📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 একজন নিহত সাহাবীর খুনের ব্যাপারে খায়বারের ইয়াহূদীগণের প্রতি পত্র

📄 একজন নিহত সাহাবীর খুনের ব্যাপারে খায়বারের ইয়াহূদীগণের প্রতি পত্র


ইবন হিশাম (র) বর্ণনা করেন, ইবন ইসহাক, যুহরী, সাহল ইব্‌ন আবী হাসমা (রা) সূত্রে এবং বনী হারিছার মাওলা বশীর ইবন ইয়াসার, সাহল ইব্‌ন আবী হাস্সা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল (রা) খায়বারে নিহত হন। সেখানে অবস্থিত তাঁহার লোকজনের নিকট হইতে খেজুর সংগ্রহ করিয়া আনিতে তিনি সেখানে গিয়াছিলেন। সেখানে ঘাড় মটকান অবস্থায় এক কূপের মধ্যে তাঁহার লাশ পাওয়া গেল। নিহত ব্যক্তির ভাই 'আবদুর রহমান ইব্‌ন সাহল তাঁহার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ, তাঁহার দুই পিতৃব্য পুত্র হুওয়ায়্যাসা এবং মুহায়্যাসাকে সঙ্গে লইয়া রাসূলুল্লাহ-এর নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করিতে গেলেন। বয়সে তাঁহাদের তুলনায় কনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও রক্তপণের হকদার এবং স্ব-সম্প্রদায়ের একজন বীরপুরুষ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসাবে আবদুর রহমানই অগ্রবর্তী হইয়া কথা বলিতেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বলিলেনঃ کبر کبر জ্যেষ্ঠই জ্যেষ্ঠ বা অগ্রাধিকার পাওয়ার হকদার। অর্থাৎ জ্যেষ্ঠদিগকেই কথা বলিতে দেওয়া উচিত। তখন তিনি চুপ করিলেন এবং তাঁহারাই তাঁহাদের পক্ষ হইতে বক্তব্য উপস্থাপন করিলেন এবং পরে তিনি নিজেও কথা বলিলেন। তাঁহারা তাঁহাদের লোকের নিহত হওয়ার কথা ব্যক্ত করিলেন।
রাসূলুল্লাহ বলিলেন: তোমরা কি বলিতে পার হত্যাকারী কে? এই ব্যাপারে নিশ্চিত হইয়া তোমাদের পঞ্চাশজন কি আল্লাহর নামে কসম করিতে পারিবে? জবাবে তাঁহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যাহা জ্ঞাত নহি সেই ব্যাপারে আমরা তো শপথ করিতে পারি না। তিনি বলিলেন: তাহারা কি এই ব্যাপারে আল্লাহ্র নামে কসম করিতে পারিবে যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই বা তাহারা হত্যাকারী কে তাহা জানে না? তারপর তাহারা কি নিজদিগকে এই খুনের ব্যাপারে নির্দোষ বলিয়া ঘোষণা করিবে? তখন রাসূলুল্লাহ নিজের পক্ষ হইতে এক শতটি উট রক্তপণস্বরূপ তাঁহাকে দিলেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল খায়বারের য়াহুদী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত পত্রখানি লিখেন: انه قد وجد قتيل بين ابياتكم فردوه او ائذنوا بحرب من الله). "তোমাদের মহল্লায় এক ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গিয়াছে। তোমরা তাহার রক্তপণ পরিশোধ করিবে” (অথবা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিবে)। ইবন হিশাম বর্ণনা করেন:
فكتبوا اليه يحلفون بالله ما قتلوه ولا يعلمون له قاتلا فوداه رسول الله ﷺ من عنده.
"জবাবে তাহারা আল্লাহর নামে কসম করিয়া তাঁহাকে এই মর্মে পত্র লিখিল যে, তাহারা তাঁহাকে হত্যা করে নাই এবং কে তাহাকে হত্যা করিয়াছে তাহাও তাহাদের জানা নাই। তখন রাসূলুল্লাহ নিজের পক্ষ হইতে তাহার রক্তপণ আদায় করিলেন"।
আলী ইবন হুসায়ন আলী আল-আহ্লাদী এই প্রসঙ্গে বলেন:
لعله اداه من بيت المال كما في الحديث الآخر عن أبي عبد الله عليه السلام ان كان بارض فلاة اديت ديته من بيت المال.
"সম্ভবত বায়তুল মাল হইতে উহা পরিশোধ করা হইয়াছিল। কেননা আবূ আবদুল্লাহ্ বর্ণিত অন্য হাদীছে আছেঃ "যদি কোন উন্মুক্ত প্রান্তরে কোন মৃতদেহ পাওয়া যায়, তাহা হইলে তাহার রক্তপণ বায়তুল মাল যা রাষ্ট্রের পক্ষ হইতে পরিশোধ করিতে হইবে।"
ইবনুল আছীর আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল-এর বর্ণনায় লিখেন, তিনি হইতেছেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাহল ইব্‌ন রাফি' আল-আনসারী, অতঃপর আশহালী, তিনি বনূ যা'উরার লোক ছিলেন এবং খায়বারে নিহত হন। ইব্‌ন হাজর আল-ইসাবায় (২খ., পৃ. ৪৭৩৩) এবং আবূ উমার আল-ইস্তীআবে অনুরূপ লিখিয়াছেন (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫৩২-৪)।
এই নুমায়লাই মিয়াস ইবন সাবাবাকে হত্যা করিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ৪খ., পৃ. ৩০)। বনূ মুস্তালিক যুদ্ধে গমনের সময় রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া গিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৩৩৩)। হুদায়বিয়ায় গমনকালেও তিনি তাঁহাকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া যান (প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ.৩৫৫; হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১০)। খায়বারের দিকে রওয়ানা হওয়ার সময়ও রাসূলুল্লাহ তাঁহাকেই ঐ দায়িত্ব দিয়া গিয়াছিলেন (প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩৭৮; হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ৩৬; সীরাহ দালান, হালাবিয়্যার পাদটীকায় মুদ্রিত, ২খ., পৃ. ২৩৩)। রাসূলুল্লাহ যে খায়বারের সম্পদ হইতে ৫০ ওয়াসাক তাঁহাকে দান করেন, ইব্‌ন হিশামও তাহা বর্ণনা করিয়াছেন।
পত্রে উল্লিখিত উম্মে হাবীba বিনতে জাহ্শ ছিলেন উম্মুল মুমিনীন যায়নাব (রা)-এর ভগ্নি। তাঁহাকে উম্মে হাবীবও বলা হইয়া থাকে। তবে উম্মে হাবীবা নামেই তিনি সর্বাদিক পরিচিত। তিনি ছিলেন হযরত আবদুর রাহমান ইবন 'আওফ (রা)-এর সহধর্মিনী। রাসূলুল্লাহ-এর হিজরতের পূর্বে তিনি হিজরত করিয়াছিলেন (ইব্‌ন হিশাম, ২খ., পৃ. ৮১)।
পত্রে উল্লিখিত মুহায়‍্যাসা ইবন মাসউদ (রা) ছিলেন মাসউদ ইব্‌ন কা'ব আল-আনসারী আল-আওসীর পুত্র। তাঁহাকে আবূ সা'দ উপনামে ডাকা হইত। রাসূলুল্লাহ ফাদাকবাসি-গণকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাঁহাকে প্রেরণ করিয়াছিলেন। উহুদ, খন্দক ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি তাঁহার ভাই হুওয়ায়্যাসার তুলনায় বয়োকনিষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু তাঁহার পূর্বেই তিনি হিজরত-পূর্বকালে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং অগ্রজ হুওয়ায়‍্যাসা তাঁহারাই হাতে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ ইয়াহূদী নেতা কা'ব ইব্‌ন আশরাফকে হত্যার নির্দেশ দিলে মুহায়্যাসা ইয়াহুদী বণিক ইব্‌ন সানীনা/ ইবন সাবীনা-এর উপর ঝাঁপাইয়া পড়েন এবং তাঁহাকে হত্যা করেন। অগ্রজ হুওয়ায়‍্যাসা তখনও ইসলাম গ্রহণ করেন নাই। তিনি এই অপরাধে অনুজ মুহায়্যাসাকে প্রহার করিতে করিতে বলেন, হে আল্লাহর শত্রু, এমন এক ব্যক্তিকে তুই হত্যা করলি যাহার সম্পদে সৃষ্ট চর্বি তোর পেটে এখনও বিদ্যমান!

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ফাতিমা (রা)-কে প্রদত্ত নবী কারীম (সা)-এর চিরকুট

📄 হযরত ফাতিমা (রা)-কে প্রদত্ত নবী কারীম (সা)-এর চিরকুট


রাসূলুল্লাহ্-এর পত্র বিশেষজ্ঞ আলী ইব্‌ন হুসায়ন আলী আল-আহমাদী এই ব্যাপারে যে মন্তব্য করিয়াছেন তাহা প্রণিধানযোগ্য। তিনি লিখেন:
يظهر من الكتاب انه الله جعل لهن مئة وثمانين وسقا ولكنه لم يعلم انه لهن اكتع او كظل واحد منهن وفي سيرة ابن هشام عند ذكره مقاسم خيبر ولنسائه سبع مأة وسق ثم ذكر هذا الكتاب فالظاهر تعددهما فعلى هذا قسم لهن من خيبر مرتين ويظهر من البلاذرى في فتوح البلدان ص ۲۷ بيروت انه من كان يقوت اهله من زروع اراضي بني النضير ونخيلة فلعله (ص) كان يقوت اهله من هنا وهنا والله العالم.
"পত্রের দ্বারা প্রতীয়মান হয়, রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদের (পরিবারবর্গের) জন্য ১৮০ ওয়াসাক নির্ধারণ করেন। কিন্তু তিনি উহা তাঁহাদের সকলের জন্য বরাদ্দ করিয়াছিলেন, নাকি প্রত্যেকের জন্য ঐ হারে তাহা জানা যায় নাই। সীরাতে ইবন হিশামে খায়বারের অংশ বিতরণ সম্পর্কে আছেঃ তাঁহার সহধর্মিনিগণের জন্য ৭০০ ওয়াসাক নির্ধারণ করেন, অতঃপর তিনি এই পত্রখানি উদ্ধৃত করেন। তাই এই অংশ নির্ধারণের ব্যাপারটি যে একাধিকবার ঘটিয়াছিল তাহা সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, নবী কারীম তদীয় পরিবারবর্গের জন্য দুইবার অংশ নির্ধারণ করিয়াছিলেন। আর ফুতূহুল বুলদানে বালাযুরীর বর্ণনা হইতে (বৈরূত মুদ্রণ, পৃ. ২৭) প্রতীয়মান হয় যে, তিনি বন্ নাযীর গোত্রের ভূমি হইতে উৎপন্নজাত ফসল ও খেজুর হইতে তাঁহার পরিবারবর্গের সাংবাৎসরিক খাদ্যের প্রয়োজন মিটাইতেন। সম্ভবত তিনি কখনও বনূ নাযীরের ভূমি হইতে, আবার কখনও খায়বারের অংশ হইতে তাঁহার পরিবারবর্গের খাদ্যের প্রয়োজন মিটাইতেন। আল্লাহই সম্যক অবগত"।
কানযুল উম্মালে (২খ.) আছে:
ان رسول الله ﷺ اعطى ازواجه من خيبر كل امرأة منهن ثمانين وسقا من تمر وعشرين وسقا من شعير.
"রাসূলুল্লাহ্ খায়বারের সম্পদ হইতে তাঁহার প্রত্যেক সহধর্মিণীকে ৮০ ওয়াসাক খেজুর এবং কুড়ি ওয়াসাক যব দান করেন" (দ্র. মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫৬২)।
হযরত ফাতিমা (রা)-কে প্রদত্ত নবী কারীম-এর চিরকুট
নবী দুহিতা হযরত ফাতিমা (রা) একদা একটি অনুযোগ লইয়া পিতৃগৃহে উপস্থিত হইলেন। নবী কারীম তাঁহার হাতে একটি চিরকুট তুলিয়া দিয়া বলিলেন:
تعلمى ما فيها "উহাতে যাহা আছে তাহা শিখিয়া লও।” তিনি উহা খুলিয়া দেখিলেন উহাতে লিখিত রহিয়াছে:
من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذى جاره ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليكرم ضيفه ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا اولبسكت.
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে তাহার উচিত প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে তাহারা উচিত মেহমানের সমাদর করা। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকাল দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে তাহার উচিত উত্তম কথা বলা অথবা চুপ থাকা" (উসূলুল কাফী, ২খ., পৃ. ৬৬৭; আল-ওয়াসাইল, ২খ., পৃ. ২; কিতাবুল হজ্জ 'প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া ওয়াজিব' পরিচ্ছেদ; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫২৭, পত্র নং ১৭১; দ্র. আল-আদাবুল মুফ্রাদ, অনুচ্ছেদ ৫৫, হাদীছ নং ১০২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত সালমান ফারসীর দাসত্ব মুক্তি বিষয়ক রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র

📄 হযরত সালমান ফারসীর দাসত্ব মুক্তি বিষয়ক রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র


মাকাতীবুর রাসূল গ্রন্থের ১৮১ নং পত্ররূপে উদ্ধৃত উক্ত শিরোনামের পত্রে অতিরিক্ত আরও আছে:
ان الله تعالى يحب الخير الحليم المتعفف ويبغض الفاحش (العينين) البذاء السائل الملحف ان الحياء من الايمان والايمان في الجنة وان الفحش من البذاء والبذاء في النار.
"নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা'আলা ভালবাসেন মঙ্গল, সহিষ্ণু, সংযমী ও পূত চরিত্র ব্যক্তিকে এবং তিনি অপছন্দ করেন অশ্লীলতাপ্রিয় (চক্ষুর অনাচারে অভ্যস্ত) ব্যক্তিকে এবং নাছোড়বান্দা যাজ্ঞাকারীকে। লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ এবং ঈমানের পরিণাম হইতেছে জান্নাত। আর অশ্লীলতা হইল নির্লজ্জতা এবং নির্লজ্জতার পরিণাম হইতেছে জাহান্নাম" (সাফীনাতুল বিহার, ৩খ., حدث শব্দের আলোচনায়, পৃ. ২২৯)।
লেখক বলেন, আবূ জা'ফার তাবারী তদীয় আদ-দালাইলে ইবন মাসউদ (রা)-এর সনদে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, একদা এক ব্যক্তি হযরত ফাতিমা (রা)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে রাসূল নন্দিনী! রাসূলুল্লাহ্ কি আপনার নিকট কিছু রাখিয়া গিয়াছেন? আপনি উহা আমার গলায় পরাইয়া দিন। তখন তিনি তাঁহার বাঁদীকে ডাকিয়া বলিলেন, হে বালিকা! ঐ চিরকুটটা লইয়া আস। সে উহা খুঁজিল, কিন্তু পাইল না। তিনি বলিলেন, হে হতভাগিনী! খুঁজিয়া দেখ। কেননা উহা আমার নিকট আমার হাসান-হুসায়নতুল্য প্রিয় ও মূল্যবান। তারপর সে উহা খুঁজিয়া বাহির করিল, সে উহা ঝাড়ু দিয়া একটি মটকার মধ্যে ফেলিয়া দিয়াছিল। উহাতে উক্ত বাণী লিখিত ছিল" (মুহাদ্দিছ আন্-নূরী সঙ্কলিত আল-মুসতাদরাক, ২খ., পৃ. ৩৩৯; কিতাবুল জিহাদ অধ্যায় ৭১, 'অশ্লীলতা হারাম' শীর্ষক পরিচ্ছেদে, ইবন মাস'উদ (রা) পর্যন্ত পরিপূর্ণ সনদসহ বর্ণিত; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৬০৮)।
হযরত সালমান ফারসীর দাসত্ব মুক্তি বিষয়ক রাসূলুল্লাহ-এর পত্র
বিখ্যাত সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রা)-র জন্ম হয় পারস্যের রামহুরমুষের এক অগ্নি উপাসক পরিবারে। সত্যান্বেষী সালমান তদীয় পিতৃধর্মে সন্তুষ্ট থাকিতে পারেন নাই। সত্যের সন্ধানে তিনি দেশে দেশে ঘুরিয়া বেড়াইতে থাকেন। তিনি খৃষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হন, কিন্তু ঐ ধর্ম তাঁহার অতৃপ্ত আত্মার তৃপ্তি বিধানে ব্যর্থ হয়। অবশেষে মদীনার উপকণ্ঠে জনৈক ইয়াহূদীর দাসত্ব শৃঙ্খল আবদ্ধ অবস্থায় একদিন তিনি নবী -এর দরবারে উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়া তাঁহার পরম আরাধ্য বস্তু লাভ করেন এবং প্রাণের ও আত্মার শান্তি খুঁজিয়া পান। এমন একজন
সত্যান্বেষী গুণী ব্যক্তি এক ইয়াহুদীর দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকুন তাহা আল্লাহ্র রাসূলের মনঃপূত ছিল না। এদিকে তাঁহাকে মুক্ত করার মত প্রচুর অর্থ তাঁহার হাতে ছিল না। অগত্যা তাঁহাকে ৪০ উকিয়া স্বর্ণ এবং ৩০০ টি খেজুর চারা রোপণের বিনিময়ে তিনি মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ঐ চারাগাছগুলিকে উপযুক্ত সেবাযত্ন দিয়া ফলজ গাছে পরিণত হইলেই সালমান সম্পূর্ণ স্বাধীন হইয়া যাইবেন, এইরূপ শর্ত সাব্যস্ত করা হইয়াছিল। হযরত সালমানের মুক্তি বিষয়ক রাসূলুল্লাহ্ -এর ঐ পত্রখানা সম্পর্কে তাঁহার পৌত্র আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ্র বর্ণনা এইরূপ:
ان النبي له املى هذا الكتاب على على ابن ابي طالب رضى الله عنه. هذا ما فادى محمد بن عبد الله رسول الله فدى سلمان الفارسي من عثمان بن الاشهل اليهودي ثم القرظي بغرس ثلاثة مائة نخلة واربعين أوقية ذهب فقد برئ محمد بن عبد الله رسول الله لثمن سلمان الفارسي ولاؤه لمحمد بن عبد الله رسول الله واهل بيته فليس لاحد على سلمان سبيل شهد على ذلك ابو بكر الصديق وعمر بن الخطاب وعلى بن ابى طالب وحذيفة بن اليمان وابو ذر الغفاري والمقداد بن الاسود وبلال مولى ابي بكر وعبد الرحمن بن عوف رضى الله عنهم وكتب على بن ابي طالب يوم الاثنين في جمادى الأولى ( من سنة ) مهاجر محمد بن عبد الله رسول الله ﷺ.
"নবী কারীম হযরত আলী (রা)-এর মাধ্যমে নিম্নরূপ সনদ লিখাইয়া লন: আল্লাহ্ রাসূল মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদিল্লাহ্ যিনি উছমান ইবনুল আশহাল য়াহুদী আল-কুরাযীকে সালমান আল-ফারিসীর মুক্তিপণ বাবদ যাহা দান করিয়াছেন এই পত্রটি হইতেছে তাহার বিবরণ। তিনি ৩০০ খেজুরের চারা রোপণ এবং ৪০ উকিয়া স্বর্ণকে তাহার মুক্তিপণ সাব্যস্ত করিয়া উহা আদায় করিয়া সালমান ফারিসীর মুক্তিপণের দায় হইতে মুক্ত হইয়াছেন। আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদিল্লাহ্ ও তদীয় পরিবারবর্গের সহিত তাঁহার মাওলা (অভিভাবক) সম্পর্ক স্থাপিত হইল। তাহার উপর অন্য কাহারও কোন অধিকার থাকিবে না। আবূ বকর সিদ্দীক, উমার ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবন আবী তালিব, হুযায়ফা ইবনুল য়ামান, আবূ যার আল-গিফারী, আবূ বকরের মুক্তদাস বিলাল ও আবদুর রহমান ইবন 'আওফ উহার সাক্ষী রহিলেন। আল্লাহ তাহাদের প্রতি প্রসন্ন হউন! 'আলী ইবন আবী তালিব জুমাদাল উলা মাসের সোমবার দিন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবদিল্লাহর হিজরতের বৎসর উহা লিপিবদ্ধ করেন" (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ২৭৮; তারীখ বাগদাদ, ১খ., পৃ. ১৭০)।
উল্লেখ্য, নবী কারীম তাঁহার সাহাবীগণকে সালমানের মুক্তিপণস্বরূপ দেয় খেজুর চারা সরবরাহের জন্য উৎসাহ প্রদান করিলে অনেকেই পাঁচ-দশটা করিয়া চারা লইয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ্ -এর হাতে তুলিয়া দেন এবং স্বয়ং নবী কারীম নিজের পবিত্র হাতে ঐগুলি রোপণ করিয়া দেন। নবী কারীম-এর পবিত্র হাতের বরকতে ঐ বৎসরই গাছগুলি ফলদান করে এবং এইভাবে সালমান ফারসী (রা) মুক্ত হইয়া ইসলামের সেবায় পূর্ণ আত্মনিয়োগ করেন। আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণ তাঁহাকে লইয়া কাড়াকাড়ি করিয়া প্রত্যেক দলই বলিতেন যে,
সালমান তাঁহাদেরই একজন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে তাঁহার নিজ পরিবারের সহিত সংশ্লিষ্ট করিয়া সেই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটান। সালমান (রা) নিজেকে সালমান ইব্‌ন ইসলাম ইব্‌ন ইসলাম বলিয়া অভিহিত করিতেন (ইমামাতে ইসলাম, ১খ., পৃ. ৩৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবূ রাফে' আসলামীর মুক্তির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র

📄 আবূ রাফে' আসলামীর মুক্তির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র


بسم الله الرحمن الرحيم كتاب محمد رسول الله لفتاه اسلم اني اعتقك لله عتقا مبتولا الله اعتقك وله المن على وعليك فانت حر لاسبيل لاحد عليك الا سبيل الاسلام وعصمة الايمان شهد بذلك ابو بكر وشهد عثمان وشهد على وكتب معاوية ابن ابی سفیان
"পরম করুণাময় ও পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর পক্ষ হইতে তাঁহার আসলামী যুবক-এর জন্য লিখিত পত্র। আমি তোমাকে আল্লাহ্ (সন্তুষ্টির) জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন করিয়া দিলাম। আল্লাহই তোমাকে মুক্ত করিয়াছেন। তাঁহার অসীম করুণা আমার প্রতি এবং তোমার প্রতিও। তুমি সম্পূর্ণ স্বাধীন। ইসলাম ও ঈমানের হক ছাড়া তোমার উপর কাহারও কোন কর্তৃত্বের অধিকার নাই। উহার সাক্ষীস্বরূপ রহিলেন আবূ বকর, 'উছমান ও আলী। আর উহা লিপিবদ্ধ করিয়াছেন মু'আবিয়া ইব্‌ন আবী সুফ্যান" (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ২৬৭; আত-তারাতীবুল ইদারিয়া, ১খ., পৃ. ২৭৪)।
ইবন হিশামের বর্ণনা হইতে জানা যায়, মূলত আবু রাফে' ছিলেন রাসূলুল্লাহ্-এর পিতৃব্য হযরত 'আব্বাসের পরিবারের দাস। হযরত 'আব্বাস (রা) গোপনে ইসলাম গ্রহণ করিলে আবু রাফে'ও ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ উক্ত পত্রের মাধ্যমে তাঁহাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করিয়া দেন (দ্র. সীরাত ইব্‌ন হিশাম, ১/২খ., পৃ. ৬৪৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00