📄 নবী কারীম (সা)-এর সম্পর্কে মুকাওকিসের মূল্যায়ন ও পত্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
"হে আমার নবাগত অতিথি! আমার স্ব-জাতীয় কিন্তীগণ কিন্তু তাঁহার ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার ব্যাপারে আমাকে সমর্থন করিবে না। হে ইব্ন আবী বালতা'আ! আমি যেন স্পষ্ট দেখিতে পাইতেছি, আমার এই অঙ্গণে এই দেশের এই মাটিতে তোমার নবীর বিজয় পতাকা উড্ডীন হইবে। আমার পদতলের এই স্থান পর্যন্ত তাঁহার সঙ্গী-সাথিগণ দ্রুত ছড়াইয়া পড়িবেন।"
এই আলাপ-আলোচনার পর হাতিব যখন বিদায় গ্রহণ করিতেছিলেন, তখন বাবলিয়্যূন দুর্গের সিঁড়িতে দাঁড়াইয়া বিন ইয়ামীন তাঁহার হস্ত হাতিবের স্কন্ধের উপর রাখিয়া অনুচ্চ কণ্ঠে বলিলেন, আমি কিন্তীদেরকে এই ব্যাপারে ঘূর্ণাক্ষরেও কিছু বলিব না। আমার ও তোমার মধ্যকার আলোচনা তাহারা জ্ঞাত হউক, ইহা আমার কাম্য নহে। হাঁ, তুমি যখন তোমার গুরুর কাছে ফিরিয়া যাইবে তখন অবশ্যই তোমাকে আমি যাহা যাহা বলিয়াছি, সবই তাঁহাকে বলিবে (প্রাগুক্ত, আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৪৯; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১০১-২)।
নবী কারীম সম্পর্কে দূতের ভাষণের পর মুকাওকিস তাঁহার মূল্যায়ন করেন এইভাবে :
انى نظرت في هذا النبي فوجدته لا يأمر بمزهود فيه ولا ينهى عن مرغوب فيه ولم اجده بالساحر الضال ولا الكاهن الكذاب وجدت معه آيته النبوة باخراج الخباء والاخبار بالنجوى وسأنظر ثم اخذ الكتاب وجعله في حق من عاج وختم عليه ودفعه الى جاريته. "আমি এই নবীর ব্যাপারটি মনোযোগ সহকারে বিবেচনা করিয়া দেখিয়াছি। আমি লক্ষ্য করিয়াছি, তিনি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করিতে আদেশ করেন না, আবার কোন কাঙ্ক্ষিত কাজ করিতে বারণও করেন না। তিনি কোন বিভ্রান্তকারী যাদুকরও নহেন, আবার ভণ্ড মিথ্যুক গণকও নহেন। আমি তাঁহার মধ্যে নবুওয়াতের লক্ষণাদি প্রত্যক্ষ করিয়াছি। তিনি গোপন অর্থাৎ লোকচক্ষুর অন্তরালের বিষয়সমূহ বাহির করিয়া আনেন এবং গোপন তথ্য বলিয়া দেন। অতঃপর মুকাওকিস পত্রখানা হাতে লইয়া গজদন্তের উহা একটি কৌটাতে পুরিয়া উহার উপর সীলমোহর লাগাইলেন। তারপর উহা তাহার দাসীর নিকট রাখিয়া দিলেন এবং বলিলেন আমি তাহার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করিব (মাকাতিবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ৯৯; আস্-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৪৯-৫০)।
📄 নবী কারীম (সা)-কে মুকাওকিসের জবাবী পত্র
অতঃপর মুকাওকিস তাঁহার আরবী দোভাষীকে ডাকাইয়া মদীনা হইতে আগত পত্রের জবাব লিখাইলেন এইভাবেঃ بسم الله الرحمن الرحيم لمحمد بن عبد الله من المقوقس عظيم القبط سلام عليك اما بعد فقد قرأت كتابك وفهمت ما ذكرت اظن انه يخرج بالشام وقد اكرمت رسولك وبعثت اليك بجاريتين لهما مكان في القبط عظيم وبثياب واهديت اليك بغلة لتركبها والسلام عليك. "আবদুল্লাহ্র পুত্র মুহাম্মাদ-এর প্রতি কিবতী জাতির নায়ক মুকাওকিসের পক্ষ হইতে। আপনার প্রতি সালাম। পর সমাচার, আমি আপনার পত্রখানা পাঠ করিয়াছি এবং উহাতে আপনি
যাহা উল্লেখ করিয়াছেন এবং যাহার প্রতি আপনি দা'ওয়াত দিয়াছেন তাহা হৃদয়ঙ্গম করিয়াছি। একজন নবীর আবির্ভাব যে আসন্ন তাহা আমি জ্ঞাত আছি। আমার ধারণা ছিল, তিনি শামদেশে আবির্ভূত হইবেন। আমি আপনার দূতকে সমাদর করিয়াছি এবং সম্মান প্রদর্শন করিয়াছি। কিবতী জাতির কুলশীলা ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারিণী দুইটি বালিকা ও বস্ত্রাদি আপনার খিদমতে প্রেরণ করিলাম। সাথে সাথে আপনার বাহনস্বরূপ একটি খচ্চর উপঢৌকন হিসাবে প্রেরণ করিলাম। আপনার প্রতি সালাম বর্ষিত হউক” (আল-মিস্বাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৩১-২; আত-তাবাকাতুল কুরা, ১খ., পৃ. ২৬০; আল-হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫০; সীরাত যায়নী দালান, ৩খ., পৃ. ৭১)।
📄 নবী কারীম (সা)-এর জন্য প্রেরিত মুকাওকিসের উপঢৌকন
প্রকৃতপক্ষে মুকাওকিসের উপঢৌকন-সম্ভারের পূর্ণ তালিকা পত্রে প্রদত্ত হয় নাই, ঐ পূর্ণ তালিকাটি নিম্নরূপ:
(১) মারিয়া বিন্ত শামঊন কিবতিয়্যা- নবী নন্দন ইবরাহীমের গর্ভধারিণী যাঁহার সম্পর্কে নবী কারীম বলেন: اعتقها ولدها “তাঁহার পুত্রই তাঁহাকে স্বাধীন করিয়া দিয়াছে”।
(২) কায়সার/মতান্তরে সিরীন- মারিয়ারই সহোদরা এবং দেখিতে তাঁহারই মত এবং পরমা সুন্দরী ছিলেন। ইহাকে রাসূলুল্লাহ্ নবী দরবারের কবি হাসান ইব্ন ছাবিত (রা)-কে দান করিয়াছিলেন (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ.১৩৬; প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৬)। অবশ্য সুহায়লী ইহাকে হাসান ইব্ন ছাবিতের পুত্র আবদুর রহমানের জননীরূপে উল্লেখ করিয়াছেন (আর-রাওদুল উনুফ, ২খ., পৃ. ২৫৫-৫৬)।
(৩) কায়সারা (قيسرة) নাম্নী অপর একটি বালিকা- যায়নী দালান যাহাকে কায়স (قيس) লিখিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে সাহাবী আবূ জাম ইব্ন হুযায়ফা আল-আবদীকে দান করেন। উক্ত সাহাবী তাঁহাকে বিবাহ করিয়াছিলেন বলিয়া প্রফেসর আবদুল খালেক মুকাওকিসকে রাসূলুল্লাহ্ -এর পত্র প্রেরণ প্রসঙ্গে উল্লেখ করিয়াছেন (সাইয়েদুল মুরসালীন, ২খ., পৃ. ১৬৭)। হাদিয়াস্বরূপ মুকাওকিসের তিনটি বালিকা প্রেরণের কথাই উক্ত হইয়াছে।
(৪) অপর একটি কৃষ্ণাঙ্গী বালিকা যাহার নাম ছিল বারীরা (আস্-সীরাতুল হালাবী, ৩খ., পৃ. ২৫০)।
(৫) একটি নপুংসক গোলাম-যাহার নাম ছিল মাবুর (দ্র. রাওদুল উনুফ)। কিন্তু ফুতুহুশ- শামে তাহাকে মাবুর বলা হইয়াছে (আস্-সীরাতুল হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ২৫০)।
(৬) একটি ধূসর বর্ণের মাদী খচ্চর। ইহাই ছিল সেই বিখ্যাত দুলদুল - যাহা পরবর্তীকালে তিনি হযরত আলী (রা)-কে দান করিয়াছিলেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া হযরত হাসান (রা)-ও উহা ব্যবহার করিয়াছেন (মুহাম্মাদ ছাঈদ ইব্রাহীমপুরী, তাওয়ারিখে মুহাম্মদী, ৭খ., পৃ. ২০)।
(৭) ইয়াফুর নামক একটি গাধা (আস-সীরাতুল হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ২৫১)।
(৮) লাজ্জাজ নামক একটি ঘোড়া। মতান্তরে ঘোড়াটির নাম মায়মূন/মা'মূন (দ্র. মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৬৩)।
(৯) মিসরীয় বিন্হা নামক স্থানের বিখ্যাত মধু।
(১০) একটি সুর্মাদানী - উহা রাখিবার চতুষ্কোণবিশিষ্ট বাক্সসহ, একটি তৈল রাখার বোতল, একটি কাঁচি, মিসওয়াক, চিরুণী ও একটি আয়না (আস্-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫১)।
বলা হইয়া থাকে যে, সাথে আরও ছিল পাগড়ী, কিবতী চোগা, সুগন্ধি দ্রব্য, সুগন্ধি কাঠ (আগর বা চন্দন জাতীয়), কস্তুরী, এক হাজার মিছকাল স্বর্ণ, কাঁচের নির্মিত পানপাত্র ইত্যাদি।
(১১) কেহ কেহ বলিয়াছেন যে, মুকাওকিস মুসলমানদের চিকিৎসার সুবিধার্থে একজন চিকিৎসকও প্রেরণ করিয়াছিলেন। নবী কারীম এই কথা বলিয়া তাহাকে ফেরৎ পাঠাইয়া দেন :
ارجع الى قومك فانا قوم لا نأكل حتى نجوع واذا اكلنا لا نشبع. "তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া যাও। কেননা আমরা এমন এক জাতি যাহারা ক্ষুধা না পাইলে আহার করি না, আর যখন আহার করি তখন সম্পূর্ণ পেট ভর্তি করিয়া আহার করি না; ফলে আমাদের রোগব্যাধি কমই হইয়া থাকে)" (আস্-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫১; মুস্তাদরাক হাকেম, ৪খ., পৃ. ৩৮; আল-আমওয়াল, পৃ. ২৪০, মিসর, ১৯৮১ সং; মাকাতীবুর রাসূল (স), ১খ., পৃ. ১০০-১০১)।
মুকাওকিস সত্যসত্যই নবী কারীম-এর দূতের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করেন এবং তাঁহাকে উত্তম আতিথ্য দান করেন। হাতিব (রা) নিজেই বলিয়াছেন :
كان المقوقس لي مكرما في الضيافة. "মুকাওকিস আমাকে আতিথ্য দান করিয়া সম্মান প্রদর্শন করিতেন।" অবশ্য হাতিব (রা) পাঁচ দিনের বেশী সেখানে অবস্থান করেন নাই (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬০-২৬১)।
মুকাওকিস তাঁহাকে উপঢৌকনস্বরূপ এক শত দীনার ও পাঁচটি বস্ত্র দান করেন। তাঁহার আরব উপদ্বীপে পৌঁছা পর্যন্ত তিনি সান্ত্রীদের ছোট একটি দলও তাঁহার সহিত রওয়ানা করেন। কিন্তু সিরিয়ায় পৌঁছিয়াই তিনি মদীনাযাত্রী একটি কাফেলার সঙ্গ লাভ করায় সেখান হইতেই সান্ত্রীদেরকে তাহাদের দেশে ফেরত পাঠাইয়া দেন এবং নিজে ঐ কাফেলার সহিত মিলিত হইয়া মদীনায় পৌঁছেন (আস্-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫২; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১০১-২)।
বিন ইয়ামীনের উল্লিখিত পত্রখানি ছিল এক সাবধানী ব্যক্তির কূটকৌশলপূর্ণ পত্র। ইহাতে রাসূলুল্লাহ্-কে অগ্রাহ্য করার কোন উল্লেখ ছিল না। এতদসত্ত্বেও দূতকে সম্মান প্রদর্শন, উপঢৌকন প্রেরণ প্রভৃতি দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর প্রতি তাঁহার অন্তরে সম্ভ্রমবোধ ছিল। বিন ইয়ামীন তখনকার মত ইসলাম গ্রহণ করেন নাই। তাই মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিয়া হাতিব (রা) যখন উপঢৌকন-সামগ্রীসহ তাঁহার পত্রখানি রাসূলুল্লাহ্-এর হাতে অর্পণ করিলেন এবং মুকাওকিস যাহা তাঁহাকে বলিয়া দিয়াছিলেন তাহা বলিলেন তখন তিনি বলিলেন :
ضن الخبيث بملكة ولا بقاء ملكه. "খবীছটি তাহার রাজ লিপ্সায় ইসলামের আহ্বানে সাড়া দিতে কার্পণ্য করিল। অথচ তাহার রাজত্বের স্থায়িত্ব নাই" (আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫২)। মুকাওকিসের ইসলাম গ্রহণ না করা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ্ কেন তাহার উপঢৌকন গ্রহণ করিলেন তাহার জবাবে আবূ উবায়দ কিতাবুল আমওয়ালে বলেন :
📄 মাবৃরের নিষ্কাম প্রেম: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মানবসুলভ ক্রোধ
لانه كان قد اقر نبوته ولم يظهر التكذيب للنبى ﷺ ولم يؤيسه من الاسلام فلهذا اثر النبي ﷺ قبل هديته. "যেহেতু মুকাওকিস তাঁহার নবুওয়তের স্বীকৃতি দিয়াছিলেন এবং নবী কারীম -কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন নাই এবং তাঁহার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে নিরাশও করেন নাই। আমরা মনে করি, এই জন্যই তিনি তাঁহার উপঢৌকনাদি গ্রহণ করিয়াছিলেন" (কিতাবুল-আমওয়াল, পৃ. ২৪০, মিসরীয় মুদ্রণ ১৯৮১ খৃ.)।
কিন্তু মাকাতীবুর রাসূল -এর গ্রন্থকার বলেন, আসলে উহার কারণ ছিল মুকাওকিস মুশরিক বা পৌত্তলিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন খৃস্টান। তাই নবী কারীম তাহার উপঢৌকনাদি গ্রহণ করিয়াছিলেন, যেমনটি তিনি করিয়াছিলেন রোমক সম্রাট কায়সারের হাদিয়ার ব্যাপারে। কেননা তিনিও খৃস্টান তথা আহলে কিতাব ছিলেন (মাকাতীবুর রাসূল, ২খ., পৃ. ১০২)।
মওলানা হিফযুর রহমান সওহারবীর এতদসংক্রান্ত বর্ণনায় অতিরিক্ত কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তাই পূর্ণ বিবরণের পুনরোক্তি না করিয়া সেই অতিরিক্ত তথ্যগুলি নিম্নে উদ্ধৃত করা হইল:
মারিয়া ও মাবুর যেহেতু রাসূলুল্লাহ্ কর্তৃক মুকাওকিসকে লিখিত পত্রের সুবাদেই নবী দরবারে উপনীত হইয়াছিলেন, তাই তাহাদের একটি কৌতূহলোদ্দীপক ও শিক্ষণীয় ঘটনা উদ্ধৃত করা অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। রাসূলুল্লাহ্ মানুষ ছিলেন, আলিমুল গায়ব বা অন্তর্যামী ছিলেন না, এই সত্যটিও এই ঘটনায় চমৎকারভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে। সম্ভবত এই বিবেচনায়ই রাসূলুল্লাহ্ -এর পত্রাবলীর আলোচনায় মাওলানা হিফযুর রহমান প্রমুখ বিচক্ষণ আলিম এই ঘটনাকে তাঁহাদের পুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন।
মাবুর ও মারিয়া দুইজন ছিলেন চাচাতো ভাই-বোন। ছোটবেলা হইতেই তাহারা একত্রে হাসিয়া খেলিয়া মানুষ হন এবং ঘটনাক্রমে দুইজনই আবার একত্রে উপঢৌকন সামগ্রীর সঙ্গে মদীনায় নবী দরবারে প্রেরিত হন। মাবুর তাঁহার অপরূপ সুন্দরী এই চাচাতো ভগ্নির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। উভয়ে বয়োপ্রাপ্ত হইলে তিনি শঙ্কিত হইলেন যে, পিতৃব্যকন্যার প্রতি তাঁহার এই অতি আসক্তি শেষ পর্যন্ত না তাহাকে পাপাচারে লিপ্ত করে। তিনি তাহার এই নিঃস্বার্থ প্রেমকে কলুষিত করিতে কোন মতেই সম্মত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি লিঙ্গ কর্তন করিয়া নপুংসক হইয়া যান।
কালক্রমে মারিয়া যখন নবী সহধর্মিনীর মর্যাদা লাভ করেন আর মানূর তাঁহার দাসরূপে খেদমতে নিয়োজিত রহিলেন, তখন একদিন বাহির হইতে ফিরিয়া রাসূলুল্লাহ্ মানূরকে তাঁহার নিজ শয্যার উপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখিতে পাইলেন। অমনি তাঁহার নুরানী চোহারায় ক্রোধের ছাপ অঙ্কিত হইল। অত্যন্ত বিমর্ষ অবস্থায় তিনি ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিতেছেন দেখিয়া হযরত উমার (রা) তাঁহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ঘটনা অবহিত হইয়া হযরত উমার উন্মুক্ত তরবারি হস্তে সেদিকে অগ্রসর হইলেন। তাঁহাকে এই বেশে অগ্রসরমান দেখিয়া মাবুর ব্যাপারটি আঁচ করিতে পারেন। তিনি দৌড়াইয়া গিয়া একটি খেজুর গাছে লাফাইয়া উঠেন এবং নিম্নাঙ্গের কাপড় তুলিয়া তাঁহার দিকে মেলিয়া ধরিলেন। অবাক বিস্ময়ে হযরত উমার (রা) প্রত্যক্ষ করিলেন যে, মাবুর একান্তই নপুংসক। লজ্জিত ও অনুতপ্ত হইয়া তিনি রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট ফিরিয়া গেলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মানূরের নিম্নাংগ তো একেবারেই সমান। তাহার পুরুষাঙ্গ একেবারে গোড়া হইতেই কর্তিত। নিষ্কাম প্রেমিক মানূরের প্রতি তাঁহাদের সন্দেহ অমূলক বিধায় উভয়ের ক্রোধ প্রশমিত হইল। আল-মিসবাহুল মুদীতে ফুতুহ মিসর-এর বরাতসহ আছে, তখন রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে বলিলেন, জিবরাঈল আমার নিকট আসিয়া তাঁহার (মারিয়ার) এবং তাহার নিকটাত্মীয়ের পাপমুক্ত থাকার কথা অবহিত করিয়া গিয়াছেন এবং বলিয়াছেন, তাহার গর্ভে আমার সন্তান রহিয়াছে। সে দেখিতে আমারই মত হইবে (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৩৪০; ইন্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া)।