📄 রিফা'আ ইব্ন যায়দ আল-জুযামী (রা)
(১২) রিফা'আ ইবন যায়দ আল-জুযামী (রা): বানু কুদা'আ গোত্রে জন্মগ্রহণকারী এই সাহাবীর পিতামহের নাম ছিল ওয়াহ্ আদ-দাবীবী/মতান্তরে আদ-দাবীনী। বানু খুযা'আর শাখা আল-জুযাম গোত্রের বানুদ-দুবায়না উপশাখাটি তাবুকের নিকটবর্তী অঞ্চলে বাস করিত (বিশ্বনবীর রাজনৈকি জীবন, ড. হামীদুল্লাহ কৃত, ইফা, প্রকাশিত, পৃ. ৩০২)। হুদায়বিয়া, সন্ধিকালে ষষ্ঠ হিজরীর শেষদিকে রিফা'আ ইব্ন যায়দ তদীয় গোত্রের আরও কতিপয় বক্তিসহ নবী (স)-এর দরবারে উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। তদীয় গোত্রের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পক্ষ হইতে লিখিত একটি লিপিসহ তিনি স্বগোত্রে ফিরিয়া গেলে গোটা গোত্রই ইসলাম গ্রহণ করে (জামহারাতু রাসাইলিল আরাব, ১খ., পৃ. ৪৯)।
📄 সালীত ইবনুল 'আমর (রা)
(১৩) সালীত ইবনুল 'আমর (রা): সালীত ইবন 'আমর ইবন 'আবদ শামস ইব্ন 'আবদ উদ্দ ইব্ন 'নাসর ইবন মালিক ইবন হিসল ইবন 'আমের ইব্ন লুওয়াঈ আল-'আমিরী। সুকরান ইবন 'আমর (সাহল ইব্ন আমর ও খতীবে কুবায়শ লকবে বিখ্যাত) সুহায়ল ইন্ন 'আমর নামক সাহাবী-ত্রয় তাঁহারই ভাই ছিলেন (আত-তুহফাতুল লতীফ, ১খ., পৃ. ৪১০; সংখ্যা ১৫৮০; ঐ, পৃ. ৪৩২, সংখ্যা ১৬৮৬; ৪৩৪, সংখ্যা ১৭০২)। সালীত ও সুকরান উভয়ে আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরতকালে ঐ প্রথম মুহাজির কাফেলায় ছিলেন (সীরাতু-নবী, ইবন হিশাম, ১খ., পৃ. ২৫৪)।
পরবর্তীতে তিনি মদীনায় হিজরত করেন। বদরসহ বিভিন্ন যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর একজন মুজাহিদরূপে অংশগ্রহণ করেন। হযরত আবূ বকরের খিলাফত আমলে ইয়ামামার রিদ্দার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তাবারীর বর্ণনামতে, ১২ হিজরীতে তিনি সেখানে ঐ যুদ্ধে শহীদ হন। ইয়ামামায় যাতায়াতের অভিজ্ঞতা পূর্ব হইতেই তাঁহার ছিল বিধায় সেইখানকার শাসক হাওযা ইবন আলী ও ছুমামা ইব্ন আদালের নিকট ইসলামের দা'ওয়াতপত্রসহ প্রেরণের জন্য রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে মনোনীত করিয়াছিলেন (ই'লামুস সাইলীন, পৃ. ১৩৯; উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ৩৪৪; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৩৮, বৈরূত)।
📄 সাইর ইবনুল আওয়াম (রা)
(১৪) সাইব ইবনুল আওয়াম (রা): হযরত যুবায়র ইবনুল 'আওয়ামের সহোদর ছিলেন এই সাইব (রা)। তাঁহাদের উভয়েরই মা ছিলেন রাসূলুল্লাহ্-এর ফুফু সাফিয়্যা বিন্ত আবদুল মুত্তালিব। তাঁহার বংশ লতিকা এইরূপ: সা'ইব ইবন 'আওয়াম ইবন খুওয়ায়লিদ ইব্ন আসাদ ইবন আবদিল উয্যা ইন্ন কুসায়্যি ইন্ন কিলাব (আত্-তুহফাতুল লাতীফ, ১খ., পৃ. ৩৫৬, সংখ্যা ১৩০৯, যুবায়র ইব্ন আওয়াম শিরোনামে)। রাসূলুল্লাহ্-এর সহিত উলুদ ও খন্দকসহ পরবর্তী যুদ্ধসমূহে শরীক ছিলেন। ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। ভণ্ডনবী মুসায়লামা কাযযাবের নিকট রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পত্র লইয়া যান (আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২১৫)।
📄 আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা)
(১৫) আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা): আবদুল্লাহ্ ইব্ন কায়স ইবন সালীম ইব্ন হিদার ইব্ন হারব ইবন 'আমের ইবন উমায়র। আবূ মূসা উপনামেই পরিচিত ছিলেন। তাঁহার মাতার নাম ছিল তায়ি্যবা। তিনিও ইসলাম গ্রহণ করিয়া মদীনায় হিজরত করেন এবং সেইখানেই ইন্তিকাল করে।
আবূ মূসা (রা) তাঁহার কয়েক ভাইসহ তাঁহার স্বগোত্রের কতিপয় লোকজনকে লইয়া মক্কা আসেন এবং সাঈদ ইবনুল 'আসের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। ইসলাম গ্রহণ করার সাথে সাথে নির্যাতনের শিকার হওয়া ছিল অপরিহার্য ভাগ্যলিপি। ফলে হাবশায় হিজরত করেন এবং খায়বার জয়ের পর প্রত্যাবর্তন করেন। কোন কোন ঐতিহাসিক খায়বার অভিযানকালে তাঁহার ইসলাম গ্রহণের কথা বলিয়াছেন। আসলে ব্যাপারটি ছিল এই যে, ইয়ামানের দাওস ও আশ'আরী কবীলার বহু ঈমানদার রাসূলুল্লাহ্-এর সহিত সাক্ষাতের আশায় সমুদ্রপথে মদীনায় রওয়ানা হন। কিন্তু সামুদ্রিক ঝড় তাঁহাদের কিশতীকে আবিসিনিয়ায় নিয়া ভিড়ায়। সেখানে তাহারা জা'ফার ইব্ন আবূ তালিবসহ অন্যান্য মুসলমানের সহিত সানন্দে একত্রে বসবাস করেন এবং খায়বার বিজয়কালে হযরত জা'ফারের সহিতই এখানে আসিয়া রাসূলুল্লাহ্-এর সহিত সাক্ষাত করেন (প্রফেসর আবদুল খালেক, সাইয়েদুল মুরসালীন, ইফা. (প্রকাশিত) ৩য় সং, ১৯৮৬, ২খ., পৃ. ৮১৯)।
রাসূলুল্লাহ্ দশম হিজরী/৬৩১-৩২ খ্রি. সনে হযরত মু'আয ইবন জাবালের সহিত ইয়ামানের গভর্ণর নিয়োগ করেন। হযরত উমার (রা)-এর খিলাফত আমলে তিনি বসরায় ১৭ হিজরীতে কুফায় বদলী করেন। ২২ হিজরীতে তাঁহাকে কৃফার গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। এক বৎসর যাইতে না যাইতে পুনরায় তাঁহাকে বসরার গভর্নর পদে ফিরাইয়া নেওয়া হয়। হযরত উছমানের শাহাদতের কয়েক বৎসর পূর্বেই তাঁহাকে তথা হইতে প্রত্যাহার করা হয়। তিনি তখন কৃষ্ণাতে বসবাস করিতে থাকেন। ৩৪/৬৫৪-৫৫ সনে হযরত উছমান তাঁহাকে পুনরায় কৃফার গভর্নর নিযুক্ত করেন। খলীফার শাহাদতের পর কৃফাবাসীরা হযরত আলীর পক্ষ অবলম্বন করিলে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই তিনি পদচ্যুত হন। সিফফীনের যুদ্ধের পর হযরত 'আলী ও মু'আবিয়ার বিরোধ মীমাংসায় হযরত আলীর পক্ষের সালিশ কিন্তু তাঁহাকেই মনোনীত করা হয়। এই পর্যায়ে মু'আবিয়া পক্ষের সালিশ 'আমর ইবনুল আস-এর কূটবুদ্ধির কাছে পরাস্ত ও ক্ষুদ্ধ আবূ মুসা আল-আশ'আরী (রা) প্রথমে মক্কায় ও পরে কুফায় বসবাস করেন।
তাঁহার সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে দাউদ, বংশের বাদ্যযন্ত্র (মিযমার) উপাধি দেন। তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি হিসাবেও বিশেষ খ্যাতি অর্জন করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে ইয়ামানের যুবায়দ ও তৎসন্নিহিত নিম্নাঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তিনি ৪২ মতান্তরে ৫২ হিজরীতে কৃষ্ণায় ইন্তিকাল করেন।