📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নবী কারীম (সা)-এর কাতিবের সংখ্যা

📄 নবী কারীম (সা)-এর কাতিবের সংখ্যা


كان زيد بن ثابت يكتب الوحى وكان معاوية يكتب للنبي ﷺ بينه وبين العرب . "যায়দ ইব্‌ন ছাবিত (রা) ওহী লিখিতেন এবং মু'আবিয়া (রা) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ও আরবদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও পত্রাদি লিখিতেন" (উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ২২১-২২২; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৭৩; রাসূল মুহাম্মদ ﷺ-এর সরকার কাঠামো, পৃ. ২৪২ (পাদটীকায়); মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ২৩; কাত্তানী, ১খ., পৃ. ১১৮)।
নবী কারীম ﷺ-এর কাতিবের সংখ্যা
বিভিন্ন সময়ে যাঁহারা নবী কারীম (স)-এর পক্ষে লেখকের দায়িত্ব পালন করিয়াছেন তাঁহাদের প্রকৃত সংখ্যার প্রশ্নে ঐতিহাসিকগণের মতভেদ রহিয়াছে। ইবন ইসহাক ও ইব্‌ন হিশাম তাঁহাদের মাত্র কয়েকজনের নাম উল্লেখ করিয়াছেন। অপরপক্ষে ওয়াকিদী বেশ কিছু কাতিবের নাম বর্ণনা করেন। প্রাথমিক স্তরের লেখকগণের মধ্যে ইবন সা'দ-এর বর্ণনামতে নবী কারীম ﷺ-এর দলীল-পত্রের সংখ্যা ও কাতিবগণের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জন। অথচ বালাযুরী ও তাবারী মাত্র দশজনের নাম উল্লেখ করেন। বস্তুত ইহা পরবর্তী লেখকগণের কৃতিত্ব যে, তাঁহারা নবী কারীম ﷺ কর্তৃক নিযুক্ত কাতিবগণের একটি পূর্ণ ফিরিস্তি তৈরীর প্রয়াস চালাইয়া সর্বাধিক সংখ্যক নাম প্রকাশ করিয়াছেন। ইবন 'আসাকির তদীয় 'তারীখ দামিষ্ক' এবং 'বাহজাত আল-মাহফিল' পুস্তকদ্বয়ে যথাক্রমে ২৩ ও ২৫ জন কাতিবের উল্লেখ করিয়াছেন। ইবন সা'দ-এর বরাতে কাত্তানী তাঁহার পুস্তকে এই নামগুলি উদ্ধৃত করিয়াছেন। আল- ইস্তী'আব-এও অনুরূপ সংখ্যার কথা উল্লিখিত হইয়াছে। কিন্তু কুরতুবীর তাফসীরে আরও একটি নামসহ ২৬ জন কাতিবের নাম উল্লিখিত হইয়াছে। শিবরামালসীর তালিকায় ৪০টি নাম অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে। যায়নুদ্দীন আল-'ইরাকী তদীয় কাব্যছন্দে রচিত সীরাহ গ্রন্থে ৪২জন কাতিবের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। বুরহান হালাবীর হাওয়াশী আল-শিফা পুস্তকে সর্বাধিক ৪৩ জন কাতিবের নাম উল্লিখিত হইয়াছে। তবুও নিশ্চিতভাবে দাবি করা যায় না যে, ইহাই চূড়ান্ত তালিকা বরং আরও কতিপয় সাহাবী নবী কারীম ﷺ-এর পক্ষে কাতিবের দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিবেন বলিয়া অনুমিত হয় (রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর সরকার কাঠামো, পৃ. ২০৭, ইফা প্রকাশিত)।
মাজমূ'আত আল-ওয়াছাইক গ্রন্থে ড. হামীদুল্লাহ্ নবী কারীম ﷺ-এর ২৪৬ খানা পত্রের উল্লেখ ও আলোচনা করিয়াছেন। তন্মধ্যে আরব শাসক, গোত্রপ্রধান ও বিদেশী রাজ-রাজড়ার নামে- লিখিত পত্রও রহিয়াছে। তবে বেশ কিছু পত্র তাহাতে এমনও রহিয়াছে যেগুলির বিষয়বস্তুর উল্লেখ নাই। যাহাই হউক মাত্র ৭৪টি দলীলের মধ্যে লেখকের নাম উল্লিখিত হইয়াছে। এইগুলির মধ্য সর্বাধিক সংখ্যক পত্রের লেখক ছিলেন হযরত আলী, উবাই ইব্‌ন কা'ব ও মু'আবিয়া ইব্‌ন আবূ সুফ্যান (রা)। হযরত আলীর লিখিত ১২ খানা এবং শেষোক্ত দুইজনের লিখিত এগারখানা করিয়া পত্র উহাতে স্থান পাইয়াছে। এই তালিকায় পূর্বোক্ত কাতিব সাহাবী দশজনের সাথে নূতন আরও ১১ জন কাতিব সাহাবীর নিম্নোক্ত সংখ্যক দলীল পাওয়া যায়:

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পত্রবাহক সাহাবীগণ

📄 পত্রবাহক সাহাবীগণ


১১. খালিদ ইব্‌ন সা'ঈদ, ৯ খানা ১২. মুগীরা ইব্‌ন শু'বা, ৭ খানা ১৩. 'আলা ইব্‌ন উকবা, ৪ খানা ১৪. আরকাম ইব্‌ন আবিল আরকাম, ৪ খানা ১৫. ছাবিত ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন শাম্মাখ, ৪খানা ১৬. জুহায়ম ইব্‌নুস সাল্‌ত, ২ খানা ১৭. 'আলা ইব্‌দুল হাদরামী, ২ খানা ১৮. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যায়দ, ১ খানা ১৯. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর, ১ খানা ২০. মুহম্মদ ইব্‌ন মাসলামা, ১ খানা ২১. যুবায়র ইব্‌ন আল-আওয়াম, ১ খানা।
পত্রবাহক সাহাবীগণ
রাসূলুল্লাহ্ (স) যখন কোন রাজা-বাদশাহ বা গোত্রপ্রধানের নিকট দূতরূপে কাহাকেও প্রেরণ করিতেন, তখন তাঁহার ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা ও বাগ্মিতার বিষয় বিবেচনায় রাখিতেন। এইজন্য দূত সাহাবীগণের সকলেই উচ্চ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, প্রাজ্ঞ, সাহসী ও বাগ্মী ছিলেন। আল্লাহর রাসূলের যোগ্য দূতরূপে তাঁহারা তাঁহার বার্তা পৃথিবীর প্রবল প্রতাপান্বিত রাজা-বাদশাগণের দরবার পর্যন্ত পৌঁছাইতে সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করেন নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দূতবৃন্দের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দূতবৃন্দের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


(১) জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা): তিনি রাসূলুল্লাহ-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী ছিলেন। ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেন:
عن قيس قال سمعت جريرا يقول ما رأني رسول الله ﷺ منذ اسلمت الا تبسم في وجهي وقال رسول الله ﷺ يدخل من هذا الباب رجل من خير ذي يمن على وجهه مسحة ملك فدخل جرير. হযরত কায়স (র) বলেন, আমি হযরত জারীর (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার ইসলাম গ্রহণ অবধি রাসূলুল্লাহ্ আমাকে যতবারই দেখিয়াছেন, আমার দিকে চাহিয়া মুচকি হাসি দিয়াছেন। একদা রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, এই দরজা দিয়া কল্যাণময় ও বরকতের অধিকারী এক ব্যক্তি প্রবেশ করিবে যাহার চেহারায় ফেরেশতার হাতের স্পর্শ রহিয়াছে। তখন জারীর (রা) সেই দরজা দিয়া প্রবেশ করিলেন" (দ্র. ইমাম বুখারী (র), আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ১১২, নং ২৪৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা)

📄 জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা)


রাসূলুল্লাহ্ তাঁহাকে যুল-কিলা' ইব্‌ন নাকুর ইব্‌ন হাবীব ইব্‌ন হাসসান ইব্‌ন তুব্বা এবং যূ-'আমর-এর নিকট ইসলামের দা'ওয়াত সম্বলিত পত্রসহ প্রেরণ করেন। যুল-কিলা' তদীয় স্ত্রী
দুরাইব বিনত আবরাযা ইবনিস সাব্বাহসহ ইসলাম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্-এর ইনতিকালের সময় অবধি তিনি তাঁহাদের নিকটেই ছিলেন। অবশেষে মদীনায়-ফিরিয়া আসেন (তাবাকাত, ১খ., পৃ. ২৬৬; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৮৭; ইব্‌ন খালদুন, পৃ. ৮৪৫; উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ২৭৯)।
মাওলানা আবদুর রাউফ দানাপুরী লিখেন, যুল-কিলা' হিময়ারী এবং যূ-'আমর উভয়ই ইসলাম গ্রহণ করেন। তবে তাঁহারা রাসূলুল্লাহ্-এর সাহচর্য পাননি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00