📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রুগ্ন ব্যক্তির সহিত দেখা-সাক্ষাত ও কুশল বিনিময়

📄 রুগ্ন ব্যক্তির সহিত দেখা-সাক্ষাত ও কুশল বিনিময়


দীন ইসলামে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সহিত দেখা-সাক্ষাত, তাহার সেবা-যত্ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ঔষধপত্র ও পথ্যের ব্যবস্থা করা এবং তাহার রোগমুক্তির জন্য দু'আ করার গুরুত্ব অপরিসীম। এই কাজগুলি রাসূলুল্লাহ (স)-এর আদর্শ নীতির অন্তর্ভুক্ত। শারীরিক, মানসিক, পরিবেশগত অবস্থা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে মানুষ রোগাক্রান্ত হইয়া থাকে। কেহ রোগাক্রান্ত হইলে আল্লাহ তা'আলার নিকট রোগমুক্তি কামনা করা এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা তাহার কর্তব্য। মূলত রোগের নিরাময়কারী হইলেন আল্লাহ তা'আলা। হযরত ইবরাহীম (আ) তাঁহার জাতিকে আল্লাহ তা'আলার মহত্ব ও দয়া-অনুগ্রহ স্মরণ করাইয়া বলেন:
وإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ.
“এবং আমি রোগাক্রান্ত হইলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন” (২৬:৮০)। কোন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হইলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হইতে পরামর্শ দিতেন।
عن اسامة بن شريك قال اتيت النبي ﷺ واصحابه كانما على رؤسهم الطير فسلمت ثم قعدت فجاء الاعراب من ههنا وههنا فقالوا يا رسول الله انتدوى فقال تداووا فان الله تعالى لم يضع داء الا وضع له دواء غير داء واحد الهرم.
"উসামা ইব্‌ন শারীক (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট আসিলাম এবং তাঁহার সাহাবীগণ (এত স্থির ও নীরব ছিলেন) যেন তাহাদের মস্তকে পাখি (বসিয়া আছে)। আমি সালাম দেওয়ার পর বসিয়া পড়িলাম। এদিক-সেদিক হইতে বেদুঈনগণ আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি চিকিৎসা গ্রহণ করিব? তিনি বলেন: তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর। কেননা আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি রোগেরই প্রতিষেধক রাখিয়াছেন، একটি রোগ ব্যতীত অর্থাৎ বার্ধক্য” (আবূ দাউদ، কিতাবুত তিব্ব، বাব আর-রাজুলি ইয়াতাদাওয়া، নং ৩৮৫৫؛ তিরমিযী، আবওয়াবুত তিব্ব، ১ম বাব، নং ১৯৮৮؛ ইবন মাজা، কিতাবুত তিব্ব، ১ম বাব، নং ৩৪৩৬)।
عن أبي هريرة عن النبي ﷺ قال ما انزل الله داء الا انزل له شفاء .
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: আল্লাহ যে রোগই প্রেরণ করিয়াছেন، উহার প্রতিষেধকও প্রেরণ করিয়াছেন" (বুখারী، কিতাবুত তিব্ব، ১ম বাব، নং ৫৬৭৮)।
عن انس ان رسول الله ﷺ قال ان الله عز وجل حيث خلق الداء خلق الدواء فتداووا .
"আনাস (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: নিশ্চয় মহামহিম আল্লাহ যেইখানেই রোগ সৃষ্টি করিয়াছেন উহার প্রতিষেধকও সৃষ্টি করিয়াছেন। অতএব তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর" (মুসনাদ আহমাদ، ৩খ.، পৃ. ১৫৬، নং ১২৬২৪)।
عن أبي الدرداء قال قال رسول الله ﷺ ان الله انزل الداء والدواء وجعل لكل داء دواء فتداووا ولا تتداووا بحرام.
"আবু দারদা (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন: নিশ্চয় আল্লাহ রোগ ও ঔষধ প্রেরণ করিয়াছেন এবং প্রতিটি রোগের প্রতিষেধকেরও ব্যবস্থা করিয়াছেন। অতএব তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর এবং হারাম প্রতিষেধক গ্রহণ করিও না” (আবু দাউদ، কিতাবুত তিব্ব، বাব ফিল আদবিয়াতিল মাকরূহাত، নং ৩৮৭৪)।
عَنْ سَعد قال مرضت مرضا اتاني رسول الله ﷺ يعودني فوضع يده بين ثديي حتى وجدت بردها في فؤادي فقال انك رجل مفوود انتِ الحارث بن كلدة اخا ثقيف فانه رجل يتطيب فلياخذ سبع تمرات من عجوة المدينة فليجاهن بنواهن ثم لِيَلْدُكَ بِهِنَّ .
"সা'দ (রা) বলেন، আমি মারাত্মক অসুস্থ হইলে রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে দেখিতে আসেন। তিনি তাঁহার হাত আমার বুকের উপর রাখিলে আমি উহার শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করিলাম। তিনি বলিলেন: নিশ্চিয় তুমি হৃদরোগী। অতএব তুমি ছাকীফ গোত্রীয় আল-হারিছ ইব্ন কালাদার নিকট যাও। কেননা সে একজন চিকিৎসক। সে যেন মদীনার সাতটি 'আজওয়া খেজুর লইয়া বীচিসহ উহা চূর্ণ করিয়া উহা দ্বারা তোমার জন্য সাতটি বড়ি প্রস্তুত করিয়া দেয়” (আবূ দাউদ، কিতাবুত তিব্ব، বাব ফী তামরাতিল 'আজওয়া، নং ৩৮৭৫)।
উপরিউক্ত হাদীছ হইতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে، রাসূলুল্লাহ (س) সা'দ (রা)-কে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার উপদেশ প্রদান করিয়াছেন। অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (س) অনভিজ্ঞ লোকের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ সম্পর্কে সতর্ক করিয়াছেন। যেমন:
عن عمرو ابن شعيب عن أبيه عن جده قال قال رسول الله ﷺ من تَطَيِّبَ وَلَم يعلم منه طب قبل ذلك فهو ضامن .
"আমর ইব্‌ন শু'আয়ب (রা) হইতে পর্যায়ক্রমে তাহার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন، রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: কোন ব্যক্তি ইতোপূর্বে চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন না করিয়া চিকিৎসা করিলে সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য" (আবূ দাউদ، دیات، باب فیمان تتایاوا والا یالمو...، নং ৪৫৮৬؛ আরও দ্র. নং ৪৫৮৭؛ نسائی، قسامه، নং ৪৮৩৪؛ ابن ماجہ، کتاب الطب، باب من تتایاوا والا یالمو من الطب، নং ۳۴۶۶)۔
উপরিউক্ত হাদীছসমূহের ভিত্তিতে ফকীহগণ বলেন، চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করা মুসলমানদের জন্য ফরযে কিফায়া এবং সমাজে চিকিৎসাকার্য পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক বিদ্যমান থাকিলে অবশিষ্ট সকলে উক্ত ফরযের দায় হইতে অব্যাহতি লাভ করিবে। অন্যথা উক্ত জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে 'আয়ন (অলংঘনীয় কর্তব্য)। কারণ জনসমাজ চিকিৎসা সেবার মুখাপেক্ষী। অতএব চিকিৎসকের পেশা শরী'আতের বিধানমতে একটি বাধ্যতামূলক ও অপরিহার্য পেশা। কোন জনপদে একজন মাত্র চিকিৎসক থাকিলে তাহার জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদান ফরযে 'আয়ন (আত-তাশরী'উল জানাইল ইসলামী، ১খ.، ধারা ৩৬২-৩৬৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রোগ ও রোগীর ফযীলত

📄 রোগ ও রোগীর ফযীলত


রুগ্ন অবস্থায় মুমিন ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল (স) তাহার বিশেষ মর্যাদা উল্লেখ করিয়া এই অবস্থাকে ওজর হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। মহান আল্লাহ তাহাকে বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হইতে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়াছেন। যেমন তাহাকে জিহাদে যোগদান (দ্র. ৪:১০২, ৯:৯১, ২৪:৬১ ও ৪৮:১৭)، সাওম পালন (দ্র. ২:১৮৪-৫) ও রাত্রিকালীন ইবাদতে দণ্ডায়মান হইতে (দ্র. ৭৩:২০) অব্যাহতি প্রদান করা হইয়াছে এবং উযূ বা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করিবার (দ্র. ৪:৪৩, ৫:৬) ও হজ্জের অনুষ্ঠান চলাকালে মস্তক মুণ্ডন করিবার (দ্র. ২: ১৯৬) অবকাশ দেয়া হইয়াছে। রোগ-ব্যাধির কারণে মুমিন ব্যক্তির গুনাহ মাফ হয় এবং তাহার আখিরাতের শাস্তি হ্রাস পায়। এই প্রসঙ্গে হাদীছসমূহ নিম্নরূপ:
عن أبي هريرة عن النبى الله انه عاد مريضا ومعه ابو هريرة من وعك كان به فقال رسول الله ﷺ ابشر فان الله يقول هى نارى اسلطها على عبدي المؤمن في الدنيا لتكون حظه من النار في الآخرة .
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। নবী (س) আবূ হুরায়রা (را)-কে সংগে লইয়া জ্বরাক্রান্ত এক ব্যক্তিকে দেখিতে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (স) রোগীকে বলিলেন: সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা মহান আল্লাহ বলেন، ইহা আমার আগুন যাহা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার উপর চাপাইয়া দেই، যাহাতে ইহা আখিরাতে তাহার প্রাপ্য আগুনের বিকল্প হইয়া যায়” (তিরমিযী، আবওয়াবুত তিব্ব، বাব আল-হুম্মা، নং ৩৪৭০)۔
عن ابي هريرة قال ذكرت الحمى عند رسول الله ﷺ فسبها رجل فقال النبى لا تسبها فانها تنفى الذنوب كما تنفى النار خبث الحديد .
"আবূ হুরায়রা (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট জ্বর সম্পর্কে আলোচনা করা হইলে এক ব্যক্তি জ্বরকে গালি দিল। নবী (س) বলিলেন: জ্বরকে গালি দিও না। কেননা তাহা পাপসমূহ দূর করে، যেমন আগুন লোহার ময়লা দূর করে” (তিরমিযী، আবওয়াবুত তিব্ব، বাব আল-হুম্মা، নং ৩৪৬৯)۔
عن ابي سعيد الخدري قال قال رسول الله ﷺ ما من شئ يصيب المؤمن من نصب ولا حزن ولا وصب حتى الهم يهمه الا يكفر الله به عنه سيئاته.
"আবু সা'ঈদ আল-খুদরী (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন: মু'মিন ব্যক্তির উপর যে দুঃখ-কষ্ট، দুশ্চিন্তা و রোগ، এমনকি মামুলি যে কোন চিন্তাই আসুক না কেন، আল্লাহ তা'আলা উহার বিনিময়ে তাহার পাপসমূহ ক্ষমা করিয়া দেন" (তিরমিযী، আবওয়াবুল জানা'ইয، ১ম বাব، নং ৯০৮)۔
عن أبي موسى قال سمعت النبي غير مرة ولا مرتين يقول اذا كان العبد يعمل عملا صالحا فشغله عنه مرض او سفر كتب له كصالح ما كان يعمل وهو صحيح مقيم .
"আবূ মূসা (রা) বলেন، আমি নবী (س)-কে বহুবার বলিতে শুনিয়াছি: বান্দা কোন সৎকর্ম করিতে থাকিলে، অতঃপর রোগ-ব্যাধি অথবা সফরের কারণে উহা বাধাগ্রস্ত হইলে তথাপি তাহার জন্য সুস্থাবস্থার বা আবাসে অবস্থানকালে তাহার কৃত সৎকাজের সমান সওয়াব লেখা হয়” (আবূ দাউদ، জানা'ইয، ২য় বাব، নং ৩০৯۱)۔ মহানবী (س) আরও বলেন:
إِنَّ الْمُؤْمِن اذا اصابه السقم ثم اعفاه الله منه كان كفارة لما مضى من ذنوبه وموعظة له فيما يستقبل .
"নিশ্চয় কোন মুমিন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হওয়ার পর আল্লাহ তাহাকে উহা হইতে নিষ্কৃতি দিলে তাহা তাহার অতীত পাপরাশির কাফ্ফারা হয় এবং তাহার ভবিষ্যতের জন্য উপদেশ গ্রহণের বিষয় হয়" (আবূ দাউদ، জানা'ইয، ১ম বাব، নং ৩০৮৯)۔
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ من مات مريضا مات شهيدا ووقى فتنة القبر وغدِى وَرِيحَ عليه برزقه من الجنة .
"আবু হুরায়রা (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত অবস্থায় মারা যায়، সে শহীদ হিসাবে মৃত্যুবরণ করে، কবরের বিপর্যয়কর অবস্থা হইতে তাহাকে রক্ষা করা হয় এবং সকাল-সন্ধ্যা জান্নাত হইতে তাহার জন্য খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়" (ইবন মাজা، জানা'ইয، বাব মা জা'আ فیمان مات مریضان، নং ১৬১৫؛ বায়হাকীর শু'আবুল ঈমান)۔
মহামারী বা পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (س) শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।
عن ابي هرريرة أن رسول الله ﷺ قال الشهداء خمس المطعون والمبطون ....... الخ .
"আবু হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: শহীদ পাঁচ প্রকার: মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী، পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী......" (তিরমিযী، জানা'ইয، বাব আশ-শুহাদা، নং ১০০১؛ বুখারী، আযান، বাব ফادলিত তাহজীর ইলায-জুত্র، নং ৬৫৩ ও ৭২০؛ জিহাদ، বাব আশ-শাহাদাতি সাবউন....... নং ২৮২৯؛ মুসলিম، ইমারাহ، বাব বায়ানিশ-শুহাদা، নং ৪৯৪০/১৬৪)۔
"সুলায়মান ইব্‌ন সুরাদ (ر) خالد ইব্‌ن উরফুতা অথবা خالد ইبْن সুলায়মান (را)-কে জিজ্ঞাসা করিলেন، আপনি কি রাসূলুল্লাহ (س)-কে বলিতে শুনিয়ায়েছন: "পেটের পীড়া যাহাকে হত্যা করিয়াছে তাহাকে তাহার কবরে শাস্তি দেওয়া হইবে না"؟ তাহাদের একজন অপরজনকে বলিলেন، হাঁ” (তিরমিযী، জানা'ইয، বাব ঐ، নং ১০০২؛ نسائی، جانا'ইয، বাব মান কাতালাহু بتനുহু، নং ২০৫৪)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রোগযাতনায় মৃত্যু কামনা করা নিষেধ

📄 রোগযাতনায় মৃত্যু কামনা করা নিষেধ


রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হইয়া ধৈর্যহারা হওয়া বা মৃত্যু কামনা করা উচিৎ নয়। মহানবী (س)-এর শিক্ষা অনুযায়ী রোগমুক্তির জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করিতে হইবে এবং তিনি যেসব দু'আ শিক্ষা দিয়াছেন উহার দ্বারা আল্লাহর শরণ লইতে হইবে। সালাত ইত্যাদি দ্বারাও আরোগ্য লাভ করা যায়। "আবূ হুরায়রা (را) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س) হিজরত করিলে "পর আমিও হিজরত করিলাম। আমি সালাত আদায় করার পর তাঁহার নিকট بসিলাম। তিনি আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলেন: তোমার কি পেটে ব্যথা আছে؟ আমি বলিলাম، হাঁ، ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলিলেন: তুমি উঠিয়া সালাত আদায় কর। কারণ সালাতের মধ্যে নিরাময় আছে” (ইবন মাজা، تিব্ব، باب اس-সালাতি শিফাউন، নং ৩৪৫৮؛ مسند احمد، ۲خ، পৃ. ৩৯০، নং ৯০৫৪، পৃ. ৪০৪، নং ৯২২۹)۔
"মহানবী (س) এক রুগ্ন ব্যক্তির খোঁজখবর লইতে গিয়া দেখিলেন যে، সে রোগযাতনায় কাতর হইয়া চড়ুই পাখির বাচ্চার মত ক্ষীণ হইয়া গিয়াছে। তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন: তুমি কি দু'আ কর নাই، তুমি কি তোমার প্রতিপালকের নিকট শান্তি ও স্বস্তি প্রার্থনা কর নাই؟ সে বলিল، আমি বলিয়াছিলাম، হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখিরাতে যে শান্তি দিবে তাহা আগেভাগে পার্থিব জগতেই দাও। মহানবী (س) বলেন: সুবহানাল্লাহ! উহা সহ্য করার মত শক্তি-সামর্থ্য তোমার নাই। তুমি কি এইভাবে বলিতে পারিলে না:
اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
“اے اللہ! تو ہمیں دنیا میں بھی بھلائی عطا فرما، اور آخرت میں بھی بھلائی عطا فرما، اور ہمیں جہنم کے عذاب سے بچا”؟ راوی فرماتے ہیں کہ آپ نے اللہ عزوجل سے اس کے لیے دعا کی تو اللہ عزوجل نے اسے صحت عطا فرمائی (مسند احمد، 321، صفحہ 107، حدیث نمبر 12072، صفحہ 288، حدیث نمبر 14113؛ ترمذی، ابواب الدعوات، باب ما جاء فی عقائد التسبیح بالید، حدیث نمبر 3420؛ مسلم، کتاب الذکر، باب کراہیۃ الدعاء بتعجیل العقوبۃ فی الدنیا، حدیث نمبر 6835/23)۔
"মহানبی (ص) کہتے ہیں: تم میں سے کوئی بھی رنج و غم میں مبتلا ہونے کی وجہ سے موت کی خواہش نہ کرے۔ وہ یوں کہے:
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي.
“اے اللہ! جب تک زندگی میرے لیے بہتر ہو، مجھے زندہ رکھ اور جب موت میرے لیے بہتر ہو تو مجھے موت دے” (ترمذی، جنائز، باب ما جاء فی النھی عن تمنی للموت، حدیث نمبر 913؛ بخاری، مرض، باب تمنی المریض الموت، حدیث نمبر 5671؛ مسلم، کتاب الذکر، حدیث نمبر 10؛ ابو داؤد، جنائز، باب 9؛ مسند احمد، 321، صفحہ 101، حدیث نمبر 12002)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখিতে যাওয়ার ফযীলত

📄 রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখিতে যাওয়ার ফযীলত


রুগ্ন ব্যক্তির সহিত দেখা-সাক্ষাত، তাহার খোঁজ-খবর লওয়া এবং প্রয়োজনে তাহার সেবা-শুশ্রূষা করার গুরুত্ব ও ফযীলাত অপরিসীম। নিম্নোক্ত হাদীছ হইতে ইহার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়:
عن ابي هريرة قال قال رسول الله ﷺ ان الله عز وجل يقول يوم القيامة يا ابن آدم مرضت فلم تعدني قال يا رب كيف أعودك وانت رب العالمين قال اما علمت ان عبدى فلانا مرض فلم تعده اما علمت انك لوعدته لوجدتني عنده .
"আবূ হুরায়রা (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন: মহামহিম আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলিবেন، হে আদম সন্তান! আমি পীড়িত হইয়াছিলাম، কিন্তু তুমি আমাকে সেবা কর নাই। সে বলিবে، হে প্রভু! আমি কিভাবে আপনার সেবা করিতাম، অথচ আপনি তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক! তিনি বলিবেন، তুমি কি জানিতে না যে، আমার অমুক বান্দা রোগাক্রান্ত হইয়াছিল। কিন্তু তুমি তাহার সেবা কর নাই। তুমি কি জানিতে না، তুমি যদি তাহার সেবা করিতে তবে অবশ্যই আমাকে তাহার নিকট পাইতে” (মুসলিম، کتاب البر والسلہ.......، باب فضل عيادۃ المريض، নং ৬৫৫৬/৪৩)۔
মহানবী (স) আরও বলেন، "কোন ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করার পর পুণ্য লাভের আশায় তাহার মুসলিম ভাইয়ের সহিত সাক্ষাত করিতে গেলে তাহাকে জাহান্নাম হইতে সত্তর বৎসরের দূরত্বে রাখা হইবে” (আবূ দাউদ، জানা'ইয، বাব فِی فضل العیاده، নং ۳۰۹۷)۔
মহানবী (س) আরও বলেন: "কোন মুসলিম ব্যক্তি তাহার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখিতে গেলে সে (যতক্ষণ তাহার নিকট অবস্থান করে ততক্ষণ) যেন জান্নাতের ফল আহরণ করিতে থাকে” (তিরমিযী، জানা'ইয، ২য় বাব، নং ৯০৯؛ আরও দ্র. مسلم، ابن ماجہ، مسند احمد)۔
হযرت علی (রা) বলেন، আমি রাসূলুল্লাহ (س)-কে বলিতে শুনিয়াছি: কোন মুসলমান অপর (অসুস্থ) মুসলমানকে দিনের প্রথমভাগে দেখিতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা সন্ধ্যা পর্যন্ত তাহার জন্য দু'আ করিতে থাকে। যদি সে সন্ধ্যাবেলা তাহাকে দেখিতে যায় তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা ভোর পর্যন্ত তাহার জন্য দু'আ করিতে থাকে এবং তাহার জন্য জান্নাতে একটি ফলের বাগান তৈরি হয়” (তিরমিযী، জানা'ইয، ২য় বাব، নং ۹۱۱؛ ابو داؤد، জানা'ইয، ২য় বাব، নং ۳۰۹۸؛ ابن ماجہ، জানা'ইয، ২য় বাব، নং ۱۴৪২)۔
ابو হুরায়রা (را) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س) বলিয়াছেন: "کوئی شخص بیمار شخص کی عیادت کرے تو آسمان سے ایک پکارنے والا اسے پکارتا ہے، تو نے اچھا کام کیا، تیرا راستہ بابرکت ہو اور تو نے جنت میں ایک ٹھکانہ بنا لیا" (ابن ماجہ، جنازے، دوسرا باب، حدیث نمبر 1443)۔

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00