📄 ২. হযরত আবূ উমামা (রা)-কে বনূ বাহিলার নিকট প্রেরণ
রাসূলুল্লাহ্ আরবের বনূ বাহিলাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবূ উমামা (রা)-কে প্রেরণ করিলেন। তিনি বনূ বাহিলার অবস্থানে পৌছিয়া তাহাদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন, কিন্তু তাহারা বারংবার দাওয়াত কবূল করিতে অস্বীকার করিল। এক পর্যায়ে হযরত আবূ উমামা পিপাসায় কাতর হইয়া পড়িলেন, কিন্তু তাহারা তাঁহাকে পানি দিতে পর্যন্ত অস্বীকার করিল। এমতাবস্থায় তাঁহার তন্দ্রা আসিল। তিনি স্বপ্নে দেখিলেন, এক ব্যক্তি একটি সুন্দর কাঁচ পাত্রে অতি সুস্বাদু পানি লইয়া তাহাকে পান করাইতে আসিয়াছে। তিনি তৃপ্তিসহ উহা পান করিলেন। আবু উমামা বলেন, আল্লাহ্র কসম! সেই পানি পান করার পর আর কখনও আমি তৃষ্ণার্ত হই নাই। আবূ উমামা তন্দ্রা হইতে উঠিয়া পুনরায় দাওয়াত দিতে
📄 ৩. লায়ছ গোত্রীয় এক সাহাবীকে বনূ সা'দ-এর নিকট প্রেরণ
আরম্ভ করিলেন। বনূ বাহিলার এক লোক দয়াপরবশ হইয়া তাহাকে এক পেয়ালা দুধ দিল। তিনি বলিলেন, আমার পিপাসা মিটিয়াছে, এখন প্রয়োজন নাই। লোকদের পীড়াপীড়িতে তিনি স্বপ্নের কথা খুলিয়া বলিলেন। ইহা শুনিয়া বনূ বাহিলার সকলে ইসলাম গ্রহণ করিল (হায়াতুস সাহাবা, ১খ., পৃ. ১৭৩)।
আরবের বিখ্যাত কবীলা বনূ সা'দকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ বনূ লায়ছ গোত্রের এক সাহাবীকে প্রেরণ করিলেন। তিনি তথায় পৌঁছিয়া তাহাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তাহাদের সম্মুখে ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা ও সৌন্দর্য তুলিয়া ধরিলেন। বনূ সা'দের নেতা আহনাফ ইবন কায়স বলিলেন, নিঃসন্দেহে আপনি আমাদেরকে ভাল কাজের প্রতি দাওয়াত দিতেছেন এবং তিনি অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ-ও মানুষকে ভাল কাজের আদেশ করিয়া থাকেন (আল-ইসাবা-এর বরাতে, হায়াতুস সাহাবা, ১খ., পৃ. ১৭৫)।
📄 ৪. হযরত আলী (রা)-কে হামাদান গোত্রের নিকট প্রেরণ
ইয়ামানের একটি প্রসিদ্ধ কবীলা হামাদান। তাহাদেরকে ইসলামের দাওয়াত প্রদানের জন্য রাসূলুল্লাহ্ হযরত আলী (রা)-কে প্রেরণ করিলেন। তিনি সেখানে এক কাফেলাসহ পৌঁছিলেন এবং তাহাদের নিকট রাসূলের পয়গাম পৌঁছাইয়া দিলেন। তাহারা সকলেই ইসলাম কবুল করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাহাদের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ পাইয়া সিজদায় পতিত হইলেন এবং দু'আ করিলেন, "আস-সালামু 'আলা হামাদান" অর্থাৎ হে আল্লাহ্! হামাদান কবিলার উপর শান্তি বর্ষণ কর (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়ার বরাতে, হায়াতুস সাহাবা, ১খ., পৃ. ১৮০)।
📄 ৫. বনূ 'আদল ও বনূ আল-কারার উদ্দেশ্যে দশজনের দাওয়াতী কাফেলা প্রেরণ
বনূ 'আদল ও বনূ আল-কারার কয়েক ব্যক্তি মদীনায় আসিয়া আরয করিল, আমাদের গোত্রের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। এখন তাহাদের তা'লীম ও তরবিয়তের জন্য কয়েকজন মুবাল্লিগ দিন। রাসূলুল্লাহ্ তাহাদের সহিত দশজন সাহাবীকে প্রেরণ করিলেন। কাফেলাটি যখন আর-রজী' নামক স্থানে পৌছিল, তখন আমন্ত্রণকারী কপট লোকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করিল এবং হুযায়ল গোত্রের এক শত দুর্বৃত্তকে ডাকিয়া তাহাদেরকে আক্রমণ করিল। দুর্বৃত্তদের উদ্দেশ্য ছিল সাহাবীদেরকে বন্দী করিয়া কুরায়শদের নিকট বিক্রি করিয়া অর্থ উপার্জন করা। এই উদ্দেশ্যে তাহারা সাহাবীগণকে আত্মসমর্পণ করিতে বলিল। কিন্তু সাহাবীগণ তাহাদের কুমতলব বুঝিতে পারিলেন এবং আত্মসমর্পণ করিতে অস্বীকার করিলেন। শেয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীরযুদ্ধ হইল। প্রথমে সাতজন ও পরে আরেকজন মোট আটজন সাহাবী শহীদ হইলেন। দুইজন সাহাবী তথা হযরত যুবায়র ও হযরত যায়দ (রা)-কে দুর্বৃত্তরা কুরায়শদের নিকট বিক্রয় করিয়া দেয়। পরে কুরায়শরা তাঁহাদেরকেও শহীদ করিয়া দেয় (বুখারী, ২খ., পৃ. ৫৮৫)।