইতে, শূণ্যবক্ষে বিরাজমান সংরক্ষণকারী হৃদয়সমূহ হইতে এবং প্রত্যেক অগ্রাহ্যকারী (কাফির) সত্তা হইতে, প্রত্যেক অনিষ্টকারীর প্রত্যেক অনিষ্টকর কার্য হইতে, প্রত্যেক গ্রহের ও যাদুকরের অনিষ্ট হইতে, পাহাড়-পর্বতে ও সমভূমিতে, পরিত্যক্ত ও আবাদ বসতিতে যাহারা রহিয়াছে তাহাদের অনিষ্ট হইতে, জঙ্গলে, সাগরে, সংকীর্ণ ও অন্ধকার স্থানসমূহে যাহারা রহিয়াছে তাহাদের অনিষ্ট হইতে।
আমি তাঁহাকে শরণে দিতেছি শয়তানসমূহ এবং তাহাদের বাহিনীসমূহের অনিষ্ট হইতে, প্রত্যেক দানব-দানবীর, যাদুরত যাদুকরীর অনিষ্ট হইতে, প্রত্যেক অনড় বস্তুর অনিষ্ট হইতে, প্রত্যেক গ্রহ-উপগ্রহের অনিষ্ট হইতে, ঐ সমস্ত অনিষ্টকারী সত্তাসমূহের পিতৃকুল, মাতৃকুল, পুত্রকূল, কন্যাকুল, খালা-খালুকুল, পিতৃব্যকুল এবং সমস্ত আত্মীয়-পরিজনের অনিষ্ট হইতে, তাহাদের সকল ঘাঁটি ও সকল কঙ্করময় স্থানে অবতরণকারী ও উড়ন্তদের অনিষ্ট হইতে, সকল পাহাড়বাসী, গর্তবাসী, আবাদ এলাকাবাসী, উদ্যানবাসী, ধ্বংসাবশেষবাসী, তাহাদের জল-স্থল ও পর্বতবাসী, তাহাদের প্রত্যেক অন্ধকারবাসী, ঝর্ণাবাসী, বাজারসমূহে চলাচলকারী, যাহারা প্রাণীকুল ও পশুকূল ও বন্যপশুদের সহিত অবস্থান করে তাহাদের অনিষ্ট হইতে, যাহারা আড়ি পাতিয়া গোপন কথাবার্তা শুনে, সেই সকল সত্তার অনিষ্ট হইতে যাহারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলিলে লৌহ ও শীসার অগ্নিতে গলিয়া যাওয়ার মত গলিয়া যায় এবং সেই সকল অনিষ্ট হইতে যাহা জরায়ুতে, গোশতে ও বনে জঙ্গলে নিহিত থাকে এবং সেই সবের অনিষ্ট হইতে জিন ও মানবজাতির মধ্যকার যাহারা মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
আমি তাহাকে শরণে দিতেছি সকল সঙ্কট হইতে, কুদৃষ্টি হইতে, আত্মম্ভরিতা হইতে, হে অমঙ্গল ধীরে। আল্লাহ্, তিনিই সর্বাধিক মহিমান্বিত, সর্বাধিক সম্মানিত, সর্বাধিক মর্যাদাশীল দানব ও মানবের চেয়ে। আমি তাঁহাকে শরণে দিতেছি সকল উদ্ধত চক্ষু হইতে, শ্রবণশীল কর্ণ হইতে, অভ্যন্তরীণ ও বহিস্থ তাবত অনিষ্ট হইতে, দানব ও মানবজাতির তাবত শয়তান হইতে, সকল অনিষ্টকর সত্তার অনিষ্ট হইতে, প্রত্যেক প্রত্যুষে আগমনকারী ও
তত্ত্বাবধানকারীর অনিষ্ট হইতে, প্রত্যেক বায়ুতে অবস্থানকারী মূক ও মুখর এবং নিদ্রিত ও জাগ্রত সত্তার অনিষ্ট হইতে। তাঁহাকে শরণে দিতেছি সেই সকল সত্তার অনিষ্ট হইতে যাহার প্রতি চক্ষুসমূহ দৃষ্টিপাত করে, অন্তরসমূহ যাহার সহিত মিলিত হইয়া থাকে, তাবত মর্তবাসী ও বিভিন্ন কোণে অবস্থানকারীর অনিষ্ট হইতে, তাহার অনিষ্ট হইতে যে অপকর্ম করে এবং উহাতেই মজিয়া থাকে, তাহার অনিষ্ট হইতে যাহার দিকে চক্ষুসমূহ তাকাইয়া থাকে। তাহাকে শরণে দিতেছি ইবলীস ও তাহার বাহিনীর এবং শয়তানদের অনিষ্ট হইতে” (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৬৩০-২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00