📄 পত্রবাহক সাহাবীগণ
১১. খালিদ ইব্ন সা'ঈদ, ৯ খানা ১২. মুগীরা ইব্ন শু'বা, ৭ খানা ১৩. 'আলা ইব্ন উকবা, ৪ খানা ১৪. আরকাম ইব্ন আবিল আরকাম, ৪ খানা ১৫. ছাবিত ইব্ন কায়স ইব্ন শাম্মাখ, ৪খানা ১৬. জুহায়ম ইব্নুস সাল্ত, ২ খানা ১৭. 'আলা ইব্দুল হাদরামী, ২ খানা ১৮. আবদুল্লাহ্ ইব্ন যায়দ, ১ খানা ১৯. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ বকর, ১ খানা ২০. মুহম্মদ ইব্ন মাসলামা, ১ খানা ২১. যুবায়র ইব্ন আল-আওয়াম, ১ খানা।
পত্রবাহক সাহাবীগণ
রাসূলুল্লাহ্ (স) যখন কোন রাজা-বাদশাহ বা গোত্রপ্রধানের নিকট দূতরূপে কাহাকেও প্রেরণ করিতেন, তখন তাঁহার ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা ও বাগ্মিতার বিষয় বিবেচনায় রাখিতেন। এইজন্য দূত সাহাবীগণের সকলেই উচ্চ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, প্রাজ্ঞ, সাহসী ও বাগ্মী ছিলেন। আল্লাহর রাসূলের যোগ্য দূতরূপে তাঁহারা তাঁহার বার্তা পৃথিবীর প্রবল প্রতাপান্বিত রাজা-বাদশাগণের দরবার পর্যন্ত পৌঁছাইতে সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করেন নাই।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দূতবৃন্দের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
(১) জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা): তিনি রাসূলুল্লাহ-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী ছিলেন। ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেন:
عن قيس قال سمعت جريرا يقول ما رأني رسول الله ﷺ منذ اسلمت الا تبسم في وجهي وقال رسول الله ﷺ يدخل من هذا الباب رجل من خير ذي يمن على وجهه مسحة ملك فدخل جرير. হযরত কায়স (র) বলেন, আমি হযরত জারীর (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার ইসলাম গ্রহণ অবধি রাসূলুল্লাহ্ আমাকে যতবারই দেখিয়াছেন, আমার দিকে চাহিয়া মুচকি হাসি দিয়াছেন। একদা রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, এই দরজা দিয়া কল্যাণময় ও বরকতের অধিকারী এক ব্যক্তি প্রবেশ করিবে যাহার চেহারায় ফেরেশতার হাতের স্পর্শ রহিয়াছে। তখন জারীর (রা) সেই দরজা দিয়া প্রবেশ করিলেন" (দ্র. ইমাম বুখারী (র), আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ১১২, নং ২৪৯)।
📄 জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা)
রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে যুল-কিলা' ইব্ন নাকুর ইব্ন হাবীব ইব্ন হাসসান ইব্ন তুব্বা এবং যূ-'আমর-এর নিকট ইসলামের দা'ওয়াত সম্বলিত পত্রসহ প্রেরণ করেন। যুল-কিলা' তদীয় স্ত্রী
দুরাইব বিনত আবরাযা ইবনিস সাব্বাহসহ ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্-এর ইনতিকালের সময় অবধি তিনি তাঁহাদের নিকটেই ছিলেন। অবশেষে মদীনায়-ফিরিয়া আসেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৬; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৮৭; ইব্ন খালদুন, পৃ. ৮৪৫; উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ২৭৯)।
মাওলানা আবদুর রাউফ দানাপুরী লিখেন, যুল-কিলা' হিময়ারী এবং যূ-'আমর উভয়ই ইসলাম গ্রহণ করেন। তবে তাঁহারা রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্য পাননি।
📄 মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রা)
তাহারা উভয়ে ইয়ামানের বাদশাহ্ ছিলেন (দ্র. আসাহহুস সিয়ার (বাংলা), পৃ. ৪২৬; (ওয়াকিদী, কিতাবুল মাগাযী, পৃ. ৩৬৬; ইব্ন সা'দ, তাবাকাত, ২খ., পৃ. ৫৭; তাবারী, ২খ., পৃ. ৫৫২; ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১১১; উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৩৩১)।