📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবূ সুফ্যানের জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র

📄 আবূ সুফ্যানের জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র


ড. হামীদুল্লাহ ওয়াকিদীর কিতাবুল মাগাযী-এর বৃটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (পৃ. ১১৩), মাকরিযীর কিতাবুন নিযা' ওয়াত-তাখাসুম ফীমা বায়না বনী উমায়্যা ওয়া বনী হাশিম-এর ইস্তাম্বুল নূর উছমানিয়া যাদুঘরে রক্ষিত হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (পৃ. ৯), বালাযুরীর আনসাবুল আশরাফ-এর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়‍্যায় রক্ষিত পাণ্ডুলিপি (১খ., পৃ. ৩৫৮-৯) এবং মাকরিযীর অপর এক গ্রন্থ ইমতাউল আসমা (১খ., পৃ. ২৩৯)-এর বরাতে তদীয় মাজমূআতুল ওয়াছাইকিস সিয়াসিয়‍্যা গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উদ্দেশ্যে আবু সুয়ানের লিখিত পত্র এবং তাহার জবাবে রাসূলুল্লাহ-এর পত্রের যে বিবরণ দিয়াছেন আলী ইবন হুসায়ন আলী আল-আহমাদী মাকাতীবুর রাসূল গ্রন্থে তাহা উদ্ধৃত করিয়াছেন। আবূ সুফয়ান খন্দক যুদ্ধের সময় কুরায়শ তথা সম্মিলিত কাফির বাহিনীর অধিনায়ক রূপে রাসূলুল্লাহ-এর উদ্দেশ্যে লিখেন :
বاسمك اللهم فانى احلف بالات والعزى واساف ونائلة وهبل) لقد سرت اليك في جمعنا وانا نريد ان لا نعود اليك ابدا حتى نستاصلكم فرأيت قد كرهت لقائنا وجعلت مضايق وخنادق فليت شعرى من علمك هذا فان نرجع عنكم فلكم منا يوم كيوم أحد ننصر فيه النساء.
"তোমার নামে হে আল্লাহ! লাত ও উযযা (এবং ইসাফ, নাইলা ও হুবাল) দেবতার কসম। আমি সদলবলে তোমার দিকে অভিযান পরিচালনা করি। আমার ইচ্ছা ছিল, তোমাদেরকে সমূলে উৎখাত না করিয়া ফিরিব না। আসিয়া দেখিলাম, আমাদের সহিত সম্মুখ সমরে তুমি অনীহাগ্রস্ত, খানা-খন্দক ও পরিখাদি খনন করিয়া রাখিয়াছ। যদি জানিতে পারিতাম, কে তোমাকে এইগুলি শিক্ষা দিল! এখন তোমাদের নিকট হইতে ফিরিয়া চলিয়া যাইতেছি। আমাদের পক্ষ হইতে তোমাদের জন্য উহুদের মত আরেকটি যুদ্ধ রহিয়া গিয়াছে যেদিন আমরা আমাদের নারীদেরকে সাহায্য করিব"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খন্দক যুদ্ধের পূর্বে লিখিত আবূ সুফয়ানের পত্রের জবাবে

📄 খন্দক যুদ্ধের পূর্বে লিখিত আবূ সুফয়ানের পত্রের জবাবে


রাসূলুল্লাহ তাহার জবাবে লিখিলেন :
من محمد رسول الله ﷺ الى ابى سفيان بن حرب اما بعد فقد اتاني كتابكو) قد يما غرك بالله الغرور واما ما ذكرت انك سرت الينا في جمعكم وانك لا تريد ان تعود حتى تستأصلنا فذلك أمر الله يحول بنيك وبينه ويجعل لنا العاقبة حتى لا تذكر اللات والغرى واما قولك من علمك الذي صنعنا من الخندق فان الله الهمني ذلك لما اراد من غيظك به وغيض اصحابك ولياتين عليك يوم اكسر فيه اللات والعزى واساف ونائلة وهبل اذكرك ذلك.
"আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হইতে আবূ সুফয়ান ইবন হারবের প্রতি। অতঃপর সমাচার এই যে, তোমার পত্র আমার নিকট পৌঁছিয়াছে। আল্লাহ্র ব্যাপারে তোমার ধোঁকায় নিমজ্জিত থাকা অনেক পুরাতন ব্যাপার (নূতন কিছু নহে)। আর তুমি যে উল্লেখ করিয়াছ, তুমি সদলবলে আমাদের নিকট আসিয়া পৌঁছিয়াছ এবং আমাদের সম্পূর্ণ উৎখাত না করিয়া ফিরিয়া যাইতে তুমি চাও না, উহা একমাত্র আল্লাহ্রই কাজ, তোমার এবং উহার মধ্যে তিনিই অন্তরায় সৃষ্টি করিয়া দিবেন। তিনি সুপরিণাম আমাদের জন্যই সৃষ্টি করিবেন, এমনকি লাত ও উযযার নামটি পর্যন্ত তোমরা মুখে লইতে পারিবে না। আর তোমার প্রশ্ন, কে তেমাকে উহা শিখাইল? (তাহার জবাব হইল) আমরা যে পরিখা খনন করিয়াছি, আল্লাহ যখন তোমার ও তোমার সঙ্গী-সাথীদের জিঘাংসা প্রত্যক্ষ করিলেন তখন তিনিই আমার অন্তরে ইহার জ্ঞান সঞ্চার করিয়া দিয়াছেন। নিঃসন্দেহে এমন এক দিন আসিবে যেদিন (লাত ও উযযা) ইসাফ, নায়েলা ও হুবল মূর্তিগুল চুরমার করিয়া দেওয়া হইবে। আমি তোমাকে উহা স্মরণ করাইয়া দিতেছি" (মাজমূআতুল ওয়াছাইকিস সিয়াসিয়্যা, পৃ. ২৭, নং ৭; প্রাগুক্ত সূত্রগুলির বরাতে; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫২৮)।
فان الله الهمنى ذلك )আল্লাহই উহার জ্ঞান আমার অন্তরে সঞ্চারিত করিয়াছেন) বাক্যের দ্বারা কেহ ধারণা করিতে পারেন যে, সালমান ফারসীই খন্দক খনন করিয়াছিলেন, তাহা হইলে আল্লাহ্ উহা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে শিক্ষা দিয়াছেন বলা কতটুকু সঙ্গত ছিল। ইহার জবাবে বলা যায়, মূলত এই জ্ঞানটি আল্লাহ প্রদত্ত ছিল। সঙ্গী-সাথীদের অন্তর জয়ের জন্য পরামর্শ চাহিলে সালমান ফারসী সেই পরামর্শ দিয়াছেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও তাহাকে সম্মান দিয়াছেন! আল্লাহ্র শিক্ষাদানের সাথে তাহার কোন বিরোধ নাই (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫২৯)।
খন্দক যুদ্ধের পূর্বে লিখিত আবূ সুফয়ানের পত্রের জবাবে
وصل كتاب اهل الشرك والنفاق والكفر والشقاق زخمت مقالتكم فوالله ما لكم عندى جواب الا اطراف الرماح واشفار الصفاح فارجعوا ويلكم من عبادة الاصناء وأبشروا يضرب الحسام وبفلق الهام وخراب الديار وقلع الآثار والسلام على من اتبع الهدى.
الا ابلغ عنى قريشا الا هلموا کی تلاقوا ما لاقيتم من لسان كالحسام من الصمصام في بدن رهام
"শিরক, নিফাক, কুফর ও বিবাদ সৃষ্টিকারীদের পত্র পৌঁছিয়াছে। আমি তোমাদের বক্তব্য অনুধাবন করিয়াছি। আল্লাহ্র কসম! বর্শাফলক ও তরবারির ক্ষুরধার কিনারা ছাড়া ইহার আর কোন জবাব আমার নিকট নাই। মূর্তি পূজার দুর্ভোগ লইয়া তোমরা ফিরিয়া যাও। তাহাদেরকে তরবারির আঘাতে মস্তক দ্বিখণ্ডিত করা, বাড়ীঘর ধ্বংস করা এবং নিদর্শন নিশ্চিহ্ন করিবার সুসংবাদ দাও। সালাম তাহার প্রতি যে হিদায়াতের অনুসরণ করে। পৌঁছে দাও বার্তা আমার কুরায়শগণে তরবারি সম ধারাল রসনা দিয়ে এসো এসো নাও চেখে তার স্বাদটুকু তরবারি থেকে দেহ ও মাথার খুলি দিয়ে" (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইকিস সিয়াসিয়্যা, পৃ. ২৬)।
রাসূলুল্লাহ আবূ সুফয়ানের যে পত্রের জবাবে উক্ত পত্রখানা লিখিয়াছিলেন ড. হামীদুল্লাহ তাহাও উদ্ধৃত করিয়াছেন উপযুক্ত সূত্রসমূহের বরাতে। তাহার সেই পত্রখানা ছিল এইরূপ:
اما بعد فانك قتلت ابطا لنا وايتمت الاطفال ودملت النسوان والان قد اجتمعت القبائل والعشائر يطلبون قتالك وقلع اثارك وقد انفذنا اليك نريد منك نصف نخل المدينة فان اجبتنا الى ذلك والا ابشر بخراب الديار وقلع الآثار تجاوبت القبائل من نزار لنصر اللات في بيت الحرام واقبلت الضراغم من قريش على خيل مسومة ضرام
"অতঃপর সমাচার, তুমি আমাদের বীরপুরুষদেরকে হত্যা করিয়াছ, আমাদের শিশুদেরকে পিতৃহীন এবং নারীদেরকে বিধবা করিয়াছ। এখন বিভিন্ন কবীলা ও বিভিন্ন বংশের লোক তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং তোমাকে সমূলে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হইয়াছে। আমরা তোমার দিকে ইতোমধ্যেই রওয়ানা হইয়াছি। এখন তোমার নিকট আমাদের দাবি, মদীনার অর্ধেক খেজুর আমাদেরকে দিতে হইবে। যদি তাহাতে সাড়া দাও (তাহা হইলে উত্তম), অন্যথায় ঘরবাড়ির বিনাশ ও সমূলে উচ্ছেদের সুসংবাদ গ্রহণ কর।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 একজন নিহত সাহাবীর খুনের ব্যাপারে খায়বারের ইয়াহূদীগণের প্রতি পত্র

📄 একজন নিহত সাহাবীর খুনের ব্যাপারে খায়বারের ইয়াহূদীগণের প্রতি পত্র


ইবন হিশাম (র) বর্ণনা করেন, ইবন ইসহাক, যুহরী, সাহল ইব্‌ন আবী হাসমা (রা) সূত্রে এবং বনী হারিছার মাওলা বশীর ইবন ইয়াসার, সাহল ইব্‌ন আবী হাস্সা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল (রা) খায়বারে নিহত হন। সেখানে অবস্থিত তাঁহার লোকজনের নিকট হইতে খেজুর সংগ্রহ করিয়া আনিতে তিনি সেখানে গিয়াছিলেন। সেখানে ঘাড় মটকান অবস্থায় এক কূপের মধ্যে তাঁহার লাশ পাওয়া গেল। নিহত ব্যক্তির ভাই 'আবদুর রহমান ইব্‌ন সাহল তাঁহার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ, তাঁহার দুই পিতৃব্য পুত্র হুওয়ায়্যাসা এবং মুহায়্যাসাকে সঙ্গে লইয়া রাসূলুল্লাহ-এর নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করিতে গেলেন। বয়সে তাঁহাদের তুলনায় কনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও রক্তপণের হকদার এবং স্ব-সম্প্রদায়ের একজন বীরপুরুষ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসাবে আবদুর রহমানই অগ্রবর্তী হইয়া কথা বলিতেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বলিলেনঃ کبر کبر জ্যেষ্ঠই জ্যেষ্ঠ বা অগ্রাধিকার পাওয়ার হকদার। অর্থাৎ জ্যেষ্ঠদিগকেই কথা বলিতে দেওয়া উচিত। তখন তিনি চুপ করিলেন এবং তাঁহারাই তাঁহাদের পক্ষ হইতে বক্তব্য উপস্থাপন করিলেন এবং পরে তিনি নিজেও কথা বলিলেন। তাঁহারা তাঁহাদের লোকের নিহত হওয়ার কথা ব্যক্ত করিলেন।
রাসূলুল্লাহ বলিলেন: তোমরা কি বলিতে পার হত্যাকারী কে? এই ব্যাপারে নিশ্চিত হইয়া তোমাদের পঞ্চাশজন কি আল্লাহর নামে কসম করিতে পারিবে? জবাবে তাঁহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যাহা জ্ঞাত নহি সেই ব্যাপারে আমরা তো শপথ করিতে পারি না। তিনি বলিলেন: তাহারা কি এই ব্যাপারে আল্লাহ্র নামে কসম করিতে পারিবে যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই বা তাহারা হত্যাকারী কে তাহা জানে না? তারপর তাহারা কি নিজদিগকে এই খুনের ব্যাপারে নির্দোষ বলিয়া ঘোষণা করিবে? তখন রাসূলুল্লাহ নিজের পক্ষ হইতে এক শতটি উট রক্তপণস্বরূপ তাঁহাকে দিলেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল খায়বারের য়াহুদী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত পত্রখানি লিখেন: انه قد وجد قتيل بين ابياتكم فردوه او ائذنوا بحرب من الله). "তোমাদের মহল্লায় এক ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গিয়াছে। তোমরা তাহার রক্তপণ পরিশোধ করিবে” (অথবা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিবে)। ইবন হিশাম বর্ণনা করেন:
فكتبوا اليه يحلفون بالله ما قتلوه ولا يعلمون له قاتلا فوداه رسول الله ﷺ من عنده.
"জবাবে তাহারা আল্লাহর নামে কসম করিয়া তাঁহাকে এই মর্মে পত্র লিখিল যে, তাহারা তাঁহাকে হত্যা করে নাই এবং কে তাহাকে হত্যা করিয়াছে তাহাও তাহাদের জানা নাই। তখন রাসূলুল্লাহ নিজের পক্ষ হইতে তাহার রক্তপণ আদায় করিলেন"।
আলী ইবন হুসায়ন আলী আল-আহ্লাদী এই প্রসঙ্গে বলেন:
لعله اداه من بيت المال كما في الحديث الآخر عن أبي عبد الله عليه السلام ان كان بارض فلاة اديت ديته من بيت المال.
"সম্ভবত বায়তুল মাল হইতে উহা পরিশোধ করা হইয়াছিল। কেননা আবূ আবদুল্লাহ্ বর্ণিত অন্য হাদীছে আছেঃ "যদি কোন উন্মুক্ত প্রান্তরে কোন মৃতদেহ পাওয়া যায়, তাহা হইলে তাহার রক্তপণ বায়তুল মাল যা রাষ্ট্রের পক্ষ হইতে পরিশোধ করিতে হইবে।"
ইবনুল আছীর আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাহল-এর বর্ণনায় লিখেন, তিনি হইতেছেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাহল ইব্‌ন রাফি' আল-আনসারী, অতঃপর আশহালী, তিনি বনূ যা'উরার লোক ছিলেন এবং খায়বারে নিহত হন। ইব্‌ন হাজর আল-ইসাবায় (২খ., পৃ. ৪৭৩৩) এবং আবূ উমার আল-ইস্তীআবে অনুরূপ লিখিয়াছেন (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫৩২-৪)।
এই নুমায়লাই মিয়াস ইবন সাবাবাকে হত্যা করিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ৪খ., পৃ. ৩০)। বনূ মুস্তালিক যুদ্ধে গমনের সময় রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া গিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৩৩৩)। হুদায়বিয়ায় গমনকালেও তিনি তাঁহাকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া যান (প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ.৩৫৫; হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১০)। খায়বারের দিকে রওয়ানা হওয়ার সময়ও রাসূলুল্লাহ তাঁহাকেই ঐ দায়িত্ব দিয়া গিয়াছিলেন (প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩৭৮; হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ৩৬; সীরাহ দালান, হালাবিয়্যার পাদটীকায় মুদ্রিত, ২খ., পৃ. ২৩৩)। রাসূলুল্লাহ যে খায়বারের সম্পদ হইতে ৫০ ওয়াসাক তাঁহাকে দান করেন, ইব্‌ন হিশামও তাহা বর্ণনা করিয়াছেন।
পত্রে উল্লিখিত উম্মে হাবীba বিনতে জাহ্শ ছিলেন উম্মুল মুমিনীন যায়নাব (রা)-এর ভগ্নি। তাঁহাকে উম্মে হাবীবও বলা হইয়া থাকে। তবে উম্মে হাবীবা নামেই তিনি সর্বাদিক পরিচিত। তিনি ছিলেন হযরত আবদুর রাহমান ইবন 'আওফ (রা)-এর সহধর্মিনী। রাসূলুল্লাহ-এর হিজরতের পূর্বে তিনি হিজরত করিয়াছিলেন (ইব্‌ন হিশাম, ২খ., পৃ. ৮১)।
পত্রে উল্লিখিত মুহায়‍্যাসা ইবন মাসউদ (রা) ছিলেন মাসউদ ইব্‌ন কা'ব আল-আনসারী আল-আওসীর পুত্র। তাঁহাকে আবূ সা'দ উপনামে ডাকা হইত। রাসূলুল্লাহ ফাদাকবাসি-গণকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাঁহাকে প্রেরণ করিয়াছিলেন। উহুদ, খন্দক ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি তাঁহার ভাই হুওয়ায়্যাসার তুলনায় বয়োকনিষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু তাঁহার পূর্বেই তিনি হিজরত-পূর্বকালে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং অগ্রজ হুওয়ায়‍্যাসা তাঁহারাই হাতে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ ইয়াহূদী নেতা কা'ব ইব্‌ন আশরাফকে হত্যার নির্দেশ দিলে মুহায়্যাসা ইয়াহুদী বণিক ইব্‌ন সানীনা/ ইবন সাবীনা-এর উপর ঝাঁপাইয়া পড়েন এবং তাঁহাকে হত্যা করেন। অগ্রজ হুওয়ায়‍্যাসা তখনও ইসলাম গ্রহণ করেন নাই। তিনি এই অপরাধে অনুজ মুহায়্যাসাকে প্রহার করিতে করিতে বলেন, হে আল্লাহর শত্রু, এমন এক ব্যক্তিকে তুই হত্যা করলি যাহার সম্পদে সৃষ্ট চর্বি তোর পেটে এখনও বিদ্যমান!

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ফাতিমা (রা)-কে প্রদত্ত নবী কারীম (সা)-এর চিরকুট

📄 হযরত ফাতিমা (রা)-কে প্রদত্ত নবী কারীম (সা)-এর চিরকুট


রাসূলুল্লাহ্-এর পত্র বিশেষজ্ঞ আলী ইব্‌ন হুসায়ন আলী আল-আহমাদী এই ব্যাপারে যে মন্তব্য করিয়াছেন তাহা প্রণিধানযোগ্য। তিনি লিখেন:
يظهر من الكتاب انه الله جعل لهن مئة وثمانين وسقا ولكنه لم يعلم انه لهن اكتع او كظل واحد منهن وفي سيرة ابن هشام عند ذكره مقاسم خيبر ولنسائه سبع مأة وسق ثم ذكر هذا الكتاب فالظاهر تعددهما فعلى هذا قسم لهن من خيبر مرتين ويظهر من البلاذرى في فتوح البلدان ص ۲۷ بيروت انه من كان يقوت اهله من زروع اراضي بني النضير ونخيلة فلعله (ص) كان يقوت اهله من هنا وهنا والله العالم.
"পত্রের দ্বারা প্রতীয়মান হয়, রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদের (পরিবারবর্গের) জন্য ১৮০ ওয়াসাক নির্ধারণ করেন। কিন্তু তিনি উহা তাঁহাদের সকলের জন্য বরাদ্দ করিয়াছিলেন, নাকি প্রত্যেকের জন্য ঐ হারে তাহা জানা যায় নাই। সীরাতে ইবন হিশামে খায়বারের অংশ বিতরণ সম্পর্কে আছেঃ তাঁহার সহধর্মিনিগণের জন্য ৭০০ ওয়াসাক নির্ধারণ করেন, অতঃপর তিনি এই পত্রখানি উদ্ধৃত করেন। তাই এই অংশ নির্ধারণের ব্যাপারটি যে একাধিকবার ঘটিয়াছিল তাহা সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, নবী কারীম তদীয় পরিবারবর্গের জন্য দুইবার অংশ নির্ধারণ করিয়াছিলেন। আর ফুতূহুল বুলদানে বালাযুরীর বর্ণনা হইতে (বৈরূত মুদ্রণ, পৃ. ২৭) প্রতীয়মান হয় যে, তিনি বন্ নাযীর গোত্রের ভূমি হইতে উৎপন্নজাত ফসল ও খেজুর হইতে তাঁহার পরিবারবর্গের সাংবাৎসরিক খাদ্যের প্রয়োজন মিটাইতেন। সম্ভবত তিনি কখনও বনূ নাযীরের ভূমি হইতে, আবার কখনও খায়বারের অংশ হইতে তাঁহার পরিবারবর্গের খাদ্যের প্রয়োজন মিটাইতেন। আল্লাহই সম্যক অবগত"।
কানযুল উম্মালে (২খ.) আছে:
ان رسول الله ﷺ اعطى ازواجه من خيبر كل امرأة منهن ثمانين وسقا من تمر وعشرين وسقا من شعير.
"রাসূলুল্লাহ্ খায়বারের সম্পদ হইতে তাঁহার প্রত্যেক সহধর্মিণীকে ৮০ ওয়াসাক খেজুর এবং কুড়ি ওয়াসাক যব দান করেন" (দ্র. মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫৬২)।
হযরত ফাতিমা (রা)-কে প্রদত্ত নবী কারীম-এর চিরকুট
নবী দুহিতা হযরত ফাতিমা (রা) একদা একটি অনুযোগ লইয়া পিতৃগৃহে উপস্থিত হইলেন। নবী কারীম তাঁহার হাতে একটি চিরকুট তুলিয়া দিয়া বলিলেন:
تعلمى ما فيها "উহাতে যাহা আছে তাহা শিখিয়া লও।” তিনি উহা খুলিয়া দেখিলেন উহাতে লিখিত রহিয়াছে:
من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذى جاره ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليكرم ضيفه ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا اولبسكت.
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে তাহার উচিত প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে তাহারা উচিত মেহমানের সমাদর করা। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকাল দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে তাহার উচিত উত্তম কথা বলা অথবা চুপ থাকা" (উসূলুল কাফী, ২খ., পৃ. ৬৬৭; আল-ওয়াসাইল, ২খ., পৃ. ২; কিতাবুল হজ্জ 'প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া ওয়াজিব' পরিচ্ছেদ; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫২৭, পত্র নং ১৭১; দ্র. আল-আদাবুল মুফ্রাদ, অনুচ্ছেদ ৫৫, হাদীছ নং ১০২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00