📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বানূ হানীফা গোত্রের ইসলাম গ্রহণ

📄 বানূ হানীফা গোত্রের ইসলাম গ্রহণ


বিজিত হইয়া গিয়াছিল। রাসূলুল্লাহ্ সেইখানে তখনও রহিয়া গিয়াছিলেন। ফলে আশ'আরী গোত্রটি খায়বারেই রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট উপস্থিত হয় এবং তাঁহার নিকট ইসলামের বায়'আত গ্রহণ করে। এই সম্পর্কে সহীহ মুসলিমের বর্ণনাটি নিম্নরূপ:
عن ابي موسى قال بلغنا مخرج رسول الله ﷺ ونحن باليمن فخرجنا مهاجرين اليه انا واخوان لى انا اصغرهما احدهما ابو بردة والآخر ابو رهم اما قال بضعا واما قال ثلاثة وخمسين او اثنين وخمسين رجلا من قومي قال فركبنا سفينة فالقتنا سفينتنا الى النجاشي بالحبشة فوافقنا جعفر بن ابي طالب واصحابه عنده فقال جعفر ان رسول الله ﷺ بعثنا ههنا وامرنا بالاقامة فاقيموا معنا قال فاقمنا معه حتى قدمنا جميعا قال فوافقنا رسول الله ﷺ حين افتتح خیبر..... الى اخره. "আবূ মূসা (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ্-এর হিজরতের কথা পৌঁছিল। আমরা তখন ইয়ামানে ছিলাম। আমি ও আমার বড় দুই ভাই যথাক্রমে আবু বুরদা ও আবূ রুহম হিজরতের উদ্দেশ্যে বাহির হইলাম। আমাদের সহিত ৫৩ সদস্যের বা ৫২ জনের একটি কাফেলা ছিল। আমরা নৌযানে আরোহণ করিয়া রওয়ানা করিলাম। কিন্তু আমাদেরকে নৌযান লইয়া গেল নাজ্জাশীর হাবশায়। সেইখানে আমরা জা'ফার ইবন আবী তালিব (রা) ও তাঁহার সঙ্গীগণের সাক্ষাত লাভ করিলাম। জা'ফার (রা) আমাদিগকে বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ আমাদেরকে এখানে প্রেরণ করিয়াছেন এবং এখানে অবস্থান করিবার নির্দেশ দিয়াছেন। সুতরাং আপনারাও আমাদের সহিত এখানে অবস্থান করুন। আবূ মূসা আশ'আরী (রা) বলেন, তাহার কথায় আমরা সেইখানে অবস্থান করিলাম। অতঃপর সম্মিলিতভাবে সকলেই রাসূলুল্লাহ্ -এর দরবারে উপস্থিত হইলাম। তখন তিনি সবেমাত্র খায়বার বিজয় সম্পন্ন করিয়াছিলেন” (মুসলিম, ২খ., পৃ. ৩০৪)।
দশম হিজরী সনে বানু হানীফা গোত্র রাসূলুল্লাহ্ -এর নিকট আগমন করিয়া ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিল। ইবন ইসহাক বলেন, বানু হানীফা গোত্রের এই প্রতিনিধি দলের সহিত মুসায়লামাতুল কায্যাবও শরীক ছিল। তাহারা মদীনায় আসিয়া আল-হারিছের কন্যা আনসার গোত্রীয় এক মহিলার গৃহে মেহমান হইয়াছিল। বর্ণিত আছে যে, বানু হানীফার এই প্রতিনিধিদল যখন রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট আগমন করে তখন মুসায়লামাতুল কায্যাবকে তাহারা কাপড়ের আচ্ছাদনে ঢাকিয়া রাখিয়াছিল। পরিচয় গোপন রাখিয়া যখন সে দরবারে নবৃওয়াতের নিকটবর্তী হয় তখন রাসূলুল্লাহ্-এর সহিত কথা বলে। তিনি তখন সাহাবায়ে কিরামের এক মজলিসে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁহার হাতে ছিল খেজুরের একটি ডাল। সে তাঁহার নিকট কিছু চাহিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, তোমাকে এই ডালের ছালও দেওয়া যাইবে না। ইন্ন ইসহাক আরও বলেন, আমার নিকট বানু হানীফা গোত্রের এক শায়খ মুসায়লামার এই দলে
শরীক হওয়া সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য প্রদান করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন বানু হানীফা গোত্র যখন রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট আগমন করিয়াছিল তখন তাহাদের সহিত মুসায়লামাতুল কায্যাব ছিল না; বরং সে ছিল প্রতিনিধি দলের জন্য নির্মিত শিবির ও বাহনের দেখা-শোনার কাজে নিয়োজিত। বানু হানীফা গোত্র ইসলাম গ্রহণ করিবার পর তাহারা বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এক সহযাত্রী আমাদের শিবির ও সওয়ার-দেখা শোনার কাজে নিয়োজিত থাকায় আপনার সমীপে উপস্থিত হইতে পারে নাই। রাসূলুল্লাহ্ তখন বলিলেন, তোমাদিগকে যাহা কিছুর আদেশ দেওয়া হইয়াছে উহা তাহার জন্যও প্রযোজ্য হইবে। অতঃপর কাফেলা যখন ইয়ামামায় প্রত্যাবর্তন করিল তখন মুসায়লামা মুরতাদ হইয়া গেল এবং মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করিয়া বসিল।
অতঃপর সে বানু হানীফা হইতে সালাতের বিধান রহিত করিয়া দেয়, মদ পান ও যেনা বৈধ বলিয়া ঘোষণা দেয়। তবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ যে নবী উহা অস্বীকার করে নাই বরং উহার পক্ষে সাক্ষী প্রদান করে (তাবারী, তারীখুল উমাম ওয়াল মুলuk, প্রাগুক্ত, ৩খ., পৃ. ১৩৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 গাসসান গোত্রের ইসলাম গ্রহণ

📄 গাসসান গোত্রের ইসলাম গ্রহণ


আরব খৃস্টানদের একটি গোত্রের নাম ছিল গাস্সান। রোম সম্রাট কায়সারের পক্ষ হইতে উহারা আরবের একটি অঞ্চল শাসন করিত। ১০ম হিজরীর রামাযান মাসে গাসসান গোত্রাধীন তিন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট আগমন করিয়া ইসলাম গ্রহণ করিল। তাঁহারা তাৎক্ষণিকভাবে অবশ্য মন্তব্য করিয়াছিলেন যে, আমাদের গোত্রের অন্যান্যরা ইসলাম গ্রহণ করে কিনা তাহা আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন। উহারা তো বড়ই ক্ষমতা প্রিয় এবং রোম সম্রাট কায়সারের একনিষ্ঠ ভক্ত। সে যাহাই হউক রাসূলুল্লাহ্ তাহাদের প্রতি সাধারণ প্রতিনিধি দলের ন্যায় আচরণ করিয়াছিলেন এবং প্রত্যাবর্তন কালে অন্যান্যদলের মত উপঢৌকন দান করিয়াছিলেন। কিন্তু তাহাদের গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে নাই। তবে তাহারা মনে প্রাণে গোপনে মুসলিম ছিল। দুই জন ঈমান অবস্থাতেই ইনতিকাল করেন। তৃতীয় ব্যক্তি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর শাসন কালীন সময়ে ইয়ারমুকের যুদ্ধে হযরত আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিয়া নিজের ইসলাম গ্রহণ করিবার কথা তাহাকে অবহিত করিলে তিনি তাঁহাকে খুবই সমাদর করেন (দানাপুরী, আসাহহুস সিয়ার, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৪৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সালমান গোত্রে ইসলামের দা'ওয়াত

📄 সালমান গোত্রে ইসলামের দা'ওয়াত


রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট সালামান প্রতিনিধি দল আগমন করিল। তাহারা সাতজন ছিলেন। তাঁহারা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করিলেন। হাবীব ইবন উমার (রা) এই দলের এক সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -কে তখন জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি উত্তর দিলেন, সময় মত সালাত আদায় করা। এই প্রতিনিধিদল সেই দিন রাসূলূল্লাহ্ -এর সহিত জু'হর ও 'আসর এই দুই ওয়াক্তের সালাত আদায় করিয়াছিলেন। এই দুই সালাতের ব্যাপারে হাবীব (রা)-এর অভিমত ছিল যে, তুলনামূলকভাবে জু'হর হইতে আসরের সালাত সংক্ষিপ্ত ছিল। তাঁহারা স্বীয় এলাকায় অনাবৃষ্টির অভিযোগ করিলে রাসূলুল্লাহ্
তাহাদের দেশে বৃষ্টি হওয়ার জন্য দু'আ করিলেন। অতঃপর আমরা সেখানে তিন দিন অবস্থান করিলাম। তিন দিনই আমরা রাসূলুল্লাহ্-এর মেহমান ছিলাম। ফিরিবার সময় বিলাল (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ আমাদের প্রত্যেককে পাঁচ ওকিয়া (পাঁচ আউন্স) রৌপ্য প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তাহার নিকট অন্য কোন সম্পদ না থাকায় ক্ষমা চাহিলেন। আমরা ভাবিলাম যাহা পাইয়াছি তাহা হইতে উত্তম পাওনা আর কি হইতে পারে। ফিরিয়া দেখিলাম বৃষ্টির জন্য যেই দিন রাসূলুল্লাহ্ দু'আ করিয়াছিলেন, সেই দিনই বৃষ্টি হইয়াছিল। উহারা দশম হিজরীর শাওয়াল মাসে আগমন করিয়াছিলেন (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ৪৪৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুহারিব গোত্রের ইসলাম গ্রহণ

📄 মুহারিব গোত্রের ইসলাম গ্রহণ


উহারা আরবের খুবই দুর্ধর্ষ জাতি ছিল। চারিত্রিক দিক দিয়াও তাহারা খুবই নিম্নমানের লোক ছিল। নবৃওয়াত লাভের সূচনাকালে যখন রাসূলুল্লাহ্ আরবের বিভিন্ন গোত্রে গিয়া ইসলামের দাওয়াত দিতেছিলেন তখন এই সম্প্রদায় তাঁহার সহিত খুবই রুঢ় আচরণ করিয়াছিল (আসাহ্হুস সিয়ার, পৃ. ৪৪৪)।
দশম হিজরী সনে বিদায় হজ্জের প্রাক্কালে মুহারিব গোত্রের দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ্-এর নিকট আগমন করিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। এই দলের প্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন সাওয়া ইবনুল হারিছ এবং তদীয় পুত্র খুযায়মা ইন্ন সাওয়া। তাহারা মক্কায় আগমন করিয়া রামলা বিনতুল হারিছের গৃহে অবস্থান করিয়াছিল। তাহাদের নিকট সেখানে সকালে বিকালে খাদ্য পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন বিলাল (রা)। ইসলাম গ্রহণ করিবার পর তাঁহারা বলিয়াছিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! অতীতের দিনগুলিতে আমাদের নিকট আপনার চেহারা হইতে ঘৃণিত অন্য কোন চেহারা ছিলনা। আর এই মুহূর্তে আমাদের নিকট আপনার চেহারা মুবারক হইতে অধিক প্রিয় অন্য কোন চেহারা নাই। এই প্রতিনিধি দলের এক লোককে রাসূলুল্লাহ্ চিনিয়া ফেলিয়াছিলেন। সে তাঁহাকে দেখিয়া বলিল, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাকে এই পর্যন্ত জীবিত রাখিয়াছেন যাহার ফলে আপনাকে সত্য নবী বলিয়া স্বীকার করিয়াছি। তদুত্তরে রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, সকল অন্তরই আল্লাহ্ তা'আলার হাতে। অতঃপর খুযায়মা ইব্‌ন সাওয়া (রা)-এর চেহারায় হাতে বুলাইয়া দিলেন। ফলে তাঁহার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল চকচকে হইয়া গেল (ইব্‌ন কাছীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, প্রগুক্ত ৫খ., পৃ.৭০)।
অপর এক সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ উহাদের একটি লোকের প্রতি গভীর মনোনিবেশের মাধ্যমে তাকাইতেছিলেন। তখন মুহারিব গোত্রের এই লোকটি নিবেদন করিয়া বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! সম্ভবত আমার সম্পর্কে আপনি কিছু একটি ভাবিতেছেন? রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, সম্ভবত আমি তোমাকে পূর্বেই দেখিয়াছি। সে তখন বলিল, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আপনি আমাকে দেখিয়াছেন। আপনার সাথে কথা হইয়াছিল, তখন আপনার সহিত আমি কর্কশ ভাষায় কথা বলিয়াছিলাম। আপনার দা'ওয়াতকে বিদ্রূপ করিয়া প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলাম। আর তাহা ঘটিয়াছিল উকায বাজারে। এই মুহূর্তে আপনি আমার নিকট দুনিয়ার সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তি হিসাবে বিবেচিত (আসাহহুস সিয়ার, পৃ. ৪৪৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00