📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জীব-জন্তুর লড়াই ও ইহাকে চাঁদমারির লক্ষ্যস্থল বানানো

📄 জীব-জন্তুর লড়াই ও ইহাকে চাঁদমারির লক্ষ্যস্থল বানানো


প্রাক-ইসলামী যুগে বিভিন্ন পশু-পাখিকে জীবন্ত অবস্থায় বাঁধিয়া চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানানো হইত। ইহার দ্বারা তৎকালীন সমাজের মানুষ আনন্দ অনুভব করিত যাহা ছিল প্রকৃতপক্ষে নিতান্ত অমানবিক، নিষ্ঠুর، বর্বরোচিত ও বিকৃত রুচির পরিচায়ক। এই পদ্ধতিতে অনেক অসহায় প্রাণী মারা যাইত বা গুরুতর আহত হইয়া আর্তনাদ করিত। রাসূলুল্লাহ (স) এই বর্বর পদ্ধতির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। প্রাণীদের একটির বিরুদ্ধে অপরটিকে উত্তেজিত করিতে، লড়াই লাগাইতে، চেহারায় আঘাত করিতে এবং শরীরে দাগ লাগাইতে তিনি নিষেধ করিয়াছেন। পাখির দ্বারা ভাগ্য গণনা ও শুভাশুভ নির্ণয় করাকে তিনি শিরক বলিয়া অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন এবং কবুতর লইয়া যে খেলা করে তাহাকে শয়তানরূপে চিহ্নিত করিয়াছেন (সহীহ মুসলিম, ৬খ., পৃ. ৪৩৫-৬; জামি' তিরমিযী, ৪খ., পৃ. ২৫৬-৭; সুনান আবূ দাউদ, ৩খ., পৃ. ৪৫১; ৫খ., পৃ. ৫১, ৫২৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঘোড়া প্রতিপালন

📄 ঘোড়া প্রতিপালন


রাসূলুল্লাহ (স) ঘোড়া প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করিয়াছেন। ঘোড়ার ব্যবহার বহুমুখী। সফরের বাহন، অভিযাত্রার সাথী এবং যুদ্ধের ময়দানে পারদর্শী বাহন হিসাবে ঘোড়ার জুড়ি নাই। তিনি ঘোড়ার কপাল ও ঘাড়ের পশম মুছিয়া দেওয়ার ও গলায় নিদর্শনের মালা (কিলাদা) পরাইবার নির্দেশ দিয়াছেন। ঘোড়ার গলায় ধনুক، তারের কবজ অথবা ঘণ্টা ব্যবহারকে তিনি নিরুৎসাহিত করিয়াছেন। কারণ এইগুলি ছিল জাহিলী যুগের কুসংস্কার। সেই যুগে বদনযর হইতে বাঁচিবার আশায় কবজ ব্যবহার করা হইত। তাঁহার দৃষ্টিতে ঘণ্টা শয়তানের নৃত্য-কাঠি এবং রহমতের ফেরেশতা ঐসব পথিক দলের সহিত থাকেন না যাহাদের পশুর গলায় ঘন্টা বাঁধা থাকে।
রাসূলুল্লাহ (স) বলেন، 'তোমরা ঘোড়ার কপালের পশম، ঘাড়ের পশম ও লেজের পশম কাটিবে না। কারণ ইহার লেজ হইল মশা-মাছি বিতাড়নের হাতিয়ার، ঘাড়ের পশম শীতের বস্ত্রস্বরূপ এবং কপালের পশম সৌভাগ্যের প্রতীক। তোমরা ঘোড়া ক্রয় করিবার সময় কপাল সাদা، লাল-কাল মিশ্রিত রং-এর অথবা পা সাদা، উজ্জ্বল লাল রং-এর অথবা শরীর কাল، কপাল ও পায়ে সাদা চিত্রা বর্ণের ঘোড়া বাছিয়া লইও। লাল বর্ণের ঘোড়াসমূহে বরকত নিহিত রহিয়াছে।' রাসূলুল্লাহ (স) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াসমূহের মধ্যে দৌঁড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করিতেন। এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হইত মদীনার বাহিরে হাইয়া নামক স্থান হইতে ছানিয়াতুল বিদা পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পাঁচ মাইল দূরত্বের মধ্যে। আর সাধারণ প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করিতেন ছানিয়াতুল বিদা পাহাড় হইতে বানু যুরায়ক গোত্রের মসজিদ পর্যন্ত ছয় মাইল দূরত্বের মধ্যে। রাসূলুল্লাহ (স) ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠানের জন্য ঘোড়াসমূহকে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিতেন। প্রশিক্ষণের পদ্ধতি ছিল، কিছুদিন ভালভাবে খাদ্যদানের মাধ্যমে মোটা-তাজা করিবার পর ক্রমান্বয়ে খাদ্যহ্রাস করিয়া ঘোড়াকে সতেজ ও শক্ত করিয়া তোলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন، 'ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় রত দুইটি ঘোড়ার মধ্যে যে ব্যক্তি তৃতীয় ঘোড়া প্রবেশ করাইয়া দিবে অর্থাৎ সে তাহার ঘোড়া অগ্রগামী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নয় এমতাবস্থায় তাহা হারাম বাজি হিসাবে গণ্য হইবে না। আর যে ব্যক্তি ভাল ঘোড়া লইয়া নিশ্চিত জিতিবার লক্ষ্যে তৃতীয় ঘোড়া প্রবেশ করাইয়া দিবে، তাহা হারাম বাজি হিসাবে গণ্য হইবে। ঘোড়াকে পিছন দিক হইতে তাড়া দেওয়া আর পার্শ্বে খোঁচা দেওয়া দৌঁড় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ। উটের দৌড় ও ঘোড়ার দৌড় ছাড়া অন্য কোন প্রাণীর প্রতিযোগিতা বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন : কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে বাঁধিয়া রাখা হইয়াছে কল্যাণ، তাহা হইল ছওয়াব ও গনীমত (سنن ابی داؤد، ۳خ.، পৃ. ۴۴۷-۸، ۴۵۷-۹، ۴۶۰؛ جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ۲۴۸-۵۳)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুকুর-বিড়াল পালন ও বিক্রয়

📄 কুকুর-বিড়াল পালন ও বিক্রয়


রাসূলুল্লাহ (স) কুকুর পালনকে নিরুৎসাহিত করিয়াছেন। কুকুর অনেক সময় বিভিন্ন রোগের ভাইরাস، বিশেষত জলাতংক রোগ ছড়ায়। তাই ক্ষেত্রবিশেষ কুকুর নিধন করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) নির্দেশ দিয়াছেন। অবশ্য শিকারের জন্য এবং পশুপাল ও ক্ষেত-খামার পাহারার উদ্দেশ্যে তিনি কুকুর রাখার অনুমতি দিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: 'কুকুর যদি আল্লাহ্ত্র সৃষ্ট জাতিগুলির মধ্যে একটি জাতি না হইত তবে আমি সকল কুকুর হত্যা করিবার নির্দেশ দিতাম। সুতরাং তোমরা যেইগুলি ঘোর কাল বর্ণের সেইগুলিকে হত্যা কর। ইহাদের দুই চোখের উপরিভাগে দুইটি সাদা ফোঁটা চিহ্ন আছে। এই শ্রেণীর কুকুরগুলি খুব বেশী হিংস্র ও দুষ্ট প্রকৃতির হইয়া থাকে। শিকারের বা শস্যক্ষেত্র পাহারা দেওয়ার বা পশুপাল চারণের কুকুর ছাড়া যদি কেহ কুকুর পালন করে، তাহা হইলে তাহার নেক আমল হইতে প্রতিদিন এক কীরাত করিয়া ছওয়াব হ্রাস পাইবে। কীরাত হইল নিক্তির ওজনে একটি ক্ষুদ্রতম পরিমাণ বিশেষ। উহার যথাযথ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলাই ভাল জ্ঞাত। কোন পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয় তখন পাত্রস্থিত বস্তু ফেলিয়া দিয়া সাত বার পানি দ্বারা ধুইয়া ফেলিতে হইবে। আর অষ্টমবারে মাটি দ্বারা ঘষিয়া পরিষ্কার করিতে হইবে।
রাসূলুল্লাহ (স) কুকুর، বিড়াল ও শূকরের মূল্য গ্রহণ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলেন: যদি কেহ কুকুরের মূল্য গ্রহণ করিতে আসে، তবে তাহার হাতের মুঠা মাটি দিয়া ভরিয়া দিবে। ইমাম আবূ হানীফা (র)، ইমাম আবূ ইউসুফ (র) ও ইমাম মুহাম্মাদ (র)-এর মতে শিকারী কুকুরের মূল্য গ্রহণ করা জায়েয। ইমাম তাহাবী (র)-এর মতে، এই নিষেধাজ্ঞা ততদিন বলবৎ ছিল যতদিন কুকুর হত্যার বিধান কার্যকর ছিল। ইহার পর এই বিধান শিথিল হওয়ায় ঐ সমস্ত কুকুর যেইগুলি দিয়া উপকার পাওয়া যায়، তাহার মূল্য গ্রহণ করা জায়েয। ইমাম মালিক (র)-এর মতে، শিকারী এবং অশিকারী উভয় প্রকারের কুকুরের মূল্য গ্রহণ করা হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ (س) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। রাতের বেলা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ও গাধার ডাক শুনিলে রাসূলুল্লাহ (س) আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় চাহিতে বলিয়াছেন। কেননা গাধা শয়তানকে দেখিয়া ডাক দেয় এবং গাধা ও কুকুর যাহা দেখে মানুষ তাহা দেখে না (سنن نسائی، ۱خ.، পৃ. ۷۴-۶، ১৯৯-২০۱؛ سنن ابی داؤد، ۴خ.، পৃ.۴۰۶-۸؛ ۵خ.، পৃ. ۵۹۵؛ سنن ابن ماجہ، ۲خ.، পৃ. ۲۸۵؛ مؤطا مالک، ۲خ.، পৃ. ۳۰۱؛ جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ۱۱۸-۹؛ মেশکات شریف، ۸خ.، পৃ. ۲۱۲-۲)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মৃত জীব-জন্তুর ক্রয়-বিক্রয়

📄 মৃত জীব-জন্তুর ক্রয়-বিক্রয়


জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ (را) একদা রাসূলুল্লাহ (س) -এর খিদমতে আসিয়া বলেন، ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো জানেন، মৃত জীব-জন্তুর চর্বি দিয়া নৌকাকে তৈলাক্ত করা হয়، চামড়াকে মসৃণ করা হয়، আর লোকেরা উহা দিয়া বাতি জ্বালায়। তিনি বলিলেন، এইসব তো হারাম। আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদের উপর অভিশম্পাত করুন! যখন আল্লাহ তাহাদের উপর মৃত জীব-জন্তুর চর্বি হারাম করেন তখন তাহারা ইহা গলাইয়া বিক্রয় করিতে শুরু করে এবং ইহার মূল্য ভক্ষণ করিতে থাকে।
মৃত জীব-জন্তুর গোশ্ত ও চর্বি হারাম হইলেও ইহাদের চামড়া দাবাগত পূর্বক ব্যবহার করিতে রাসূলুল্লাহ (س) অনুমতি প্রদান করিয়াছেন। দাবাগত হইল- কোন বস্তুর সাহায্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চামড়ার পানি শুকাইয়া পবিত্র করা। ইমাম মালিক (র)-এর মতে 'মুদতার' বা খাদ্যের প্রচণ্ড অভাবে ওষ্ঠাগতপ্রাণ ব্যক্তি মৃত জন্তুর গোস্ত، পেট ভরিয়া আহার করিতে পারে এবং উহা রাখিতেও পারে। যখন হালাল খাদ্য পাওয়া যাইবে তখন মৃত জন্তুর গোশ্ত ফেলিয়া দিবে (سنن ابی داؤد، ۴خ.، পৃ. ۴۰۸-۹؛ مؤطا مالک، ۲خ.، পৃ. ۴۸۵)۔

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00