📄 রোগীর নিকট অবস্থান
রোগীর সহিত দেখা-সাক্ষাতের সুন্নাত নিয়ম এই যে، তাহার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করার পর তাহার নিকট বেশিক্ষণ অপেক্ষা করিবে না، যাহাতে রোগীর এবং তাহার পরিবারের লোকজনের কষ্ট না হয় বা তাহারা বিরক্ত না হয়। আনাস (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন: অল্পক্ষণ রোগীর নিকট অবস্থান করিবে। অপর বর্ণনায় আছে، রোগীর সহিত স্বল্পক্ষণ অবস্থান করিয়া উঠিয়া যাওয়া উত্তম" (বায়হাকীর শু'আবুল ঈমান-এর বরাতে মিশকাতুল মাসাবীহ، বঙ্গানু، کتاب الجنارز، باب 'ایادت المال، ৩য় ফাসল، নং ১৫০৪/৬৮)۔
ইবন 'আব্বাস (রা) বলেন، রোগগ্রস্ত ব্যক্তির সহিত দেখা-সাক্ষাতের সুন্নাত নিয়ম হইল، তাহার নিকট অল্প সময় অবস্থান করা এবং তথায় শোরগোল না করা (রাজীন-এর বরাতে মিশকাত، জানা'ইয، باب 'ایادت المال، ৩য় ফাসল، নং ১৫০৩/৬۷)۔
📄 অমুসলিম রোগীর সহিত দেখা-সাক্ষাত
রাসূলুল্লাহ (س) তাঁহার কোন অমুসলিম প্রতিবেশী রোগাক্রান্ত হইলে তাহাকে দেখিতে যাইতেন এবং তাহার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করিতেন। আনাস (را) বলেন، একটি ইয়াহুদী বালক নবী (س)-এর খেদমত করিত। সে অসুস্থ হইয়া পড়িলে নবী (س) তাহাকে দেখিতে আসেন এবং বলেন: তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। অতএব সে ইসলাম গ্রহণ করিল (بخاری، کتاب المرض، باب 'حیادۃ المال، 'مشترک، নং ৫৬৫۷؛ مسند احمد، ۳خ، পৃ. ১৭۵، নং ۱۲۸۲۳، পৃ. ২২۷، নং ۱۳৪০۸)۔
📄 মহিলাদের পুরুষ রোগীর সহিত দেখা-সাক্ষাত
পুরুষগণের মত মহিলাগণও রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখিতে যাইতে পারে، রোগী নারী হউক অথবা পুরুষ। হযরত 'আইশা (را) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س) মদীনায় আগমন করার পর ابূ بكر ও بلال (রা) রোগাক্রান্ত হন। আমি তাহাদের উভয়কে দেখিতে গেলাম এবং জিজ্ঞাসা করিলাম، হে পিতা! আপনি কেমন আছেন এবং হে بلال! আপনি কেমন অনুভব করিতেছেন؟ আমি ফিরিয়া আসিয়া রাসূলুল্লাহ (س)-কে তাহাদের অবস্থা অবহিত করিলাম" (بخاری، کتاب المرض، باب 'ایادتینالینالوراجولاً، নং ۵৬৫۴؛ ابو داؤد، جانا'ইয، باب 'ایادتینالینال، নং ۳۰۹۲؛ مؤطا امام مالک، کتاب الجامع، باب ما جاء فی وباء المدینہ، নং ۱۴؛ مسند احمد، ۶خ، পৃ. ৬৫، নং ۲৪৮۶۴، পৃ. ২۲۱-۲، নং ২৬৩৮۱)۔
📄 সংক্রামক ব্যাধি সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন
কোন কোন রোগ ছোঁয়াছে প্রকৃতির، যেমন কলেরা، বসন্ত، প্লেগ ইত্যাদি মহামারী জাতীয় রোগ। রাসূলুল্লাহ (স) সংক্রামক ব্যাধি তথা মহামারী সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়াছেন। তিনি বলেন: তোমরা কোন এলাকায় মহামারী ছড়াইয়া পড়ার খবর পাইলে তথায় যাইবে না। আবার মহামারী আক্রান্ত এলাকায় তোমরা অবস্থানরত থাকিলে তথা হইতে পলায়ন করিবে না” (بخاری، کتاب الانبیا، باب ۵۴، নং ۳৪৭۳؛ کتاب الطب، باب ما یوفر فی الطاعون، নং ৫۷২৭؛ مسلم، کتاب السلام، باب الطاعون، নং ۵۷৭২/৯২، ৫۷۷۳/৯৩؛ مؤطا امام مالک، کتاب الجامع، باب ما جاء فی الطاعون، নং ২৩)۔
'আবদুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (را) হইতে বর্ণিত। 'উমার ইবনুল খাত্তাব (را) সিরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করিলেন। তিমি 'سارغ' নামক এলাকায় পৌছিলে সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক ابُو 'عبیدہ ابن الجراح (را) سসৈن्ये তাঁহার সহিত সাক্ষাত করিলেন। তাহারা তাঁহাকে অবহিত বরিলেন যে، সিরিয়ায় মহামারী ছড়াইয়া পড়িয়াছে। অতএব তিনি সিরিয়ায় গমন না করিয়া ফিরিয়া আসেন (বিস্তারিত দ্র. بخاری، کتاب الطب، باب ما یذکر فی الطاعون، নং ۵۷۲৯)۔