📄 ৩. লায়ছ গোত্রীয় এক সাহাবীকে বনূ সা'দ-এর নিকট প্রেরণ
আরম্ভ করিলেন। বনূ বাহিলার এক লোক দয়াপরবশ হইয়া তাহাকে এক পেয়ালা দুধ দিল। তিনি বলিলেন, আমার পিপাসা মিটিয়াছে, এখন প্রয়োজন নাই। লোকদের পীড়াপীড়িতে তিনি স্বপ্নের কথা খুলিয়া বলিলেন। ইহা শুনিয়া বনূ বাহিলার সকলে ইসলাম গ্রহণ করিল (হায়াতুস সাহাবা, ১খ., পৃ. ১৭৩)।
আরবের বিখ্যাত কবীলা বনূ সা'দকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ বনূ লায়ছ গোত্রের এক সাহাবীকে প্রেরণ করিলেন। তিনি তথায় পৌঁছিয়া তাহাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তাহাদের সম্মুখে ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা ও সৌন্দর্য তুলিয়া ধরিলেন। বনূ সা'দের নেতা আহনাফ ইবন কায়স বলিলেন, নিঃসন্দেহে আপনি আমাদেরকে ভাল কাজের প্রতি দাওয়াত দিতেছেন এবং তিনি অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ-ও মানুষকে ভাল কাজের আদেশ করিয়া থাকেন (আল-ইসাবা-এর বরাতে, হায়াতুস সাহাবা, ১খ., পৃ. ১৭৫)।
📄 ৪. হযরত আলী (রা)-কে হামাদান গোত্রের নিকট প্রেরণ
ইয়ামানের একটি প্রসিদ্ধ কবীলা হামাদান। তাহাদেরকে ইসলামের দাওয়াত প্রদানের জন্য রাসূলুল্লাহ্ হযরত আলী (রা)-কে প্রেরণ করিলেন। তিনি সেখানে এক কাফেলাসহ পৌঁছিলেন এবং তাহাদের নিকট রাসূলের পয়গাম পৌঁছাইয়া দিলেন। তাহারা সকলেই ইসলাম কবুল করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাহাদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ পাইয়া সিজদায় পতিত হইলেন এবং দু'আ করিলেন, "আস-সালামু 'আলা হামাদান" অর্থাৎ হে আল্লাহ্! হামাদান কবিলার উপর শান্তি বর্ষণ কর (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়ার বরাতে, হায়াতুস সাহাবা, ১খ., পৃ. ১৮০)।
📄 ৫. বনূ 'আদল ও বনূ আল-কারার উদ্দেশ্যে দশজনের দাওয়াতী কাফেলা প্রেরণ
বনূ 'আদল ও বনূ আল-কারার কয়েক ব্যক্তি মদীনায় আসিয়া আরয করিল, আমাদের গোত্রের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। এখন তাহাদের তা'লীম ও তরবিয়তের জন্য কয়েকজন মুবাল্লিগ দিন। রাসূলুল্লাহ্ তাহাদের সহিত দশজন সাহাবীকে প্রেরণ করিলেন। কাফেলাটি যখন আর-রজী' নামক স্থানে পৌছিল, তখন আমন্ত্রণকারী কপট লোকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করিল এবং হুযায়ল গোত্রের এক শত দুর্বৃত্তকে ডাকিয়া তাহাদেরকে আক্রমণ করিল। দুর্বৃত্তদের উদ্দেশ্য ছিল সাহাবীদেরকে বন্দী করিয়া কুরায়শদের নিকট বিক্রি করিয়া অর্থ উপার্জন করা। এই উদ্দেশ্যে তাহারা সাহাবীগণকে আত্মসমর্পণ করিতে বলিল। কিন্তু সাহাবীগণ তাহাদের কুমতলব বুঝিতে পারিলেন এবং আত্মসমর্পণ করিতে অস্বীকার করিলেন। শেয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীরযুদ্ধ হইল। প্রথমে সাতজন ও পরে আরেকজন মোট আটজন সাহাবী শহীদ হইলেন। দুইজন সাহাবী তথা হযরত যুবায়র ও হযরত যায়দ (রা)-কে দুর্বৃত্তরা কুরায়শদের নিকট বিক্রয় করিয়া দেয়। পরে কুরায়শরা তাঁহাদেরকেও শহীদ করিয়া দেয় (বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৮৫)।
📄 ৬. নজদের বনূ 'আমেরের উদ্দেশ্যে সত্তরজনের দাওয়াতী কাফেলা প্রেরণ
নজদবাসী বনু 'আমের গোত্রের 'আমের ইবন মালিক রাসূলুল্লাহ-এর খidমতে হাযির হইয়া বলিল, "হযুর। ইসলাম আমার কাছে বেশ ভাল লাগে। আশা করি আমার গোত্রের লোকদের কাছেও তাহা ভাল লাগিবে। তাই আমার সাথে যদি কিছু মুবাল্লিগ পাঠাইতেন, তবে তাহাদের মুখে ইসলামের কথা শুনিয়া হয়ত তাহারাও ইসলাম গ্রহণ করিতে প্রস্তুত হইত"।
তাহার এই প্রস্তাবে রাসূলুল্লাহ্ কিছুটা দ্বিধাবোধ করিলে আমের বলিল, হুযূর! কোন ভয় নাই। আমি স্বয়ং মুবাল্লিগদের নিরাপত্তার যিম্মা নিতেছি। রাসূলুল্লাহ্ নজদে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও তালীম-তরবিয়তের জন্য আস্হাবে সুফ্ফার সাহাবীদের মধ্য হইতে সত্তরজনকে মনোনীত করিলেন। ইহারা সকলেই ছিলেন কুরআনের কারী ও হাফিয। নজদের পথে যখন তাঁহার বীরে মা'উনা নামক স্থানে পৌঁছিলেন, তখন বনূ 'আমের গোত্রের সর্দার 'আমের তাহার গোত্রকে মুবাল্লিগ সাহাবীদের উপর হামলা করার নির্দেশ দিল। অপ্রস্তুত সাহাবীগণ সাধ্যমত প্রতিরোধ করিলেন এবং মাত্র একজন ছাড়া সকলেই শহীদ হইলেন (ইবন হিশাম, আস্-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ২খ., পৃ. ২৮৭)।