📄 রোমক সম্রাটের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দ্বিতীয় পত্র
রাসূলুল্লাহ নবম হিজরীর রজব মাসে রোমক সম্রাটের উদ্দেশ্যে তাঁহার শেষ হুঁশিয়ারী পত্রটি প্রেরণ করিলেন- বাহা প্রথম পত্রের বাহক দিয়া কালবী (রা)-ই কায়সারের নিকট বহন করিয়া লইয়া যান। সেই পরখানির পাঠ ছিল নিম্নরূপ:
من محمد رسول الله الى صاحب الروم اني ادعوك الى الاسلام فان اسلمت فلك ما للمسلمين وعليك ما عليهم فان لم تدخل في الاسلام فاعط الجزية بالله تبارك وتعالى يقول قاتلوا الذين لا يؤمنون ولا يدينون دين الحق من الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون والا فلا تحل بين الفلاحين وبين الاسلام ان يدخلوا فيه أو يعطوا الجزية. "আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ হইতে রোম-অধিপতির প্রতি— আমি আপনাকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতেছি। যদি আপনি ইসলাম গ্রহণ করিয়া লন তবে আপনার অধিকারও অন্য দশজন মুসলমানের মত হইবে, সাথে সাথে মুসলমান হিসাবে দায়িত্বও আপনার উপর বর্তাইবে। ইসলামে যদি একান্তই আপনি প্রবিষ্ট না হন, তাহা হইলে আল্লাহ্ নামে জিযয়া প্রদান করুন। আমাদের প্রতি আল্লাহ্র নির্দেশ হইতেছে, "কিতাবীদের মধ্যে যাহারা (আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি) ঈমান আনয়ন করিবে না এবং সত্য ধর্মকে বরণ করিবে না তাহাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করিবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাহারা জিযয়া প্রদান করে এবং বশ্যতা স্বীকার করে" (৯:২৯)। যদি একান্তই আপনি তাহাতে সম্মত না হন, তাহা হইলে অন্তত (আপনার অধীনস্ত) আরব প্রজাদের ইসলাম গ্রহণে অন্তরায় হইয়া দাঁড়াইবেন না" [দ্র. কিতাবুল আমওয়াল, পৃ. ২৬ (১৯৮ সং), মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৬৬]।
উক্ত পত্রে আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাসের এবং আল্লাহর আইন মানিয়া লওয়ার দাওয়াতই ছিল মুখ্য। দ্বিতীয় বিকল্প ব্যবস্থারূপে বলা হয়, সম্রাট যেন আল্লাহ্ আইনের কাছে নতিস্বীকার করিয়া জিযয়া প্রদান করেন, আর সাথে সাথে এই দাওয়াতও ছিল যে, তিনি ইসলাম গ্রহণে একান্তই অনিচ্ছুক হইলে সম্রাট যেন তাঁহার অধীনস্থ সিরীয় এলাকার ছোট ছোট আরব রাজ্যগুলির উপর ক্ষমতা প্রয়োগ হইতে বিরত থাকেন, যাহাতে তাহারা ইসলামী প্রথা বা জিযয়া প্রদানের সিদ্ধান্ত নিজেরা স্বাধীনভাবে নিতে সমর্থ হয়।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দ্বিতীয় পত্রের জবাবে হিরাক্লিয়াস
রাসূলুল্লাহ -এর দ্বিতীয় পত্রের জবাবে হিরাক্লিয়াস إلى احمد رسول الله الذي بشر به عيسى من قيصر ملك الروم انه جائني كتابك مع رسولك واني اشهد انك رسول الله نجدك عندنا في الانجيل بشرنا بك عيسى بن مريم واني دعوت الروم الى أن يؤمنوا بك فابوا ولو اطاعو ني لكان خيرا لهم ولوددت اني عندك فاخدمك واغسل قدميك. "আহমাদ রাসূলুল্লাহ্র প্রতি— যাঁহার সুসমাচার 'ঈসা (আ) দিয়াছিলেন, রোমক সম্রাট কায়সারের পক্ষ হইতে— আপনার পত্রখানা আপনার দূতের মাধ্যমে আমার নিকট পৌছিয়াছে। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি আল্লাহ্র সত্য রাসূল। আমাদের কাছে রক্ষিত ইঞ্জীল কিতাবে . আমরা আপনার উল্লেখ পাই। মারয়াম-তনয় 'ঈসা (আ) আপনার শুভাগমনের সুসমাচার দিয়াছেন। আমি রোমবাসীদেরকে আপনার প্রতি ঈমান আনয়নের দাওয়াত দিয়াছি, কিন্তু তাহারা তাহাতে সম্মত হয় নাই। তাহারা যদি আমার কথা মানিয়া লইত, তাহা হইলে নিঃসন্দেহে তাহা তাহাদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর হইত। আমার মন চাহে, আমি যদি আপনার খিদমতে উপস্থিত হইতে পারিতাম আর আপনার পবিত্র চরণযুগল স্বহস্তে ধৌত করিয়া দিতে পারিতাম” (আল-ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. ৬২; সীরাতে যায়নী দালান, (সীরাতে হালাবিয়্যার পাদটীকায়), ৩খ., পৃ. ৬৪; সীরাতে হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ২৭৭; মাজমু'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ৮২)।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, মহানবী-এর তাবূক অবস্থানকালে হিরাক্লিয়াস জনৈক দূত মারফত তাঁহার কাছে প্রেরিত পত্রে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রশ্ন করেন :
📄 রোমক সম্রাটের দূতের ঘটনা তাহার নিজের যবানে
تَدْعُونِي إِلَى جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ فَأَيْنَ النَّارُ ؟ ১৫৩ "আপনি আমাকে এমন বেহেশতের দিকে আহ্বান জানাইতেছেন যাহার বিস্তৃতি আসমানসমূহ ও যমীনব্যাপী, তাহা হইলে দোযখ কোথায় (মাজমূআতুল ওয়াছাইক, পৃ. ৮৫)?
অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর পত্র প্রাপ্তির পর সভাসদবর্গের বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্যে হিরাক্লিয়াস দূতকে বলেন, انی اخاف علی ملکی "আমি আমার রাজত্ব হারানোর আশঙ্কা করিতেছি”। মহানবী (স)-কে দেওয়ার জন্য তিনি একটি কাগজে লিখিয়া দেন, انی مسلم ولكنى مغلوب "আমি মুসলিম কিন্তু পরিস্থিতির শিকার, পরাজিত” (প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৬)।
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট প্রেরিত পত্রের সহিত হিরাক্লিয়াস তাঁহার জন্য কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রাও প্রেরণ করেন। রাসূলুলুল্লাহ (স) বলেন:
يبقى ملكهم ما بقى كتابي عندهم. "আমার পত্রখানা যতদিন তাহাদের নিকট সংরক্ষিত থাকিবে ততদিন তাহাদের রাজত্ব টিকিয়া থাকিবে।"
হিরাক্লিয়াসের মুসলিম বলিয়া পরিচয় দেওয়া সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করিলেন, আল্লাহ্র দুশমন মিথ্যা বলিয়াছে। আদতে সে মুসলিম নহে (মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ৮৬; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১১৪)।
আবূ সুফয়ান প্রমুখাৎ বর্ণিত পূর্বোক্ত বর্ণনার সহায়ক বিধায় দূতের বর্ণনাটি নিম্নে হুবহু প্রদত্ত হইল। মু'আবিয়া-পরিবারের আযাদকৃত দাস সাঈদ ইবন আবী রাশিদ বর্ণনা করেন, আমি যখন সিরিয়ায় (হিমসে) উপনীত হইলাম তখন আমাকে বলা হইল, পাশের গীর্জায়ই সেই লোকটি বাস করে, যে ব্যক্তিটি রোমক সম্রাটের দূতরূপে মহানবী-এর দরবারে প্রেরিত হইয়াছিলেন-। কৌতূহলবশে আমি সেই গীর্জায় প্রবেশ করিলাম। সেখানে ঢুকিয়াই দেখিলাম এক বৃদ্ধ বসিয়া রহিয়াছেন। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনিই কি রোমক সম্রাটের দূতরূপে রাসূলুল্লাহ-এর দরবারে গমন করিয়াছিলেন? বৃদ্ধ মাথা নাড়িয়া বলিলেন, হাঁ, আমিই গিয়াছিলাম। আমি বলিলাম, অনুগ্রহপূর্বক সেই ঘটনা বিবৃত করুন তো।
বৃদ্ধ বলিলেন, রাসূলুল্লাহ যখন তাবুকে আসেন, তখন দিহ্ইয়া কালবীকে তাঁহার দূতরূপে হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরণ করেন। সম্রাট পত্রখানা পাইয়াই রোমের বিশপ ও পাদ্রিগণকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। তাহারা আসিয়া পৌছিলে তিনি দরবারকক্ষের দরজাসমূহে অর্গলাবদ্ধ করাইয়া দিয়া তাহাদেরকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, আপনারা তো দেখিতেই পাইতেছেন যে, সেই বিদেশীটি ইতোমধ্যেই আমাদের মাতৃভূমিতে ঢুকিয়া পড়িয়াছে। সে আমার নিকট দূত প্রেরণ করিয়াছে। তাহার দাবি তিনটি: হয় আমরা তাহার ধর্মে দীক্ষিত হইব, নতুবা তাহার বশ্যতা স্বীকার করিয়া লইয়া তাহাকে আমাদের রাজ্যের পক্ষ হইতে রাজস্ব প্রদান করিব। আর যদি তাহাও আমরা গ্রহণ না করি তবে তৃতীয় বিকল্প ব্যবস্থা হইতেছে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা। আল্লাহর কসম! এই
পত্রখানা পাঠে আমার কেন যেন মনে হইতেছে, আমার পদতলের এইসব কিছুই কাড়িয়া লওয়া হইবে। এমতাবস্থায় তাহার ধর্মে দীক্ষিত হওয়া অথবা তাহার রাজস্ব প্রদানে স্বীকৃত হইয়া যাওয়াটাই কি বুদ্ধিমানের মত কাজ হইবে না!
এই কথা শ্রবণ করিয়া দরবার ভর্তি লোকজন চীৎকার করিয়া উঠিল, তাহা হইলে কি আমাদের খৃষ্ট ধর্ম বিসর্জন দিয়া হেজায হইতে আগত এই ব্যক্তিটির বশ্যতা স্বীকার করিয়া লইতে আপনি আমাদেরকে পরামর্শ দিতেছেন? রোমক সম্রাট যখন মজলিসের এই প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করিলেন তখন তাঁহার আর বুঝিতে বাকী রহিল না যে, মজলিসের এই লোকগুলি বাহির হইয়া গেলেই গোটা সাম্রাজ্যব্যাপী উহার তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হইবে। এই কথা উপলব্ধি করামাত্র তিনি ভোল পাল্টাইয়া সমবেত অমাত্যবর্গ ও ধর্মযাজকগণকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আমি আপনাদেরকে একটু পরীক্ষা করিয়া দেখিলাম যে, আপনারা স্বধর্মে কতটুকু অবিচল আছেন।
তারপর তিনি জনৈক আরব খৃস্টান ভৃত্যকে ডাকিয়া বলিলেন, আমার নিকট এমন একটি লোককে নিয়া আইস যাহার স্মরণশক্তি প্রখর, অথচ সে স্বচ্ছন্দে আরবী বলিতে সক্ষম। তাহার মাধ্যমেই আমি পত্রের জবাব প্রেরণ করিব। ভৃত্যটি আমার নিকট ছুটিয়া আসিল এবং সে আমাকে ধরিয়া লইয়া সম্রাটের সমীপে উপস্থিত করিল।
সম্রাট আমাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, তুমি ঐ ব্যক্তিটির নিকট আমার পত্রসহ গমন করিবে এবং তিনটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করিবে। প্রথমত, আমার নিকট তাহার (প্রথম) পত্রটির কথা সে-কিছু বলে কি না? দ্বিতীয়ত, পত্রপাঠের সময় সে দিবস বা রজনীর কোন উল্লেখ করে কি না? তৃতীয়ত, একটি বিশেষ বস্তু তাহার মধ্যে দৃষ্ট হয় কি না?
আমি যথারীতি সম্রাটের পত্রসহ তাবুকে গিয়া উপনীত হইলাম। আমি লক্ষ্য করিলাম, তিনি (রাসূলুল্লাহ) তদীয় সঙ্গী-সাহাবীগণ পরিবেষ্টিত অবস্থায় কুয়ার পাড়ে উপবিষ্ট। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনাদের মনিব কোথায়? আমাকে বলা হইল, এই যে তিনি বসিয়া রহিয়াছেন। আমি অগ্রসর হইয়া তাঁহার নিকট গিয়া বসিয়া পড়িলাম। তিনি আমার নিকট হইতে সম্রাটের পত্রখানা গ্রহণ করিয়া তাঁহার পাশেই রাখিয়া দিলেন। তারপর আমাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন: তুমি কোন্ গোত্রের লোক হও? আমি জবাব দিলাম, 'তানূখ গোত্রে'। এই কথা কি তোমার মনপূত হয় না যে, তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম (আ)-এর সনাতন সত্য ধর্ম কবূল করিয়া তুমি মুসলমান হইয়া যাও?
আমি জবাব দিলাম, এখন তো একটি জাতির দূতরূপে আমি আপনার দরবারে আগমন করিয়াছি। দৌত্যকর্মের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তো আমি মতাদর্শ পরিত্যাগ করিতে পারি না। আমার এই জবাব শুনিয়া স্মিতহাস্য করিয়া তিনি বলিলেনঃ "তুমি যাহাকে চাহিবে তাহাকেই হিদায়াত করিতে পারিবে না, বরং আল্লাহই সেই পবিত্র সত্তা তিনি যাহাকে ইচ্ছা হিদায়াত করিতে পারেন। আর তিনিই হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে সম্যক অবগত” (২৮:৪৬)।
তিনি তাঁহার বক্তব্য প্রদান অব্যাহত রাখিলেন এবং আমাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন: “হে আমার তানূখী ভ্রাতা! আমি পারস্য-সম্রাট কিস্সার নিকট একটি পত্র প্রেরণ করিয়াছিলাম। সে আমার পত্রখানা ছিড়িয়া ফেলিয়া দেয়। আল্লাহ্ তাহার রাজত্বকেও খণ্ড-বিখণ্ড করিয়া ফেলিবেন। আমি ইথিওপিীয় সম্রাট নাজাশীর উদ্দেশ্যেও পত্র প্রেরণ করিয়াছি। সেও আমার পত্রখানা ছিড়িয়া
📄 রোমের রাজপ্রাসাদে মহানবী (সা)-এর কল্পচিত্র
ফেলিয়া দেয়। আল্লাহ্ তাহার রাজত্বকেও খণ্ডবিখণ্ড করিয়া দিবেন। তারপর তোমার মনিবকেও পত্র লিখিয়াছি, তিনি তো তাহা লইয়া চুপচাপ বসিয়া রহিয়াছেন।"
আমি মনে মনে বলিালাম, ইহা হইতেছে সেই বিষয়ত্রয়ের একটি যেগুলির কথা খেয়াল রাখিবার কথা আমাকে বলিয়া দেওয়া হইয়াছে। সঙ্গে সঙ্গে আমার তৃণ হইতে তীর খুলিয়া উহার খাপে এই কথাটি টুকিয়া রাখিলাম। তারপর তিনি তদীয় বাম পার্শ্বে উপবিষ্ট একটি লোকের নিকট পত্রখানা অর্পণ করিয়া তাহা পাঠ করিতে বলিলেন। আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ঐ পত্র পাঠকারী ভদ্রলোকটির নাম কি? তাহারা জবাব দিল, ইনি হইতেছেন মু'আবিয়া।
আমার মনিব কায়সার তাঁহার প্রেরিত পত্রে এই প্রশ্নটিও করিয়াছিলেন, আপনি আমাকে যে বেহেশতের দিকে আহ্বান জানাইতেছেন (আপনার বক্তব্য অনুসারে), উহা আসমান-যমীন ব্যাপী বিস্তৃত- যাহা ধর্মপ্রাণ ও আল্লাহভীরুগণের জন্য সজ্জিত করিয়া রাখা হইয়াছে। তাহা হইলে দোযখ কোথায়? রাসূলুল্লাহ্ তাঁহার জবাবে বলিলেন: সুবহানাল্লাহ্! যখন দিবস আসে, তখন রাত্রি কোথায় পালায়? আমি চট করিয়া তৃণ হইতে তীর খুলিয়া খাপের উপর এই কথাটিও টুকিয়া রাখিলাম।
পত্রপাঠ পর্ব শেষ হইলে তিনি আমাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, তুমি বার্তাবাহক দূত। তোমার যথেষ্ট হক রহিয়াছে। কিন্তু উপঢৌকনস্বরূপ দেওয়ার মত তেমন কিছুই আমার কাছে নাই। কেননা আমরা এখন সফরে রহিয়াছি। আমাদের সফরের সম্বলটুকুও নিঃশেষিত প্রায়। এতদশ্রবণে সমবেত জনতার মধ্য হইতে এক ব্যক্তি বলিয়া উঠিলেন, আমি তাহাকে উপঢৌকন দিতেছি। অতঃপর সেই বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি তাঁহার নিজের জাম্বিলটি খুলিয়া জরদ রঙের একটি চোগা বাহির করিয়া তাহা আমার থলের মধ্যে পুরিয়া দিলেন। আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলাম, এই প্রবীণ ভদ্রলোকটি কে? তাহারা জবাব দিল, ইনি হইতেছেন উছমান। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলিয়া উঠিলেন, কে এই দূতকে আতিথ্য প্রদান করিবে? জনৈক আনসারী যুবক দাঁড়াইয়া বলিলেন, আমি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সেই আনসারী ব্যক্তিটি তৎক্ষণাৎ উঠিয়া পড়িলেন আর আমি তাঁহার পশ্চাতে পশ্চাতে চলিলাম। আমরা যখন মজলিস হইতে নিষ্ক্রান্ত হইতে উদ্যত হইলাম তখন রাসূলুল্লাহ আমাকে আহ্বান করিয়া বলিলেন: হে আমার তানূখী ভ্রাতা! একটু নিকটে আইস তো! আমি ফিরিয়া গিয়া তাঁহার সম্মুখে দণ্ডায়মান হওয়ামাত্র তিনি তদীয় পৃষ্ঠদেশ হইতে বস্ত্র অপসারণ পূর্বক বলিলেন, এই হইতেছে সেই বিশেষ বস্তুটি যাহা দেখিয়া যাওয়ার জন্য তোমার মনিব তোমাকে বলিয়া দিয়াছিলেন।
আমি একটু অবনমিত হইয়া তদীয় পবিত্র পৃষ্ঠদেশে মোহরে নবুওয়াত প্রত্যক্ষ করিলাম- স্কন্ধদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে একটি মাংসপিণ্ড-যাহা একটু উত্থিত অবস্থায় ছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া)।
ইবনুল জাওযী (র) তদীয় সীরাত উমার ইবনুল খাত্তাব গ্রন্থে হযরত দিয়া কালবী (রা)-এর দৌত্যকর্ম সংক্রান্ত একটি বিস্ময়কর ঘটনা বিবৃত করিয়াছেন বলিয়া আল-বালাগুল মুবীনে, পৃ. ৯২০-১ বর্ণিত হইয়াছে। হযরত দিয়া কালবী বলেন, কায়সার যখন লক্ষ্য করিলেন, তদীয়