📄 নুবুওয়াতী পত্র
আজ হইতে দেড় হাজার বৎসর পূর্বে অনুন্নত বিশ্বে যখন রাস্তাঘাট ও যানবাহনের তেমন কোন সুবিধা ছিল না, ছিল না কোন প্রচার মাধ্যম, তখন পৃথিবীর দেশে দেশে ছড়াইয়া থাকা জনমানবের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো ছিল এক অকল্পনীয় ব্যাপার। সুতরাং এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য কলম-কালি ও দূতের আশ্রয় গ্রহণ করাই ছিল দওয়াতের অন্যতম প্রধান উৎস।
(১) নবৃওয়াতী পত্র
নবৃওয়াতী পত্র প্রেরণ অভিনব ব্যাপার ছিল না। আল-কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হইয়াছে: قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعَا مِّنَ الرُّسُلِ وَلَا أَدْرِي مَا يُفْعَلُ بِي وَلَا بِكُمْ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ وَمَا أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ. "বল, আমি কোন নূতন রাসূল নহি। আমি জানি না আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী করা হইবে। আমি আমার প্রতি যাহা ওহী হয় কেবল তাহারই অনুসরণ করি। আর আমি তো এক সতর্ককারী মাত্র” (৪৬:৯)।
আল-কুরআনুল কারীমে একটি পত্র প্রেরণের ঘটনা বিবৃত হইয়াছে। তাহা ছিল আল্লাহ্ নবী হযরত সুলায়মান আলায়হিস সালামের পক্ষ হইতে সাবার রাণী বিলকীসের প্রতি প্রেরিত পত্র। পত্রখানি যেমন নবৃওয়াতী দাওয়াতী পত্র ছিল তেমনি উহার প্রাপক ছিলেন একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের শাসক। আল-কুরআনুল কারীমে উহার বর্ণনা আসিয়াছে এইভাবে:
اذْهَبْ بِكِتَابِي هُذَا فَالْقَهُ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانْظُرْ مَاذَا يَرْجِعُوْنَ. قَالَتْ يَأَيُّهَا الْمَلَؤُا إِنِّي أُلْقِيَ إِلَيَّ كِتَابٌ كَرِيمٌ. أَنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الأَ تَعْلُوا عَلَى وَاتُونِي مُسْلِمِينَ. "তুমি যাও আমার এই পত্র লইয়া এবং ইহা তাহাদের নিকট অর্পণ কর; অতঃপর তাহাদের নিকট হইতে সরিয়া থাকিও এবং লক্ষ্য করিও তাহাদের প্রতিক্রিয়া কী! সেই নারী বলিল, হে পারিষদবর্গ! আমাকে এক সম্মানিত পত্র দেওয়া হইয়াছে। ইহা সুলায়মানের নিকট হইতে এবং ইহা এই: দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহ্র নামে, অহমিকাবশে আমাকে অমান্য করিও না এবং আনুগত্য স্বীকার করিয়া আমার নিকট উপস্থিত হও” (২৭ঃ ২৮-৩১)।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্রাবলীর শ্রেণীবিভাগ
রাসূলুল্লাহ-এর পত্রাবলীর শ্রেণীবিভাগ রাসূলুল্লাহ্ (স) যেহেতু ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রেরিত হইয়াছিলেন, তাই তাঁহার প্রতিটি কাজকর্ম সেই উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হইত। তাঁহার পত্রাবলী হইতেছে তাঁহার প্রচার-অভিযানের উন্নততর ও দালীলিক নমুনা। এই পত্রাবলীকে আমরা মোটামুটি এইভাবে ভাগ করিতে পারি।
১। অমুসলিম রাজ-রাজড়াদের নামে লিখিত তাঁহার পত্রাবলী। ২। বিভিন্ন গোত্রের বা গোত্রপতিদের উদ্দেশ্যে লিখিত পত্রাবলী। ৩। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গোত্রের সহিত সম্পাদিত তাঁহার চুক্তিনামা। ৪। বিভিন্ন এলাকায় প্রেরিত তাঁহার সেনাপতি ও প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত পত্রাবলী। ৫। ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন জনের নামে প্রেরিত তাঁহার পত্রাবলী। ৬। বিভিন্ন জনকে জায়গীর বা জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত তাঁহার পক্ষ হইত লিখিত বরাদ্দপত্র এবং অভয়নামা ইত্যাদি।
বলা বাহুল্য, উক্ত পত্রগুলির মধ্যে সমসাময়িক অমুসলিম রাজ-রাজড়ার নামে প্রেরিত তাঁহার পত্রগুলি যেমন সর্বাধিক গুরুত্ববহ, তেমনি এইগুলির আলোচনাও সর্বস্তরে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।
কালক্রমিকভাবে রাসূলুল্লাহ্-এর মদীনায় হিজরতের অব্যবহিত পরে সেখানকার ইয়াহূদীদেরসহ আশেপাশের গোত্রসমূহের সহিত সম্পাদিত তাঁহার চুক্তিপত্র, যাহা ইতিহাসে মদীনা সনদ নামে বিখ্যাত, সর্ব প্রথমে আলোচিত হওয়ার কথা থাকিলেও তাহার ছয়, সাত বৎসর পরে তদানীন্তন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুই পরাশক্তি বায়যান্টাইন সাম্রাজ্য ও পারসিক সাম্রাজ্যের দুই সম্রাটসহ বিভিন্ন দেশের রাজ-রাজড়ার নামে প্রেরিত পত্রগুলির কথাই আমরা সর্বাগ্রে আলোচনা করিব।
📄 রাজ-রাজড়ার নামে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পত্র প্রেরণের পটভূমি
হিজরী ষষ্ঠ সালের শেষদিকের কথা। নবৃওয়াতের দায়িত্ব লাভের পর মক্কায় দীর্ঘ তের বৎসরের নির্যাতিত জীবন এবং মদীনার ছয় বৎসরের যুদ্ধ-বিগ্রহ ভারাক্রান্ত জীবন অতিবাহিত করিবার পর হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুষ্ঠিত হওয়ায় আল্লাহর রাসূল এই প্রথমবারের মত একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস গ্রহণের সুযোগ লাভ করিলেন। সাহাবীগণ তাঁহার অমূল্য উপদেশবাণী শ্রবণের উদ্দেশ্যে চতুর্দিক হইতে আসিয়া তাঁহার দরবারে ভিড় জমাইতে লাগিলেন। সাধারণত ফজরের সালাতের জামা'আতের পর কিছুক্ষণ আল্লাহর ধ্যান ও তাসবীহ পাঠে অতিবাহিত করার পরই নবী
কারীম তাঁহার সাহাবীগণের কুশলাদি জানিতে চাহিতেন। তাঁহাদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনিবার পর বিগত রাত্রে কেহ কোন স্বপ্ন দেখিয়া থাকিলে তিনি তাহার ব্যাখ্যা দিতেন। কাহারও কোন সমস্যা থাকিলে তিনি উহা সমাধানের চেষ্টা করিতেন।
এক শুভ প্রভাতে আল্লাহ্ নবী তাঁহার ভক্তবৃন্দকে নসীহত করিয়া বলিলেন: আল্লাহ তা'আলা আমাকে গোটা মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করিয়াছেন। আমি বিশ্বজগতের নবীস্বরূপ প্রেরিত হইয়াছি। সুতরাং আমি সারা বিশ্বের রাজ-রাজড়াদের নিকট আল্লাহর পয়গাম পৌছাইয়া দিতে আগ্রহী যাহাতে কাল কিয়ামতে কেহ এই কথা বলিতে না পারে যে, আমি তো এই ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলাম; আর যাহাতে মানবজাতির কোন একটি বর্ণ বা গোত্রও তাহার স্রষ্টার পয়গাম হইতে বঞ্চিত না থাকে।
সপ্তম হিজরীর মুহাররাম মাসের প্রথম দিকের এক সুপ্রভাতে মহানবী তাঁহার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী ফজরের জামাআতের পর সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেনঃ "বহুল প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্তটি আসিয়া গিয়াছে। আমি তোমাদেরকে ইসলামের বার্তাসমূহসহ রাজা-বাদশাহদের দরবারে পাঠাইতে মনস্থ করিয়াছি। শোন, তোমাদেরকে সত্যের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে আত্মনিয়োগ করিতে হইবে। জান্নাত ঐ সমস্ত লোকদের জন্য হারাম করিয়া দেওয়া হইয়াছে যাহারা কেবল পার্থিব প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে লোকসমাজে মেলামেশা করে, কিন্তু তাহাদেরকে সত্যের পথে আহ্বান করে না। যাও, আল্লাহর উপর ভরসা করিয়া রাজা-বাদশাহদের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছাইয়া দাও।”
ইবন হিশাম জনৈক বিশ্বস্ত ব্যক্তির বরাতে আবূ বকর আল-হুযালী সূত্রে ইহা বর্ণনা করেন।
সাহাবী ইব্ন মাখরামা কর্তৃক বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলেন: "আল্লাহ আমাকে সারা জাহানের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ প্রেরণ করিয়াছেন। আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমার পক্ষ হইতে তোমাদেরকেও দায়িত্ব পালন করিতে হইবে। এই ব্যাপারে তোমরা যেন 'ঈসা (আ)-এর সহচরগণের মত আচরণ না কর। তিনি যখন তাহাদেরকে দীনের দাওয়াত পৌঁছাইবার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করিতে চাহিলেন তখন যাহাদেরকে তিনি নিকটবর্তী অঞ্চলে প্রেরণ করিতে চাহিলেন তাহারা তাহাতে সম্মত হইল, কিন্তু যাহাদেরকে তিনি দূরবর্তী অঞ্চলে প্রেরণ করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন তাহারা তাহাতে কুণ্ঠা ও অনীহা প্রকাশ করিল। হযরত 'ঈসা (আ) তাহাদেরকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে এই দায়িত্ব পালন করাইয়াই ছাড়িবেন। সুতরাং তোমাদেরকে অবশ্যই এই দায়িত্ব পালন করিতে হইবে।
"তিনি এই ব্যাপারে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করিলেন। ফলে রাতারাতি তাহাদের মুখের বুলি পরিবর্তিত হইয়া গেল। যাহাকে তিনি যেই দেশে প্রেরণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়াছিলেন তাহার মুখে সেই দেশের ভাষাই ফুটিয়া উঠিল। রাসূলুল্লাহ্-এর সাহাবীগণ তখন আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা আপনার অর্পিত সকল দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। যেখানে ইচ্ছা আপনি আমাদেরকে প্রেরণ করুন। (সীরাতে ইব্ন হিশাম, ৪খ., পৃ.
📄 এক নজরে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইসলাম প্রচারমূলক পত্রসমূহ যেগুলির পূর্ণ পাঠ অজ্ঞাত
২৭৮, বাংলাভাষায় সীরাতুন্নবী, ২খ., পৃ. ২৭৪ ই.ফা. প্রকাশিত; শারহুশ-শিফা, মোল্লা আলী কারী, ১খ., পৃ. ৬৪১; সীরাতে হালাবিয়া, ৩খ., পৃ. ২৭২; কানযুল 'উম্মাল, ৫খ., পৃ.৩২৬-৩২৭; তাবারী, ৩খ., পৃ. ১৫৫৯; মাকাতীবু'র-রাসূল, 'আলী ইব্ন হুসায়ন 'আলী আল-আহমাদী, ১খ., পৃ. ৩১ (বৈরূত)।
ক্রমিক নং এবং প্রাপক ১. সাম'আন ইব্ন 'আমর আল-কিলাবী
২. ওয়ারদ ইব্ন মিরদাস বনূসা'দ হাযীম-এর সর্দার
৩. হাদারামাওতের সর্দারবৃন্দ
৪ ও ৫. দুইটি জনপদ
৬. বনূ হারিছা ইব্ন আমর ইন কুরায়যা
পত্রবাহক ও প্রতিক্রিয়া 'আবদুল্লাহ ইব্ন আওসায়া (রা), প্রথমে সে ঈমান আনে নাই বরং পত্রখানা ছিঁড়িয়া ফেলে। তবে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করিয়া নবী দরবারে হাযির হয়।
পত্রখানা একটি খর্জুর শাখায় লিখিত ছিল-যাহা প্রাপক ভাঙ্গিয়া ফেলে। তবে পরে সেও ইসলাম গ্রহণ কারিয়াছিল।
মসরূক ইব্ন ওয়ায়েল অথবা মাসউদ ইব্ন ওয়ায়েল (রা)।
আবদুল্লাহ্ ইবন রাবী'আ আন-নুমায়রী, ইবন হাজার নাম উল্লেখ ও স্থান নির্ধারণ ব্যতিরেকে এই দুইখানা পত্রের উল্লেখ করিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইব্ন আওসাজা আল-কারনী আল-বাজালী। তাহারা চর্মগাত্রে লিখিত
বিবরণের উৎস গ্রন্থাদি আল-ইসাবা, ২খ., নং ৩৪৮৩; আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮০।
আল-ইসাবা, ২খ., পূর্বোক্ত সাম'আনের বিবরণে।
আল-ইসাবা, ২খ., নং ৪১৭০; দাহ্হাক ইব্ন নু'মানের বর্ণনায়; ঐ, ৩খ., মাসউদ ইব্ন ওয়ায়েলের বর্ণনায়, নং ৭৯৬০; উসদুল গাবা, ৪খ., পৃ. ৩৬০।
আল-ইসাবা, ২খ., নং ৪৬৬৯।
আল-ইসাবা, ২খ., জীবনী নং ৪৮৭০; উসদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ২৩৯; মু'জামু কাবাইলিল
পত্রের পাঠ ধুইয়া ফেলিয়া আরাব, পৃ. ৮৩১। দিয়া মশকের তালিতে ঐ চামড়া ব্যবহার করে। বিবরণ শ্রবণে রাসূলুল্লাহ বলিয়াছিলেন, আল্লাহ তাহাদের বিবেককে লোপ করিয়া দিয়াছেন। বলা বাহুল্য, উহারা তাঁহার দাওয়াতে সাড়া দেয় নাই।
৭. আবদুল আযীয ইব্ উসুদুল গাবা, ৩খ., পৃ. ৩৩৯; সায়ফ ইন্ন যী য়াযান, আল-ইসাবা, ২খ., জীবনী নং আবূ নু'আয়মের মতে ৫২৪৪: আবদুল আযীম এই প্রাপক হইতেছেন শিরোনামে। যুর'আ।
৮. আমর ইবন মালিক ইব্ন কায়স ইন নি'মত, তিনি নবী আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং উমায়র আল-আহাবী দরবারে উপস্থিত হইয়া ৫৯৫১। আমরের দক্ষ অশ্বারোহী এবং জনবরেণ্য নেতা হওয়ার কথা ব্যক্ত করিলে নবী কারীম তাঁহার নামে পত্র দেন। এই পত্রখানা হিজরতের পূর্বে মক্কা হইতে প্রেরিত হইয়াছিল বলিয়া মনে হয়।
৯. আবদে কিলাবের দুই পুত্র আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং 'আরীব ও হারিছ। ৬৪২৭; উসদুল গাবা, ৩খ., এই দুইজন হিময়ার রাজের পৃ. ৪০৬; ইয়া'কূবী, ২খ., পৃ. পক্ষ হইতে প্রশাসকরূপে ৬২। নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু ইব্ন সা'দ তাবাকাত গ্রন্থে ইহাদের নাম মাসরূহ ও নু'আয়ম বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।
১০. ফাহদ ইঁহারা হিময়ারের বিভিন্ন আল-ইসাবা, ৩খ., জীবনী নং ১১. যুর'আ শাখাগোত্রের সর্দার ছিলেন ৭০৩১; আত-তাবাকাতুল ১২. বাস/বিস যাহাদের বর্ণনা বিস্তারিতভাবে কুবরা, ১খ., পৃ. ২৮৩।