📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জীব-জন্তুর প্রতি নম্র ব্যবহার

📄 জীব-জন্তুর প্রতি নম্র ব্যবহার


'রাসূলুল্লাহ (س) জীব-জন্তু ও পশু-পক্ষীর সহিত নম্র ব্যবহার ও দয়ার্দ্র আচরণ করিবার নির্দেশ দিয়াছেন। কারণ এইসব প্রাণী মানবসেবার জন্য মহান আল্লাহরই সৃষ্টি। প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীর বিচরণক্ষেত্র، আবাস، খাদ্যাভ্যাস، ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আলাদা ও বৈচিত্র্যময়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এইসব জীবের অস্তিত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যথা পৃথিবী নামক এই উপগ্রহ মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হইয়া পড়িবে।
প্রাচীন কালে আরবে দুই ব্যক্তি বাজি ধরিয়া একটার পর একটা উট যবেহ করিত। ইহাতে উভয় পক্ষের প্রচুর উট প্রাণ হারাইত। যবেহকৃত উট দিয়া খাবারের মেলা বসিত। যে ব্যক্তি যত বেশী উট যবেহ করিতে পারিত তাহাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হইত। ইহাকে দানশীলতা ও বদান্যতার নিদর্শন হিসাবে বিবেচনা করা হইত।
আরবে একটি প্রথা চালু ছিল যে، কোন মানুষ মারা গেলে তাহার বহনকারী পশুকে মালিকের কবরের উপর বাঁধিয়া রাখা হইত। ইহাকে খাবার ও পানি দেওয়া হইত না। ফলে শুকাইয়া পশুটি নির্মমভাবে প্রাণ হারাইত। রাসূলুল্লাহ (স)-এর হিজরতের পূর্বে মদীনায় জীবন্ত উষ্ট্রের কুঁজ ও দুম্বার পিছনের বাড়তি গোশত পিও কাটিয়া খাওয়ার প্রথা চালু ছিল। রাসূলুল্লাহ (স) এই বর্বর ও অমানবিক প্রথা উচ্ছেদপূর্বক ঘোষণা করেন، জীবন্ত পশুর কর্তিত অংশ মৃত বলিয়াই গণ্য হইবে।
রাসূলুল্লাহ (س) বলেনঃ যে ব্যক্তি চড়ুই কিংবা তদপেক্ষা ছোট পাখি অযথা বধ করিবে، কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নিকট উহার হত্যার জন্য জবাবদিহি করিতে হইবে। জিজ্ঞাসা করা হইল، ইয়া রাসূলাল্লাহ! উহার হক কি؟ তিনি বলিলেন: উহাকে যবেহ করিয়া খাইবে এবং উহার মাথা কাটিয়া ফেলিয়া দিবে না।
'আইশা (রা) একটি উটের পৃষ্ঠে سওয়ার ছিলেন। উটটি ছিল কঠোর স্বভাবের، তাই তিনি শক্তভাবে ইহাকে ফিরাইতেছিলেন। এই দৃশ্য অবলোকনে রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন: তোমার উচিত নম্র ব্যবহার করা। যে ব্যক্তি নম্রতা হইতে বঞ্চিত সে প্রকৃত কল্যাণ হইতে বঞ্চিত।
জনসাধারণ অনেক সময় মানুষের তুলনায় পশুদের অধিক কষ্ট দেয়، হৃদয়হীন আচরণ করে، সাধ্যের বাহিরে ইহাদের নিকট হইতে শ্রম লয়। আরবের লোকেরা জানিতনা যে، মানুষের সহিত ভাল ব্যবহার ও সদাচারের কারণে যেমন ছওয়াব পাওয়া যায়، ঠিক তেমনি নির্বোধ পশু-পাখি ও জীব-জন্তুর সহিত উত্তম ব্যবহার ও মানবিক আচরণ করিলেও অনুরূপ ছওয়াব পাওয়া যায়। এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন যে، তিনি নিজের উটগুলিকে পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে একটি জলাধার তৈরি করিয়াছেন। মাঝেমধ্যে অপরিচিত উট আসিয়া সেইখান হইতে পানি পান করে। তিনি জানিতে চাহিলেন যে، এইসব উটকে পানি পান করাইলে তাহার কোন ছওয়াব হইবে কিনা؟ রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন : প্রতিটি পিপাসার্ত ও প্রতিটি প্রাণীর সহিত ভাল ব্যবহারে ছওয়াব পাওয়া যাইবে। রাসূলুল্লাহ (স) ছাগল প্রতিপালনকে উৎসাহিত করিয়া বলেন : 'নম্রতা ও বিনয় ছাগল পালকদের মধ্যে রহিয়াছে। অদূর ভবিষ্যতে কয়েকটি ছাগলই মুসলমানদের উত্তম مال বলিয়া বিবেচিত হইবে। তাহারা ফিতনা-ফাসাদ হইতে নিজেদের دین রক্ষার নিমিত্ত পর্বতের চূড়ায় চলিয়া যাইবে অথবা কোন উপত্যকায় গিয়া আশ্রয় লইবে।' রাসূলুল্লাহ (س) ভারবাহী পশুর পিঠে বিনা প্রয়োজনে بসিয়া থাকিতে নিষেধ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (س) বলেন : “কোন মুসলমান যদি কোন গাছ লাগায়، উহা হইতে কোন মানুষ বা পশু যদি কিছু খায় তবে তাহার জন্য সাদাকা হিসাবে গণ্য হইবে” (صحیح بخاری، ৯خ.، পৃ. ৪০৮؛ صحیح مسلم، ৮خ.، পৃ.۱۱۷-৯؛ سنن ابی داؤد، ۳خ.، পৃ.۴৫৪؛ جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ১১৪؛ مشکات شریف، ৮خ.، পৃ. ۱۱۹؛ سیرت النبی، ۶خ.، পৃ. ১৬৯، ১৭১؛ مسند احمد، ۶خ.، পৃ. ৪৪১؛ مؤطا امام مالک، ۲خ.، পৃ. ৬৯৪-۵)۔
রাসূলুল্লাহ (س) একদা এমন একটি উটের পার্শ্ব দিয়া অতিক্রম করিলেন প্রচণ্ড ক্ষুধার তাড়নায় যাহার পিঠ উহার পেটের সহিত মিশিয়া গিয়াছিল। ইহা দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (س) মন্তব্য করিলেন : 'এইসব বাকশক্তিহীন পশুদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। ইহাদের উপর এমন অবস্থায় আরোহণ কর যখন উহারা শারীরিকভাবে সক্ষম থাকে এবং ক্লান্ত হইয়া পড়িবার আগে ছাড়িয়া দাও যতক্ষণ না উহার ক্লান্তি দূরীভূত হয়” (مشکات شریف، ۶خ.، পৃ. ২৭۵)۔
জনৈক ব্যভিচারিণী তীব্র পিপাসায় কাতর অবস্থায় পথ অতিক্রম করিতেছিল। পথিপার্শ্বে একটি কূপের সন্ধান পাওয়া গেল। সে কূপে অবতরণ করিয়া আকণ্ঠ পানি পান করিল। উহার পর উঠিয়া আসিয়া দেখিতে পাইল যে، আমি হাঁপাইতেছে এবং পিপাসায় কাতর হইয়া কাদা মাটি চাটিতেছে। পথিক ভাবিল، এই কুকুরটি যেইরূপ পিপাসায় কষ্ট পাইয়াছি এই কুকুরটিও পিপাসায় অনুরূপ কষ্ট পাইতেছে। তখন সে আবার কূপে অবতরণ করিল এবং তাহার চামড়ার তৈরী মোজার মধ্যে পানি ভরিল। পানিভর্তি মোজাকে দাঁতে কামড়াইয়া ধরিয়া উপরে উঠিয়া আসিল। অতঃপর সে পিপাসার্ত কুকুরটিকে তৃপ্ত করিয়া পানি পান করাইল। আল্লাহ তা'আলা ইহার প্রতিদানস্বরূপ তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করিলেন، ইয়া রাসূলাল্লাহ! জীব-জন্তুর জন্যও কি আমাদের পুরস্কার আছে؟ তিনি বলিলেন، হাঁ، প্রত্যেক জীবন্ত হৃদয়ের অধিকারী প্রাণীর সেবার জন্য পুরস্কার রহিয়াছে (صحیح بخاری، ৯خ.، পৃ. ৩৫৮؛ ۵خ.، পৃ. ৪১৮)۔
পশুর প্রতি কোমল ব্যবহার করা ও উহাদের সুযোগ-সুবিধার প্রতি দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। কোন পশুকে খাদ্য দিতে অপারগ হইয়া মালিক যদি উহাকে ছাড়িয়া দেয় অথবা ধ্বংসোম্মুখ অবস্থায় পরিত্যাগ করে، ইহার পর অন্য কোন ব্যক্তি যদি উহাকে লালন-পালন করিয়া জীবিত রাখে، সে-ই হইবে পরিত্যক্ত পশুটির মালিক (سنن ابی داؤد، ۴خ.، পৃ. ৪২২)۔
রাসূলুল্লাহ (س) বলেনঃ তোমরা شیملاچھت জমিতে سفر করলে উট کو زمین سے اس کا حصہ دو گے، اور غیر زرخیز اور بنجر زمین میں سفر کرتے وقت تیزی سے گزر جاؤ گے، تاکہ ان کی طاقت برقرار رہے۔ رات ٹھہرنا چاہو تو راستے سے ہٹ جاؤ، کیونکہ رات کو چوپائے چلتے ہیں اور وہاں کیڑے مکوڑوں اور رینگنے والے جانوروں کا بسیرا ہوتا ہے۔
'عُٹ' کو زمین سے اس کا حصہ دو گے، اس کا مطلب یہ ہے کہ چلتے وقت اونٹ کے ساتھ نرمی برتو تاکہ وہ چلتے ہوئے راستے کے دونوں اطراف کی زمین میں اُگے ہوئے گھاس پھونس کھا سکے۔ اور 'طاقت برقرار رہے' کا مطلب یہ ہے کہ بنجر زمین پر چلتے ہوئے تیزی سے منزل تک پہنچ جاؤ تاکہ سفر کی تھکن کی وجہ سے اونٹ کی طاقت راستے میں ختم نہ ہو۔
رسول اللہ (ص) ایک دفعہ ایک انصاری کے باغ میں داخل ہوئے اور وہاں موجود ایک اونٹ آپ کو دیکھتے ہی چیخ اٹھا اور آنکھوں سے آنسو بہنے لگے۔ آپ نے اس کے کندھے اور سر کے پچھلے حصے پر ہاتھ پھیر کر اسے پیار کیا تو وہ خاموش ہو گیا۔ آپ نے پوچھا کہ یہ اونٹ کس کا ہے؟ اس کا مالک کون ہے؟ ایک انصاری نوجوان آگے بڑھ کر بولا: اے اللہ کے رسول! یہ میرا ہے۔ آپ نے فرمایا: 'اللہ نے تمہیں اس چوپائے کا مالک بنایا ہے، تو کیا تم اس کے معاملے میں اللہ سے نہیں ڈرتے؟ کیونکہ اس نے مجھ سے شکایت کی ہے کہ تم اسے بھوکا رکھتے ہو اور اس پر زیادہ بوجھ ڈالتے ہو، لیکن ضرورت کے مطابق کھانا نہیں دیتے' (ریاض الصالحین، 321، صفحہ 37-40؛ سنن ابی داؤد، 321، صفحہ 445)۔
جانوروں، پرندوں اور حشرات الارض پر رسول اللہ (ص) کی رحم و شفقت کا پورا اثر صحابہ کرام (رضی اللہ عنہم) کی زندگی میں صاف نظر آتا ہے۔ انس (رضی اللہ عنہ) فرماتے ہیں کہ سفر میں ہم کسی منزل پر اترتے تو زینے کھولے بغیر نفل نماز ادا نہیں کرتے تھے۔ نفل نماز کی طرف ہماری بہت زیادہ رغبت کے باوجود زینے کھولنا اور جانوروں کو آرام پہنچانا ہم نفل نماز پر ترجیح دیتے تھے۔
حضرت ابوبکر صدیق (رضی اللہ عنہ) کے دور خلافت میں شام کی طرف ایک فوجی مہم بھیجی گئی۔ اس مہم میں فوج کے ایک چوتھائی کے کمانڈر یزید بن ابوسفیان (رضی اللہ عنہ) تھے۔ روانگی کے وقت ابوبکر (رضی اللہ عنہ) نے ان سے فرمایا: شام میں تم کچھ ایسے لوگوں کو دیکھو گے جو خود کو اللہ کی یاد میں مشغول سمجھتے ہیں (یعنی عیسائی راہب)۔ انہیں ان کی حالت پر چھوڑ دینا۔ کچھ ایسے لوگ بھی دیکھو گے جو درمیان سے سر منڈواتے ہیں (اس وقت آتش پرستوں کا یہ رواج تھا)۔ انہیں وہیں تلوار سے قتل کرنا۔ میں تمہیں دس باتوں کی خاص نصیحت کرتا ہوں، ان کا خیال رکھنا: عورتوں، بچوں اور بوڑھوں کو قتل نہ کرنا، پھل دار درختوں کو نہ کاٹنا، آباد زمین کو تباہ نہ کرنا، کھانے کے لیے جانوروں کو ذبح کرنے کے علاوہ نہ قتل کرنا، شہد کی مکھیوں کے چھتے نہ جلانا یا پانی میں نہ ڈبونا، غنیمت یا جنگی مال میں سے کچھ بھی چوری نہ کرنا اور ہمت نہ ہارنا (ریاض الصالحین، 321، صفحہ 37-40؛ سنن ابی داؤد، 321، صفحہ 445؛ مؤطا امام مالک، 221، صفحہ 31)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জীব-জন্তুর লড়াই ও ইহাকে চাঁদমারির লক্ষ্যস্থল বানানো

📄 জীব-জন্তুর লড়াই ও ইহাকে চাঁদমারির লক্ষ্যস্থল বানানো


প্রাক-ইসলামী যুগে বিভিন্ন পশু-পাখিকে জীবন্ত অবস্থায় বাঁধিয়া চাঁদমারির লক্ষ্যবস্তু বানানো হইত। ইহার দ্বারা তৎকালীন সমাজের মানুষ আনন্দ অনুভব করিত যাহা ছিল প্রকৃতপক্ষে নিতান্ত অমানবিক، নিষ্ঠুর، বর্বরোচিত ও বিকৃত রুচির পরিচায়ক। এই পদ্ধতিতে অনেক অসহায় প্রাণী মারা যাইত বা গুরুতর আহত হইয়া আর্তনাদ করিত। রাসূলুল্লাহ (স) এই বর্বর পদ্ধতির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। প্রাণীদের একটির বিরুদ্ধে অপরটিকে উত্তেজিত করিতে، লড়াই লাগাইতে، চেহারায় আঘাত করিতে এবং শরীরে দাগ লাগাইতে তিনি নিষেধ করিয়াছেন। পাখির দ্বারা ভাগ্য গণনা ও শুভাশুভ নির্ণয় করাকে তিনি শিরক বলিয়া অভিমত ব্যক্ত করিয়াছেন এবং কবুতর লইয়া যে খেলা করে তাহাকে শয়তানরূপে চিহ্নিত করিয়াছেন (সহীহ মুসলিম, ৬খ., পৃ. ৪৩৫-৬; জামি' তিরমিযী, ৪খ., পৃ. ২৫৬-৭; সুনান আবূ দাউদ, ৩খ., পৃ. ৪৫১; ৫খ., পৃ. ৫১, ৫২৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঘোড়া প্রতিপালন

📄 ঘোড়া প্রতিপালন


রাসূলুল্লাহ (স) ঘোড়া প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করিয়াছেন। ঘোড়ার ব্যবহার বহুমুখী। সফরের বাহন، অভিযাত্রার সাথী এবং যুদ্ধের ময়দানে পারদর্শী বাহন হিসাবে ঘোড়ার জুড়ি নাই। তিনি ঘোড়ার কপাল ও ঘাড়ের পশম মুছিয়া দেওয়ার ও গলায় নিদর্শনের মালা (কিলাদা) পরাইবার নির্দেশ দিয়াছেন। ঘোড়ার গলায় ধনুক، তারের কবজ অথবা ঘণ্টা ব্যবহারকে তিনি নিরুৎসাহিত করিয়াছেন। কারণ এইগুলি ছিল জাহিলী যুগের কুসংস্কার। সেই যুগে বদনযর হইতে বাঁচিবার আশায় কবজ ব্যবহার করা হইত। তাঁহার দৃষ্টিতে ঘণ্টা শয়তানের নৃত্য-কাঠি এবং রহমতের ফেরেশতা ঐসব পথিক দলের সহিত থাকেন না যাহাদের পশুর গলায় ঘন্টা বাঁধা থাকে।
রাসূলুল্লাহ (স) বলেন، 'তোমরা ঘোড়ার কপালের পশম، ঘাড়ের পশম ও লেজের পশম কাটিবে না। কারণ ইহার লেজ হইল মশা-মাছি বিতাড়নের হাতিয়ার، ঘাড়ের পশম শীতের বস্ত্রস্বরূপ এবং কপালের পশম সৌভাগ্যের প্রতীক। তোমরা ঘোড়া ক্রয় করিবার সময় কপাল সাদা، লাল-কাল মিশ্রিত রং-এর অথবা পা সাদা، উজ্জ্বল লাল রং-এর অথবা শরীর কাল، কপাল ও পায়ে সাদা চিত্রা বর্ণের ঘোড়া বাছিয়া লইও। লাল বর্ণের ঘোড়াসমূহে বরকত নিহিত রহিয়াছে।' রাসূলুল্লাহ (স) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াসমূহের মধ্যে দৌঁড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করিতেন। এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হইত মদীনার বাহিরে হাইয়া নামক স্থান হইতে ছানিয়াতুল বিদা পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পাঁচ মাইল দূরত্বের মধ্যে। আর সাধারণ প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করিতেন ছানিয়াতুল বিদা পাহাড় হইতে বানু যুরায়ক গোত্রের মসজিদ পর্যন্ত ছয় মাইল দূরত্বের মধ্যে। রাসূলুল্লাহ (স) ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠানের জন্য ঘোড়াসমূহকে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিতেন। প্রশিক্ষণের পদ্ধতি ছিল، কিছুদিন ভালভাবে খাদ্যদানের মাধ্যমে মোটা-তাজা করিবার পর ক্রমান্বয়ে খাদ্যহ্রাস করিয়া ঘোড়াকে সতেজ ও শক্ত করিয়া তোলা হইত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন، 'ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় রত দুইটি ঘোড়ার মধ্যে যে ব্যক্তি তৃতীয় ঘোড়া প্রবেশ করাইয়া দিবে অর্থাৎ সে তাহার ঘোড়া অগ্রগামী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নয় এমতাবস্থায় তাহা হারাম বাজি হিসাবে গণ্য হইবে না। আর যে ব্যক্তি ভাল ঘোড়া লইয়া নিশ্চিত জিতিবার লক্ষ্যে তৃতীয় ঘোড়া প্রবেশ করাইয়া দিবে، তাহা হারাম বাজি হিসাবে গণ্য হইবে। ঘোড়াকে পিছন দিক হইতে তাড়া দেওয়া আর পার্শ্বে খোঁচা দেওয়া দৌঁড় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ। উটের দৌড় ও ঘোড়ার দৌড় ছাড়া অন্য কোন প্রাণীর প্রতিযোগিতা বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন : কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে বাঁধিয়া রাখা হইয়াছে কল্যাণ، তাহা হইল ছওয়াব ও গনীমত (سنن ابی داؤد، ۳خ.، পৃ. ۴۴۷-۸، ۴۵۷-۹، ۴۶۰؛ جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ۲۴۸-۵۳)۔

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুকুর-বিড়াল পালন ও বিক্রয়

📄 কুকুর-বিড়াল পালন ও বিক্রয়


রাসূলুল্লাহ (স) কুকুর পালনকে নিরুৎসাহিত করিয়াছেন। কুকুর অনেক সময় বিভিন্ন রোগের ভাইরাস، বিশেষত জলাতংক রোগ ছড়ায়। তাই ক্ষেত্রবিশেষ কুকুর নিধন করিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (স) নির্দেশ দিয়াছেন। অবশ্য শিকারের জন্য এবং পশুপাল ও ক্ষেত-খামার পাহারার উদ্দেশ্যে তিনি কুকুর রাখার অনুমতি দিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: 'কুকুর যদি আল্লাহ্ত্র সৃষ্ট জাতিগুলির মধ্যে একটি জাতি না হইত তবে আমি সকল কুকুর হত্যা করিবার নির্দেশ দিতাম। সুতরাং তোমরা যেইগুলি ঘোর কাল বর্ণের সেইগুলিকে হত্যা কর। ইহাদের দুই চোখের উপরিভাগে দুইটি সাদা ফোঁটা চিহ্ন আছে। এই শ্রেণীর কুকুরগুলি খুব বেশী হিংস্র ও দুষ্ট প্রকৃতির হইয়া থাকে। শিকারের বা শস্যক্ষেত্র পাহারা দেওয়ার বা পশুপাল চারণের কুকুর ছাড়া যদি কেহ কুকুর পালন করে، তাহা হইলে তাহার নেক আমল হইতে প্রতিদিন এক কীরাত করিয়া ছওয়াব হ্রাস পাইবে। কীরাত হইল নিক্তির ওজনে একটি ক্ষুদ্রতম পরিমাণ বিশেষ। উহার যথাযথ পরিমাণ আল্লাহ তা'আলাই ভাল জ্ঞাত। কোন পাত্রে যখন কুকুর মুখ দেয় তখন পাত্রস্থিত বস্তু ফেলিয়া দিয়া সাত বার পানি দ্বারা ধুইয়া ফেলিতে হইবে। আর অষ্টমবারে মাটি দ্বারা ঘষিয়া পরিষ্কার করিতে হইবে।
রাসূলুল্লাহ (স) কুকুর، বিড়াল ও শূকরের মূল্য গ্রহণ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলেন: যদি কেহ কুকুরের মূল্য গ্রহণ করিতে আসে، তবে তাহার হাতের মুঠা মাটি দিয়া ভরিয়া দিবে। ইমাম আবূ হানীফা (র)، ইমাম আবূ ইউসুফ (র) ও ইমাম মুহাম্মাদ (র)-এর মতে শিকারী কুকুরের মূল্য গ্রহণ করা জায়েয। ইমাম তাহাবী (র)-এর মতে، এই নিষেধাজ্ঞা ততদিন বলবৎ ছিল যতদিন কুকুর হত্যার বিধান কার্যকর ছিল। ইহার পর এই বিধান শিথিল হওয়ায় ঐ সমস্ত কুকুর যেইগুলি দিয়া উপকার পাওয়া যায়، তাহার মূল্য গ্রহণ করা জায়েয। ইমাম মালিক (র)-এর মতে، শিকারী এবং অশিকারী উভয় প্রকারের কুকুরের মূল্য গ্রহণ করা হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ (س) কুকুরের মূল্য গ্রহণ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। রাতের বেলা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ও গাধার ডাক শুনিলে রাসূলুল্লাহ (س) আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় চাহিতে বলিয়াছেন। কেননা গাধা শয়তানকে দেখিয়া ডাক দেয় এবং গাধা ও কুকুর যাহা দেখে মানুষ তাহা দেখে না (سنن نسائی، ۱خ.، পৃ. ۷۴-۶، ১৯৯-২০۱؛ سنن ابی داؤد، ۴خ.، পৃ.۴۰۶-۸؛ ۵خ.، পৃ. ۵۹۵؛ سنن ابن ماجہ، ۲خ.، পৃ. ۲۸۵؛ مؤطا مالک، ۲خ.، পৃ. ۳۰۱؛ جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ۱۱۸-۹؛ মেশکات شریف، ۸خ.، পৃ. ۲۱۲-۲)۔

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00