📄 পাখি ও কীট-পতঙ্গ হত্যা প্রসঙ্গ
রাসূলুল্লাহ (স) অকারণে জীব-জন্তু, পশু-পাখী ও কীট-পতঙ্গকে হত্যা করিতে নিষেধ করিয়াছেন। কিন্তু যেইসব প্রাণী মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হইয়া দাঁড়ায় সেইগুলিকে হত্যা করিতে কোন বাধা নাই। রাসূলুল্লাহ (স) ব্যাঙ বধ করিতে বারণ করিয়াছেন, এমনকি চিকিৎসার প্রয়োজনে হইলেও না। গৃহাভ্যন্তরে বসবাসকারী সাপকে হত্যা করিতে রাসূলুল্লাহ (স) নিষেধ করিয়াছেন। কারণ অনেক সময় জিন জাতিও সাপের আকৃতি ধারণ করিয়া মানুষের ঘরে অবস্থান করিয়া থাকে। তিনি বলেন, তোমাদের ঘরে অন্য প্রাণীও থাকে। তিনবার তাহাদের ধমক দিবে। ইহার পরও যদি সেইগুলি স্থান পরিত্যাগ না করে এবং উহাদের পক্ষ হইতে অনিষ্টকর কিছু প্রকাশ পায় তবে হত্যা করিবে। বাসস্থানে কোন সাপ দেখা গেলে তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিবে, আমরা নূহ্ (আ)-এর ওয়াদা ও সুলায়মান (আ)-এর ওয়াদার ওসীলায় তোমাকে বলিতেছি যে, তুমি আমাদের কষ্ট দিও না। ইহার পরও যদি উহা অনিষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয় তবে ইহাকে বধ করিবে। 'যুত্-তুফয়াতায়ন' ও 'আবতার' জাতীয় সাপ-হত্যা করিতে নিষেধ করেন নাই। কেননা এইগুলি চক্ষুর জ্যোতি নষ্ট করে এবং গর্ভপাত ঘটায়।
'যুত্-তুফয়াতায়ন' জাতীয় সর্পের পেটে দুইটি লম্বা সাদা ডোরা থাকে যাহা মাথা হইতে লেজ পর্যন্ত প্রলম্বিত। 'আবতার' লেজকাটা সর্পকে বলা হয় এবং ঐ সমস্ত সর্পকেও 'আবতার' বলা হয় যাহা আকারে খাট। এইসব সাপ অত্যন্ত বিষধর এবং ইহাদের শ্বাস-প্রশ্বাসেও মারাত্মক ধরনের বিষ রহিয়াছে।
হিশামের আযাদকৃত গোলাম আবূ সাইব (রা) বলেন, একদা আমি আবূ সাঈদ খুদরী (রা)-এর নিকট গমন করিলে তিনি তখন সালাত আদায়ে রত ছিলেন। সালাত হইতে অবসর হইবার অপেক্ষায় তিনি বসিয়া রহিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করিলেন তখন তাহার চৌকির নিচে আবূ সাইব (র) সরসর শব্দ শুনিতে পাইলেন। তিনি তাকাইয়া দেখিলেন যে, উহা একটি সর্প। তিনি উহাকে মারিতে উদ্যত হইলেন। আবূ সাঈদ (রা) তাহাকে ইশারা করিয়া বলিলেন, বস, ইহাকে মারিও না। অতঃপর তিনি আবু সাইব (র)-এর দিকে ফিরিয়া ঘরের একটি কামরার দিকে ইশরা করিয়া বলিলেন, ঐ ঘরটি দেখিতেছ? তিনি বলিলেন, হাঁ। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলিলেন, সেই ঘরে জনৈক যুবক বাস করিত, সবেমাত্র বিবাহ করিয়াছিল। সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে পরিখা যুদ্ধে গমন করিয়াছিল। ইহার পর হঠাৎ এক সময় সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটু অনুমতি দান করুন, আমি আমার পরিবারের সঙ্গে একটু কথা বলিয়া আসি। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে অনুমতি দান করিয়া বলিলেন, যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে রাখ। কেননা বনু কুরায়যার পক্ষ হইতে হামলার আশঙ্কা রহিয়াছে। বনূ কুরায়যা সেই ইয়াহুদী গোত্র যাহারা পরিখা যুদ্ধের সময় ওয়াদা ভঙ্গ করিয়া মক্কাবাসীদের সঙ্গে হাত মিলাইয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিল।
যুবকটি অস্ত্রসহ রওয়ানা হইয়া গেল। ঘরে পৌছিয়া সে তাহার স্ত্রীকে ঘরের দুই দরজার মধ্যবর্তী স্থানে দণ্ডায়মান দেখিতে পাইল। স্ত্রীকে এই অবস্থায় দেখিয়া ক্রোধান্বিত হইল এবং বর্শা দিয়া স্ত্রীকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। স্ত্রী বলিল, আমাকে মারিতে এত তাড়াহুড়া করিও না, বরং আগে ঘরের ভিতরে যাইয়া দেখ। অতঃপর সে ঘরের ভিতর গিয়া দেখিল যে, কুণ্ডলী পাকাইয়া একটি সর্প তাহার বিছানায় বসিয়া আছে। সে বর্শা দিয়া সর্পটিকে গাঁথিয়া ফেলিল এবং বর্শাটিকে ঘরে দাঁড় করাইয়া রাখিয়া দিয়া নিজে বাহির হইয়া আসিল। সর্পটি বর্শার ফলায় পেঁচাইতেছিল, আর তখনই যুবকটি মারা গেল। তবে ইহা জানা যায় নাই যে, যুবকটি আগে মারা গেল, না সর্পটি? রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বিবৃত করা হইলে তিনি বলিলেন, মদীনায় জিন জাতিরা ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। অতএব তোমরা যদি সর্প দেখ তবে তিন দিন পর্যন্ত তাহাকে সতর্ক কর। তারপরেও যদি তাহাকে দেখ, তবে হত্যা কর। কেননা সে শয়তান।
পাঁচ প্রকার প্রাণী অত্যন্ত অনিষ্টকারী, ইহাদিগকে হারাম শরীফে হত্যা করিবার অনুমতি রহিয়াছে। কেহ ইহরাম অবস্থায় যদি ইহাদিগকে মারিয়া ফেলে তাহা হইলে কোন গুনাহ হইবে না। এইগুলি হইতেছে বিচ্ছু, ইঁদুর, পাগলা কুকুর, কাক এবং চিল। অনেক সময় ছোট ছোট অনিষ্টকারী ইঁদুর প্রজ্জ্বলিত সলিতাযুক্ত বাতি টানিয়া লইয়া যায় এবং গৃহবাসীকে জ্বালাইয়া-পোড়াইয়া শেষ করিয়া দেয়।
রাসূলুল্লাহ (স) গিরগিটি বা রক্তচোষা জাতীয় টিকটিকি হত্যা করিবার আদেশ দিয়াছেন। ইহা এক প্রকারের বিষাক্ত প্রাণী। রাতের বেলা চুপিসারে উষ্ট্রীর ওলান চুষিয়া দুধ খাইয়া ফেলে। মানুষ দেখিলে উহার মাথার অংশ রক্তিম বর্ণ হইয়া উঠে। সম্ভবত উক্ত কারণেই এই নামকরণ করা হইয়াছে। নমরুদ হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিয়াছিল, এই প্রাণীটি সেই আগুনের দিকে ফুঁক দিয়া ইহাকে আরও উত্তেজনামুখর করার চেষ্টা করিয়াছিল।
আল্লাহ্ নবীদের মধ্যে কোন নবী একদিন একটি বৃক্ষের নিচে অবতরণ করেন। ইহারপর এক পিঁপড়া তাহাকে কামড় দেয়। তাঁহার নির্দেশে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বৃক্ষের নিচ হইতে সরাইয়া ফেলা হয়। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে পিঁপড়ার বাসা আগুন দিয়া জ্বালাইয়া দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁহার প্রতি ওহী নাযিল করিলেন, "তুমি একটিমাত্র পিঁপড়াকে কেন সাজা দিলে না।"
রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: 'তোমাদের কাহারও পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়িলে উহাকে ডুবাইয়া দিবে। কেননা উহার এক ডানায় থাকে জীবানু আর অপর ডানায় থাকে ইহার প্রতিষেধক'। একটি বিড়ালকে বাঁধিয়া রাখিয়া হত্যার কারণে এক নারীকে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে দিয়াছেন। সে বিড়ালটিকে খাবারও দেয় নাই, ছাড়িয়াও দেয় নাই، ছাড়িয়া দিলে হয়ত যমীনের পোকা-মাকড় খাইয়া জীবন ধারণ করিতে পারিত।
একদা রাসূলুল্লাহ (س) সফরে ছিলেন। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে তাঁহার সফরসঙ্গীদের মধ্যে দুই একজন পাখির বাসা হইতে দুইটি চড়ুই পাখির বাচ্চা ধরিয়া আনেন। বাচ্চাদ্বয়ের মা ডানা মেলিয়া উড়িতে থাকে। ঠিক এই সময় রাসূলুল্লাহ (س) ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন: 'এই চড়ুই পাখির বাচ্চা লইয়া কে ইহাকে বিব্রত করিতেছ؟ ইহার বাচ্চা দুইটিকে তোমরা ফিরাইয়া দাও।' ইহার পর তিনি পিঁপড়ার সেই গর্তটি দেখিতে পাইলেন যাহাকে তাঁহারা আগুনে পোড়াইয়া দিয়াছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন، কে ইহাকে পোড়াইয়া দিয়াছে؟ তাঁহারা বলিলেন، আমরা পোড়াইয়াছি। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন:
لا ينبغي لاحد ان يعذب بالنار الا رب النار .
"آگ سے (کسی کو) سزا دینا صرف آگ کے رب کے علاوہ کسی کے لیے جائز نہیں" (صحیح بخاری، 521، صفحہ 413-8؛ جامع ترمذی، 421، صفحہ 117-8؛ سنن ابی داؤد، 421، صفحہ 17؛ 521، صفحہ 663؛ مؤطا امام مالک، 221، صفحہ 701-2؛ مشکات شریف، রাসূলুল্লাহ (ص) চারি প্রকার জীবকে বধ করিতে নিষেধ করিয়াছেন: পিপীলিকা، মৌমাছি، হুদহুদ ও ছুরাদ। পিপীলিকা অর্থে এইখানে লম্বা লম্বা পা-বিশিষ্টগুলিকে বুঝানো হইয়াছে، ইহারা দংশন করে না। মৌমাছি দংশন করিলেও উহার মাধ্যমে মধু ও মোম পাওয়া যায়। কথিত আছে যে، হুদহুদের গোশত দুর্গন্ধময়। আর ছুরাদ এক প্রকার পাখী، গায়ের বর্ণ অর্ধেক সাদা এবং অর্ধেক কাল، অন্যান্য পাখি ধরিয়া খায়। আরবের লোকেরা উহাকে অশুভ লক্ষণ বলিয়া ধারণা করে، হিন্দীতে ইহাকে লটুয়া এবং বাংলায় আঁড়ি কোকিল বলে। 'مجمع البحار' গ্রন্থে উল্লিখিত হইয়াছে যে، এই ছুরাদ পাখি হযরত আদম (ع)-কে শ্রীলংকা হইতে জেদ্দা পর্যন্ত পথ দেখাইয়া আনিয়াছে। আর হুদহুদ পাখি ছিল হযরত সুলায়মান (ع)-এর দূত। তাই এইগুলিকে বধ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে (ایم. افلاطون قیصر، বঙ্গানুবাদ، মেশকাত শরীফ، ৮খ.، পৃ. ১৩৭)۔
📄 প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাণী দ্বারা শিকার
আদী ইব্ন হাতিম (রা) একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শিকারের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছাড়িয়া দেই এবং উহারা শিকার করিয়া আমার জন্য রাখিয়া দেয়। আমি তখন আল্লাহর নাম লই অর্থাৎ 'বিসমিল্লাহ' বলি। এই শিকারকৃত জন্তু আমি খাইতে পারি কি? তিনি বলেন: যখন তুমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহ্ নাম লইয়া ছাড়، তখন তুমি উহা খাইতে পার। আমি বলিলাম، যদি উহারা শিকারকে হত্যা করিয়া ফেলে؟ তিনি বলিলেন: উহারা শিকারকে হত্যা করিলেও। কেননা উহার ধরাটাই (শিকার করাই) ছিল যবেহ। কিন্তু উহার সাথে অন্য কুকুর শামিল হইলে খাইতে পারিবে না। তবে যদি কুকুর তাহা হইতে কিছু অংশ খাইয়া ফেলে তাহা হইলে তুমি উহাও খাইবে না। আর যদি এই শিকারে অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরও যোগ দিয়া থাকে তাহা হইলে তুমি ইহা মোটেও খাইবে না। কেননা তুমি তো কেবল তোমার কুকুর ছাড়িতেই আল্লাহর নাম লইয়াছ (বিস্মিল্লাহ বলিয়াছ)، অন্যটার ব্যাপারে লও নাই। তুমি তো জান না যে، কোন কুকুরটি শিকারকে হত্যা করিয়াছে। অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দিয়া শিকার করিলে যদি তুমি যবেহ করিবার সুযোগ পাও، তবে উহা খাইতে পার।
আমি তাঁহাকে বলিলাম، আমি অনেক সময় শিকারের উদ্দেশ্যে، মিরবাদ (কাঠ বা তীক্ষ্ণ ছড়ি ইত্যাদি) নিক্ষেপ করিয়া থাকি، যদি তাহাতে শিকার কুপোকাৎ হইয়া যায়؟ রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: যখন তুমি 'মিরবাদ নিক্ষেপ কর এবং তাহার সম্মুখের তীক্ষ্ণভাগ প্রবিষ্ট হইয়া শিকার মারা যায় তবে তুমি তাহা খাইতে পার। আর যদি পাশের ভাগ লাগিয়া শিকার মারা যায়، তবে তুমি উহা খাইবে না। যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করিবে তখন আল্লাহর নাম লইবে। যদি তুমি শিকার মৃত অবস্থায় পাও، তবে উহা খাইতে পার؛ যদি তাহা পানিতে পাও তবে খাইবে না। কেননা তুমি তো নিশ্চিতভাবে জান না যে، পানিই উহাকে হত্যা করিল নাকি তোমার তীর। যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করিলে এবং উহা তোমার নিকট হইতে নিরুদ্দেশ হইয়া গেল، ইহার পর তুমি তাহা পাও তবে যতক্ষণ উহা হইতে দুর্গন্ধ বাহির না হইবে ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি উহা খাইতে পার (صحیح مسلم، ۶خ.، পৃ. ۴۰۷-۱۲؛ جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ۱۰۳-۸)۔
📄 পশু যবেহ-এর ক্ষেত্রে নম্রতা অবলম্বন
মনুষ্য খাদ্যের প্রয়োজনে যদি পশু যবেহ করিতে হয়، সেই ক্ষেত্রে পশুর সহিত নম্র ও দয়ার্দ্র আচরণ করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (س) নির্দেশ প্রদান করিয়াছেন। তিনি বলেন، আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের উপর 'ইহসান' অত্যাবশ্যক করিয়াছেন। সুতরাং তোমরা যখন হত্যা করিবে، দয়ার্দ্রতার সহিত হত্যা করিবে؛ আর যখন যবেহ করিবে، দয়ার সহিত যবেহ করিবে। তোমাদের সকলেই যেন তাহায় ছুরি ধার করিয়া লয় এবং যবেহকৃত জন্তুকে আরাম (নিস্তেজ হইতে) দেয়। দাঁত، নখ، ছুরি و পাথর দ্বারা পশু যবেহ করা নিষিদ্ধ। এক কথায়، বিনা প্রয়োজনে পশুকে শারীরিক কষ্ট দেওয়া جائیز নয়। জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন، ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যখন ছাগل যবেহ করি তখন উহার প্রতি আমার দয়া হয়। উত্তরে তিনি বলিলেন، 'তুমি যদি ছাগলের উপর দয়া কর তাহা হইলে আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করিবেন।' যেইসব হালাল পশু আল্লাহর নামে অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলিয়া যবেহ করা হয় নাই তাহা হারাম। দেব-দেবী ও মূর্তির নামে যবেহকৃত জন্তু ভক্ষণ করা ঈমানদারদের জন্য অবৈধ (صحیح بخاری، ۹خ.، পৃ. ১৭২-৬؛ صحیح مسلم، ۶خ.، পৃ. ۴৩৪؛ مسند احمد، ۶خ.، পৃ. ۴۳۶)۔
উপর্যুক্ত আলোচনা হইতে এই কথা স্পষ্টত বুঝা গেল যে، মানুষ، জীব-জন্তু، পশু-পাখি নির্বিশেষে সমস্ত সৃষ্টিজগতের জন্য রাসূলুল্লাহ (س)-এর অন্তর مایا، ममता و অনুকম্পায় পরিপূর্ণ ছিল। গোষ্ঠী، বর্ণ، বংশ، দেশ، কাল، পাত্র و জাতীয়তার ঊর্ধ্বে ছিল তাঁহার দয়া ও মায়া। তাঁহার করুণা و মহানুভবতা সর্বপ্লাবী و সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। পশু-পাখিদের সহিত নির্দয় আচরণের যে পৈশাচিক প্রথা আরবে প্রচলিত ছিল তাঁহার কালজয়ী আদর্শ ও বাস্তব শিক্ষার ফলে উহা সমাজ হইতে নির্মূল হইয়া যায়। জীবজন্তুর সহিত মানবিকতাপূর্ণ ব্যবহারের কেবল নির্দেশ দিয়াই তিনি ক্ষান্ত হন নাই، বরং ব্যবহারিক ক্ষেত্রে আচরণের মাধ্যমে সমাজে অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করিয়াছেন।
রাসূলুল্লাহ (س) অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত ও পশুপাখি যবেহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। ইহার পিছনে যে বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য লুকাইয়া রহিয়াছে তাহা আবিষ্কার করিতে বিজ্ঞানীদের দেড় হাজার বৎসর সময় লাগিয়াছে। বৃটেন، কানাডা و নিউজিল্যান্ডসহ পৃথিবীর ২২টি দেশে গরু و নানা জীবের মধ্যে Bovire Spongiform Eneephalopathy (BSE)، Variant Creutzfeledt Jakob Disease (VCJD)، Transmissible Spongiform Eneephalopathies (TSES) নামক রোগের প্রار্দুভাব দেখা দিয়াছে। এইসব রোগাক্রান্ত পশুর গোশত ভক্ষণ করিলে মানুষের দেহে মারাত্মক উপর্সগের সৃষ্টি হয়؛ মস্কিষ্কে ক্ষতচিহ্ন তৈরী হয়؛ ক্রমে ক্রমে তাহা ছিঁদ হইয়া যায় এবং প্রোটিনের পিণ্ড সৃষ্টি হইয়া মস্কিষ্কে অকেজো হইয়া পড়ে। ইতোমধ্যে বৃটেনে এক লক্ষ আশি হাজার ঘটনা পাওয়া গিয়াছে এবং আগামীতে এক লক্ষ ছত্রিশ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হইয়া পড়িতে পারে বলিয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানিগণ আশংকা প্রকাশ করিয়াছেন। ৮০-এর দশক হইতে মধ্য ৯০-এর দশক এই সময়ে ۱.۹ মিলিয়ন গরু এই রোগের প্রকোপে অসুস্থ হইয়া পড়ে (فضل الحق، দৈনিক আজাদী، চট্টগ্রাম، ۱۱ সেপ্টেম্বর، ۲۰۰۳، পৃ. ۱۰)۔
জীব-জন্তু و পশু-পাখিদের প্রতি সদয় আচরণ، সংরক্ষণ এবং ইহার যুৎসই ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করিয়া মানবতার নবী রাসূলুল্লাহ (س) দেড় হাজার বৎসর আগে যে ঘোষণা দেন তাহারই প্রতিধ্বনি শোনা যায় ১৯৯২ খৃস্টাব্দে রি و డి জেনারিওতে অনুষ্ঠিত প্রথম ধরিত্রী সম্মেলনে।
এই সম্মেলনে The Convention of Biological Diversity (CBD) প্রণীত হয় ও বিকাশ লাভ করে।