📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাতিবীন বা সচিবমণ্ডলী

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাতিবীন বা সচিবমণ্ডলী


১৩. বনূ জুহায়না, বনূ কুদা'আর একটি উপশাখা গোত্র
১৪. আবূ নুখায়লা আল-লাহাবী ও আবূ রুহায়মা আস-সাম'ঈ
১৫. বনূ সুলায়ম ও বনূ সাদাকা বা যাকাত সংক্রান্ত। জুহায়নার দুই ব্যক্তি
১৬. আবূ শাহ অথবা শাহ আল-ইয়ামানী; ইবনুল আছীর ও ইন্ন হাজারের মতে আবু শাহ-ই বিশুদ্ধ। কেহ তাঁহাকে কালবী আবার অন্য কেহ তাঁহাকে কায়সী বলিয়াছেন। সায়কের সাহাযার্থে যাহারা ইয়ামানে আসিয়াছিলেন তিনি তাহাদেরই অধস্তন পুরুষ ছিলেন।
১৭. 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন কুদামা আস-সা'দী মতান্তরে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন ওকদান, মতান্তরে 'আমর ইব্‌ন ওকদান, ইবনুল আছীর, এই শেষোক্ত নামই সঠিক বলিয়াছেন। ইব্‌ন মান্দা তাঁহাকে ইব্‌ন কুদামা নামে অভিহিত করিয়াছেন।
মৃত জন্তুর চর্ম ও রগ হইতে কোন উপকার না নেওয়া সংক্রান্ত আদেশ যাহা রাসূলুল্লাহ তাঁহার ইন্তিকালের ১মাস আগে প্রেরণ করিয়াছিলেন।
যে যাহা পায় উহা তাহারই, খনিজ সম্পদ বা গুপ্তধনের এক পঞ্চমাংশ এবং যাকাত প্রতি চল্লিশ দীনারে এক দীনার এই বক্তব্য সম্বলিত পত্র।
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কায় খুৎবা দিতে গিয়া মক্কার হুরমত বর্ণনা করিলেন এবং বলিলেন কেহ যেন মক্কায় শিকারের জন্য ওঁৎ না পাতে এবং মক্কাভূমির কোন গাছ না কাটে তখন আবূ শাহ উহা তাঁহার জন্য লিপিবদ্ধ করিয়া দিতে অনুরোধ করেন। সে মতে এই লিপিখানা লিখিত হয়।
উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ২৬৬; ঐ, ৫খ., পৃ. ৩৫৪; সুনanুল কুবরা (বায়হাকী কৃত), ১০খ., পৃ. ১২৮; মুসনাদে আহমাদ, ৪খ., পৃ. ৩১০; কানযুল উম্মাল, ৮খ., পৃ. ৫০। উসদুল গাবা, ৫খ., পৃ. ১৯৮ ও ৩১২; আল-ইসাবা, ৪খ., জীবনী নং ১১৫৬। উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ২৩৭; সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ৩২৬। উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ৩৮৪ ঐ, ৫খ., পৃ. ২২৪; আল-ইসাবা, ৪খ., জীবনী নং ৬০৬। ঐ, ২খ., জীবনী-৩৮২৭। আল-ইস্তীআব, ৪খ., পৃ. ১০৬। সুনানুল কুবরা (বায়হাকীকৃত) ৮খ., পৃ. ৫২; মুসনাদে আহমাদ, ২খ., পৃ. ২৩৮; মসীহ মুসলিম, ৪খ., পৃ. ১১০। উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ২৪৩; আবদুল্লাহ ইব্‌ন কুদামা শিরোনামে। ঐ, পৃ. ১৭৫; আবদুল্লাহ ইব্‌ সাদী শিরোনামে।
১৮. মক্কাবাসিগণ
একই বিক্রীতে একাধিক শর্ত সুনানুল কুবরা, ১০খ., পৃ. আরোপের অবৈধতা এবং ৩২৪; কানযুল উম্মাল, ২খ., মুকাতাব গোলাম চুক্তিকৃত পৃ. ২২৯। পূর্ণ অর্থ প্রদানের পূর্বে মুক্ত হয় না মর্মে বক্তব্য।
১৯. নাজাশী, আবিসিনিয়া আবূ সুফ্যান তনয়া উম্মে বিস্তারিত আলোচনা পরে অধিপতি হাবীবার বিবাহ সংক্রান্ত। আসিতেছে।
২০. মক্কাবাসিগণের প্রতি ৩ মজুসী বা অগ্নি উপাসকদের আল-কাফী, যাকাত অধ্যায়, বার জিযয়া দানের প্রস্তাব পৃ. ৫৬৮ (হরফে মুদ্রিত); প্রত্যাখ্যান করিয়া রাসূলুল্লাহ আত-তাহযীব, ১খ., পৃ. ২৪৯ (স)-এর বক্তব্য কিতাবীদের (লিথো মুদ্রণ); ব্যতীত অন্যদের জিযয়া আত-তাযকিরা, জিহাদ গ্রহণযোগ্য নয়- এই অধ্যায় বক্তব্যের জবাবে মজুসীরা যখন এই মর্মে আপত্তি উত্থাপন করে যে, আপনি হিজর এলাকার মজুসীদের জিযয়া গ্রহণ করিয়াছেন, তখন এই প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পত্র।
২১. খালিদ ইব্‌দুল ওয়ালীদ মজুসীদের রক্তপণ সংক্রান্ত আত-তাহযীব, ২খ., পৃ. (রা) খালিদের প্রশ্নের জবাব। ৪৪২ (লিথো মুদ্রণ); ইহাতে রাসূলুল্লাহ মানলা ইয়াহযুরুহুল ফাকীহ, জানান যে, তাহাদের রক্তপণ পৃ. ৫০২ (তৃতীয় হাদীছ)। য়াহুদী ও খৃস্টানদের মতই।
২২. নাজরানবাসী আরব ও আসওয়াদ আনাসীর ফিৎনা তাবারী, ২খ., পৃ. ৪৬৭; তথাকার বহিরাগত প্রসঙ্গ। কানযুল উম্মাল, ৫খ., পৃ. অনারবগণ ৩২৬।
২৩. আবূ জা'ফার (কে এই সাদাকা কানযুল উম্মাল, ২খ., পৃ. আবূ জা'ফ্র তাহা কানযুল ২২২। উম্মালের সঙ্কলক পরিষ্কার উল্লেখ করেন নাই)
২৪. নাজরানবাসিগণ সুদভিত্তিক ক্রয়বিক্রয়কারীর কানযুল উম্মাল, ২খ., পৃ. বিরুদ্ধে সতর্কবাণী ২৩৪।
২৫. সালিম ইব্‌ন কিদলানিস বৃষ্টি ও নদী সিঞ্চিত ভূমির কানযুল উম্মাল, ৩খ., পৃ. ওয়াল-মুসআবীন যাকাত এক-দশমাংশ (ওশর) ৩০৭। এবং ডোল বা বালতি সিঞ্চিত (ইব্‌ন জারীরের বরাতে) জমির যাকাত অর্ধ্ব উশর এবং গরুর যাকাত উটের মতই
২৬. উম্মাল বা প্রশাসকবর্গ রাসূলুল্লাহ-এর দরবারে কোন আন-নাসসু ওয়াল ইজতিহাদ দূত প্রেরণকালে যাহাদের নাম লি-আল্লামা সায়্যিদ ও চেহারা উত্তম তাহাদেরকে শারফুদ্দীন, পৃ. ১৭৭। যেন প্রেরণ করা হয়। (মালিক ও বাযযাযের তাঁহার পক্ষ হইতে মদীনায় বরাতে)। ২৭. আবিসিনিয়া-রাজ নাজাশী প্রত্যাবর্তনকারী মুসলমান- বিশদ আলোচনা পরে দেরকে সাজ-সরঞ্জাম আসিতেছে। প্রদান।
২৮. খায়বারবাসিগণ আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাহল নামক সহীহ মুসলিম, ৫খ., পৃ. যে সাহাবী তাহাদের জলাশয়ে ১০০; সুনানুল কুবরা নিহত হইয়াছিলেন তাঁহার (বায়হাকী কৃত), ৮খ., পৃ. রক্তপণ দাবি। ১৭৭।
২৯. আবদুল্লাহ ইব্‌ন জাহশ একটি অভিযানে প্রাপককে আস-সুনানুল কুবরা, ৯খ., পৃ. (রা) আমীর নিযুক্ত করিয়া এই পত্র ১২ ও ৫৮। দিয়া রাসূলুল্লাহ বলিয়া দিয়াছিলেন যে, নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছিবার পূর্বে যেন পত্রখানা খোলা বা পড়া না হয়।
৩০. বনূ তাগলিবের খৃস্টানগণ তাহারা যেন তাহাদের সন্তান- সুনানুল কুবরা, ৯খ., পৃ. দেরকে খৃস্টান না বানায় এই ২১৭। মর্মে লিখিত।
৩১. জুরাশবাসিগণ, জুরাশ খেজুরের সাথে কিশমিশ সহীহ মুসলিম, ৬খ., পৃ. ৯২; ইয়ামানের একটি প্রদেশ, মিশাইতে বারণ। মুসনাদ আহমাদ, ১খ., পৃ. নবী কারীম -এর ২২২৪। যুগেই সন্ধিসূত্রে বিজিত হয়।
৩২. সা'দ হুযায়ম (কুদাআ কোন ধরনের মালে কি আত-তাবাকাতুল কুবরা, গোত্রীয়) ও জুযাম উভয়কে পরিমাণ সাদাকা ফরয হয় ১খ., পৃ. ৩৬৮। অভিন্ন পত্র তাহার বিবরণ।
৩৩. রাফে' ইব্‌ন খাদীজের একদা মারওয়ান খুৎবা দিতে মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., নিকট রক্ষিত রাসূলুল্লাহ গিয়া মক্কার হারাম হওয়ার পৃ. ৫৮। -এর পত্র। কথা বর্ণনা করিলে রাফে' ইবন খাদীজ (রা) দাঁড়াইয়া বলিলেন, মক্কা হারম হইলে মদীনাও হারাম, স্বয়ং নবী কারীম উহাকে হারাম ঘোষণা করিয়াছেন। আমার নিকট খাওলানী চর্মগাত্রে লিখিত তাঁহার এই মর্মের পত্র সংরক্ষিত রহিয়াছে।
৩৪. 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আমর ইহা একটি দু'আ যাহা মুসনাদ আহমাদ, ২খ., পৃ. ইবনুল 'আস (রা) রাসূলুল্লাহ-এর মুখে ১৯৬। শ্রবণ করিয়া তিনি লিখিয়া রাখিয়াছিলেন। তিনি বলেন, ইহা রাসূলুল্লাহ আমার জন্য লিখাইয়া ছিলেন- যাহা আমি প্রায়ই দেখিয়া থাকি। তিনি যাহা নবী দরবারে মুসনাদ আহমাদ, ২খ., পৃ. শুনিতেন তাহা লিখিয়া ১৬২। রাখিতেন।
৩৫. আবদুর রহমান ইব্‌ন প্রাপকের একটি পত্রের কানযুল উম্মাল, ৫খ., পৃ. 'আওফ (রা) জবাবে এই পত্রখানা ৩১৮। লিখিত হইয়াছিল, যাহাতে রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে আসবাগ- তনয়া তামাদিরকে বিবাহ করিতে নির্দেশ দিয়াছিলেন।
৩৬. বনূ 'আবদুল মুত্তালিব ইবন নবী কারীম-এর ফুতুহুল বুলদান, পৃ.৪১। 'আব্দ মানাফ খায়বার হইতে প্রাপ্ত সম্পদ হইতে তাহাদেরকে আপ্যায়নের কথা।
৩৭. আব্বাস ইব্‌ন আবদুল আব্বাস (রা) যখন মদীনায় কানযুল উম্মাল, ৭খ., মুত্তালিব। হিজরতের অনুমতি প্রার্থনা পৃ. ৬৯ (তাবারানী ও আবূ
নূর আযানের পক্ষ হইতে)
৩৮. যিয়াদ ইবনুল হারিছ। করিয়া রাসূলুল্লাহ-এর নিকট পত্র দেন তাহার জবাবে এই পত্রখানা লিখিত।
৩৯. মুসলমানদের প্রতি দশম প্রাপকের সম্প্রদায়ের সাদা- কানযুল উম্মাল, ৭খ., পৃ. হিজরীতে লিখিত পত্র। কাত যাকাত ৩৮। হজ্জের সামর্থ্য রাখেন এমন আল-ওয়াসাইল, ২খ., সকলকে রাসূলুল্লাহ কিতাবুল হজ্জ, হজ্জের -এর সাথে হজ্জে যোগদানের প্রকারভেদের বর্ণনায় আহবান কাফী-এর বরাতে।
৪০. আমর ইবন হাযম, তখন কুরবানী দিতে ত্বরা করা এবং তারতীব মুসনাদ ইমাম তিনি নাজরানে ছিলেন। ইফতারে দেরী করা সংক্রান্ত শাফিঈ, ১খ., পৃ. ১৫২। এবং মানুষকে উপদেশ দেওয়ার নির্দেশ।
৪১. আয়লার রাশ ইবনুল উলামা প্রাপকের পত্রের জবাবে সহীহ মুসলিম, ৬খ., পৃ. লিখিত। ৬১।
রাসূলুল্লাহ্ -এর কাতিবীন বা সচিবমণ্ডলী আজ হইতে দেড় হাজার বৎসর পূর্বের বিশ্বে বিশেষত আরবে লেখাপড়ার প্রচলন যে কত সীমিত ছিল তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। মক্কায় যখন ইসলাম প্রচার শুরু হয় তখন মক্কায় মাত্র সতের ব্যক্তি লিখিতে সমর্থ ছিলেন। ৩৪
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মাক্কী জীবনে (৬২২ খৃ. পর্যন্ত) এই কাতিবদের মুখ্য কাজ ছিল ওহী লিখন। এক বর্ণনামতে, মক্কী জীবনের প্রথম দিকের একজন কাতিব ছিলেন শুরাহবীল ইব্‌ন হাসানা আল-কিন্দী (রা)। ড. হামীদুল্লাহ্ মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক গ্রন্থে উদ্ধৃত একটি দলীল (বালাযুরী, ফুতহুল বুলদান, ৩খ., পৃ. ৫৮০, সংখ্যা ১১০৪; নাদরাতুন নাঈম, মহানবীর জীবনী কোষ, ১খ., পৃ. ৩৪০)।
এই কথার বাস্তব প্রমাণ যে, বনূ লাখমদের অন্তর্ভুক্ত ফারীসদের মক্কায় নবী কারীম (স)-এর সহিত সাক্ষাৎকালে তিনি তাহাদেরকে একটি অভয়-পত্র লিখিয়া দিয়াছিলেন। মাক্কী জীবনে আরও যাঁহারা কাতিবের দায়িত্ব পালন করেন তাঁহারা হইতেছেন: (১) শুরাহবীল ইব্‌ন হাসানা (রা) (২) আবদুল্লাহ্ ইবন সা'দ ইব্‌ন আবী সারহ্ (রা) (৩) সা'দ ইব্‌ন আবী সারহ (রা) (৪) আবূ বকর (রা) (৫) উমার (রা)
(৬) উছমান (রা)
(৭) আলী (রা) প্রমুখ সাহাবী। (ড. মুহাম্মাদ ইয়াসীন মাজহার সিদ্দীকী, রাসূল মুহাম্মাদের সরকার কাঠামো, পৃ. ২০৬ ও ২০৭; কাত্তানী, ১খ., পৃ. ১১৮)।
মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর কাতিবদের কাজটি ধর্মীয় প্রকৃতি ছাড়াও রাজনৈতিক রূপ পরিগ্রহ করে। চতুর্দশ শতকের একজন লেখক আল-কালকাশান্দী দীওয়ানুল ইন্‌শা' (পত্র যোগাযোগ বিভাগ)-এর আদি উৎস নির্দেশ করিতে গিয়া বলেন, এটাই প্রথম দীওয়ান যাহার গোড়াপত্তন করিয়াছেন স্বয়ং নবী কারীম। তবে ঐ সময় এই বিভাগটি এই নামে পরিচিত ছিল না। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে তিনি তাঁহার সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, গভর্নরগণ ও প্রশাসকবৃন্দের সহিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাঁহাদেরকে নির্দেশ জ্ঞাত করার উদ্দেশ্যে তাঁহাদেরকে পত্র লিখিতেন এবং কর্মকর্তাগণও তাঁহার সমীপে পত্র লিখিতেন। অনুরূপভাবে তিনি বিভিন্ন শাসক ও আমীরগণের নিকটও বেশ কিছু পত্র প্রেরণ করেন। ইয়াহুদী, খৃস্টান ও মুশরিক আরবদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করিয়া তিনি কিছু সংখ্যক চুক্তিও সম্পাদন করিয়াছিলেন। এতদভিন্ন বেশ কিছু ব্যক্তি ও গোত্রের নিকট নবী কর্তৃক নিয়োগ দানকারী পত্র প্রেরিত হইয়াছিল। বহু ব্যক্তির নিকট ইক্কা' বা ভূমির বরাদ্দপত্রও তিনি পাঠাইয়াছিলেন। এইসব দলীল-পত্রের বিষয়াদি এমন এক বিভাগ কর্তৃক আনজাম দেওয়া হইত, যাহা পরবর্তী পর্যায়ে খলীফা যুগে পূর্ণাঙ্গ একটি দীওয়ানুল ইনশা' বা নথিপত্র বিভাগে উন্নীত হইয়াছে এবং স্বাভাবিকভাবেই এই ক্ষেত্রে লেখক সেবাদানের প্রয়োজন হইয়াছে। (প্রাগুক্ত, পৃ. ২০৬-২০৭; কাত্তানী ১খ., পৃ. ১১৮, দলীল নং ৪৩, ৪৩-৪৪)।
মদীনায় কাতিবের দায়িত্ব পালন করিতেন : ১. উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) ২. যায়দ ইব্‌ন ছাবিত এবং (পরবর্তী পর্যায়) ৩. মু'আবিয়া ইব্‌ন আবী সুফ্যান (রা)
ঐ তিনজন ছিলেন নবী কারীম-এর স্থায়ী কাতিব। এই তিনজনের মধ্যে আবার উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) ছিলেন প্রধান কাতিব। তিনি উপস্থিত থাকিলে অন্য কেহ লেখার অনুমতি পাইতেন না। তাঁহার অবর্তমানে যায়দ ইব্‌ন ছাবিত ওহী লিখিতেন। আল-হুরায়নী, নাওয়াবী, ইব্‌ন আবদুল বার ও বুখারীর মত পরবর্তী পর্যায়ের মুহাদ্দিছগণ একমত যে, হিজরতের পর যায়দ ইব্‌ন ছাবিত (রা) সকল অবস্থায় নবী কারীম-এর সাহচর্যে থাকিতেন এবং এই কারণেই যে কোন লোকের তুলনায় তিনি বিভিন্ন পত্র, দলীল ও ওহী লেখার অধিকতর সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর মু'আবিয়া (রা) এমনি ধৈর্য ও অধ্যবসায় সহকারে নবী কারীম-এর সঙ্গে সঙ্গে থাকিতেন যে, ওহী লেখার প্রশ্নে অন্য কেহই তাঁহার সমতুল্য ছিলেন না (বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, ১খ., পৃ. ৫৩১)।
উসদুল গাবা ও তাবারীতে এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। ড. মুহাম্মাদ ইয়াসীন মাজহার সিদ্দীকী বলেন, আনসাব আল-আশরাফের প্রথম খণ্ডে বর্ণিত একটি কৌতূহল-উদ্দীপক ঘটনা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, মু'আবিয়া (রা) সর্বাধিক বিশ্বস্ত ও স্থায়ী একজন কাতিব ছিলেন। আল-ইসাবায় আল-মাদাইনীর বরাতে উক্ত হইয়াছে:

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নবী কারীম (সা)-এর কাতিবের সংখ্যা

📄 নবী কারীম (সা)-এর কাতিবের সংখ্যা


كان زيد بن ثابت يكتب الوحى وكان معاوية يكتب للنبي ﷺ بينه وبين العرب . "যায়দ ইব্‌ন ছাবিত (রা) ওহী লিখিতেন এবং মু'আবিয়া (রা) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ও আরবদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও পত্রাদি লিখিতেন" (উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ২২১-২২২; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৭৩; রাসূল মুহাম্মদ ﷺ-এর সরকার কাঠামো, পৃ. ২৪২ (পাদটীকায়); মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. ২৩; কাত্তানী, ১খ., পৃ. ১১৮)।
নবী কারীম ﷺ-এর কাতিবের সংখ্যা
বিভিন্ন সময়ে যাঁহারা নবী কারীম (স)-এর পক্ষে লেখকের দায়িত্ব পালন করিয়াছেন তাঁহাদের প্রকৃত সংখ্যার প্রশ্নে ঐতিহাসিকগণের মতভেদ রহিয়াছে। ইবন ইসহাক ও ইব্‌ন হিশাম তাঁহাদের মাত্র কয়েকজনের নাম উল্লেখ করিয়াছেন। অপরপক্ষে ওয়াকিদী বেশ কিছু কাতিবের নাম বর্ণনা করেন। প্রাথমিক স্তরের লেখকগণের মধ্যে ইবন সা'দ-এর বর্ণনামতে নবী কারীম ﷺ-এর দলীল-পত্রের সংখ্যা ও কাতিবগণের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জন। অথচ বালাযুরী ও তাবারী মাত্র দশজনের নাম উল্লেখ করেন। বস্তুত ইহা পরবর্তী লেখকগণের কৃতিত্ব যে, তাঁহারা নবী কারীম ﷺ কর্তৃক নিযুক্ত কাতিবগণের একটি পূর্ণ ফিরিস্তি তৈরীর প্রয়াস চালাইয়া সর্বাধিক সংখ্যক নাম প্রকাশ করিয়াছেন। ইবন 'আসাকির তদীয় 'তারীখ দামিষ্ক' এবং 'বাহজাত আল-মাহফিল' পুস্তকদ্বয়ে যথাক্রমে ২৩ ও ২৫ জন কাতিবের উল্লেখ করিয়াছেন। ইবন সা'দ-এর বরাতে কাত্তানী তাঁহার পুস্তকে এই নামগুলি উদ্ধৃত করিয়াছেন। আল- ইস্তী'আব-এও অনুরূপ সংখ্যার কথা উল্লিখিত হইয়াছে। কিন্তু কুরতুবীর তাফসীরে আরও একটি নামসহ ২৬ জন কাতিবের নাম উল্লিখিত হইয়াছে। শিবরামালসীর তালিকায় ৪০টি নাম অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে। যায়নুদ্দীন আল-'ইরাকী তদীয় কাব্যছন্দে রচিত সীরাহ গ্রন্থে ৪২জন কাতিবের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। বুরহান হালাবীর হাওয়াশী আল-শিফা পুস্তকে সর্বাধিক ৪৩ জন কাতিবের নাম উল্লিখিত হইয়াছে। তবুও নিশ্চিতভাবে দাবি করা যায় না যে, ইহাই চূড়ান্ত তালিকা বরং আরও কতিপয় সাহাবী নবী কারীম ﷺ-এর পক্ষে কাতিবের দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিবেন বলিয়া অনুমিত হয় (রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর সরকার কাঠামো, পৃ. ২০৭, ইফা প্রকাশিত)।
মাজমূ'আত আল-ওয়াছাইক গ্রন্থে ড. হামীদুল্লাহ্ নবী কারীম ﷺ-এর ২৪৬ খানা পত্রের উল্লেখ ও আলোচনা করিয়াছেন। তন্মধ্যে আরব শাসক, গোত্রপ্রধান ও বিদেশী রাজ-রাজড়ার নামে- লিখিত পত্রও রহিয়াছে। তবে বেশ কিছু পত্র তাহাতে এমনও রহিয়াছে যেগুলির বিষয়বস্তুর উল্লেখ নাই। যাহাই হউক মাত্র ৭৪টি দলীলের মধ্যে লেখকের নাম উল্লিখিত হইয়াছে। এইগুলির মধ্য সর্বাধিক সংখ্যক পত্রের লেখক ছিলেন হযরত আলী, উবাই ইব্‌ন কা'ব ও মু'আবিয়া ইব্‌ন আবূ সুফ্যান (রা)। হযরত আলীর লিখিত ১২ খানা এবং শেষোক্ত দুইজনের লিখিত এগারখানা করিয়া পত্র উহাতে স্থান পাইয়াছে। এই তালিকায় পূর্বোক্ত কাতিব সাহাবী দশজনের সাথে নূতন আরও ১১ জন কাতিব সাহাবীর নিম্নোক্ত সংখ্যক দলীল পাওয়া যায়:

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পত্রবাহক সাহাবীগণ

📄 পত্রবাহক সাহাবীগণ


১১. খালিদ ইব্‌ন সা'ঈদ, ৯ খানা ১২. মুগীরা ইব্‌ন শু'বা, ৭ খানা ১৩. 'আলা ইব্‌ন উকবা, ৪ খানা ১৪. আরকাম ইব্‌ন আবিল আরকাম, ৪ খানা ১৫. ছাবিত ইব্‌ন কায়স ইব্‌ন শাম্মাখ, ৪খানা ১৬. জুহায়ম ইব্‌নুস সাল্‌ত, ২ খানা ১৭. 'আলা ইব্‌দুল হাদরামী, ২ খানা ১৮. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যায়দ, ১ খানা ১৯. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ বকর, ১ খানা ২০. মুহম্মদ ইব্‌ন মাসলামা, ১ খানা ২১. যুবায়র ইব্‌ন আল-আওয়াম, ১ খানা।
পত্রবাহক সাহাবীগণ
রাসূলুল্লাহ্ (স) যখন কোন রাজা-বাদশাহ বা গোত্রপ্রধানের নিকট দূতরূপে কাহাকেও প্রেরণ করিতেন, তখন তাঁহার ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা ও বাগ্মিতার বিষয় বিবেচনায় রাখিতেন। এইজন্য দূত সাহাবীগণের সকলেই উচ্চ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, প্রাজ্ঞ, সাহসী ও বাগ্মী ছিলেন। আল্লাহর রাসূলের যোগ্য দূতরূপে তাঁহারা তাঁহার বার্তা পৃথিবীর প্রবল প্রতাপান্বিত রাজা-বাদশাগণের দরবার পর্যন্ত পৌঁছাইতে সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করেন নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দূতবৃন্দের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দূতবৃন্দের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


(১) জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রা): তিনি রাসূলুল্লাহ-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী ছিলেন। ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেন:
عن قيس قال سمعت جريرا يقول ما رأني رسول الله ﷺ منذ اسلمت الا تبسم في وجهي وقال رسول الله ﷺ يدخل من هذا الباب رجل من خير ذي يمن على وجهه مسحة ملك فدخل جرير. হযরত কায়স (র) বলেন, আমি হযরত জারীর (রা)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার ইসলাম গ্রহণ অবধি রাসূলুল্লাহ্ আমাকে যতবারই দেখিয়াছেন, আমার দিকে চাহিয়া মুচকি হাসি দিয়াছেন। একদা রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, এই দরজা দিয়া কল্যাণময় ও বরকতের অধিকারী এক ব্যক্তি প্রবেশ করিবে যাহার চেহারায় ফেরেশতার হাতের স্পর্শ রহিয়াছে। তখন জারীর (রা) সেই দরজা দিয়া প্রবেশ করিলেন" (দ্র. ইমাম বুখারী (র), আল-আদাবুল মুফরাদ, পৃ. ১১২, নং ২৪৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00