📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বৃদ্ধা মহিলার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর কৌতুক

📄 বৃদ্ধা মহিলার সহিত রাসূলুল্লাহ (স)-এর কৌতুক


রাসূলুল্লাহ (স) কোন কোন সময় হাস্যরসমূলক কথাও বলিতেন। তবে তাঁহার রসিকতায় কোন ধরনের অতিরঞ্জন ছিল না। এক বৃদ্ধা মহিলার প্রতি তাঁহার কৌতুকপূর্ণ কোমল আচরণের কথা হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে।
عن الحسن قال اتت عجوز النبي ﷺ فقالت يا رسول الله ادع الله ان يدخلني الجنة فقال يا ام فلان ان الجنة لا يدخلها عجوز قال فولت تبكى فقال اخبروها انها لا تدخلها وهى عجوز ان الله تعالى يقول إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءُ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عربا أتراباً .
"হাসান বসরী (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট জনৈকা বৃদ্ধা মহিলা আগমন করিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, জান্নাতে কোন বৃদ্ধা মহিলা প্রবেশ করিতে পারিবে না। কথাটি শুনিয়া বৃদ্ধা কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিয়া যাইতে লাগিল। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলিলেন, তাহাকে বলিয়া দাও, সে বৃদ্ধা অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করিবে না। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন : "উহাদিগকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে, উহাদিগকে করিয়াছি কুমারী" (৫৬: ৩৫-৩; শামাইলুত-তিরমিযী)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বালিকাদের আনন্দ সঙ্গীত

📄 বালিকাদের আনন্দ সঙ্গীত


রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্মুখে কিছু সংখ্যক বালিকা দফ বাজাইয়া আনন্দ-উল্লাস করিতেছিল। তিনি উহা প্রত্যক্ষ করিলেন, কিন্তু বাধা প্রদান করিলেন না। বর্ণিত হইয়াছে:
عن الربيع بنت معوذ قالت جاء النبي الله فدخل حين بني على فجلس على فراشي كمجلسك منى فجعلت الجويريات لنا يضربن بالدف ويند بن من قتل من ابائي يوم بدر اذ قالت احدهن وفينا نبي يعلم ما في غد فقال دعى هذه وقولي بالذي كنت تقولين (رواه البخاری (۲۲۳) .
“আর-রুবায়্যি বিন্ত মু'আব্বিয (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার গৃহে প্রবেশ করিলেন যখন আমার বাসর উদ্যাপিত হইয়াছিল। তিনি আমার বিছানায় বসিলেন, যেইভাবে আপনি (স্বামী) বসিয়াছেন। তখন আমাদের বালিকারা দফ বাজাইয়া বদরের যুদ্ধে আমাদের পূর্বপুরুষ যাহারা শাহাদাতবরণ করিয়াছিলেন তাহাদিগের গুণকীর্তন করিতেছিল। একটি বালিকা বলিয়া উঠিল, আমাদের মধ্যে একজন নবী আছেন যিনি আগামী কাল কি হইবে তাহা জানেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, এই উক্তি বর্জন কর, যাহা পূর্বে বলিতেছিলে তাহা বলিতে থাক" (বুখারী, সাহীহ, ২খ., পৃ. ২৭৩)।
عن عامر بن سعد قال دخلت على قرظة بن كعب وابي مسعود الانصاري في عرس واذا جوار يغنين فقلت ای صاحبی رسول الله الله واهل بدر يفعل هذا عندكم فقالا اجلس ان شئت فاسمع معنا وان شئت فاذهب فانه قد رخص لنا في اللهو عند العرس (رواه النسائي) .
"আমের ইবন সা'দ (রা) বলেন, আমি কারাযা ইন্ন কা'ব ও আবী মাস'উদ আনসারী (রা)-এর সহিত একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হইলাম। আমি দেখিতে পাইলাম, কয়েকটি বালিকা সঙ্গীত পরিবেশন করিতেছে। আমি বলিলাম, হে আল্লাহ্র রাসূলের দুই সাহাবী ও বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারিগণ! আপনাদের সম্মুখে উহা কী করা হইতেছে? তাহারা বলিলেন, ইচ্ছা হইলে এইখানে বস এবং আমাদের সঙ্গে উহা শ্রবণ কর; অন্যথা চলিয়া যাও। কারণ বিবাহ অনুষ্ঠানে উহা করিবার জন্য আমাদিগকে অনুমতি প্রদান করা হইয়াছে” (সুনান নাসাঈ, বরাত মিশকাত শরীফ, পৃ. ২৭৩)।
عن عائشة ان ابا بكر دخل عليها والنبي الله عندها يوم فطر او اضحى وعندها قينتان تغنيان بما تعازفت الانصار يوم بعاث فقال ابو بكر مزمار الشيطان مرتين فقال النبي الله دعهما يا أبا بكر ان لكل قوم عيد وان عيدنا هذا اليوم (رواه البخاري (٥٥٩) .
"হযরত আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার নিকট অবস্থানকালে সেখানে আবূ বকর (রা) প্রবেশ করিলেন। দিনটি ছিল ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার। তাঁহার নিকট তখন দুইটি বালিকা ছিল। আনসারগণ 'বু'আছ' যুদ্ধের দিন যেই সকল সঙ্গীত পরিবেশন করিয়াছিল, তাহারা সেইগুলি আবৃত্তি করিতেছিল। আবু বকর (রা) বলিলেন, উহা তো শয়তানের সঙ্গীত, উহা তো শয়তানের সঙ্গীত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, হে আবু বকর! উহাদিগকে স্বঅবস্থায় ছাড়িয়া দাও। প্রতিটি জাতির জন্য রহিয়াছে ঈদ উৎসব। আমাদের ঈদ হইল এই দিন” (বুখারী, প্রাগুক্ত, ১খ., পৃ. ১৩০, ৫৫৯)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর আচরণ

📄 আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (স)-এর আচরণ


আসমা বিন্ত 'উমায়স (রা) ছিলেন আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী একজন মহিলা সাহাবী। খায়বার বিজয়ের সময় তিনি ও তাঁহার সঙ্গীরা মদীনায় ফিরিয়া আসেন। একদা তিনি উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা (রা)-এর সহিত সাক্ষাত করিতে গেলে সেখানে উমার (রা)-এর সহিত তাঁহার কথা হয়। হযরত উমার (রা) তাঁহার পরিচয় জানিতে গিয়া বলিলেন, তিনি কি সেই আসমা' যিনি সমুদ্র পাড়ি দিয়া হাবশায় হিজরত করিয়াছিলেন। তিনি বলিলেন, হাঁ, আমিই সেই আসমা'। কোন এক প্রসঙ্গে 'উমার (রা) তখন বলিলেন, আমরা তোমাদের আগেই মদীনায় হিজরত করিয়াছি। সুতরাং তোমাদের তুলনায় রাসূলুল্লাহ (স)-এর প্রতি আমাদের হক বেশী। তাঁহার কথা শুনিয়া আসমা' (রা) অসন্তুষ্ট হইলেন এবং বলিলেন, উহা কখনও হইতে পারে না। আপনারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর আশ্রয়ে ছিলেন। তিনি না খাইয়া ক্ষুধার্তকে আহার দিতেন, তোমাদিগের অজ্ঞদিগকে নসীহত করিতেন। আর আমরা স্বদেশত্যাগী হইয়া বহু দূরে শত্রুদের দেশে ছিলাম। আমাদের দেশত্যাগের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ্হ্হ্র সন্তুষ্টি বিধান ও তাঁহার রাসূলের মনোত্তুষ্টি। আল্লাহ্র কসম! আমি কোন খাবার ও পানীয় গ্রহণ করিব না যেই পর্যন্ত আপনার উক্তিটি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট না বলিব। আমরা যে সেখানে নিদারুণ দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত ছিলাম তাহাও বলিব। অবশ্য অতিরঞ্জিত কিছুই বলিব না। ইতোমধ্যে হাফসা (রা)-এর গৃহে রাসূলুল্লাহ (স) তাশরীফ আনিলেন। আসমা (রা) তখন রাসূলুল্লাহ (س)-কে উমার (রা)-এর উক্তিগুলি শুনাইলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, উহার উত্তরে তুমি কি বলিয়াছ? তিনি যাহা বলিয়াছিলেন রাসূলুল্লাহ (س)-কে উহা অবহিত করিলেন। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন:
ليس باحق بي منكم وله ولاصحابه هجرة واحدة ولكم انتم اهل السفينة هجرتان .
"আমার প্রতি উমারের হক তোমাদের হইতে বেশী নয়। উমার ও তাঁহার সঙ্গিগণ মাত্র একটি হিজরত করিয়াছে। আর তোমরা নৌযানে আরোহিগণ দুইটি হিজরতের অধিকারী।"
অতঃপর আসমা (রা) বলেন, "কথাটি প্রচারিত হইয়া গেলে আমি দেখিতে পাইলাম, আবু মূসা (রা) ও হাবশায় হিজরতকারী নৌযানে আরোহী লোকজন দলে দলে আমার নিকট আসিয়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই উক্তি সম্পর্কে জানিতে চাহিত। তাহাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই কথাগুলি হইতে আনন্দদায়ক অন্য কিছুই ছিল না” (বুখারী, সাহীহ, প্রাগুক্ত, ২খ., পৃ. ৬০৮)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুলায়কা (রা)-এর দা'ওয়াতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশগ্রহণ

📄 মুলায়কা (রা)-এর দা'ওয়াতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অংশগ্রহণ


রাসূলুল্লাহ (স)-এর বিশিষ্ট খাদিম হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-এর দাদী ছিলেন হযরত মুলায়কা (রা)। তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করিয়া তাঁহাকে দা'ওয়াত দিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁহার এই দা'ওয়াত গ্রহণে কুণ্ঠাবোধ করিলেন না। হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে:
عن انس بن مالك ان جدته مليكة دعت رسول الله ﷺ لطعام صنعته له فاكل منه ثم قال قوموا فلاصلى لكم قال انس فقمت الى حضير لنا قد اسود من طول ما لبس فنضحته بماء فقام رسول الله ﷺ وصففت واليتيم وراءه والعجوز من ورائنا فصلى لنا رسول الله ﷺ ركعتين ثم انصرف (رواه البخاري (٥٥).
“আনাস ইবন মালিক (را) হইতে বর্ণিত। তাঁহার দাদী (বা নানী) মুলায়কা (را) খাবার তৈরি করিয়া রাসূলুল্লাহ (س)-কে দা'ওয়াত দিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) তাঁহার খাদ্য গ্রহণ করিলেন, অতঃপর বলিলেন, তোমরা সকলে দাঁড়াও, আমি তোমাদিগকে লইয়া সালাত আদায় করিব। আনাস (را) বলেন, আমি তখন আমাদের পুরাতন একটি চাটাইর দিকে অগ্রসর হইলাম। চাটাইটি পুরাতন হওয়ায় ময়লাযুক্ত থাকায় ধৌত করিলাম। রাসূলুল্লাহ (س) সালাতে দাঁড়াইলেন। আমি ও আমাদের ইয়াতীম তাঁহার পিছনে দাঁড়াইলাম আর বৃদ্ধা আমাদের পিছনে দাঁড়াইলেন। এইভাবে রাসূলুল্লাহ (س) আমাদিগকে লইয়া দুই রাক'আত সালাত আদায় করিলেন, অতঃপর আমাদের নিকট হইতে প্রস্থান করিলেন” (বুখারী, সাহীহ, ১খ., পৃ. ৫৫)।
কুরায়শ গোত্রের কিছু মহিলা একদা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত আলাপরত অবস্থায় ছিলেন। ইত্যবসরে হযরত উমার (را) মজলিসে উপস্থিত হইলেন। মহিলারা তাঁহাকে দেখিয়া আড়ালে চলিয়া গেলেন। উহা দেখিয়া রাসূলুল্লাহ (س) হাসিতে লাগিলেন। উমার (را) তখন মহিলাদিগকে ডাকিয়া বলিলেন, আমাকে দেখিয়া তোমরা পালাইতেছ কেন؟ তাহারা উত্তরে বলিল, আপনি যে রাসূলুল্লাহ (س)-এর তুলনায় কঠোর প্রকৃতির লোক। বর্ণিত হইয়াছে:
عن سعد بن ابي وقاص انه قال استاذن عمر بن الخطاب على رسول الله ﷺ وعنده نسوة من قريش يكلمنه ويستكثرنه عالية اصواتهن على صوته فلما استاذن عمر بن الخطاب قمن بادرن الحجاب فاذن له رسول الله ﷺ فدخل عمر ورسول الله ﷺ يضحك فقال عمر اضحك الله سنك يارسول الله فقال النبي ﷺ عجبت من هؤلاء اللاتي كنا عندى فلما سمعن صوتك ابتدر الحجاب فقال عمر فانت ان يهبن يارسول الله ثم قال عمر يا عدوات انفسهن اتهبننى ولا تهبن رسول الله ﷺ. فقلن نعم انت افظ واغظ من رسول الله ﷺ فقال رسول الله ﷺ ايه يا ابن الخطاب والذي نفسي بيده ما لقيك الشيطان سالكا فجا قط الاسلك فجا غير فجك (رواه البخاري - ٥٢).
সা'দ ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস (را) বলেন, রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট কুরায়শ গোত্রের কতিপয় মহিলার আলাপরত অবস্থায় 'উমার ইব্‌নুল খাত্তাব (را) প্রবেশের অনুমতি চাহিলেন। মহিলারা তখন উচ্চস্বরে তাহাদিগকে বেশি পরিমাণে দীনের জন্য আবদার করিতেছিলেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ (س)-এর কণ্ঠস্বর হইতে তাহাদিগের কণ্ঠস্বর বেশী উঁচু ছিল। উমার (را) প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করিবার সঙ্গে সঙ্গে তাহারা উঠিয়া দাঁড়াইল এবং পর্দার অন্তরালে চলিয়া গেল। উমার (را)-কে প্রবেশের অনুমতি দান করিলে তিনি প্রবেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ (س) তাঁহাকে দেখিয়া হাসিতে লাগিলেন। উমার (را) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ আপনাকে আনন্দিত করুন। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, আশ্চর্য হইলাম, তোমার ধ্বনি শুনিবামাত্র তাহারা দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলিয়া গেল। 'উমার (রা) বলিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনাকেই তো উহাদিগের বেশী ভয় করা উচিত ছিল। অতঃপর তিনি বলিলেন, হে নিজেদের ধ্বংসকারিনিগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর অথচ রাসূলুল্লাহ্ (س) ভয় কর না। তাহারা উত্তর দিল, হাঁ, আপনি যে রাসূলুল্লাহ (س) হইতে কঠোর বাক্য প্রয়োগকারী ও কঠোর মনোভাব পোষণকারী। রাসূলুল্লাহ্ (س) বলিলেন, হে খাত্তাবের পুত্র উমার! শপথ সেই আল্লাহর যাঁহার হাতে আমার প্রাণ! তুমি যেই পথ দিয়া চলাচল করিবে সেই পথে চলিয়া শয়তান কখনও তোমার সহিত সাক্ষাত করিবে না। হাঁ, তোমার যাওয়ার পথ ত্যাগ করিয়া শয়তান অন্য পথ ধরিবে” (বুখারী, আস-সাহীহ, প্রাগুক্ত, ১খ., পৃ. ৫২০, ৪৬৫)।
পুরুষ লোকেরা অহরহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর সান্নিধ্য লাভ করিত এবং তাঁহার ওয়াজ-নসীহত শুনিয়া ধন্য হইত। কিন্তু নানান প্রতিবন্ধকতার কারণে মহিলারা সেই সুযোগ হইতে বঞ্চিত ছিল। তাই তাহাদিগকে উপদেশ প্রদানের লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ (স) পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছিলেন। বর্ণিত হইয়াছে:
عن ابي سعيد قال جاءت امرأة الى رسول الله ﷺ فقالت يا رسول الله ذهب الرجال بحديثك فاجعل لنا من نفسك يوما نأتيك فيه تعلمنا مما علمك الله فقال اجتمعن في يوم كذا وكذا في مكان كذا وكذا فاجتمعن فاتاهن رسول الله ﷺ فعلمهن مما علمه الله ثم قال ما منكن تقدم بين يديها من ولدها ثلثة الا كان لها حجابا من النار فقالت امرأة منهن يارسول الله اثنين قال فاعادتها مرتين ثم قال واثنين واثنين واثنين .
“আবু সা'ঈদ (রা) বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (س)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! পুরুষরা আপনার ওয়াজ-নসীহতে সার্বক্ষণিক অংশগ্রহণ করিয়া উপকৃত হইতেছে। আপনি আপনার পক্ষ হইতে আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারিত করিয়া দিন, আমরা সেদিন আপনার নিকট উপস্থিত হইব এবং আপনি আমাদিগকে শিক্ষা দিবেন, যাহা আল্লাহ তা'আলা আপনাকে শিক্ষা দিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাহাদিগকে বলিলেন, অমুক অমুক দিন অমুক অমুক স্থানে তোমরা সমবেত হইবে। কথামত তাহারা একত্র হইল। রাসূলুল্লাহ (س) সেখানে উপস্থিত হইয়া তাহাদিগকে তাহা শিক্ষা দিলেন, যাহা আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে শিখাইয়াছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, তোমাদের মধ্যে যেই মহিলার তিনটি সন্তান ইন্তিকাল করিবে, উহারা তাহার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হইবে। এক মহিলা বলিল, হে আল্লাহ্র রাসূল! দুইটি সন্তানের মৃত্যু হইলেও কি তাহাই হইবে؟ সে কথাটি দুইবার পুনরাবৃত্তি করিল। রাসূলুল্লাহ (س) বলিলেন, হাঁ, দুই সন্তান হইলেও, দুই সন্তান হইলেও, দুই সন্তান হইলেও” (বুখারী, আস-সাহীহ, ২খ., পৃ. ১০৮৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00