📄 চতুষ্পদ প্রাণীকে লা'নত করা নিষিদ্ধ
একদা এক আনসারী মহিলা একটি উষ্ট্রীর উপর আরোহিত ছিলেন এবং তাহার সহিত নিজ গোত্রের কিছু মালামালও ছিল। উষ্ট্রীর আচরণে বিরক্ত হইয়া তিনি উহাকে অভিশাপ (লা'নত) দিলেন। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেনঃ
خذوا ما عليها ودعوها فانها ملعونة لا يكون اللعانون شفعاء وشهداء يوم القيامة .
"تم اس پر سے سب کچھ اتار لو اور اسے خالی کر دو۔ کیونکہ یہ لعنت زدہ ہے۔ لعنت کرنے والے قیامت کے دن نہ شفاعت کرنے والے ہوں گے اور نہ گواہ بن سکیں گے"۔
সাহাবী ইমরান (را) বলেন، میں جیسے وہ اونٹنی ابھی بھی دیکھ رہا ہوں کہ لوگوں کے بیچ میں پھر رہی ہے، لیکن کوئی اس کی طرف دھیان نہیں دے رہا ہے۔ رسول اللہ (ص) نے مرغ کو برا بھلا کہنے سے منع فرمایا ہے۔ کیونکہ وہ نماز کے لیے لوگوں کو جگاتا ہے۔ مرغ فرشتوں کو دیکھ کر آواز دیتا ہے۔ ایک دفعہ رسول اللہ (ص) کے پاس سے ایک گدھا گزرا تو آپ نے دیکھا کہ اس کے منہ پر جلتے ہوئے لوہے کا نشان لگا ہوا ہے۔ آپ نے فرمایا: 'جس نے اس کے منہ پر نشان لگایا، اس پر اللہ کی لعنت ہو۔' کیونکہ جانور کے منہ پر نشان لگانے سے اللہ تعالی کی تخلیق میں بگاڑ پیدا ہوتا ہے۔ گائے، بکری، اونٹ، بھینس، بھیڑ، دنبے وغیرہ میں فرق یا نشان رکھنے کے لیے چہرے کے علاوہ کسی اور جگہ پر نشان لگانا جائز ہے۔ (صحیح مسلم، 821، صفحہ 119-121؛ سنن ابی داؤد، 321، صفحہ 451؛ مشکات شریف، 821، صفحہ 113-4، 134)۔
📄 জন্তু
পাখি ও কীট-পতঙ্গ হত্যা প্রসঙ্গ
রাসূলুল্লাহ (س) অকারণে জীব-জন্তু، পশু-পাখী ও কীট-পতঙ্গকে হত্যা করিতে নিষেধ করিয়াছেন। কিন্তু যেইসব প্রাণী মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হইয়া দাঁড়ায় সেইগুলিকে হত্যা করিতে কোন বাধা নাই। রাসূলুল্লাহ (س) ব্যাঙ বধ করিতে বারণ করিয়াছেন، এমনকি চিকিৎসার প্রয়োজনে হইলেও না। গৃহাভ্যন্তরে বসবাসকারী সাপকে হত্যা করিতে রাসূলুল্লাহ (س) নিষেধ করিয়াছেন। কারণ অনেক সময় জিন জাতিও সাপের আকৃতি ধারণ করিয়া মানুষের ঘরে অবস্থান করিয়া থাকে। তিনি বলেন، তোমাদের ঘরে অন্য প্রাণীও থাকে। তিনবার তাহাদের ধমক দিবে। ইহার পরও যদি সেইগুলি স্থান পরিত্যাগ না করে এবং উহাদের পক্ষ হইতে অনিষ্টকর কিছু প্রকাশ পায় তবে হত্যা করিবে। বাসস্থানে কোন সাপ দেখা গেলে তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিবে، আমরা নূহ্ (ع)-এর ওয়াদা ও সুলায়মান (ع)-এর ওয়াদার ওসীলায় তোমাকে বলিতেছি যে، তুমি আমাদের কষ্ট দিও না। ইহার পরও যদি উহা অনিষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয় তবে ইহাকে বধ করিবে। 'ذات الطفیاطين' ও 'ابتر' জাতীয় সাপ-হত্যা করিতে নিষেধ করেন নাই। কেননা এইগুলি চক্ষুর জ্যোতি নষ্ট করে এবং গর্ভপাত ঘটায়।
'ذات الطفیاطين' জাতীয় সর্পের পেটে দুইটি লম্বা সাদা ডোরা থাকে যাহা মাথা হইতে লেজ পর্যন্ত প্রলম্বিত। 'ابتر' লেজকাটা সর্পকে বলা হয় এবং ঐ সমস্ত সর্পকেও 'ابتر' বলা হয় যাহা আকারে খাট। এইসব সাপ অত্যন্ত বিষধর এবং ইহাদের শ্বাস-প্রশ্বাসেও মারাত্মক ধরনের বিষ রহিয়াছে।
ہشام کے آزاد کردہ غلام ابوسعید (ra) فرماتے ہیں کہ میں ابو سعید خدری (ra) کے پاس گیا تو وہ نماز پڑھ رہے تھے۔ نماز سے فارغ ہونے کا انتظار کرتے ہوئے میں بیٹھ گیا۔ جب وہ نماز سے فارغ ہوئے تو ان کے پلنگ کے نیچے سے ابو سعید (ra) کو سرسراہٹ کی آواز سنائی دی۔ انہوں نے دیکھا کہ یہ ایک سانپ ہے۔ انہوں نے اسے مارنے کا ارادہ کیا۔ ابو سعید (ra) نے اسے اشارہ کر کے کہا کہ بیٹھ جاؤ، اسے مت مارو۔ پھر انہوں نے ابو سعید (ra) کی طرف رخ کر کے گھر کے ایک کمرے کی طرف اشارہ کر کے فرمایا کہ وہ کمرہ دیکھ رہے ہو؟ انہوں نے کہا: ہاں۔ ابو سعید خدری (ra) نے فرمایا: اس گھر میں ایک نوجوان رہتا تھا، جس کی حال ہی میں شادی ہوئی تھی۔ وہ رسول اللہ (ص) کے ساتھ خندق کی جنگ میں گیا تھا۔ اس کے بعد اچانک ایک دن وہ رسول اللہ (ص) کے پاس آیا اور کہا: یا رسول اللہ! مجھے تھوڑی اجازت دیں، میں اپنے گھر والوں سے بات کر کے آتا ہوں۔ رسول اللہ (ص) نے اسے اجازت دی اور فرمایا کہ ہتھیار اپنے ساتھ رکھو۔ کیونکہ بنو قریظہ کی طرف سے حملے کا خدشہ ہے۔ بنو قریظہ وہ یہودی قبیلہ تھا جس نے خندق کی جنگ کے وقت وعدہ توڑ کر مکہ والوں کے ساتھ مل کر مسلمانوں کے خلاف جنگ کی تھی۔
نوجوان ہتھیار سمیت روانہ ہو گیا اور گھر پہنچ کر اس نے اپنی بیوی کو گھر کے دو دروازوں کے بیچ میں کھڑا دیکھا۔ بیوی کو اس حالت میں دیکھ کر وہ غصے میں آ گیا اور نیزے سے بیوی کو قتل کرنے کا ارادہ کیا۔ بیوی نے کہا: مجھے مارنے میں اتنی جلدی مت کرو، بلکہ پہلے گھر کے اندر جا کر دیکھو۔ اس کے بعد وہ گھر کے اندر گیا تو دیکھا کہ اس کے بستر پر ایک سانپ کنڈلی مار کر بیٹھا ہے۔ اس نے نیزے سے سانپ کو گانٹھ دیا اور نیزے کو گھر میں کھڑا کر کے خود باہر آ گیا۔ سانپ نیزے کی نوک پر لپٹا ہوا تھا، اور اسی وقت نوجوان مر گیا۔ لیکن یہ معلوم نہیں ہو سکا کہ نوجوان پہلے مرا یا سانپ؟ رسول اللہ (ص) کے پاس جب یہ واقعہ بیان کیا گیا تو آپ نے فرمایا کہ مدینہ میں جنات اسلام قبول کر چکے ہیں۔ لہذا اگر تم کوئی سانپ دیکھو تو تین دن تک اسے خبردار کرو۔ اس کے بعد بھی اگر اسے دیکھو تو اسے قتل کر دو۔ کیونکہ وہ شیطان ہے۔
پانچ قسم کے جانور انتہائی نقصان دہ ہیں، انہیں حرم شریف میں قتل کرنے کی اجازت ہے۔ اگر کوئی احرام کی حالت میں انہیں مار دے تو کوئی گناہ نہیں ہو گا۔ یہ ہیں: بچھو، چوہا، پاگل کتا، کوا اور چیل۔ کبھی کبھی چھوٹے چھوٹے نقصان دہ چوہے جلتی ہوئی شمع کو کھینچ کر لے جاتے ہیں اور گھر والوں کو جلا کر بھسم کر دیتے ہیں۔
رسول اللہ (ص) نے گرگٹ یا خون چوسنے والے چھپکلی کو قتل کرنے کا حکم دیا ہے۔ یہ ایک قسم کا زہریلا جانور ہے۔ رات کو خاموشی سے اونٹنی کے تھن سے دودھ چوس لیتا ہے۔ انسان کو دیکھتے ہی اس کے سر کا حصہ سرخ ہو جاتا ہے۔ شاید اسی وجہ سے یہ نام رکھا گیا ہے۔ نمرود نے جب حضرت ابراہیم (ع) کو آگ کے گڑھے میں ڈالا تھا، تو یہ جانور اس آگ کی طرف پھونک مار کر اسے مزید بھڑکانے کی کوشش کر رہا تھا۔
اللہ کے نبیوں میں سے ایک نبی ایک دن ایک درخت کے نیچے اترے۔ اس کے بعد ایک چیونٹی نے انہیں کاٹا۔ ان کے حکم پر ضروری سامان درخت کے نیچے سے ہٹا دیا گیا۔ اس کے بعد جب انہوں نے حکم دیا تو چیونٹیوں کے بل کو آگ سے جلا دیا گیا۔ تب اللہ تعالی نے ان پر وحی نازل کی: "تم نے صرف ایک چیونٹی کو کیوں سزا نہیں دی۔"
رسول اللہ (ص) نے فرمایا: 'تمہارے پینے کی چیز میں اگر مکھی گر جائے تو اسے ڈبو دو۔ کیونکہ اس کے ایک پر میں بیماری ہوتی ہے اور دوسرے پر میں اس کا علاج ہوتا ہے'۔ ایک بلی کو باندھ کر قتل کرنے کی وجہ سے ایک عورت کو اللہ تعالی نے جہنم میں ڈالا ہے۔ اس نے بلی کو کھانا بھی نہیں دیا تھا اور نہ ہی اسے چھوڑا تھا، اگر چھوڑ دیتی تو شاید زمین کے کیڑے مکوڑے کھا کر زندہ رہ سکتی۔
ایک دفعہ رسول اللہ (ص) سفر میں تھے۔ انہوں نے قدرتی حاجت پوری کرنے کے لیے ایک جگہ کا انتخاب کیا۔ ان کے سفری ساتھیوں میں سے دو ایک پرندے کے گھونسلے سے دو چڑیا کے بچے پکڑ لائے۔ بچوں کی ماں پر پھڑپھڑا کر ان کے سر پر اڑنے لگی۔ اسی وقت رسول اللہ (ص) واپس آئے اور پوچھا: 'اس چڑیا کے بچوں کو لے کر کون اسے پریشان کر رہا ہے؟ اس کے بچوں کو تم واپس دے دو۔' اس کے بعد انہوں نے چیونٹیوں کا وہ گڑھا دیکھا جسے انہوں نے آگ سے جلا دیا تھا۔ انہوں نے پوچھا: 'اسے کس نے جلایا ہے؟' انہوں نے کہا: 'ہم نے جلایا ہے۔' رسول اللہ (ص) نے فرمایا:
لا ينبغي لاحد ان يعذب بالنار الا رب النار .
"آگ سے (کسی کو) سزا دینا صرف آگ کے رب کے علاوہ کسی کے لیے جائز نہیں" (صحیح بخاری، 521، صفحہ 413-8؛ جامع ترمذی، 421، صفحہ 117-8؛ سنن ابی داؤد، 421، صفحہ 17؛ 521، صفحہ 663؛ مؤطا امام مالک، 221، صفحہ 701-2؛ مشکات شریف، رسول اللہ (ص) چار قسم کے جانوروں کو قتل کرنے سے منع فرمایا ہے: چیونٹی، شہد کی مکھی، ہُدہُد اور چھڑا۔ چیونٹی سے مراد یہاں لمبی لمبی ٹانگوں والے ہیں، یہ کاٹتے نہیں ہیں۔ شہد کی مکھی کاٹتی ہے لیکن اس سے شہد اور موم ملتا ہے۔ کہا جاتا ہے کہ ہُدہُد کا گوشت بدبودار ہوتا ہے۔ اور چھڑا ایک قسم کا پرندہ ہے، اس کا رنگ آدھا سفید اور آدھا کالا ہوتا ہے، یہ دوسرے پرندوں کو پکڑ کر کھاتا ہے۔ عرب کے لوگ اسے منحوس سمجھتے ہیں، ہندی میں اسے 'لٹویا' اور بنگالی میں 'আঁড়ি কোকিল' کہتے ہیں۔ 'مجمع البحار' کتاب میں لکھا ہے کہ یہ چھڑا پرندہ حضرت آدم (ع) کو سری لنکا سے جدہ تک راستہ دکھا کر لایا تھا۔ اور ہُدہُد پرندہ حضرت سلیمان (ع) کا قاصد تھا۔ اس لیے انہیں قتل کرنے سے منع کیا گیا ہے (ایم. افلاطون قیصر، بنگالی ترجمہ، مشکات شریف، 821، صفحہ 137)۔
📄 পাখি ও কীট-পতঙ্গ হত্যা প্রসঙ্গ
রাসূলুল্লাহ (স) অকারণে জীব-জন্তু, পশু-পাখী ও কীট-পতঙ্গকে হত্যা করিতে নিষেধ করিয়াছেন। কিন্তু যেইসব প্রাণী মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হইয়া দাঁড়ায় সেইগুলিকে হত্যা করিতে কোন বাধা নাই। রাসূলুল্লাহ (স) ব্যাঙ বধ করিতে বারণ করিয়াছেন, এমনকি চিকিৎসার প্রয়োজনে হইলেও না। গৃহাভ্যন্তরে বসবাসকারী সাপকে হত্যা করিতে রাসূলুল্লাহ (স) নিষেধ করিয়াছেন। কারণ অনেক সময় জিন জাতিও সাপের আকৃতি ধারণ করিয়া মানুষের ঘরে অবস্থান করিয়া থাকে। তিনি বলেন, তোমাদের ঘরে অন্য প্রাণীও থাকে। তিনবার তাহাদের ধমক দিবে। ইহার পরও যদি সেইগুলি স্থান পরিত্যাগ না করে এবং উহাদের পক্ষ হইতে অনিষ্টকর কিছু প্রকাশ পায় তবে হত্যা করিবে। বাসস্থানে কোন সাপ দেখা গেলে তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিবে, আমরা নূহ্ (আ)-এর ওয়াদা ও সুলায়মান (আ)-এর ওয়াদার ওসীলায় তোমাকে বলিতেছি যে, তুমি আমাদের কষ্ট দিও না। ইহার পরও যদি উহা অনিষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয় তবে ইহাকে বধ করিবে। 'যুত্-তুফয়াতায়ন' ও 'আবতার' জাতীয় সাপ-হত্যা করিতে নিষেধ করেন নাই। কেননা এইগুলি চক্ষুর জ্যোতি নষ্ট করে এবং গর্ভপাত ঘটায়।
'যুত্-তুফয়াতায়ন' জাতীয় সর্পের পেটে দুইটি লম্বা সাদা ডোরা থাকে যাহা মাথা হইতে লেজ পর্যন্ত প্রলম্বিত। 'আবতার' লেজকাটা সর্পকে বলা হয় এবং ঐ সমস্ত সর্পকেও 'আবতার' বলা হয় যাহা আকারে খাট। এইসব সাপ অত্যন্ত বিষধর এবং ইহাদের শ্বাস-প্রশ্বাসেও মারাত্মক ধরনের বিষ রহিয়াছে।
হিশামের আযাদকৃত গোলাম আবূ সাইব (রা) বলেন, একদা আমি আবূ সাঈদ খুদরী (রা)-এর নিকট গমন করিলে তিনি তখন সালাত আদায়ে রত ছিলেন। সালাত হইতে অবসর হইবার অপেক্ষায় তিনি বসিয়া রহিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করিলেন তখন তাহার চৌকির নিচে আবূ সাইব (র) সরসর শব্দ শুনিতে পাইলেন। তিনি তাকাইয়া দেখিলেন যে, উহা একটি সর্প। তিনি উহাকে মারিতে উদ্যত হইলেন। আবূ সাঈদ (রা) তাহাকে ইশারা করিয়া বলিলেন, বস, ইহাকে মারিও না। অতঃপর তিনি আবু সাইব (র)-এর দিকে ফিরিয়া ঘরের একটি কামরার দিকে ইশরা করিয়া বলিলেন, ঐ ঘরটি দেখিতেছ? তিনি বলিলেন, হাঁ। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলিলেন, সেই ঘরে জনৈক যুবক বাস করিত, সবেমাত্র বিবাহ করিয়াছিল। সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সঙ্গে পরিখা যুদ্ধে গমন করিয়াছিল। ইহার পর হঠাৎ এক সময় সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটু অনুমতি দান করুন, আমি আমার পরিবারের সঙ্গে একটু কথা বলিয়া আসি। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে অনুমতি দান করিয়া বলিলেন, যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে রাখ। কেননা বনু কুরায়যার পক্ষ হইতে হামলার আশঙ্কা রহিয়াছে। বনূ কুরায়যা সেই ইয়াহুদী গোত্র যাহারা পরিখা যুদ্ধের সময় ওয়াদা ভঙ্গ করিয়া মক্কাবাসীদের সঙ্গে হাত মিলাইয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিল।
যুবকটি অস্ত্রসহ রওয়ানা হইয়া গেল। ঘরে পৌছিয়া সে তাহার স্ত্রীকে ঘরের দুই দরজার মধ্যবর্তী স্থানে দণ্ডায়মান দেখিতে পাইল। স্ত্রীকে এই অবস্থায় দেখিয়া ক্রোধান্বিত হইল এবং বর্শা দিয়া স্ত্রীকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। স্ত্রী বলিল, আমাকে মারিতে এত তাড়াহুড়া করিও না, বরং আগে ঘরের ভিতরে যাইয়া দেখ। অতঃপর সে ঘরের ভিতর গিয়া দেখিল যে, কুণ্ডলী পাকাইয়া একটি সর্প তাহার বিছানায় বসিয়া আছে। সে বর্শা দিয়া সর্পটিকে গাঁথিয়া ফেলিল এবং বর্শাটিকে ঘরে দাঁড় করাইয়া রাখিয়া দিয়া নিজে বাহির হইয়া আসিল। সর্পটি বর্শার ফলায় পেঁচাইতেছিল, আর তখনই যুবকটি মারা গেল। তবে ইহা জানা যায় নাই যে, যুবকটি আগে মারা গেল, না সর্পটি? রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বিবৃত করা হইলে তিনি বলিলেন, মদীনায় জিন জাতিরা ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। অতএব তোমরা যদি সর্প দেখ তবে তিন দিন পর্যন্ত তাহাকে সতর্ক কর। তারপরেও যদি তাহাকে দেখ, তবে হত্যা কর। কেননা সে শয়তান।
পাঁচ প্রকার প্রাণী অত্যন্ত অনিষ্টকারী, ইহাদিগকে হারাম শরীফে হত্যা করিবার অনুমতি রহিয়াছে। কেহ ইহরাম অবস্থায় যদি ইহাদিগকে মারিয়া ফেলে তাহা হইলে কোন গুনাহ হইবে না। এইগুলি হইতেছে বিচ্ছু, ইঁদুর, পাগলা কুকুর, কাক এবং চিল। অনেক সময় ছোট ছোট অনিষ্টকারী ইঁদুর প্রজ্জ্বলিত সলিতাযুক্ত বাতি টানিয়া লইয়া যায় এবং গৃহবাসীকে জ্বালাইয়া-পোড়াইয়া শেষ করিয়া দেয়।
রাসূলুল্লাহ (স) গিরগিটি বা রক্তচোষা জাতীয় টিকটিকি হত্যা করিবার আদেশ দিয়াছেন। ইহা এক প্রকারের বিষাক্ত প্রাণী। রাতের বেলা চুপিসারে উষ্ট্রীর ওলান চুষিয়া দুধ খাইয়া ফেলে। মানুষ দেখিলে উহার মাথার অংশ রক্তিম বর্ণ হইয়া উঠে। সম্ভবত উক্ত কারণেই এই নামকরণ করা হইয়াছে। নমরুদ হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিয়াছিল, এই প্রাণীটি সেই আগুনের দিকে ফুঁক দিয়া ইহাকে আরও উত্তেজনামুখর করার চেষ্টা করিয়াছিল।
আল্লাহ্ নবীদের মধ্যে কোন নবী একদিন একটি বৃক্ষের নিচে অবতরণ করেন। ইহারপর এক পিঁপড়া তাহাকে কামড় দেয়। তাঁহার নির্দেশে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বৃক্ষের নিচ হইতে সরাইয়া ফেলা হয়। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলে পিঁপড়ার বাসা আগুন দিয়া জ্বালাইয়া দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁহার প্রতি ওহী নাযিল করিলেন, "তুমি একটিমাত্র পিঁপড়াকে কেন সাজা দিলে না।"
রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: 'তোমাদের কাহারও পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়িলে উহাকে ডুবাইয়া দিবে। কেননা উহার এক ডানায় থাকে জীবানু আর অপর ডানায় থাকে ইহার প্রতিষেধক'। একটি বিড়ালকে বাঁধিয়া রাখিয়া হত্যার কারণে এক নারীকে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামে দিয়াছেন। সে বিড়ালটিকে খাবারও দেয় নাই, ছাড়িয়াও দেয় নাই، ছাড়িয়া দিলে হয়ত যমীনের পোকা-মাকড় খাইয়া জীবন ধারণ করিতে পারিত।
একদা রাসূলুল্লাহ (س) সফরে ছিলেন। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে তাঁহার সফরসঙ্গীদের মধ্যে দুই একজন পাখির বাসা হইতে দুইটি চড়ুই পাখির বাচ্চা ধরিয়া আনেন। বাচ্চাদ্বয়ের মা ডানা মেলিয়া উড়িতে থাকে। ঠিক এই সময় রাসূলুল্লাহ (س) ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন: 'এই চড়ুই পাখির বাচ্চা লইয়া কে ইহাকে বিব্রত করিতেছ؟ ইহার বাচ্চা দুইটিকে তোমরা ফিরাইয়া দাও।' ইহার পর তিনি পিঁপড়ার সেই গর্তটি দেখিতে পাইলেন যাহাকে তাঁহারা আগুনে পোড়াইয়া দিয়াছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন، কে ইহাকে পোড়াইয়া দিয়াছে؟ তাঁহারা বলিলেন، আমরা পোড়াইয়াছি। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন:
لا ينبغي لاحد ان يعذب بالنار الا رب النار .
"آگ سے (کسی کو) سزا دینا صرف آگ کے رب کے علاوہ کسی کے لیے جائز نہیں" (صحیح بخاری، 521، صفحہ 413-8؛ جامع ترمذی، 421، صفحہ 117-8؛ سنن ابی داؤد، 421، صفحہ 17؛ 521، صفحہ 663؛ مؤطا امام مالک، 221، صفحہ 701-2؛ مشکات شریف، রাসূলুল্লাহ (ص) চারি প্রকার জীবকে বধ করিতে নিষেধ করিয়াছেন: পিপীলিকা، মৌমাছি، হুদহুদ ও ছুরাদ। পিপীলিকা অর্থে এইখানে লম্বা লম্বা পা-বিশিষ্টগুলিকে বুঝানো হইয়াছে، ইহারা দংশন করে না। মৌমাছি দংশন করিলেও উহার মাধ্যমে মধু ও মোম পাওয়া যায়। কথিত আছে যে، হুদহুদের গোশত দুর্গন্ধময়। আর ছুরাদ এক প্রকার পাখী، গায়ের বর্ণ অর্ধেক সাদা এবং অর্ধেক কাল، অন্যান্য পাখি ধরিয়া খায়। আরবের লোকেরা উহাকে অশুভ লক্ষণ বলিয়া ধারণা করে، হিন্দীতে ইহাকে লটুয়া এবং বাংলায় আঁড়ি কোকিল বলে। 'مجمع البحار' গ্রন্থে উল্লিখিত হইয়াছে যে، এই ছুরাদ পাখি হযরত আদম (ع)-কে শ্রীলংকা হইতে জেদ্দা পর্যন্ত পথ দেখাইয়া আনিয়াছে। আর হুদহুদ পাখি ছিল হযরত সুলায়মান (ع)-এর দূত। তাই এইগুলিকে বধ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে (ایم. افلاطون قیصر، বঙ্গানুবাদ، মেশকাত শরীফ، ৮খ.، পৃ. ১৩৭)۔
📄 প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাণী দ্বারা শিকার
আদী ইব্ন হাতিম (রা) একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর খিদমতে হাজির হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শিকারের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ছাড়িয়া দেই এবং উহারা শিকার করিয়া আমার জন্য রাখিয়া দেয়। আমি তখন আল্লাহর নাম লই অর্থাৎ 'বিসমিল্লাহ' বলি। এই শিকারকৃত জন্তু আমি খাইতে পারি কি? তিনি বলেন: যখন তুমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহ্ নাম লইয়া ছাড়، তখন তুমি উহা খাইতে পার। আমি বলিলাম، যদি উহারা শিকারকে হত্যা করিয়া ফেলে؟ তিনি বলিলেন: উহারা শিকারকে হত্যা করিলেও। কেননা উহার ধরাটাই (শিকার করাই) ছিল যবেহ। কিন্তু উহার সাথে অন্য কুকুর শামিল হইলে খাইতে পারিবে না। তবে যদি কুকুর তাহা হইতে কিছু অংশ খাইয়া ফেলে তাহা হইলে তুমি উহাও খাইবে না। আর যদি এই শিকারে অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরও যোগ দিয়া থাকে তাহা হইলে তুমি ইহা মোটেও খাইবে না। কেননা তুমি তো কেবল তোমার কুকুর ছাড়িতেই আল্লাহর নাম লইয়াছ (বিস্মিল্লাহ বলিয়াছ)، অন্যটার ব্যাপারে লও নাই। তুমি তো জান না যে، কোন কুকুরটি শিকারকে হত্যা করিয়াছে। অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দিয়া শিকার করিলে যদি তুমি যবেহ করিবার সুযোগ পাও، তবে উহা খাইতে পার।
আমি তাঁহাকে বলিলাম، আমি অনেক সময় শিকারের উদ্দেশ্যে، মিরবাদ (কাঠ বা তীক্ষ্ণ ছড়ি ইত্যাদি) নিক্ষেপ করিয়া থাকি، যদি তাহাতে শিকার কুপোকাৎ হইয়া যায়؟ রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: যখন তুমি 'মিরবাদ নিক্ষেপ কর এবং তাহার সম্মুখের তীক্ষ্ণভাগ প্রবিষ্ট হইয়া শিকার মারা যায় তবে তুমি তাহা খাইতে পার। আর যদি পাশের ভাগ লাগিয়া শিকার মারা যায়، তবে তুমি উহা খাইবে না। যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করিবে তখন আল্লাহর নাম লইবে। যদি তুমি শিকার মৃত অবস্থায় পাও، তবে উহা খাইতে পার؛ যদি তাহা পানিতে পাও তবে খাইবে না। কেননা তুমি তো নিশ্চিতভাবে জান না যে، পানিই উহাকে হত্যা করিল নাকি তোমার তীর। যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করিলে এবং উহা তোমার নিকট হইতে নিরুদ্দেশ হইয়া গেল، ইহার পর তুমি তাহা পাও তবে যতক্ষণ উহা হইতে দুর্গন্ধ বাহির না হইবে ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি উহা খাইতে পার (صحیح مسلم، ۶خ.، পৃ. ۴۰۷-۱۲؛ جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ۱۰۳-۸)۔