📄 ওমানের অন্য রাজাদের নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
দীনার। পশু সম্পদের ব্যাপারে তোমাদের দেয় হইল একজন মুসলমানের তুলনায় দ্বিগুণ। আর আমাদের (রাষ্ট্রীয়) কর্মকর্তাদের গম তোমাদের গম ভাঙ্গার যাতায় বিনা পারিশ্রমিকে ভাঙ্গিয়া দিতে হইবে। হিদায়াতের অনুসারীদের প্রতি সালাম" (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ১২২)।
এই পত্রখানি পূর্বে উক্ত আবদ ও জায়ফার ব্যতীত অন্যান্য রাজাদের নামে লিখিত হইয়াছিল। সম্বোধনের বাক্যের প্রতি লক্ষ্য করিলেই তাহা প্রতীয়মান হয়। পত্রখানার পাঠ এইরূপ:
من محمد النبي رسول الله لعباد الله الاسبذيين ملوك عمان واسد عمان من كان منهم في البحرين انهم ان امنوا واقاموا الصلوة واتوا الزكوة واطاعوا الله ورسوله واعطوا حق النبي ﷺ ونسكوا نسك المؤمنين فانهم امنون. "নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পক্ষ হইতে আল্লাহ্ আসবাষবাসীদের (ওমান আসাদ-ওমানের রাজন্যবর্গের) প্রতি, তাহাদের মধ্যকার যাহারা বাহ্রায়ন এলাকায় রহিয়াছেন। তাহারা যদি ঈমান আনয়ন করেন, সালাত কায়েম করেন, যাকাত দেন এবং আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের আনুগত্য করেন, নবীর হক প্রদান করেন এবং মুসলিম রীতিতে পশু যবেহ করেন তবে তাহাদের জন্য নিরাপত্তা রহিয়াছে"।
পরবর্তী অংশটুকু পূর্বোক্ত পত্রের অনুরূপ। তবে শব্দে ও পাঠে কিছু পার্থক্য রহিয়াছে। তাহা এইরূপ:
وان لهم ما اسلموا عليه غير ان بيت النار ثنيا لله ورسوله وان عشور التمور صدقة ونصف عشور الحب وان للمسلمين نصرهم ونصحهم وان لهم على المسلمين مثل ذلك وان لهم ارحائهم يطحنون بها ما شاؤا. "তাহারা যে সমস্ত বস্তুর মালিক থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে সেই সব বস্তু তাহাদেরই থাকিবে, তবে অগ্নি উপাসনালয়গুলির মালিকানা আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূলের জন্য বর্তাইবে। খেজুরের এক-দশমাংশ এবং অন্যান্য শস্যের বিশ ভাগের এক ভাগ (অর্ধ উশর) যাকাতস্বরূপ দিতে হইবে। মুসলমানগণ তাহাদের সাহায্য-সহযোগিতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষার হকদার এবং তাহারা অনুরূপ মুসলমানদের নিকট হইতে হকদার হইবেন। তাহারা তাহাদের যাতাকলের মালিক থাকিবে এবং ইচ্ছামত উহাতে পেষণের কাজ করিবে”।
📄 হাওযাকে মহানবী (সা)-এর দূতের উপদেশ
ইথিওপিয়ায় হিজরতকারী মুসলিম কাফেলার অন্যতম সদস্য সালীত ইবন আমর ইবন আবদে শাম্স-এর ইয়ামামায় যাতায়াতের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় নবী কারীম ﷺ তাঁহাকেই হাওযার নিকট দূতরূপে প্রেরণ করেন। পত্রবাহকের নাম বলা হইয়াছে সুলায়ত ইব্ন কায়স আল-আনসারী (মাকতূবাতে নববী, পৃ. ১৭৫)।
এই পত্রখানা ঠিক ঐদিনই প্রেরিত হইয়াছিল যেদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজ-রাজড়াকে রাসূলুল্লাহ (স) পত্র প্রেরণ করিয়াছিলেন। পত্র প্রাপক হাওযা ধর্মত খৃস্টান ছিলেন (আল-কামিল, ইব্ন আছীর, ২খ., পৃ. ৮২; মু'জামুল বুলদান, বাহ্রায়ন শব্দের আলোচনায়)। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাওযার উদ্দেশ্যে লিখিত পত্রখানির পাঠ ছিল নিম্নরূপ:
বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম মিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ ইলা হুযাতা বিন আলী সালামুন আলা মানিত্তাবাআল হুদা ওয়ালাম আন্না দ্বীনি ছিয়াযহারু ইলা মুনতাহিল খিফি ওয়াল হাফির ফাসলিম তাসলাম ওয়াজ আল্লাকা মা তাহতা ইয়াদিক. “পরম করুণাময় ও পরম দয়াময় আল্লাহ্র নামে। আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হইতে হাওযা ইবন আলীর প্রতি। যে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত তাহার প্রতি সালাম। জানিয়া রাখিবেন, আমার ধর্ম অবিলম্বে অশ্ব ও উষ্ট্রের চারণভূমির (ভূখণ্ডের) শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হইবে। সুতরাং আপনি ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করিবেন। আপনার নিয়ন্ত্রণে যাহা আছে তাহা বহাল থাকিবে” (মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৩৬)।
পত্র হস্তান্তরের সময় দূত সালীত (রা) হাওযাকে যে উপদেশমূলক ভাষণ প্রদান করেন তাহা সংক্ষিপ্ত হইলেও অত্যন্ত অর্থপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। তিনি হাওয়ার প্রভাব-প্রতিপত্তিকে বিন্দুমাত্র ভয় না করিয়া তাহার মুখের উপর বলিয়া দিলেন :
ইয়া হুযাতা ইন্নাকা সাউদাল্লাকা আজিমুন হাঈলাতুন ওয়ার ওয়া-হু ফি-ন্নারি ওয়া ইন্নاماس ساঈদু মান তাবিয়া বিল ঈমানি ছুম্মা জুওদ বিল-تَقْوَىٰ وَأَنَا قَوْمَانِ سَائِدُو بَرَّائِكَ فَلَا يَشْكُلُونَ بِهِ وَإِنِّي آمُرُكَ بِخَيْرِ مَأْمُورٍ بِهِ وَأَنْهَاهُ عَنْ شَيْءٍ مَنْهِيٌّ عَنْهُ آمُرُكَ بِعِبَادَةِ اللَّهِ وَأَنْهَاكَ عَنْ عِبَادَةِ الشَّيْطَانِ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ الْجَنَّةُ وَفِي عِبَادَةِ الشَّيْطَانِ النَّارُ فَإِنْ قَبِلْتَ نِلْتَ مَا رَجَوْتُ وَآمِنْتَ مَا خِفْتَ وَإِنْ أَبَيْتَ فَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كَشْفُ الْغِطَّاءِ وَحَوْلُ الْمُطَالِي. “হে হাওযা! আপনার নেতৃত্ব-কর্তৃত্বই (সত্য গ্রহণের পথে) সবচেয়ে বড় বাধা এবং দোযখে গমনের সবচেয়ে বড় হেতু। প্রকৃত নেতা তো সেই ব্যক্তি যে ঈমানের দৌলত এবং তাওয়ার পাথেয় অর্জনে ধন্য হইয়াছে। আপনার সম্প্রদায় তো আপনার বিজ্ঞ নেতৃত্বের জন্য সৌভাগ্যবান। ইহার (অর্থাৎ এই পত্রের) ব্যাপারে যেন তাহারা হতভাগ্য প্রতিপন্ন না হয়। আমি আপনাকে নির্দেশিত উত্তম বিষয়ের আদেশ করিতেছি এবং নিষিদ্ধ বস্তু হইতে বারণ করিতেছি। আমি আপনাকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানাইতেছি এবং শয়তানের ইবাদত হইতে বিরত থাকিতে বলিতেছি। কেননা আল্লাহর ইবাদতে জান্নাত লাভ হয় এবং শয়তানের ইবাদতের দ্বারা জাহান্নাম পাওয়া যায়। আপনি যদি আমার আহ্বানে সাড়া দেন, আপনার কাঙ্ক্ষিত বস্তু আপনি লাভ করিবেন। আর যদি তাহা প্রত্যাখ্যান করেন তাহা হইলে আপনার এবং আমার মধ্যে পর্দা উন্মোচিত হইবে অর্থাৎ আপনার নিরাপত্তা থাকিবে না এবং বিভীষিকাময় দৃশ্যের অবতারণা হইবে।"
জবাবে হাওযা বলিলেন, হে সালীত! আপনার দিকনির্দেশনা দ্বারা আমি নিজেকে ধন্য মনে করিতেছি। তবে ভালমন্দ বিবেচনার আমার নিজস্ব একটা মানদণ্ড আছে, আপনার বক্তব্য শ্রবণে উহাতে তালগোল পাকাইয়া গিয়াছে। তাই আমাকে একটু সময় দিতে হইবে। আমার সেই বোধটুকু ফিরিয়া আসুক, ইনশাআল্লাহ আমি আপনার জবাব দিব" (মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৩৮)।
📄 হাওয়ার প্রতি খৃস্টান ধর্মযাজকের সতর্কবাণী
পত্র প্রাপ্তির পর হাওযা দূতকে সাদরে বরণ করেন, তাঁহাকে সম্মান প্রদর্শন করিয়া নিজের পাশেই আসন দান করেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬২)। অতপর তিনি রাসূলুল্লাহ-এর পত্রের জবাব দিলেন এইভাবে:
ما احسن ما تدعوا اليه واجمله وانا شاعر قومى وخطيبهم واعرب تهاب مكاني فاجعل لي بعض الامر اتبعك. হাওযার প্রতিক্রিয়া এবং তাহার পত্রের বর্ণনা মওলানা মুহাম্মদ ছায়ীদের সহজ সরল ভাষায় বিধৃত হইয়াছে এইভাবে:
পত্র পাইয়া হাওযা তাযিম করিল। ছলীতোর আপনার কাছে বসাইল। এনাম খেলাত দান করিল তাহারে। পত্রের উত্তর দিল লিখিয়া তা পরে। যে দীনের দিকে তুমি বোলাও আমায়। সত্যই তা ভাল দীন শোবা নাহি তায়। কিন্তু এক শর্ত আমি করি খেদমতে। মঞ্জুর করিলে তাহা আসিব দীনেতে। প্রসিদ্ধ শায়ের আমি কৌমের খতিব। ডরায় আমাকে সবে ধনী কি গরীব। রাষ্ট্র ক্ষমতার কিছু অংশ আমাকে দান করিলে আমি আপনার অনুগত হইব (দ্র. তাওয়ারীখে মুহাম্মাদী, ৭খ., পৃ. ২৮)।
সাথে সাথে সে সালীতকে মূল্যবান উপঢৌকন, হাজারের মূল্যবান রেশমী বস্ত্র এবং কারকাবা নামক একটি গোলামও দান করেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬২; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৩৮)।
ইবনুল আছীরের বর্ণনায় আছে, সাথে সাথে সে একটি প্রতিনিধি দলও রাসূলুল্লাহ-এর সমীপে প্রেরণ করে এই বক্তব্য দিয়া যে, তিনি যদি তাঁহার পরবর্তী শাসক তাহাকে নিযুক্ত করিয়া যান তাহা হইলে সে ইসলাম গ্রহণ করিবে এবং তাঁহার সমীপে উপস্থিত হইবে। তাঁহাকে সাহায্য-সহযোগিতাও করিবে। নতুবা সে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এই প্রতিনিধি দলে মুজা'আ ইব্ন মুরারা এবং রাজ্জাল ইব্ন উনফুযাও ছিলেন। এই মুজা'আ মুসায়লামার পড়নের পরবর্তী কালে হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদকে কন্যা দান করেন। রাসূলুল্লাহ-এর পক্ষ হইতে তিনি জমির বরাদ্দ লাভেও ধন্য হন। দুইজনই ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। এমনকি রাজ্জাল নবী দরবারে কিছুদিন অবস্থান করিয়া সূরা বাকারা এবং আরও কতিপয় দুআ শিক্ষা করে। কিন্তু পরবর্তীতে ইয়ামামায় ফিরিয়া এই নরাধম মুরতাদ হইয়া ভণ্ডনবী মুসায়লামাকে নবী কারীম উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করিয়াছেন বলিয়া মারাত্মক অপপ্রচারে লিপ্ত হয় যাহা ইসলামের জন্য খুবই ক্ষতিকর হইয়াছিল (আল-কামিল, ২খ., পৃ. ৮২; ইব্ন খালদুন, ২খ., পৃ. ৫০৩; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ২৬২)।
ওয়াকিদী বর্ণনা করেন, হাওযার দরবারে একজন খৃস্টান পাদ্রী থাকিতেন। তিনি হাওযাকে রাসূলুল্লাহ -এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলে সে জবাব দেয়, হাঁ, আমার নিকট তাঁহার পত্র আসিয়াছিল। তিনি আমাকে তাঁহার ধর্ম গ্রহণের দাওয়াত দিয়াছিলেন, কিন্তু আমি তাঁহার সেই আহ্বানে সাড়া দেই নাই। উক্ত পাদ্রী তাহাকে ইহার কারণ কী জিজ্ঞাসা করিলে সে জানায়, আমার স্ব-ধর্মের প্রতি একটা দুর্বলতা আছে। এতদ্ব্যতীত আমি আমার সম্প্রদায়ের সর্দার, তাঁহার ধর্ম গ্রহণে শেষ পর্যন্ত যদি আমার রাজত্বই হাতছাড়া হইয়া যায় এই আশঙ্কায়ই শঙ্কিত ছিলাম।
খৃস্টীয় পণ্ডিত বলিলেন, আপনি যদি তাঁহার আনুগত্য করিতেন, তাহা হইলে তিনি কস্মিনকালেও আপনার রাজত্ব হইতে আপনাকে অপসারিত করিতেন না। তিনি আরবের নবী। হযরত 'ঈসা (আ) ইনজীলে তাঁহার সু-সমাচার দিয়া গিয়াছেন। এই পাদ্রীর নাম ছিল আরকুন। ইনি দামিশকবাসী রোমান ক্যাথলিক ছিলেন এবং হযরত আবু বকর (রা)-এর আমলে হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন (মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৩৮)।
দৌত্যকার্য সম্পন্ন করিয়া হযরত সালীত (রা) হাওযার জবাবী পত্র ও তাহার প্রদত্ত উপঢৌকনাদিসহ মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলেন। হাওযার জবাব পাঠ করিয়া রাসূলুল্লাহ বলিলেন:
لو سألتي سيابة من الارض ما فعلت بادوباد ما في يديه. পুঁথিকার মওলানা মুহাম্মদ ছায়ীদ পুঁথির ভাষায় উহার চমৎকার অনুবাদ করিয়াছেন এবং সাথে সাথে ব্যাখ্যামূলক মন্তব্যও সংযোজন করিয়াছেন:
পত্র পড়ে কহিলেন নবী মোস্তফায়। "বিন্দুমাত্র জমিও না দিব আমি তায়। শীঘ্রই সে নিজে আর সর্ব ধন তার। বিনষ্ট হইয়া যাবে গযবে খোদার।"
ইসলাম সস্তার মাল নহে কোন কালে। বেচাকেনা হইবে যে রাজ্যের বদলে। দুনিয়ার লোভে যেবা হয় মোছলমান। কচুর পাতার জল তাহার ঈমান। (তাওয়ারিখে মোহাম্মদী, ৭খ., পৃ. ২৮; তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬২)।
এক বৎসর পর যখন নবী কারীম মক্কা বিজয় করিয়া মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলেন, তখন জিবরাঈল আসিয়া সংবাদ দিলেন যে, বেদীন হাওযা মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছে। নবী কারীম সাহাবীগণকে তাহা অবগত করিলেন। সাথে সাথে মন্তব্য করিলেন, অতঃপর হাওয়ার স্থলে ঐ দেশে এমন এক মহা মিথ্যুকের আবির্ভাব ঘটিবে যে নবী হওয়ার দাবি করিবে। সত্যসত্যই ইহার কিছুদিন পরেই ইয়ামামায় ভণ্ডনবী মুসায়লামার অভ্যুদয় ঘটে (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬২; সীরাত হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৮৬; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৩৯)।
📄 মুসায়লামা কায্যাবকে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র
দশম হিজরীতে ইয়ামামার প্রতিনিধি দলের সহিত রাসূলুল্লাহ -এর দরবারে আগমনকারী • মুসায়লামা ইব্ন হাবীব কথা প্রসঙ্গে নবী কারীম -এর নিকট প্রস্তাব দেয়, আপনি যদি
নবুওয়াতে আমাকেও আপনার সহিত অংশীদার করিয়া লন এবং আপনার ইনতিকালের পর আমাকে যদি আপনার স্থলাভিষিক্ত করার প্রতিশ্রুতি দান করেন, তাহা হইলে আমি ঈমান আনয়ন করিতে পারি। সাহাবী কায়েস ইব্ন সাম্মাশ (রা) তখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর পার্শ্বেই ছিলেন। নবী কারীম তাঁর জবাবে বলেন: “আমার হস্তস্থিত এই ক্ষুদ্র কাষ্ঠখণ্ডও আমি তোমাকে দিব না” (لو سألتني هذا العسيب ما اعطيتكه) (সীরাত হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫২; ইব্ন হিশাম, ৪খ., পৃ. ২৪৪)।
সাথে সাথে তিনি আরও বলেন, আমাকে আল্লাহ্র পক্ষ হইতে তোমার অন্তর্নিহিত মতলব এবং ইহার পরিণতি দেখানো হইয়াছে।
উক্ত প্রতিনিধি দলের ইয়ামামায় প্রত্যাবর্তনের পর হাওযার মৃত্যু হয় এবং মুসায়লামা তাহার স্থলাভিষিক্ত হয়। মুসায়লামা নবুওয়াতের দাবি করিয়া বসে। প্রতিনিধিদল তাহার অন্যতম সাথী, রাজ্জাল ইব্ন উনফুয়া নবী দরবারে বাহ্যত ইসলাম গ্রহণ করিলেও ঐ সময় মুসায়লামার পক্ষে মিছামছি প্রচারণা চালায় যে, বাক্যালাপকালে নবী কারীম মুসায়লামাকে তাহার সহ-নবীরূপে স্বীকৃতি দিয়াছেন। ফলে গোটা ইয়ামামায় ধর্মত্যাগের হিড়িক পড়িয়া যায়। দলে দলে লোক মুসায়লামার দলে ভিড়িতে থাকে। এই সময় রাসূলুল্লাহ আমর ইবন উমায়্যা আদ-দামরীর মাধ্যমে মুসায়লামাকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানাইয়া একখানা পত্র প্রেরণ করেন। উক্ত পত্রখানার পাঠ পাওয়া যায় না (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ২৫৬-৭)।
মুসায়লামা ছুমামা ইব্ন উছাল এবং আবদুল্লাহ ইবনুন নাওয়াহা নামক দুই ব্যক্তিকে পত্রসহ তাঁহার দূতরূপে রাসূলুল্লাহ -এর দরবারে প্রেরণ করে। তিনি মুসায়লামার নবুয়াত দাবি সম্পর্কে তাহাদের মতামত জানিতে চাহিলে তাহারা এই ব্যাপারে মুসায়লামার প্রতি তাহাদের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করে। তখন তিনি বলিলেন: দূত হত্যা কূটনৈতিক রীতির পরিপন্থী না হইলে আমি তাহাদের গর্দান উড়াইয়া দিতাম (আল-কামিল, ২খ., পৃ. ২০৪; মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ৩৮৭)। মুসায়লামার পত্রের পাঠ এইরূপ:
من مسيلمة رسول الله الى محمد رسول الله سلام عليك اما بعد واني قد اشركت فى الامر معك وانا لنا نصف الارض ولقريش نصف الارض ولكن قريشا قوم يعتدون. "আল্লাহ্র রাসূল মুসায়লামার পক্ষ হইতে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর প্রতি। আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। অতঃপর রাষ্ট্রশক্তিতে আমি আপনার সাথে অংশীদার; অর্ধেক ভূখণ্ড আমার এবং অর্ধেক কুরায়শদের। কুরায়শরা বৈরী ভাবাপন্ন জাতি” (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ২৫৭; মিসবাহুল মুদী, ২খ., প. ৩৮৭)।
তখন রাসূলুল্লাহ হযরত উবায় ইব্ন কা'ব (রা)-এর হস্তে ইহার জবাব লিখাইলেন:
بسم الله الرحمن الرحيم من محمد رسول الله الى مسيلمة الكذاب سلام على من اتبع الهدى اما بعد فان الارض لله يورث من يشاء من عباده والعاقبة للمتقين. "আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ হইতে মিথ্যাবাদী মুসায়লামার প্রতি। সালাম হিদায়াতের অনুসারী যে তাহার প্রতি। অতঃপর তাবৎ ভূমি আল্লাহ্র মালিকানাধীন। তিনি তদীয় বান্দাদের মধ্য