📄 নবী কারীম (সা)-এর জন্য প্রেরিত মুকাওকিসের উপঢৌকন
প্রকৃতপক্ষে মুকাওকিসের উপঢৌকন-সম্ভারের পূর্ণ তালিকা পত্রে প্রদত্ত হয় নাই, ঐ পূর্ণ তালিকাটি নিম্নরূপ:
(১) মারিয়া বিন্ত শামঊন কিবতিয়্যা- নবী নন্দন ইবরাহীমের গর্ভধারিণী যাঁহার সম্পর্কে নবী কারীম বলেন: اعتقها ولدها “তাঁহার পুত্রই তাঁহাকে স্বাধীন করিয়া দিয়াছে”।
(২) কায়সার/মতান্তরে সিরীন- মারিয়ারই সহোদরা এবং দেখিতে তাঁহারই মত এবং পরমা সুন্দরী ছিলেন। ইহাকে রাসূলুল্লাহ্ নবী দরবারের কবি হাসান ইব্ন ছাবিত (রা)-কে দান করিয়াছিলেন (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ.১৩৬; প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৬)। অবশ্য সুহায়লী ইহাকে হাসান ইব্ন ছাবিতের পুত্র আবদুর রহমানের জননীরূপে উল্লেখ করিয়াছেন (আর-রাওদুল উনুফ, ২খ., পৃ. ২৫৫-৫৬)।
(৩) কায়সারা (قيسرة) নাম্নী অপর একটি বালিকা- যায়নী দালান যাহাকে কায়স (قيس) লিখিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে সাহাবী আবূ জাম ইব্ন হুযায়ফা আল-আবদীকে দান করেন। উক্ত সাহাবী তাঁহাকে বিবাহ করিয়াছিলেন বলিয়া প্রফেসর আবদুল খালেক মুকাওকিসকে রাসূলুল্লাহ্ -এর পত্র প্রেরণ প্রসঙ্গে উল্লেখ করিয়াছেন (সাইয়েদুল মুরসালীন, ২খ., পৃ. ১৬৭)। হাদিয়াস্বরূপ মুকাওকিসের তিনটি বালিকা প্রেরণের কথাই উক্ত হইয়াছে।
(৪) অপর একটি কৃষ্ণাঙ্গী বালিকা যাহার নাম ছিল বারীরা (আস্-সীরাতুল হালাবী, ৩খ., পৃ. ২৫০)।
(৫) একটি নপুংসক গোলাম-যাহার নাম ছিল মাবুর (দ্র. রাওদুল উনুফ)। কিন্তু ফুতুহুশ- শামে তাহাকে মাবুর বলা হইয়াছে (আস্-সীরাতুল হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ২৫০)।
(৬) একটি ধূসর বর্ণের মাদী খচ্চর। ইহাই ছিল সেই বিখ্যাত দুলদুল - যাহা পরবর্তীকালে তিনি হযরত আলী (রা)-কে দান করিয়াছিলেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া হযরত হাসান (রা)-ও উহা ব্যবহার করিয়াছেন (মুহাম্মাদ ছাঈদ ইব্রাহীমপুরী, তাওয়ারিখে মুহাম্মদী, ৭খ., পৃ. ২০)।
(৭) ইয়াফুর নামক একটি গাধা (আস-সীরাতুল হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ২৫১)।
(৮) লাজ্জাজ নামক একটি ঘোড়া। মতান্তরে ঘোড়াটির নাম মায়মূন/মা'মূন (দ্র. মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৬৩)।
(৯) মিসরীয় বিন্হা নামক স্থানের বিখ্যাত মধু।
(১০) একটি সুর্মাদানী - উহা রাখিবার চতুষ্কোণবিশিষ্ট বাক্সসহ, একটি তৈল রাখার বোতল, একটি কাঁচি, মিসওয়াক, চিরুণী ও একটি আয়না (আস্-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫১)।
বলা হইয়া থাকে যে, সাথে আরও ছিল পাগড়ী, কিবতী চোগা, সুগন্ধি দ্রব্য, সুগন্ধি কাঠ (আগর বা চন্দন জাতীয়), কস্তুরী, এক হাজার মিছকাল স্বর্ণ, কাঁচের নির্মিত পানপাত্র ইত্যাদি।
(১১) কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, মুকাওকিস মুসলমানদের চিকিৎসার সুবিধার্থে একজন চিকিৎসকও প্রেরণ করিয়াছিলেন। নবী কারীম এই কথা বলিয়া তাহাকে ফেরৎ পাঠাইয়া দেন :
ارجع الى قومك فانا قوم لا نأكل حتى نجوع واذا اكلنا لا نشبع. "তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া যাও। কেননা আমরা এমন এক জাতি যাহারা ক্ষুধা না পাইলে আহার করি না, আর যখন আহার করি তখন সম্পূর্ণ পেট ভর্তি করিয়া আহার করি না; ফলে আমাদের রোগব্যাধি কমই হইয়া থাকে)" (আস্-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫১; মুস্তাদরাক হাকেম, ৪খ., পৃ. ৩৮; আল-আমওয়াল, পৃ. ২৪০, মিসর, ১৯৮১ সং; মাকাতীবুর রাসূল (স), ১খ., পৃ. ১০০-১০১)।
মুকাওকিস সত্যসত্যই নবী কারীম-এর দূতের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করেন এবং তাঁহাকে উত্তম আতিথ্য দান করেন। হাতিব (রা) নিজেই বলিয়াছেন :
كان المقوقس لي مكرما في الضيافة. "মুকাওকিস আমাকে আতিথ্য দান করিয়া সম্মান প্রদর্শন করিতেন।" অবশ্য হাতিব (রা) পাঁচ দিনের বেশী সেখানে অবস্থান করেন নাই (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬০-২৬১)।
মুকাওকিস তাঁহাকে উপঢৌকনস্বরূপ এক শত দীনার ও পাঁচটি বস্ত্র দান করেন। তাঁহার আরব উপদ্বীপে পৌঁছা পর্যন্ত তিনি সান্ত্রীদের ছোট একটি দলও তাঁহার সহিত রওয়ানা করেন। কিন্তু সিরিয়ায় পৌঁছিয়াই তিনি মদীনাযাত্রী একটি কাফেলার সঙ্গ লাভ করায় সেখান হইতেই সান্ত্রীদেরকে তাহাদের দেশে ফেরত পাঠাইয়া দেন এবং নিজে ঐ কাফেলার সহিত মিলিত হইয়া মদীনায় পৌঁছেন (আস্-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫২; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১০১-২)।
বিন ইয়ামীনের উল্লিখিত পত্রখানি ছিল এক সাবধানী ব্যক্তির কূটকৌশলপূর্ণ পত্র। ইহাতে রাসূলুল্লাহ্-কে অগ্রাহ্য করার কোন উল্লেখ ছিল না। এতদসত্ত্বেও দূতকে সম্মান প্রদর্শন, উপঢৌকন প্রেরণ প্রভৃতি দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর প্রতি তাঁহার অন্তরে সম্ভ্রমবোধ ছিল। বিন ইয়ামীন তখনকার মত ইসলাম গ্রহণ করেন নাই। তাই মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়া হাতিব (রা) যখন উপঢৌকন-সামগ্রীসহ তাঁহার পত্রখানি রাসূলুল্লাহ্-এর হাতে অর্পণ করিলেন এবং মুকাওকিস যাহা তাঁহাকে বলিয়া দিয়াছিলেন তাহা বলিলেন তখন তিনি বলিলেন :
ضن الخبيث بملكة ولا بقاء ملكه. "খবীছটি তাহার রাজ লিপ্সায় ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিতে কার্পণ্য করিল। অথচ তাহার রাজত্বের স্থায়িত্ব নাই" (আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫২)। মুকাওকিসের ইসলাম গ্রহণ না করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ্ কেন তাহার উপঢৌকন গ্রহণ করিলেন তাহার জবাবে আবূ উবায়দ কিতাবুল আমওয়ালে বলেন :
📄 মাবৃরের নিষ্কাম প্রেম: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মানবসুলভ ক্রোধ
لانه كان قد اقر نبوته ولم يظهر التكذيب للنبى ﷺ ولم يؤيسه من الاسلام فلهذا اثر النبي ﷺ قبل هديته. "যেহেতু মুকাওকিস তাঁহার নবুওয়তের স্বীকৃতি দিয়াছিলেন এবং নবী কারীম -কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন নাই এবং তাঁহার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে নিরাশও করেন নাই। আমরা মনে করি, এই জন্যই তিনি তাঁহার উপঢৌকনাদি গ্রহণ করিয়াছিলেন" (কিতাবুল-আমওয়াল, পৃ. ২৪০, মিসরীয় মুদ্রণ ১৯৮১ খৃ.)।
কিন্তু মাকাতীবুর রাসূল -এর গ্রন্থকার বলেন, আসলে উহার কারণ ছিল মুকাওকিস মুশরিক বা পৌত্তলিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন খৃস্টান। তাই নবী কারীম তাহার উপঢৌকনাদি গ্রহণ করিয়াছিলেন, যেমনটি তিনি করিয়াছিলেন রোমক সম্রাট কায়সারের হাদিয়ার ব্যাপারে। কেননা তিনিও খৃস্টান তথা আহলে কিতাব ছিলেন (মাকাতীবুর রাসূল, ২খ., পৃ. ১০২)।
মওলানা হিফযুর রহমান সওহারবীর এতদসংক্রান্ত বর্ণনায় অতিরিক্ত কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তাই পূর্ণ বিবরণের পুনরোক্তি না করিয়া সেই অতিরিক্ত তথ্যগুলি নিম্নে উদ্ধৃত করা হইল:
মারিয়া ও মাবুর যেহেতু রাসূলুল্লাহ্ কর্তৃক মুকাওকিসকে লিখিত পত্রের সুবাদেই নবী দরবারে উপনীত হইয়াছিলেন, তাই তাহাদের একটি কৌতূহলোদ্দীপক ও শিক্ষণীয় ঘটনা উদ্ধৃত করা অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। রাসূলুল্লাহ্ মানুষ ছিলেন, আলিমুল গায়ব বা অন্তর্যামী ছিলেন না, এই সত্যটিও এই ঘটনায় চমৎকারভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে। সম্ভবত এই বিবেচনায়ই রাসূলুল্লাহ্ -এর পত্রাবলীর আলোচনায় মাওলানা হিফযুর রহমান প্রমুখ বিচক্ষণ আলিম এই ঘটনাকে তাঁহাদের পুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন।
মাবুর ও মারিয়া দুইজন ছিলেন চাচাতো ভাই-বোন। ছোটবেলা হইতেই তাহারা একত্রে হাসিয়া খেলিয়া মানুষ হন এবং ঘটনাক্রমে দুইজনই আবার একত্রে উপঢৌকন সামগ্রীর সঙ্গে মদীনায় নবী দরবারে প্রেরিত হন। মাবুর তাঁহার অপরূপ সুন্দরী এই চাচাতো ভগ্নির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। উভয়ে বয়োপ্রাপ্ত হইলে তিনি শঙ্কিত হইলেন যে, পিতৃব্যকন্যার প্রতি তাঁহার এই অতি আসক্তি শেষ পর্যন্ত না তাহাকে পাপাচারে লিপ্ত করে। তিনি তাহার এই নিঃস্বার্থ প্রেমকে কলুষিত করিতে কোন মতেই সম্মত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি লিঙ্গ কর্তন করিয়া নপুংসক হইয়া যান।
কালক্রমে মারিয়া যখন নবী সহধর্মিনীর মর্যাদা লাভ করেন আর মানূর তাঁহার দাসরূপে খেদমতে নিয়োজিত রহিলেন, তখন একদিন বাহির হইতে ফিরিয়া রাসূলুল্লাহ্ মানূরকে তাঁহার নিজ শয্যার উপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখিতে পাইলেন। অমনি তাঁহার নুরানী চোহারায় ক্রোধের ছাপ অঙ্কিত হইল। অত্যন্ত বিমর্ষ অবস্থায় তিনি ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিতেছেন দেখিয়া হযরত উমার (রা) তাঁহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ঘটনা অবহিত হইয়া হযরত উমার উন্মুক্ত তরবারি হস্তে সেদিকে অগ্রসর হইলেন। তাঁহাকে এই বেশে অগ্রসরমান দেখিয়া মাবুর ব্যাপারটি আঁচ করিতে পারেন। তিনি দৌড়াইয়া গিয়া একটি খেজুর গাছে লাফাইয়া উঠেন এবং নিম্নাঙ্গের কাপড় তুলিয়া তাঁহার দিকে মেলিয়া ধরিলেন। অবাক বিস্ময়ে হযরত উমার (রা) প্রত্যক্ষ করিলেন যে, মাবুর একান্তই নপুংসক। লজ্জিত ও অনুতপ্ত হইয়া তিনি রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট ফিরিয়া গেলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মানূরের নিম্নাংগ তো একেবারেই সমান। তাহার পুরুষাঙ্গ একেবারে গোড়া হইতেই কর্তিত। নিষ্কাম প্রেমিক মানূরের প্রতি তাঁহাদের সন্দেহ অমূলক বিধায় উভয়ের ক্রোধ প্রশমিত হইল। আল-মিসবাহুল মুদীতে ফুতুহ মিসর-এর বরাতসহ আছে, তখন রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে বলিলেন, জিবরাঈল আমার নিকট আসিয়া তাঁহার (মারিয়ার) এবং তাহার নিকটাত্মীয়ের পাপমুক্ত থাকার কথা অবহিত করিয়া গিয়াছেন এবং বলিয়াছেন, তাহার গর্ভে আমার সন্তান রহিয়াছে। সে দেখিতে আমারই মত হইবে (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৩৪০; ইন্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া)।
📄 বিজ্ঞজন প্রেরিত বিজ্ঞ দূত
নবী কারীম-এর দূত হাতিব ইবন আবী বালতা'আ (রা) যখন ইসলামের নবীর সত্যতা সম্পর্কে মুকাওকিসের দরবারে তাঁহার বক্তব্য পেশ করিতেছিলেন, তখন মিসর-রাজের মনে
একটি প্রশ্নের উদয় হয় এবং তিনি তাহা হাতিবের নিকট ব্যক্তও করেন, "শত্রুদের নিপীড়নে বাধ্য হইয়া তিনি দেশান্তরিত হইলেন। তিনি যদি সত্য নবীই হইবেন তাহা হইলে অভিশাপ দিয়া শত্রুদেরকে নিপাত করিয়া দিলেন না কেন?"
হাতিব তাহাকে পাল্টা প্রশ্ন করিলেন, হযরত 'ঈসা (আ) যে সত্য নবী ছিলেন তাহা তো আপনি বিশ্বাস করেন। ক্রশবিদ্ধ করিয়া শত্রুরা তাঁহাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও পায়তারা করিতেছে দেখিয়াও তিনি তাহাদেরকে অভিশাপ দিয়া নিপাত করিয়া দিলেন না কেন?
হতচকিত হইয়া মুকাওকিস বলিলেন, "তাই তো! আপনি সত্যিই বিজ্ঞজন প্রেরিত বিজ্ঞ দূত। বিজ্ঞজনোচিত উত্তরই আপনি দিয়াছেন” (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৩০-১; আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ১খ., পৃ. ১৮১; যায়নী দালান, ৩খ., পৃ. ৭০; নূরুল ইয়াকীন, শায়খ মুহাম্মাদ খিদারী বেককৃত, পৃ. ৬৯; হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা: সমকালীন পরিবেশ ও জীবন, পৃ. ৬৯৩)।
📄 বৈরী ভাবাপন্ন মুগীরা ও মুকাওকিসের কথোপকথন
রাসূলুল্লাহ্-এর পত্রলাভ ও দূতের মুখে তাঁহার বিবরণ শ্রবণে মুকাওকিস যে কী পরিমাণ প্রভাবান্বিত হইয়াছিলেন, তাহার বিবরণ পাওয়া যায় মুগীরা ইব্ন শু'বার পরবর্তী কালের বর্ণনা হইতে। তিনি বলেন, ইবন মালিক ও আমি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মিসরে মুকাওকিসের দরবারে উপনীত হই। তখন মুকাওকিস আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের ও আমাদের মধ্যে তো মুহাম্মাদ ও তদীয় সঙ্গিগণ অন্তরায় হইয়া রহিয়াছেন। তাঁহারা তোমাদেরকে বাধা দেন নাই?
আমরা বলিলাম, আমরা সমুদ্রপথে আসিয়াছি এবং তাহাদের নিকট আমাদের আগমনের কথা গোপন রাখিয়াছি। তারপর তাহার ও আমাদের মধ্যে যে কথোপকথন হয় তাহা এই:
মুকাওকিস: তাঁহার দাওয়াতের প্রেক্ষিতে তোমরা কী করিলে?
মুগীরা: আমাদের একটি লোকও তাহার অনুসারী হয় নাই।
মুকাওকিস: কেন তোমরা এরূপ করিলে?
মুগীরা: এক নূতন ধর্ম লইয়া তিনি আবির্ভূত হইয়াছেন যাহা আমাদের পূর্বপুরুষের ধর্ম নহে, আবার জাহাপনার ধর্মও নহে। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষগণের ধর্মই আকড়াইয়া আছি।
মুকাওকিস: তাহার স্ব-সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রতিক্রিয়া কী?
মুগীরা: তরুণরা তাঁহার অনুসারী হইয়াছে। তাঁহার স্ব-সম্প্রদায়ভুক্ত ও বাহিরের বিরুদ্ধবাদীদের সহিত বিভিন্ন স্থানে তাঁহাদের যুদ্ধ হইয়াছে। কখনও একপক্ষ জয়লাভ করিয়াছে, কখনও অন্য পক্ষ।
মুকাওকিস: তিনি কী করিতে বলেন?
মুগীরা: তিনি আমাদেরকে আহ্বান জানান, এক লা-শারীক আল্লাহ ব্যতীত আর কোন কিছুর ইবাদত করিতে বারণ করেন, আমাদের দেবদেবীদেরকে ত্যাগ করিতে বলেন। তিনি আমাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করিতে এবং যাকাত দিতে বলেন। বিশ মিছকালে অর্ধ মিছকাল যাকাত আদায় করিতে এবং সর্বপ্রকার সম্পদের যাকাত দিতে বলেন।
মুকাওকিস: আদায়কৃত যাকাত তিনি কী খাতে ব্যয় করেন?
মুগীরা: তিনি তাহা দরিদ্রদেরকে ফিরাইয়া দেন। তিনি আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখিতে, আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সদয় আচরণ করিতে, প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিতে, ব্যভিচার ও মদ্যপান না করিতে বলেন এবং গায়রুল্লাহ্র নামে যবেহকৃত পশুর গোশত ভক্ষণ করিতে বারণ করেন।