📄 খাদ্যে বিষ মিশ্রণকারী ইয়াহুদী নারীকে ক্ষমা প্রদর্শন
মহানবী (স)-কে হত্যা করিবার উদ্দেশ্যে এক ইয়াহুদী নারী তাঁহার খাদ্যে বিষ মিশাইয়া দিয়াছিল। তবুও মহানুভব নবী তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছিলেন। ঘটনটি ঘটিয়াছিল খায়বার বিজয়ের পরবর্তী কালে। এই ব্যাপারে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হইয়াছে:
عن ابي هريرة لما فتحت خيبر أهديت لرسول الله ﷺ شاة فيها سم (رواه البخاري (٦١٠/٢) .
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। খায়বার বিজিত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (স)-কে একটি বিষমিশ্রিত বকরী হাদিয়া দেওয়া হইয়াছিল" (২খ., পৃ. ৬১০)।
বায়হাকীর বর্ণনায় রহিয়াছে:
عن أبي هريرة أن امرأة من يهود اهدت لرسول الله ﷺ شاة مسمومة فقال لاصحابه امسكوا فانها مسمومة وقال لها ما حملك على ما صنعت قالت اردت ان اعلم ان كنت نبيا فسيطلعك الله عليه وان كنت كاذبا اريح الناس منك قال فما عرض لها رسول الله ﷺ
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। জনৈকা ইয়াহুদী নারী রাসূলুল্লাহ (স)-কে বিষমিশ্রিত একটি ভুনা বকরী হাদিয়া দিয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (স) সাহাবীগণকে বলিলেন, তোমরা উহা খাওয়া হইতে বিরত থাক। কারণ উহা বিষমিশ্রিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, এই কাজে তোমাকে কি জিনিস প্ররোচিত করিল? সে উত্তর দিল, আমার ইচ্ছা হইল, যদি আপনি নবী হইয়া থাকেন তাহা হইলে আল্লাহ আপনাকে উহা অবহিত করিবেন। আর যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন তাহা হইলে উহার দ্বারা আমি জনগণকে আপনার উৎপাত হইতে মুক্তি দিব। তাহার কথা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (স) তাহাকে কোন কিছুই বলিলেন না" (বায়হাকী, বরাতে আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ১৬৮)।
কোন কোন রিওয়ায়াতে রহিয়াছে, রাসূলুল্লাহ (স) উহা হইতে কিছু অংশ ভক্ষণ করিয়াছিলেন আর উহার বিষ তাঁহার শরীরে প্রবলভাবে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করিয়াছিল। ফলে তাহার কাঁধ হইতে রক্তমোক্ষণ করানো হইয়াছিল। রক্তমোক্ষণ করিয়াছিলেন আবূ হিন্দ। তিনি আনসার গোত্রের বানু বায়াদা উপগোত্রের একজন ক্রীতদাস ছিলেন। শিংগা ও ছুরির সাহায্যে তাঁহার রক্ত নিঃসারণ করা হইয়াছিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, প্রাগুক্ত)। বিষক্রিয়া এত প্রকটভাবে তাঁহার দেহে আঘাত হানিয়াছিল যে, মৃত্যুর সময়ও প্রচণ্ডভাবে রাসূলুল্লাহ (স) উহা অনুভব করিয়াছিলেন। যেমন বর্ণিত হইয়াছে:
عن عائشة قالت كان النبى ﷺ يقول في مرضه الذي مات فيه يا عائشة ما ازال اجد الم الطعام الذي اكلت بخيبر فهذا أوان وجدت انقطع ابهرى من ذلك السم (رواه البخاري (٦٣٧/٢) .
"আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার মুমূর্ষু অবস্থায় বলেন, হে 'আইশা! আমি খায়বারে যেই খাদ্য ভক্ষণ করিয়াছিলাম উহার বিষক্রিয়া অনুভব করিতেছি। এই মুহূর্তে আমার কণ্ঠনালী সেই বিষক্রিয়ার ফলে বিচ্ছিন্ন হইয়া যাওয়ার কষ্ট অনুভব করিতেছি" (বুখারী, ২খ., পৃ. ৬৩৬)।
আল্লামা আহমদ আলী সাহারানপুরী আল-কাসতাল্লানীর উদ্ধৃতি দিয়া বলেন, বিষ মিশ্রণকারী নারীর নাম ছিল যায়নাব বিনতুল হারিছ। সে ছিল সাল্লাম ইব্ন মিশকামের স্ত্রী। তাহার কৃতকর্ম রাসূলুল্লাহ (স) মার্জনা করিয়া দিয়াছিলেন। আল্লামা যারকাশী বলেন, মু'আম্মার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, মহিলাটি উহার পর ইসলাম গ্রহণ করিয়াছিল। কিন্তু তাহার বিষ মিশ্রিত গোশত খাওয়ার ফলে আল-বারা' ইবনুল-মা'রূর শহীদ হওয়ার 'কিসাস' (হত্যার বদলে হত্যা) স্বরূপ তাহাকে হত্যা করা হয় (পাদটীকা: সহীহ বুখারী, প্রাগুক্ত, ২খ., পৃ. ৬১০)।
আল্লামা ইব্ন কাছীর ইব্ন লুহায়'আ ও মূসা ইবন 'উকবা সূত্রে বলেন, যায়নাব বিনতিল হারিছ নামক মহিলাটি দুর্ধর্ষ ইয়াহূদী মারহাবের ভাইয়ের মেয়ে ছিল। সাফিয়্যা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিবাহে আবদ্ধ করিবার প্রতিশোধস্বরূপ এই বিষ মিশ্রণের ঘৃণিত কাজটি করিয়াছিল। বকরীটির কাঁধের ও রানের গোশতে সে প্রচুর পরিমাণে বিষ মিশ্রিত করিয়াছিল। কারণ তাহার নিকট এই সংবাদ পৌছিয়াছিল যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে এই দুইটি স্থানের গোশত অতিমাত্রায় প্রিয়। রাসূলুল্লাহ (স) সাফিয়্যার গৃহে বিশ্ব ইবনুল বারাআ ইব্ন মা'রূর (রা)-কে সঙ্গে লইয়া প্রবেশ করিলে তাঁহার সম্মুখে সে গোশত হাজির করিয়াছিল। তিনি ও বিশ্ব উহা হইতে একটি করিয়া গোশতের টুকরা খাইবার পর রাসূলুল্লাহ (স) অপরাপর সাহাবীগণকে বলিলেন, সকলেই উহা হইতে হাত উত্তোলন কর। কারণ কাঁধের এই গোশতটি আমাকে অবহিত করিতেছে যে, উহাতে মৃত্যুর কারণ রহিয়াছে। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব (রা)-এর মধ্যে উহার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হইলে তাহার চেহারা বিবর্ণ হইয়া গেল। তিনি স্বীয় স্থানই ত্যাগ করিতে পারিলেন না, ইনতিকাল করিলেন। বিষযুক্ত এই খাদ্য গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ (স) তিন বৎসর জীবিত ছিলেন। অতঃপর উহার প্রভাবেই তিনি ইনতিকাল করেন। ফলে তিনি শহীদ হইবার মর্যাদা লাভ করেন (ইন কাছীর, প্রাগুক্ত, ৪খ., পৃ. ১৬৯)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর এহেন নির্যাতনকারীদিগকেও তিনি ক্ষমা করিয়া দেন। শুধু তিনি ক্ষমাই করিয়া দেন নাই, আল্লাহর দরবারে তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া দিবার জন্য দু'আও করিয়াছিলেন। তাঁহার দু’আর বাক্য ছিল এইরূপঃ
رب اغفر لقومي فانهم لا يعلمون.
“প্রভু হে! আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা করিয়া দিন! কারণ তাহারা নির্বোধ”।
মহানবী (ص)-কে হত্যা করিবার উদ্দেশ্যে এক ইয়াহুদী নারী তাঁহার খাদ্যে বিষ মিশাইয়া দিয়াছিল। তবুও মহানুভব নবী তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছিলেন। ঘটনটি ঘটিয়াছিল খায়বার বিজয়ের পরবর্তী কালে। এই ব্যাপারে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হইয়াছে:
عن ابي هريرة لما فتحت خيبر أهديت لرسول الله ﷺ شاة فيها سم (رواه البخاري (٦١٠/٢) .
"আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। খায়বার বিজিত হইবার পর রাসূলুল্লাহ (ص)-কে একটি বিষমিশ্রিত বকরী হাদিয়া দেওয়া হইয়াছিল" (২খ., পৃ. ৬১০)।
বায়হাকীর বর্ণনায় রহিয়াছে:
عن أبي هريرة أن امرأة من يهود اهدت لرسول الله ﷺ شاة مسمومة فقال لاصحابه امسكوا فانها مسمومة وقال لها ما حملك على ما صنعت قالت اردت ان اعلم ان كنت نبيا فسيطلعك الله عليه وان كنت كاذبا اريح الناس منك قال فما عرض لها رسول الله ﷺ
"আবূ হুরায়রা (را) হইতে বর্ণিত। জনৈকা ইয়াহুদী নারী রাসূলুল্লাহ (ص)-কে বিষমিশ্রিত একটি ভুনা بকরী হাদিয়া দিয়াছিল। রাসূলুল্লাহ (ص) সাহাবীগণকে বলিলেন، তোমরা উহা খাওয়া হইতে বিরত থাক। কারণ উহা বিষমিশ্রিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ص) তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন، এই কাজে তোমাকে কি জিনিস প্ররোচিত করিল؟ সে উত্তর দিল، আমার ইচ্ছা হইল، اگر آپ نبی ہوتے تو اللہ آپ کو یہ بتا دیتے، اور اگر آپ جھوٹے ہوتے تو میں لوگوں کو آپ سے نجات دلا دیتا۔ اس کی بات سن کر رسول اللہ (ص) نے اسے کچھ بھی نہیں کہا۔" (بیہقی، حوالہ البدایہ والنہایہ، 421، صفحہ 168)۔
بعض روایات میں ہے کہ رسول اللہ (ص) نے اس سے کچھ گوشت کھایا تھا اور اس کا زہر ان کے جسم میں بہت زیادہ ردعمل پیدا کر چکا تھا۔ اس کی وجہ سے ان کے کندھے سے خون نکالا گیا تھا۔ یہ خون نکالنے والا ابوحفصہ تھا، جو انصار کے قبیلہ بنو بیاضہ کا ایک غلام تھا۔ سینگ اور چھری کی مدد سے ان کا خون نکالا گیا تھا (البدایہ والنہایہ، سابقہ)۔ زہر اتنا شدید تھا کہ موت کے وقت بھی رسول اللہ (ص) نے اسے شدت سے محسوس کیا تھا۔ جیسا کہ روایت ہے:
عن عائشة قالت كان النبى ﷺ يقول في مرضه الذي مات فيه يا عائشة ما ازال اجد الم الطعام الذي اكلت بخيبر فهذا أوان وجدت انقطع ابهرى من ذلك السم (رواه البخاري (٦٣٧/٢) .
"عائشہ (رضی اللہ عنہا) فرماتی ہیں کہ رسول اللہ (ص) اپنی وفات کی بیماری میں فرماتے تھے: اے عائشہ! میں خیبر میں کھایا ہوا کھانا کا درد اب بھی محسوس کر رہا ہوں، اور اب مجھے محسوس ہو رہا ہے کہ اس زہر کی وجہ سے میرا شہ رگ کٹ گیا ہے۔" (بخاری، 221، صفحہ 636)۔
علامہ احمد علی سہارنپوری، علامہ قسطلانی کے حوالے سے فرماتے ہیں کہ زہر ملانے والی عورت کا نام زینب بنت حارث تھا۔ وہ سلام بن مشکام کی بیوی تھی۔ رسول اللہ (ص) نے اس کے عمل کو معاف کر دیا تھا۔ علامہ زرکشی فرماتے ہیں کہ معمر کی روایت میں ہے کہ اس عورت نے اس کے بعد اسلام قبول کر لیا تھا۔ لیکن اس کے زہر آلود گوشت کھانے کی وجہ سے بشر بن البراء (رضی اللہ عنہ) کے شہید ہونے کا قصاص کے طور پر اسے قتل کر دیا گیا (حاشیہ: صحیح بخاری، سابقہ، 221، صفحہ 610)۔
علامہ ابن کثیر، ابن لہیا اور موسی بن عقبہ کے حوالے سے فرماتے ہیں کہ زینب بنت حارث نامی عورت دُشمن یہودیہ مرحب کی بھتیجی تھی۔ اس نے صفیہ (رضی اللہ عنہا) کو رسول اللہ (ص) کے نکاح میں لینے کا بدلہ لینے کے لیے یہ زہر ملانے کا گھناؤنا کام کیا تھا۔ اس نے بھیڑ کے کندھے اور ران کے گوشت میں بہت زیادہ زہر ملایا تھا، کیونکہ اسے خبر ملی تھی کہ رسول اللہ (ص) کو یہ دو حصے بہت پسند ہیں۔ رسول اللہ (ص) صفیہ کے گھر میں بشر بن البراء (رضی اللہ عنہ) کے ساتھ داخل ہوئے تو اس نے ان کے سامنے گوشت پیش کیا۔ انہوں نے اور بشر نے گوشت کا ایک ایک ٹکڑا کھایا تو رسول اللہ (ص) نے باقی صحابہ کرام کو فرمایا: سب ہاتھ اٹھا لو۔ کیونکہ یہ کندھے کا گوشت مجھے بتا رہا ہے کہ اس میں موت کا سبب ہے۔ بشر (رضی اللہ عنہ) پر فوراً ہی اس کا اثر ہوا اور ان کا چہرہ پیلا پڑ گیا۔ وہ اپنی جگہ سے ہٹ بھی نہیں سکے اور انتقال کر گئے۔ اس زہر آلود کھانا کھانے کے بعد رسول اللہ (ص) تین سال زندہ رہے تھے۔ پھر اسی زہر کے اثر سے ان کا انتقال ہوا (ابن کثیر، سابقہ، 421، صفحہ 169)۔
رسول اللہ (ص) پر ایسے مظالم کرنے والوں کو بھی آپ نے معاف کر دیا۔ صرف معاف ہی نہیں کیا بلکہ اللہ کے دربار میں ان کے لیے مغفرت کی دعا بھی کی۔ ان کی دعا کے الفاظ یہ تھے:
رب اغفر لقومي فانهم لا يعلمون.
"پروردگار! میری قوم کو معاف کر دے کیونکہ وہ نہیں جانتے۔"