📄 মিসর রাজের দরবারে মহানবী (সা)-এর দূত হযরত হাতিব (রা)-এর ভাষণ
না করে। তারপরও যদি তাহারা অস্বীকার করে তবে বলিয়া দাও, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণকারী মুসলিম।"
(সীলমোহর) আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ
(আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১২৯; আস্-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৮০; আদ-দুররুল মানছুর, ২খ., পৃ. ৪০, আয়াতে মুবাহালার তাফসীরে; সুবহুল আ'শা, ৬খ., পৃ. ৩৭৮; খিতাতুল মাকরীযী, ১খ., পৃ. ২৯; হুসুল মুহাদারা, ১খ., পৃ. ৪২; কাসতাল্লানী, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যা, ৩খ., পৃ. ৩৯৭; তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., প. ২৬৫)। মুকাওকিসের উদ্দেশ্যে লিখিত রাসূলুল্লাহ্ -এর পত্রের আরেকটি পাঠ পাওয়া যায়। তাহা নিম্নরূপঃ
من محمد رسول الله الى صاحب مصر والاسكندرية اما بعد فان الله تعالى ارسلنی رسولا وانزل على قرأنا وامرني بالاعذار وانذار ومقاتلة الكفار حتى يدينوا بدینی ويدخل الناس في ملتى وقد دعوتك الى الاقرار بوحدانية الله تعالى فان فعلت سعدت وان ابيت شقيت والسلام
الله رسول محمد
"মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ -এর পক্ষ হইতে মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ার শাসকের প্রতি। (আল্লাহ্র প্রশংসা বর্ণনার পর) অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছেন। আমার প্রতি তিনি কুরআন নাযিল করিয়াছেন। তিনি আমাকে অব্যাহতি দান ও সতর্কীকরণের এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিয়াছেন যাবৎ না তাহারা আমার ধর্মে বিশ্বাসী হয় এবং লোকজন আমার মিল্লাতে প্রবেশ করে। আমি আপনাকে আল্লাহ্ একত্বের স্বীকারোক্তির প্রতি আহ্বান জানাইতেছি। যদি আপনি তাহা স্বীকার করিয়া লন তবে তাহা হইবে আপনার জন্য মঙ্গল আর আপনি তাহা প্রত্যাখান করিলে তাহা হইবে আপনার জন্য অমঙ্গল" (সীলমোহর)। (জামহারাতু রাসাইলিল আরাব, ১খ., পৃ. ৪৩; সুবহুল আ'শা, ৬খ., পৃ. ৩৭৮; মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ১৩৭)।
বৃদ্ধ পোপ বিন ইয়ামীন পত্রের বক্তব্য শ্রবণ করিয়া দীর্ঘক্ষণ চুপ করিয়া রহিলেন। তারপর দূতকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, জবাবের জন্য আপনাকে অপেক্ষা করিতে হইবে। আপনি বাবিলিয়্যূন আমার মেহমানরূপে কয়েক দিন অবস্থান করুন।
পত্রের বক্তব্য বিন ইয়ামীনের অন্তরে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে। কত সহজ-সরল বক্তব্য এই পত্রের! আল্লাহর একত্বের এই দাওয়াত ইয়াকূবী ও মালাকানী খৃস্টানদের জটিল ধর্মীয় মারপ্যাচের অনেক ঊর্ধ্বে, অথচ কতই না চিন্তা উদ্দীপক! এই পত্রে সেই বিস্মৃত সত্যই যেন বাঙময়- হইয়া উঠিয়াছে যাহা ভারী ভারী খৃস্টীয় গ্রন্থাদির নিচে এতদিন চাপা পড়িয়া গিয়াছিল।
তাঁহার অন্তর যেন ডাক দিয়া বলিতেছিল, এই সেই শাশ্বত সত্য যাহার সুসমাচার পূর্ববর্তী ধর্মগুলি ও সত্যব্রতী মহাপুরুষগণ দিয়া গিয়াছেন। বস্তুত ইহাই একজন নবী ও রাসূলের আহ্বান। তবে কি আমার নিকট দূত ও বার্তাপ্রেরক সেই বহুল প্রতীক্ষিত সত্য নবীই? যেন তাহাই হয়। তবে জেরুসালেমের পরিবর্তে মক্কায়ই কেন তাঁহার অভ্যুদয় ঘটিল? কিবতী জাতির নায়ক এক গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হইলেন।
রাত্রিবেলা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে তিনি মদীনার কাসেদকে একান্তে ডাকিয়া বলিলেন, দূত প্রবর! এইবার আমার কাছে আপনাকে প্রেরণকারীর কিছু পরিচয়ও ব্যক্ত করুন। কেমন তাঁহার অবয়ব, বংশমর্যাদা, চালচলন ও কথাবার্তা? তাঁহার অভ্যুদয়ের পর তাঁহার স্ব-জাতির মধ্যে কী পরিস্থিতির উদ্ভব হইল?
মিসরীয় ভাষায় অনর্গল কথা বলিতে পারঙ্গম সুভাষী দূত হাতিব ইব্ন আবী বাল্লা'আ (রা) মক্কা ও মদীনার মধ্যে সংঘটিত সব কাহিনীই একে একে বিবৃত করিলেন। হেরা গুহার সেই স্মরণীয় নির্জনতা, ওহী নাযিল হওয়ার কথা, সাফা পর্বতের সেই বহুবিশ্রুত উপদেশ, কুরায়শদের বিরোধিতা, মক্কা হইতে হিজরত বা বাস্তত্যাগ, তারপর একে একে সংঘটিত বদর, উহুদ, খন্দকের যুদ্ধসমূহ, উপরন্তু তাওহীদ, আখিরাত, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সেই বিপ্লবাত্মক দা'ওয়াত যাহা চিন্তার জগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি করিয়াছে- তাহার এই বিবরণ হইতে উহার কিছুই বাদ পড়িল না। এই সময় মুকাওকিসকে লক্ষ্য করিয়া হাতিব (রা) যে ভাষণ প্রদান করেন হাফিফ ইবনুল কায়্যিমসহ অনেকেই তাহা নিজ নিজ গ্রন্থে উদ্ধৃত করিয়াছেন। ভাষণটি নিম্নে প্রদত্ত হইল:
মিসর রাজের দরবারে মহানবী -এর দূত হযরত হাতিব (রা)-এর ভাষণ انه كان قبلك من يزعم انه الرب الاعلى يعنى (فرعون) فاخذه الله نكال الآخرة والاولى فانتقم به ثم انتقم منه فاعتبر بغيرك ولا يقبر غيرك بك ان هذا النبي دعا الناس فكان اشدهم عليه قريش واعداهم له يهود وأقربهم منه النصارى ولعمرى ما بشارة موسى بعيسى عليهما الصلوة والسلام الاكبشارة عيسى بمحمد ﷺ. "(রাজন!) আপনার পূর্বে এই দেশে এমন এক ব্যক্তিও ছিল যে নিজেকে রব্বুল আ'লা বা সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু বলিয়া দাবি করিত (অর্থাৎ ফিরআওন)। ফলে আল্লাহ্ তাহাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করিলেন। আল্লাহর গযব যখন নামিয়া আসিল তখন সে বা তাহার রাজ্য লোক-লশকর কিছুই রহিল না। সুতরাং আপনি অন্যের ঘটনা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করুন। এমন যেন না হয়, আপনার ধ্বংসই অন্যের জন্য শিক্ষণীয় হইয়া দাঁড়ায়।
"এই নবী বিশ্বের তাবৎ মানব গোষ্ঠীকে এই সত্যের দাওয়াত দিয়াছেন। কুরায়শ জাতি তাঁহার ঘোরতর বিরোধিতা করিয়াছে, ইয়াহুদীগণ করিয়াছে তীব্রতর বৈরিতা। পক্ষান্তরে খৃস্টান সমাজ তুলনামূলকভাবে তাঁহার প্রতি সম্প্রীতির পরিচয় দিয়াছে"।
"কসম আল্লাহ্! যেভাবে হযরত মূসা (আ), হযরত 'ঈসা (আ)-এর আগমনের সুসমাচার দিয়া গিয়াছিলেন ঠিক তেমনই হযরত 'ঈসা (আ) মুহাম্মাদ -এর আগমনের সুসমাচার প্রচার করিয়া গিয়াছেন"।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-দূত ও মুকাওকিসের প্রশ্নাত্তর
وما دعاؤنا اياك الى القرآن الا كدعائك اهل التوراة الى الانجيل وكل نبي ادرك قوما فهم امة فالحق عليهم ان يطيعوه فانت ممن ادرك هذا النبي ولسنا ننهاك عن دين المسيح بل تأمرك به. "আমাদের বেলায় আপনাকে কুরআনের দাওয়াত দেওয়াটা ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি তাওরাতপন্থীগণকে ইঞ্জীলের প্রতি দাওয়াত দিয়া থাকেন"।
"যে নবী যে জাতিকে পাইয়াছেন, তাহারাই তাঁহার উম্মত। তাঁহার অনুসরণ করা তাহাদের কর্তব্য। আপনি যেহেতু এই নবীর যুগ পাইয়াছেন, সুতরাং তাঁহার আনুগত্য করা আপনার কর্তব্য। আমরা আপনাকে মসীহ (আ)-এর ধর্ম পালনে বাধা দিতেছি না, বরং তাঁহার প্রচারিত বার্তার অনুসরণ করিতেই বলিতেছি। কেননা তিনি শেষ নবীর আনুগত্যের নির্দেশই আপনাদেরকে প্রদান করিয়াছেন" (রাহমাতুললিল আলামীন, ১খ., পৃ. ১৫৬-৫৭; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ৯৯)।
একান্ত গোপন প্রশ্নোত্তরকালে মুকাওকিস ও দূতের মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা হইয়াছিল উহার বিস্তারিত বিবরণ দিয়াছেন ইবন সা'দ তাবাকাতুল কুবরা গ্রন্থে। তিনি দূতকে লক্ষ্য করিয়া বলেন, আমি আজ তোমাকে তিনটি কথা জিজ্ঞাসা করিব। দূত বলেন: আমিও আপনাকে সঠিক জবাব দিব। তারপর তাঁহাদের মধ্যে যেসব কথাবার্তা হয়, তাহা নিম্নরূপ:
মুকাওকিস: মুহাম্মাদ কী দা'ওয়াত দিয়া থাকেন? দূত: তিনি দা'ওয়াত দেন যেন আমরা এক অদ্বিতীয় আল্লাহ্রই 'ইবাদত করি, দিবারাত্র পাঁচবার সালাত আদায় করি, রমযানের রোযা রাখি, আল্লাহর ঘরের হজ্জ করি, অঙ্গীকার পূর্ণ করি। তিনি আমাদেরকে বারণ করেন মৃত জন্তু ও রক্ত ভক্ষণ করিতে।
মুকাওকিস: তুমি তাঁহার অবয়ব ও আচরণ সম্পর্কে কিছু বল। দূত হাতিব বলেন: আমি সংক্ষেপে তাঁহার বর্ণনা দিলে মুকাওকিস বলিলেন: আরও কিছু ব্যাপার রহিয়া গিয়াছে যাহা তুমি বর্ণনা কর নাই। তারপর তিনি নিজেই সেগুলি বলিতে লাগিলেন: 'তাঁহার চক্ষুদ্বয়ে ঈষৎ লালিমা রহিয়াছে, কচিতই সেই লালিমা অনুপস্থিত থাকে। তাঁহার স্কন্ধদ্বয়ের মধ্যে মোহরে নবৃওয়াত রহিয়াছে। তিনি গর্দভে আরোহণ করেন। তিনি ঢিলা-ঢালা চোগা পরিধান করেন। তিনি খেজুর ও রুটির ভগ্নাংশ ভক্ষণের দ্বারাই দিনাতিপাত করেন। সাক্ষাৎকারী পিতৃব্য না পিতৃব্য-পুত্র তাহার কোন পরোয়া তিনি করেন না অর্থাৎ আত্মীয়-স্বজনের অন্যায় আবদারকে প্রশ্রয় দেন না (আল-ইসাবা, ৪খ., পৃ. ৫০৩; সীরাত যায়নী দাহলান, ৩খ., পৃ. ৭৩; আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৩০-১)।
দূতের মুখে সবকিছু শোনার পর মিসরের পোপ ও জাতীয় নেতার মধ্যে সত্যভাষী বিন ইয়ামীনের মুখ দিয়া তাঁহার মনের অজান্তেই বাহির হইয়া আসিল, "আমি পূর্বেই জানিতাম আল্লাহর শেষ নবীর শুভাগমন ঘটিবে। কিন্তু আমার ধারণা ছিল, শামদেশেই তাঁহার অভ্যুদয় ঘটিবে। কেননা পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ শামদেশেই আবির্ভূত হইয়াছেন। কিন্তু এইবার দেখিতেছি আমার ধারণাকে ভুল প্রতিপন্ন করিয়া তিনি আবির্ভূত হইয়াছেন কঠিন সাধ্য-সাধনার দেশ আরবের মাটিতে"। তারপর দীর্ঘক্ষণ মাথা নীচু করিয়া কী যেন ভাবিলেন, অতঃপর বলিলেন:
📄 নবী কারীম (সা)-এর সম্পর্কে মুকাওকিসের মূল্যায়ন ও পত্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
"হে আমার নবাগত অতিথি! আমার স্ব-জাতীয় কিন্তীগণ কিন্তু তাঁহার ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার ব্যাপারে আমাকে সমর্থন করিবে না। হে ইব্ন আবী বালতা'আ! আমি যেন স্পষ্ট দেখিতে পাইতেছি, আমার এই অঙ্গণে এই দেশের এই মাটিতে তোমার নবীর বিজয় পতাকা উড্ডীন হইবে। আমার পদতলের এই স্থান পর্যন্ত তাঁহার সঙ্গী-সাথিগণ দ্রুত ছড়াইয়া পড়িবেন।"
এই আলাপ-আলোচনার পর হাতিব যখন বিদায় গ্রহণ করিতেছিলেন, তখন বাবলিয়্যূন দুর্গের সিঁড়িতে দাঁড়াইয়া বিন ইয়ামীন তাঁহার হস্ত হাতিবের স্কন্ধের উপর রাখিয়া অনুচ্চ কণ্ঠে বলিলেন, আমি কিন্তীদেরকে এই ব্যাপারে ঘূর্ণাক্ষরেও কিছু বলিব না। আমার ও তোমার মধ্যকার আলোচনা তাহারা জ্ঞাত হউক, ইহা আমার কাম্য নহে। হাঁ, তুমি যখন তোমার গুরুর কাছে ফিরিয়া যাইবে তখন অবশ্যই তোমাকে আমি যাহা যাহা বলিয়াছি, সবই তাঁহাকে বলিবে (প্রাগুক্ত, আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৪৯; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১০১-২)।
নবী কারীম সম্পর্কে দূতের ভাষণের পর মুকাওকিস তাঁহার মূল্যায়ন করেন এইভাবে :
انى نظرت في هذا النبي فوجدته لا يأمر بمزهود فيه ولا ينهى عن مرغوب فيه ولم اجده بالساحر الضال ولا الكاهن الكذاب وجدت معه آيته النبوة باخراج الخباء والاخبار بالنجوى وسأنظر ثم اخذ الكتاب وجعله في حق من عاج وختم عليه ودفعه الى جاريته. "আমি এই নবীর ব্যাপারটি মনোযোগ সহকারে বিবেচনা করিয়া দেখিয়াছি। আমি লক্ষ্য করিয়াছি, তিনি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করিতে আদেশ করেন না, আবার কোন কাঙ্ক্ষিত কাজ করিতে বারণও করেন না। তিনি কোন বিভ্রান্তকারী যাদুকরও নহেন, আবার ভণ্ড মিথ্যুক গণকও নহেন। আমি তাঁহার মধ্যে নবুওয়াতের লক্ষণাদি প্রত্যক্ষ করিয়াছি। তিনি গোপন অর্থাৎ লোকচক্ষুর অন্তরালের বিষয়সমূহ বাহির করিয়া আনেন এবং গোপন তথ্য বলিয়া দেন। অতঃপর মুকাওকিস পত্রখানা হাতে লইয়া গজদন্তের উহা একটি কৌটাতে পুরিয়া উহার উপর সীলমোহর লাগাইলেন। তারপর উহা তাহার দাসীর নিকট রাখিয়া দিলেন এবং বলিলেন আমি তাহার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করিব (মাকাতিবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ৯৯; আস্-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৪৯-৫০)।
📄 নবী কারীম (সা)-কে মুকাওকিসের জবাবী পত্র
অতঃপর মুকাওকিস তাঁহার আরবী দোভাষীকে ডাকাইয়া মদীনা হইতে আগত পত্রের জবাব লিখাইলেন এইভাবেঃ بسم الله الرحمن الرحيم لمحمد بن عبد الله من المقوقس عظيم القبط سلام عليك اما بعد فقد قرأت كتابك وفهمت ما ذكرت اظن انه يخرج بالشام وقد اكرمت رسولك وبعثت اليك بجاريتين لهما مكان في القبط عظيم وبثياب واهديت اليك بغلة لتركبها والسلام عليك. "আবদুল্লাহ্র পুত্র মুহাম্মাদ-এর প্রতি কিবতী জাতির নায়ক মুকাওকিসের পক্ষ হইতে। আপনার প্রতি সালাম। পর সমাচার, আমি আপনার পত্রখানা পাঠ করিয়াছি এবং উহাতে আপনি
যাহা উল্লেখ করিয়াছেন এবং যাহার প্রতি আপনি দা'ওয়াত দিয়াছেন তাহা হৃদয়ঙ্গম করিয়াছি। একজন নবীর আবির্ভাব যে আসন্ন তাহা আমি জ্ঞাত আছি। আমার ধারণা ছিল, তিনি শামদেশে আবির্ভূত হইবেন। আমি আপনার দূতকে সমাদর করিয়াছি এবং সম্মান প্রদর্শন করিয়াছি। কিবতী জাতির কুলশীলা ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারিণী দুইটি বালিকা ও বস্ত্রাদি আপনার খিদমতে প্রেরণ করিলাম। সাথে সাথে আপনার বাহনস্বরূপ একটি খচ্চর উপঢৌকন হিসাবে প্রেরণ করিলাম। আপনার প্রতি সালাম বর্ষিত হউক” (আল-মিস্বাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ১৩১-২; আত-তাবাকাতুল কুরা, ১খ., পৃ. ২৬০; আল-হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৫০; সীরাত যায়নী দালান, ৩খ., পৃ. ৭১)।