📄 শুরাহবীল (রা)
(২৩) শুরাহবীল (রা): তিনি কাতিব সাহাবীগণের মধ্যে উল্লিখিত শুরাহবীল ইব্ন হাসানা কিনা তাহা নিশ্চিত নহে। তবে আয়লার শাসক ইউহান্নার নিকট রাসূলুল্লাহ্-এর পত্র তিনিই বহন করিয়া লইয়া যান। ইবন আবদিল বার আল-ইস্তী'আবে পাঁচজন শুরাবীলের নাম উল্লেখ করিয়াছেন। তাঁহাদের একজন হইলেন শুরাবীল ইব্ন গায়লান ইবন সালামা আছ-ছাকাফী যিনি অন্য তিনজন সাথীসহ আবদ ইয়ালীল-এর নেতৃত্বে ইসলামের দা'ওয়াত পৌঁছাইবার উদ্দেশ্যে ছাকীফ গোত্রের লোকজনের নিকট প্রেরিত হইয়াছিলেন (আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২১৬)।
📄 মুহাজির ইবন উমায়্যা আল-মাখযূমী (রা)
(২৪) মুহাজির ইব্ন উমায়্যা আল-মাখযুমী (রা): রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে হারিছ ইব্ন আবদ কুলালের নিকট দূতরূপে প্রেরণ করেন। জবাবে তিনি জানান, আমি এই ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করিয়া দেখিব। ইহা ইবনুল কায়্যিম (র)-এর বর্ণনা। কিন্তু ইবন ইসহাকের বর্ণনায় আছে, যখন রাসূলুল্লাহ্ তাবূক হইতে প্রত্যাবর্তন করেন তখন হিময়ারের বাদশাহগণ তাঁহার নিকট তাঁহাদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ সম্বলিত পত্রাদি প্রেরণ করেন। এই পত্রগুলির মধ্যে হারিছ ইব্ন আবদ কুলাল হিময়ারীর পত্রও ছিল। রাসূলুল্লাহ্ মুহাজির ইব্ন উমায়্যাকে উক্ত হারিছের নিকট প্রেরণ করেন। ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ্-কে পত্র লিখেন। তহাতে একটি কবিতার এই পংক্তিটিও ছিল:
ودينك دين الحق فيه طهارة - وانت بما فيه من الحق امر. "সত্য তবে দীনের বিধান বিরাজিছে হেথা পবিত্রতা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, সত্য-ন্যায়ের বিধানদাতা"।
দারা কুতনী হযরত ইবন উমার-এর প্রমুখাত অনুরূপ লিখিয়াছেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ৩৮৭)। মুহাম্মদ ইব্ন আলী রাসূলুল্লাহ্ -এর এই দূত সাহাবীর বংশতালিকা বর্ণনা করিয়াছেন
এইরূপ: আল-মুহাজির ইবন উমায়্যা (হুযায়ফা) ইবনিল মুগীরা ইবন আমর ইব্ন মাখযূম আল-কুরাশী আল-মাখযূমী। তিনি উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে সালমা (রা) সহোদর ভাই ছিলেন। তাঁহার আসল নাম ছিল আল-ওয়ালীদ। হিজরত করিয়া তিনি যখন মদীনায় আসিলেন তখন রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে আল-মুহাজির বলিয়া অভিহিত করেন। ইয়ামানের কিন্দা ও আস-সাদাফ এলাকায় যাকাত উশুলের দায়িত্বে তিনি নিযুক্ত ছিলেন। হযরত আবূ বকর (রা)-এর খিলাফত আমলে মুরতাদরা যখন মাথাচাড়া দিয়া উঠে, তখন তিনি তাহাদেরকে দমনের জন্য যে বাহিনী প্রেরণ করিয়াছিলেন তখন আল-মুহাজিরও তথায় প্রেরিত হন। তিনি হাযরামাওতের আন-নুজায়র দুর্গ জয় করেন (আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২৫৬-২৫৭)।
📄 আয়্যাশ ইব্ন আবী রাবী'আ আল-মাখযূমী
(২৫) আয়্যাশ ইব্ন আবী রাবী'আ আল-মাখযূমীঃ তিনি হযরত খালিদ (রা)-এর পিতৃব্যপুত্র এবং আবূ জাহলের সহোদর বৈপিত্রেয় ভাই ছিলেন। তিনি হিজরত করিয়া মদীনায় গমন করিলে আবূ জাহ্ প্রতারণা করিয়া তাঁহাকে মক্কায় ফিরাইয়া কঠোর নির্যাতন করে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা হইতে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ্ তাহাতে এতই ব্যথিত হন যে, তিনি তাঁহার মুক্তি ও কাফিরদের বিনাশ কামনায় 'কুনূত' পড়িয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে হারিছ, মাসরূহ এবং নু'আয়ম ইব্ন আব্দ কুলাল-এর নিকট প্রেরণ করিয়াছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, উর্দু) পৃ. ৩৮৬ ও হাসিয়া)।
📄 নু'আয়ম ইবন মাস'উদ আল-আশজাঈ (রা)
(২৬) নু'আয়ম ইবন মাস'ঊদ আল-আশজাঈ (রা): তিনি গাতাফান গোত্রের নেতা ছিলেন। তাঁহার ডাকনাম ছিল আবূ সালামা। পূর্ণ বংশলতিকা এই: নু'আয়ম ইবন মাস'ঊদ ইব্ন আমের ইব্ন আনীফ ইব্ন ছা'লাবা ইব্ন কুরয ইব্ন্ন হিলাল ইব্ন গাতাফান। তাঁহার সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই ইসলাম গ্রহণ করেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন সম্মিলিত কাফির বাহিনী মদীনা অবরোধ করিয়া বসে এবং তাহা মাসাধিক কাল স্থায়ী হইয়া মদীনার অধিবাসিগণের জীবনকে দুর্বিসহ করিয়া তোলে, এমন সময় তিনি নবী (স) দরবারে উপস্থিত হইয়া জানান যে, তাঁহার সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনিই একমাত্র ইসলাম গ্রহণকারী, কিন্তু সম্প্রদায়ের লোকজন তাহা অবগত নহে। এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল তাহাকে যে হুকুমই দিবেন তাহা তিনি অবনত মস্তকে পালন করিবেন (ইবন কাছীর, আস্-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যা, ২খ., পৃ. ২১৩; জেনারেল আকবর খান, ইসলামের প্রতিরক্ষা কৌশল, পৃ. ২৭৬, ইফা. ১ম সং ১৯৮৪ খৃ.)।
ইন হিশাম-এর বর্ণনা হইতে জানা যায়, তখন রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে বলিয়াছিলেন, যদি পার তাহা হইলে শত্রুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিয়া দাও। কেননা "যুদ্ধ হইতেছে কূটকৌশল ও প্রতারণার খেলা"। সত্যসত্যই তিনি শত্রুদের বিভিন্ন পক্ষের নিকট গমন করিয়া এমন সব কথাবার্তা বলিলেন যে, তাহারা একদল অপর দলকে আর কোনমতেই বিশ্বাস করিতে পারিল না। তাহাদের ঐক্য ভাঙ্গিয়া পড়িল এবং ব্যর্থ মনষ্কাম হইয়া একেবারে বিধ্বস্ত অবস্থায় মদীনা ত্যাগ করিল (ইবন হিশাম, ২খ., পৃ. ১৩৯; সীরাত বিশ্বকোষ, ৭খ., পৃ. ৭৫-৭৭)।
রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট হইতে প্রত্যক্ষভাবে শ্রবণ করা কয়েকখানা হাদীছের তিনি রাবী। তিনি হযরত উছমান (রা)-এর খিলাফতকালে ইন্তিকাল করেন, মতান্তরে জামালের যুদ্ধে তিনি শহীদ হইয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাহাকে ইব্ন যীল-লিহয়া এবং ইব্ন মুশাইসামা আল-জুবায়রীর নিকট দূতরূপে প্রেরণ করিয়াছিলেন (আল-মিসবাহুল মুদী, ২খ., পৃ. ২৫৬-২৫৭)।