📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মদীনাবাসীদের মধ্যে ইসলামের সর্বপ্রথম দাওয়াত

📄 মদীনাবাসীদের মধ্যে ইসলামের সর্বপ্রথম দাওয়াত


পরিণতি প্রত্যক্ষ করিয়া অনুশোচনা করে এবং এই লাঞ্ছনা ও নেতৃত্বহীনতার সংকট হইতে উত্তরণের পথ তালাশ করিতে থাকে (তারীখুল ইয়াহুদ ফী বিলাদিল আরাব, পৃ. ১২৯)।
ইয়াছরিবে যখন এক সময় আওস ও খাযরাজদের প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল, তখন আহলে কিতাব ইয়াহুদীরা এই কথা বলিয়া তাহাদেরকে ভয় দেখাইত, একটু অপেক্ষা কর, একজন নবীর আবির্ভাবের সময় অতি নিকটবর্তী। তোমাদের আগেই আমরা তাঁহার অনুসারী হইব এবং তাঁহার নেতৃত্বে তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করিব (মুল্লা মাজদুদ্দীন, সীরাতে মুসতাফা, পৃ. ৫৭)।
মদীনাবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামের দাওয়াতের সূচনা হয় নবুওয়াতের একাদশ বৎসরে। তবে ইহার পূর্বেও মদীনার বাসিন্দাদের নিকট অনানুষ্ঠানিকভাবে ইসলামের দাওয়াত পেশ করা হয় এবং অন্তত দুইজন মদীনাবাসী ইসলাম গ্রহণ করেন।
১. হযরত আয়াস ইব্‌ন মু'আয : পূর্বেই আলোচিত হইয়াছে যে, ইয়াহুদীদের প্ররোচনায় ইয়াছরিবের আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয় গৃহযুদ্ধে জড়াইয়া পড়িয়াছিল, যাহা ইতিহাসে 'সুমায়র' যুদ্ধ এবং বু'আছ'-এর যুদ্ধ নামে খ্যাত। এই সমস্ত যুদ্ধে আওস ও খাযরাজগণ আরবের অন্যান্য গোত্রগুলিকে নিজ নিজ পক্ষে টানিয়া আনিয়া নিজেদের সমর শক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালাইত। এই সূত্রে হিজরতের পাঁচ বৎসর পূর্বে খাযরাজ গোত্রের নেতা আনাস ইব্‌ন রাফি (আবুল হায়সার) একটি প্রতিনিধিদল লইয়া মক্কায় আগমন করেন। উদ্দেশ্য ছিল মক্কার সর্ববৃহৎ ও শক্তিধর গোত্র 'কুরায়শ'-কে খাযরাজের মিত্র গোত্রে পরিণত করা।
রাসূলুল্লাহ এই খাযরাজ গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন বার্তা শুনিয়া তাহাদের নিকট গমন করিলেন এবং বলিলেন, "আমার নিকট এমন কিছু আছে যাহাতে তোমাদের পরম কল্যাণ হইবে। তোমরা কি তাহা গ্রহণ করিবে”? তাহারা বলিল, তাহা কি? রাসূলুল্লাহ বলিলেন, "আমি আল্লাহ্র রাসূল। আমার প্রতি কিতাব নাযিল হইয়াছে। শিরক পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র আল্লাহ্ ইবাদত করিবার জন্য আমি মানুষকে আহ্বান করি।" অতঃপর তিনি তাহাদেরকে কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করিয়া শুনাইলেন এবং উহার মর্ম বুঝাইয়া দিলেন। রাসূলুল্লাহ -এর বক্তব্য সমাপ্ত হইলে প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য আয়াস ইব্‌ন মু'আয স্বতস্ফূর্তভাবে বলিলেন, "হে ভ্রাতৃগণ! আল্লাহর শপথ করিয়া বলিতেছি, তোমরা যেই উদ্দেশ্যে আসিয়াছ, উহা অপেক্ষা ইহা অনেক উৎকৃষ্ট"। আয়াসের কথা সমাপ্ত হইতেই দলপতি আবুল হায়সার ক্রোধান্বিত হইয়া তাহার মুখমণ্ডলে এক মুষ্টি কংকর নিক্ষেপ করিল এবং বলিল, "বোকা! চুপ থাক, আমরা এই কাজের জন্য এইখানে আসি নাই"। দলপতির বাধার মুখে দলের আর কেহই কোন কথা বলিল না। তবে তাহাদের সকলের অন্তরেই ইসলামের মাধুর্য কিছু না কিছু রেখাপাত করিল। মক্কা হইতে প্রত্যাবর্তনের কিছু দিন পর আয়াস মৃত্যুমুখে পতিত হন। মৃত্যুর সময় তাহার যবান হইতে 'আল্লাহু আকবার' এবং 'লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' ধ্বনি উচ্চারিত হইতেছিল (শিবলী নো'মানী, সীরাতুন নবী, ১খ., পৃ. ২৬১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৩খ., পৃ. ১৪৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মদীনাবাসীদের মধ্যে ইসলামের আনুষ্ঠানিক দাওয়াত

📄 মদীনাবাসীদের মধ্যে ইসলামের আনুষ্ঠানিক দাওয়াত


২. সুওয়ায়দ ইবন সামিত: ইয়াছরিবের আওস গোত্রের বিশিষ্ট কবি সুওয়ায়দ ইব্‌ন সামিত, উচ্চমার্গীয় কাব্যচর্চা, বীরত্ব ও ভদ্রতার জন্য তাহার গোত্রে 'আল-কামিল' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। নবুওয়াতের দশম বৎসর মক্কায় তাহার সহিত রাসূলুল্লাহ-এর সাক্ষাত হইল। রাসূলুল্লাহ তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং ইসলামের মূলনীতিসমূহ তাহার সম্মুখে তুলিয়া ধরেন। সুওয়ায়দ বলিল, হাঁ, বুঝিতে পারিয়াছি, আমি যাহা জানি, আপনিও সম্ভবত তাহা জানেন। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তুমি কি জান? সুওয়ায়দ বলিল, আমি লুকমানের হিকমত জানি। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে উহা আবৃত্তি করিবার নির্দেশ দিলেন। সুওয়ায়দ একটি অতি উচ্চমানের আরবী কবিতা আবৃত্তি করিল। রাসূলুল্লাহ বলিলেন, তোমার কবিতাগুলি বাস্তবিকই অতি উন্নত এবং উত্তম। কিন্তু আমার নিকট যে বাণী আছে তাহা ইহা অপেক্ষা সহস্র গুণে উৎকৃষ্ট। ইহা মানবজাতির জন্য আল্লাহ্র পক্ষ হইতে আমার উপর নাযিলকৃত হিদায়াতের নূর ও আলোকবর্তিকা। এই কালামের সহিত তোমার এই কবিতার কোন তুলনাই হইতে পারে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করিয়া শুনাইলেন। সুওয়ায়দ স্তম্ভিত হইয়া গেল এবং বিনা দ্বিধায় অতি আগ্রহের সহিত ইসলাম গ্রহণ করিল (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা ১খ., পৃ. ৪২৫)।
সুওয়ায়দ (রা) মক্কা হইতে প্রত্যাবর্তন করিবার পর শিরকমুক্ত ঈমানী যিন্দেগী যাপন করিতেছিলেন। রাসূলুল্লাহ-এর মদীনায় হিজরতের পূর্বেই তিনি বু'আছ যুদ্ধে প্রতিপক্ষ খাযরাজদের হাতে নিহত হন। তাহার সম্প্রদায় বলিয়াছে যে, সুয়ায়দ ইসলামে দীক্ষিত অবস্থায় ইন্তিকাল করিয়াছেন (মুহাম্মাদ হোসায়ন হায়কাল, হায়াতে মুহাম্মাদ, ই.ফা.ঝ., ১৯৯৮ খৃ., পৃ. ২৬১)।
হজ্জের মৌসুমে আগত আরবের বিভিন্ন গোত্রের নিকট রাসূলুল্লাহ ইসলামের দাওয়াত পেশ করিতেন এবং তাহাদের নিকট ইসলামের প্রতি সাহায্য-সহায়তার হাত প্রসারিত করিবার জন্য আবেদন জানাইতেন। তিনি তাহাদেরকে সম্বোধন করিয়া বলিতেন, “হে অমুক গোত্র! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ্র রাসূল হিসাবে প্রেরিত হইয়াছি। তিনি তোমাদেরকে একমাত্র তাঁহার ইবাদতের নির্দেশ দিয়াছেন। তিনি তোমাদেরকে তাঁহার সহিত কাহাকেও শরীক করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তোমরা যে সমস্ত বস্তুর পূজা কর উহা বর্জন কর। তোমরা একমাত্র আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন কর এবং ইহার সত্যতা স্বীকার কর। তোমরা আমাকে হেফাজত কর যতক্ষণ না আমি তোমাদের নিকট উহা খোলাখুলি বর্ণনা করি যাহা লইয়া মহান আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন” (আবুল হাসান আলী নদবী, আস-সীরাতু'ন-নাবাবিয়্যা, দারুশ শুরুক, বৈরূত ১৯৮৩ খৃ.)।
নবৃওয়াতের ১১তম বৎসর। হজ্জের মৌসুম। ইয়াছরিবের খাযরাজ গোত্রের একটি কাফেলা কাবাগৃহ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কায় আসিল এবং মীনা পর্বতের মক্কাভিমুখী উপত্যকায় অবস্থিত একটি পাহাড়ী ঘাঁটিতে তাঁবু গাড়িল। স্থানটি ইসলামের ইতিহাসে 'আকাবা' নামে পরিচিত। রাসূলুল্লাহ তাঁহার ইসলামের দাওয়াতী অভিযানের এক পর্যায়ে 'আকাবায় খাযরাজ

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মদীনায় ইসলামের দাওয়াতের ক্রমবিকাশ

📄 মদীনায় ইসলামের দাওয়াতের ক্রমবিকাশ


কাফেলার নিকট উপস্থিত হইলেন। প্রাথমিক পরিচয় ও কুশল বিনিময়ের পর রাসূলুল্লাহ তাহাদেরকে ইসলামের দাওয়াত প্রদান করিলেন এবং পবিত্র কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করিয়া শুনাইলেন। তাহারা অভিভূত হইয়া পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিল, “ইনিই তো সেই নবী, যাহার কথা আমরা সর্বদা ইয়াহুদীদের মুখে শুনিয়া আসিতেছি। ইয়াহুদীরা তাঁহার আগমনের বার্তা শুনিতে পারিলে আমাদের আগে ইসলাম গ্রহণ করিতে পারে। চল, আমরা তাহাদের আগেই এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করি।” এই কথা বলিয়া তাহারা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করিল (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবabিয়্যা, ১খ., পৃ. ২২৮)। এই সৌভাগ্যশালী মহাত্মাদের সংখ্যা ছিল মোট ছয়জন। যথাঃ
১. আবুল হায়সাম মালিক ইব্‌ন তায়্যিহান ২. আবূ উমামা আল'আব্দ ইব্‌ন মুরারা ৩. আওফ ইবনুল হারিছ ৪. রাফি' ইব্‌ন মালিক ৫. কুতবা ইব্‌ন আসির এবং ৬. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইব্‌ন বায়ারাহ।
ইহাদের মধ্যে 'প্রথমোক্ত আবুল হায়সাম ছিলেন আওস গোত্রীয়। বাকী পাঁচজন খাযরাজ গোত্রীয়। তাঁহারা ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ -এর সমীপে নিজেদের (অর্থাৎ আওস ও খাষরাজের) মধ্যে বিরাজমান আত্মকলহ ও বিবাদ-বিসম্বাদের কথা তুলিয়া ধরিলেন এবং এই মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করিলেন, “আমাদের কওমের মধ্যে যে অনৈক্য এবং সংঘাত বিরাজ করিতেছে, আশা করি আপনার মাধ্যমে উহার অবসান ঘটিবে”। আমরা দেশে ফিরিয়া আমাদের কওমকে এই বিষয়টি অবহিত করিব এবং তাহাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিব। আপনিও তাহাদের নিকট সেই সমস্ত জিনিস 'পেশ করুন যাহা আমরা কবুল করিয়াছি। আল্লাহ যদি তাহাদেরকে আপনার অনুসরণের তৌফিক দেন, তাহা হইলে আপনার চেয়ে অধিক সম্মানের অধিকারী আর কেহই হইবে না (ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, ১খ., পৃ. ২২৯)।
ইসলামে দীক্ষিত ইয়াছরিবের ক্রয়জনের হজ্জ কাফেলা মক্কা হইতে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে রাসূলুল্লাহ বিগত দশ বৎসরে যে পরিমাণ কুরআন নাযিল হইয়াছে, উহার একটি কপি লিখাইয়া হযরত রাফি' ইব্‌ন মালিকের হাতে সোপর্দ করেন এবং ইয়াছরিবের নব দীক্ষিত মুসলমানদেরকে উহার তা'লীম দেওয়ার নির্দেশ দেন।
নবদীক্ষিত সাহাবীগণ স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করিয়া নিজেদের ইসলাম গ্রহণের কথা আত্মীয়-স্বজনকে অবহিত করিলেন এবং তাহাদেরকেও ইসলামের দাওয়াত দিলেন। ফলে তাহাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অল্পদিনের মধ্যেই মদীনা ও তৎপার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রত্যেকটি ঘরে ইসলামের চর্চা আরম্ভ হইয়া যায় এবং প্রত্যেক ঘর হইতেই একজন-দুইজন করিয়া ইসলাম গ্রহণ করিতে লাগিল। যাহারাই ইসলাম গ্রহণ করিতেন, হযরত রাফি' ইব্‌ন মালিক (রা) তাহাদেরকে

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মদীনার প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের ইসলাম গ্রহণ

📄 মদীনার প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের ইসলাম গ্রহণ


কুরআনের তা'লীম দিতেন। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তিনি ও তাঁহার সঙ্গীগণ ছিলেন অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ ও নিষ্ঠাবান (শায়খ মুহাম্মাদ খেদরী বেক, নূরুল-য়াকীন, পৃ. ৬৪, শিবলী, সীরাতুন্নবী, ১খ., পৃ. ২৬৩; ইব্‌ন হিশাম, আস-সীরাতুন-নাবাবিয়্যা, ১খ., পৃ. ৪২৯)।
ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণের প্রভাবে মদীনার আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার বিরাজমান অনৈক্য ও যুদ্ধ-ফাসাদের মূলোৎপাটন ঘটিল। তাহাদের মাঝে গড়িয়া উঠিল ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব এবং সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় সুদৃঢ় ঐক্য ও একাত্মতা যাহা আরবে বসবাসকারী অন্যান্য গোত্রগুলিকেও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে (দ্র. আল-কুরআনুল কারীম, সূরা আল 'ইমরান, ১০৩)।
পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ নবুওয়াতের দ্বাদশ বৎসর যখন হজ্জের মৌসুম আসিল, তখন ইতোপূর্বে ইসলাম গ্রহণকারী এবং ইসলাম গ্রহণে আগ্রহীদের সমন্বয়ে একটি "মদীনার হজ্জ কাফেলা" তৈরী হইল। ইহার সদস্য সংখ্যা ছিল মোট বারজন। এই কাফেলার বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, মদীনা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকার প্রত্যেক গোত্র হইতে এক-একজন করিয়া প্রতিনিধি এই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁহারা মক্কায় পৌঁছিয়া মীনা পর্বতের নিকটস্থ উপত্যকার একটি পাহাড়ী ঘাঁটিতে (আকাবায়) অবস্থান করিলেন। রাসূলুল্লাহ তাদের আগমন বার্তা পাইয়া উক্ত 'আকাবায় তাহাদের সহিত সাক্ষাত করিতে আসিলেন। ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে আগত ব্যক্তিগণ রাসূলুল্লাহ-এর হাতে হাত রাখিয়া ইসলাম গ্রহণ করিলেন। তৎপর রাসূলুল্লাহ তাদের সকলের নিকট হইতে বিশেষ কয়েকটি বিষয়ের উপর বিশেষভাবে বায়'আত করাইলেন। এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে 'আকাবার প্রথম বায়'আত' নামে খ্যাত (ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়‍্যা, ১খ., পৃ. ৪৩১)। তাহাদের বায়'আতের বিষয়গুলি ছিল এই:
১. আমরা মহান আল্লাহর সহিত কাহাকেও শরীক করিব না। ২. চুরি করিব না। ৩. ব্যভিচার করিব না। ৪. নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করিব না। ৫. কাহারও প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিব না। ৬. মহান আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল যাহা কিছু সৎকাজের নির্দেশ দেন, উহা অমান্য করিব না (বুখারী, ১খ., পৃ. ৭, ৫৫, ২খ., পৃ. ৭২৭)।
বায়'আত সমাপনান্তে রাসূলুল্লাহ্ বলিলেন, এই সমস্ত শর্ত পূরণ করিলে প্রতিদান হিসাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে বেহেস্ত প্রদান করিবেন, অন্যথায় আল্লাহ যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন এবং যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করিবেন। ইহা সম্পূর্ণই তাঁহার এখতিয়ারাধীন (মুহাম্মদ হায়কাল, হায়াতে মুহাম্মদ, ই. ফা. বা., ১৯৯৮ খৃ., পৃ. ২৬৪)।
এই বায়'আতে অংশগ্রহণকারী বারজনের মধ্যে ছয়জন ছিলেন এমন যাহারা গত বৎসর রাসূলের হাতে ইসলামের দীক্ষা নিয়াছেন। বাকী ছয়জন এই বৎসর নূতন ইসলাম গ্রহণকারী। ইহারা হইলেন: ১. যাকওয়ান ইবন 'আব্দ কায়স; ২. 'উবাদা ইবনুস-সামিত; ৩. আব্বাস ইবনুল উবাদা; ৪. সা'লাবা; ৫. উকবা ইবন 'আমির; ৬. 'উয়ায়স ইবন সাইদা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00