📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্রাবলীর শ্রেণীবিভাগ

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্রাবলীর শ্রেণীবিভাগ


রাসূলুল্লাহ-এর পত্রাবলীর শ্রেণীবিভাগ রাসূলুল্লাহ্ (স) যেহেতু ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রেরিত হইয়াছিলেন, তাই তাঁহার প্রতিটি কাজকর্ম সেই উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হইত। তাঁহার পত্রাবলী হইতেছে তাঁহার প্রচার-অভিযানের উন্নততর ও দালীলিক নমুনা। এই পত্রাবলীকে আমরা মোটামুটি এইভাবে ভাগ করিতে পারি।
১। অমুসলিম রাজ-রাজড়াদের নামে লিখিত তাঁহার পত্রাবলী। ২। বিভিন্ন গোত্রের বা গোত্রপতিদের উদ্দেশ্যে লিখিত পত্রাবলী। ৩। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গোত্রের সহিত সম্পাদিত তাঁহার চুক্তিনামা। ৪। বিভিন্ন এলাকায় প্রেরিত তাঁহার সেনাপতি ও প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্রাবলী। ৫। ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন জনের নামে প্রেরিত তাঁহার পত্রাবলী। ৬। বিভিন্ন জনকে জায়গীর বা জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত তাঁহার পক্ষ হইত লিখিত বরাদ্দপত্র এবং অভয়নামা ইত্যাদি।
বলা বাহুল্য, উক্ত পত্রগুলির মধ্যে সমসাময়িক অমুসলিম রাজ-রাজড়ার নামে প্রেরিত তাঁহার পত্রগুলি যেমন সর্বাধিক গুরুত্ববহ, তেমনি এইগুলির আলোচনাও সর্বস্তরে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।
কালক্রমিকভাবে রাসূলুল্লাহ্-এর মদীনায় হিজরতের অব্যবহিত পরে সেখানকার ইয়াহূদীদেরসহ আশেপাশের গোত্রসমূহের সহিত সম্পাদিত তাঁহার চুক্তিপত্র, যাহা ইতিহাসে মদীনা সনদ নামে বিখ্যাত, সর্ব প্রথমে আলোচিত হওয়ার কথা থাকিলেও তাহার ছয়, সাত বৎসর পরে তদানীন্তন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুই পরাশক্তি বায়যান্টাইন সাম্রাজ্য ও পারসিক সাম্রাজ্যের দুই সম্রাটসহ বিভিন্ন দেশের রাজ-রাজড়ার নামে প্রেরিত পত্রগুলির কথাই আমরা সর্বাগ্রে আলোচনা করিব।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রাজ-রাজড়ার নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র প্রেরণের পটভূমি

📄 রাজ-রাজড়ার নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র প্রেরণের পটভূমি


হিজরী ষষ্ঠ সালের শেষদিকের কথা। নবৃওয়াতের দায়িত্ব লাভের পর মক্কায় দীর্ঘ তের বৎসরের নির্যাতিত জীবন এবং মদীনার ছয় বৎসরের যুদ্ধ-বিগ্রহ ভারাক্রান্ত জীবন অতিবাহিত করিবার পর হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুষ্ঠিত হওয়ায় আল্লাহর রাসূল এই প্রথমবারের মত একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস গ্রহণের সুযোগ লাভ করিলেন। সাহাবীগণ তাঁহার অমূল্য উপদেশবাণী শ্রবণের উদ্দেশ্যে চতুর্দিক হইতে আসিয়া তাঁহার দরবারে ভিড় জমাইতে লাগিলেন। সাধারণত ফজরের সালাতের জামা'আতের পর কিছুক্ষণ আল্লাহর ধ্যান ও তাসবীহ পাঠে অতিবাহিত করার পরই নবী
কারীম তাঁহার সাহাবীগণের কুশলাদি জানিতে চাহিতেন। তাঁহাদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনিবার পর বিগত রাত্রে কেহ কোন স্বপ্ন দেখিয়া থাকিলে তিনি তাহার ব্যাখ্যা দিতেন। কাহারও কোন সমস্যা থাকিলে তিনি উহা সমাধানের চেষ্টা করিতেন।
এক শুভ প্রভাতে আল্লাহ্ নবী তাঁহার ভক্তবৃন্দকে নসীহত করিয়া বলিলেন: আল্লাহ তা'আলা আমাকে গোটা মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করিয়াছেন। আমি বিশ্বজগতের নবীস্বরূপ প্রেরিত হইয়াছি। সুতরাং আমি সারা বিশ্বের রাজ-রাজড়াদের নিকট আল্লাহর পয়গাম পৌছাইয়া দিতে আগ্রহী যাহাতে কাল কিয়ামতে কেহ এই কথা বলিতে না পারে যে, আমি তো এই ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলাম; আর যাহাতে মানবজাতির কোন একটি বর্ণ বা গোত্রও তাহার স্রষ্টার পয়গাম হইতে বঞ্চিত না থাকে।
সপ্তম হিজরীর মুহাররাম মাসের প্রথম দিকের এক সুপ্রভাতে মহানবী তাঁহার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী ফজরের জামাআতের পর সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেনঃ "বহুল প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্তটি আসিয়া গিয়াছে। আমি তোমাদেরকে ইসলামের বার্তাসমূহসহ রাজা-বাদশাহদের দরবারে পাঠাইতে মনস্থ করিয়াছি। শোন, তোমাদেরকে সত্যের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে আত্মনিয়োগ করিতে হইবে। জান্নাত ঐ সমস্ত লোকদের জন্য হারাম করিয়া দেওয়া হইয়াছে যাহারা কেবল পার্থিব প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে লোকসমাজে মেলামেশা করে, কিন্তু তাহাদেরকে সত্যের পথে আহ্বান করে না। যাও, আল্লাহর উপর ভরসা করিয়া রাজা-বাদশাহদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছাইয়া দাও।”
ইবন হিশাম জনৈক বিশ্বস্ত ব্যক্তির বরাতে আবূ বকর আল-হুযালী সূত্রে ইহা বর্ণনা করেন।
সাহাবী ইব্‌ন মাখরামা কর্তৃক বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলেন: "আল্লাহ আমাকে সারা জাহানের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ প্রেরণ করিয়াছেন। আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমার পক্ষ হইতে তোমাদেরকেও দায়িত্ব পালন করিতে হইবে। এই ব্যাপারে তোমরা যেন 'ঈসা (আ)-এর সহচরগণের মত আচরণ না কর। তিনি যখন তাহাদেরকে দীনের দাওয়াত পৌঁছাইবার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করিতে চাহিলেন তখন যাহাদেরকে তিনি নিকটবর্তী অঞ্চলে প্রেরণ করিতে চাহিলেন তাহারা তাহাতে সম্মত হইল, কিন্তু যাহাদেরকে তিনি দূরবর্তী অঞ্চলে প্রেরণ করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন তাহারা তাহাতে কুণ্ঠা ও অনীহা প্রকাশ করিল। হযরত 'ঈসা (আ) তাহাদেরকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে এই দায়িত্ব পালন করাইয়াই ছাড়িবেন। সুতরাং তোমাদেরকে অবশ্যই এই দায়িত্ব পালন করিতে হইবে।
"তিনি এই ব্যাপারে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করিলেন। ফলে রাতারাতি তাহাদের মুখের বুলি পরিবর্তিত হইয়া গেল। যাহাকে তিনি যেই দেশে প্রেরণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়াছিলেন তাহার মুখে সেই দেশের ভাষাই ফুটিয়া উঠিল। রাসূলুল্লাহ্-এর সাহাবীগণ তখন আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা আপনার অর্পিত সকল দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। যেখানে ইচ্ছা আপনি আমাদেরকে প্রেরণ করুন। (সীরাতে ইব্‌ন হিশাম, ৪খ., পৃ.

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 এক নজরে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইসলাম প্রচারমূলক পত্রসমূহ যেগুলির পূর্ণ পাঠ অজ্ঞাত

📄 এক নজরে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইসলাম প্রচারমূলক পত্রসমূহ যেগুলির পূর্ণ পাঠ অজ্ঞাত


২৭৮, বাংলাভাষায় সীরাতুন্নবী, ২খ., পৃ. ২৭৪ ই.ফা. প্রকাশিত; শারহুশ-শিফা, মোল্লা আলী কারী, ১খ., পৃ. ৬৪১; সীরাতে হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ২৭২; কানযুল 'উম্মাল, ৫খ., পৃ.৩২৬-৩২৭; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৫৫৯; মাকাতীবু'র-রাসূল, 'আলী ইব্‌ন হুসায়ন 'আলী আল-আহমাদী, ১খ., পৃ. ৩১ (বৈরূত)।
ক্রমিক নং এবং প্রাপক ১. সাম'আন ইব্‌ন 'আমর আল-কিলাবী
২. ওয়ারদ ইব্‌ন মিরদাস বনূসা'দ হাযীম-এর সর্দার
৩. হাদারামাওতের সর্দারবৃন্দ
৪ ও ৫. দুইটি জনপদ
৬. বনূ হারিছা ইব্‌ন আমর ইন কুরায়যা
পত্রবাহক ও প্রতিক্রিয়া 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন আওসায়া (রা), প্রথমে সে ঈমান আনে নাই বরং পত্রখানা ছিঁড়িয়া ফেলে। তবে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করিয়া নবী দরবারে হাযির হয়।
পত্রখানা একটি খর্জুর শাখায় লিখিত ছিল-যাহা প্রাপক ভাঙ্গিয়া ফেলে। তবে পরে সেও ইসলাম গ্রহণ কারিয়াছিল।
মসরূক ইব্‌ন ওয়ায়েল অথবা মাসউদ ইব্‌ন ওয়ায়েল (রা)।
আবদুল্লাহ্ ইবন রাবী'আ আন-নুমায়রী, ইবন হাজার নাম উল্লেখ ও স্থান নির্ধারণ ব্যতিরেকে এই দুইখানা পত্রের উল্লেখ করিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইব্‌ন আওসাজা আল-কারনী আল-বাজালী। তাহারা চর্মগাত্রে লিখিত
বিবরণের উৎস গ্রন্থাদি আল-ইসাবা, ২খ., নং ৩৪৮৩; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮০।
আল-ইসাবা, ২খ., পূর্বোক্ত সাম'আনের বিবরণে।
আল-ইসাবা, ২খ., নং ৪১৭০; দাহ্হাক ইব্‌ন নু'মানের বর্ণনায়; ঐ, ৩খ., মাসউদ ইব্‌ন ওয়ায়েলের বর্ণনায়, নং ৭৯৬০; উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৩৬০।
আল-ইসাবা, ২খ., নং ৪৬৬৯।
আল-ইসাবা, ২খ., জীবনী নং ৪৮৭০; উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ২৩৯; মু'জামু কাবাইলিল
পত্রের পাঠ ধুইয়া ফেলিয়া আরাব, পৃ. ৮৩১। দিয়া মশকের তালিতে ঐ চামড়া ব্যবহার করে। বিবরণ শ্রবণে রাসূলুল্লাহ বলিয়াছিলেন, আল্লাহ তাহাদের বিবেককে লোপ করিয়া দিয়াছেন। বলা বাহুল্য, উহারা তাঁহার দাওয়াতে সাড়া দেয় নাই।
৭. আবদুল আযীয ইব্‌ উসুদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ৩৩৯; সায়ফ ইন্ন যী য়াযান, আল-ইসাবা, ২খ., জীবনী নং আবূ নু'আয়মের মতে ৫২৪৪: আবদুল আযীম এই প্রাপক হইতেছেন শিরোনামে। যুর'আ।
৮. আমর ইবন মালিক ইব্‌ন কায়স ইন নি'মত, তিনি নবী আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং উমায়র আল-আহাবী দরবারে উপস্থিত হইয়া ৫৯৫১। আমরের দক্ষ অশ্বারোহী এবং জনবরেণ্য নেতা হওয়ার কথা ব্যক্ত করিলে নবী কারীম তাঁহার নামে পত্র দেন। এই পত্রখানা হিজরতের পূর্বে মক্কা হইতে প্রেরিত হইয়াছিল বলিয়া মনে হয়।
৯. আবদে কিলাবের দুই পুত্র আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং 'আরীব ও হারিছ। ৬৪২৭; উসদুল গাবা, ৩খ., এই দুইজন হিময়ার রাজের পৃ. ৪০৬; ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. পক্ষ হইতে প্রশাসকরূপে ৬২। নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু ইব্‌ন সা'দ তাবাকাত গ্রন্থে ইহাদের নাম মাসরূহ ও নু'আয়ম বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।
১০. ফাহদ ইঁহারা হিময়ারের বিভিন্ন আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং ১১. যুর'আ শাখাগোত্রের সর্দার ছিলেন ৭০৩১; আত-তাবাকাতুল ১২. বাস/বিস যাহাদের বর্ণনা বিস্তারিতভাবে কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮৩।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জায়গীর বা ভূ-সম্পত্তি বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রাদি

📄 জায়গীর বা ভূ-সম্পত্তি বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রাদি


১৩. আল-বুহায়রী ১৪. আবদে কুলাল ১৫. রাবী'আ ১৬. হিজ্
হিময়ার রাজের নিকট প্রদত্ত পত্রের আলোচনায় আসিবে।
১৭. জাফীনা আন্-নাহ্দী আল- সে পত্রের ব্যবহৃত চামড়া উসদুল গাবা, ১খ., পৃ. ২৯১; জুহানী তাহার পানি উত্তোলনের আল-ইস্তিআব, আল-ইসাবার বালতিতে তালিরূপে ব্যবহার পাদটীকারূপে মুদ্রিত, ১খ., করিয়া চরম ঔদ্ধত্যের পরিচয় পৃ. ২৬৩; আল-ইসাবা, ১খ., দেয়। পৃ. ১১৭৫; কানযুল উম্মাল ৭খ., পৃ. ১৯।
১৮. রোম সম্রাট, আল- হারিছ ইবন উমায়র আল- আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং ইসাবায় এই স্থানে 'বুসরার আযাদী, গাস্সানী গভর্নর ১৪৫৯; উসদুল গাবা, ১খ., আমীর' রহিয়াছে। শুরাহবীল পত্রবাহককে হত্যা পৃ. ৩৪২; আল-ইস্তী'আব করে। ইহার পরিণতিতে (ইসাবার পাদটীকায়), ১খ.. জা'ফার ইবন আবূ তালিবের/ পৃ. ৩০৫। যায়দ ইব্‌ন হারিছার নেতৃত্বে নবী করীম (স) মৃতায় তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরেণ করেন।
১৯. 'আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিছ এই পত্র প্রাপ্তির পর তাহাদের আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং আল-আ'রাজ, আবী যুবয়ান গোত্রের কিছু সংখ্যক মক্কায় ১২২৭; জুনদুব ইব্‌ন কা'ব আল-আযদী আল-গামিদী এবং কিছু সংখ্যক মদীনায় আল-আযদী আল-গামিদী নবী কারীম -এর শিরোণামে; আত-তাবাকাতুল দরবারে উপস্থিত হন। কিছু কুরা, ১খ., পৃ. ২৮০। সংখ্যক মক্কায় শব্দের দ্বারা অনুমিত হয় যে, এই পত্রখানা হিজরতের পূর্বেই লিখিত হইয়াছিল।
২০. খিরাশ ইন জাহ্শ সে ক্ষিপ্ত হইয়া পত্রখানা আল-ইসাবা, ১খ., জীবনী নং আল-'আব্‌সী, কোন কোন পোড়াইয়া ফেলে। ২৩৭১ ও ২৭২১ (তাঁহার পুত্র ঐতিহাসিক ইহাকে হিরাশ রিবঈ-এর আলোচনায়)। বলিয়াও লিখিয়াছেন। ইন্ন হাজারের মতে হিরাশই বিশুদ্ধ।
২১. ভারতীয় রাজা সিরবাতিক। হুযাফা ইব্‌ন ইয়ামান, আমর উসদুল গাবা, ২খ., পৃ. ইবনুল 'আস ও উসামা ইব্‌ন ২৬৬।
যায়দ প্রমুখ এ পত্রখানা লইয়া গিয়াছিলেন। তিনি পত্রের আহ্বানে সাড়া দিয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিলেন। তবে এই বর্ণনা দুর্বল ও বিরল। উসদুল গাবা, ৫খ., পৃ. ২০৫।
২২. কায়স ইব্‌ন 'উমার, আবূ যায়দ আল-হামাদানী আল-আরহাবী, ইব্‌ন হাজার এই প্রাপকের নাম আবূ যায়দ আমর ইব্‌ন মালিক বলিয়াছেন— যাহার কথা ক্রমিক নং ৮-এ রহিয়াছে। দ্র. ইসাবা, ৪খ., জীবনী নং ৪৬৮।
২৩. জাবালা ইব্‌ন আয়হাম আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা)। আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৬৫; ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. ৬২। ইব্‌ন নু'মান আল- গাসসানী, অবশ্য ইয়া'কূবী এই পত্র প্রাপকের নাম আয়হাম ইব্‌ নু'মান লিখিয়াছেন।
২৪. কিন্দার বনূ মু'আবিয়া। আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৬৫। ঐ
২৫. হিময়ারের বনূ আমর আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮৪। ঐ
২৬. সামাওয়ার রাজা নাফাছা ইব্‌ন ফারওয়া।
২৭. উযরা-
২৮. যী-আমর এই পত্রখানাও পাতা রহিত খর্জুর শাখায় লিখিত হয়। তাবাকাতুল কুবরার বর্ণনাদৃষ্টে ঐ, ঐ, পৃ. ২৮৩। প্রতীয়মান হয় যে, যিল-কিলা আল-হিময়ারীকে পত্র লেখার সময়ই যী- আমরকে পত্র দেওয়া হইয়াছিল, আর ইনিও ইয়ামানের একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। উসদুল গাবায় ইবনুল আছীর বলেন, ইনিও মুসলিমরূপে একত্রে
যিল-কিলা'র সাথে পত্রবাহক আল-ইস্তীআব, যিল-কিলা' আবদুল্লাহ ইব্‌ন বাজালীর সঙ্গী শিরোনামে। হইয়া নবী দরবারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিয়াছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে নবী কারীম ইন্তিকালের সংবাদ পাইয়া নিরাশ হইয়া ফিরিয়া যান।
২৯. যিল-কিলা' আল-হিময়ারী জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বাজালী ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. ৬২। (রা) ইনি ইসলাম গ্রহণ
৩০. উসায়বখত, বাহরায়নের জনৈক সামন্ত-রাজ করিয়া নবী দরবারের উদ্দেশ্যে বাহকের সাথে রওয়ানা হইয়াছিলেন, বিবরণ এইমাত্র গিয়াছে। মুনযির ইবন সাওয়াকে পত্র লিখার সময় তাহাকেও পত্র লিখা হয়। ইনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূল্লাহ্ -এর সহিত পত্র বিনিময় করেন।
৩১. মাইয, ইহার গোত্র পরিচয় ইনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং বা কোন এলাকার তিনি ৭Forgiving সর্দার ছিলেন তাহার উল্লেখ উসদুল গাবা, ৪খ., পাওয়া যায় না। পৃ. ২৭০; আল-ইস্তী'আব ৩খ., পৃ. ৪১৮।
৩২. বনূ 'আকীল রাসূলুল্লাহ ঝর্ণা ও আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং খর্জুরবীথি সম্বলিত আকীক ৮০১৭; মুতরিফ ইব্‌ন এলাকা জায়গীরস্বরূপ দান উকায়লী-এর আলোচনায়। করেন।
৩৩. মুআবিয়া ইন্ন ছাওর তিনি পত্রের জবাব দেন এবং আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং আল-আমিরী আল- সাদাকাও প্রেরণ করেন। ৮০৬১। বুকায়ী।
৩৪. ওয়ালীদ ইব্‌ন জাবির ইব্‌ন ইনি ইসলাম গ্রহণ করিয়াছেন উসদুল গাবা, ৫খ., পৃ. ৮৫; যালিম আত-তাঈ আল- বলিয়া জবাবী পত্র দেন। আল-ইসাব, এখ., নং বৃহত্তুরী ৯১৪৫; আল-ইস্তী'আব, ৩খ., পৃ. ৬০০।
সী.বি.-১২/১৩
(২) জায়গীর বা ভূ-সম্পত্তি বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রাদি
যেহেতু ইসলামের পক্ষে মন জয়ের উদ্দেশ্যে যাকাত প্রদানের একটি বিধান শরী'আতে রহিয়াছে, তাহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ (স) যাহাদেরকে জমি-জমা বরাদ্দ দিয়াছেন তাহাও ছিল ইসলামের স্বপক্ষে তাহাদের মন জয়ের বা ইসলামের উপর তাহাদেরকে অটল-অবিচল রাখার উদ্দেশ্যে। তাই ঐ জাতীয় পত্রগুলিও প্রকারান্তরে ইসলাম প্রচারমূলক। নিম্নে ঐ জাতীয় পত্রগুলির একটি তালিকা ও ঐগুলির উৎস গ্রন্থাদির বিবরণ প্রদত্ত হইল :
প্রাপক বিষয় বস্তু উৎস গ্রন্থাদী ১. সাম'আন ইব্‌ন আমর আল-ইসাবা, ২খ., পৃ. ৭৯। আল-আসলামী ২. সানবাশ মাকাতীবুর রাসূল (স), ১খ., ৩. আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন কুমামা পৃ. ৪৯ ও ঐ, ৩খ., ৪র্থ ৪. 'আদ ইব্‌ন খালিদ অধ্যায়। ৫. 'আস আল-আদাব

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00