📄 আবূ রাফে' আসলামীর মুক্তির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
بسم الله الرحمن الرحيم كتاب محمد رسول الله لفتاه اسلم اني اعتقك لله عتقا مبتولا الله اعتقك وله المن على وعليك فانت حر لاسبيل لاحد عليك الا سبيل الاسلام وعصمة الايمان شهد بذلك ابو بكر وشهد عثمان وشهد على وكتب معاوية ابن ابی سفیان
"পরম করুণাময় ও পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর পক্ষ হইতে তাঁহার আসলামী যুবক-এর জন্য লিখিত পত্র। আমি তোমাকে আল্লাহ্ (সন্তুষ্টির) জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন করিয়া দিলাম। আল্লাহই তোমাকে মুক্ত করিয়াছেন। তাঁহার অসীম করুণা আমার প্রতি এবং তোমার প্রতিও। তুমি সম্পূর্ণ স্বাধীন। ইসলাম ও ঈমানের হক ছাড়া তোমার উপর কাহারও কোন কর্তৃত্বের অধিকার নাই। উহার সাক্ষীস্বরূপ রহিলেন আবূ বকর, 'উছমান ও আলী। আর উহা লিপিবদ্ধ করিয়াছেন মু'আবিয়া ইব্ন আবী সুফ্যান" (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ২৬৭; আত-তারাতীবুল ইদারিয়া, ১খ., পৃ. ২৭৪)।
ইবন হিশামের বর্ণনা হইতে জানা যায়, মূলত আবু রাফে' ছিলেন রাসূলুল্লাহ্-এর পিতৃব্য হযরত 'আব্বাসের পরিবারের দাস। হযরত 'আব্বাস (রা) গোপনে ইসলাম গ্রহণ করিলে আবু রাফে'ও ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ উক্ত পত্রের মাধ্যমে তাঁহাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করিয়া দেন (দ্র. সীরাত ইব্ন হিশাম, ১/২খ., পৃ. ৬৪৬)।
📄 মক্কাবাসীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
لا يجوز شرطان في بيع واحد وبيع وسلف جميعا وبيع ما لم يضمن ومن كان مكاتبا على مأة درهم فقضاها كلها الا درهم فهو عبد أو على مأة اوقية فقضاها كلها الا أوقية فهو عبد.
"একই বিক্রয়ে দুইটি শর্ত আরোপ বৈধ নহে। ক্রয় ও কর্জ একসাথে বৈধ নহে। এমন বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নহে যাহার নিশ্চয়তা নাই। যে ব্যক্তি এক শত দিরহাম প্রদানের অঙ্গীকারে স্বাধীন হওয়ার চুক্তি করে, এক দিরহাম বাকী থাকিতেও সে আযাদ হইবে না, গোলামই থাকিয়া যাইবে। অথবা কোন ব্যক্তি এক শত উকিয়া প্রদানের শর্তে আযাদ হওয়ার চুক্তি করিয়া থাকিলে এক উকিয়া ব্যতীত সবই আদায় করিয়া দিলেও সেই ব্যক্তি গোলামই থাকিয়া যাইবে" (কানযুল উম্মাল, ২খ., পৃ. ২২৯; নং ৪৯১৯, মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৬১২)।
📄 প্রশাসকবৃন্দের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
اذا ابردتم الى بريدا فابردوه فابعثوه حسن الوجه حسن الاسم.
"যখন তোমরা আমার নিকট কোন বার্তাবাহী প্রেরণ করিবে তখন উত্তম চেহারা ও উত্তম নামবিশিষ্ট দূত প্রেরণ করিবে” (কানযুল উম্মাল, ৩খ., পৃ. ১৯৬, নং ২৯৬৭)। কানযুল 'উম্মালের ২৯৬৬ নং রিওয়ায়াতের পাঠে আছে:
اذا بعثتم الى رجلا فابعثوه حسن الوجه حسن الاسم.
আবার উক্ত কিতাবের ২৯৬৮ নং রিওয়াতের পাঠে আছে:
اذا بعثت الى بريدا فاجعله جسيما وسيما .
অর্থ প্রায় অভিন্ন, তবে সর্বশেষে উক্ত শব্দদ্বয় جسيما وسيما এর অর্থ হইতেছে "বলিষ্ঠ সুপুরুষ এবং সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট লোক।"
কানযুল উম্মালে এই বক্তব্য পত্রের মাধ্যমে প্রদান করা হইয়াছিল বলিয়া সুস্পষ্ট উল্লেখ নাই। তবে আল্লামা শারাফুদ্দীন তদীয় "আন-নাসু ওয়াল-ইজতিহাদ” গ্রন্থে (পৃ. ১৭৭) মালিক ও বাযযারের বরাতে উহাকে পত্র বলিয়াই উল্লেখ করিয়াছেন। পত্রের মূল পাঠ তাঁহার গ্রন্থ হইতেই গৃহীত হইয়াছে এবং বন্ধনীর মধ্যে উক্ত শব্দটি কানযুল উম্মালের (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৬১৫)।
📄 আত্তাব ইবন উসায়দ (রা)-এর নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ أَن رضوا والا فأذنهم بحرب.
"হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের যাহা বকেয়া আছে তাহা ছাড়িয়া দাও, যদি তোমরা মুমিন হইয়া থাক। তাহারা সম্মত হইলে তো ভাল, অন্যথায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও” (দূররে মানছুর, ১খ., পৃ. ৩৬৬)।
উক্ত পুত্রখানা মূলত আল-কুরআনের ২৭৮ ও ২৭৯ নং আয়াতদ্বয়ের বক্তব্য, ঈষৎ শাব্দিক পার্থক্য রহিয়াছে। পত্রে উল্লিখিত ان رضوا والا فاذنهم بحرب অংশটুকুর বক্তব্য আয়াতে আছে এইরূপ:
فَإِنْ لَّمْ تَفْعَلُوا فَأَذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُوْلِهِ.
"যদি তোমরা তাহা না কর (সূদ না ছাড়) তবে আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের সহিত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।"
আয়াতের শেষাংশে আছে:
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ.
"কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। ইহাতে তোমরা অত্যাচার করিবে না, আবার অত্যাচারিতও হইবে না"।