📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নু'আয়ম ইবন মাস'উদ আল-আশজাঈ (রা)

📄 নু'আয়ম ইবন মাস'উদ আল-আশজাঈ (রা)


(২৬) নু'আয়ম ইবন মাস'ঊদ আল-আশজাঈ (রা): তিনি গাতাফান গোত্রের নেতা ছিলেন। তাঁহার ডাকনাম ছিল আবূ সালামা। পূর্ণ বংশলতিকা এই: নু'আয়ম ইবন মাস'ঊদ ইব্‌ন আমের ইব্‌ন আনীফ ইব্‌ন ছা'লাবা ইব্‌ন কুরয ইব্‌ন্ন হিলাল ইব্‌ন গাতাফান। তাঁহার সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই ইসলাম গ্রহণ করেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন সম্মিলিত কাফির বাহিনী মদীনা অবরোধ করিয়া বসে এবং তাহা মাসাধিক কাল স্থায়ী হইয়া মদীনার অধিবাসিগণের জীবনকে দুর্বিসহ করিয়া তোলে, এমন সময় তিনি নবী (স) দরবারে উপস্থিত হইয়া জানান যে, তাঁহার সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনিই একমাত্র ইসলাম গ্রহণকারী, কিন্তু সম্প্রদায়ের লোকজন তাহা অবগত নহে। এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল তাহাকে যে হুকুমই দিবেন তাহা তিনি অবনত মস্তকে পালন করিবেন (ইবন কাছীর, আস্-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যা, ২খ., পৃ. ২১৩; জেনারেল আকবর খান, ইসলামের প্রতিরক্ষা কৌশল, পৃ. ২৭৬, ইফা. ১ম সং ১৯৮৪ খৃ.)।
ইন হিশাম-এর বর্ণনা হইতে জানা যায়, তখন রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে বলিয়াছিলেন, যদি পার তাহা হইলে শত্রুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিয়া দাও। কেননা "যুদ্ধ হইতেছে কূটকৌশল ও প্রতারণার খেলা"। সত্যসত্যই তিনি শত্রুদের বিভিন্ন পক্ষের নিকট গমন করিয়া এমন সব কথাবার্তা বলিলেন যে, তাহারা একদল অপর দলকে আর কোনমতেই বিশ্বাস করিতে পারিল না। তাহাদের ঐক্য ভাঙ্গিয়া পড়িল এবং ব্যর্থ মনষ্কাম হইয়া একেবারে বিধ্বস্ত অবস্থায় মদীনা ত্যাগ করিল (ইবন হিশাম, ২খ., পৃ. ১৩৯; সীরাত বিশ্বকোষ, ৭খ., পৃ. ৭৫-৭৭)।
রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট হইতে প্রত্যক্ষভাবে শ্রবণ করা কয়েকখানা হাদীছের তিনি রাবী। তিনি হযরত উছমান (রা)-এর খিলাফতকালে ইন্তিকাল করেন, মতান্তরে জামালের যুদ্ধে তিনি শহীদ হইয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে ইব্‌ন যীল-লিহয়া এবং ইব্‌ন মুশাইসামা আল-জুবায়রীর নিকট দূতরূপে প্রেরণ করিয়াছিলেন (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ২৫৬-২৫৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ওয়াছিলা ইবনুল আস্কা' (রা)

📄 ওয়াছিলা ইবনুল আস্কা' (রা)


(২৭) ওয়াছিলা ইবনুল আস্কা' (রা): তাঁহার পূর্ণ নাম ও বংশলতিকা এই রূপ: ওয়াছিলা ইবনুল আস্কা ইবন আবদিল উয্যা ইব্‌ন আবদি ইয়ালীল ইব্‌ন নাশিব আল-লায়ছী। তাঁহার উপনাম ছিল আবুল আস্কা, মতান্তরে আবূ মুহাম্মাদ। রাসূলুল্লাহ্-এর তাবৃক অভিযানে গমনের প্রস্তুতি গ্রহণকালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। দীর্ঘ তিন বৎসর কাল আহলে সুফফার সহিত অবস্থান করিয়া তিনি আল্লাহ্র রাসূলের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ করেন। পরবর্তী কালে বসরা ও সিরিয়ায় বসবাস করেন। দামিশক ও হিমস অভিযানে অংশগ্রহণের পর বায়তুল মুকাদ্দাস গমন করিলে সেখানে তিনি ইনতিকাল করেন।
তাঁহার ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁহার পিতা তাঁহার প্রতি এতই অসন্তুষ্ট হন যে, তিনি সাথে সাথে বলিয়া উঠেন, 'তোমার সহিত আর একটি কথাও আমি বলিব না'। অবশ্য তাঁহার ভগ্নি তাঁহার পরেপরেই ইসলাম গ্রহণ করেন। ইহার পর রাসূলুল্লাহ্-এর সহিত দেখা করিতে আসিলে তিনি জানিতে পারেন যে, তিনি ইতোমধ্যেই তাবুক অভিযানে রওয়ানা হইয়া পড়িয়াছেন। হযরত-উকবা (রা)-র সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তিনি তাবুকে রাসূলুল্লাহ্ -এর সহিত মিলিত হন এবং সেই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে হযরত খালিদের সঙ্গে উকায়দিরের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলন (আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২৫৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হায়্যান ইব্‌ন মিল্লা

📄 হায়্যান ইব্‌ন মিল্লা


(২৮) হায়‍্যান ইব্‌ন মিল্লা: হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরিত রাসূলুল্লাহ্ -এর দূত দিয়া কালবীর ইনি ছিলেন সফরসঙ্গী। ফিলিস্তীনের অধিবাসী আনীফুল ইয়ামানী তাঁহার ভাই ছিলেন। ইহার বেশী আর কোন পরিচয় আমরা সংগ্রহ করিতে পারি নাই (ইমাম যাহাবী, তাজরীদু আসমাইস সাহাবা, ১খ., পৃ. ১৪৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা)

📄 খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা)


(২৯) খালিদ ইব্‌দুল ওয়ালীদ (রা): তাঁহার দৌত্যকর্ম সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দ্র. উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ৯৩; রাসূল মুহাম্মদ-এর সরকার কাঠামো, পৃ. ২১৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00