📄 দাসদের প্রতি
জাহিলী যুগে গোত্র-পরিচয়বিহীন দাস-দাসীরা প্রতিটি আরব গোত্রের জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হইত। কেননা তাহাদের রক্ষার জন্য স্বগোত্রীয় শক্তি ছিল না। রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর জন্মের প্রাক্কালে জালিম কুরায়শগণ যাহাদের উপর নির্মম নিগ্রহ ও বর্বর নিষ্ঠুরতার পরাকাষ্ঠা দেখাইয়াছে তাহারা হইল এই দাসশ্রেণী। বিশ্বইতিহাসে রাসূলুল্লাহ্ (স) সর্বপ্রথম প্রাচীন সভ্যতার উত্তরাধিকার এই দাসপ্রথার মূলে কুঠারাঘাত করেন। তিনি দাস-দাসীদেরকে তাহাদের মৌলিক অধিকার প্রদানের জন্য বাস্তবতার নিরিখে নানাবিধ পন্থা অবলম্বন করেন। 'ইবাদতের মধ্যে দাসমুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেন; এমনকি মৃত্যু সায়াহ্নে জীবনের সর্বশেষ ওসিয়াতে তাহাদের অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করিতে ভুলেন নাই। সমাজের নির্যাতিত ও নিগৃহীত মানুষের কল্যাণ সাধনায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় 'হিলফুল ফুযূল'-এর মাধ্যমে কৈশোর কালে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর যেই মহৎ প্রয়াসের সূচনা, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাহা ছিল সাফল্যের সহিত অব্যাহত। সেই কারণে-রাসূলুল্লাহ্ (স) মক্কায় যখন ইসলামের দা'ওয়াতের সূচনা করেন তখন কুরায়শ সর্দারগণের তুলনায় কুরায়শদের দাস-দাসিগণ সর্বপ্রথম দীনের ডাকে সাড়া দেন। সেই কারণে যায়দ ইব্ন হারিছা (রা), খাব্বাব ইব্ন আরাত (রা), বিলাল ইবন রাবাহ (রা), 'আম্মার ইব্ন ইয়াসির (রা), সুহায়ب ইবন সিনান (রা), আবূ ফুকায়হা (রা), 'আমের ইব্ن ফুহায়রা (রা), সালিম ইব্ন মা'কিল (রা) প্রমুখ দাসদের মধ্যে এবং সুবায়نাহ (রা), যুনায়রাহ (را), নাহদিয়াহ (را), উম্মু 'আবিس (را) এবং সুমায়্যা (را) প্রমুখ দাসীদের মধ্যে প্রথমে ইসলামের ছায়াতলে আসেন। যেইসব দাস-দাসী রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর স্নেহছায়ায় লালিত-পালিত হইয়াছেন، প্রত্যেকে ইসলামের অনুরাগে ও মহব্বতে কঠিন হইতে কঠিনতর কষ্ট ও যাতনা সহ্য করিয়াছেন، এমনকি জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করিতে দ্বিধা করেন নাই।
রাসূলুল্লাহ্ (س) সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠী দাস-দাসীদের প্রতি বিশেষভাবে স্নেহ، মমতা ও দয়া প্রদর্শন করিতেন। তাঁহার ভালবাসা ও মহানুভবতা ছিল সর্বব্যাপী। নিজ সন্তান ও দাস-দাসীর সন্তানের মধ্যে তিনি কোন পার্থক্য করিতেন না। তাঁহার মালিকানায় কোন দাস-দাসী আসিলে তিনি অচিরেই তাহাদের মুক্ত করিয়া দিতেন। কিন্তু তাহারা আল্লাহ্ রাসূলের স্নেহ-মায়ার বন্ধন হইতে মুক্তি চাহিত না। স্বীয় মাতা-পিতা، গোষ্ঠী-গোত্র ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করিয়া রাসূলুল্লাহ্ (س)-এর গোলামী করাকে জীবনের পরম সৌভাগ্য বলিয়া মনে করিতেন।
যায়দ ইব্ن حارثہ ছিলেন ক্রীতদাস। حکیم ابن حزام (را) তাঁহার ফুফু খাদীجہ بنت خویلد-এর জন্য মক্কার 'عکاظ' মেলা হইতে যায়د ابن حارثہকে চার শত درهمে ক্রয় করেন। حضرت خدیجہ (را) তাহাকে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খیدমত में হাদিয়া হিসাবে পেশ করেন। সেই সময় তাঁহার বয়স ছিল আট বৎসর। রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাকে আযাদ করিয়া পরিবারের সদস্যভূক্ত করেন। মক্কার সাধারণ মানুষ তখন রাসূলুল্লাহ্ (س)-কে 'زید بن محمد' বলিয়া সম্বোধন করিত। যায়د ابن حارثہর পিতা সংবাদ পাইয়া অর্থের বিনিময়ে তাহাকে মুক্ত করিবার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর খیدমত में আসেন। বিষয়টি তিনি যায়দের বিবেচনার উপর ছাড়িয়া দেন। যায়د ابن حارثہ اللہر رسولر ممتر বন্ধন ত্যাগ করিয়া পিতৃগৃহে ফিরিয়া যাইতে অস্বীকৃতি জানান। যায়দ ইব্ন حارثہ نبیگృহে رسولর আদর্শে প্রতিপালিত হইতে থাকেন। কোন এক অভিযান সমাপণ করিয়া যায়د ইব্ন حارثہ (را) مদিনا প্রত্যাবর্তন করেন। রাসূলুল্লাহ (س) তখন 'عائشہ (را)-এর ঘরে বিশ্রাম গ্রহণ করিতেছিলেন। যায়د (را) আসিয়া দরজা খটخٹ করিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) আনন্দের আতিশয্যে শরীরের চাদر টানিতে টানিতে অনেকটা অনাবৃত দেহেই তাঁহার দিকে আগাইয়া গেলেন। حضرت 'عائشہ (را) বলেন، اللہর কসম! আমি ইহার পূর্বে কখনও আর তাঁহাকে নग्न শরীরে দেখি নাই। তিনি যায়دকে বক্ষে চাপিয়া ধরিলেন এবং তাঁহাকে চুম্বন দিলেন।
যায়د ইব্ন حارثہ (را)-এর ছেলে Osamaকে রাসূলুল্লাহ (س) এতই ভালাબસিতেন যে، নিজ হাতে তাহার নাক পরিষ্কার করিয়া দিতেন। অত্যধিক স্নেহের কারণে তিনি বলেন: "اسامہ যদি বালিকা হইত তবে আমি নিজ হাতে তাহাকে স্বর্ণালংকার পরাইতাম।" Safina (ra) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (س)-এর সহধর্মিনী أم سلمہ (را)-এর ক্রীتদাস। তিনি বলেন، میں آپ کو اس شرط پر آزاد کر رہا ہوں کہ آپ زندگی بھر رسول اللہ (ص) کی خدمت کریں گی۔ سفینہ (را) نے کہا کہ اگر آپ یہ شرط نہ بھی لگاتے تو میں جب تک زندہ رہتی رسول اللہ (ص) کی خدمت سے باز نہیں آتی۔ اس کے بعد ام سلمہ (را) نے اسے اس شرط پر آزاد کر دیا (جامع ترمذی، 521، صفحہ 161؛ سنن ابی داؤد، 521، صفحہ 61-3؛ شبلی نعمانی، سیرت النبی، 221، صفحہ 232؛ سعید احمد، غلامان اسلام، صفحہ 38-49)۔
রাসولুল্লাহ (س) দাস-দাসীদের মুক্তিদান এবং তাহাদের সহিত সদাচরণ ও উত্তম ব্যবহারকে ইসলামী জাগরণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে বিবেচনা করিয়াছেন। দাস-দাসীদের মুক্তিদান আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বড় 'ইবাদত এবং অত্যন্ত ছওয়াবের কাজ। কেননা ইহার ফলে একজন মানুষের জীবন সুসংহত হয়، সামাজিক বৈষম্য দূরীভূত হয় এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বালাদে দাসমুক্তিকে ঘাঁটি হিসাবে অভিহিত করা হইয়াছে (د. 90211-13)۔ ঘাঁটি যেমন শত্রুর কবল হইতে রক্ষা পাওয়ার উপায় তেমনি দাসমুক্তির মত সৎকর্ম পরকালের আযاب হইতে মানুষকে রক্ষা করে।
রাসুলুল্লাহ (س) বলেন: "کوئی مسلمان غلام آزاد کرے تو اللہ اس غلام کے ہر عضو کے بدلے اس کے ہر ایک عضو کو جہنم کی آگ سے نجات دے گا۔" نرہتیا کے گناہ کی وجہ سے جن پر جہنم واجب ہو چکی ہے، انہیں جہنم کی آگ سے نجات دلانے کے لیے رسول اللہ (ص) نے غلام آزاد کرنے کا مشورہ دیا ہے۔ چنانچہ مکہ کے خطرناک دنوں میں بھی حضرت خدیجہ (را)، حضرت ابوبکر (را) اور دیگر دولتمند صحابہ کرام نقد رقم کے بدلے کافروں سے غلام و باندی خرید کر آزاد کرتے رہے۔
مদিনہ ہجرت کے بعد بھی مسلمانوں میں غلام و باندیوں کو آزاد کرنے کی دوڑ لگ گئی۔ حكیم بن حزام (را) مکہ فتح ہونے کے دن اسلام قبول کرنے کے بعد سو غلام و باندی آزاد کر دیتے ہیں۔ حضرت عائشہ (را) ایک قسم کی کفارت کے لیے چالیس غلام آزاد کرتی ہیں۔ عبد اللہ بن عمر (را) ایک ہزار اور عبد الرحمن بن عوف (را) تیس ہزار غلام و باندی آزاد کرتے ہیں۔ سورج گرہن اور اللہ کی قدرت کے نشان ظاہر ہونے پر صحابہ کرام غلام و باندی آزاد کرتے تھے۔ جو غلام و باندی مالک کو زیادہ پسند ہوتے اور قیمتی ہوتے، انہیں آزاد کرنا بہت اچھا ہے۔ رسول اللہ (ص) کی حدیث سن کر علی بن حسین (را)، جو امام زین العابدین کے نام سے مشہور ہیں، انہوں نے اپنا ایک پسندیدہ غلام بغیر کسی قیمت کے آزاد کر دیا۔ عبد اللہ بن جعفر (را) اسے دس ہزار درہم میں خریدنا چاہتے تھے۔ قبیلہ تمیم کی طرف سے ایک دفعہ صدقہ کا مال آیا۔ رسول اللہ (ص) نے فرمایا کہ یہ میری قوم کا صدقہ ہے۔ عائشہ (را) کے پاس ان کی ایک قیدی باندی تھی، اسے دیکھ کر رسول اللہ (ص) نے فرمایا:
"اسے آزاد کر دو۔ کیونکہ یہ اسماعیل (ع) کی نسل سے ہے۔"
📄 ছোটদের প্রতি
রাসূলুল্লাহ (س) ছোটদের প্রতি অকৃত্রিম স্নেহ، মমতা و ভালবাসা প্রদর্শন করিতেন و সোহাগ ভরা ব্যবহার দিয়া তাহাদিগকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতেন। সফর হইতে গৃহে প্রত্যাবর্তনের সময় পথিমধ্যে যেসব শিশু পাওয়া যাইত তিনি সওয়ারীর অগ্র-পশ্চাতে তাহাদিগকে তুলিয়া লইতেন ও পথে-ঘাটে খেলাধূলারত শিশুদের সহিত দেখা হইলে মুচকি হাসিয়া সালাম দিতেন। আনাস ইবন মালিক (রা) বলেন، রাসূলুল্লাহ (س)-এর চাইতে শিশুদের প্রতি অধিক স্নেহ প্রদর্শনকারী আমি আর কাহাকেও দেখি নাই। রাসূলুল্লাহ (س) ছোটদিগকে 'یا بني' (হে আমার প্রিয় পুত্র) বলিয়া সম্বোধন করিতেন (صحیح مسلم، ۷خ.، পৃ. ۱۸۸، ۳۲۴؛ جامع ترمذی، ۵خ.، পৃ. ۱۴۲-۳؛ سنن ابی داؤد، ۵خ.، পৃ. ۵۳۲)۔
مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيْرَنَا وَيُوَقِّرْ كَبِيْرَنَا فَلَيْسَ مِنَّا لَا تَنْزِعُ الرَّحْمَةَ اِلَّا مَنْ شَقِيَّ الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمٰنُ اِرْحَمُوا مَنْ فِى الْاَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِى السَّمَاءِ
"جو چھوٹے پر رحم نہیں کرتا اور بڑے کی عزت نہیں کرتا وہ ہم میں سے نہیں۔ بد نصیب کے علاوہ کسی سے رحمت نہیں چھینی جاتی۔ رحم کرنے والوں پر اللہ رحم کرتا ہے۔ زمین والوں پر رحم کرو تو آسمان والا (اللہ) تم پر رحم کرے گا" (جامع ترمذی، 421، صفحہ 369، 371؛ سنن ابی داؤد، 521، صفحہ 524)۔
چومنا، پیار و محبت کرنا آپ بچوں کا حق سمجھتے تھے۔ رسول اللہ (ص) کے پاس جب کوئی بچہ لایا جاتا تو آپ اسے گود میں لے کر پیار کرتے اور اس کی تحنیک کرتے (کھجور کا رس چبا کر نوزائیدہ کے منہ میں ڈالتے)۔ بچے کبھی کبھی ان کی گود میں پیشاب کر دیتے تو بھی آپ ناراض نہیں ہوتے بلکہ پانی لے کر پیشاب کی جگہ پر ڈال دیتے۔ رسول اللہ (ص) اپنے بیٹے ابراہیم اور نواسوں حسن و حسین کو باقاعدگی سے پیار کرتے، بوسہ دیتے، سونگھتے اور گلے لگاتے تھے۔ حسن و حسین (رضی اللہ عنہما) کو آپ زمین پر اپنے دو خوشبودار پھول کہتے تھے۔ رسول اللہ (ص) اپنی بیٹی زینب (رضی اللہ عنہا) کی بیٹی امہ (ابوالعاص بن ربیع کی بیٹی) کو اپنے کندھے پر بٹھا کر کبھی کبھی نماز ادا کرتے۔ جب آپ کھڑے ہوتے تو اسے اٹھا لیتے اور جب سجدہ کرتے تو اسے اتار دیتے (صحیح بخاری، 921، صفحہ 400-4؛ جامع ترمذی، 421، صفحہ 364-5؛ سنن نسائی، 121، صفحہ 178-9؛ صحیح مسلم، 221، صفحہ 319-320)۔ ایک دفعہ رسول اللہ (ص) کے پاس کچھ بدو آئے اور پوچھا: کیا آپ اپنے بچوں کو چومتے ہیں؟ موجود سب نے کہا: ہاں۔ لیکن آنے والوں نے کہا: اللہ کی قسم! ہم تو انہیں نہیں چومتے۔ اس پر رسول اللہ (ص) نے فرمایا:
او املك ان كان الله نزع من قلبك الرحمة
"میں کیا کر سکتا ہوں اگر اللہ نے تمہارے دلوں سے شفقت چھین لی ہے!" ایک دن حسن و حسین (رضی اللہ عنہما) کو پیار کرتے دیکھ کر اقرع بن حابس (رضی اللہ عنہ) نے کہا: اے اللہ کے رسول! میرے دس بچے ہیں، میں ان میں سے کسی کو نہیں چومتا۔ تب رسول اللہ (ص) نے فرمایا:
من لا يرحم لا يرحم
"جو رحم نہیں کرتا (اللہ کی طرف سے) اس پر رحم نہیں کیا جائے گا" (صحیح مسلم، 721، صفحہ 324-5؛ سنن ابی داؤد، 521، صفحہ 642-3)۔
بچوں کی خوشی
بچوں کی خوشی و مسرت میں رسول اللہ (ص) رکاوٹ نہیں ڈالتے تھے، بلکہ اس سے لطف اندوز ہوتے تھے۔ اگر کوئی روکتا تو آپ اسے روکنے سے منع کرتے تھے۔ آپ ان کے جائز گیت سنتے تھے۔ تاہم، اگر پڑھتے وقت کوئی بے معنی بات ہوتی تو فوراً اسے درست کر دیتے تھے۔ ہجرت کے وقت جب رسول اللہ (ص) مدینہ میں داخل ہوئے تو انصار کے چھوٹے بچے اور بچیاں خوشی سے گھروں سے نکل کر جشن منا رہے تھے اور دف بجا کر یہ گیت گا رہے تھے:
نحن جوار من بنى النجار + يا حبذا محمد من جار "ہم نجار قبیلے کی بچیاں ہیں: محمد (ص) کتنے اچھے ہمسائے ہیں"۔
رسول اللہ (ص) نے انہیں مخاطب کر کے فرمایا: اے بچیو! کیا تم مجھے پیار کرتی ہو؟ انہوں نے جواب دیا: ہاں، اے اللہ کے رسول۔ آپ نے مسکراتے ہوئے ان سے فرمایا: میں بھی تمہیں پیار کرتا ہوں (سیرت المصطفی، 121، صفحہ 405؛ شبلی نعمانی، سیرت النبی، 121، صفحہ 166-7؛ 221، صفحہ 231)۔
بیٹی کے کھلونے اور جھولا
کھلونے بنانا لڑکیوں کی فطری چیز ہے۔ اس سے بچوں کا دل لگتا ہے۔ امیر و غریب، بادشاہ و فقیر، اس میں کوئی فرق نہیں ہے۔ امہات المؤمنین عائشہ (رضی اللہ عنہا) بھی اپنی ازدواجی زندگی کے آغاز میں ایک بچی تھیں۔ بچیوں جیسا سلوک ان میں ظاہر ہوتا تھا۔ رسول اللہ (ص) انہیں روکتے نہیں تھے، بلکہ خوشی خوشی ان کے ساتھ کھلونوں کے بارے میں بات کرتے تھے۔ عائشہ بہت ہوشیاری سے اس کا جواب دیتی تھیں۔
عن عائشة قالت كنت العب بالبنات فربما دخل على رسول الله ﷺ وعندى الجواري فاذا دخل خرجن واذا خرج دخلن رواه ابو داود ) .
"عائشہ (رضی اللہ عنہا) فرماتی ہیں کہ میں گڑیوں سے کھیلتی تھی، اور کبھی کبھی رسول اللہ (ص) میرے پاس آتے اور میرے پاس لڑکیاں ہوتیں، تو جب وہ آتے تو وہ نکل جاتیں اور جب وہ نکل جاتے تو وہ اندر آ جاتیں" (ابو داؤد، 221، صفحہ 675)۔
عن عائشة قالت قدم رسول الله ﷺ من غزوة تبوك او خيبر وفي سهوتها ستر فهبت الريح فكشفت ناحية الستر عن بنات لعائشة لعب فقال ما هذا يا عائشة قالت بناتی ورای بینهن فرسا له جناحان من رقاع فقال ما هذا الذى ارى وسطهن قالت فرس قال وما هذا الذي عليه قلت جناحان قال فرس له جناحان قالت اما سمعت ان السليمان خيلا لها اجنحة قالت فضحك رسول الله ﷺ حتى رأيت نواجذه (رواه ابو داود ) .
"عائشہ (رضی اللہ عنہا) فرماتی ہیں کہ رسول اللہ (ص) تبوک یا خیبر کے غزوہ سے واپس تشریف لائے اور ان کے گھر کے ایک چھوٹے سے کمرے میں ایک پردہ تھا۔ ہوا چلنے سے پردہ ہٹ گیا اور عائشہ کے کھلنے والے کھلونے نظر آنے لگے۔ رسول اللہ (ص) نے پوچھا: اے عائشہ! یہ کیا ہے؟ انہوں نے کہا: یہ میرے کھلونے ہیں۔ ان میں ایک گھوڑا بھی تھا جس کے کپڑے کے دو پر تھے۔ آپ نے پوچھا: ان کے بیچ میں یہ کیا ہے جو میں دیکھ رہا ہوں؟ انہوں نے کہا: گھوڑا ہے۔ آپ نے پوچھا: اس پر یہ کیا ہے؟ میں نے کہا: اس کے دو پر ہیں۔ آپ نے پھر پوچھا: گھوڑے کے بھی کیا دو پر ہوتے ہیں؟ عائشہ (رضی اللہ عنہا) نے کہا: کیا آپ نے نہیں سنا کہ سلیمان علیہ السلام کے پاس پروں والے گھوڑے تھے؟ عائشہ (رضی اللہ عنہا) فرماتی ہیں کہ رسول اللہ (ص) اتنے ہنسے کہ میں نے ان کی داڑھی کے دانت دیکھے" (ابو داؤد، سابقہ)۔
عن عائشة قالت فلما قدمنا المدينة جاءنى نسوة وانا العب على ارجوحة وانا مجمعة فذهبن بي فهيأنني وصنعنني ثم اتين بى رسول الله ﷺ فبنى بي وانا بنت تسع سنين (وراه ابو داود ) .
"عائشہ (رضی اللہ عنہا) فرماتی ہیں کہ جب ہم مدینہ آئے تو کچھ عورتیں میرے پاس آئیں جب میں جھولے پر کھیل رہی تھی اور میرے بال بکھرے ہوئے تھے۔ وہ مجھے لے گئیں اور مجھے تیار کر کے خوبصورت بنایا۔ پھر مجھے رسول اللہ (ص) کے پاس لایا گیا اور انہوں نے مجھے اپنے پاس بلایا جب میں نو سال کی تھی۔" (ابو داؤد، سابقہ)۔ عائشہ (رضی اللہ عنہا) سے جھولے پر کھیلنے کے بارے میں دو اور حدیثیں ابو داؤد میں روایت کی گئی ہیں۔
بچوں سے رسول اللہ (ص) کی محبت
وعن ابي هريرة قال خرجت مع رسول الله ﷺ في طائفة من النهار حتى اتى خباء فاطمة فقال اثم لكع اثم لكع يعنى حسنا فلم تلبث ان جاء يسعى حتى اعتنق كل واحد منهما صاحبه فقال رسول الله ﷺ اللهم انى احبه واحب من يحبه (متفق عليه ) .
"ابوہریرہ (رضی اللہ عنہ) فرماتے ہیں کہ میں رسول اللہ (ص) کے ساتھ دن کے ایک حصے میں باہر نکلا یہاں تک کہ آپ فاطمہ کے خیمے پر تشریف لائے اور فرمایا: کیا یہاں حسن ہے؟ یہاں حسن ہے؟ پھر فوراً حسن دوڑتا ہوا آیا یہاں تک کہ دونوں نے ایک دوسرے کو گلے لگا لیا۔ تب رسول اللہ (ص) نے فرمایا: اے اللہ! میں اس سے محبت کرتا ہوں اور جو اس سے محبت کرے میں بھی اس سے محبت کرتا ہوں" (مشکات، سابقہ، صفحہ 568)۔
📄 শত্রুদের প্রতি
মক্কার কুরায়শরা প্রচণ্ডভাবে ও হীন পন্থায় আজীবন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মিশনের বিরোধিতা করিয়াছে। কিন্তু আল্লাহ্র রাসূল তাহাদের উপহাস، বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র সহ্য করিয়াছেন এবং উদার হৃদয়ে তাহাদের সহিত বন্ধুসুলভ আচরণ করিয়াছেন। ইতিহাসে এইরূপ মহানুভবতার দৃষ্টান্ত বিরল। অব্যাহত নাফরমানির কারণে কুরায়শ জনগোষ্ঠীর উপর যখন আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হইতে ভয়াবহ আযাব নাযিল হইল তখন তাহারা দিশাহারা হইয়া পড়িল। দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার জ্বালায় তাহারা মৃত জীব ও হাড় খাইতে শুরু করিল। এমনকি তাহাদের কোন ব্যক্তি আকাশের দিকে তাকাইলে ক্ষুধার যন্ত্রণায় তাহার ও আকাশের মধ্যখানে কেবল ধোঁয়ার মতই দেখিতে পাইত। এহেন মহা বিপদের সময় কাফিরদের পক্ষ হইতে এক দূত আসিয়া অনুরোধ করিল، ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুদার গোত্রের জন্য বৃষ্টির দু'আ করুন। তাহারা তো ধ্বংস হইয়া গেল। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন: মুদার গোত্রের জন্য দু'আ করিতে বলিতেছ কি؟ তুমি খুব সাহসী। অতঃপর তিনি বৃষ্টির জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করিলে প্রচুর বৃষ্টি হইল। আল্লাহ শাস্তি রহিত করিয়া দিলেন (صحیح بخاری، ۸خ.، পৃ. ۱۸۴-۸)۔
তিনি ইসলাম ও মুসলমানের পরম শত্রুর হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করিতেন। তুফায়ل ইبْن ام্র আদ-দাওসী একদল সঙ্গী লইয়া তাঁহার নিকট আসিয়া বলিলেন، ইয়া রাসূলাল্লাহ! দাওস গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিয়াছে। আপনি তাহাদের বিরুদ্ধে দু'আ করুন যাহাতে তাহারা ধ্বংস হইয়া যায়। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন : ইয়া আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত করুন এবং তাহাদিগকে ইসলামে লইয়া আসুন।' ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে এবং প্রয়োজনের তাগিদে তিনি মুশরিকদের সহিত সন্ধি করিতেও দ্বিধা করেন নাই (صحیح بخاری، ۵خ.، পৃ. ۱۸۹، ৩৩)۔
সামাজিকতা، মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দীন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে রাসূলুল্লাহ (س) مسلم-غیر مسلم নির্বিশেষে প্রত্যেকের হাদিয়া-উপঢৌকন কবুল করিতেন এবং বিনিময়ে তাহাদেরকেও উপহার-উপঢৌকন দিতেন। রাজা-بادشاہদের পক্ষ হইতে উপহার গ্রহণে তাঁহার কোন দ্বিধা ছিল না। মুসলমানদের বৈরী শক্তি পারস্য সম্রাট কর্তৃক প্রেরিত কিছু হাদিয়া তিনি কবূল করিয়াছিলেন। আয়লার শাসক রাসূলুল্লাহ (س)-কে একটি শ্বেত خچر উপহার দিয়াছিলেন، প্রতিদানে তিনি তাহাকে একটি চাদর দিয়াছিলেন (جامع ترمذی، ۴خ.، পৃ. ۱۸৩؛ صحیح بخاری، ۴خ.، পৃ. ৩৬৩)۔
ইয়াহুদী ও মুশরিকরা মুসলমানের চিহ্নিত দুশমন হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (س) তাহাদের সহিত অতি উত্তম ও স্বাভাবিক আচরণ করেন। তিনি তাহাদেরকে শ্রমিক হিসাবে কর্মে নিয়োজিত করেন، তাহাদের নিকট নিজের বর্ম বন্ধক রাখেন، নিত্য ব্যবহার্য পশু ও দ্রব্যসামগ্রী শত্রু পক্ষের সহিত বেচা-কেনা করেন এবং খায়বারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জমি উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক হারে ইয়াহুদীদের নিকট বর্গা দেন (صحیح بخاری، ۴خ.، পৃ. ۸۲، ۱۲۲، ۱۷۱، ২৯۵)۔ শত্রুদের সহিত উদার ও মহৎ আচরণ করা সত্ত্বেও ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ (س)-কে জীবনে শেষ করিয়া দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র আটে। ইয়াহুদী حارثের কন্যা ও سلام ابن مشقام-এর স্ত্রী زينب একটি বকরীর গোশতে বিষ মিশাইয়া তাহা রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট হাদিয়া পাঠায়। উহার কিছু অংশ মুখে দিয়া তিনি বিষক্রিয়া টের পাইয়া গেলেন। ষড়যন্ত্রকারী মহিলাকে ধরিয়া হাজির করা হইল কিন্তু আল্লাহর রাসূল তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিলেন (صحیح بخاری، ۴খ.، পৃ. ৩৬৩؛ پرگات، ۷خ.، পৃ. ۱۲۸)۔
যুদ্ধের ময়দানেও রাসূলুল্লাহ (س) শত্রুর সহিত খারাপ আচরণ করেন নাই। তিনি মুসলিম সেনাসদস্যদের প্রতি স্পষ্টت নির্দেশ জারী করেন :
اغزوا بسم الله وفى سبيل الله قاتلوا من كفر اغزوا ولا تغلوا ولا تغدروا ولا تمثلوا ولا تقتلوا وليدا لا تحرقوه فانه لا يعذب بالنار الا رب النار .
"تم اللہ کے نام سے اللہ کی راہ میں جہاد کرو۔ جو اللہ سے کفر کرتے ہیں، ان کے خلاف جنگ کرو۔ جہاد کرو لیکن غنیمت میں خیانت نہ کرو اور دشمنوں کی لاشوں کو نہ جلاؤ۔ کیونکہ آگ کے رب کے علاوہ کوئی بھی آگ سے عذاب نہیں دے سکتا" (جامع ترمذی، 421، صفحہ 57؛ سنن ابی داؤد، 421، صفحہ 16)۔
رسول اللہ (س)-এর উপর এক ইয়াহুদীর কিছু دینار (স্বর্ণমুद्रा) ঋণ ছিল। একদা সে আসিয়া রাসূলুল্লাহ (س)-এর কাছে উহা চাহিয়া বসিল। জওয়াবে তিনি বলিলেন: হে ইয়াহুদী! তোমাকে দেওয়ার মত এই মুহূর্তে আমার কাছে কিছুই নাই। ইয়াহুদী বলিল، যে পর্যন্ত তুমি হে মুহাম্মাদ! আমার ঋণ পরিশোধ করিবে না আমিও তোমাকে ছাড়িয়া যাইব না। এইবার রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন، আচ্ছা، আমিও তোমার কাছে বসিয়া থাকিব। এই বলিয়া তিনি তাহার কাছে بসিয়া পড়িলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (س) সেই একই স্থানে ظہر، عصر، مغرب، عشاء اور اگلے دن فجر کی نماز ادا کی۔
ادھر رسول اللہ (س) کے صحابہ (رضی اللہ عنہم) یہودی کو دھمکا رہے تھے اور ڈرا رہے تھے۔ رسول اللہ (ص) صحابہ کو دیکھ کر سمجھے اور انہیں یہودی کے ساتھ کسی قسم کی بدسلوکی کرنے سے منع کیا۔ تب صحابہ کرام (رضی اللہ عنہم) نے پوچھا: اے اللہ کے رسول! کیا ایک یہودی آپ کو روکے گا؟ رسول اللہ (ص) نے فرمایا: میرے رب نے مجھے کسی ذمّی پر ظلم کرنے سے منع کیا ہے۔ پھر جب دن زیادہ ہو گیا تو یہودی نے کہا: میں گواہی دیتا ہوں کہ اللہ کے سوا کوئی معبود نہیں اور یہ بھی گواہی دیتا ہوں کہ آپ یقیناً اللہ کے رسول ہیں۔ میں اپنے آدھے مال کو اللہ کی راہ میں صدقہ کرتا ہوں۔ درحقیقت، میں نے آپ کے ساتھ جو سلوک کیا وہ اس لیے کیا کہ تورات میں آپ کے اخلاق و کردار کے بارے میں جو صفات بیان کی گئی ہیں وہ آپ میں پائی جاتی ہیں یا نہیں۔ آپ کے بارے میں لکھا ہے: "محمد بن عبداللہ مکہ میں پیدا ہوں گے، مدینہ طیبہ کی طرف ہجرت کریں گے، شام تک ان کی سلطنت ہو گی، وہ فحش گو اور سخت دل نہیں ہوں گے، بازاروں میں شور نہیں مچائیں گے، غیر اخلاقی حرکتیں نہیں کریں گے اور ناپسندیدہ باتیں نہیں کریں گے۔" میں نے یہ سب کچھ آپ میں موجود پایا ہے۔ میں پختہ یقین کے ساتھ گواہی دیتا ہوں کہ اللہ کے سوا کوئی معبود نہیں اور آپ یقیناً اللہ کے رسول ہیں۔ اور یہ میرا مال ہے، اللہ کی مرضی کے مطابق آپ جہاں چاہیں اسے خرچ کر سکتے ہیں (مشکات المصابیح، 1021، صفحہ 232-3)۔
اسلام کے دشمن ابو جہل کا بیٹا عکرمہ اسلام قبول کرنے سے پہلے اپنے باپ کی طرح ہی اسلام اور مسلمانوں کا دشمن تھا۔ وہ مکہ فتح ہونے کے بعد یمن چلا گیا۔ اس کی بیوی ام حکیم نے اسلام قبول کر کے دھن્ય ہوئی۔ وہ یمن جا کر اپنے شوہر عکرمہ سے ملیں اور انہیں اسلام قبول کرنے کی دعوت دی۔ شوہر کے ساتھ مکہ واپس آ کر وہ رسول اللہ (ص) کے پاس حاضر ہوئیں۔ رسول اللہ (ص) انہیں دیکھ کر کھڑے ہو گئے اور خوشی سے اتنی تیزی سے آگے بڑھے کہ ان کے جسم سے چادر بھی گر گئی۔ رسول اللہ (ص) نے فرمایا:
مرحبا بالراكب المهاجر . "مہاجر سوار کو خوش آمدید!"
رسول اللہ (ص) نے عکرمہ کا بیعت قبول کیا اور میاں بیوی دونوں کا سابقہ نکاح برقرار رکھا۔ عکرمہ کے مسلمان ہونے کے بعد رسول اللہ (ص) نے صحابہ کرام کو نصیحت کی کہ آج سے ابو جہل کو کوئی گالی نہ دے۔ کیونکہ گالی دینے سے زندہ لوگوں کو تکلیف ہوتی ہے لیکن وہ مردہ لوگوں تک نہیں پہنچتی (مؤطا امام مالک، 221، صفحہ 154؛ شبلی نعمانی، سیرت النبی، 221، صفحہ 219؛ سیرت حلبیہ، 521، صفحہ 282)۔
احد کی جنگ میں زبیر بن مطعم کے غلام وحشی کے ہاتھوں رسول اللہ (ص) کے چچا حضرت حمزہ (رضی اللہ عنہ) شہید ہوئے۔ ان کی لاش کو ٹکڑوں میں کاٹ دیا گیا تھا۔ رسول اللہ (ص) اس واقعے سے بہت غمگین ہوئے۔ مکہ فتح ہونے کے فوراً بعد اسلام قبول کر کے امان حاصل کرنے کے لیے وہ طائف سے آ کر رسول اللہ (ص) کے پاس حاضر ہوئے۔ لیکن اللہ کے رسول (ص) نے کوئی بدلہ نہیں لیا۔ انہیں دیکھ کر صرف پوچھا: کیا تم ہی وحشی ہو؟ اس نے کہا: ہاں۔ کیا تم ہی نے حمزہ کو قتل کیا تھا؟ اس نے جواب دیا: جو خبر آپ تک پہنچی ہے، وہی سچ ہے۔ رسول اللہ (ص) نے فرمایا: اب میری نظروں سے دور رہو۔
وحشی کا چہرہ دیکھنے سے رسول اللہ (ص) کے دل میں حضرت حمزہ (رضی اللہ عنہ) کی شہادت کا دردناک یاد تازہ ہو سکتا تھا، اس لیے آپ نے وحشی کو اپنے سامنے آنے سے منع کیا تھا۔ رسول اللہ (ص) کی وفات تک وحشی ان سے بچتے رہے۔ حضرت ابوبکر (رضی اللہ عنہ) کے دور خلافت میں وحشی نے یمامہ کی جنگ میں مسیلمہ کذاب کو خود اپنے ہاتھوں سے قتل کیا (صحیح بخاری، 721، صفحہ 35؛ ابن ہشام، سیرت النبی، 221، صفحہ 52-4)۔
ابوسفیان کی بیوی ہند بنت عتبہ نے احد کی جنگ میں حمزہ (رضی اللہ عنہ) کی لاش سے ناک، کان، ہاتھ، پاؤں کاٹ کر الگ کر دیے اور وحشیانہ طور پر سینہ چاک کر کے کلیجہ نکال لیا اور اسے چبانے لگی۔ مکہ فتح ہونے کے وقت ہند رسول اللہ (ص) کے پاس حاضر ہوئی اور عرض کیا کہ آپ میرے گزشتہ زندگی کے گناہوں کو معاف کر دیں۔ اختیار میں ہونے کے باوجود انہوں نے قاتلہ کو معاف کر دیا۔ اللہ کے رسول کی اس بے مثال سخاوت کو دیکھ کر ہند فوراً ایمان لے آئیں اور مسلمان ہو گئیں۔ رسول اللہ (ص) نے ہند کے لیے مغفرت کی دعا کی (عيون الأثر، 221، صفحہ 28-30؛ تاريخ الطبري، 121، صفحہ 400-1؛ شبلی نعمانی، سیرت النبی، 221، صفحہ 219)۔
مکہ کے قریش سردار ابوسفیان نے اپنی زندگی کا بڑا حصہ اسلام دشمنی میں گزارا۔ بدر، احد، احزاب سمیت کئی جنگیں انہی کی قیادت میں مشرکوں کی طرف سے لڑی گئیں۔ جن قریش رہنماؤں کی کثیرالجہتی سازشوں کی وجہ سے رسول اللہ (ص) اور ان کے سینکڑوں پیروکاروں کو پیاری وطن مکہ کو چھوڑ کر مدینہ میں پناہ گزین ہونا پڑا، ان میں ابوسفیان بھی شامل تھے۔ مکہ فتح کے وقت رسول اللہ (ص) نے اسے نہ صرف معاف کر دیا بلکہ اعلان کیا: "جو ابوسفیان کے گھر میں پناہ لے گا، وہ محفوظ رہے گا؛ جو اپنے گھر کا دروازہ بند رکھے گا، وہ محفوظ رہے گا؛ جو خانہ کعبہ میں داخل ہو گا، وہ بھی محفوظ رہے گا"۔ اس کے نتیجے میں ان گھروں میں اور خانہ کعبہ میں بہت زیادہ لوگ جمع ہو گئے۔ رسول اللہ (ص) نے ہر طبقے کے دشمن کو عام معافی دے کر فرمایا:
لا تثريب عليكم اليوم اذهبوا فانتم الطلقاء اليوم يوم المرحمة اليوم يعز الله قريشا ويعظم الله الكعبة
"آج تم پر کوئی ملامت نہیں ہے۔ جاؤ، تم آزاد ہو۔ آج مہربانی اور معافی کا دن ہے۔ آج اللہ تعالی قریش کو عزت دے گا اور خانہ کعبہ کو عظمت دے گا" (صحیح مسلم، 621، صفحہ 245-250؛ سنن ابی داؤد، 421، صفحہ 211-4؛ نبی رحمت، صفحہ 68-72؛ زاد المعاد، 221، صفحہ 161-6)۔
صفوان بن امیہ قریش قبیلے کے سرکردہ رہنماؤں میں سے ایک تھا اور اسلام کا سخت دشمن تھا۔ اسی نے رسول اللہ (ص) کو قتل کرنے کے لیے بڑی رقم کے بدلے عمیر بن وہب کو اجرت پر رکھا تھا۔ مکہ فتح کے بعد وہ سمندر کے راستے یمن جانے کے لیے جدہ بھاگ گیا۔ اس کی بیوی فاختا بنت ولید نے اسلام قبول کر کے مکہ میں رہ رہی تھی۔ صفوان کا چچا زاد بھائی عمیر بن وہب رسول اللہ (ص) کی خدمت میں حاضر ہوا اور صفوان کی حفاظت کی درخواست کی۔ رسول اللہ (ص) نے اسے نہ صرف حفاظت دی بلکہ عمیر (رضی اللہ عنہ) کی درخواست پر حفاظت کی نشانی کے طور پر اپنی پگڑی بھی دی۔ عمیر (رضی اللہ عنہ) پگڑی لے کر صفوان کے پاس تیزی سے پہنچے اور اسے اسلام قبول کرنے اور رسول اللہ (ص) کی خدمت میں حاضر ہونے کی درخواست کی۔ صفوان کچھ ہچکچاہٹ کے ساتھ رسول اللہ (ص) کی خدمت میں حاضر ہوا۔ پگڑی ہاتھ میں لے کر لوگوں کے سامنے چلا کر کہنے لگا: "اے محمد! عمیر کہتا ہے کہ آپ نے مجھے امان دی ہے؟" رسول اللہ (ص) نے جواب دیا: "ہاں۔" لیکن اسے دو ماہ کی مہلت دی۔ رسول اللہ (ص) نے فرمایا: "تمہیں چار ماہ کی مہلت دی گئی۔" حنین اور طائف کی جنگوں کے بعد صفوان مسلمان ہو گیا۔ اس کی بیوی کو اس کے نکاح میں ہی رکھا گیا (ابن ہشام، سیرت النبی، 221، صفحہ 495-6؛ مؤطا امام مالک، 221، صفحہ 152)۔
عرب کے ایک ایک قبیلے نے دھیرے دھیرے اسلام کا جھنڈا تلے جمع ہونا شروع کیا۔ بنو حنیفہ کا قبیلہ ابھی تک اطاعت کا مظاہرہ نہیں کیا تھا۔ جھوٹے نبی مسیلمہ کذاب کا تعلق اسی قبیلے سے تھا۔ ثمامہ بن عصال اس قبیلے کے سرکردہ رہنماؤں میں سے ایک تھا۔ رسول اللہ (ص) نے نجد کی طرف کچھ گھڑ سوار دستے بھیجے تھے۔ انہوں نے ثمامہ بن عصال کو پکڑا اور مسجد نبوی کے ایک ستون سے باندھ دیا۔ رسول اللہ (ص) نے صحابہ کرام کو اس کے ساتھ اچھا سلوک کرنے کا حکم دیا۔ رسول اللہ (ص) کے گھر سے روزانہ صبح و شام ایک اونٹنی کا دودھ قیدی سردار کے پاس بھیجا جاتا تھا۔ رسول اللہ (ص) اس کے پاس آئے اور پوچھا: "اے ثمامہ! تمہیں کیسا محسوس ہو رہا ہے؟" اس نے جواب دیا: "اے محمد! مجھے تو اچھا ہی محسوس ہو رہا ہے۔ کیونکہ آپ لوگوں پر کبھی ظلم نہیں کرتے بلکہ فضل ہی کرتے ہیں۔ اگر آپ مجھے قتل کرتے ہیں تو آپ نے ایک قاتل کو قتل کیا، اور اگر آپ احسان کرتے ہیں تو آپ نے ایک شکر گزار شخص پر احسان کیا ہے۔ اور اگر آپ مال چاہتے ہیں تو جو چاہیں مانگ لیں۔" رسول اللہ (ص) اسے اسی حالت میں چھوڑ گئے۔ اسی طرح اگلے دن بھی ہوا۔ رسول اللہ (ص) نے پھر اس سے پوچھا: "اے ثمامہ! تمہیں کیسا محسوس ہو رہا ہے؟" اس نے جواب دیا: "وہی جو میں نے کل آپ سے کہا تھا۔ اگر آپ مجھ پر مہربانی کرتے ہیں تو آپ نے ایک شکر گزار شخص پر مہربانی کی۔" رسول اللہ (ص) اسے اسی حالت میں چھوڑ گئے۔ اسی طرح اگلے دن بھی ہوا۔ آپ نے پوچھا: "اے ثمامہ! تمہیں کیسا محسوس ہو رہا ہے؟" اس نے جواب دیا: "وہی جو میں نے پہلے ہی کہا تھا۔ اگر آپ مجھ پر مہربانی کرتے ہیں تو آپ نے ایک شکر گزار شخص پر مہربانی کی۔" رسول اللہ (ص) نے فرمایا: "تم ثمامہ کے بندھن کھول دو۔"
اب ثمامہ آزاد ہو کر مسجد نبوی کے قریب ایک کھجور کے باغ میں گیا اور غسل کیا۔ اس کے بعد وہ مسجد نبوی میں داخل ہو کر کہنے لگا کہ میں گواہی دیتا ہوں کہ اللہ کے سوا کوئی معبود نہیں اور محمد (ص) اللہ کے رسول ہیں۔ اس نے مزید کہا: اے محمد! اللہ کی قسم، اس سے پہلے زمین پر آپ کے چہرے سے زیادہ کوئی چہرہ مجھے ناپسند نہیں تھا۔ لیکن اب آپ کا چہرہ مجھے ہر چہرے سے زیادہ پیارا ہے۔ اللہ کی قسم، اس سے پہلے آپ کے دین سے زیادہ ناپسندیدہ دین مجھے کوئی اور نہیں تھا۔ لیکن اب آپ کا دین مجھے سب سے پیارا ہو گیا ہے۔ اللہ کی قسم، آپ کے شہر سے زیادہ ناپسندیدہ شہر مجھے کوئی اور نہیں تھا۔ لیکن اب آپ کا شہر مجھے سب سے پیارا ہو گیا ہے۔ آپ کے گھڑ سوار فوجیوں نے مجھے اس وقت پکڑا جب میں عمرہ کے لیے نکلا تھا۔ اب آپ مجھے کیا کرنے کا حکم دیتے ہیں؟
تب رسول اللہ (ص) نے اسے دنیا اور آخرت کی خوشخبری سنائی اور اسے عمرہ کرنے کا حکم دیا۔ جب وہ مکہ پہنچا تو کسی نے اس سے پوچھا کہ کیا تم بے دین ہو گئے ہو؟ اس نے جواب دیا: "ایسا کیوں؟ میں تو رسول اللہ (ص) کے پاس اسلام قبول کر چکا ہوں۔ اور اللہ کی قسم، رسول اللہ (ص) کی اجازت کے بغیر یمن سے یمامہ سے گندم کا ایک دانہ بھی تمہارے پاس نہیں آئے گا۔" یہ تنبیہ سن کر قریش کے بزرگوں اور دانشمندوں نے اسے چھوڑ دینے کا حکم دیا۔ کیونکہ مکہ کے لوگ کھانے کے لیے یمامہ پر منحصر تھے۔
آزاد ہونے کے بعد اور عمرہ ادا کرنے کے بعد وہ یمامہ واپس آ گیا۔ وہاں کے تاجروں نے اس کے مشورے پر مکہ میں کھانے کی چیزوں کی سپلائی روک دی۔ اس کے نتیجے میں مکہ میں شدید خوراک کا بحران پیدا ہو گیا۔ بھوک سے متاثر لوگ مجبور ہو کر اونٹ کی کھال ابال کر کھانے لگے۔ حالات خراب ہونے پر قریش نے رسول اللہ (ص) کی خدمت میں آ کر محاصرہ ہٹانے کی درخواست کی۔ تقدیر کی کیسی ستم ظریفی! یہ سوچ کر حیرانی ہوتی ہے کہ تاریخ خود کو کیسے دہراتی ہے۔ یہی قریش تھے جنہوں نے اللہ کے رسول کو خاندان سمیت ابوطالب کی گھاٹی میں تین سال تک جلاوطن رہنے پر مجبور کیا تھا۔ کھانے کی ایک دانہ بھی باہر سے نہ آنے دینے کے لیے پہاڑی دروں اور راستوں پر مسلح پہرے دار تعینات کیے تھے۔ جب چھوٹے بچے بھوک سے بلکتے، چیختے اور زمین پر لوٹتے تھے تو بھوکے انسانی بچوں کی بے بسی پر وہ خوش ہوتے تھے اور ان کے سنگدل دل میں رحم کا ذرہ بھی نہیں آتا تھا۔ لیکن اللہ کے رسول دشمنوں کی خوراک کی کمی کی خبر سن کر بہت پریشان ہو گئے۔ موقع ملنے پر بھی انہوں نے انتقام کی خواہش پوری نہیں کی۔ اپنے ہم وطنوں کے لیے ان کا دل تڑپ اٹھا۔ انہوں نے محاصرہ ہٹانے کا حکم دے کر ثمامہ کو فوری پیغام بھیجا۔ خط ملتے ہی خوراک کا محاصرہ ہٹا لیا گیا اور مکہ میں زندگی کی رونقیں دوبارہ بحال ہو گئیں (صحیح بخاری، 721، 197-9؛ سیرت حلبیہ، 621، صفحہ 49-53)۔
حباب بن اسود اللہ کے رسول کی بیٹی زینب (رضی اللہ عنہا) کو ہجرت کے وقت اتنی زور سے نیزہ مارا تھا کہ وہ اونٹ کے ہوائی جہاز سے سخت زمین پر گر گئیں، جس کے نتیجے میں ان کا حمل ضائع ہو گیا۔ اس حملے کے صدمے کو برداشت نہ کر سکنے کی وجہ سے بعد میں ان کا انتقال ہو گیا۔ اس جرم پر رسول اللہ (ص) نے حباب بن اسود کو قتل کرنے کا حکم دیا تھا۔ وہ ایران بھاگنا چاہتے تھے، لیکن قسمت انہیں نبوت کی دہلیز تک لے آئی۔ ایک دن رسول اللہ (ص) کی خدمت میں حاضر ہو کر انہوں نے کہا: اے اللہ کے رسول! میں ایران بھاگنا چاہتا تھا، لیکن اگلے ہی لمحے مجھے آپ کی معافی، فیاضی اور عظیم الشان سخاوت یاد آئی۔ میرے بارے میں آپ تک جو بھی شکایات پہنچی ہیں، سب سچ ہیں۔ گزشتہ دنوں کی نادانی اور جرم پر مجھے افسوس ہے۔ میں اسلام قبول کر کے دھن्य ہونا چاہتا ہوں۔ رسول اللہ (ص) نے فرمایا: "اے حباب! میں نے تمہیں معاف کر دیا ہے۔ اللہ تعالی نے اسلام کی طرف ہدایت دے کر تم پر خاص فضل کیا ہے۔ اسلام گزشتہ زندگی کے تمام گناہوں کو دھو کر صاف کر دیتا ہے" (سیرت حلبیہ، 521، صفحہ 279-280؛ الرحیق المختوم، صفحہ 406-7؛ اصح السیر، صفحہ 265)۔
فضالہ بن عمیر کا ارادہ برا تھا۔ اس نے سازش کی کہ جب اللہ کے رسول خانہ کعبہ کا طواف کر رہے ہوں گے تو وہ اچانک حملہ کر کے رسول اللہ (ص) کو قتل کر دے گا، جو اس سے پہلے کوئی بھی بدقسمت نہیں کر سکا تھا۔ وہ اسی ارادے سے ان کے قریب آیا تو آپ نے پکارا: فضالہ! آواز سنتے ہی آپ نے اس سے پوچھا:
ماذا كنت تحدث نفسك . "اس وقت تم اپنے دل میں کیا سوچ رہے تھے؟"
اس نے انکار کیا اور کہا: کچھ نہیں۔ میں اللہ کو یاد کر رہا تھا۔ رسول اللہ (ص) نے یہ بات سن کر مسکرا دیا۔ اس کے بعد فرمایا: اللہ سے معافی مانگو۔ پھر اپنا ہاتھ اس کے سینے پر رکھا اور اس کا دل اسی لمحے پرسکون ہو گیا۔ فضالہ نے کہا کہ اس سے پہلے کہ وہ اپنا ہاتھ میرے سینے سے ہٹاتے، اللہ تعالی کی تمام مخلوقات میں ان سے زیادہ پیارا مجھے کوئی نہیں تھا۔ رسول اللہ (ص) نے اسے معاف کر دیا (ابن ہشام، سیرت النبی، 221، صفحہ 494؛ نبی رحمت، 221، صفحہ 76-7)۔
کعب بن زہیر ایک شاعر تھا اور رسول اللہ (ص) کا بڑا دشمن تھا۔ وہ اپنی شاعری کے ذریعے نبی کریم (ص) کی مذمت کرتا تھا۔ اس نے اپنے بھائی بجیر سے ایک خط حاصل کیا اور خفیہ طور پر مدینہ چلا گیا اور اپنے پہلے سے جاننے والے جہینہ قبیلے کے ایک شخص کے پاس جا کر ٹھہرا۔ وہ شخص کعب کو لے کر فجر کی نماز کے وقت رسول اللہ (ص) کے پاس حاضر ہوا۔ کعب رسول اللہ (ص) کے سامنے جا کر بیٹھا اور ان سے ہاتھ ملایا۔ پہلے سے جاننے والا نہ ہونے کی وجہ سے رسول اللہ (ص) اسے نہیں پہچان سکے۔ پھر شاعر کعب نے کہا: اے اللہ کے رسول! کعب بن زہیر تائب دل کے ساتھ اور مسلمان ہو کر آپ کی خدمت میں حاضر ہوا ہے۔ وہ آپ سے امان اور جان کی سلامتی کی درخواست کرتا ہے۔ کیا آپ اس کی توبہ قبول کریں گے؟ یہ سن کر رسول اللہ (ص) نے فرمایا: ہاں۔ یہ سن کر ایک انصاری صحابی رسول اللہ (ص) کے پاس دوڑتے ہوئے آئے اور عرض کیا: اے اللہ کے رسول! مجھے اجازت دیں، میں اللہ کے دشمن کی گردن فوراً اڑا دوں۔ رسول اللہ (ص) نے اسے روک دیا اور فرمایا: نہیں، اسے چھوڑ دو۔ اس نے توبہ کر لی ہے اور شرک چھوڑ کر یہاں آیا ہے۔ ایک اور روایت میں ہے کہ اس کے بعد کعب نے رسول اللہ (ص) کی تعریف میں مشہور 'بانت سعاد' (بنوت سعاد) نظم پڑھی۔ نبی کریم (ص) اتنے خوش ہوئے کہ انہوں نے کعب کو اپنا چادر تحفہ کے طور پر دے دیا۔ یہ نظم 'بنات سعاد' کے نام سے عربی شاعری میں دنیا بھر میں مشہور ہو گئی ہے (زاد المعاد، 221، صفحہ 205-7؛ ابن ہشام، سیرت النبی، 221، صفحہ 605-9؛ حضرت محمد مصطفی (ص) ہم عصر حالات اور زندگی، صفحہ 786)۔
عدی بن حاتم رسول اللہ (ص) سے دشمنی رکھتے تھے۔ انہوں نے اپنی بہن سے رسول اللہ (ص) کی فیاضی اور احسان کی بات سنی تو مدینہ چلے گئے اور اسلام قبول کر لیا۔ رسول اللہ (ص) نے انہیں بھی معاف کر دیا (ابن ہشام، 421، صفحہ 173)۔
بنو عمرو کے عبداللہ بن سعد مسلمان اور وحی لکھنے والے تھے۔ بعد میں انہوں نے اسلام چھوڑ کر مشرک ہو گئے۔ رسول اللہ (ص) نے انہیں قتل کرنے کا حکم دیا تھا۔ وہ خفیہ طور پر اپنے چچا زاد بھائی عثمان (رضی اللہ عنہ) کے پاس گئے اور عثمان (رضی اللہ عنہ) نے انہیں چھپا لیا۔ مکہ کی حالت پرسکون ہونے پر وہ رسول اللہ (ص) کے پاس حاضر ہوئے۔ عثمان (رضی اللہ عنہ) نے ان کی حفاظت کی درخواست کی۔ رسول اللہ (ص) نے کوئی جواب نہیں دیا اور خاموش رہے۔ عثمان (رضی اللہ عنہ) کے چلے جانے کے بعد رسول اللہ (ص) نے صحابہ کو فرمایا: میں اس لیے خاموش رہا تاکہ تم میں سے کوئی اسے قتل کر دے۔ ایک انصاری صحابی نے کہا: اے اللہ کے رسول! ایک اشارہ ہی تو کر دیتے۔ آپ نے فرمایا: کوئی نبی اشارہ دے کر کسی کو قتل نہیں کرتا (ابن ہشام، 421، صفحہ 41)۔
اس طرح عبداللہ بن سعد موت کی سزا سے بچ گیا جو نبی کریم (ص) کی سخاوت کی گواہی دیتا ہے۔