📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা আস-সাহমী (রা)

📄 আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা আস-সাহমী (রা)


(৬) আবদুল্লাহ্ ইবন হু্যাফা আস্-সাহমী (রা): আবদুল্লাহ্ ইবন হুযাফা ইন্ন কায়স ইব্‌ন আদী ইবন সা'দ ইব্‌ন সাহম ইব্‌ন আমর ইবন হাসীস ইন্ন কা'ব ইব্‌ন লুয়াই ইব্‌ন গালিব, আবূ হুযাফা আল-কারানী আস-সাহমী। তিনি ছিলেন প্রথম যুগের মুহাজির। তাঁহার ভাই কায়সসহ ইথিওপিয়ায় হিজরত করেন। তদীয় মাতা কিতাবিয়্যা ইবনাতু হারছান ছিলেন বানুল হারিছ ইব্‌ন আবদ মানাতের মহিলা। রাসূলুল্লাহ্ তাঁহার মাধ্যমেই ঘোষণা করাইয়াছিলেন:
ان ايام منی ایام اكل وشرب وبعال. "মিনার দিনগুলি হইতেছে পানাহার ও দাম্পত্য জীবন যাপনের।"
হযরত উমার (রা)-এর আমলে একবার তিনি রোমকদের হাতে বন্দী হইয়া হত্যার সম্মুখীন হন। তাহারা তাঁহাকে বন্দী করিয়া ফুটন্ত তৈলপাত্রে নিক্ষেপের ভয় দেখাইয়া ইসলাম ত্যাগের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু তিনি কোনমতেই ধর্মত্যাগে রাজী হন নাই। নিজের ঈমান রক্ষার জন্য তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করিতেও প্রস্তুত, এই অবস্থা লক্ষ্য করিয়া রোমক বাহিনীর লোকজন তাঁহাকে তাহাদের সম্রাটের দরবারে হাযির করে। তখন সম্রাট বলিলেন, তুমি আমার মস্তক চুম্বন কর, তাহা হইলে তোমাকে মুক্তি দেওয়া হইবে। তিনি তাহাতে সম্মত হইলেন না। তারপর সম্রাট বলিলেন, তুমি যদি আমার মস্তক চুম্বন কর, তাহা হইলে তোমাকে তোমার সাথিগণসহ মুক্তি দেওয়া হইবে। সঙ্গী-সাথীদের কথা বিবেচনা করিয়া তিনি তাহাতে সম্মত হইলেন। ফলে তাঁহার ৮০ জন বন্দী সাথীসহ তাঁহাকে মুক্ত করিয়া দেওয়া হইল। অতঃপর যখন তিনি তদীয় সঙ্গীগণসহ মদীনায় প্রত্যাবর্তন করিলেন তখন খলীফা উমার (রা) বলিলেন, "আমি সহ প্রত্যেক মুসলিমের উচিত তোমার মস্তক চুম্বন করা।" এই কথা বলিয়া সত্যসত্যই তিনি দাঁড়াইয়া তাঁহার মস্তক চুম্বন করিলেন। হযরত উছমান (র)-এর খিলাফত আমলে ৩৩ হিজরীতে মিসরে তিনি ইন্তিকাল করেন (তুহফাতুল লাতীফী, ২খ., পৃ. ৩০; আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২২০-২২১, সংখ্যা ২০০৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শুজা' ইব্‌ন ওয়াহব (রা)

📄 শুজা' ইব্‌ন ওয়াহব (রা)


(৭) শুজা' ইব্‌ন ওয়াহব (রা): শুজা' ইব্‌ন ওয়াহব ইবন রাবী'আ ইব্‌ন আসাদ আল-আযদী। তিনি বানু 'আবদে শাম্স-এর মিত্র ছিলেন। প্রথম যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের ভাই 'উকবা ইব্‌ন আবী ওয়াহ্হ্বসহ বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইয়ারমুকের যুদ্ধসহ ইসলামের ইতিহাসের প্রথম যুগের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল যুদ্ধেই তিনি অংশগ্রহণ করেন। ইথিওপিয়ার দ্বিতীয় হিজরতে তিনি শামিল ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ দামি অধিপতি হারিছ ইব্‌ন আধী শুমার আল-গাসসানী এবং জাবালা ইব্‌ন আয়হামের নিকট তাঁহাকে পত্রসহ দূতরূপে প্রেরণ করিয়াছিলেন। ইয়ামামার যুদ্ধেও তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। ৮ম হিজরী/৬২৯ খৃ. তাঁহাকে সেনাপতি করিয়া একটি বাহিনী প্রেরিত হইয়াছিল (ইব্‌ন হিশাম, সীরাতুন নবী, ২খ., পৃ. ৬০৭; ইবন সা'দ, তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬১; তাবারী, ২খ., পৃ. ৬৪৪; ইন্ন খালদুন, পৃ. ৭৮৯; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৮০; উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ৩৮৬; জামহারাতu আনসাবিল আরব, পৃ. ১৮১)।
কোন কোন ঐতিহাসিক বলিয়াছেন, দিয়া কালবীর সাথে তিনি রোমেও প্রেরিত হইয়াছিলেন (আসাহহুস-সিয়ার, বাংলা ভাষ্য, পৃ. ৪২৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আমর ইবন হাম্ (রা)

📄 আমর ইবন হাম্ (রা)


(১০) আমর ইবন হাযম্ (রা): খন্দক যুদ্ধের মাত্র ১৫ বৎসর পর্বে মদীনায় খাযরাজ গোত্রে জন্মগ্রহণকারী এই সাহাবীর উপনাম বা ডাকনাম ছিল আবুদ দুহা ও আবূ মুহাম্মাদ। তাঁহার পিতামহ ও প্রপিতামহের নাম যথাক্রমে যায়দ ও লাওযান। মাত্র পনের বৎসর বয়সে খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নাজরানের বানুল হারিছ গোত্র হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের আহবানে সাড়া দিয়া ইসলাম গ্রহণ করার পর সেখানকার লোকজনকে দীন সম্পর্কে জ্ঞান দান, কুরআন শিক্ষা দান এবং যাকাত আদায় করার উদ্দেশ্যে তাঁহাকে সেই দেশে প্রেরণ করেন। ঐ সময় তাঁহার বয়স ছিল মাত্র সতের বৎসর। সেখানে তাঁহাকে প্রেরণকালে ইসলামের বিস্তারিত বিধিবিধান সম্বলিত একখানা লিপিও রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে প্রদান করেন। নবী কারীম তাহাকে ইয়ামানের শাসনকর্তা নিয়োগকালেও এরূপ একখানা লিপি তাঁহাকে দিয়াছিলেন। ৫১ হিজরীতে, মতন্তরে ৫৩ অথবা ৫৪ হিজরীতে হযরত উমার (রা)-এর খিলাফত আমলে মদীনায় তিনি ইন্তিকাল করেন। এই বর্ণনা আবূ নু'আয়ম ও আবুত-তাহযীব গ্রন্থের (তুহফাতুল লাতীফ ফী তারীখিল মাদীনা, ২খ., পৃ. ৩১৯, সংখ্যা ৩১৬৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হারিছ ইব্‌ন জুমায়র আল-আযদী (রা)

📄 হারিছ ইব্‌ন জুমায়র আল-আযদী (রা)


(১১) হারিছ ইব্‌ন জুমায়র আল-আযদী (রা): মহানবী এর একমাত্র দূত, যাঁহাকে সিরিয়ার জনৈক রোমান করদ রাজার কাছে দূত হিসাবে প্রেরণ করা হইয়াছিল। কেহ কেহ বলেন, বুসরার শাসকের কাছে তাঁহাকে প্রেরণ করা হইয়াছিল। পথে শুরাহবীল ইবন 'আমর আল-গাসসানী তাঁহাকে বন্দী করিয়া হত্যা করে, ইহা ছিল কূটনৈতিক রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন। তাই এই ঘটনাকে হালকা করিয়া দেখার উপায় ছিল না। যে কারণে প্রতিশোধ গ্রহণার্থে রাসূলুল্লাহ্ হযরত যায়দ ইবন হারিছাকে তিন হাজার সাহাবীর একটি বাহিনীসহ রোমকদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ হইতে ইহাকে চ্যালেঞ্জরূপে গ্রহণ করে এবং এক লক্ষ সৈন্য তাহার অধীনস্থ গাস্সানী রাজার সাহায্যার্থে প্রেরণ করে। ঐতিহাসিক মুতার যুদ্ধের পটভূমি রাসূলুল্লাহ্-এর ঐ দূতের রক্তেই রচিত হইয়াছিল [ইসলামের ইতিহাস, নজীবাবাদী, ১খ., পৃ. ২০৭; যাদুল মা'আদ, ভারত, ২খ., পৃ. ১৫৫; তাবাকাত-ই ইব্‌
সাদ, ২খ., পৃ. ১১৮, ২৮৩; সীরাত বিশ্বকোষ, ৬খ., পৃ. ৩৯৫; ঐ, ৭খ., পৃ. ৭, ৩৩৪; হায়াতু মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদ হুসায়ন হায়কল মিসরী, পৃ. ৪১০, (১৫তম সংস্করণ, কায়রো ১৯৬৮ খৃ.); আল-মিসবাহুল মুদী, ১খ., পৃ. ২০৬; উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৪১]।
রাসূলুল্লাহ্-এর দূতকে হত্যা ছিল মদীনার নব প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ। তাই এই অপরাধের প্রতিবিধানকল্পে রাসূলুল্লাহ্ ৩ হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২০খ., পৃ. ১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00