📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 এক নজরে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইসলাম প্রচারমূলক পত্রসমূহ যেগুলির পূর্ণ পাঠ অজ্ঞাত

📄 এক নজরে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইসলাম প্রচারমূলক পত্রসমূহ যেগুলির পূর্ণ পাঠ অজ্ঞাত


২৭৮, বাংলাভাষায় সীরাতুন্নবী, ২খ., পৃ. ২৭৪ ই.ফা. প্রকাশিত; শারহুশ-শিফা, মোল্লা আলী কারী, ১খ., পৃ. ৬৪১; সীরাতে হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ২৭২; কানযুল 'উম্মাল, ৫খ., পৃ.৩২৬-৩২৭; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৫৫৯; মাকাতীবু'র-রাসূল, 'আলী ইব্‌ন হুসায়ন 'আলী আল-আহমাদী, ১খ., পৃ. ৩১ (বৈরূত)।
ক্রমিক নং এবং প্রাপক ১. সাম'আন ইব্‌ন 'আমর আল-কিলাবী
২. ওয়ারদ ইব্‌ন মিরদাস বনূসা'দ হাযীম-এর সর্দার
৩. হাদারামাওতের সর্দারবৃন্দ
৪ ও ৫. দুইটি জনপদ
৬. বনূ হারিছা ইব্‌ন আমর ইন কুরায়যা
পত্রবাহক ও প্রতিক্রিয়া 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন আওসায়া (রা), প্রথমে সে ঈমান আনে নাই বরং পত্রখানা ছিঁড়িয়া ফেলে। তবে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করিয়া নবী দরবারে হাযির হয়।
পত্রখানা একটি খর্জুর শাখায় লিখিত ছিল-যাহা প্রাপক ভাঙ্গিয়া ফেলে। তবে পরে সেও ইসলাম গ্রহণ কারিয়াছিল।
মসরূক ইব্‌ন ওয়ায়েল অথবা মাসউদ ইব্‌ন ওয়ায়েল (রা)।
আবদুল্লাহ্ ইবন রাবী'আ আন-নুমায়রী, ইবন হাজার নাম উল্লেখ ও স্থান নির্ধারণ ব্যতিরেকে এই দুইখানা পত্রের উল্লেখ করিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইব্‌ন আওসাজা আল-কারনী আল-বাজালী। তাহারা চর্মগাত্রে লিখিত
বিবরণের উৎস গ্রন্থাদি আল-ইসাবা, ২খ., নং ৩৪৮৩; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮০।
আল-ইসাবা, ২খ., পূর্বোক্ত সাম'আনের বিবরণে।
আল-ইসাবা, ২খ., নং ৪১৭০; দাহ্হাক ইব্‌ন নু'মানের বর্ণনায়; ঐ, ৩খ., মাসউদ ইব্‌ন ওয়ায়েলের বর্ণনায়, নং ৭৯৬০; উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৩৬০।
আল-ইসাবা, ২খ., নং ৪৬৬৯।
আল-ইসাবা, ২খ., জীবনী নং ৪৮৭০; উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ২৩৯; মু'জামু কাবাইলিল
পত্রের পাঠ ধুইয়া ফেলিয়া আরাব, পৃ. ৮৩১। দিয়া মশকের তালিতে ঐ চামড়া ব্যবহার করে। বিবরণ শ্রবণে রাসূলুল্লাহ বলিয়াছিলেন, আল্লাহ তাহাদের বিবেককে লোপ করিয়া দিয়াছেন। বলা বাহুল্য, উহারা তাঁহার দাওয়াতে সাড়া দেয় নাই।
৭. আবদুল আযীয ইব্‌ উসুদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ৩৩৯; সায়ফ ইন্ন যী য়াযান, আল-ইসাবা, ২খ., জীবনী নং আবূ নু'আয়মের মতে ৫২৪৪: আবদুল আযীম এই প্রাপক হইতেছেন শিরোনামে। যুর'আ।
৮. আমর ইবন মালিক ইব্‌ন কায়স ইন নি'মত, তিনি নবী আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং উমায়র আল-আহাবী দরবারে উপস্থিত হইয়া ৫৯৫১। আমরের দক্ষ অশ্বারোহী এবং জনবরেণ্য নেতা হওয়ার কথা ব্যক্ত করিলে নবী কারীম তাঁহার নামে পত্র দেন। এই পত্রখানা হিজরতের পূর্বে মক্কা হইতে প্রেরিত হইয়াছিল বলিয়া মনে হয়।
৯. আবদে কিলাবের দুই পুত্র আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং 'আরীব ও হারিছ। ৬৪২৭; উসদুল গাবা, ৩খ., এই দুইজন হিময়ার রাজের পৃ. ৪০৬; ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. পক্ষ হইতে প্রশাসকরূপে ৬২। নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু ইব্‌ন সা'দ তাবাকাত গ্রন্থে ইহাদের নাম মাসরূহ ও নু'আয়ম বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।
১০. ফাহদ ইঁহারা হিময়ারের বিভিন্ন আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং ১১. যুর'আ শাখাগোত্রের সর্দার ছিলেন ৭০৩১; আত-তাবাকাতুল ১২. বাস/বিস যাহাদের বর্ণনা বিস্তারিতভাবে কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮৩।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জায়গীর বা ভূ-সম্পত্তি বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রাদি

📄 জায়গীর বা ভূ-সম্পত্তি বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রাদি


১৩. আল-বুহায়রী ১৪. আবদে কুলাল ১৫. রাবী'আ ১৬. হিজ্
হিময়ার রাজের নিকট প্রদত্ত পত্রের আলোচনায় আসিবে।
১৭. জাফীনা আন্-নাহ্দী আল- সে পত্রের ব্যবহৃত চামড়া উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ২৯১; জুহানী তাহার পানি উত্তোলনের আল-ইস্তিআব, আল-ইসাবার বালতিতে তালিরূপে ব্যবহার পাদটীকারূপে মুদ্রিত, ১খ., করিয়া চরম ঔদ্ধত্যের পরিচয় পৃ. ২৬৩; আল-ইসাবা, ১খ., দেয়। পৃ. ১১৭৫; কানযুল উম্মাল ৭খ., পৃ. ১৯।
১৮. রোম সম্রাট, আল- হারিছ ইবন উমায়র আল- আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং ইসাবায় এই স্থানে 'বুসরার আযাদী, গাস্সানী গভর্নর ১৪৫৯; উসদুল গাবা, ১খ., আমীর' রহিয়াছে। শুরাহবীল পত্রবাহককে হত্যা পৃ. ৩৪২; আল-ইস্তী'আব করে। ইহার পরিণতিতে (ইসাবার পাদটীকায়), ১খ.. জা'ফার ইবন আবূ তালিবের/ পৃ. ৩০৫। যায়দ ইব্‌ন হারিছার নেতৃত্বে নবী করীম (স) মৃতায় তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরেণ করেন।
১৯. 'আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিছ এই পত্র প্রাপ্তির পর তাহাদের আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং আল-আ'রাজ, আবী যুবয়ান গোত্রের কিছু সংখ্যক মক্কায় ১২২৭; জুনদুব ইব্‌ন কা'ব আল-আযদী আল-গামিদী এবং কিছু সংখ্যক মদীনায় আল-আযদী আল-গামিদী নবী কারীম -এর শিরোণামে; আত-তাবাকাতুল দরবারে উপস্থিত হন। কিছু কুরা, ১খ., পৃ. ২৮০। সংখ্যক মক্কায় শব্দের দ্বারা অনুমিত হয় যে, এই পত্রখানা হিজরতের পূর্বেই লিখিত হইয়াছিল।
২০. খিরাশ ইন জাহ্শ সে ক্ষিপ্ত হইয়া পত্রখানা আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং আল-'আব্‌সী, কোন কোন পোড়াইয়া ফেলে। ২৩৭১ ও ২৭২১ (তাঁহার পুত্র ঐতিহাসিক ইহাকে হিরাশ রিবঈ-এর আলোচনায়)। বলিয়াও লিখিয়াছেন। ইন্ন হাজারের মতে হিরাশই বিশুদ্ধ।
২১. ভারতীয় রাজা সিরবাতিক। হুযাফা ইব্‌ন ইয়ামান, আমর উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ইবনুল 'আস ও উসামা ইব্‌ন ২৬৬।
যায়দ প্রমুখ এ পত্রখানা লইয়া গিয়াছিলেন। তিনি পত্রের আহ্বানে সাড়া দিয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। তবে এই বর্ণনা দুর্বল ও বিরল। উসদুল গাবা, ৫খ., পৃ. ২০৫।
২২. কায়স ইব্‌ন 'উমার, আবূ যায়দ আল-হামাদানী আল-আরহাবী, ইব্‌ন হাজার এই প্রাপকের নাম আবূ যায়দ আমর ইব্‌ন মালিক বলিয়াছেন— যাহার কথা ক্রমিক নং ৮-এ রহিয়াছে। দ্র. ইসাবা, ৪খ., জীবনী নং ৪৬৮।
২৩. জাবালা ইব্‌ন আয়হাম আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা)। আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৬৫; ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. ৬২। ইব্‌ন নু'মান আল- গাসসানী, অবশ্য ইয়া'কূবী এই পত্র প্রাপকের নাম আয়হাম ইব্‌ নু'মান লিখিয়াছেন।
২৪. কিন্দার বনূ মু'আবিয়া। আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৬৫। ঐ
২৫. হিময়ারের বনূ আমর আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮৪। ঐ
২৬. সামাওয়ার রাজা নাফাছা ইব্‌ন ফারওয়া।
২৭. উযরা-
২৮. যী-আমর এই পত্রখানাও পাতা রহিত খর্জুর শাখায় লিখিত হয়। তাবাকাতুল কুবরার বর্ণনাদৃষ্টে ঐ, ঐ, পৃ. ২৮৩। প্রতীয়মান হয় যে, যিল-কিলা আল-হিময়ারীকে পত্র লেখার সময়ই যী- আমরকে পত্র দেওয়া হইয়াছিল, আর ইনিও ইয়ামানের একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। উসদুল গাবায় ইবনুল আছীর বলেন, ইনিও মুসলিমরূপে একত্রে
যিল-কিলা'র সাথে পত্রবাহক আল-ইস্তীআব, যিল-কিলা' আবদুল্লাহ ইব্‌ন বাজালীর সঙ্গী শিরোনামে। হইয়া নবী দরবারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিয়াছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে নবী কারীম ইন্তিকালের সংবাদ পাইয়া নিরাশ হইয়া ফিরিয়া যান।
২৯. যিল-কিলা' আল-হিময়ারী জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বাজালী ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. ৬২। (রা) ইনি ইসলাম গ্রহণ
৩০. উসায়বখত, বাহরায়নের জনৈক সামন্ত-রাজ করিয়া নবী দরবারের উদ্দেশ্যে বাহকের সাথে রওয়ানা হইয়াছিলেন, বিবরণ এইমাত্র গিয়াছে। মুনযির ইবন সাওয়াকে পত্র লিখার সময় তাহাকেও পত্র লিখা হয়। ইনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূল্লাহ্ -এর সহিত পত্র বিনিময় করেন।
৩১. মাইয, ইহার গোত্র পরিচয় ইনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং বা কোন এলাকার তিনি ৭Forgiving সর্দার ছিলেন তাহার উল্লেখ উসদুল গাবা, ৪খ., পাওয়া যায় না। পৃ. ২৭০; আল-ইস্তী'আব ৩খ., পৃ. ৪১৮।
৩২. বনূ 'আকীল রাসূলুল্লাহ ঝর্ণা ও আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং খর্জুরবীথি সম্বলিত আকীক ৮০১৭; মুতরিফ ইব্‌ন এলাকা জায়গীরস্বরূপ দান উকায়লী-এর আলোচনায়। করেন।
৩৩. মুআবিয়া ইন্ন ছাওর তিনি পত্রের জবাব দেন এবং আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং আল-আমিরী আল- সাদাকাও প্রেরণ করেন। ৮০৬১। বুকায়ী।
৩৪. ওয়ালীদ ইব্‌ন জাবির ইব্‌ন ইনি ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন উসদুল গাবা, ৫খ., পৃ. ৮৫; যালিম আত-তাঈ আল- বলিয়া জবাবী পত্র দেন। আল-ইসাব, এখ., নং বৃহত্তুরী ৯১৪৫; আল-ইস্তী'আব, ৩খ., পৃ. ৬০০।
সী.বি.-১২/১৩
(২) জায়গীর বা ভূ-সম্পত্তি বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রাদি
যেহেতু ইসলামের পক্ষে মন জয়ের উদ্দেশ্যে যাকাত প্রদানের একটি বিধান শরী'আতে রহিয়াছে, তাহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স) যাহাদেরকে জমি-জমা বরাদ্দ দিয়াছেন তাহাও ছিল ইসলামের স্বপক্ষে তাহাদের মন জয়ের বা ইসলামের উপর তাহাদেরকে অটল-অবিচল রাখার উদ্দেশ্যে। তাই ঐ জাতীয় পত্রগুলিও প্রকারান্তরে ইসলাম প্রচারমূলক। নিম্নে ঐ জাতীয় পত্রগুলির একটি তালিকা ও ঐগুলির উৎস গ্রন্থাদির বিবরণ প্রদত্ত হইল :
প্রাপক বিষয় বস্তু উৎস গ্রন্থাদী ১. সাম'আন ইব্‌ন আমর আল-ইসাবা, ২খ., পৃ. ৭৯। আল-আসলামী ২. সানবাশ মাকাতীবুর রাসূল (স), ১খ., ৩. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুমামা পৃ. ৪৯ ও ঐ, ৩খ., ৪র্থ ৪. 'আদ ইব্‌ন খালিদ অধ্যায়। ৫. 'আস আল-আদাব

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিবিধ বিষয়ক পত্রাবলী

📄 বিবিধ বিষয়ক পত্রাবলী


৬. উবায়দা ইবনুল আশ-আস
আল-ইস্ত্রী’আব আল-ইসাবার পাদটীকাঁয়, ২খ., পৃ. ৪৪৪। আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং ৬১৩৮।
৭. জনৈক ব্যক্তি
৮. কাতাদা ইবনুল আও’ওয়ার ৯. কাছীর ইব্‌ন সা’দ আল-জুয়ামী ১০. মা’কিল ইব্‌ন সিনান আল-আল-জাঈ
মাকাতীবুর রাসুল, ১খ., পৃ. ৪৯-৫০।
১১. মাশমারাজ ইব্‌ন খালিদ আস্-সা’দী এই প্রাপকগণকে প্রদত্ত পত্রে তাঁদিগকে জলাশয় বা পানির কূপ বরাদ্দ দেওয়া হইয়াছিল। এবং ঐ, ৩খ, ৪র্থ অধ্যায়।
১২. আব্বাস আর-রা’লী ১৩. আমিনা বিন্‌ত আরকাম ১৪. আওফা ইব্‌ন মাওলা আত্-তামীমী ১৫. ইয়াস ইব্‌ন কাতাদা আল-আনবারী ১৬. সা’ঈদা (ইহার গোত্র পরিচয় অজ্ঞাত) ১৭. ছাওরী ইব্‌ন উয়রা আল-কুশায়রী ১৮. মাদীকামরব ইব্‌ন আবরায়া এই পত্রে প্রাপকের ইসলাম গ্রহণকালে তাহার শাসনাধীন খাত্ব লান ভূমির বরাদ্দ তাহার নামে দেওয়া হয়।
আত্-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৬৬।
১৯. আবু ছ’ালাবা আল-খুশানী
তিনি বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! শাম দেশের অমুক অমুক ভূখণ্ড আমার নামে লিখিয়া দিন অথচ আগেও এগুলি নবী কারীম -এর করতলগত হয় নাই।
মুসনাদে আহমদ, ৪খ., পৃ. ১৩৪।
(ঙ) বিবিধ বিষয়য়ক পত্রাবলী
সাধারণত এইগুলি ইসলাম গ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মর্মে লিখিত। কোনটিতে বিশেষ কোন আদেশ ছিল, কোনটিতে সাদাকা বা যাকাতের বিধান বা এইরূপ কিছুর বর্ণনা রহিয়াছে। এইগুলিকে আমরা ইসলামের বিধানের প্রচারমূলক পত্র বলিয়া আখ্যায়িত করিতে পারি। নিম্নে এইরূপ পত্রাবলীর একটি ছক প্রদত্ত হইল:
প্রাপক বিষয় বস্তু উৎস গ্রন্থাদি ১০১
১. আবূ সুফিয়ান ইব্‌ন হাবীব ইহাতে তাঁহাকে একটি চামড়া মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., পৃ. হাদিয়াস্বরূপ প্রদানের কথা ৫০। বিবৃত হইয়াছে।
২. আল-'আলা ইব্‌দুল হাদরামী বাহ্রায়ন হইতে বিশজন আল-ইসাবা, ২খ., জীবনী নং আবদুল কায়স গোত্রীয় লোক ৪৮৭২; 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন প্রেরণের আদেশ সম্বলিত এই 'আওফ শিরোনামে। পত্র পাইয়া তিনি আশাজ্জসহ বিশজনকে পাঠাইয়া দিলেন।
৩. আবূ জান্দাল ও আবূ বাসীর ইহারা উৎপীড়িত হইয়া মক্কা আল-ইসাবা, ৪খ., জীবনী নং (রা) হইতে মদীনায় আসিয়াছিলেন, ২০০; উসদুল গাবা, ৫খ., পৃ. কিন্তু কুরায়শদের সহিত ১৫০। হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত অনুযায়ী তাহাদেরকে ফিরাইয়া দেওয়া হয়। ইহারা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী সাগর পাড়ের এলাকায় আস্তানা গাড়েন। তাঁহাদের মত আরও অনেকে আসিয়া সেখানে তাঁহাদের সহিত যোগ দেন। তাঁহারা কুরায়শদের বাণিজ্য কাফেলায় উপর্যুপরি হামলা চালাইলে তাহাদের দম বন্ধ হইবার উপক্রম হয়। তখন কুরায়শদের পক্ষ হইতে লিখিত পত্রে তাহাদেরকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাদেরকে ঐ মর্মে পত্র লিখেন।
৪. আমর ইবনুল খাফাজী আল-আমিরী ও আমর ইবনুল মাহজুব আল-আমিরী। ধর্মত্যাগী বা মুরতাদ্দগণের আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং ব্যাপারে এই পত্রখানি লিখিত ৫৪২৭; ঐ ৩খ., জীবনী নং হয় বলিয়া তাবারী উল্লেখ ৫৯৫৬ ও ৬৪৮৩। করিয়াছেন। সায়ফুল্লাহ-এর
৫. হামাদানবাসিগণ বর্ণনামতে যিয়াদ ইব্‌ন হানযালা ইহার বাহক ছিলেন। পত্রে তাহাদেরকে মুরতাদ্দ-দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তাগিদ দেওয়া হয়। ইবনুল মাহজুর রাসূলুল্লাহ-এর নিযুক্ত প্রশাসক (আমিল) ছিলেন।
গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা। ইবনুল আছীর উসদুল গাবায়, ৩খ., পৃ. ২৭৭-এ আবদ খায়র বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমরা ইয়ামান ভূখণ্ডে অবস্থানরত ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ -এর পত্র আমাদের নিকট পৌঁছায়। তাহাতে তিনি মানবমণ্ডলীকে ব্যাপক কল্যাণের দিকে আহ্বান জানান। আল-ইস্তী'আব, আল-ইসাবার পাদটীকায়, ২খ., পৃ. ৪৪০; “আবদ খায়র ইবন য়াযীদ আল-হামাদানী” শিরোনামেও আল-ইসাবা, ৩খ., জীনবী নং ৯৪২১; “য়াযীদ ইব্‌ ইয়াহমুদ আল-হামাদানী (আবদে খায়রের পিতা) শিরোনামে।
৬. আমর ইবনুল হাযম প্রাপকের পত্রের নাম মুহাম্মদ উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৩২৭; আল-আনসারী (রা), ইনি ও কুনিয়াত বা উপনাম আবূ আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং নাজরানে রাসূলুল্লাহ আবদিল মালিক রাখার ৮৩১২। -এর নিযুক্ত প্রশাসক আদেশ সম্বলিত। ছিলেন।
৭. মুতাররিফ ইবনুন নাহশাল এক ব্যক্তির স্ত্রী পলায়ন করিয়া আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং মুতাররিফের কাছে আশ্রয় ৮৭১৭। নিয়াছিল, তাহাকে তাহার নায়লা ইব্‌ন তারীফ স্বামীর কাছে প্রত্যর্পনের শিরোনামে উসদুল গাবা, নির্দেশ এই পত্রে ছিল। ১খ., পৃ. ১০২ আল-আশা আলমাযিনী শিরোনামে, মুসনাদ আহমদ, ২খ., পৃ. ২০২।
৮. ছুমামা ইব্‌ন আছাল তিনি ইসলাম গ্রহণের পর উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. আল-হানাফী যখন মক্কাবাসীদের খাদ্যের ২৭৪; ইস্তী'আব, ইসাবার সরবরাহ বন্ধ করিয়া দেন পাদটীকায়, ২খ., পৃ. ১০৭; তখন তাহারা রাসূলুল্লাহ মুসনাদে আহমদ, ১খ., পৃ. -এর দয়া-দাক্ষিণ্য ২৪৭। কামনা করিয়া হুমামাকে তাঁহার উক্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আদেশ দিতে অনুরোধ জানায়। সেমতে দয়ার নবী হুমামাকে এই পত্রে নির্দেশ দেন।
৯. হাওশাব যী যুলায়ম, ইনি জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ উহার আল-ইস্তী'আব, ১খ., পৃ. ছিলেন তুখিয়্যা বাহক ছিলেন। তিনি, ৩৯১; উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. আল-হিময়ারীর পুত্র, তিনি যুলকিলা, ফীরূয দায়লামী ৬৩; কানযুল উম্মাল, ১খ., আল-আলবানী নামে এবং তাঁহাদের অনুসারিগণ ২৯৬ অভিহিত হইতেন। তিনি যাহাতে আসওয়াদ আনাসীকে এবং যুল-কিলা' তাঁহাদের হত্যার ব্যাপারে তাঁহাকে সম্প্রদায়ের প্রধান দুই সাহায্য-সহযোগিতা করেন নেতারূপে বিবেচিত পত্রে এই নির্দেশ প্রদত্ত হয়। হইতেন।
১০. ফুল কিলা আল-হিময়ারী অভিশপ্ত ভণ্ডনবী আসওয়াদ আল-ইস্তী'আব, ১খ., পৃ. আনাসীর হত্যা সংক্রান্ত ৩৯১; উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ১৪৩; তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৬৬।
১১. দাহ্হাক ইব্‌ন সুফ্যান আশয়াম আদ-দাবাবী-এর আল-ইসবা, ১খ., জীবনী নং আল-কিলাবী, ইনি ছিলেন স্ত্রীকে তাঁহার স্বামীর রক্তপণ ২০৭। আশয়াম শিরোনামে তদীয় গোত্রের মধ্যকার প্রদানের আদেশ। ও জীবনী নং ১১১, আস'আদ ইসলাম প্রচারকারীদের ইবন যুরারা আল খাযরাযী রাসূল নিযুক্ত আল-আনসারী শিরোনামে; আমীর। উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ৩৬; দাহহাক শিরোনামে, ঐ, ১খ., পৃ. ৯৯ এবং ২খ., পৃ. ২০১; সুনanুল কুবরা (বায়হাকীকৃত), ৮খ., পৃ. ৫৭ ও ১৩৪।
১২. তাইফবাসিগণ বাজরা হইতে প্রস্তুতকৃত রস আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং (সদ) হারাম হওয়া সংক্রান্ত ১৯৩; আসীদ আল-জু'ফী শিরোনামে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাতিবীন বা সচিবমণ্ডলী

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাতিবীন বা সচিবমণ্ডলী


১৩. বনূ জুহায়না, বনূ কুদা'আর একটি উপশাখা গোত্র
১৪. আবূ নুখায়লা আল-লাহাবী ও আবূ রুহায়মা আস-সাম'ঈ
১৫. বনূ সুলায়ম ও বনূ সাদাকা বা যাকাত সংক্রান্ত। জুহায়নার দুই ব্যক্তি
১৬. আবূ শাহ অথবা শাহ আল-ইয়ামানী; ইবনুল আছীর ও ইন্ন হাজারের মতে আবু শাহ-ই বিশুদ্ধ। কেহ তাঁহাকে কালবী আবার অন্য কেহ তাঁহাকে কায়সী বলিয়াছেন। সায়কের সাহাযার্থে যাহারা ইয়ামানে আসিয়াছিলেন তিনি তাহাদেরই অধস্তন পুরুষ ছিলেন।
১৭. 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন কুদামা আস-সা'দী মতান্তরে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন ওকদান, মতান্তরে 'আমর ইব্‌ন ওকদান, ইবনুল আছীর, এই শেষোক্ত নামই সঠিক বলিয়াছেন। ইব্‌ন মান্দা তাঁহাকে ইব্‌ন কুদামা নামে অভিহিত করিয়াছেন।
মৃত জন্তুর চর্ম ও রগ হইতে কোন উপকার না নেওয়া সংক্রান্ত আদেশ যাহা রাসূলুল্লাহ তাঁহার ইন্তিকালের ১মাস আগে প্রেরণ করিয়াছিলেন।
যে যাহা পায় উহা তাহারই, খনিজ সম্পদ বা গুপ্তধনের এক পঞ্চমাংশ এবং যাকাত প্রতি চল্লিশ দীনারে এক দীনার এই বক্তব্য সম্বলিত পত্র।
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কায় খুৎবা দিতে গিয়া মক্কার হুরমত বর্ণনা করিলেন এবং বলিলেন কেহ যেন মক্কায় শিকারের জন্য ওঁৎ না পাতে এবং মক্কাভূমির কোন গাছ না কাটে তখন আবূ শাহ উহা তাঁহার জন্য লিপিবদ্ধ করিয়া দিতে অনুরোধ করেন। সে মতে এই লিপিখানা লিখিত হয়।
উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ২৬৬; ঐ, ৫খ., পৃ. ৩৫৪; সুনanুল কুবরা (বায়হাকী কৃত), ১০খ., পৃ. ১২৮; মুসনাদে আহমাদ, ৪খ., পৃ. ৩১০; কানযুল উম্মাল, ৮খ., পৃ. ৫০। উসদুল গাবা, ৫খ., পৃ. ১৯৮ ও ৩১২; আল-ইসাবা, ৪খ., জীবনী নং ১১৫৬। উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ২৩৭; সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩খ., পৃ. ৩২৬। উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ৩৮৪ ঐ, ৫খ., পৃ. ২২৪; আল-ইসাবা, ৪খ., জীবনী নং ৬০৬। ঐ, ২খ., জীবনী-৩৮২৭। আল-ইস্তীআব, ৪খ., পৃ. ১০৬। সুনানুল কুবরা (বায়হাকীকৃত) ৮খ., পৃ. ৫২; মুসনাদে আহমাদ, ২খ., পৃ. ২৩৮; মসীহ মুসলিম, ৪খ., পৃ. ১১০। উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ২৪৩; আবদুল্লাহ ইব্‌ন কুদামা শিরোনামে। ঐ, পৃ. ১৭৫; আবদুল্লাহ ইব্‌ সাদী শিরোনামে।
১৮. মক্কাবাসিগণ
একই বিক্রীতে একাধিক শর্ত সুনানুল কুবরা, ১০খ., পৃ. আরোপের অবৈধতা এবং ৩২৪; কানযুল উম্মাল, ২খ., মুকাতাব গোলাম চুক্তিকৃত পৃ. ২২৯। পূর্ণ অর্থ প্রদানের পূর্বে মুক্ত হয় না মর্মে বক্তব্য।
১৯. নাজাশী, আবিসিনিয়া আবূ সুফ্যান তনয়া উম্মে বিস্তারিত আলোচনা পরে অধিপতি হাবীবার বিবাহ সংক্রান্ত। আসিতেছে।
২০. মক্কাবাসিগণের প্রতি ৩ মজুসী বা অগ্নি উপাসকদের আল-কাফী, যাকাত অধ্যায়, বার জিযয়া দানের প্রস্তাব পৃ. ৫৬৮ (হরফে মুদ্রিত); প্রত্যাখ্যান করিয়া রাসূলুল্লাহ আত-তাহযীব, ১খ., পৃ. ২৪৯ (স)-এর বক্তব্য কিতাবীদের (লিথো মুদ্রণ); ব্যতীত অন্যদের জিযয়া আত-তাযকিরা, জিহাদ গ্রহণযোগ্য নয়- এই অধ্যায় বক্তব্যের জবাবে মজুসীরা যখন এই মর্মে আপত্তি উত্থাপন করে যে, আপনি হিজর এলাকার মজুসীদের জিযয়া গ্রহণ করিয়াছেন, তখন এই প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পত্র।
২১. খালিদ ইব্‌দুল ওয়ালীদ মজুসীদের রক্তপণ সংক্রান্ত আত-তাহযীব, ২খ., পৃ. (রা) খালিদের প্রশ্নের জবাব। ৪৪২ (লিথো মুদ্রণ); ইহাতে রাসূলুল্লাহ মানলা ইয়াহযুরুহুল ফাকীহ, জানান যে, তাহাদের রক্তপণ পৃ. ৫০২ (তৃতীয় হাদীছ)। য়াহুদী ও খৃস্টানদের মতই।
২২. নাজরানবাসী আরব ও আসওয়াদ আনাসীর ফিৎনা তাবারী, ২খ., পৃ. ৪৬৭; তথাকার বহিরাগত প্রসঙ্গ। কানযুল উম্মাল, ৫খ., পৃ. অনারবগণ ৩২৬।
২৩. আবূ জা'ফার (কে এই সাদাকা কানযুল উম্মাল, ২খ., পৃ. আবূ জা'ফ্র তাহা কানযুল ২২২। উম্মালের সঙ্কলক পরিষ্কার উল্লেখ করেন নাই)
২৪. নাজরানবাসিগণ সুদভিত্তিক ক্রয়বিক্রয়কারীর কানযুল উম্মাল, ২খ., পৃ. বিরুদ্ধে সতর্কবাণী ২৩৪।
২৫. সালিম ইব্‌ন কিদলানিস বৃষ্টি ও নদী সিঞ্চিত ভূমির কানযুল উম্মাল, ৩খ., পৃ. ওয়াল-মুসআবীন যাকাত এক-দশমাংশ (ওশর) ৩০৭। এবং ডোল বা বালতি সিঞ্চিত (ইব্‌ন জারীরের বরাতে) জমির যাকাত অর্ধ্ব উশর এবং গরুর যাকাত উটের মতই
২৬. উম্মাল বা প্রশাসকবর্গ রাসূলুল্লাহ-এর দরবারে কোন আন-নাসসু ওয়াল ইজতিহাদ দূত প্রেরণকালে যাহাদের নাম লি-আল্লামা সায়্যিদ ও চেহারা উত্তম তাহাদেরকে শারফুদ্দীন, পৃ. ১৭৭। যেন প্রেরণ করা হয়। (মালিক ও বাযযাযের তাঁহার পক্ষ হইতে মদীনায় বরাতে)। ২৭. আবিসিনিয়া-রাজ নাজাশী প্রত্যাবর্তনকারী মুসলমান- বিশদ আলোচনা পরে দেরকে সাজ-সরঞ্জাম আসিতেছে। প্রদান।
২৮. খায়বারবাসিগণ আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাহল নামক সহীহ মুসলিম, ৫খ., পৃ. যে সাহাবী তাহাদের জলাশয়ে ১০০; সুনানুল কুবরা নিহত হইয়াছিলেন তাঁহার (বায়হাকী কৃত), ৮খ., পৃ. রক্তপণ দাবি। ১৭৭।
২৯. আবদুল্লাহ ইব্‌ন জাহশ একটি অভিযানে প্রাপককে আস-সুনানুল কুবরা, ৯খ., পৃ. (রা) আমীর নিযুক্ত করিয়া এই পত্র ১২ ও ৫৮। দিয়া রাসূলুল্লাহ বলিয়া দিয়াছিলেন যে, নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছিবার পূর্বে যেন পত্রখানা খোলা বা পড়া না হয়।
৩০. বনূ তাগলিবের খৃস্টানগণ তাহারা যেন তাহাদের সন্তান- সুনানুল কুবরা, ৯খ., পৃ. দেরকে খৃস্টান না বানায় এই ২১৭। মর্মে লিখিত।
৩১. জুরাশবাসিগণ, জুরাশ খেজুরের সাথে কিশমিশ সহীহ মুসলিম, ৬খ., পৃ. ৯২; ইয়ামানের একটি প্রদেশ, মিশাইতে বারণ। মুসনাদ আহমাদ, ১খ., পৃ. নবী কারীম -এর ২২২৪। যুগেই সন্ধিসূত্রে বিজিত হয়।
৩২. সা'দ হুযায়ম (কুদাআ কোন ধরনের মালে কি আত-তাবাকাতুল কুবরা, গোত্রীয়) ও জুযাম উভয়কে পরিমাণ সাদাকা ফরয হয় ১খ., পৃ. ৩৬৮। অভিন্ন পত্র তাহার বিবরণ।
৩৩. রাফে' ইব্‌ন খাদীজের একদা মারওয়ান খুৎবা দিতে মাকাতীবুর রাসূল, ১খ., নিকট রক্ষিত রাসূলুল্লাহ গিয়া মক্কার হারাম হওয়ার পৃ. ৫৮। -এর পত্র। কথা বর্ণনা করিলে রাফে' ইবন খাদীজ (রা) দাঁড়াইয়া বলিলেন, মক্কা হারম হইলে মদীনাও হারাম, স্বয়ং নবী কারীম উহাকে হারাম ঘোষণা করিয়াছেন। আমার নিকট খাওলানী চর্মগাত্রে লিখিত তাঁহার এই মর্মের পত্র সংরক্ষিত রহিয়াছে।
৩৪. 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আমর ইহা একটি দু'আ যাহা মুসনাদ আহমাদ, ২খ., পৃ. ইবনুল 'আস (রা) রাসূলুল্লাহ-এর মুখে ১৯৬। শ্রবণ করিয়া তিনি লিখিয়া রাখিয়াছিলেন। তিনি বলেন, ইহা রাসূলুল্লাহ আমার জন্য লিখাইয়া ছিলেন- যাহা আমি প্রায়ই দেখিয়া থাকি। তিনি যাহা নবী দরবারে মুসনাদ আহমাদ, ২খ., পৃ. শুনিতেন তাহা লিখিয়া ১৬২। রাখিতেন।
৩৫. আবদুর রহমান ইব্‌ন প্রাপকের একটি পত্রের কানযুল উম্মাল, ৫খ., পৃ. 'আওফ (রা) জবাবে এই পত্রখানা ৩১৮। লিখিত হইয়াছিল, যাহাতে রাসূলুল্লাহ তাঁহাকে আসবাগ- তনয়া তামাদিরকে বিবাহ করিতে নির্দেশ দিয়াছিলেন।
৩৬. বনূ 'আবদুল মুত্তালিব ইবন নবী কারীম-এর ফুতুহুল বুলদান, পৃ.৪১। 'আব্দ মানাফ খায়বার হইতে প্রাপ্ত সম্পদ হইতে তাহাদেরকে আপ্যায়নের কথা।
৩৭. আব্বাস ইব্‌ন আবদুল আব্বাস (রা) যখন মদীনায় কানযুল উম্মাল, ৭খ., মুত্তালিব। হিজরতের অনুমতি প্রার্থনা পৃ. ৬৯ (তাবারানী ও আবূ
নূর আযানের পক্ষ হইতে)
৩৮. যিয়াদ ইবনুল হারিছ। করিয়া রাসূলুল্লাহ-এর নিকট পত্র দেন তাহার জবাবে এই পত্রখানা লিখিত।
৩৯. মুসলমানদের প্রতি দশম প্রাপকের সম্প্রদায়ের সাদা- কানযুল উম্মাল, ৭খ., পৃ. হিজরীতে লিখিত পত্র। কাত যাকাত ৩৮। হজ্জের সামর্থ্য রাখেন এমন আল-ওয়াসাইল, ২খ., সকলকে রাসূলুল্লাহ কিতাবুল হজ্জ, হজ্জের -এর সাথে হজ্জে যোগদানের প্রকারভেদের বর্ণনায় আহবান কাফী-এর বরাতে।
৪০. আমর ইবন হাযম, তখন কুরবানী দিতে ত্বরা করা এবং তারতীব মুসনাদ ইমাম তিনি নাজরানে ছিলেন। ইফতারে দেরী করা সংক্রান্ত শাফিঈ, ১খ., পৃ. ১৫২। এবং মানুষকে উপদেশ দেওয়ার নির্দেশ।
৪১. আয়লার রাশ ইবনুল উলামা প্রাপকের পত্রের জবাবে সহীহ মুসলিম, ৬খ., পৃ. লিখিত। ৬১।
রাসূলুল্লাহ্ -এর কাতিবীন বা সচিবমণ্ডলী আজ হইতে দেড় হাজার বৎসর পূর্বের বিশ্বে বিশেষত আরবে লেখাপড়ার প্রচলন যে কত সীমিত ছিল তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। মক্কায় যখন ইসলাম প্রচার শুরু হয় তখন মক্কায় মাত্র সতের ব্যক্তি লিখিতে সমর্থ ছিলেন। ৩৪
রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর মাক্কী জীবনে (৬২২ খৃ. পর্যন্ত) এই কাতিবদের মুখ্য কাজ ছিল ওহী লিখন। এক বর্ণনামতে, মক্কী জীবনের প্রথম দিকের একজন কাতিব ছিলেন শুরাহবীল ইব্‌ন হাসানা আল-কিন্দী (রা)। ড. হামীদুল্লাহ্ মাজমূ'আতুল ওয়াছাইক গ্রন্থে উদ্ধৃত একটি দলীল (বালাযুরী, ফুতহুল বুলদান, ৩খ., পৃ. ৫৮০, সংখ্যা ১১০৪; নাদরাতুন নাঈম, মহানবীর জীবনী কোষ, ১খ., পৃ. ৩৪০)।
এই কথার বাস্তব প্রমাণ যে, বনূ লাখমদের অন্তর্ভুক্ত ফারীসদের মক্কায় নবী কারীম (স)-এর সহিত সাক্ষাৎকালে তিনি তাহাদেরকে একটি অভয়-পত্র লিখিয়া দিয়াছিলেন। মাক্কী জীবনে আরও যাঁহারা কাতিবের দায়িত্ব পালন করেন তাঁহারা হইতেছেন: (১) শুরাহবীল ইব্‌ন হাসানা (রা) (২) আবদুল্লাহ্ ইবন সা'দ ইব্‌ন আবী সারহ্ (রা) (৩) সা'দ ইব্‌ন আবী সারহ (রা) (৪) আবূ বকর (রা) (৫) উমার (রা)
(৬) উছমান (রা)
(৭) আলী (রা) প্রমুখ সাহাবী। (ড. মুহাম্মাদ ইয়াসীন মাজহার সিদ্দীকী, রাসূল মুহাম্মাদের সরকার কাঠামো, পৃ. ২০৬ ও ২০৭; কাত্তানী, ১খ., পৃ. ১১৮)।
মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর কাতিবদের কাজটি ধর্মীয় প্রকৃতি ছাড়াও রাজনৈতিক রূপ পরিগ্রহ করে। চতুর্দশ শতকের একজন লেখক আল-কালকাশান্দী দীওয়ানুল ইন্‌শা' (পত্র যোগাযোগ বিভাগ)-এর আদি উৎস নির্দেশ করিতে গিয়া বলেন, এটাই প্রথম দীওয়ান যাহার গোড়াপত্তন করিয়াছেন স্বয়ং নবী কারীম। তবে ঐ সময় এই বিভাগটি এই নামে পরিচিত ছিল না। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে তিনি তাঁহার সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, গভর্নরগণ ও প্রশাসকবৃন্দের সহিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাঁহাদেরকে নির্দেশ জ্ঞাত করার উদ্দেশ্যে তাঁহাদেরকে পত্র লিখিতেন এবং কর্মকর্তাগণও তাঁহার সমীপে পত্র লিখিতেন। অনুরূপভাবে তিনি বিভিন্ন শাসক ও আমীরগণের নিকটও বেশ কিছু পত্র প্রেরণ করেন। ইয়াহুদী, খৃস্টান ও মুশরিক আরবদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করিয়া তিনি কিছু সংখ্যক চুক্তিও সম্পাদন করিয়াছিলেন। এতদভিন্ন বেশ কিছু ব্যক্তি ও গোত্রের নিকট নবী কর্তৃক নিয়োগ দানকারী পত্র প্রেরিত হইয়াছিল। বহু ব্যক্তির নিকট ইক্কা' বা ভূমির বরাদ্দপত্রও তিনি পাঠাইয়াছিলেন। এইসব দলীল-পত্রের বিষয়াদি এমন এক বিভাগ কর্তৃক আনজাম দেওয়া হইত, যাহা পরবর্তী পর্যায়ে খলীফা যুগে পূর্ণাঙ্গ একটি দীওয়ানুল ইনশা' বা নথিপত্র বিভাগে উন্নীত হইয়াছে এবং স্বাভাবিকভাবেই এই ক্ষেত্রে লেখক সেবাদানের প্রয়োজন হইয়াছে। (প্রাগুক্ত, পৃ. ২০৬-২০৭; কাত্তানী ১খ., পৃ. ১১৮, দলীল নং ৪৩, ৪৩-৪৪)।
মদীনায় কাতিবের দায়িত্ব পালন করিতেন : ১. উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) ২. যায়দ ইব্‌ন ছাবিত এবং (পরবর্তী পর্যায়) ৩. মু'আবিয়া ইব্‌ন আবী সুফ্যান (রা)
ঐ তিনজন ছিলেন নবী কারীম-এর স্থায়ী কাতিব। এই তিনজনের মধ্যে আবার উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) ছিলেন প্রধান কাতিব। তিনি উপস্থিত থাকিলে অন্য কেহ লেখার অনুমতি পাইতেন না। তাঁহার অবর্তমানে যায়দ ইব্‌ন ছাবিত ওহী লিখিতেন। আল-হুরায়নী, নাওয়াবী, ইব্‌ন আবদুল বার ও বুখারীর মত পরবর্তী পর্যায়ের মুহাদ্দিছগণ একমত যে, হিজরতের পর যায়দ ইব্‌ন ছাবিত (রা) সকল অবস্থায় নবী কারীম-এর সাহচর্যে থাকিতেন এবং এই কারণেই যে কোন লোকের তুলনায় তিনি বিভিন্ন পত্র, দলীল ও ওহী লেখার অধিকতর সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর মু'আবিয়া (রা) এমনি ধৈর্য ও অধ্যবসায় সহকারে নবী কারীম-এর সঙ্গে সঙ্গে থাকিতেন যে, ওহী লেখার প্রশ্নে অন্য কেহই তাঁহার সমতুল্য ছিলেন না (বালাযুরী, আনসাবুল আশরাফ, ১খ., পৃ. ৫৩১)।
উসদুল গাবা ও তাবারীতে এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। ড. মুহাম্মাদ ইয়াসীন মাজহার সিদ্দীকী বলেন, আনসাব আল-আশরাফের প্রথম খণ্ডে বর্ণিত একটি কৌতূহল-উদ্দীপক ঘটনা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, মু'আবিয়া (রা) সর্বাধিক বিশ্বস্ত ও স্থায়ী একজন কাতিব ছিলেন। আল-ইসাবায় আল-মাদাইনীর বরাতে উক্ত হইয়াছে:

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00