📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহ ইব্‌ন আওসাজা আল-উরামী (রা)

📄 আবদুল্লাহ ইব্‌ন আওসাজা আল-উরামী (রা)


(৩০) আবদুল্লাহ ইব্‌ন আওসাজা আল-উরামী (রা): রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে সাম'আন ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কুরায়ত ইন্ন উরাইদ ইব্‌ন আবী বকর ইন কিলাবের নিকট পত্রসহ প্রেরণ করিয়াছিলেন। উক্ত পত্র প্রাপক রাসূলুল্লাহ্ -এর সেই পত্রখানা- যাহা চর্মগাত্রে লিখিত ছিল- তাহা দ্বারা নিজের বালতিতে তালি লাগাইয়াছিল, কিন্তু পরবর্তীতে নবী দরবারে হাযির হইয়া যথারীতি ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ২৭৫; আল মুফাসসাল ফী তারীখিল 'আরাব কাবলাল ইসলাম, ৮খ., পৃ. ৩০৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 উকবা ইবন আমির (রা)

📄 উকবা ইবন আমির (রা)


(৩১) উকবা ইব্‌ন নামির (রা): রাসূলুল্লাহ্ যুর'আ যী-ইয়াযান-এর নামে যে পত্র প্রেরণ করিয়াছিলেন তাহাতে এই উকবার উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি হামাদানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্-এর দরবারে আগমন করিয়াছিলেন। তিনি ইবন মুরর আল-যামাদানী নামেও পরিচিত ছিলেন (ইন্ন হিশাম, সীরাহ, ৩খ., পৃ. ৭০; আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২০৫; আল-ইসাবা, ২খ., পৃ. ৪৯২; উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ৪২১; আয-যাহাবী, তাজরীদু আসমাইস সাহাবা, ১খ., পৃ. ৩৮৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহ ইব্‌ন ওয়াহ্ আল-আসলামী/আসাদী

📄 আবদুল্লাহ ইব্‌ন ওয়াহ্ আল-আসলামী/আসাদী


(৩২) আবদুল্লাহ ইব্‌ন ওয়াহ্‌ব আল-আসলামী/আসাদী। (৩৩) হাবীব ইন্ন যায়দ আল-খাযরাজী
বালাযুরীর ধারণামতে মুসায়লামার নিকট প্রেরিত প্রথম পত্রের ডাকে সে সাড়া না দেওয়ায় তাহাকে ইসলামী রাষ্ট্রবিরোধী যুদ্ধংদেহী আচরণ হইতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ পুনরায় তাহার নিকট দূত প্রেরণ করেন। এই দুইজন সাহাবী ঐ দায়িত্বটি পালন করিয়াছিলেন (দ্র. ফুতূহুল বুলদান, পৃ. ১০২; রাসূল মুহাম্মদ-এর সরকার কাঠামো, পৃ. ২১৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাবীব ইব্‌ন যায়দ আল-খাযরাজী

📄 হাবীব ইব্‌ন যায়দ আল-খাযরাজী


চিঠিপত্র বা রাজকীয় ফরমানাদিতে সীল-মোহরের ব্যবহার আরবদেশে প্রচলিত ছিল না। ঐতিহাসিক বালাযুরী আফফান ইন্ন মুসলিম, শু'বা ও কাতাদা সূত্রে বর্ণনা করেন, আনাস ইবন মালিক (রা)-কে তিনি বলিতে শুনিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ যখন রোমক সম্রাটের নিকট পত্র লিখিতে মনস্থ করিলেন তখন তাঁহাকে বলা হইল, সীলমোহরবিহীন পত্রাদি তাহারা পড়ে না। সুতরাং রাসূলুল্লাহ্ (স) একটি রৌপ্যের আংটি প্রস্তুত করাইলেন। তাহাতে অঙ্কিত ছিল محمد رسول الله। তাঁহার সেই আংটির শূদ্রতা যেন এখন আমার চক্ষের সম্মুখে ভাসিতেছে।
আনাস ইবন মালিক (রা)-এর আরেকটি বর্ণনা সূত্র হইতে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্-এর আংটির রিং এবং নাগিনা সবটাই ছিল রৌপ্যের। যুত্রী ও কাতাদা সূত্রে বর্ণিত অপর এক হাদীছ হইতে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্-এর আংটির নকশার অনুরূপ নকশাযুক্ত আংটি ব্যবহার অন্যদের জন্য তিনি নিষিদ্ধ করিয়াছেন। উক্ত বর্ণনা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, উহা কেবল ব্যক্তিগত ব্যবহারের আংটিই ছিল না, উহা ছিল তাঁহার রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের সীলমোহরও। পরবর্তীতে হযরত আবূ বকর, উমার ও উছমান (রা)-এর খিলাফত আমলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত উহা রাষ্ট্রীয় সীলমোহররূপেই ব্যবহৃত হইয়াছে। তারপর একদিন যখন হযরত উছমান (রা) বি'রে আরীস নামক কূপের পাড়ে উপবিষ্ট ছিলেন তখন ঐ আংটিটি কূপে পড়িয়া যায়। তিন দিন পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুজি করিয়া, এমনকি উহার সম্পূর্ণ পানি সিঞ্চন করিয়া তন্নতন্ন করিয়া অনুসন্ধান চালাইয়াও তাহার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নাই। অগ্যতা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনে তিনি অনুরূপ আরেকটি সীলমোহর প্রস্তুত করাইয়া কাজ চালাইয়া যাইতে থাকেন। আংটিটির খোদিত লিপি তিন লাইনে সাজানো ছিল যাহার সর্বনিম্নে মহাম্মদ, মধ্যে রাসূল এবং সর্বোচ্চে আল্লাহ শব্দ ছিল (ফুতূহুল বুলদান, বালাযুরী, পৃ. ৪৪৮; বৈরুত, ১৪০৩/১৯৮৩.; ড. হামীদুল্লাহ, মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক, পৃ. ৫০, ৫১ ও ৫৭)। লক্ষণীয়, ধারাবাহিকভাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ অংকিত গোলাকার টোপ তৈরী করাইলে উহাতে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামটি সর্বনিম্নে স্থান পাইত তাহা হইত একান্তই অশোভন- মহা প্রজ্ঞাবান মহানবী-এর সজাগ দৃষ্টি তাহা এড়াইয়া যাইতে পারে নাই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00