📄 আমর ইবন হাম্ (রা)
(১০) আমর ইবন হাযম্ (রা): খন্দক যুদ্ধের মাত্র ১৫ বৎসর পর্বে মদীনায় খাযরাজ গোত্রে জন্মগ্রহণকারী এই সাহাবীর উপনাম বা ডাকনাম ছিল আবুদ দুহা ও আবূ মুহাম্মাদ। তাঁহার পিতামহ ও প্রপিতামহের নাম যথাক্রমে যায়দ ও লাওযান। মাত্র পনের বৎসর বয়সে খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নাজরানের বানুল হারিছ গোত্র হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের আহবানে সাড়া দিয়া ইসলাম গ্রহণ করার পর সেখানকার লোকজনকে দীন সম্পর্কে জ্ঞান দান, কুরআন শিক্ষা দান এবং যাকাত আদায় করার উদ্দেশ্যে তাঁহাকে সেই দেশে প্রেরণ করেন। ঐ সময় তাঁহার বয়স ছিল মাত্র সতের বৎসর। সেখানে তাঁহাকে প্রেরণকালে ইসলামের বিস্তারিত বিধিবিধান সম্বলিত একখানা লিপিও রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে প্রদান করেন। নবী কারীম তাহাকে ইয়ামানের শাসনকর্তা নিয়োগকালেও এরূপ একখানা লিপি তাঁহাকে দিয়াছিলেন। ৫১ হিজরীতে, মতন্তরে ৫৩ অথবা ৫৪ হিজরীতে হযরত উমার (রা)-এর খিলাফত আমলে মদীনায় তিনি ইন্তিকাল করেন। এই বর্ণনা আবূ নু'আয়ম ও আবুত-তাহযীব গ্রন্থের (তুহফাতুল লাতীফ ফী তারীখিল মাদীনা, ২খ., পৃ. ৩১৯, সংখ্যা ৩১৬৬)।
📄 হারিছ ইব্ন জুমায়র আল-আযদী (রা)
(১১) হারিছ ইব্ন জুমায়র আল-আযদী (রা): মহানবী এর একমাত্র দূত, যাঁহাকে সিরিয়ার জনৈক রোমান করদ রাজার কাছে দূত হিসাবে প্রেরণ করা হইয়াছিল। কেহ কেহ বলেন, বুসরার শাসকের কাছে তাঁহাকে প্রেরণ করা হইয়াছিল। পথে শুরাহবীল ইবন 'আমর আল-গাসসানী তাঁহাকে বন্দী করিয়া হত্যা করে, ইহা ছিল কূটনৈতিক রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন। তাই এই ঘটনাকে হালকা করিয়া দেখার উপায় ছিল না। যে কারণে প্রতিশোধ গ্রহণার্থে রাসূলুল্লাহ্ হযরত যায়দ ইবন হারিছাকে তিন হাজার সাহাবীর একটি বাহিনীসহ রোমকদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ হইতে ইহাকে চ্যালেঞ্জরূপে গ্রহণ করে এবং এক লক্ষ সৈন্য তাহার অধীনস্থ গাস্সানী রাজার সাহায্যার্থে প্রেরণ করে। ঐতিহাসিক মুতার যুদ্ধের পটভূমি রাসূলুল্লাহ্-এর ঐ দূতের রক্তেই রচিত হইয়াছিল [ইসলামের ইতিহাস, নজীবাবাদী, ১খ., পৃ. ২০৭; যাদুল মা'আদ, ভারত, ২খ., পৃ. ১৫৫; তাবাকাত-ই ইব্
সাদ, ২খ., পৃ. ১১৮, ২৮৩; সীরাত বিশ্বকোষ, ৬খ., পৃ. ৩৯৫; ঐ, ৭খ., পৃ. ৭, ৩৩৪; হায়াতু মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কল মিসরী, পৃ. ৪১০, (১৫তম সংস্করণ, কায়রো ১৯৬৮ খৃ.); আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২০৬; উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৪১]।
রাসূলুল্লাহ্-এর দূতকে হত্যা ছিল মদীনার নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ। তাই এই অপরাধের প্রতিবিধানকল্পে রাসূলুল্লাহ্ ৩ হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২০খ., পৃ. ১)।
📄 রিফা'আ ইব্ন যায়দ আল-জুযামী (রা)
(১২) রিফা'আ ইবন যায়দ আল-জুযামী (রা): বানু কুদা'আ গোত্রে জন্মগ্রহণকারী এই সাহাবীর পিতামহের নাম ছিল ওয়াহ্ আদ-দাবীবী/মতান্তরে আদ-দাবীনী। বানু খুযা'আর শাখা আল-জুযাম গোত্রের বানুদ-দুবায়না উপশাখাটি তাবুকের নিকটবর্তী অঞ্চলে বাস করিত (বিশ্বনবীর রাজনৈকি জীবন, ড. হামীদুল্লাহ কৃত, ইফা, প্রকাশিত, পৃ. ৩০২)। হুদায়বিয়া, সন্ধিকালে ষষ্ঠ হিজরীর শেষদিকে রিফা'আ ইব্ন যায়দ তদীয় গোত্রের আরও কতিপয় বক্তিসহ নবী (স)-এর দরবারে উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। তদীয় গোত্রের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর পক্ষ হইতে লিখিত একটি লিপিসহ তিনি স্বগোত্রে ফিরিয়া গেলে গোটা গোত্রই ইসলাম গ্রহণ করে (জামহারাতু রাসাইলিল আরাব, ১খ., পৃ. ৪৯)।
📄 সালীত ইবনুল 'আমর (রা)
(১৩) সালীত ইবনুল 'আমর (রা): সালীত ইবন 'আমর ইবন 'আবদ শামস ইব্ন 'আবদ উদ্দ ইব্ন 'নাসর ইবন মালিক ইবন হিসল ইবন 'আমের ইব্ন লুওয়াঈ আল-'আমিরী। সুকরান ইবন 'আমর (সাহল ইব্ন আমর ও খতীবে কুবায়শ লকবে বিখ্যাত) সুহায়ল ইন্ন 'আমর নামক সাহাবী-ত্রয় তাঁহারই ভাই ছিলেন (আত-তুহফাতুল লতীফ, ১খ., পৃ. ৪১০; সংখ্যা ১৫৮০; ঐ, পৃ. ৪৩২, সংখ্যা ১৬৮৬; ৪৩৪, সংখ্যা ১৭০২)। সালীত ও সুকরান উভয়ে আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরতকালে ঐ প্রথম মুহাজির কাফেলায় ছিলেন (সীরাতু-নবী, ইবন হিশাম, ১খ., পৃ. ২৫৪)।
পরবর্তীতে তিনি মদীনায় হিজরত করেন। বদরসহ বিভিন্ন যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর একজন মুজাহিদরূপে অংশগ্রহণ করেন। হযরত আবূ বকরের খিলাফত আমলে ইয়ামামার রিদ্দার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তাবারীর বর্ণনামতে, ১২ হিজরীতে তিনি সেখানে ঐ যুদ্ধে শহীদ হন। ইয়ামামায় যাতায়াতের অভিজ্ঞতা পূর্ব হইতেই তাঁহার ছিল বিধায় সেইখানকার শাসক হাওযা ইবন আলী ও ছুমামা ইব্ন আদালের নিকট ইসলামের দা'ওয়াতপত্রসহ প্রেরণের জন্য রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে মনোনীত করিয়াছিলেন (ই'লামুস সাইলীন, পৃ. ১৩৯; উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ৩৪৪; মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ১৩৮, বৈরূত)।