📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা)

📄 জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা)


রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে যুল-কিলা' ইব্‌ন নাকুর ইব্‌ন হাবীব ইব্‌ন হাসসান ইব্‌ন তুব্বা এবং যূ-'আমর-এর নিকট ইসলামের দা'ওয়াত সম্বলিত পত্রসহ প্রেরণ করেন। যুল-কিলা' তদীয় স্ত্রী
দুরাইব বিনত আবরাযা ইবনিস সাব্বাহসহ ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্-এর ইনতিকালের সময় অবধি তিনি তাঁহাদের নিকটেই ছিলেন। অবশেষে মদীনায়-ফিরিয়া আসেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৬; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৮৭; ইব্‌ন খালদুন, পৃ. ৮৪৫; উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ২৭৯)।
মাওলানা আবদুর রাউফ দানাপুরী লিখেন, যুল-কিলা' হিময়ারী এবং যূ-'আমর উভয়ই ইসলাম গ্রহণ করেন। তবে তাঁহারা রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্য পাননি।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)

📄 মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)


তাহারা উভয়ে ইয়ামানের বাদশাহ্ ছিলেন (দ্র. আসাহহুস সিয়ার (বাংলা), পৃ. ৪২৬; (ওয়াকিদী, কিতাবুল মাগাযী, পৃ. ৩৬৬; ইব্‌ন সা'দ, তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৫৭; তাবারী, ২খ., পৃ. ৫৫২; ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১১১; উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৩৩১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাতিব ইব্‌ন আবী বালতা'আ (রা)

📄 হাতিব ইব্‌ন আবী বালতা'আ (রা)


হাতিব ইব্‌ন আবী বালতা'আ (রা): হিজরত-পূর্ব ৩৫ সালে লাখম ইবন 'আদীর বংশে জন্মগ্রহণকারী উক্ত সরলমনা সাহাবী একজন দক্ষ তীরন্দায এবং ব্যক্তিগত জীবনে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্-এর সহিত সকল যুদ্ধেই তিনি অংশগ্রহণ করেন। জাহিলিয়াতের যুগেও তিনি তীরন্দাযী এবং কবি প্রতিভার জন্য বিখ্যাত ও সমাদৃত ছিলেন। তিনি কুরায়শদের চুক্তিবদ্ধ মিত্র ছিলেন। মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে তাঁহার পরিবার-পরিজন মক্কায় কাফিরদের সহিত অবস্থানরত থাকায় তাহারা তাঁহার পরিবারের সাথে যাহাতে সদয় আচরণ করে এই আশায় তিনি কুরায়শদেরকে পত্র মারফত রাসূলুল্লাহ্-এর অভিযানের সংবাদ জানাইবার প্রয়াস পান। তাঁহার ধারণা ছিল, ইহাতে আল্লাহর নবীর কোনই ক্ষতি হইবে না, অথচ তাহার নিজ পরিবার বিরূপ পরিবেশে একটু সদয় আচরণ পাইবে। হযরত উমার (রা) এইজন্য এতই ক্ষিপ্ত হন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্-কে এই বলিয়া অনুরোধ জানান, তাহাকে এই মুনাফিকের গর্দান উড়াইয়া দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হউক। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ বলেন, উমার! তুমি কি ভুলিয়া গিয়াছ, হাতিব বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারিগণ আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা সূরা মুমতাহানা নাযিলের মাধ্যমে তাঁহার ঈমানদার হওয়ার ঘোষণা দিলেন এইভাবে :
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ عَدُوِّى وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَآءَ.
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না" (৬০:১)।
বলা বাহুল্য, তিনি খাঁটি ঈমানদার না হইলে এইভাবে ঈমানদারগণকে লক্ষ্য করিয়া আয়াত নাযিল হইত না। যে ছয়জন সাহাবীকে রাসূলুল্লাহ্ ছয়জন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে একই দিনে দূতরূপে প্রেরণ করিয়াছিলেন হাতিব তাঁহাদের একজন। তিনি মিসর-রাজ মুকাওকিসের দরবারে পৌঁছিয়া সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করিয়াছিলেন। ৩০ হিজরীতে ৬৫ বৎসর বয়ঃক্রমকালে মদীনায় তাঁহার মৃত্যু হয় (ই'লামুস-সাইলীন, পৃ. ৮১; উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ৪৩২; সীরাতুন্নবী, ইব্‌ন হিশাম, ২খ., পৃ. ৬০৭, আরবী; ঐ বঙ্গানুবাদ, ইফা প্রকাশিত, ৪খ., পৃ. ৩৭-৩৮; তাবারী, ২খ., পৃ. ৬৪৪; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৮০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দিহয়া ইব্‌ন খালীফা আল-কালবী (রা)

📄 দিহয়া ইব্‌ন খালীফা আল-কালবী (রা)


দিয়া ইব্‌ন খালীফা আল-কালবী (রা): বিখ্যাত ছয় রাষ্ট্রপ্রধানের নামে পত্র প্রেরণের সময় রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে তদানীন্তন বিশ্বের সর্বাধিক শক্তিধর রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবারে পত্রসহ প্রেরণ করিয়াছিলেন। পূর্বপরুষ কাল্‌ব ইব্‌ন ওবায়ার নামের সহিত সম্পৃক্ত করিয়া তাঁহাকে কালবী বলা হইত। বংশলতিকা এইরূপঃ দিহয়া ইব্‌ন খালীফা ইব্‌ন ফারওয়া ইব্‌ন ফুদালা ইব্‌ন যায়দ আল-কালবী। ইয়ামানী ভাষায় দিয়া অর্থ নেতা। প্রথম যুগেই ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। বদর ছাড়া অন্যান্য জিহাদে নবী কারীম -এর সঙ্গে থাকিয়া যুদ্ধ করেন। ইয়ারমুকের যুদ্ধেও তিনি অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। হযরত মু'আবিয়ার খিলাফতকাল পর্যন্ত সিরিয়ায় মিয্যা নামক স্থানে বসবাস করেন। আল্লামা শামসুদ্দীন সাখাবী তাঁহার বর্ণনা দিতে গিয়া বলেন:
كان جبريل ياتى رسول الله ﷺ على صورته فى بعض الاحيان وكان اجمل الناس وجها وكان اذا قدم المدينة من الشام لم تبق معصر الا خرجت نظر اليه. "জিব্রাঈল (আ) কোন কোন সময় তাঁহার বেশে নবী দরবারে হাযির হইতেন। তিনি ছিলেন সর্বাধিক সুন্দর পুরুষ। যখন সিরিয়া হইতে মদীনায় পদাপর্ণ করিলেন তখন তাঁহাকে একনজর দেখিবার জন্য বাহির হইতেন না, সমসাময়িক এমন একটি ব্যক্তিও ছিলেন না, (আত-তুহফাতু'ল-লাতীফ ফী তারীখিল মাদীনা, ১খ., পৃ. ৩৩১, সংখ্যা ১১৮৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00