📄 আবদুল্লাহ ইব্ন জাহ্শকে লিখিত রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
হিময়ারী বাদশাহগণের নামে রাসূলুল্লাহ -এর পত্র
ফুআদ বুস্তানী প্রণীত আরবী বিশ্বকোষ, মু'জামুল বুলদান, আরদুল কুরআন প্রভৃতি পুস্তক পাঠে জানা যায়, ইয়ামানের দক্ষিণ ভাগ জুড়িয়া যে রাজ্যটি সুদীর্ঘ কাল ধরিয়া কায়েম ছিল তাহা হিময়ার নামে মশহুর ছিল। হিময়ার শব্দটি আরবী হুমরা (حمرة) শব্দ হইতে নির্গত, যাহার অর্থ লোহিত বর্ণ। আরবগণ হাবশী বা কৃষ্ণাঙ্গদেরকে বলিত সূদান (سودان) অর্থাৎ কৃষ্ণাঙ্গ পক্ষান্তরে হাবশীগণ আরবদেরকে বলিত হিময়ার বা লোহিত বর্ণের জাতি। এই হিময়ারীগণ খৃস্টপূর্ব দশম শতাব্দীর পূর্বে পশ্চিম ইয়ামানে আগমন করে এবং চতুর্দিকের আরব এলাকায় তাহাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। তাহাদের এই সালতানাত বেশ কয়েক শতাব্দী ধরিয়া ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। শেষ পর্যন্ত ইসলামের আর্বিভাবের কিছু পূর্বে তাহা বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত হইয়া কয়েকটি সামন্ত রাজ্যে পরিণত হয়। এই বাদশাহদেরই বংশধরগণের মধ্যে 'আবদ কুলালের সন্তানদ্বয় হারিছ ও শুরায়হ এবং হামাদান, মু'আফির ও নু'মান ছিলেন হিময়ারীদের নেতা। রাসূলুল্লাহ দশম হিজরীতে আয়্যাশ ইন্ন আবী রবী'আ আল-মাখযূমী (রা)-কে দৌত্যকর্মের দায়িত্ব দিয়া এই রাজন্যবর্গের নিকট প্রেরণ করেন। তাঁহাদের উদ্দেশ্যে লিখিত রাসূলূল্লাহ্ -এর পত্রখানা ছিল এইরূপ: انتم ما امنتم بالله ورسوله وان الله وحده لا شريك له بعث موسى باياته و خلق عيسى بكلماته قالت اليهود عزير ابن الله وقالت النصارى الله ثالث ثلاثة عيسى ابن الله. "আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক সেই পর্যন্ত যাহাতে আপনারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের প্রতি ঈমান রাখিবেন। আল্লাহ্ এক, তাঁহার কোন শরীক নাই। তিনি মূসা (আ) কে নিদর্শনাদি দিয়া পাঠাইয়াছেন এবং 'ঈসা (আ)-কে তাঁহার কলেমা দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন। কিন্তু ইয়াহুদীরা বলে, উযায়র আল্লাহ্র পুত্র এবং খৃস্টানরা বলে 'ঈসা তিন উপাস্যের একজন, 'ঈসা আল্লাহ্ পুত্র” (আল-মিসবাহ আল-মুদী, ২খ., পৃ. ৩৬৬)।
নবী কারীম পত্রখানা হযরত 'আয়্যাশ (রা)-এর হাতে অর্পণ করিয়া বলিয়া দেন, যখন তুমি ইয়ামানে তোমার মনযিলে মকসূদে গিয়া উপনীত হইবে তখন যদি রাত হইয়া যায়,
রাত্রিবেলা তাহাদের দরবারে যাইও না। ভোর হইলে উযু করিয়া দুই রাকআত সালাত আদায় করিয়া আল্লাহ্র দরবারে তোমার উদ্দেশ্যের সফলতার জন্য দু'আ করিবে। যখন আমার এই পত্র ঐ নেতৃবৃন্দের হাতে অর্পণ করিবে তখন তাহা তোমার ডান হাত দ্বারা তাহাদের ডান হাতে অর্পণ করিবে। ইন্শাআল্লাহ্ তাহারা ইহা কবুল করিবে এবং ইতিবাচক সাড়া দিবে। আলাপ-আলোচনার পূর্বে সূরা বায়্যিনাত তিলাওয়াত করিবে। তারপর امن بحمد وانا اول المؤمنين "আমি মুহাম্মাদের প্রতি ঈমান আনয়ন করিয়াছি এবং আমি সর্বপ্রথম মু'মিন" বলিয়া তাহাদের সহিত বাক্যালাপ শুরু করিবে। অতঃপর লক্ষ্য করিবে তাহারা কোন প্রমাণ বা লিপি উপস্থাপনে ব্যর্থ হইবে। তাহারা যদি অবোধ্য ভাষায় তোমাকে লক্ষ্য করিয়া কিছু বলে, তবে তুমি বলিবে, দোভাষীর মাধ্যমে ইহা অনুবাদ করিয়া আমাকে শুনাইয়া দিন। তখন তুমি এইরূপ দু'আ করিবে :
قل حسبى الله امنت بما انزل الله من كتابه وامرت لاعدل بينكم الله ربنا وربكم لنا اعمالنا ولكم اعمالكم لا حجة بيننا وبينكم الله يجمع بيننا واليه المصير "বল, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি ঈমান আনয়ন করিয়াছি আল্লাহ্ যে কিতাব নাযিল করিয়াছেন তাহার প্রতি এবং আমি আদিষ্ট হইয়াছি তোমাদের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করিতে। আল্লাহ্ আমাদের ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্য আমাদের কর্মফল এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কর্মফল। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন বিবাদ-বিসম্বাদ নাই। আল্লাহই আমাদের সকলকে একত্র করিবেন এবং শেষ প্রত্যাবর্তন তাঁহারই নিকট"।
উল্লেখ্য, ইহা আল-কুরআনের ৮২তম সূরা-এর ১৫তম আয়াত, তবে 'হাস্বিয়াল্লাহ্' শব্দটি এখানে বাড়তি আছে।
রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে আরও বলেন, তারপর তাহারা ইসলাম গ্রহণ করিলে বলিবে, "আপনাদের সেই কাষ্ঠ খণ্ডগুলি কোথায় যেগুলি দর্শনমাত্র আপনারা সিজদায় লুটাইয়া পড়েন?" কথিত আছে যে, ঐ তিনটি কাষ্ঠ খণ্ড সম্ভবত ক্ষুদ্রাকৃতির এবং এইগুলির একটি ছিল ঝাউ গাছ নির্মিত- যাহার উপর শুভ্র ও হলুদ রঙের আস্তরণ ছিল। দ্বিতীয়টি ছিল আবলুস কাঠের এবং তৃতীয়টি ছিল একটি গ্রন্থিযুক্ত কাঠ- যাহাকে আরবীতে খায়যুরান বলা হইয়া থাকে। ইহা ছিল বাঁশ বা বেত জাতীয়। রাসূলুল্লাহ্ (স) হযরত আয়্যাশকে বলিয়া দেন, ঐ কাষ্ঠগুলি পাইয়া গেলে তুমি সর্বসমক্ষে তাহা পোড়াইয়া ফেলিবে।
পত্রবাহক হযরত 'আয়্যাশ (রা) বর্ণনা করেন, আমি যখন আমার গন্তব্যস্থলে গিয়া উপনীত হইলাম, তখন আমি একটি বিশাল প্রাসাদে নীত হইলাম। তিন তিনটি তোরণ অতিক্রম করিয়া আমি মূল ফটকের পর্দার নিকট গিয়া উপনীত হইলাম। পর্দা উঠাইয়া যখন আমি ভিতরে প্রবেশ করিলাম তখন শাহী দরবার চলিতেছিল। আমি অগ্রসর হইয়া বলিলাম, আমি আখেরী যমানার নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্-এর দূত। সাথে সাথে আমি পত্রটি হস্তান্তর করিলাম। এই সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ্ আমাকে তখন যাহা যাহা করিতে বলিয়া দিয়াছিলেন সেই মতই কাজ করিলাম। হিময়ারের নেতৃবৃন্দ রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর বরকতময় পত্রখানা পাইয়া চুম্বন করিলেন এবং উহা পাঠ করিয়া স্বতস্ফূর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ্-এর নির্দেশ মুতাবিক তাহাদের নিকট হইতে কাষ্ঠখণ্ডগুলি চাহিয়া লইলাম এবং প্রকাশ্য রাজপথে তাহা
পোড়াইয়া ভস্ম করিলাম। তারপর আমার মিশন পূর্ণ করিয়া মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়া নবী কারীম (স)-এর নিকট আনুপূর্বিক তাহা বর্ণনা করিলাম।
কোন কোন রিওয়ায়াতে আছে, ইসলাম গ্রহণের পর হিময়ারের রাজন্যবর্গ তাঁহাদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদসহ রীতিমত একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্-এর দরবারে প্রেরণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাদের ইসলাম গ্রহণে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাহাদের প্রতিনিধি দলকে সাদর আপ্যায়নে সম্মানিত করেন। এই সময় তিনি হিময়ারের রাজন্যবর্গের নামে আরেকটি উপদেশ পত্র লিখিয়া অত্যন্ত মর্যাদার সহিত তাহাদেরকে স্বদেশের পথে রওয়ানা করিয়া দেন। সেই পত্রটির বক্তব্য ছিল এইরূপ:
أما بعد ذلكم فإني أحمد الله الذي لا إله إلا هو أما بعد فإنه قد وقع بنا رسولكم مقفلنا من أرض الروم فبلغ ما أرسلتم وخبر عما قبلكم وأنبأنا بإسلامكم وقتلكم المشركين فإن الله تبارك وتعالى قد هداكم بهداه إن أصلحتم وأطعتم الله ورسوله وأقمتم الصلاة وآتيتم الزكواة وأعطيتم من المغنم خمس الله وخمس نبيه وصفيه وما كتب على المؤمنين من الصدقة وما كتب على المؤمنين من الصدقة من العقار عشر ما سبقت العين وسقت السماء وعلى ما سقى الغرب نصف العشر وان في الابل الاربعين ابنة لبوت وفى ثلاثين من الابل ابن لبون ذكر وفي كل خمس من الابل شاة وفى كل عشر من الابل مثاثان وفى كل اربعين من البقر بقرة وفي كل ثلاثين من والبقر تبيع جذع ارجزعة وفى كل اربعين من الغنم سائمة وحدها شاة وانه فريضة الله التي فرض الله على المؤمنين الصدقة فمن زاد خيرا فهو خيرله ومن ادى ذلك واشهد على اسلامة وظاهر المؤمنين على المشركين فانه من المؤمنين له ما لهم وعليه ما عليهم وله كرمة الله وكرمه رسوله. "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ -এর পক্ষ হইতে হিময়ারের বাদশাহগণের প্রতি। আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হউক। আমি সেই আল্লাহ্ প্রশংসা করিতেছি যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। আমার রোম ভূখণ্ড হইতে প্রত্যাবর্তনের পর আপনাদের দূতগণ আমার নিকট আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন। তাঁহারা পৌত্তলিকদের সহিত আপনাদের যুদ্ধসহ সেখানকার যাবতীয় সংবাদ আমাকে সবিস্তারে অবগত করিয়াছেন। আল্লাহ্ তা'আলা আপনাদেরকে তাঁহার হিদায়াত দ্বারা ধন্য করিয়াছেন। আল্লাহ্ এবং তদীয় রাসূলের আনুগত্য করিয়া যাওয়া এখন আপনাদের দায়িত্ব।
"আপনারা সালাত কায়েম করিবেন, যাকাত আদায় করিবেন, গনীমতের মধ্য হইতে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের হক এক-পঞ্চমাংশ আদায় করিবেন। আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের সম্পদে যে যাকাত নির্ধারণ করিয়াছেন তাহা হইল, নদী ও বৃষ্টি সিঞ্চিত জমিতে উশর বা এক-দশমাংশ এবং সেচ-সিঞ্চিত জমিতে অর্ধ-উশর বা কুড়ি ভাগের এক ভাগ” (তাবাকাত ইবন সা'দ, ১খ., পৃ. ৩৫৬; আল-মিসবাহ আল-মুদী ২খ, পৃ. ২৬৮; ফুতুহুল বুলদান, ১খ., পৃ. ৭০; তারীখ তাবারী,
"প্রতি চল্লিশটি উটের যাকাত হইতেছে একটি যুবতী উস্ত্রী, ৩০টি উটের যাকাত একটি যুবক উট, প্রতি পাঁচটি উটের যাকাত একটি ছাগল এবং দশটি উটের দুইটি ছাগল। "প্রতি চল্লিশটি গরুর যাকাত হইতেছে একটি গাভী এবং প্রতি ত্রিশটি গরুর যাকাত হইতেছে একটি বাছুর। প্রতি চল্লিশটি ছাগলের যাকাত হইতেছে একটি নর ছাগল। পশু সম্পদের যাকাতের হিসাব ইহাই। যাকাতের এই হিসাব বা পরিমাণ আল্লাহ্ তা'আলা মুসলিমদের উপর ফরয করিয়াছেন। যে উহার বেশী দিবে তাহার জন্য অতিরিক্ত ছওয়াব রহিয়াছে। কিন্তু যে কেবল নির্ধারিত পরিমাণ যাকাত আদায় করে, নিজের মুসলমান হওয়ার কথা ঘোষণা করে, পৌত্তলিকদের মুকাবিলায় মুসলমানদের সহযোগিতা করে, সে-ই প্রকৃত মুসলমান। একজন মুসলমানের প্রাপ্য তাবৎ হক তাহার প্রাপ্য। অনুরূপ একজন মুসলমানের তাবৎ কর্তব্যও তাহার উপর বর্তাইবে। "এই অঙ্গীকার পূরণের নিশ্চয়তা মহান আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের পক্ষ হইতে দেওয়া হইতেছে।"
وانه من اسلم من يهودى او نصرانى فانه من المؤمنين له ما لهم وعليه ما عليهم ومن كان على يهوديته او نصرانيته فانه لا يرد عنها وعليه الجزية على كل حال ذكر او انثى حر او عبد دينار واف من قيمة المعافر او عوضه ثيابا فمن ادى ذلك الى رسول الله ﷺ فان له ذمة الله وذمة رسوله ومن منعه فانه عد والله ولرسوله. "যেই য়াহুদী বা খৃস্টান ইসলাম গ্রহণ করিবে, তাহার প্রতিও উহা প্রযোজ্য। ধর্মত্যাগে তাহাকে কোনমতেই বাধ্য করা হইবে না। তবে জিয়া দান তাহার কর্তব্য হইবে যাহার পরিমাণ প্রত্যেক বয়স্ক লোকের জন্য এক দীনার বা ঐ মূল্যের কাপড় বা অন্য কোন বিনিময়। যে ব্যক্তি উহা আদায় করিবে তাহার হিফাযতের যিম্মাদারী আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের উপর রহিল। আর যে ব্যক্তি জিয়া দানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিবে সে আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের শত্রু। সীলমোহর: মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (তাবাকাত, রাওদুল উনুফ, ১খ., পৃ. ২১৯; মাকতুবাতে নববী, পৃ. ২৫০-১)।
হিময়ারী পত্র প্রাপকগণ ও বাহকের নাম: তাবাকাত গ্রন্থে পত্রখানির পাঠ-এর শুরুতে পরোক্ষভাবে অর্থাৎ প্রতিনিধি দলের সদস্যগণের নামরূপে এবং রাওদুল উনুফে প্রত্যক্ষভাবে পত্র প্রাপকগণের নাম রহিয়াছে এইভাবে:
كتب رسول الله ﷺ إلى الحارث بن عبد كلال وإلى نعيم بن عبد كلال وإلى النعمان قيل ذي رعين ومعافر وهمدان. "আবদে কুলালের পুত্র হারিছ ও নু'আয়ম এবং নু'মান যু-রু'আয়ন, মু'আফির ও হামাদানের সামন্তরাজগণ” (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ৩৫৬; আর-রাওদুল উনুফ, ৪খ., পৃ. ২১৯)।
তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৫-এ আবদে কুলাল পুত্র শুরায়হ্-এর নামও রহিয়াছে। ইবন সা'দ-এর উক্ত গ্রন্থের উপরিউক্ত উভয় স্থানে হিময়ারী রাজাগণের পত্র এবং তাঁহাদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদসহ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর খেদমতে আগমনকারী দূতরূপ মালিক ইবন মুরায়া আর-রাহারীর নাম উল্লিখিত হইয়াছে। সাথে সাথে দূত আগমনের সময় নবম হিজরীর রমযান মাসের কথা উল্লেখিত হইয়াছে।
📄 আবূ সুফ্যানের জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
ড. হামীদুল্লাহ ওয়াকিদীর কিতাবুল মাগাযী-এর বৃটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (পৃ. ১১৩), মাকরিযীর কিতাবুন নিযা' ওয়াত-তাখাসুম ফীমা বায়না বনী উমায়্যা ওয়া বনী হাশিম-এর ইস্তাম্বুল নূর উছমানিয়া যাদুঘরে রক্ষিত হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (পৃ. ৯), বালাযুরীর আনসাবুল আশরাফ-এর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যায় রক্ষিত পাণ্ডুলিপি (১খ., পৃ. ৩৫৮-৯) এবং মাকরিযীর অপর এক গ্রন্থ ইমতাউল আসমা (১খ., পৃ. ২৩৯)-এর বরাতে তদীয় মাজমূআতুল ওয়াছাইকিস সিয়াসিয়্যা গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উদ্দেশ্যে আবু সুয়ানের লিখিত পত্র এবং তাহার জবাবে রাসূলুল্লাহ-এর পত্রের যে বিবরণ দিয়াছেন আলী ইবন হুসায়ন আলী আল-আহমাদী মাকাতীবুর রাসূল গ্রন্থে তাহা উদ্ধৃত করিয়াছেন। আবূ সুফয়ান খন্দক যুদ্ধের সময় কুরায়শ তথা সম্মিলিত কাফির বাহিনীর অধিনায়ক রূপে রাসূলুল্লাহ-এর উদ্দেশ্যে লিখেন :
বاسمك اللهم فانى احلف بالات والعزى واساف ونائلة وهبل) لقد سرت اليك في جمعنا وانا نريد ان لا نعود اليك ابدا حتى نستاصلكم فرأيت قد كرهت لقائنا وجعلت مضايق وخنادق فليت شعرى من علمك هذا فان نرجع عنكم فلكم منا يوم كيوم أحد ننصر فيه النساء.
"তোমার নামে হে আল্লাহ! লাত ও উযযা (এবং ইসাফ, নাইলা ও হুবাল) দেবতার কসম। আমি সদলবলে তোমার দিকে অভিযান পরিচালনা করি। আমার ইচ্ছা ছিল, তোমাদেরকে সমূলে উৎখাত না করিয়া ফিরিব না। আসিয়া দেখিলাম, আমাদের সহিত সম্মুখ সমরে তুমি অনীহাগ্রস্ত, খানা-খন্দক ও পরিখাদি খনন করিয়া রাখিয়াছ। যদি জানিতে পারিতাম, কে তোমাকে এইগুলি শিক্ষা দিল! এখন তোমাদের নিকট হইতে ফিরিয়া চলিয়া যাইতেছি। আমাদের পক্ষ হইতে তোমাদের জন্য উহুদের মত আরেকটি যুদ্ধ রহিয়া গিয়াছে যেদিন আমরা আমাদের নারীদেরকে সাহায্য করিব"।
📄 খন্দক যুদ্ধের পূর্বে লিখিত আবূ সুফয়ানের পত্রের জবাবে
রাসূলুল্লাহ তাহার জবাবে লিখিলেন :
من محمد رسول الله ﷺ الى ابى سفيان بن حرب اما بعد فقد اتاني كتابكو) قد يما غرك بالله الغرور واما ما ذكرت انك سرت الينا في جمعكم وانك لا تريد ان تعود حتى تستأصلنا فذلك أمر الله يحول بنيك وبينه ويجعل لنا العاقبة حتى لا تذكر اللات والغرى واما قولك من علمك الذي صنعنا من الخندق فان الله الهمني ذلك لما اراد من غيظك به وغيض اصحابك ولياتين عليك يوم اكسر فيه اللات والعزى واساف ونائلة وهبل اذكرك ذلك.
"আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হইতে আবূ সুফয়ান ইবন হারবের প্রতি। অতঃপর সমাচার এই যে, তোমার পত্র আমার নিকট পৌঁছিয়াছে। আল্লাহ্র ব্যাপারে তোমার ধোঁকায় নিমজ্জিত থাকা অনেক পুরাতন ব্যাপার (নূতন কিছু নহে)। আর তুমি যে উল্লেখ করিয়াছ, তুমি সদলবলে আমাদের নিকট আসিয়া পৌঁছিয়াছ এবং আমাদের সম্পূর্ণ উৎখাত না করিয়া ফিরিয়া যাইতে তুমি চাও না, উহা একমাত্র আল্লাহ্রই কাজ, তোমার এবং উহার মধ্যে তিনিই অন্তরায় সৃষ্টি করিয়া দিবেন। তিনি সুপরিণাম আমাদের জন্যই সৃষ্টি করিবেন, এমনকি লাত ও উযযার নামটি পর্যন্ত তোমরা মুখে লইতে পারিবে না। আর তোমার প্রশ্ন, কে তেমাকে উহা শিখাইল? (তাহার জবাব হইল) আমরা যে পরিখা খনন করিয়াছি, আল্লাহ যখন তোমার ও তোমার সঙ্গী-সাথীদের জিঘাংসা প্রত্যক্ষ করিলেন তখন তিনিই আমার অন্তরে ইহার জ্ঞান সঞ্চার করিয়া দিয়াছেন। নিঃসন্দেহে এমন এক দিন আসিবে যেদিন (লাত ও উযযা) ইসাফ, নায়েলা ও হুবল মূর্তিগুল চুরমার করিয়া দেওয়া হইবে। আমি তোমাকে উহা স্মরণ করাইয়া দিতেছি" (মাজমূআতুল ওয়াছাইকিস সিয়াসিয়্যা, পৃ. ২৭, নং ৭; প্রাগুক্ত সূত্রগুলির বরাতে; মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫২৮)।
فان الله الهمنى ذلك )আল্লাহই উহার জ্ঞান আমার অন্তরে সঞ্চারিত করিয়াছেন) বাক্যের দ্বারা কেহ ধারণা করিতে পারেন যে, সালমান ফারসীই খন্দক খনন করিয়াছিলেন, তাহা হইলে আল্লাহ্ উহা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে শিক্ষা দিয়াছেন বলা কতটুকু সঙ্গত ছিল। ইহার জবাবে বলা যায়, মূলত এই জ্ঞানটি আল্লাহ প্রদত্ত ছিল। সঙ্গী-সাথীদের অন্তর জয়ের জন্য পরামর্শ চাহিলে সালমান ফারসী সেই পরামর্শ দিয়াছেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও তাহাকে সম্মান দিয়াছেন! আল্লাহ্র শিক্ষাদানের সাথে তাহার কোন বিরোধ নাই (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫২৯)।
খন্দক যুদ্ধের পূর্বে লিখিত আবূ সুফয়ানের পত্রের জবাবে
وصل كتاب اهل الشرك والنفاق والكفر والشقاق زخمت مقالتكم فوالله ما لكم عندى جواب الا اطراف الرماح واشفار الصفاح فارجعوا ويلكم من عبادة الاصناء وأبشروا يضرب الحسام وبفلق الهام وخراب الديار وقلع الآثار والسلام على من اتبع الهدى.
الا ابلغ عنى قريشا الا هلموا کی تلاقوا ما لاقيتم من لسان كالحسام من الصمصام في بدن رهام
"শিরক, নিফাক, কুফর ও বিবাদ সৃষ্টিকারীদের পত্র পৌঁছিয়াছে। আমি তোমাদের বক্তব্য অনুধাবন করিয়াছি। আল্লাহ্র কসম! বর্শাফলক ও তরবারির ক্ষুরধার কিনারা ছাড়া ইহার আর কোন জবাব আমার নিকট নাই। মূর্তি পূজার দুর্ভোগ লইয়া তোমরা ফিরিয়া যাও। তাহাদেরকে তরবারির আঘাতে মস্তক দ্বিখণ্ডিত করা, বাড়ীঘর ধ্বংস করা এবং নিদর্শন নিশ্চিহ্ন করিবার সুসংবাদ দাও। সালাম তাহার প্রতি যে হিদায়াতের অনুসরণ করে। পৌঁছে দাও বার্তা আমার কুরায়শগণে তরবারি সম ধারাল রসনা দিয়ে এসো এসো নাও চেখে তার স্বাদটুকু তরবারি থেকে দেহ ও মাথার খুলি দিয়ে" (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইকিস সিয়াসিয়্যা, পৃ. ২৬)।
রাসূলুল্লাহ আবূ সুফয়ানের যে পত্রের জবাবে উক্ত পত্রখানা লিখিয়াছিলেন ড. হামীদুল্লাহ তাহাও উদ্ধৃত করিয়াছেন উপযুক্ত সূত্রসমূহের বরাতে। তাহার সেই পত্রখানা ছিল এইরূপ:
اما بعد فانك قتلت ابطا لنا وايتمت الاطفال ودملت النسوان والان قد اجتمعت القبائل والعشائر يطلبون قتالك وقلع اثارك وقد انفذنا اليك نريد منك نصف نخل المدينة فان اجبتنا الى ذلك والا ابشر بخراب الديار وقلع الآثار تجاوبت القبائل من نزار لنصر اللات في بيت الحرام واقبلت الضراغم من قريش على خيل مسومة ضرام
"অতঃপর সমাচার, তুমি আমাদের বীরপুরুষদেরকে হত্যা করিয়াছ, আমাদের শিশুদেরকে পিতৃহীন এবং নারীদেরকে বিধবা করিয়াছ। এখন বিভিন্ন কবীলা ও বিভিন্ন বংশের লোক তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং তোমাকে সমূলে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হইয়াছে। আমরা তোমার দিকে ইতোমধ্যেই রওয়ানা হইয়াছি। এখন তোমার নিকট আমাদের দাবি, মদীনার অর্ধেক খেজুর আমাদেরকে দিতে হইবে। যদি তাহাতে সাড়া দাও (তাহা হইলে উত্তম), অন্যথায় ঘরবাড়ির বিনাশ ও সমূলে উচ্ছেদের সুসংবাদ গ্রহণ কর।
📄 একজন নিহত সাহাবীর খুনের ব্যাপারে খায়বারের ইয়াহূদীগণের প্রতি পত্র
ইবন হিশাম (র) বর্ণনা করেন, ইবন ইসহাক, যুহরী, সাহল ইব্ন আবী হাসমা (রা) সূত্রে এবং বনী হারিছার মাওলা বশীর ইবন ইয়াসার, সাহল ইব্ন আবী হাস্সা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাহল (রা) খায়বারে নিহত হন। সেখানে অবস্থিত তাঁহার লোকজনের নিকট হইতে খেজুর সংগ্রহ করিয়া আনিতে তিনি সেখানে গিয়াছিলেন। সেখানে ঘাড় মটকান অবস্থায় এক কূপের মধ্যে তাঁহার লাশ পাওয়া গেল। নিহত ব্যক্তির ভাই 'আবদুর রহমান ইব্ন সাহল তাঁহার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ, তাঁহার দুই পিতৃব্য পুত্র হুওয়ায়্যাসা এবং মুহায়্যাসাকে সঙ্গে লইয়া রাসূলুল্লাহ-এর নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করিতে গেলেন। বয়সে তাঁহাদের তুলনায় কনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও রক্তপণের হকদার এবং স্ব-সম্প্রদায়ের একজন বীরপুরুষ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসাবে আবদুর রহমানই অগ্রবর্তী হইয়া কথা বলিতেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বলিলেনঃ کبر کبر জ্যেষ্ঠই জ্যেষ্ঠ বা অগ্রাধিকার পাওয়ার হকদার। অর্থাৎ জ্যেষ্ঠদিগকেই কথা বলিতে দেওয়া উচিত। তখন তিনি চুপ করিলেন এবং তাঁহারাই তাঁহাদের পক্ষ হইতে বক্তব্য উপস্থাপন করিলেন এবং পরে তিনি নিজেও কথা বলিলেন। তাঁহারা তাঁহাদের লোকের নিহত হওয়ার কথা ব্যক্ত করিলেন।
রাসূলুল্লাহ বলিলেন: তোমরা কি বলিতে পার হত্যাকারী কে? এই ব্যাপারে নিশ্চিত হইয়া তোমাদের পঞ্চাশজন কি আল্লাহর নামে কসম করিতে পারিবে? জবাবে তাঁহারা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যাহা জ্ঞাত নহি সেই ব্যাপারে আমরা তো শপথ করিতে পারি না। তিনি বলিলেন: তাহারা কি এই ব্যাপারে আল্লাহ্র নামে কসম করিতে পারিবে যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই বা তাহারা হত্যাকারী কে তাহা জানে না? তারপর তাহারা কি নিজদিগকে এই খুনের ব্যাপারে নির্দোষ বলিয়া ঘোষণা করিবে? তখন রাসূলুল্লাহ নিজের পক্ষ হইতে এক শতটি উট রক্তপণস্বরূপ তাঁহাকে দিলেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল খায়বারের য়াহুদী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত পত্রখানি লিখেন: انه قد وجد قتيل بين ابياتكم فردوه او ائذنوا بحرب من الله). "তোমাদের মহল্লায় এক ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গিয়াছে। তোমরা তাহার রক্তপণ পরিশোধ করিবে” (অথবা আল্লাহ্র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিবে)। ইবন হিশাম বর্ণনা করেন:
فكتبوا اليه يحلفون بالله ما قتلوه ولا يعلمون له قاتلا فوداه رسول الله ﷺ من عنده.
"জবাবে তাহারা আল্লাহর নামে কসম করিয়া তাঁহাকে এই মর্মে পত্র লিখিল যে, তাহারা তাঁহাকে হত্যা করে নাই এবং কে তাহাকে হত্যা করিয়াছে তাহাও তাহাদের জানা নাই। তখন রাসূলুল্লাহ নিজের পক্ষ হইতে তাহার রক্তপণ আদায় করিলেন"।
আলী ইবন হুসায়ন আলী আল-আহ্লাদী এই প্রসঙ্গে বলেন:
لعله اداه من بيت المال كما في الحديث الآخر عن أبي عبد الله عليه السلام ان كان بارض فلاة اديت ديته من بيت المال.
"সম্ভবত বায়তুল মাল হইতে উহা পরিশোধ করা হইয়াছিল। কেননা আবূ আবদুল্লাহ্ বর্ণিত অন্য হাদীছে আছেঃ "যদি কোন উন্মুক্ত প্রান্তরে কোন মৃতদেহ পাওয়া যায়, তাহা হইলে তাহার রক্তপণ বায়তুল মাল যা রাষ্ট্রের পক্ষ হইতে পরিশোধ করিতে হইবে।"
ইবনুল আছীর আবদুল্লাহ্ ইব্ন সাহল-এর বর্ণনায় লিখেন, তিনি হইতেছেন আবদুল্লাহ ইব্ন সাহল ইব্ন রাফি' আল-আনসারী, অতঃপর আশহালী, তিনি বনূ যা'উরার লোক ছিলেন এবং খায়বারে নিহত হন। ইব্ন হাজর আল-ইসাবায় (২খ., পৃ. ৪৭৩৩) এবং আবূ উমার আল-ইস্তীআবে অনুরূপ লিখিয়াছেন (মাকাতীবুর রাসূল, ৩খ., পৃ. ৫৩২-৪)।
এই নুমায়লাই মিয়াস ইবন সাবাবাকে হত্যা করিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ৪খ., পৃ. ৩০)। বনূ মুস্তালিক যুদ্ধে গমনের সময় রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া গিয়াছিলেন (ইবন হিশাম, ৩খ., পৃ. ৩৩৩)। হুদায়বিয়ায় গমনকালেও তিনি তাঁহাকে মদীনায় তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া যান (প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ.৩৫৫; হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ১০)। খায়বারের দিকে রওয়ানা হওয়ার সময়ও রাসূলুল্লাহ তাঁহাকেই ঐ দায়িত্ব দিয়া গিয়াছিলেন (প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ৩৭৮; হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ৩৬; সীরাহ দালান, হালাবিয়্যার পাদটীকায় মুদ্রিত, ২খ., পৃ. ২৩৩)। রাসূলুল্লাহ যে খায়বারের সম্পদ হইতে ৫০ ওয়াসাক তাঁহাকে দান করেন, ইব্ন হিশামও তাহা বর্ণনা করিয়াছেন।
পত্রে উল্লিখিত উম্মে হাবীba বিনতে জাহ্শ ছিলেন উম্মুল মুমিনীন যায়নাব (রা)-এর ভগ্নি। তাঁহাকে উম্মে হাবীবও বলা হইয়া থাকে। তবে উম্মে হাবীবা নামেই তিনি সর্বাদিক পরিচিত। তিনি ছিলেন হযরত আবদুর রাহমান ইবন 'আওফ (রা)-এর সহধর্মিনী। রাসূলুল্লাহ-এর হিজরতের পূর্বে তিনি হিজরত করিয়াছিলেন (ইব্ন হিশাম, ২খ., পৃ. ৮১)।
পত্রে উল্লিখিত মুহায়্যাসা ইবন মাসউদ (রা) ছিলেন মাসউদ ইব্ন কা'ব আল-আনসারী আল-আওসীর পুত্র। তাঁহাকে আবূ সা'দ উপনামে ডাকা হইত। রাসূলুল্লাহ ফাদাকবাসি-গণকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাঁহাকে প্রেরণ করিয়াছিলেন। উহুদ, খন্দক ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি তাঁহার ভাই হুওয়ায়্যাসার তুলনায় বয়োকনিষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু তাঁহার পূর্বেই তিনি হিজরত-পূর্বকালে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং অগ্রজ হুওয়ায়্যাসা তাঁহারাই হাতে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ ইয়াহূদী নেতা কা'ব ইব্ন আশরাফকে হত্যার নির্দেশ দিলে মুহায়্যাসা ইয়াহুদী বণিক ইব্ন সানীনা/ ইবন সাবীনা-এর উপর ঝাঁপাইয়া পড়েন এবং তাঁহাকে হত্যা করেন। অগ্রজ হুওয়ায়্যাসা তখনও ইসলাম গ্রহণ করেন নাই। তিনি এই অপরাধে অনুজ মুহায়্যাসাকে প্রহার করিতে করিতে বলেন, হে আল্লাহর শত্রু, এমন এক ব্যক্তিকে তুই হত্যা করলি যাহার সম্পদে সৃষ্ট চর্বি তোর পেটে এখনও বিদ্যমান!